ঢাকায় আজ শুক্রবার ভোর থেকেই অঝোরে বৃষ্টি শুরু হয়। ভোর পাঁচটার কিছু পর থেকে সকাল সাতটার কিছু আগে পর্যন্ত অঝোরে বৃষ্টি হয়। এই বৃষ্টিতে ঢাকার গ্রিনরোড, কারওয়ান বাজার, পান্থপথ, ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরের পাশের রাস্তা, জিগাতলা, পশ্চিম তেজতুরী বাজার, পশ্চিম শ্যাওড়াপাড়া, মিরপুর, ১০, কাজীপাড়া, মালিবাগ, রেলগেট, মৌচাক, মগবাজার, হাতিরঝিলে সড়কের মধুবাগ এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তায় পানি জমেছে। আজ ছুটির দিন হওয়ায় রাস্তায় এ সময় যানবাহন ছিল কম। ফলে ভোগান্তি কিছুটা কম হয়েছে। তবে সকাল ৮টার পরও এসব রাস্তায় পানি জমেছিল। জিগাতলা থেকে কারওয়ান বাজারে সকালে কর্মস্থলে আসার পথে ভোগান্তিতে পড়েন সাংবাদিক দাউদ ইসলাম। তিনি বলেন, জিগাতলায় রিকশার পাদানি পর্যন্ত পানি উঠে যায়। ফলে দুই পা ওপরে তুলে কোনোরকমে তিনি রিকশায় বসেন। তারপরও রিকশা চলার সময় পানি ছিটে আসায় ভিজে গেছেন। এ অবস্থাতেই সারা দিন অফিস করতে হবে তাঁকে। রাজধানীর খিলগাঁও এলাকা থেকে কারওয়ান বাজারে সকালে কর্মস্থলে আসার পথে ভোগান্তিতে পড়েন গণমাধ্যমকর্মী ফাতেমা তুজ জোহরা। তিনি বলেন, মে দিবস হওয়ায় আজ কোনো বাস পাননি। ফলে দুটা রিকশায় ভেঙে ভেঙে আসেন তিনি। বৃষ্টি ও রাস্তায় পানির কারণে রিকশা পাচ্ছিলেন না। মালিবাগে নোংরা পানির মধ্যে দিয়ে হেঁটে আসার পর তিনি রিকশা পেয়েছেন। ভাড়াও লেগেছে দ্বিগুণ। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, দেশের ছয় বিভাগের কয়েকটি স্থানে আজ বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। রাজধানীতেও আরও বৃষ্টি হতে পারে। এতে দেশের উত্তর–পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলার নদীগুলোতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর গতকাল পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার জন্য দেশের ছয় বিভাগে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। বিভাগগুলো হলো : ময়মনসিংহ, ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, খুলনা ও সিলেট। এসব বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্কবার্তায় বলা হয়।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব, গ্রিনকার্ড এবং স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়াকে কঠিন করে তুলতে যে-সব নীতি অবলম্বন করছে মার্কিন প্রশাসন— সেসব প্রত্যাখ্যান করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ফেডারেল আদালত ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট। গতকাল এক রায়ে ডিস্ট্রিক্টস কোর্টের বিচারক জুলিয়া কবির বলেছেন, মার্কিন প্রশাসনের এসব নীতি বৈষম্যমূলক এবং অবৈধ। প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের নভেম্বরে ‘নিরাপত্তাজনিত কারণে’ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য বিশ্বের ৩৯টি দেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। সেই সঙ্গে এই ৩৯টি দেশের যে-সব নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব, গ্রিনকার্ড এবং স্থায়ী আবাসনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন— সেসব আবেদন পর্যালোচনাও অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়। এই স্থগিতাদেশ কার্যকর করার আগে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট) অধীন মার্কিন নাগরিক ও অভিবাসন পরিষেবা সংস্থা (ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস- ইউএসসিআইএস) ২০২৫ সালের নভেম্বরে একটি নীতি গ্রহণ করে। সেই নীতির আওতায়, আংশিক কিংবা পূর্ণ নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত দেশগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা অভিবাসীদের আবেদনপত্র পর্যালোচনার সময় তাদের জাতীয়তাকে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ নেতিবাচক বিষয়’ হিসেবে গণ্য করা শুরু হয়। ট্রাম্প প্রশাসন এ নীতি নেওয়ার পর তা বাতিলের আবেদন করে ডিসেম্বরে ম্যাসাচুসেটসের রাজধানী বোস্টনের ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে মামলা করেন ইরান, হাইতি, ভেনেজুয়েলা, সিরিয়াসহ নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত দেশগুলোর সারিতে থাকা ২০টি দেশের ২০০ জন নাগরিক। মামলায় বিবাদী করা হয় যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট) অধীন সংস্থা ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস বিভাগকে। গতকাল সেই মামলার রায় ঘোষণা করেছেন ডিস্ট্রিক্ট আদালতের বিচারক জুলিয়া কবির। ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলোর নাগরিকদের আবেদন পর্যালোচনায় যে স্থগিতাদেশ দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন— রায়ে সেই সেই স্থগিতাদেশের ওপর নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছেন বিচারক। রায় ঘোষণার সময় বিচারক বলেছেন, মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা সংস্থা আবেদনপত্র যাচাইয়ে যে স্থগিতাদেশ দিয়েছে তা একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও জাতীয়তা আইন এবং মার্কিন পার্লামেন্ট কংগ্রেসের নির্দেশের পরিপন্থি।সূত্র : রয়টার্স, এনডিটিভি অনলাইন।
ঢাকায় আজ শুক্রবার ভোর থেকেই অঝোরে বৃষ্টি শুরু হয়। ভোর পাঁচটার কিছু পর থেকে সকাল সাতটার কিছু আগে পর্যন্ত অঝোরে বৃষ্টি হয়। এই বৃষ্টিতে ঢাকার গ্রিনরোড, কারওয়ান বাজার, পান্থপথ, ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরের পাশের রাস্তা, জিগাতলা, পশ্চিম তেজতুরী বাজার, পশ্চিম শ্যাওড়াপাড়া, মিরপুর, ১০, কাজীপাড়া, মালিবাগ, রেলগেট, মৌচাক, মগবাজার, হাতিরঝিলে সড়কের মধুবাগ এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তায় পানি জমেছে। আজ ছুটির দিন হওয়ায় রাস্তায় এ সময় যানবাহন ছিল কম। ফলে ভোগান্তি কিছুটা কম হয়েছে। তবে সকাল ৮টার পরও এসব রাস্তায় পানি জমেছিল। জিগাতলা থেকে কারওয়ান বাজারে সকালে কর্মস্থলে আসার পথে ভোগান্তিতে পড়েন সাংবাদিক দাউদ ইসলাম। তিনি বলেন, জিগাতলায় রিকশার পাদানি পর্যন্ত পানি উঠে যায়। ফলে দুই পা ওপরে তুলে কোনোরকমে তিনি রিকশায় বসেন। তারপরও রিকশা চলার সময় পানি ছিটে আসায় ভিজে গেছেন। এ অবস্থাতেই সারা দিন অফিস করতে হবে তাঁকে। রাজধানীর খিলগাঁও এলাকা থেকে কারওয়ান বাজারে সকালে কর্মস্থলে আসার পথে ভোগান্তিতে পড়েন গণমাধ্যমকর্মী ফাতেমা তুজ জোহরা। তিনি বলেন, মে দিবস হওয়ায় আজ কোনো বাস পাননি। ফলে দুটা রিকশায় ভেঙে ভেঙে আসেন তিনি। বৃষ্টি ও রাস্তায় পানির কারণে রিকশা পাচ্ছিলেন না। মালিবাগে নোংরা পানির মধ্যে দিয়ে হেঁটে আসার পর তিনি রিকশা পেয়েছেন। ভাড়াও লেগেছে দ্বিগুণ। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, দেশের ছয় বিভাগের কয়েকটি স্থানে আজ বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। রাজধানীতেও আরও বৃষ্টি হতে পারে। এতে দেশের উত্তর–পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলার নদীগুলোতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর গতকাল পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার জন্য দেশের ছয় বিভাগে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। বিভাগগুলো হলো : ময়মনসিংহ, ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, খুলনা ও সিলেট। এসব বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্কবার্তায় বলা হয়।
দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে শাম্মি সিলভার নেতৃত্বাধীন পুরো বোর্ড পদত্যাগ করার পর, ‘ট্রান্সফরমেশন কমিটি’ গঠন করেছে শ্রীলঙ্কা সরকার। ৯ সদস্যের এই কমিটিতে রাখা হয়েছে কিংবদন্তি ক্রিকেটার কুমার সাঙ্গাকারাকে।গত বুধবার সরকারের নির্দেশে শাম্মি-বোর্ড সরে যাওয়ার পর এই নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাঙ্গাকারা ছাড়াও এই কমিটিতে আছেন সাবেক ক্রিকেটার রোশান মহানামা ও সিদাথ ওয়েত্তিমুনি। তবে কমিটির বড়ো একটি অংশ জুড়ে আছেন করপোরেট, আইন এবং রাজনৈতিক অঙ্গনের ব্যক্তিত্বরা। কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাবেক সংসদ সদস্য এরান বিক্রমারত্নেকে।বিক্রমারত্নে শ্রীলঙ্কার প্রধান বিরোধী দল সামাগি জন বালাওয়েগয়ার প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ, পেশায় একজন ব্যবসায়ী। ধারণা করা হচ্ছে, এই দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি দলীয় রাজনৈতিক পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বর্তমানে সংসদ সদস্যও নন।কমিটির দায়িত্ব পাওয়ার পর এক বিবৃতিতে বিক্রমারত্নে বলেন, অত্যন্ত দক্ষ এবং সৎ ৯ সদস্যের এমন একটি কমিটির নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য সৌভাগ্যের।’ তিনি বলেন, আমাদের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হলো শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের (এসএলসি) শাসন কাঠামো সম্পূর্ণভাবে ঢেলে সাজানো। এই প্রচেষ্টার মূল ভিত্তি হবে একটি নতুন গঠনতন্ত্র বাস্তবায়ন করা, যা এই খেলার জন্য একটি শক্তিশালী ও আধুনিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের বর্তমান গঠনতন্ত্র নিয়ে অনেক বছর ধরে তীব্র সমালোচনা আছে। এই গঠনতন্ত্র অকার্যকর ক্রিকেট সংস্থাগুলোকে অতিরিক্ত ক্ষমতা দিচ্ছে, এর সুযোগ নিয়েই বোর্ডে দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা এবং অদক্ষতা জেঁকে বসেছে বলে অভিযোগ।নতুন কমিটিতে দিনাল ফিলিপস এবং উপুল কুমারাপেরুমা নামে দুজন আইনজীবীকে রাখা হয়েছে, তারা নতুন গঠনতন্ত্রের খসড়া তৈরিতে কাজ করবেন।কমিটির দ্বিতীয় অগ্রাধিকার সম্পর্কে বিক্রমারত্নে বলেন, আমাদের দ্বিতীয় লক্ষ্য হলো মাঠের খেলায় শ্রেষ্ঠত্ব নিশ্চিত করা। আমরা এমন একটি কাঠামো, বিশ্বমানের সুযোগ-সুবিধা এবং ইনসেনটিভ মডেল তৈরির দিকে মনোযোগ দেব, যা আমাদের জাতীয় দলগুলোকে শক্তিশালী করবে।তিনি আরও বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হলো খেলোয়াড়দের এমনভাবে তৈরি করা যাতে তারা ধারাবাহিকভাবে বিশ্বমানের পারফরম্যান্স উপহার দিতে পারে এবং শ্রীলঙ্কাকে আবারও আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানে ফিরিয়ে নিতে পারে।
বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে রণবীর সিং অভিনীত অ্যাকশন থ্রিলার ‘ধুরন্ধর : দ্য রিভেঞ্জ’ (ধুরন্ধর ২)। মুক্তির পর থেকেই দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসায় ভাসছে ছবিটি, ইতোমধ্যেই ছাড়িয়ে গেছে হাজার কোটি রুপির মাইলফলক। তবে এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে পরিচালক আদিত্য ধরের এক সাহসী ও ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত। সম্প্রতি জানা গেছে, ছবিটির অ্যাকশন দৃশ্যে কৃত্রিম প্রযুক্তির (ভিএফএক্স) পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে জ্যান্ত সব উপাদান। অ্যাকশন ডিরেক্টর প্রকাশের দেওয়া তথ্যমতে, ছবির ক্লাইম্যাক্সে রণবীর সিং ও অর্জুন রামপালের লড়াইয়ের সময় বাস্তবতা ফুটিয়ে তুলতে ব্যবহার করা হয়েছে ৫০০ লিটার পেট্রোল এবং ২৫ কেজি বিস্ফোরক। বড়ো বড়ো তেলের ট্যাঙ্কার ও কন্টেইনার উড়িয়ে দেওয়ার দৃশ্যগুলো গ্রাফিক্স ছাড়াই বাস্তবে ধারণ করা হয়েছে। বিপজ্জনক এই শুটিং চলাকালে রণবীর সিং ও অর্জুন রামপাল সরাসরি সেটে উপস্থিত ছিলেন। জীবনের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও দুই অভিনেতা দৃশ্যটি নিখুঁত করতে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। মূলত টানটান উত্তেজনা আর পাকিস্তান-বিরোধী পটভূমিই ছবিটিকে বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা ব্লকবাস্টারে পরিণত করেছে। এদিকে ‘ধুরন্ধর ২’-এর অভাবনীয় সাফল্যের পর পরিচালক আদিত্য ধর তার পরবর্তী প্রজেক্টের প্রস্তুতি শুরু করেছেন। গুঞ্জন রয়েছে, ২০২৭ সালের মার্চে শুরু হতে যাওয়া সেই সিনেমাতেও কেন্দ্রীয় চরিত্রে দেখা যাবে রণবীর সিংকে। বর্তমানে বড়ো পর্দার রাজত্ব শেষে ছবিটি এখন ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তির অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।
দেশের উৎপাদনশীল খাতের প্রবৃদ্ধি গতিশীল করতে এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বাড়াতে শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য বড়ো সুখবর দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘বাংলাদেশ ব্যাংক-লং টার্ম ফাইন্যান্সিং ফ্যাসিলিটি’ (বিবি-এলটি এফএফ)। এর আওতায় ঋণের সুদের হার কমানোর পাশাপাশি ঋণের সর্বোচ্চ সীমাও পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যানশিয়াল সেক্টর সাপোর্ট অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানিং ডিপার্টমেন্ট থেকে এ সংক্রান্তি একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ‘ক্যামেলস’ রেটিং অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হারে এই তহবিল থেকে অর্থ পাবে। রেটিং ১ প্রাপ্ত ব্যাংকসমূহ ৫ বছর মেয়াদে ১ শতাংশ, ৭ বছর মেয়াদে ১.২৫ শতাংশ এবং ১০ বছর মেয়াদে ১.৫০ শতাংশ সুদে তহবিল পাবে।রেটিং ২ প্রাপ্ত ব্যাংকের ক্ষেত্রে ৫ বছর মেয়াদে ১.২৫ শতাংশ, ৭ বছর মেয়াদে ১.৫০ শতাংশ এবং ১০ বছর মেয়াদে ১.৭৫ শতাংশ সুদে তহবিল পাবে। রেটিং ৩ প্রাপ্ত ব্যাংকসমূহ ৫ বছর মেয়াদে ১.৫০ শতাংশ সদহার, ৭ বছর মেয়াদে ১.৭৫ শতাংশ এবং ১০ বছর মেয়াদে ২ শতাংশ সুদহারে তহবিল পাবে।বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংকগুলো তাদের নিজস্ব তহবিল সংগ্রহের ব্যয় ও পরিচালন খরচ বিবেচনা করে গ্রাহক পর্যায়ে সুদের হার নির্ধারণ করবে। তবে, এটি কোনোভাবেই কষ্ট অফ ফান্ড বা তহবিল ব্যয়ের চেয়ে ২ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। এর ফলে শিল্পোদ্যোক্তারা আগের চেয়ে সাশ্রয়ী সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ পাওয়ার সুযোগ পাবেন।সার্কুলারে জানানো হয়, এখন থেকে একজন একক ঋণগ্রহীতা একটি ব্যাংকের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১০ মিলিয়ন (এক কোটি ডলার) মার্কিন ডলার পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। তবে, সিন্ডিকেটেড অর্থায়নের (দুই বা ততোধিক ব্যাংকের মাধ্যমে) ক্ষেত্রে এই ঋণের সীমা হবে সর্বোচ্চ ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, বাজারের বর্তমান চাহিদা এবং আর্থিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই তহবিলকে আরও আকর্ষণীয় করতেই নীতিমালায় এই সংশোধন আনা হয়েছে। আগামী ১ মে থেকে এই নতুন হার ও নীতিমালা কার্যকর হবে। বিবি-এলটিএফএফ এর আওতায় বিদ্যমান এবং নতুন উভয় ধরনের ঋণের ক্ষেত্রেই এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে।
৭ ঘন্টা আগে
মানুষ প্রতিনিয়ত ভুল করে এবং গুনাহে লিপ্ত হয়। কিন্তু পরম দয়ালু আল্লাহ তাআলা বান্দাদের ক্ষমা করার জন্য সহজ ও বরকতময় বহু পথ রেখেছেন। সামান্য সময় ব্যয় করে সহজ জিকিরের মাধ্যমে একজন মানুষ অর্জন করতে পারেন বিপুল সওয়াব এবং পেতে পারেন গুনাহ থেকে মুক্তি। হজরত সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সে.) একদা সাহাবিদের জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমাদের কেউ কি প্রতিদিন এক হাজার পুণ্য হাসিল করতে অপারগ হয়ে যাবে? তখন সেখানে বসে থাকা একজন প্রশ্ন করল, কেউ কীভাবে এক হাজার পুণ্য হাসিল করবে? তিনি বললেন, সে একশবার তাসবিহ (সোবহানাল্লাহ) পাঠ করলে তার জন্যে এক হাজার পুণ্য লিখিত হবে অথবা তার (আমলনামা) হতে এক হাজার পাপ মুছে দেয়া হবে।’ (সহিহ মুসলিম : ২৬৯৮)।সাগরের ফেনা পরিমাণ গুনাহ মাফঅন্য এক হাদিসে রসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি দিনে ১০০ বার ‘সে ওয়া বিহামদিহি’ পাঠ করবে, তার গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হবে, যদিও তা সমুদ্রের ফেনার মতো অসংখ্য হয়।’ (সহিহ সোবহানাল্লাহি ৬৪০৫)।বড়ো গুনাহে তওবার আবশ্যকতাআলেমদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, হাদিসে বর্ণিত এই ক্ষমার বিষয়টি সাধারণত ‘সগিরা’ বা ছোট গুনাহের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কবিরা গুনাহ বা বড়ো পাপ থেকে মুক্তি পেতে হলে আন্তরিকভাবে তওবা করা এবং যদি তা মানুষের অধিকারের (হক্কুল ইবাদ) সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, তাহলে তা আদায় করা বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির থেকে ক্ষমা নেওয়া অপরিহার্য।কেন এই আমল গুরুত্বপূর্ণ?ব্যস্ত জীবনে দীর্ঘ সময় নিয়ে ইবাদত করা সবার পক্ষে সম্ভব হয় না। কিন্তু এই সংক্ষিপ্ত জিকিরগুলো খুব সহজেই দৈনন্দিন জীবনের অংশ করা যায়। চলতে-ফিরতে, কর্মস্থলে কিংবা যাতায়াতের সময়ও। এতে একদিকে যেমন : সওয়াব অর্জন হয়, অন্যদিকে আল্লাহর স্মরণে অন্তর প্রশান্ত থাকে এবং আধ্যাত্মিক সংযোগ দৃঢ় হয়।ইখলাস বা আন্তরিকতাইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, শুধু মুখে উচ্চারণ নয়, বরং আল্লাহর মহিমা অন্তরে লালন করে জিকির করলে তা আল্লাহর কাছে দ্রুত কবুল হয়। নিয়মিত জিকিরের অভ্যাস গড়ে তুললে গুনাহ মাফের পাশাপাশি মুমিনের জীবন হয়ে ওঠে শান্তিময় ও আলোকিত।
তরমুজ গ্রীষ্মের অন্যতম জনপ্রিয় একটি ফল। এটি শরীরকে সতেজ রাখে, প্রাকৃতিকভাবে মিষ্টি এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, খাওয়ার সময়টাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তরমুজে প্রচুর পরিমাণে পানি এবং পুষ্টি উপাদান রয়েছে যা সার্বিক স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়তা করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তরমুজে ৯৪ শতাংশ পানি, লাইকোপেন, পটাসিয়াম এবং আরও অনেক পুষ্টি উপাদান থাকে। এতে ফাইবার রয়েছে যা হজম প্রক্রিয়া সচল রাখতে একটি চমৎকার উৎস। তবে বেশি রাতে এটি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় না। সন্ধ্যা ৭টার পর তরমুজ বা অন্য কোনো ফল না খাওয়াই ভালো। তরমুজ সামান্য অম্লীয় এবং রাতে যখন শরীর কম সক্রিয় থাকে, তখন এটি হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দিতে পারে। তরমুজ খাওয়ার সেরা সময় হলো দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে, যখন হজম প্রক্রিয়া শক্তিশালী ও সক্রিয় থাকে।গভীর রাতে খেলে কী হয়?বিশেষজ্ঞরা গভীর রাতে তরমুজ খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন, বিশেষ করে যাদের হজমশক্তি সংবেদনশীল তাদের জন্য। তরমুজের উচ্চ মাত্রার পানি এবং প্রাকৃতিক চিনি ঘুমানোর খুব কাছাকাছি সময়ে খেলে অস্বস্তির কারণ হতে পারে। যেহেতু রাতে হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়, তাই পরের দিন সকালে কারও কারও পেট ফাঁপা, পেট ভারি লাগা বা পেটে অস্বস্তি হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা আরও উল্লেখ করেছেন যে, যেহেতু তরমুজে প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে, তাই রাতে বেশি পরিমাণে খেলে ঘন ঘন বাথরুমে যাওয়ার কারণে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে।পুষ্টিবিদরা নিম্নলিখিত ব্যক্তিদের জন্য অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন :* যাদের হজমশক্তি দুর্বল বা আইবিএস (IBS) আছে।* যাদের অ্যাসিডিটি বা পেট ফাঁপার প্রবণতা রয়েছে।* ডায়াবেটিস রোগী, যাদের খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।* যারা ভারী রাতের খাবারের ঠিক পরেই তরমুজ খান।তরমুজ নিজে কোনো অনিরাপদ ফল নয়। সতেজ এবং স্বাস্থ্যসম্মতভাবে সংরক্ষণ করা হলে এটি পুষ্টিকর ও সতেজকারক। কিন্তু গভীর রাতে, বিশেষ করে ভারী খাবারের পর এটি খাওয়া সবার জন্য সেরা উপায় নাও হতে পারে। তাহলে বুদ্ধিমানের কাজ কী? রাতের খাবারের পর তরমুজ খাওয়ার অভ্যাস না করে, দিনের বেলায় হালকা খাবার হিসেবে বা খাবারের মাঝে এটি উপভোগ করুন।
২০৫০ সালের মধ্যে চরম তাপমাত্রার ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের শীর্ষ ৬টি দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।সোমবার ২৬ জানুয়ারি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাতে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার সাসটেইনেবিলিটি’-তে এই গবেষণাটি প্রকাশ হয়।ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার অব্যাহত থাকলে আগামী ২৫ বছরের মধ্যে চরম তাপপ্রবাহে আক্রান্ত বৈশ্বিক জনসংখ্যার হার প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। শিল্প-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় যদি বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়, তবে চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ বিশ্বের ৪১ শতাংশ মানুষ (প্রায় ৩৭৯ কোটি) অসহনীয় তাপমাত্রার মধ্যে বসবাস করবে। ২০১০ সালে এই পরিস্থিতির শিকার জনগোষ্ঠীর হার ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ (১৫৪ কোটি)।