ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপের উপকূলে সোমবার (৮ জুন) ভোরে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৭ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরও দেড় শতাধিক মানুষ। দেশটির সকসারজেন অঞ্চলেই ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৩১টি মরদেহ। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বেশ কয়েকজন।দেশটির সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এছাড়া ১০ হাজারেরও বেশি বাসিন্দা তাদের ঘরবাড়ি হারিয়েছেন।ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল সারঙ্গানি প্রদেশের উপকূল থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে। এর কম্পন মিন্দানাওজুড়ে প্রবলভাবে অনুভূত হয় এবং প্রায় ৪২০ কিলোমিটার দূরে ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপের মানাদো শহরেও কাঁপুনি টের পাওয়া যায়।ভূমিকম্পের পর দক্ষিণ ফিলিপাইন, উত্তর ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়ার বোর্নিও দ্বীপের সাবাহ রাজ্যে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। উপকূলীয় বাসিন্দাদের দ্রুত উঁচু স্থানে সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ছয় ঘণ্টার বেশি সময় পর সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।এর আগে ১২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের আট মাস পর এ দুর্যোগ আঘাত হানল। গত বছর মধ্যাঞ্চলীয় সেবু দ্বীপের উপকূলে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে ৭৯ জন নিহত হন। এর দুই সপ্তাহ পর মিন্দানাওয়ে ৭ দশমিক ৪ মাত্রাসহ আরও দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছিল।সূত্র: ফিলিপাইন নিউজ এজেন্সি।
১২ ঘন্টা আগে
ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা। সোমবার (৮ জুন) স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৭ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮।ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল মিন্দানাও অঞ্চলের উপকূলীয় এলাকার কাছাকাছি সমুদ্রগর্ভে। শক্তিশালী কম্পনে বেশ কিছু স্থানে বহুতল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত ও ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে, ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।দুর্যোগ বিষয়ক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে দাভাও অক্সিডেন্টাল প্রদেশে ৩ জন, জেনারেল সান্তোস শহরে ৩ জন এবং দক্ষিণ কোতাবাতো প্রদেশে ২ জন রয়েছেন।প্রায় ৭ লাখ ২০ হাজার জনসংখ্যার জেনারেল সান্তোস শহরের দক্ষিণে সমুদ্রের নিচে ভূমিকম্প আঘাত হানার পর উপকূলীয় এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত উঁচু স্থানে সরে যেতে নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ।ভূমিকম্পের কয়েক ঘণ্টা পর একাধিক আফটারশক অনুভূত হয়, যার মধ্যে সবচেয়ে বড়টির মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৫। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে।এদিকে ভূমিকম্পের প্রভাবে প্রতিবেশী দেশ ইন্দোনেশিয়ার উপকূলে সুনামি দেখা দেয়। পাশাপাশি জাপান-এর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে সুনামি সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং উপকূলীয় অঞ্চলে সতর্কতা বজায় রাখতে নাগরিকদের অনুরোধ জানিয়েছে।সূত্র: এএফপি
১ দিন আগে
দখলদার ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র বা মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইরান। টানা দুই দফায় এই হামলা চালানো হয় বলে জানা গেছে।আজ সোমবার (৮ জুন) বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ১০ মিনিটের দিকে প্রথম দফায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে তেহরান। এর কিছুক্ষণ পর, সকাল ১০টা ৩০ মিনিটের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় আবারও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়।ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, নতুন ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চল বীরশেবা লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয়েছে।এর আগে রোববার (৭ জুন) যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হামলা চালায় ইসরায়েল। এর জবাবে রাতে ইরান ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে অন্তত ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।পরবর্তীতে আজ সোমবার (৮ জুন) সকালে ইসরায়েল ইরানের রাজধানী তেহরান, ইসফাহানসহ তিনটি শহরে পাল্টা হামলা চালায়। এরপর ইয়েমেন থেকে হুতি গোষ্ঠীও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে বলে জানা যায়।সবশেষ, একের পর এক পাল্টা হামলার ধারাবাহিকতায় ইরান থেকে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হলো, যা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
১ দিন আগে
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে আজারবাইজানে গোপনে নিজেদের সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার বিশেষ দল মোতায়েন করেছিল ইসরায়েল। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তেল আবিবের গোপন স্থাপনার যে নেটওয়ার্ক রয়েছে, এটি ছিল তারই অংশ। মূলত ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান সহজ ও জোরালো করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি সম্পর্কে জানাশোনা আছে এমন চারটি নির্ভরযোগ্য সূত্র মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।দুটি সূত্র জানিয়েছে, আজারবাইজানের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি গোপন জায়গায় অবস্থান নিয়ে এসব বিশেষ দল কাজ করত। এই জায়গাগুলো ইরানের উত্তর সীমান্তের খুবই কাছে অবস্থিত। এর মধ্যে সবচেয়ে কাছের অবস্থানটি ছিল ইরানের তাবরিজ শহর থেকে মাত্র ৬০ মাইল দূরে। উল্লেখ্য, যুদ্ধের সময় ইসরায়েল এই তাবরিজ শহরে বিমান হামলা চালিয়েছিল।অন্য দুটি সূত্র জানায়, ওই নির্দিষ্ট অঞ্চলগুলোতে ইসরায়েলের বিশেষ কমান্ডো দলও মোতায়েন করা হয়েছিল। তারা মূলত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং ড্রোন পরিচালনার কাজ করত। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে উত্তর ইরানের ওপর সার্বক্ষণিক কড়া নজর রাখার জন্য এটি ইসরায়েলের সামনে একটি দারুণ সুযোগ এনে দিয়েছিল।আজারবাইজানে এই গোপন সেনা মোতায়েনের খবরটি প্রথমবারের মতো প্রকাশ করেছে সিএনএন। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইসরায়েল যেসব সামরিক অবস্থান তৈরি করেছিল, এটি তার মধ্যে অন্যতম কৌশলগত পয়েন্ট। এর ফলে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এমন অনেক দুর্গম জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছিল, যা আগে কখনো সম্ভব হয়নি। এটি প্রমাণ করে, তেহরানের বিরুদ্ধে হামলায় ইরানের প্রতিবেশীদেরও প্রচ্ছন্ন ভূমিকা ছিল। ইসরায়েলি বাহিনী কিছু দেশের সম্মতি নিয়ে আর কিছু দেশের অজ্ঞাতে এই কর্মকাণ্ড চালিয়েছিল, যার জেরে ইরানের প্রতিবেশীরাও এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছিল।সূত্রগুলো সিএনএনকে আরও জানিয়েছে, আজারবাইজানের ওই জায়গাগুলো ছাড়াও আরও কয়েকটি দেশে ইসরায়েলের গোপন সামরিক স্থাপনা ছিল। এর মধ্যে রয়েছে ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সোমালিল্যান্ড। প্রথমে জরুরি অবস্থায় উদ্ধারকারী দল হিসেবে কাজ করার কথা থাকলেও পরে এই বাহিনীগুলোর কাজের পরিধি বাড়িয়ে সামরিক ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের মতো সংবেদনশীল কাজ দেওয়া হয়েছিল। সূত্রগুলোর ভাষ্য, এসব মোতায়েনের ফলে যুদ্ধের সময় ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের দক্ষিণ, পশ্চিম এবং উত্তর সীমানার খুব কাছে অবস্থান নিতে পেরেছিল, যা তাদের সামরিক ক্ষমতাকে কয়েক শ মাইল প্রসারিত করে। এসব অগ্রবর্তী অবস্থানের কারণেই ইসরায়েল ইরানজুড়ে বারবার বড় ধরনের হামলা চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল।অভিযানের পরিধি সম্পর্কে একটি সূত্র জানিয়েছে, আজারবাইজানের এই বিশেষ মিশনে কয়েক ডজন সেনা অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে ছিল ইসরায়েলের স্পেশাল অপারেশন ফোর্সের সদস্য, হেলিকপ্টার থেকে আক্রমণ ও উদ্ধারে অভিজ্ঞ এলিট বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। তবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত আজারবাইজান দূতাবাসের একজন মুখপাত্র সিএনএনকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘তৃতীয় কোনো দেশের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর জন্য আজারবাইজানের ভূখণ্ড ব্যবহার করা হয়েছে বলে যে ভিত্তিহীন দাবি করা হচ্ছে, আমরা তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।’ এ ছাড়া এই বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য সিএনএনের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক সাড়া পাওয়া যায়নি।এদিকে একটি সূত্র জানায়, ‘হর্ন অব আফ্রিকা’ অঞ্চলে অবস্থিত স্বঘোষিত প্রজাতন্ত্র সোমালিল্যান্ড ইসরায়েলকে আরও একটি সামরিক অবস্থানের সুযোগ করে দিয়েছিল। এর ফলে ইরানে দূরপাল্লার বিমান হামলার সময় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো সম্ভবত সেখানে জ্বালানি ও রসদ নেওয়ার জন্য থামার সুযোগ পেয়েছিল। গত ডিসেম্বরে ইসরায়েলই প্রথম দেশ হিসেবে সোমালিল্যান্ডকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়। সোমালিল্যান্ডে ইসরায়েলের এই গোপন সামরিক স্থাপনা ব্যবহারের খবরটিও সিএনএনই প্রথম প্রকাশ করেছে।পাশাপাশি, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কিছু সময় ধরে ইরাকেও ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দুটি গোপন স্থাপনা ছিল, যা প্রথম প্রকাশ করেছিল ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও নিউ ইয়র্ক টাইমস। তবে এক বিবৃতিতে ইরাকের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, মার্চের শুরু পর্যন্ত তাদের দেশে কোনো ‘অননুমোদিত ঘাঁটি বা বাহিনী’ ছিল না। অন্যদিকে, মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওস প্রথম জানায়, যুদ্ধের সময় ইসরায়েল গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাতে একটি আয়রন ডোম আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যাটারি ও অন্যান্য সুরক্ষাব্যবস্থা বসিয়েছিল। যদিও এই খবর প্রকাশের পর আমিরাত শক্ত ভাষায় এর সত্যতা অস্বীকার করেছে।ব্যবসায়িক ও সামরিক স্বার্থকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল এবং আজারবাইজানের মধ্যে দীর্ঘদিনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। আজারবাইজান ইসরায়েলের প্রয়োজনীয় তেলের একটি বড় অংশের জোগান দেয়। এর বিনিময়ে ইসরায়েল আজারবাইজানের কাছে অত্যাধুনিক অস্ত্র বিক্রি করে, যার কিছু অংশ নাগোরনো-কারাবাখ যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছিল। ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে বেগিন-সাদাত সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের ইরানবিষয়ক বিশেষজ্ঞ গেরশোন কোগান লিখেছিলেন, ‘আজারবাইজানে ইসরায়েলের কৌশলগত সম্পর্কের বিষয়টি ইচ্ছা করেই হালকা করে দেখানো হয়, যা মূলত অস্ত্র সরবরাহ, গোয়েন্দা সহযোগিতা এবং নিরাপত্তা খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রযুক্তিগত পারস্পরিক নির্ভরতার ওপর ভিত্তি করে টিকে রয়েছে।’ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক জশুয়া কুসেরার মতে, এই সম্পর্ক আজারবাইজানকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সুবিধাও এনে দিয়েছে, যার ফলে বাকু ওয়াশিংটন ডিসিতে ইসরায়েলের প্রভাবকে নিজেদের পক্ষে কাজে লাগাতে পারে।
২ দিন আগে