ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাকে পরিবেশবান্ধব ও যাত্রীবান্ধব করতে ২০০টি বৈদ্যুতিক বাস (ইভি বাস) কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ১০০টি বাস নারীদের জন্য বিভিন্ন রুটে পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে নারী যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করতে বিশেষ বাসসেবা আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) তেজগাঁওয়ে বিআরটিসি আয়োজিত ‘মহিলা বাস সার্ভিস (পিংক বাস)’ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।সড়কমন্ত্রী বলেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী এসব বাস সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কেনা হবে। প্রকল্পের মাধ্যমে বাস কেনার ক্ষেত্রে অনুমোদন, টেন্ডারসহ আন্তর্জাতিক ক্রয়প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অন্তত দেড় বছর সময় লাগতে পারে। দ্রুত পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন চালুর লক্ষ্যেই সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।তিনি বলেন, ফসিল ফুয়েলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে ইভি বাস এখন অত্যন্ত জরুরি। ঢাকায় মাল্টিমোডাল যোগাযোগব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেও এসব বাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।মন্ত্রী বলেন, ২০০টি ইভি বাসের মধ্যে ১০০টি বিভিন্ন রুটে নারীদের জন্য রাখা হবে। এর ফলে নারী যাত্রীদের জন্য বাসসেবার পরিধি বাড়বে। বর্তমানে কয়েকটি জেলায় নারীবান্ধব বাসসেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও ভবিষ্যতে অন্যান্য বিভাগেও এ সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।তিনি বলেন, নারীদের জন্য ১৪টি বাস ১৩টি রুটে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় ১০টি রুটে ১০টি বাস চলবে। একটি বাস একতলা এবং বাকি নয়টি দ্বিতল। চট্টগ্রামে একটি রুটে দুটি দ্বিতল বাস এবং বগুড়ায় দুটি রুটে দুটি দ্বিতল বাস চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।শেখ রবিউল আলম বলেন, নারী যাত্রীদের শুধু বাসে ওঠার পর নয়, অপেক্ষার সময় এবং বাস থেকে নামার সময়ও নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব পরিবেশ দিতে হবে। বাসে ওঠা-নামার সময় হয়রানি, অস্বস্তি কিংবা অনিরাপদ পরিস্থিতি তৈরি হলে নারীদের গণপরিবহন ব্যবহারে আগ্রহ কমে যায়। তাই নারীদের জন্য নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। রাষ্ট্র বিনির্মাণ ও অর্থনীতিতে নারীর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। নারীরা যাতে তাদের সক্ষমতা রাষ্ট্রের প্রয়োজনে কাজে লাগাতে পারেন, সে জন্য নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা প্রয়োজন।বিআরটিসির বর্তমান ব্যবস্থাপনা নিয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, সংস্থাটি বর্তমানে ৫০০টির বেশি বাস পরিচালনা করছে এবং মোট বাসের সংখ্যা ১ হাজার ২০০-এর কাছাকাছি বা তারও বেশি। বর্তমানে বিআরটিসি লোকসানে নেই, বরং ব্রেক-ইভেন অবস্থায় রয়েছে। তবে সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা, অপারেশন ও সেবার মানে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।নারীদের জন্য চালু করা বাসসেবা যাতে অতীতের বিভিন্ন উদ্যোগের মতো কয়েক মাস পর বন্ধ হয়ে না যায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার কথাও বলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, আজ যে সেবা চালু হচ্ছে, দুই মাস পর এর মান আরও বাড়াতে হবে। প্রতিদিন ব্যবস্থাপনার উন্নতি করে সেবাকে আরও নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব করতে হবে। এই উদ্যোগকে শুধু উদ্বোধনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। সেবাটি ধরে রাখা, টেকসই করা, সমৃদ্ধ করা এবং ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করাই বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রস্তুত রয়েছেন।অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ, সড়ক সচিব জিয়াউল হক, সড়ক সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক, বিআরটিসি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা প্রমুখ।
বর্তমান সরকার অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে সেখানে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি।প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের রাজস্বসহ অর্থনৈতিক পুরো বিষয়টার কী অবস্থা বা বিগত একযুগ কেমন ছিল, কী ছিল, কীভাবে হয়েছে? এটা আমরা যারা এনবিআরের সঙ্গে সম্পৃক্ত না, আপনারা আমাদের থেকে অনেক বেশি ভালো জানেন। আপনারা ডিপার্টমেন্টের কিছু ফ্যাসিলিটির কথা বলেছেন। অবশ্যই সেটা প্রয়োজন আছে। কারণ এফিশিয়েন্সি বাড়াতে হলে সাপোর্টিং কতগুলো বিষয় প্রয়োজন আছে। তবে একই সঙ্গে এটাও একটু বিবেচনা করতে হব— আপনারা নিশ্চয়ই দেখেছেন যে, আমরা চেষ্টা করছি সরকারের অনেক জায়গা থেকে অনেক খরচ কমিয়ে ফেলতে। যেগুলো আমাদের কাছে মনে হয়েছে প্রয়োজন নেই। এরকম অনেকগুলো জায়গায় দেখছি আমরা খরচ হচ্ছে। সেখান থেকে খরচ কমানোর চেষ্টা করছি। তবে অবশ্যই যেখানে প্রয়োজন আছে, সেখানে অবশ্যই অর্থ ব্যয় করা জরুরি। যেখানে যেই ফ্যাসিলিটি বা যে ইনফ্রাস্ট্রাকচার দরকার সেটা আমরা অবশ্যই করবো। তবে যেহেতু এসব কিছুই হবে ট্যাক্সপেয়ারের পয়সা দিয়ে এবং ট্যাক্সপেয়ারের কাছ থেকে তার যেটা প্রযোজ্য ট্যাক্স, যেটা সে সরকারকে-রাষ্ট্রকে দেবে, এটাকে সুন্দর করে তার কাছ থেকে আদায় করে নিয়ে আসার দায়িত্বটা আপনাদেরকেই পালন করতে হবে।তিনি বলেন, আপনাদেরকে এক্ষেত্রে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়। কতগুলো পারসেপশন তৈরি হয়েছে, সেটাই হচ্ছে আমাদের চ্যালেঞ্জ। সেজন্যই বর্তমান সরকার বারবার বলার চেষ্টা করছে যে, আসুন আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি। সবাই মিলে আমরা একটা পরিবর্তনের চেষ্টা করি। যেই পরিবর্তনটাকে সবাই ভালো পরিবর্তন বলবে। এখানে আমাদের সবার কন্ট্রিবিউট করার মতো অবস্থা আছে। কন্ট্রিবিউট করার মতো স্পেস আছে। আসুন আমরা সবাই মিলে কাজ করি। আমরা সবাই মিলে যদি যার যার কাজ, দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের চেষ্টা করি— সেখানেই আমরা চেঞ্জটা আনতে পারবো। এক্ষেত্রে আমরা আপনাদেরকে সহযোগিতা করবো। আপনারা সরকারকে দয়া করে সহযোগিতা করবেন। তবে এখানে একটা ভুল পারসেপশন আছে যে, এনবিআর মানুষের ওপরে ট্যাক্সের জন্য চাপ দেয়। এটা একটা ভুল-ভ্রান্ত ধারণা। এই (ধারণা ভাঙতে) প্রত্যেককে এগিয়ে আসতে হবে।তিনি আরও বলেন, যারা ট্যাক্স দেবেন তাদেরকে সহযোগিতা করতে হবে। ট্যাক্সপেয়ারদের ওপরেও যাতে কোনও প্রেশার না হয়। বরং তারা অনুপ্রাণিত হন। মানুষ যাতে অনুপ্রাণিত হয় যে, ঠিক আছে আমার ট্যাক্সটা দিতে হবে। আমার ট্যাক্সটা দিলে আমরা স্বাস্থ্য সেবা পাবো। ট্যাক্সটা দিলে আমাদের সন্তানেরা এডুকেশনের সুবিধা পাবে। ট্যাক্সটা দিলে আরও সোশ্যাল বেনিফিট অর্থাৎ মানুষের জন্য সরকার বা রাষ্ট্র বিভিন্ন ভালো কাজের উদ্যোগ গ্রহণ করবে। এই বিষয়গুলো যাতে মানুষের মধ্যে আসে সেই জন্য আপনাদেরকেও এই ব্যাপারে মনোযোগী হতে হবে।অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। সম্মেলন মঞ্চে উপস্থিত আছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিভিন্ন কারাগার থেকে ২ হাজার ২৪৭ জন পালিয়েছিল। তার মধ্যে ১ হাজার ৫৫৭ জনকে গ্রেফতার করে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এখনো বিভিন্ন কারাগার থেকে পালানো ৬৯০ জন বন্দি পলাতক রয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র নরসিংদী কারাগার থেকে ৮২৬ জন পালালেও ১৬৬ জনের কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর পুরান ঢাকায় অবস্থিত কারা অধিদফতরের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহার হোসেন।কারাগারে মাদক ঢুকে এবং কারারক্ষীরা এসব কাজে সহায়তা করেন এমন প্রশ্নে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহার হোসেন বলেন, ‘মাদক এবং আর্থিক দুর্নীতি নিয়ে আমা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। মাদকসংক্রান্ত অপরাধে কেউ যদি জড়িয়ে পড়ে তাহলে তাদের জন্য আমরা অত্যন্ত কঠোর ছিলাম। গত দুই বছরে আমাদের ২১ জনকে বাধ্যতামূলক অবসর, ৮২ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। ৮৭০ জনের বিরুদ্ধে নানামুখে বিভাগীয় মামলা ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং ছোটখাটো অপরাধের কারণে আমাদের ৩০৩ জনকে প্রশাসনিক কারণে বিভিন্ন বিভাগের বাইরে প্রেরণ করা হয়েছে।’তিনি আরও বলেন, ‘মাদক সংক্রান্ত অপরাধে আমাদের কোনো কারারক্ষী যদি জড়িয়ে পড়ে তাকে আমরা ফৌজদারি মামলা দিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করছি।’
অজিদের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে উড়ন্ত শুরু পেয়েছে বাংলাদেশ দল। সিরিজ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচে ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় মাঠে নামবে টাইগাররা।ম্যাকাই হতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার ১২তম টেস্ট ভেন্যু। এই প্রথমবার এখানে কোনো আন্তর্জাতিক পুরুষ টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ম্যাকাই টেস্টে প্রথম দিনের সব টিকিট শেষ বলে জানিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ জানিয়েছেন, আগস্ট মাসে সাধারণত অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট ক্রিকেট খেলা না হলেও উত্তরাঞ্চলে আয়োজিত এই সিরিজটি নিয়ে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সমর্থকদের আগ্রহ অপ্রত্যাশিত এবং দারুণ প্রশংসনীয়।কুইন্সল্যান্ড সরকার এবং ম্যাকাইয়ের স্থানীয় কাউন্সিল জানিয়েছে, এই ম্যাচকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক পর্যটনশিল্প এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।উল্লেখ্য, ২২ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া টেস্টটি চলবে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত। এই টেস্ট ম্যাচের প্রতিটি দিনের খেলা শুরু হবে স্থানীয় সময় সকাল ১০টায়।
পাকিস্তানের জনপ্রিয় এক টিকটক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গাড়িতে থাকা অবস্থায় মোটরসাইকেলে আসা দুই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি প্রাণ হারান। খবর গালফ নিউজের।স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ওই নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটরের নাম শামসো বিবি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ‘আয়েশা গিলামানা’ নামে পরিচিত ছিলেন। প্রায় তিন থেকে চার বছর ধরে টিকটকে সক্রিয় থাকা এই ক্রিয়েটরের অনুসারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১৩ লাখ।তার বাবা ফজল সাহেবজাদার দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। ডেইলি পাকিস্তান ও স্থানীয় অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৪ আগস্ট এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।বিবির বাবা পুলিশকে জানান, ঘটনার দিন কাশিফ নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে একটি ফোন কল পেয়ে তার মেয়ে বাড়ি থেকে বের হন। তিনি ১৫ বছর বয়সী বোন আসিমা এবং ভাই নেয়ামতুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে গাড়িতে করে রওনা হন। পথিমধ্যে একটি পেট্রোল পাম্পের কাছে মোটরবাইকে আসা দুই দুর্বৃত্ত গাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে।অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, একটি গুলি বিবির ঘাড়ে বিদ্ধ হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের গাড়িটি অন্য একটি গাড়িকে ধাক্কা দিলে তার ছোট বোন আসিমা গুরুতর আহত হন।পুলিশের কাছে বিবির বাবা অভিযোগ করেন, কাউসার এবং জাভেদ নামের দুই ব্যক্তির সঙ্গে তর মেয়ের আর্থিক লেনদেন নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল। অর্থ ফেরত দেওয়া নিয়ে তারা বিবিকে নিয়মিত হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এ নিয়ে পূর্বে ইসলামাবাদে ওই দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছিল।নিহতের বাবার ধারণা, এই হত্যাকাণ্ডে ওই দুজন সরাসরি অথবা অন্য কারও মাধ্যমে জড়িত থাকতে পারেন। পাশাপাশি ঘটনার ঠিক আগমুহূর্তে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়া কাশিফের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
দেশের বাজারে সবশেষ সমন্বয়ে বাড়ানো দামেই সোমবার (১৭ আগস্ট) বিক্রি হচ্ছে সোনা। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) শনিবার (১৫ আগস্ট) এক বিজ্ঞপ্তিতে সোনার দাম ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। নতুন এ দাম সেদিন সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দাম বাড়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ভ্যাটসহ দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট সোনার দাম ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৬ হাজার ১৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৯৪ হাজার ২০৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ টাকা।আরও পড়ুনদেশে সোনার দাম নির্ধারণ ইস্যুতে যে ব্যাখ্যা দিলো বাজুসবাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এ দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। সোনা ও রৌপ্য অলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।এর আগে, গত ১৪ আগস্ট সোনার দাম ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়েছিল বাজুস। তখন ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা।চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১০৪ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫২ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে, ৫১ দফা কমানো হয়েছে এবং এক দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো এবং ২৯ বার কমানো হয়।এদিকে, সোনার দাম পরিবর্তন হলেও দেশের বাজারে রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ৭৪ টাকা, ২১ ক্যারেট ৪ হাজার ৮৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ১৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ১৪৯ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।চলতি বছর এখন পর্যন্ত রুপার দাম ৬২ দফা সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩২ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ৩০ দফা কমানো হয়েছে। আর ২০২৫ সালে রুপার দাম ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল ১০ বার বাড়ানো এবং ৩ বার কমানো হয়।
৫ ঘন্টা আগে
মানুষ আল্লাহর সৃষ্টি। তিনি মানুষকে সম্মানিত করেছেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি আদম সন্তানকে সম্মানিত করেছি এবং স্থলে ও সমুদ্রে তাদের চলাচলের ব্যবস্থা করেছি। তাদের পবিত্র রিজিক দিয়েছি এবং আমার অনেক সৃষ্টির ওপর তাদের শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি।’ (সুরা বনি ইসরাঈল: ৭০)তাই কারও সম্মানহানি হয়, এমন আচরণ থেকে বিরত থাকা উচিত। বিশেষ করে হাসি-ঠাট্টার নামে কাউকে অপমান করা ইসলামি শিষ্টাচারের সঙ্গে যায় না। পবিত্র কোরআনে মুমিনদের একে অপরকে উপহাস করা, দোষারোপ করা এবং মন্দ নামে ডাকা থেকে নিষেধ করা হয়েছে। (সুরা হুজরাত: ১১)বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল, ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ ও কাউকে নিয়ে হাসাহাসি খুবই সাধারণ হয়ে উঠেছে। অনেক সময় নিছক মজা করতে গিয়ে এমন কথা বলা হয়, যা অন্যের মনে গভীর কষ্ট দেয়। অথচ ইসলামে সব ধরনের ঠাট্টা-রসিকতা নিষিদ্ধ নয়। তবে কিছু বিষয় আছে, যেগুলো নিয়ে ঠাট্টা করা থেকে অবশ্যই বিরত থাকা উচিত।১. ধর্মীয় বিষয় নিয়ে ঠাট্টাআল্লাহ, কোরআন, রাসুল (স.) কিংবা ইসলামের কোনো বিধান নিয়ে উপহাস করা ইসলামে অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। এটি নিছক হাসি-তামাশা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা কি আল্লাহ, তাঁর আয়াত ও তাঁর রাসুলকে নিয়ে ঠাট্টা করছিলে?’ এরপর বলা হয়েছে, ‘তোমরা ঈমান আনার পর কুফরি করেছ।’ (সুরা তাওবা: ৬৫-৬৬)ফিকহের আলেমরা বলেন, ইসলামের কোনো বিষয়কে হেয় বা উপহাস করার উদ্দেশ্যে ঠাট্টা করা কুফরির পর্যায়ে যেতে পারে। তাই নামাজ, রোজা, পর্দা কিংবা ইসলামের কোনো বিধানকে হাসির বিষয় বানানো থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকা জরুরি।২. কারও শারীরিক ত্রুটি নিয়ে ঠাট্টাকারও উচ্চতা, গায়ের রঙ, শারীরিক গঠন কিংবা কোনো ত্রুটি নিয়ে মজা করা উচিত নয়। এতে মানুষটি কষ্ট পেতে পারেন।একবার আয়েশা (রা.) হজরত সাফিয়্যা (রা.)-এর খাটো হওয়ার বিষয়টি ইঙ্গিত করে বলেছিলেন। তখন রাসুল (স.) তাকে সতর্ক করে বলেন, ‘তুমি এমন একটি কথা বলেছ, যা সমুদ্রের পানিতে মিশিয়ে দিলেও তা দূষিত করে দিত।’ (জামে তিরমিজি: ২৫০২)তাই কারও শারীরিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে হাসাহাসি করা থেকে বিরত থাকা উচিত।৩. কারও দারিদ্র্য বা অভাব নিয়ে ঠাট্টাকারও পুরোনো পোশাক, কম দামি জিনিস কিংবা আর্থিক দুরবস্থা নিয়ে মজা করা ঠিক নয়। এতে তার আত্মসম্মানে আঘাত লাগতে পারে।আল্লাহ বলেন, ‘কোনো সম্প্রদায় যেন অন্য কোনো সম্প্রদায়কে উপহাস না করে। হতে পারে তারা তাদের চেয়ে উত্তম।’ (সুরা হুজুরাত: ১১) রাসুল (স.) বলেছেন, প্রকৃত দরিদ্র এমন ব্যক্তিও হতে পারেন, যার অভাব অন্যরা বুঝতে পারে না এবং যিনি মানুষের কাছে হাত পাতেন না। (সহিহ বুখারি: ১৪৭৯)তাই কারও অভাবকে হাসির বিষয় বানানো উচিত নয়। সম্পদ বা পোশাক দিয়ে মানুষের মর্যাদা বিচার করা মুমিনের কাজ নয়।৪. কারও ব্যক্তিগত দুর্বলতা বা পরিচয় নিয়ে ঠাট্টাকারও ব্যক্তিগত দুর্বলতা, ভুল বা এমন কোনো বিষয় নিয়ে মজা করা উচিত নয়, যা তাকে বিব্রত করে। একইভাবে কারও নাম বিকৃত করে ডাকা বা অপমানজনক নামে পরিচিত করাও ঠিক নয়।আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা একে অন্যের প্রতি দোষারোপ করো না এবং তোমরা একে অন্যকে মন্দ নামে ডেকো না।’ (সুরা হুজরাত: ১১)বন্ধুদের মধ্যে মজা করে নাম বিকৃত করে ডাকার প্রবণতা দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও কাউকে নিয়ে এমন ট্রল করা হয়। এসব থেকে বিরত থাকা উচিত।৫. অন্যের ভুল, ব্যর্থতা বা বিপদ নিয়ে ঠাট্টাকেউ ভুল করলে, কোনো কাজে ব্যর্থ হলে কিংবা বিপদে পড়লে তাকে নিয়ে হাসাহাসি করা উচিত নয়। আজ যে বিপদে পড়েছে, কাল একই বিপদ আমাদেরও হতে পারে।রাসুল (স.) বলেছেন, ‘তোমার কোনো ভাইয়ের বিপদে তুমি আনন্দ প্রকাশ করো না। এরকম করলে আল্লাহ তাকে দয়া করবেন এবং তোমাকে সেই বিপদে নিক্ষিপ্ত করবেন।’ (জামে তিরমিজি: ২৫০৬)তাই কারও বিপদ দেখে মজা না করে তার পাশে দাঁড়ানো উচিত। কারও ভুল হলে তাকে অপমান না করে সংশোধনে সহযোগিতা করাই উত্তম।হাসি-ঠাট্টারও সীমা আছেমানুষকে হাসানোর জন্য মিথ্যা বলা যাবে না। রাসুল (স.) সতর্ক করে বলেছেন, ‘ধ্বংস তার জন্য, যে মানুষকে হাসানোর জন্য মিথ্যা কথা বলে।’ (সুনানে আবু দাউদ: ৪৯৯০)মজার ছলে কাউকে ভয় দেখানো উচিত নয়। রাসুল (স.) বলেছেন, ‘কোনো মুসলিমের জন্য অন্য কোনো মুসলিমকে আতঙ্কিত করা বৈধ নয়।’ (সুনানে আবু দাউদ: ৫০০৪)হাসি-ঠাট্টা মানুষের আনন্দের কারণ হতে পারে। তবে সেই আনন্দ যেন কারও অপমান বা কষ্টের কারণ না হয়। ‘আসুন, আমরা আমাদের কথা ও আচরণে সচেতন হই, আল্লাহ তাওফিক দান করুন। আমিন।’তথ্যসূত্র: সুরা বনি ইসরাঈল: ৭০ সুরা হুজরাত: ১১, সুরা তাওবা: ৬৫-৬৬; জামে তিরমিজি: ২৫০২, ২৫০৬; সহিহ বুখারি: ১৪৭৯; সুনানে আবু দাউদ: ৪৯৯০, ৫০০৪
এখনকার তরুণ প্রজন্মদের মুখে প্রায়ই শোনা যায় ‘রেড ফ্ল্যাগ’ (Red Flag) ও ‘গ্রিন ফ্ল্যাগ’ (Green Flag) শব্দ দুইটি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা বন্ধু মহলে সম্পর্কের সমীকরণ বোঝাতে এই শব্দগুলোর ব্যবহার বেশ জনপ্রিয়। তবে আপনি কি জানেন ঠিক কী অর্থ বহন করে এই শব্দগুলো? বিশেষ করে প্রেমের সম্পর্কে জড়ানোর আগে বা শুরুর দিকে এই ‘রেড ফ্ল্যাগ’ বা বিপদের সংকেতগুলো চেনা কেন জরুরি? চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক-রেড ফ্ল্যাগ ও গ্রিন ফ্ল্যাগ মিনিং (Red Flag and Green Flag Meaning)সহজ ভাষায়, ‘রেড ফ্ল্যাগ’ হলো কোনো বিপদ বা ঝুঁকির সংকেত। লাল পতাকা যেমন কোথাও কোনো বিপদ বা সতর্কবার্তা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়, তেমনি সম্পর্কের ক্ষেত্রে সঙ্গীর কোনো ক্ষতিকর আচরণ, মানসিক সমস্যা বা বিষাক্ত স্বভাবকে ‘রেড ফ্ল্যাগ’ বলা হয়। অন্যদিকে, ‘গ্রিন ফ্ল্যাগ’ (Green Flag) হলো ইতিবাচক ও সুস্থ সম্পর্কের লক্ষণ, যা বোঝায় যে সঙ্গী বিশ্বস্ত, সহানুভূতিশীল ও মানসিক দিক থেকে সুস্থ।অন্যদিকে ‘বিইং এ রেড ফ্ল্যাগ’ (Being a red flag) বলতে বোঝায় যখন কোনো ব্যক্তির নিজস্ব আচরণ বা ব্যক্তিত্বের কারণে তিনি নিজেই সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর বা বিষাক্ত হয়ে ওঠেন। আর ‘রেড ফ্ল্যাগ বয়’ (Red flag boy) বা ‘রেড ফ্ল্যাগ গার্ল’ বলতে এমন মানুষকে বোঝানো হয়, যাদের মধ্যে সম্পর্কের শুরুর দিকেই ক্ষতিকর বা ম্যানিপুলেটিভ আচরণ দেখা যায়।সম্পর্কের শুরুতে এই ৪ লক্ষণ দেখলে বুঝবেন সঙ্গী 'রেড ফ্ল্যাগ'প্রেমের সম্পর্কে জড়ানোর আগেই সঙ্গীর আচরণ গভীরভাবে লক্ষ্য করা উচিত। শুরুর দিকে যদি নিচের লক্ষণগুলো দেখতে পান, তবে তা হতে পারে বড় কোনো ‘রেড ফ্ল্যাগ’:১. অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা: সঙ্গী যদি আপনার চলাফেরা, পোশাক-আশাক, বন্ধু নির্বাচন বা প্রতিটি কাজের ওপর অতিরিক্ত নজরদারি করেন এবং সবকিছু নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তবে তা অ্যালার্মিং।২. সব দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপানো (Blame Shifting): যেকোনো ভুল বা ঝগড়ার জন্য নিজের ভুল স্বীকার না করে সবসময় আপনার বা পরিস্থিতির ওপর দোষ চাপানো বিষাক্ত সম্পর্কের লক্ষণ।৩. অতিরিক্ত অধিকারবোধ ও সন্দেহবাতিকতা: সামান্য কারণে সন্দেহ করা, বিনা কারণে রেগে যাওয়া এবং অতিরিক্ত পজেসিভনেস সম্পর্কের ক্ষেত্রে মারাত্মক মানসিক চাপ তৈরি করে।৪. শ্রদ্ধাবোধের অভাব: আপনার মতামত, অনুভূতি বা পছন্দ-অপছন্দকে গুরুত্ব না দেওয়া এবং জনসম্মুখে বা একান্তে আপনাকে ছোট করে কথা বলা বড় একটি রেড ফ্ল্যাগ।সম্পর্কের পাঁচ রেড ফ্ল্যাগ নিয়ে সতর্ক হোন এখনইযদি আপনার বর্তমান বা সম্ভাব্য সম্পর্কে এই ৫টি মারাত্মক রেড ফ্ল্যাগ দেখতে পান, তবে আর দেরি না করে এখনই সতর্ক হোন:১. গ্যাসলাইটিং (Gaslighting): আপনার মনে সবসময় নিজের বিচারবুদ্ধি ও স্মৃতিশক্তি নিয়ে সন্দেহ তৈরি করা।২. যোগাযোগের অভাব বা নীরব থাকা (The Silent Treatment): রাগ বা ক্ষোভ প্রকাশ না করে দিনের পর দিন কথা বন্ধ করে রাখা বা ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করা।৩. অতীত নিয়ে অস্বাভাবিক আচরণ: আগের সম্পর্কের সব দোষ কেবল সঙ্গীর ওপর চাপানো এবং নিজের কোনো ভুল স্বীকার না করা।৪. অসম্মানজনক আচরণ: ছোটখাটো বিষয়ে অপমান করা, চিৎকার করা বা শারীরিকভাবে আঘাত করার হুমকি দেওয়া।৫. প্রতিশ্রুতিতে অনীহা: কথায় কথায় প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা বারবার ভঙ্গ করা এবং দায়িত্ব এড়িয়ে চলা।প্রেমের সম্পর্ক মানে শান্তি ও সুখের জায়গা। তাই সম্পর্কের শুরুতে বা ভেতরে এই ধরনের ‘রেড ফ্ল্যাগ’ বা সতর্কসংকেতগুলো এড়িয়ে না গিয়ে সময় থাকতেই সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
২০৫০ সালের মধ্যে চরম তাপমাত্রার ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের শীর্ষ ৬টি দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।সোমবার ২৬ জানুয়ারি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাতে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার সাসটেইনেবিলিটি’-তে এই গবেষণাটি প্রকাশ হয়।ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার অব্যাহত থাকলে আগামী ২৫ বছরের মধ্যে চরম তাপপ্রবাহে আক্রান্ত বৈশ্বিক জনসংখ্যার হার প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। শিল্প-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় যদি বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়, তবে চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ বিশ্বের ৪১ শতাংশ মানুষ (প্রায় ৩৭৯ কোটি) অসহনীয় তাপমাত্রার মধ্যে বসবাস করবে। ২০১০ সালে এই পরিস্থিতির শিকার জনগোষ্ঠীর হার ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ (১৫৪ কোটি)।
বাংলাদেশের তরুণদের কাছে জনপ্রিয় মোবাইল অপারেটর ব্র্যান্ড এয়ারটেল নতুন পরিচয়ে ‘সার্কেল’ নামে যাত্রা শুরু করছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ব্র্যান্ডটি উন্মোচন করেছে রবি আজিয়াটা পিএলসি।রবি জানিয়েছে, এয়ারটেলের ১৬ বছরের গ্রাহকসংযোগ ও আস্থার ধারাবাহিকতায় নতুন ব্র্যান্ড হিসেবে ‘সার্কেল’ আত্মপ্রকাশ করছে। তবে এটি কেবল ব্র্যান্ডের পরিবর্তন। গ্রাহকদের সঙ্গে সম্পর্ক, সেবা ও বিদ্যমান সুবিধায় কোনো পরিবর্তন আসবে না।এয়ারটেলের সব গ্রাহক স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘সার্কেল’-এর গ্রাহক হিসেবে বিবেচিত হবেন। তাদের বিদ্যমান ০১৬ নম্বর, প্যাকেজ, সেবা ও ব্যালান্স আগের মতোই চালু থাকবে। একইভাবে মোবাইল আর্থিক সেবার হিসাব, ওয়ালেট, লেনদেন এবং গ্রাহকের তথ্যেও কোনো পরিবর্তন হবে না। এসব সেবা নিরাপদ ও স্বাভাবিকভাবে চালু থাকবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।নতুন ব্র্যান্ডটি এয়ারটেলের তরুণ প্রজন্মকেন্দ্রিক পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে উন্নত ডিজিটাল সক্ষমতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন সুবিধা। গ্রাহকদের আরও সাশ্রয়ী, আধুনিক ও ডিজিটালনির্ভর সেবা দেওয়াই এর অন্যতম লক্ষ্য।রবি বলছে, সময়ের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগের ধরন ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এসেছে। সেই পরিবর্তনকে বিবেচনায় রেখেই ‘সার্কেল’ ব্র্যান্ডের কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। মানুষকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, কমিউনিটি ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত রেখে অর্থবহ সম্পর্ক তৈরিতে সহায়তা করাই নতুন ব্র্যান্ডটির মূল লক্ষ্য।অনুষ্ঠানে রবি আজিয়াটা পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াদ সাতারা বলেন, ১৬ বছর ধরে এয়ারটেল বাংলাদেশের তরুণদের সঙ্গে বেড়ে উঠেছে। ‘সার্কেল’ সেই যাত্রার পরবর্তী ধাপ। ব্র্যান্ডের নাম পরিবর্তন হলেও মূল প্রতিশ্রুতিতে কোনো পরিবর্তন হবে না।তিনি বলেন, যোগাযোগের ক্ষেত্রে এখন শুধু আরও বেশি মানুষকে যুক্ত করাই যথেষ্ট নয়, সেই সংযোগকে আরও অর্থবহ করে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ। ‘সার্কেল’ এয়ারটেলের সেই যাত্রার পরবর্তী বিবর্তন। নতুন অধ্যায়ে এয়ারটেলের স্বতন্ত্র অবস্থানকে এগিয়ে নিতে পেরে তারা গর্বিত।‘সার্কেল’-এর ব্র্যান্ড প্রতিশ্রুতি হচ্ছে ‘আসল সংযোগ, সবসময় সচল’। তরুণদের নির্ভরযোগ্য সঙ্গী হিসেবে পাশে থাকার অঙ্গীকার থেকেই এই প্রতিশ্রুতি নির্ধারণ করা হয়েছে। বিনোদন, গেমিং, কনটেন্ট তৈরি এবং প্রতিদিনের বিভিন্ন ডিজিটাল কার্যক্রমে নির্ভরযোগ্য সংযোগ ও উন্নত ডিজিটাল অভিজ্ঞতা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে ব্র্যান্ডটির।রবি জানিয়েছে, ব্র্যান্ড পরিবর্তনের পুরো প্রক্রিয়ায় গ্রাহকেরা নিরবচ্ছিন্ন সেবা পাবেন। মোবাইল আর্থিক সেবার হিসাব, ওয়ালেট, লেনদেন ও গ্রাহকের তথ্যও সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সচল থাকবে।প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, বাস্তব ও অর্থবহ সংযোগকে গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশের ডিজিটালনির্ভর প্রজন্মের পরিবর্তিত চাহিদা পূরণে নতুন নতুন উদ্ভাবনে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখবে ‘সার্কেল’। এর মাধ্যমে তরুণদের নিজেদের পছন্দের মানুষ ও কমিউনিটির সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং নিজেদের সম্ভাবনা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা হবে।