নোয়াখালী প্রতিনিধি:
প্রকাশ : ৮ জুন ২০২৬ রাত ০৮:৪২:১৫
আনন্দ-উচ্ছ্বাসে নোয়াখালী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের পুনর্মিলনী
স্মৃতি, ভালোবাসা, বন্ধুত্ব ও আবেগের মিলনমেলায় মুখর হয়ে উঠেছিল নোয়াখালী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।
দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে নোয়াখালী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের প্রথম পুনর্মিলনী।অনুষ্ঠিত হয়েছে ।
দীর্ঘদিন পর শৈশব-কৈশোরের বন্ধু, সহপাঠী ও প্রিয় শিক্ষকদের সঙ্গে একত্রিত হয়ে আনন্দঘন সময় কাটিয়েছেন বিদ্যালয়ের ১৯৬৭ থেকে ২০২৫ সালের প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীরা।
নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. শাহজাহান জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বর্ণাঢ্য র্যালিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। পরে পুনর্মিলনীর থিম সং, মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিবেশনা এবং স্মারক কেক কাটার মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. শাহজাহান।
গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী,বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি সিনিয়র অ্যাডভোকেট আবুল খায়ের।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন, পুনর্মিলনী উদযাপন কমিটির প্রধান উপদেষ্টা এবিএম আব্দুল আলিমএবং সদস্য সচিব মোহাম্মদ ফজলুল হক,
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সমাজের বিশিষ্টজন, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং বিভিন্ন ব্যাচের শত শত প্রাক্তন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন, বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র, এশিয়ান টেলিভিশনের উপ-ব্যবস্থাপক ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া মার্কেটিং অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী সদস্য মাহমুদুন নবী জনি।
আলোচনা সভায় বক্তারা বিদ্যালয়ের গৌরবময় ইতিহাস, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং সমাজ উন্নয়নে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তারা বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু জ্ঞানার্জনের কেন্দ্র নয়, বরং মানুষ গড়ার কারখানা এবং আজীবনের সম্পর্ক ও মূল্যবোধের ভিত্তি।
এ সময় বিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষকদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। শিক্ষকদের অবদানের কথা স্মরণ করে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেন।
আয়োজক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়াউর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। গোলাম মহিউদ্দিন ফারুকের রোমাঞ্চকর উপস্থাপনায় “বেস্ট কাপল অ্যাওয়ার্ড” এবং সাইফুল ইসলামের পরিচালনায় র্যাফেল ড্র পর্ব উপস্থিত অতিথি ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি করে। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রাক্তন ছাত্র জামাল হোসেন বিষাদের মনোমুগ্ধকর সংগীত পরিবেশনা।
দিনব্যাপী আয়োজনে আরও ছিল স্মৃতিচারণ, শুভেচ্ছা বিনিময়, মধ্যাহ্নভোজ, র্যাফেল ড্র, পুরস্কার বিতরণী এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নোয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশিদ আজাদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সলিম উল্লাহ বাহার হিরন, শহিদুল ইসলাম কিরণ এবং ৬নং নোয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইয়াসিন আরাফাত। অতিথিরা বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন এবং এমন মহতী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
সবশেষে বরেণ্য সংগীত শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দর্শকদের মুগ্ধ করে। গান, সুর ও আনন্দের আবেশে মুখর হয়ে ওঠে পুরো অনুষ্ঠানস্থল।
সমাপনী বক্তব্যে পুনর্মিলনী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক আব্দুল করিম উপস্থিত সকল অতিথি, শিক্ষক-শিক্ষিকা, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে অনুষ্ঠানের সফল সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
স্মৃতি, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের অনন্য বন্ধনে আবদ্ধ এই পুনর্মিলনী শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়; এটি ছিল অতীত ও বর্তমানের এক হৃদয়ছোঁয়া সেতুবন্ধন। প্রাণের বিদ্যাপীঠে ফিরে পাওয়া শৈশবের স্মৃতি এবং প্রিয় বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো আনন্দময় মুহূর্তগুলো অংশগ্রহণকারীদের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।