যুক্তরাষ্ট্রের ১৩টি বিমানবন্দরে টিকিট না থাকা দর্শনার্থীদের জন্য টার্মিনালের ভেতরে প্রবেশের সুযোগ চালু করেছে দেশটির পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসন (টিএসএ)। নতুন পরীক্ষামূলক কর্মসূচির আওতায় যাত্রীর স্বজন ও বন্ধুরা নিরাপত্তা তল্লাশি পেরিয়ে গেট পর্যন্ত গিয়ে তাদের বিদায় জানানো বা স্বাগত জানাতে পারবেন।১১ সেপ্টেম্বরের হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলোতে টিকিট ছাড়াই যাত্রীদের গেট পর্যন্ত যাওয়ার সুযোগ ছিল। পরবর্তী সময়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা কঠোর হওয়ায় এ সুবিধা বন্ধ হয়ে যায়।টিএসএর ‘গেটসাইড’ কর্মসূচির আওতায় এই সুবিধা পেতে হলে আবেদনকারীকে আগে থেকেই টিএসএ প্রিচেকের অনুমোদিত যাত্রী অথবা ‘নোন ট্রাভেলার নম্বর’ধারী হতে হবে। বিমানবন্দরে যাওয়ার ১ থেকে ৩ দিন আগে টিএসএর ওয়েবসাইটে আবেদন করতে হবে। অনুমোদন পেলে টিকিটধারী যাত্রীদের মতোই নিরাপত্তা তল্লাশির মধ্য দিয়ে টার্মিনালে প্রবেশ করা যাবে।তবে প্রতিটি বিমানবন্দর প্রতিদিনের অনুমোদিত পাসের সংখ্যা সীমিত করতে পারে এবং ব্যস্ত সময়ে কর্মসূচি সাময়িকভাবে বন্ধও রাখতে পারে।বর্তমানে যেসব ১৩টি বিমানবন্দরে এই সুবিধা চালু রয়েছে, সেগুলো হলো—অ্যারিজোনার মেসা গেটওয়ে, ওহাইওর জন গ্লেন কলম্বাস, টেক্সাসের ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ, মিশিগানের ডেট্রয়েট মেট্রোপলিটন, কানসাসের উইচিটা, ইন্ডিয়ানার ইন্ডিয়ানাপোলিস, নেভাদার হ্যারি রিড, ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান ডিয়েগো, আরকানসাসের লিটল রক, ওকলাহোমার ওকলাহোমা সিটি, নেব্রাস্কার ওমাহা এবং ইউটাহর সল্ট লেক সিটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।টিএসএ জানিয়েছে, টার্মিনালে প্রবেশকারী দর্শনার্থীদেরও যাত্রীদের মতো বিমানবন্দরের সব আচরণবিধি ও স্থানীয়-ফেডারেল আইন মেনে চলতে হবে। নিয়ম ভঙ্গ করলে পাস বাতিল, বিমানবন্দর থেকে বহিষ্কার কিংবা দেওয়ানি বা ফৌজদারি শাস্তির মুখে পড়তে পারেন।
৯ ঘন্টা আগে
বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর তদারকিতে একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় প্রতিষ্ঠান গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক।সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘ কার্যালয়ে মানবাধিকার পরিষদের ৬৩তম অধিবেশনে বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে হালনাগাদ প্রতিবেদন পেশকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।তুর্ক বলেন, আমরা বাংলাদেশে নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর ওপর তদারকির জন্য একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় প্রতিষ্ঠান গঠনের আহ্বান জানিয়ে আসছি।২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধানী প্রতিবেদনে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার স্বাধীন তদন্ত, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, বেসামরিক তদারকি ও জবাবদিহির ব্যবস্থার সুপারিশ করা হয়েছিল। জাতিসংঘের সুপারিশগুলোতেও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে এটি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর তদন্ত চালাতে পারে।জাতিসংঘের সনদভিত্তিক সংস্থাগুলোর (ট্রিটি বডি) সুপারিশে বিশেষভাবে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো সরাসরি তদন্ত করার এখতিয়ার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে দিতে হবে।
১ দিন আগে
মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় অ্যামাজনের একটি পণ্যবাহী (কার্গো) বিমান ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। এতে অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৫ জন, যাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর দুইটার কিছু আগে বোয়িং ৭৬৭-৩০০ মডেলের এই কার্গো বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বিমানটি পুয়ের্তো রিকোর সান হুয়ান শহরের লুইস মুনোজ মারিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মিয়ামির উদ্দেশে যাত্রা করেছিল।প্রত্যক্ষদর্শী ও বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, রানওয়েতে অবতরণের সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিমানটি সীমানা ছাড়িয়ে যায় এবং কাছাকাছি থাকা কয়েকটি যানবাহনকে সজোরে আঘাত করে। মুহূর্তে বিমানটিতে আগুন ধরে যায় ও চারদিক ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।মিয়ামি-ডেড কাউন্টির মেয়র দানিয়েলা লেভিন কাভা এক সংবাদ সম্মেলনে পাঁচজনের প্রাণহানির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খবর পাওয়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।আরও পড়ুনওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় মেয়েদের লকার রুমে গোপন ক্যামেরা, গ্রেপ্তার স্কুল প্রিন্সিপালমিয়ামি ফায়ার চিফ রায়েদ জাদাল্লাহ জানান, আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসাধীন পাঁচজনের মধ্যে তিনজনের অবস্থা সংকটাপন্ন।দুর্ঘটনার পরপরই নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানবন্দরের সব ধরনের ফ্লাইট ওঠানামা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ)।এক বিবৃতিতে অ্যামাজন জানিয়েছে, মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার আসল কারণ অনুসন্ধানে তারা স্থানীয় প্রশাসন ও তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করছে।
২ দিন আগে
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্য নির্বাচনে জয় পেয়েছে কট্টরপন্থী দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) এই নির্বাচনে ৭৭ শতাংশ ভোটারের মধ্যে ৪৪ শতাংশ ভোট পেয়েছে দলটি।এই ফলাফল চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জের রক্ষণশীল দলকে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে ফেলে দিয়েছে। নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির কোনো রাজ্যে এই প্রথম কট্টরপন্থীরা সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।ম্যাগডেবার্গ শহরে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর বিজয়োল্লাসে মেতে ওঠেন দলটির নেতাকর্মীরা। এ সময় স্যাক্সনি-আনহাল্টে এএফডির ৩৫ বছর বয়সী প্রধান প্রার্থী উলরিখ সিগমুন্ড বলেন, ‘আমরা নতুন ইতিহাস তৈরি করেছি। জনগণ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তারা রাজনৈতিক পরিবর্তন চায় এবং তারা আমাদের হাত ধরেই সেই পরিবর্তন চায়।’ এই বিজয়কে ২০২৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে জয়ের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এএফডি জাতীয় পর্যায়ে জার্মানির সবচেয়ে জনপ্রিয় দল হয়ে উঠেছে। ইনসা-র সাম্প্রতিক জরিপে দলটির জাতীয় সমর্থন দেখা গেছে ২৮ শতাংশ, যেখানে ক্ষমতাসীন রক্ষণশীলদের সমর্থন মাত্র ২০ শতাংশ।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে কোনো মন্তব্য ছাড়াই এই ফলাফলের স্ক্রিনশট শেয়ার করেছেন। ইউরোপের অন্যান্য দেশের কট্টরপন্থী নেতারাও এএফডিকে স্বাগত জানিয়েছেন।জার্মানির সম্প্রচারমাধ্যম এআরডি-র জরিপে দেখা গেছে, স্যাক্সনি-আনহাল্টের ৮৭ শতাংশ ভোটার বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর অসন্তুষ্ট। জার্মানির অর্থনৈতিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট মার্সেল ফ্রাটশার রয়টার্সকে জানান, ‘এই নির্বাচনের ফলাফল মূলত বর্তমান ফেডারেল সরকারের প্রতি অনাস্থা প্রকাশের শামিল।’মার্জ অবশ্য সতর্ক করেছেন, এএফডির এই জয়ে রাজ্যের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দূরে ঠেলে দেবে।অ্যান্টনি লি নামের এক ভোটার বলেন, ‘জার্মানি এবং পশ্চিম ইউরোপে যে পরিবর্তন প্রয়োজন তা একদম স্পষ্ট। আপনি পছন্দ করুন বা না করুন, এখান থেকেই সেই পরিবর্তনের সূচনা হচ্ছে।’এএফডির কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে কঠোর অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, ইউরো মুদ্রা ত্যাগ, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা এবং ইউক্রেনকে সব ধরনের সহায়তা বন্ধ করা।এ ছাড়া তারা স্কুলে জার্মান জাতীয় পতাকা নিয়মিত উত্তোলন, প্রতিদিন জাতীয় সংগীত পরিবেশন, শরণার্থী শিশুদের জন্য আলাদা ক্লাসরুম, স্কুলে রুশ ভাষা শিক্ষা বৃদ্ধি, রংধনু পতাকা নিষিদ্ধ করার মতো পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে।
২ দিন আগে