স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ জুন ২০২৬ সকাল ১১:৫৭:১৬
৬ গোল, হ্যাটট্রিক, লাল কার্ড, পা ভাঙাসহ কানাডা-কাতারের নাটকীয় ম্যাচ
ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে কাতারকে ৬-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম জয় তুলে নিয়েছে স্বাগতিক কানাডা। জোনাথন ডেভিডের রেকর্ড গড়া হ্যাটট্রিকের এই ম্যাচে জোড়া লাল কার্ড দেখেছে কাতার। তবে একচেটিয়া আধিপত্য ও বড় জয়ের দিনটিতেও স্বাগতিক শিবিরে বিষাদ নামিয়ে এনেছে মারাত্মক ফাউলের শিকার হয়ে কানাডিয়ান মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনের পা ভাঙার মর্মান্তিক ঘটনা।
র্যাঙ্কিংয়ের ২৮তম স্থানে থাকা কানাডার বিপক্ষে ৫৮তম স্থানে থাকা কাতারের লড়াইয়ে মাঠে শক্তির পার্থক্য স্পষ্ট ছিল শুরু থেকেই। ম্যাচের ১৬ মিনিটেই কাইল লারিনের গোলে লিড নেয় কানাডা। এরপর ৩৩ মিনিটে কানাডার ফরোয়ার্ড তেজন বুকাননকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন কাতারের ডিফেন্ডার হোমাম আহমেদ। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া কাতারের বিপক্ষে ২৯ মিনিট ও প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আরও দুটি গোল করে স্কোরলাইন ৩-০ করেন জোনাথন ডেভিড।
ম্যাচের ৫২ মিনিটে ঘটে সবচেয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি। বল দখলের লড়াইয়ে পেছন থেকে কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনেকে মারাত্মক ট্যাকল করেন কাতারের আসিম মাদিবো। এতে কোনের বাঁ পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ ভেঙে যায়। মাঠে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে স্ট্রেচারে করে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় কানাডার কোচ জেসে মার্চকে কাঁদতে দেখা যায়। ফাউলের জন্য মাদিবোকে প্রথমে হলুদ কার্ড দেওয়া হলেও, ভিএআর পর্যালোচনার পর তাকে লাল কার্ড দেখানো হয়। ফলে ৯ জনের দলে পরিণত হয় কাতার। অনুতপ্ত মাদিবোকে এ সময় সতীর্থদের সান্ত্বনা দিতে দেখা যায়। চোটের কারণে প্রায় সাড়ে ছয় মিনিট খেলা বন্ধ ছিল।
কোনের বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ৬৪ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে গোল করেন নাথান সালিবা। গোল উদযাপনের সময় তিনি আহত সতীর্থ কোনের জার্সি উঁচিয়ে ধরে মাঠে এক আবেগঘন মুহূর্তের জন্ম দেন। এরপর ৭৫ মিনিটে কাতারের মোহাম্মদ মানাইয়ের আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান আরও বাড়ে। সবশেষে দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে জোনাথন ডেভিড নিজের তৃতীয় গোলটি করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করার পাশাপাশি দলের ৬-০ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত করেন।
এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপে একাধিক রেকর্ডের জন্ম দিয়েছে কানাডা। ১৯৬৬ সালের ফাইনালে ইংল্যান্ডের জিওফ হার্স্টের পর দীর্ঘ ৬০ বছর পর স্বাগতিক দেশের কোনো খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করার কীর্তি গড়লেন জোনাথন ডেভিড। সব মিলিয়ে তিনি এই তালিকার ষষ্ঠ খেলোয়াড়। এছাড়া ১৯৩৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ইতালির ৭-১, ১৯৫০ সালে সুইডেনের বিপক্ষে ব্রাজিলের ৭-১ এবং ১৯৭৮ সালে পেরুর বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৬-০ গোলের জয়ের পর, স্বাগতিক দেশ হিসেবে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের রেকর্ডেও ভাগ বসিয়েছে কানাডা।
অন্যদিকে, বিশ্বকাপের ইতিহাসে কাতারই প্রথম দল, যারা একই ম্যাচে দুটি লাল কার্ড দেখার পাশাপাশি আত্মঘাতী গোল হজম করার লজ্জার রেকর্ড গড়েছে।