বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।সাবেক এই মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মুকসেদুর রহমান আবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় রফিকুল ইসলাম মিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালের লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা তার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।এর আগে, হঠাৎ অসুস্থবোধ করলে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
দিল্লিতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ‘নিট’ (NEET)-এর প্রশ্নফাঁস ও সরকারের দুর্নীতির অভিযোগে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সঙ্গে সংলাপে বসতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে মোদী সরকার। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বলেন, বুধবার (২২ জুলাই) বিকেল থেকে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিদের কাছে আলোচনার জন্য চারটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।তিনি বলেন, ‘সরকার যেকোনো সময় আলোচনার জন্য প্রস্তুত। এটি আমাদের সকল তরুণ বন্ধুর প্রতি একটি স্থায়ী আমন্ত্রণ। আন্দোলনকারীদের সুবিধামতো সময়েই আমরা সব বিষয়ে আলোচনা করতে চাই।’জিতেন্দ্র সিং জানান, এই আলোচনায় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডাও অংশ নেবেন। বৈঠকটি নাড্ডার কার্যালয় অথবা বাসভবনে অনুষ্ঠিত হতে পারে।তিনি বলেন, ‘সরকার কোনো প্রতিপত্তির প্রশ্ন তুলছে না। আলোচনার মাধ্যমে ধীরে ধীরে একটি সমাধানে পৌঁছাতে চাই। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সরকারের ধারাবাহিক উদ্যোগেরই এটি একটি অংশ।’আন্দোলনকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি বিনীতভাবে আপনাদের সবাইকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার অনুরোধ করছি।’এদিকে, বিক্ষোভস্থল যন্তর মন্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, পুলিশ তাদের জানিয়েছে যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা তার বাসভবনে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করতে চান।তবে তিনি বলেন, ‘আমরা কারও বাড়ি বা অফিসে যেতে অস্বীকার করেছি। গণদরবার এখানেই। মন্ত্রীদের জনগণের মাঝে আসা উচিত। তারা যদি কথা বলতে চান, তাহলে সেই আলোচনা যন্তর মন্তরেই হওয়া উচিত।’সৌরভ দাস আরও বলেন, ‘নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ থাকলে বিক্ষোভস্থলের কাছাকাছি কোনো নিরপেক্ষ স্থানেও আলোচনায় বসতে তারা প্রস্তুত।’তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শিক্ষিত মানুষ। আমরা সবসময়ই বলে এসেছি যে আমরা আলোচনার জন্য প্রস্তুত। আলোচনার মাধ্যমে যদি সমস্যার সমাধান হয়, সেটিই সবচেয়ে ভালো।’
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে। শারীরিক অসুস্থতাকে পদত্যাগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানিয়েছে। সরকার ও বিএনপির একাধিক সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে পদত্যাগের বিষয়ে বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়েও দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে।রাষ্ট্রপতির কাছে এ বার্তা পৌঁছে দেওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বুধবার (২২ জুলাই) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, খুব শিগগিরই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি সূত্রটি।এদিকে রাষ্ট্রপতি পদে কে আসতে পারেন, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালন করা একজন সচিবের নাম সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। যদিও এর আগে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খানসহ আরও কয়েকজনের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচিত হয়েছিল।সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে জাতীয় সংসদের স্পিকার সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদকালেই পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায় বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।তবে রাষ্ট্রপতি পদে নিজের নাম আলোচনায় থাকার বিষয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে একেবারেই অবগত নই। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে অনেকের নামই আলোচনায় আসতে পারে, সেটিই স্বাভাবিক।এদিকে বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আল-জাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের লিখেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। এর চাইতেও বিস্ময়কর খবর হলো নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির কোনো শীর্ষ নেতার পরিবর্তে পছন্দের তালিকায় রয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।তবে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে এখন পর্যন্ত বঙ্গভবন কিংবা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা বা বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার তিন দিন পর টুর্নামেন্টের সেরা একাদশ ঘোষণা করেছে ফিফা। সমর্থকদের ভোটে নির্বাচিত এই একাদশে সবচেয়ে বেশি তিনজন করে জায়গা পেয়েছেন স্পেন ও ফ্রান্সের।রানার্সআপ আর্জেন্টিনা থেকে আছেন দুজন। এ ছাড়া ইংল্যান্ড, নরওয়ে ও কেপ ভার্দের একজন করে ফুটবলার জায়গা পেয়েছেন। ব্রাজিলের কেউ বা স্পেনের লামিনে ইয়ামাল এই একাদশে নেই।৪-৩-৩ ছকে সাজানো এই দলে গোলবারের নিচে আছেন কেপ ভার্দের ভোজিনিয়া। প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসা আফ্রিকান দলটির হয়ে দুর্দান্ত সব সেভ করে টুর্নামেন্টের অন্যতম চমক হয়ে ওঠেন তিনি। একাদশে জায়গা পাওয়া খেলোয়াড়দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৯.৬ শতাংশ ভোটও পেয়েছেন ভোজিনিয়াই।রক্ষণভাগে জায়গা পেয়েছেন স্পেনের মার্ক কুকুরেয়া ও পেদ্রো পোরো, আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ এবং ফ্রান্সের দায়ো উপামেকানো। পুরো টুর্নামেন্টে এক মিনিটও মিস না করা কুকুরেয়া দুটি সহায়তামূলক পাস করেছেন। স্পেনও বিশ্বকাপ জয়ের পথে পুরো আসরে মাত্র এক গোল হজম করে সাতটি গোলশূন্য ম্যাচ উপহার দিয়েছে।মাঝমাঠে জায়গা পেয়েছেন স্পেনের রদ্রি, ফ্রান্সের মাইকেল ওলিসে এবং ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহ্যাম। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মাঝমাঠের প্রাণভোমরা ছিলেন রদ্রি। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বলও জিতেছেন তিনি। সেমিফাইনালে খেলা ফ্রান্সের হয়ে সাতটি সহায়তামূলক পাস করেছেন ওলিসে। অন্যদিকে বেলিংহাম ইংল্যান্ডের হয়ে করেছেন সাত গোল।আক্রমণভাগে জায়গা পেয়েছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি, ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং নরওয়ের আর্লিং হলান্ড। ১০ গোল করে গোল্ডেন বুট জেতা এমবাপ্পে টুর্নামেন্টে চারটি সহায়তামূলক পাস করেছেন। টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জেতার পথে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাও এখন এমবাপ্পেই। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৯.৬ শতাংশ ভোট পেয়েছেন এই ফরাসি তারকা।অন্যদিকে ৩৯ বছর বয়সেও আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলতে বড় ভূমিকা রাখেন মেসি। পুরো টুর্নামেন্টে করেন আট গোল ও চারটি সহায়তামূলক পাস। আর নরওয়ের বিশ্বকাপযাত্রা শেষ আটে থেমে গেলেও এর মধ্যেই সাত গোল করেন হলান্ড।ফিফার বিশ্বকাপ সেরা একাদশ—গোলরক্ষক: ভোজিনিয়া (কেপ ভার্দে)রক্ষণভাগ: পেদ্রো পোরো (স্পেন), দায়ো উপামেকানো (ফ্রান্স), লিসান্দ্রো মার্তিনেজ (আর্জেন্টিনা), মার্ক কুকুরেয়া (স্পেন)মাঝমাঠ: রদ্রি (স্পেন), মাইকেল ওলিসে (ফ্রান্স), জুড বেলিংহ্যাম (ইংল্যান্ড)আক্রমণভাগ: লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা), আর্লিং হলান্ড (নরওয়ে), কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স)
বাংলাদেশের সংগীতপ্রেমীদের মন মাতাতে আবারও ঢাকায় এসেছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় গায়ক আতিফ আসলাম। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে একটি সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন তিনি। সেখানে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন জনপ্রিয় এ গায়ক।সংবাদ সম্মেলনে এক সংবাদকর্মী আতিফ আসলামের কাছে জানতে চান, বাংলাদেশের খাবার তার কেমন লাগে? কোন খাবার বেশি প্রিয়? জবাবে গায়ক বলেন, ‘খিচুড়ি। আর আপনাদের একটা চা আছে, সেটা খুবই মজা। এছাড়া আপনাদের বিরিয়ানিরও তুলনা হয় না।’ আতিফ আসলাম বলেন, ‘আমি পৃথিবীর যেখানেই যাই, বাংলাদেশের খাবারের প্রশংসা করি। যখনই আমাকে মানুষ জিজ্ঞেস করে, চাইনিজ, থাই এসব খাবার প্রিয় কিনা? আমি সোজা বলে দিই, একবার আপনারা বাংলাদেশ গিয়ে সেখানকার খাবার খেয়ে দেখুন। তারপর আমাকে বলুন।’ বহু বছর আগে একটি সংগীত প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের কিংবদন্তি শিল্পী রুনা লায়লার সঙ্গে অংশ নেন আতিফ। সে প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে আতিফ বলেন, রুনা লায়লা ম্যামের সঙ্গে একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলাম। আমরা দুজনেই বিচারকের আসনে ছিলাম। তো, প্রসঙ্গক্রমে তিনি গান ধরেন ‘ও লাল মেরি’, খুবই জনপ্রিয় গান। অবশ্যই তিনি অসাধারণ শিল্পী, একজন কিংবদন্তি। তার সঙ্গে কাজ করতে পেরে দারুণ লেগেছে। পাকিস্তানের মানুষ আতিফের বাংলাদেশে কোনো আত্মীয় রয়েছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আপনারা সবাই আমার আত্মীয়। আমার কাছে পরিবারের মতোই। তবে হ্যাঁ, আক্ষরিক অর্থে বলতে গেলে এখানে কাজের সুবাদেই টুকটাক পরিচয়। এর বেশি কিছু নেই।’শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে ঢাকার মাদানি এভিনিউর কোর্টসাইডে হবে আতিফ আসলামের কনসার্ট। এতে তিনি ছাড়াও গান পরিবেশনা করবে বাংলাদেশের ব্যান্ড ‘মেঘদল’ ও ‘লেভেল ফাইভ’।
কয়েকদিন ধরে বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলে বিরামহীন বৃষ্টি হচ্ছে। কখনো ভারী, কখনো হালকা। বৃষ্টি তছনছ করে দিয়েছে এ অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি। ডুবেছে শত শত একর ফসলি জমি, ভেসে গেছে মাছ। হতাহতও হয়েছেন প্রায় অর্ধশত কৃষক। কৃষি এবং মৎস্য বিভাগের প্রাথমিক জরিপ বলছে, বিভাগের ছয় জেলায় এ দুই সেক্টরে এখন পর্যন্ত মোট ক্ষতির পরিমাণ ৩৮ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। যার মধ্যে শুধু কৃষিপণ্যের ক্ষতি প্রায় ১৮ কোটি টাকার। আরও ২০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে মৎস্য খাতে। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার সোনাতলা গ্রামের আব্দুর রহিম বলেন, ‘মাছচাষিদের স্বপ্ন পানিতে ভেসে গেছে।’ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অবিরাম বর্ষণে বিভাগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নদীতীরবর্তী এবং নিম্নাঞ্চল। এতে পাকা ধান, শাকসবজি, রোপা আমন বীজতলা এবং উদ্যান ফসল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক এলাকার নিচু জমিতে পানি জমে যাওয়ায় সদ্য রোপণ করা চারা পচে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। মাঠের পর মাঠ সবজিক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাজারে।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বরিশাল খামারবাড়ির হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ৯ জুলাই থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিপাত ও নদনদীর পানি বৃদ্ধিতে বরিশাল বিভাগের পাঁচ জেলায় ৪১ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত প্রায় ২৯ হাজার ৯১৯ মেট্রিক টন ফসল নষ্ট হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ১৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ফসলের ক্ষতি হয়েছে বরগুনা জেলায়। যেখানে ৬ হাজার ৭০৯ হেক্টর জমির ফসল পানিতে ডুবে আছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি পিরোজপুরে, কারণ এ জেলায় ছোট খামারের সংখ্যা বেশি, যেগুলো ভেসে গেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, পিরোজপুরে ২৫ হাজার ৮০০ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সবচেয়ে কম বরগুনায় ১ হাজার ১২৫ কৃষকের ক্ষতি হয়েছে।অন্যদিকে, বরিশাল মৎস্য ভবনের তথ্য বলছে, কৃষির পাশাপাশি মৎস্য খাতেও ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে। বরিশাল ও ঝালকাঠি বাদে বিভাগের বাকি ছয় জেলায় মৎস্য খাতে এখন পর্যন্ত ২০ কোটি ৩০ লাখ ২৪ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করেছে মৎস্য বিভাগ। এর মধ্যে ১৪৪টি ইউনিয়নে ৬ হাজার ৪৬৯ মাছের পুকুর ও খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ৪৫৫ হেক্টর পুকুর, ঘের ও অন্যান্য জলাশয় প্লাবিত হয়ে ৭৪৭ টন মাছ এবং ৯৩ লাখ মাছের পোনা, ৪৫ মেট্রিক টন চিংড়ি ভেসে গেছে। বরিশাল আঞ্চলিক মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এসব পুকুর ও ঘেরে চাষকৃত রুই, কাতল, মৃগেল, মাগুর, কইসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বৃষ্টি এবং জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে। অনেক চাষি বৃষ্টির মধ্যে ঘেরের চারপাশে নেট দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বৃষ্টির পরিমাণ এত বেশি ছিল যে, অনেকেই নেট দিয়েও রক্ষা করতে পারেননি।মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, মৎস্য খাতে ক্ষতির পাশাপাশি বিভাগে প্রাণ হারিয়েছেন পাঁচজন জেলে। আহত হয়েছেন ২৫ জন। তারা সবাই পটুয়াখালীর বাসিন্দা। তারা সবাই দুর্যোগকালীন নদী এবং সমুদ্রে মাছ শিকার করতে গিয়ে হতাহত হয়েছেন।বর্ষা মৌসুমের শুরুতে এমন ক্ষতির কারণে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন দক্ষিণাঞ্চলের কৃষক এবং কৃষি উদ্যোক্তারা। অনেকের স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে রূপ নিয়েছে। এখন লাভের পরিবর্তে দেনা কীভাবে শোধ করবেন, তা নিয়ে ভাবছেন দরিদ্র কৃষক আর উদ্যোক্তারা। বরিশাল সদর উপজেলার চাঁদপুরা ইউনিয়নের কৃষক রিয়াজ বলেন, ‘ধান কাটার সময়ের আগেই ক্ষেত ডুবে গেছে। এখন আধাপাকা ধান কাটতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন এবং চালের মান খারাপ হবে।’ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনা ও সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছেন বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতির কাজ চলছে। অন্যদিকে, মৎস্য খাতে ক্ষতিগ্রস্ত চাষি, উদ্যোক্তা এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তালিকা এরই মধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সরকারি বরাদ্দ পাওয়া গেলে ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষিদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
১৩ ঘন্টা আগে
হজযাত্রীদের জন্য ২০২৭ সালের সরকারি ও বেসরকারি হজ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। এবার সরকারি ব্যবস্থাপনায় দুটি এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় একটি সাধারণ হজ প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে হজ ফ্লাইটের বিমান ভাড়া গত বছরের তুলনায় ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। গতকাল মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ ও গাইডলাইন ঘোষণা করেন মন্ত্রী।ধর্মমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের হজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা, নিবিড় তত্ত্বাবধান এবং সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক প্রচেষ্টায় এবার একটি সুশৃঙ্খল ও কার্যকর হজ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক ও সেবাকেন্দ্রিক করতে সৌদি সরকার ২০২৭ সালের হজে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। মক্কা ও মদিনায় আবাসন, যাতায়াত, ক্যাটারিং, তাঁবু এবং অন্যান্য সেবাকে সমন্বিত একটি সার্ভিস প্যাকেজের আওতায় আনা হয়েছে। আগের চারটি সার্ভিস প্যাকেজের পরিবর্তে এবার তিনটি সার্ভিস প্যাকেজ থাকবে এবং হাফ বোর্ড ক্যাটারিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে হজযাত্রীদের সেবার মান আরও উন্নত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।ধর্মমন্ত্রী জানান, সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী সহজ, সাশ্রয়ী, মানবিক ও প্রবাসীবান্ধব হজ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। তারই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে হজ ফ্লাইটের বিমান ভাড়া আরও কমানো সম্ভব হয়েছে।তিনি বলেন, ২০২৫ সালে বিমান ভাড়া ছিল ১ লাখ ৬৭ হাজার ৮২০ টাকা। ২০২৭ সালে তা কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি হজ প্যাকেজ-১-এর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা। এ প্যাকেজে মক্কায় হারাম শরিফ থেকে এক থেকে দেড় কিলোমিটারের মধ্যে এবং মদিনায় মারকাজি এলাকায় আবাসনের ব্যবস্থা থাকবে। মিনায় জোন-২-এ তাঁবু, সার্ভিস প্যাকেজ-৩ অনুযায়ী সেবা এবং মোয়াল্লেমের মাধ্যমে খাবার সরবরাহ করা হবে। অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে রুম আপগ্রেড ও স্বল্পমেয়াদি প্যাকেজের সুবিধাও নেওয়া যাবে।অন্যদিকে হজ প্যাকেজ-২-এর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা। এতে মক্কায় হারাম শরিফ থেকে দুই থেকে তিন কিলোমিটারের মধ্যে এবং মদিনায় মসজিদে নববি থেকে সর্বোচ্চ ৮০০ মিটারের মধ্যে আবাসনের ব্যবস্থা থাকবে। মিনায় জোন-৫-এ তাঁবু, সার্ভিস প্যাকেজ-৩ অনুযায়ী সেবা এবং মোয়াল্লেমের মাধ্যমে খাবার সরবরাহ করা হবে। হোটেল দুই কিলোমিটারের বেশি দূরে হলে সৌদি সরকারের বিধান অনুযায়ী সালাওয়াত বাসের ব্যবস্থা রাখতে হবে।ধর্মমন্ত্রী জানান, বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোর জন্য ‘সাধারণ হজ প্যাকেজ’ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ প্যাকেজের মূল্য ৫ লাখ ১৩ হাজার ৬৪৮ টাকা। এতে মক্কায় হারাম শরিফ থেকে সর্বোচ্চ তিন কিলোমিটারের মধ্যে এবং মদিনায় মসজিদে নববি থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যে আবাসনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। প্রতি কক্ষে সর্বোচ্চ ছয়জনের থাকার সুযোগ থাকবে। মিনায় জোন-৫-এ তাঁবু, সার্ভিস প্যাকেজ-৩ এবং মোয়াল্লেমের মাধ্যমে খাবারের ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।ধর্মমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার নির্ধারিত সেবার মানের নিচে কোনো বেসরকারি হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা যাবে না। সব প্যাকেজ হজ পোর্টাল ও সংশ্লিষ্ট এজেন্সির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। দমে শুকর, দমে কিরান এবং ক্যাটারিংয়ের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত না করে কোনো প্যাকেজ ঘোষণা করা যাবে না। আগামী বছর বাংলাদেশ থেকে কতজন হজ পালন করতে পারবেন সেটা হজ চুক্তির সময় নির্ধারিত হবে বলেও জানান মন্ত্রী।তিনি বলেন, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি হজযাত্রীরা এবার যে দেশে অবস্থান করছেন, সেখান থেকেই স্বাস্থ্য পরীক্ষা, টিকা গ্রহণ এবং হজ ভিসার আবেদন করতে পারবেন। এ ছাড়া তারা যেন অবস্থানরত দেশ থেকেই সরাসরি সৌদি আরবে যেতে পারেন, সে বিষয়েও সরকার কাজ করছে।কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ জানান, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৭ সালের হজ নিবন্ধন শুরু হবে। হজ পোর্টালে প্যাকেজ নির্বাচন করে আড়াই লাখ টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন করা যাবে। পরে নির্ধারিত সময়ে বাকি অর্থ পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। হজযাত্রীর পাসপোর্টের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত থাকতে হবে। সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী ৮ এপ্রিল ২০২৭ থেকে হজযাত্রা শুরু হবে এবং ১৫ মে (চাঁদ দেখা সাপেক্ষে) পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে।
খাবারে স্বাদ, রঙ এবং সুগন্ধ যোগ করার জন্য বহু যুগ ধরে আমাদের রান্নায় মসলা ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তার মধ্যে অনেক মসলা স্বাস্থ্য উপকারিতার জন্যও সমাদৃত, যার মধ্যে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ অন্যতম। হ্যাঁ, আপনি ঠিকই পড়েছেন, কিছু নির্দিষ্ট মসলা স্বাস্থ্যকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বজায় রাখতে এবং হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে সহায়ক বলে প্রমাণিত হয়েছে।যদিও মসলা উচ্চ কোলেস্টেরলের কোনো প্রতিকার নয়, তবে কিছু মসলায় এমন প্রাকৃতিক উদ্ভিদ যৌগ থাকে যা কোলেস্টেরল, প্রদাহ এবং হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সবচেয়ে বেশি উপকারিতা তখনই দেখা যায় যখন মসলা একটি সুষম খাদ্য এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হিসেবে গ্রহণ করা হয়।কারেন্ট কার্ডিওলজি রিভিউস জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে, কিছু মসলায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অন্যান্য উদ্ভিদ যৌগ থাকে যা প্রদাহ কমিয়ে, বিপাক ক্রিয়া উন্নত করে বা রক্তনালীকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করে হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়তা করতে পারে।বেশ কিছু মসলায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রদাহ-বিরোধী বৈশিষ্ট্যযুক্ত উদ্ভিদ যৌগ রয়েছে যা হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়তা করতে পারে। রসুন, হলুদ, দারুচিনি, আদা, মেথি, গোলমরিচ এবং ধনিয়া কিছু গবেষণায় সম্ভাব্য উপকারিতা দেখিয়েছে।রসুনহৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে বেশি গবেষণাকৃত মসলার মধ্যে রসুন অন্যতম। এতে অ্যালিসিন সহ সালফার যৌগ রয়েছে, যা এর উপকারী প্রভাবে অবদান রাখে বলে মনে করা হয়।জার্নাল অফ হেলথ, পপুলেশন অ্যান্ড নিউট্রিশন-এ প্রকাশিত একটি গবেষণাসহ কিছু গবেষণা থেকে জানা যায় যে, নিয়মিত রসুন খেলে তা কিছু নির্দিষ্ট মানুষের মোট কোলেস্টেরল এবং এলডিএল কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করতে পারে। রসুন স্বাস্থ্যকর রক্তচাপ বজায় রাখতে এবং রক্তনালীর কার্যকারিতা উন্নত করতেও সহায়তা করতে পারে।হলুদহলুদ অনেক খাবারের একটি প্রধান উপাদান। এর সক্রিয় যৌগ, কারকিউমিনের শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রদাহ-বিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে।হৃদরোগের বিকাশে প্রদাহের একটি ভূমিকা রয়েছে। প্রদাহ কমাতে সাহায্য করার মাধ্যমে হলুদ সামগ্রিক কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্যকে সহায়তা করে। কমপ্লিমেন্টারি থেরাপিস ইন মেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে যে কোলেস্টেরলের মাত্রার জন্য কারকিউমিনের সামান্য উপকারিতা থাকতে পারে।দারুচিনিদারুচিনি সাধারণত মিষ্টি এবং নোনতা উভয় ধরনের খাবারেই ব্যবহৃত হয়। এতে এমন প্রাকৃতিক যৌগ রয়েছে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা এবং উচ্চ কোলেস্টেরলের উপর তাদের প্রভাবের জন্য গবেষণা করা হয়েছে।কিছু গবেষণা ইঙ্গিত দেয় যে দারুচিনি নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে এলডিএল কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে সাহায্য করতে পারে এবং রক্তে শর্করার স্বাস্থ্যকর মাত্রা বজায় রাখতে সহায়তা করে। তবে বিভিন্ন গবেষণার ফলাফলে ভিন্নতা দেখা যায়, এবং উচ্চ কোলেস্টেরলের চিকিৎসার জন্য দারুচিনির উপর নির্ভর করা উচিত নয়।আদাআদা দীর্ঘদিন ধরে ঐতিহ্যবাহী রান্না এবং ভেষজ প্রতিকারে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এতে জিঞ্জেরল এবং শোগাওল নামক যৌগ রয়েছে, যেগুলোর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রদাহ-বিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে।কিছু গবেষণা থেকে জানা যায় যে, আদা কোলেস্টেরলের মাত্রা উন্নত করে, প্রদাহ কমিয়ে এবং স্বাস্থ্যকর রক্ত সঞ্চালন বজায় রাখতে সাহায্য করার মাধ্যমে হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়তা করতে পারে।মেথিমেথি দ্রবণীয় ফাইবারে সমৃদ্ধ, যা পরিপাকতন্ত্র থেকে কোলেস্টেরলের শোষণ কমাতে সাহায্য করতে পারে।ফাইটোমেডিসিন প্লাস জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণাসহ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে, মেথি এলডিএল কোলেস্টেরল কমাতে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে, বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে। যদিও এই ফলাফলগুলো আশাব্যঞ্জক, তবুও আরও বড় আকারের গবেষণা প্রয়োজন।গোলমরিচগোলমরিচ বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মসলার মধ্যে একটি। এতে পাইপেরিন নামক একটি প্রাকৃতিক যৌগ রয়েছে, যা হলুদের কারকিউমিনসহ নির্দিষ্ট কিছু পুষ্টি উপাদানের শোষণ উন্নত করতে পারে।যদিও শুধুমাত্র গোলমরিচ কোলেস্টেরল উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে না, তবে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য হৃদপিণ্ডের সার্বিক স্বাস্থ্য রক্ষায় অবদান রাখতে পারে।অতিরিক্ত লবণের পরিবর্তে সদ্য গুঁড়া করা গোলমরিচ ব্যবহার করলে তা খাবারের স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসও বজায় রাখে।
২০৫০ সালের মধ্যে চরম তাপমাত্রার ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের শীর্ষ ৬টি দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।সোমবার ২৬ জানুয়ারি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাতে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার সাসটেইনেবিলিটি’-তে এই গবেষণাটি প্রকাশ হয়।ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার অব্যাহত থাকলে আগামী ২৫ বছরের মধ্যে চরম তাপপ্রবাহে আক্রান্ত বৈশ্বিক জনসংখ্যার হার প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। শিল্প-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় যদি বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়, তবে চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ বিশ্বের ৪১ শতাংশ মানুষ (প্রায় ৩৭৯ কোটি) অসহনীয় তাপমাত্রার মধ্যে বসবাস করবে। ২০১০ সালে এই পরিস্থিতির শিকার জনগোষ্ঠীর হার ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ (১৫৪ কোটি)।
কোথাও ঘুরতে গেলে পর্যটকরা সাধারণত হোটেলে বা রিসোর্টে থাকতেই পছন্দ করেন। পর্যটন স্থানগুলোর আসেপাশে তাই প্রচুর হোটেলের দেখা মেলে। কিন্তু এই হোটেলকক্ষগুলোই মাঝে মাঝে হয়ে উঠতে পারে ভয়াবহ মরণফাঁদ।ইদানীং হোটেল রুমে লুকানো গোপন ক্যামেরা বসিয়ে অতিথিদের ব্যক্তিগত মুহূর্ত ধারণের মতো ঘটনা ঘটছে দেশে-বিদেশে। এই ধরনের কার্যকলাপ ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ফলে ভ্রমণে নিশ্চিন্তে থাকার আগে সতর্ক থাকা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।ঘুরতে গেলে তাই আগে আপনার হোটেল বা রিসোর্টের কক্ষটি গোপন ক্যামেরামুক্ত কিনা তা জানা জরুরি। অনেকে মনে করেন, এসব গোপন ক্যামেরা শনাক্ত করতে আলাদা কোনো আধুনিক যন্ত্রের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বাস্তবে স্মার্টফোনই হতে পারে কার্যকর হাতিয়ার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভ্রমণে বের হলে সামান্য কিছু সচেতনতা আপনাকে বড় বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে।যেমন, আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোনের ফ্ল্যাশলাইট ব্যবহার করেই গোপন ক্যামেরার লেন্স খুঁজে পাওয়া সম্ভব। লুকানো ক্যামেরার লেন্স থেকে আলো প্রতিফলিত হয়। এজন্য কক্ষের সব আলো বন্ধ করে ফ্ল্যাশলাইট চালু করতে হবে। এরপর এয়ার ভেন্ট, ধোঁয়া শনাক্তকারী যন্ত্র, ঘড়ি বা আয়নার মতো জায়গায় আলো ফেলতে হবে। আলোয় যদি ক্ষুদ্র প্রতিফলন বা লেন্সের মতো কিছু দেখা যায়, সেটি সন্দেহজনক হতে পারে।ক্যামেরার মাধ্যমে ইনফ্রারেড আলো শনাক্তগোপন ক্যামেরা থেকে নির্গত অতি লাল বা ইনফ্রারেড আলো খালি চোখে দেখা যায় না। তবে স্মার্টফোনের ক্যামেরা দিয়ে তা শনাক্ত করা যায়। এজন্য কক্ষের আলো নিভিয়ে ফোনের ক্যামেরা চালু করে সন্দেহজনক স্থানগুলো স্ক্যান করতে হবে। ক্যামেরার স্ক্রিনে ক্ষুদ্র আলোকবিন্দু বা ঝলক দেখা গেলে সেটি ইনফ্রারেড আলো হতে পারে, যা গোপন ক্যামেরার উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।ক্যামেরা শনাক্তকারী অ্যাপ ব্যবহারবর্তমানে স্মার্টফোনের জন্য এমন অনেক অ্যাপ রয়েছে, যা দিয়ে গোপন ক্যামেরা শনাক্ত করা সম্ভব। এসব অ্যাপ ইনফ্রারেড আলো, চৌম্বকক্ষেত্র বা অস্বাভাবিক সংকেত শনাক্ত করতে পারে। নির্ভরযোগ্য একটি অ্যাপ ডাউনলোড করে রুমের সন্দেহজনক স্থানে পরীক্ষা করলেই সম্ভাব্য লুকানো ক্যামেরা ধরা পড়তে পারে।ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে সন্দেহজনক ডিভাইস শনাক্তঅনেক গোপন ক্যামেরা ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কাজ করে। স্মার্টফোন দিয়ে রুমের ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে যুক্ত যন্ত্র শনাক্ত করা সম্ভব। স্মার্টফোনের ওয়াই-ফাই সেটিংসে গিয়ে নেটওয়ার্কে যুক্ত যন্ত্রগুলোর তালিকা দেখতে হবে। তালিকায় যদি অপরিচিত বা সন্দেহজনক নামের ডিভাইস যেমন আইপি ক্যামেরা বা ক্যামেরা দেখা যায়, সেটি নিয়ে সতর্ক হতে হবে।তথ্যসূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া