দৈনন্দিন অফিসিয়াল বা ব্যক্তিগত কাজে ল্যাপটপ ব্যবহারের সময় হঠাৎ ডিভাইসটি শাটডাউন বা বন্ধ হয়ে যাওয়া বেশ বিরক্তিকর একটি অভিজ্ঞতা। অনেকেই মনে করেন এটি হার্ডওয়্যারের বড় কোনো সমস্যা, কিন্তু সবসময় তা নয়। সঠিক ব্যবহারের অভাব বা সাধারণ কিছু কারিগরি ত্রুটির কারণেও এমনটি ঘটতে পারে। এই সমস্যা থেকে উত্তরণের উপায়গুলো নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো-কেন ল্যাপটপ হঠাৎ বন্ধ হয়?ল্যাপটপ অতিরিক্ত গরম হওয়া বা ওভারহিটিং এই সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ। দীর্ঘ সময় ভারী সফটওয়্যার ব্যবহার, গেমিং বা ল্যাপটপের ভেতরে ধুলোবালি জমে কুলিং ফ্যানের কার্যক্ষমতা কমে গেলে তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে যায়। এছাড়া পুরোনো থার্মাল পেস্টের কার্যকারিতা হারানো, ব্যাটারির ত্রুটি কিংবা পাওয়ার সাপ্লাইয়ের সমস্যার কারণেও ল্যাপটপ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।ওভারহিটিং রোধে করণীয়ল্যাপটপের ভেন্ট ও কুলিং ফ্যান নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন, কারণ ধুলোবালি জমে গরম বাতাস বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেলে ল্যাপটপ দ্রুত উত্তপ্ত হয়। এছাড়া ল্যাপটপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ অভ্যাসে পরিবর্তন আনা জরুরি:উপযুক্ত পৃষ্ঠ নির্বাচন: ল্যাপটপ সবসময় সমতল ও শক্ত পৃষ্ঠে ব্যবহার করুন। বিছানা, বালিশ বা কম্বলের ওপর রেখে কাজ করলে বায়ু চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়, ফলে অতিরিক্ত তাপ তৈরি হয়।ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস নিয়ন্ত্রণ: কাজ করার সময় অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ও ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস বন্ধ রাখুন। একসঙ্গে অনেক প্রোগ্রাম চললে প্রসেসরের ওপর চাপ বাড়ে এবং তাপ বৃদ্ধি পায়।কুলিং প্যাড ব্যবহার: ল্যাপটপ অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে ভালো মানের কুলিং প্যাড ব্যবহার করতে পারেন, যা তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।সফটওয়্যার ও রক্ষণাবেক্ষণ: নিয়মিত সফটওয়্যার ও ড্রাইভার আপডেট রাখুন। প্রয়োজনে থার্মাল পেস্ট পরিবর্তন করুন, এতে প্রসেসর ও হিটসিঙ্কের মধ্যে তাপ ঠিকমতো চলাচল করতে পারে।সবশেষে, এই সাধারণ পদ্ধতিগুলো মেনে চললে ল্যাপটপের কর্মক্ষমতা ঠিক রাখা সম্ভব। তবে যদি বারবার এই সমস্যা হতে থাকে, তবে দেরি না করে ব্যাটারি ও হার্ডওয়্যার পরীক্ষা করার জন্য কোনো অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ানের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ সমাধান।
৩ দিন আগে
সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শিশুদের অনলাইন ঝুঁকি, ক্ষতিকর কনটেন্ট এবং ডিজিটাল আসক্তি থেকে সুরক্ষার লক্ষ্যে দেশটির মন্ত্রিসভা এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে।গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন নীতিমালা অনুযায়ী ১৫ বছরের নিচে কোনো শিশু ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, এক্স (সাবেক টুইটার) কিংবা স্ন্যাপচ্যাটে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট খুলতে বা ব্যবহার করতে পারবে না। তারা পোস্ট করা, মন্তব্য করা, পাবলিক গ্রুপে অংশ নেওয়া কিংবা অনলাইন আলোচনায় যুক্ত হওয়ার সুযোগও পাবে না। এমনকি অভিভাবকের অনুমতিও এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যতিক্রম হিসেবে বিবেচিত হবে না।তবে ১৫ থেকে ১৬ বছর বয়সীদের জন্য সীমিত আকারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। এ বয়সী ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে বয়সভিত্তিক কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ, ঝুঁকিপূর্ণ ফিচার নিষ্ক্রিয়করণ এবং বাধ্যতামূলক প্যারেন্টাল কন্ট্রোল ব্যবস্থার মতো কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে।সরকার জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোকে নির্ভরযোগ্য বয়স যাচাই পদ্ধতি চালু করতে হবে। এ জন্য ডিজিটাল আইডি, পরিচয়পত্র যাচাই, বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি অথবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বয়স নির্ধারণ ব্যবস্থা ব্যবহার করা যেতে পারে। শুধু ব্যবহারকারীর দেওয়া বয়স বা তথ্যের ভিত্তিতে অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ থাকবে না।নতুন নীতিমালায় শিশুদের অনলাইন কার্যকলাপ বা আগ্রহের ভিত্তিতে লক্ষ্যভিত্তিক বিজ্ঞাপন প্রদর্শনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্ল্যাটফর্মগুলোকে নিয়মবহির্ভূত অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা এবং বয়সসীমা এড়ানোর চেষ্টা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।ইউএই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন নিয়ম বাস্তবায়ন ও তদারকির বিস্তারিত নির্দেশনা আগামী সপ্তাহে প্রকাশ করা হবে। সরকারি গেজেটে প্রকাশের পর আইনটি কার্যকর হবে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোকে নতুন ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য সর্বোচ্চ ১২ মাস সময় দেওয়া হবে।সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুদের জন্য নিরাপদ, ভারসাম্যপূর্ণ ও বয়সোপযোগী ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি অভিভাবকদের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল ব্যবহার, স্ক্রিন টাইম ব্যবস্থাপনা এবং অনলাইন ঝুঁকি মোকাবিলা বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেওয়া হবে।এ ছাড়া স্কুলগুলোতে ডিজিটাল নিরাপত্তা শিক্ষা, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং নিরাপদ অনলাইন আচরণবিষয়ক প্রশিক্ষণ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। কোনো প্ল্যাটফর্ম নতুন নিয়ম মানতে ব্যর্থ হলে প্রশাসনিক জরিমানা, আংশিক নিষেধাজ্ঞা বা গুরুতর ক্ষেত্রে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার মতো ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।ইউএই সরকারের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের জন্য বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত কোনো নির্দিষ্ট বয়সসীমা নেই। শিশুদের পরিপক্বতা ও অভিজ্ঞতার পার্থক্য বিবেচনায় নিয়ে ১৫ বছর বয়সসীমাকে একটি বাস্তবসম্মত ও ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশটির দাবি, শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদারে বিশ্বজুড়ে যে উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে, তাদের নতুন কাঠামো তার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
১ সপ্তাহ আগে
স্যামসাং স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের অনেকেই অভিযোগ করেন যে, ফোন কেনার কিছুদিন পর থেকেই পারফরম্যান্স ধীর হয়ে যায় বা হ্যাং করতে শুরু করে। আসলে ফোনের ডিফল্ট সেটিংসের ওপর এর অনেকখানি নির্ভর করে। সঠিক সেটিংস বেছে নিলে আপনার স্যামসাং ফোনটি আবারও রকেটের গতিতে চলতে শুরু করবে। ফোনের গতি বাড়াতে এবং ব্যাটারি ব্যাকআপ উন্নত করতে নিচে দেওয়া ৫টি পরিবর্তন আজই করে নিন।প্রথমত, ফোনের ব্লোটওয়্যার অ্যাপগুলো সরিয়ে ফেলুন। স্মার্টফোনের সঙ্গে আগে থেকেই অনেক অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ইনস্টল করা থাকে, যা ফোনের স্টোরেজ ও প্রসেসরের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে। অ্যাপ আইকনের ওপর চাপ দিয়ে ধরে রেখে আনইনস্টল বা ডিজেবল করে দিন। কিছু সিস্টেম অ্যাপ পুরোপুরি ডিলিট করা না গেলেও সেগুলো ডিজেবল করে রাখা ভালো।দ্বিতীয়ত, যেসব অ্যাপ আপনি সচরাচর ব্যবহার করেন না, সেগুলোকে ‘ডিপ স্লিপ’ মোডে পাঠিয়ে দিন। ফোনের সেটিংস থেকে ‘ব্যাটারি’ এবং তারপর ‘ব্যাকগ্রাউন্ড ইউসেজ লিমিটস’-এ যান। সেখান থেকে ‘ডিপ স্লিপিং অ্যাপস’-এ গিয়ে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপগুলো যুক্ত করে দিন। এতে অ্যাপগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে অকারণে র্যাম ও ইন্টারনেট খরচ করতে পারবে না।তৃতীয়ত, স্যামসাং ফোনের ‘র্যাম প্লাস’ ফিচারটি বন্ধ করে দেখুন। এটি ইন্টারনাল স্টোরেজকে ভার্চুয়াল র্যাম হিসেবে ব্যবহার করে, যা অনেক সময় ফোনকে ধীর করে দেয়। ফোনের ‘ডিভাইস কেয়ার’ থেকে ‘মেমোরি’ এবং ‘র্যাম প্লাস’-এ গিয়ে এটি অফ করে দিন এবং ফোনটি একবার রিস্টার্ট করে নিন।চতুর্থত, লক স্ক্রিনের বিজ্ঞাপন বন্ধ করুন। ফোনের ‘ওয়ালপেপার অ্যান্ড স্টাইল’ থেকে ‘ওয়ালপেপার সার্ভিসেস’ অপশনে গিয়ে সেটিকে ‘নান’ করে দিন। এটি করলে গ্ল্যান্স লক স্ক্রিন ওয়ালপেপার ও বিজ্ঞাপন আসা বন্ধ হবে, ফলে প্রসেসরের ওপর চাপ কমবে।পঞ্চমত, ডিসপ্লে সেটিংস ঠিক করুন। ফোনের ‘ডিসপ্লে’ সেটিংসে গিয়ে ‘মোশন স্মুথনেস’ অপশনটি ‘অ্যাডাপ্টিভ’ বা ‘হাই’-তে সেট করুন। এছাড়া স্ক্রিন রেজোলিউশন অপশন থেকে এফএইচডি প্লাস বা কিউএইচডি প্লাস বেছে নিন। এর ফলে স্ক্রিন যেমন পরিষ্কার দেখাবে, তেমনি ফোনের সামগ্রিক ব্যবহারের অভিজ্ঞতাও অনেক বেশি স্মুথ হবে।
১ সপ্তাহ আগে
অল্প দামে ভালো ফিচারের ফোন কিনতে চান? তবে আপনার প্রথম পছন্দ হতে পারে ইনফিনিক্স স্মার্ট ২০ মডেল। এই ফোনটি ভারতে মাত্র ১২ হাজার রুপিরও কমে বিক্রি হচ্ছে। কম দামি ফোন হলেও এটি প্রিমিয়াম কোয়ালিটির স্মার্টফোন। দারুণ ডিজাইন, শক্তিশালী প্রসেসর এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারিরসমন্বয়ে তৈরি এই ফোনটি বাজেট সেগমেন্টে ক্রেতাদের জন্য নতুন চমক হয়ে এসেছে। সমন্বয়ে তৈরি এই ফোনটি বাজেট সেগমেন্টে ক্রেতাদের জন্য নতুন চমক হয়ে এসেছে।আনুষ্ঠানিকভাবে ফোনটি বাজারে আসার পরপরই এর আকর্ষণীয় ফিচারগুলো টেক প্রেমীদের নজর কেড়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক এই স্মার্টফোনটির খুঁটিনাটি।কেন কিনবেন ইনফিনিক্স স্মার্ট ২০ মডেল?১. ডিসপ্লে ও ডিজাইনফোনটিতে রয়েছে ৬.৭৮ ইঞ্চির বিশাল ডিসপ্লে, যা ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট সাপোর্ট করে। ফলে গেমিং বা ভিডিও দেখার সময় মিলবে স্মুথ অভিজ্ঞতা। এর পাঞ্চ-হোল ডিজাইন এবং ফ্ল্যাট ফ্রেম এটিকে দিয়েছে প্রিমিয়াম লুক। মাত্র ৭.৭ মিমি পুরুত্বের এই ফোনটি ইনফিনিক্সের অন্যতম স্লিম ডিভাইস। এছাড়া এর পেছনে রয়েছে ৩ডি কম্পোজিট রিয়ার প্যানেল।২. পারফরম্যান্সউন্নত পারফরম্যান্সের জন্য এতে ব্যবহার করা হয়েছে মিডিয়াটেক হেলিও জি৮১ আলটিমেট চিপসেট। দৈনন্দিন মাল্টিটাস্কিং বা সাধারণ গেমিংয়ের জন্য এটি বেশ কার্যকর। এতে ৪ জিবি র্যামের পাশাপাশি স্টোরেজ ২ টেরাবাইট পর্যন্ত বাড়ানোর সুবিধা রয়েছে।৩. ব্যাটারি ও চার্জিংফোনটিতে রয়েছে ৫,২০০ এমএএইচের শক্তিশালী ব্যাটারি, যা একবার ফুল চার্জে সর্বোচ্চ ৩৯ ঘণ্টা পর্যন্ত চলার দাবি করছে কোম্পানি। দ্রুত চার্জ করার জন্য এতে ১৫ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং সুবিধা রয়েছে। বিশেষ ফিচার হিসেবে থাকছে ৫ ওয়াট রিভার্স চার্জিং, যার মাধ্যমে প্রয়োজনে অন্য ডিভাইসও চার্জ দেওয়া সম্ভব। এছাড়া ধুলা ও পানি থেকে সুরক্ষার জন্য রয়েছে আইপি৬৪ রেটিং।দাম ও প্রাপ্যতাইনফিনিক্সের এই স্মার্টফোনটির প্রারম্ভিক মূল্য রাখা হয়েছে ভারতে ১১ হাজার ৯৯৯ রুপি। ফোনটি ইনফিনিক্সের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের পাশাপাশি ফ্লিপকার্ট থেকেও প্রি-অর্ডার করা যাচ্ছে।
৩ সপ্তাহ আগে