দেশজুড়ে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা বৃষ্টিপাত আরও ৫ দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এরই মধ্যে ভারি বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে এবং কয়েকটি জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক গণমাধ্যমকে জানান, বর্তমানে কোনো লঘুচাপের প্রভাব নেই। তবে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর কারণেই দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে এবং এই পরিস্থিতি আরও অন্তত পাঁচ দিন স্থায়ী হতে পারে।এদিকে, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। উজানে বৃষ্টিপাত কমে আসা এবং পানি নিষ্কাশনের সুবিধা হওয়ায় চট্টগ্রাম অঞ্চলে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে দেশের অভ্যন্তরে ও উজানে ভারি বৃষ্টির কারণে সিলেট, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনাসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে।বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সর্দার উদয় রায়হান বলেন, চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে। তবে সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে কয়েকটি নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িক প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুর জেলার কিছু নিম্নাঞ্চলেও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
পাবনার ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশনে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পঞ্চগড়গামী যাত্রীবাহী আন্তঃনগর একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের দুইটি বগির ৮ চাঁকা লাইনচ্যুত হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) বিকাল চারটার দিক ঈশ্বরদী-ঢাকা-পাবর্তীপুর রেলরুটের ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশনের অদূরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এতে রাজধানী ঢাকার সাথে উত্তরাঞ্চলের ট্রেন যোগাযোগ সাময়িক বন্ধ রয়েছে।পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) আবু হেনা মোস্তফা আলম এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের পরিবহন দফতর সূত্র থেকে জানা যায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পঞ্চগড়গামী যাত্রীবাহী আন্তঃনগর ট্রেন একতা এক্সপ্রেস বিকেল ৪টার দিকে ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশন ঢোকার আগেই ট্রেনের দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে উত্তরাঞ্চলের সাথে রাজধানী ঢাকার সব রেলযোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) আবু হেনা মোস্তফা আলম জানান, ইতিমধ্যে ঈশ্বরদী লোকোমোটিভ ডিজেল কারখানা থেকে রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌছে দূর্ঘটনা কবলিত ট্রেনের বগি উদ্ধারে কাজ শুরু করেছে। দ্রুততম সময়ে লাইনচ্যুত দুটি বগি উদ্ধার করে রেললাইন সচল করা হবে।তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াকে আহবায়ক করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ নাজিব কায়সার, বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (ক্যারেজ) শেখ আসিফ আহমেদ, (লোকো) রবিউল ইসলাম, বিভাগীয় সংকেত প্রকৌশলী আহমেদ ইশতিয়াক জহুর।
টানা ভারী বৃষ্টিতে রাজধানীর গুলশান-শাহজাদপুর লিংক রোডের একটি অংশ ধসে পড়েছে। দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধতা এবং পানির তীব্র চাপে সড়কের নিচের মাটি সরে যাওয়ায় সোমবার (১৩ জুলাই) এ ধসের সৃষ্টি হয়েছে। এতে সড়কটিতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ধসে যাওয়া অংশ ঘিরে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ অংশ এড়িয়ে ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করছে। ফলে সড়কটিতে যানজটেরও সৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রোববার (১২ জুলাই) রাতভর বৃষ্টির পর সকালেই দেখি রাস্তার একাংশ দেবে গেছে। দ্রুত সংস্কার না করলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’আরেক পথচারী সুমাইয়া আক্তার বলেন, ‘প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করি। এখন অনেকটা ঘুরে যেতে হচ্ছে। প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’রিকশাচালক আব্দুল মালেক বলেন, ‘পানি আর ভাঙা রাস্তার কারণে যাত্রী নিয়ে চলাচল খুব কষ্ট হচ্ছে। যানজটও অনেক বেড়ে গেছে।’ট্রাফিক পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘পরিস্থিতি বিবেচনায় এ রুটে যানবাহনগুলোকে সতর্কভাবে চলাচলের জন্য আমরা নির্দেশনা দিচ্ছি। রাস্তার সমস্যার কারণে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। অতি প্রয়োজন ছাড়া এ সড়ক এড়িয়ে চলা ভালো।’
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করে শুরুতেই দলকে এগিয়ে নেন ম্যাক অ্যালিস্টার। আর এই গোলে অবদান রেখে ডিয়েগো ম্যারাডোনার রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন লিওনেল মেসি।রোববার (১২ জুলাই) কানসাস সিটিতে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে নবম মিনিটে কর্নার পায় আর্জেন্টিনা। একেবারে মাপা শট নেন মেসি। বেশ লম্বা সুইস ডিফেন্ডারকে এড়িয়ে গোল পেতে হলে অনেকদূর লাফিয়ে উঠতে হতো অ্যালিস্টারকে। তবে তার সামনে থাকা ম্যানুয়েল আকানজির লাফিয়ে বল না পাওয়ার সুযোগটা কাজে আসে আর্জেন্টিনার। দ্বিতীয় বার ঘেষে প্রবেশ করা বলে গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেলের তাকিয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না। এই আসরে তার দ্বিতীয় এবং সব মিলিয়ে দশম অ্যাসিস্ট ৩৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডের। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মেসির মোট গোল অবদান এখন ১৫টি। গত ৬০ বছরে যেকোনো খেলোয়াড়ের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ। কিলিয়ান এমবাপেকে (১৪) ছাড়িয়ে গেছেন তিনি।ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্টের বিশ্ব রেকর্ড মেসির। ক্লাব ও দেশের হয়ে ৪১০ অ্যাসিস্ট তার। প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের ছয়টি ভিন্ন আসরে অন্তত একটি অ্যাসিস্টের রেকর্ড মেসির। জাতীয় দলের জার্সিতে তিনি গোল বানিয়ে দিয়েছেন ৬২টি। এই বিশ্বকাপে মেসি অষ্টম গোল করেছেন। সব মিলিয়ে ২১ গোল নিয়ে সর্বকালের শীর্ষ বিশ্বকাপ গোলদাতা তিনি।
টানা ভারী বর্ষণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, সিলেটসহ বেশ কয়েকটি জেলার মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন শোবিজ অঙ্গনের কয়েকজন তারকা।অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ নিজের ফেসবুক পোস্টে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে লেখেন, ‘আমার চট্টগ্রাম ভালো নাই! বাঁশখালী, সাতকানিয়া, চকরিয়া, লোহাগাড়া, কক্সবাজার, বান্দরবান ভালো নাই! অথচ মেজর কোনো নিউজ নাই! কোনো আওয়াজ নাই! মানুষগুলো নীরবে মরে যাচ্ছে, কষ্ট পাচ্ছে, কবর থেকে লাশ ভেসে যাচ্ছে!’তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, অতীতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা হলে চট্টগ্রামের মানুষ সবার আগে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু এবার নিজের এলাকার মানুষ বিপদে থাকলেও সেইভাবে সহযোগিতা চোখে পড়ছে না বলে আক্ষেপ করেন তিনি। পোস্টের শেষে আল্লাহর কাছে দুর্গত মানুষের জন্য রহমত কামনা করেন এই অভিনেতা।অন্যদিকে অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য দোয়া চেয়ে সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, যারা প্রিয়জন, ঘরবাড়ি কিংবা জীবিকা হারিয়েছেন, আল্লাহ যেন তাদের ধৈর্য ও শক্তি দান করেন। একই সঙ্গে উদ্ধার ও ত্রাণকাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সবাইকে নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।অভিনেত্রী তানজিম সাইয়ারা তটিনীও বন্যাকবলিত মানুষের জন্য সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, সিলেট, হবিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলা এখন পানির নিচে। হাজারো পরিবার ঘরছাড়া।তার ভাষায়, ‘যারা ভালো আছেন, তারা সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে আসুন। এক প্যাকেট শুকনো খাবার বা এক বোতল পানিও এই মুহূর্তে একজন বন্যার্ত মানুষের জন্য অনেক বড় সহায়তা হতে পারে।’প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে তিন তারকাই সবাইকে মানবিক দায়িত্ব থেকে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে ২ হাজার ২১৬ টাকা। এতে ভ্যাটসহ ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা।সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে এই দাম কার্যকর বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এই দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।বাজুস আরও জানিয়েছে, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এই দাম বহাল থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। এছাড়া স্বর্ণ ও রৌপ্য অলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে আগের নিয়মই কার্যকর থাকবে।এর আগে, গত ১০ জুলাই প্রতি ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা নির্ধারণ করেছিল বাজুস। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
১৫ ঘন্টা আগে
নামাজ ইসলামের অন্যতম প্রধান ইবাদত। কোনো পরিস্থিতিতেই ফরজ নামাজ ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে ইসলাম মানুষের সামর্থ্য ও বাস্তব অবস্থার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছে। বন্যা, জলাবদ্ধতা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় অনেকের ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যায়, মসজিদে যাওয়া সম্ভব হয় না কিংবা নামাজ আদায়ের উপযুক্ত জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে নামাজ আদায় করবেন-ইসলামে তার দিকনির্দেশনা রয়েছে।শুকনো ও পবিত্র জায়গা খুঁজে নেওয়ানামাজের জন্য জায়গা পবিত্র হওয়া জরুরি। বন্যার সময় প্রথমে চেষ্টা করতে হবে এমন কোনো স্থান খুঁজে নিতে, যেখানে নিরাপদে নামাজ আদায় করা সম্ভব। যেমন ঘরের উঁচু অংশ, ছাদ, বারান্দা, আশ্রয়কেন্দ্রের পরিষ্কার জায়গা বা নৌকার নিরাপদ স্থান।রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন- ‘সমগ্র পৃথিবীকে আমার জন্য পবিত্র ও নামাজের উপযোগী করা হয়েছে।’ (সহিহ বুখারি: ৩৩৫; সহিহ মুসলিম: ৫২১)অজু করা সম্ভব না হলে তায়াম্মুমবন্যার সময় কখনো এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যখন অজুর জন্য পানি ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। পানি থাকলেও তা ব্যবহারে ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে বা নিরাপদে পানি ব্যবহারের সুযোগ না থাকলে তায়াম্মুমের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করা যায়।আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘...অতঃপর যদি তোমরা পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করো...।’ (সুরা মায়েদা: ৬)তায়াম্মুমের বিধান বিপদের সময় মুসলমানদের জন্য একটি সহজীকরণ।দাঁড়িয়ে নামাজ সম্ভব না হলেবন্যার সময় কারও এমন অবস্থা হতে পারে যে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ার মতো জায়গা নেই বা দাঁড়ালে নিজের জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এমন ক্ষেত্রে সামর্থ্য অনুযায়ী বসে নামাজ পড়া যাবে। বসাও সম্ভব না হলে ইশারায় নামাজ আদায় করার সুযোগ রয়েছে।রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন- ‘দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ো; যদি তা সম্ভব না হয়, তবে বসে পড়ো; তাও সম্ভব না হলে শুয়ে।’ (সহিহ বুখারি: ১১১৭)পানির মধ্যে নামাজ আদায়ের বিধানবন্যার পানিতে আটকে পড়লে পরিস্থিতি অনুযায়ী নামাজ আদায় করতে হবে। হানাফি ফিকহের গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে, পানি যদি এতটা কম হয় যে দাঁড়িয়ে থাকা সম্ভব এবং রুকু করা যায়, তাহলে রুকু করে নামাজ আদায় করবে; তবে সেজদা সম্ভব না হলে ইশারায় করবে। আর যদি রুকুও করা সম্ভব না হয়, তাহলে রুকু ও সেজদা উভয়টিই ইশারার মাধ্যমে আদায় করবে। তবে পানি যদি এত বেশি হয় যে সেখানে স্থিরভাবে দাঁড়ানো বা নামাজ আদায় করা সম্ভব নয়, তাহলে ওই অবস্থায় নামাজ আদায় না করে পরে কাজা করার অবকাশ রয়েছে। (হাশিয়াতুত তাহতাবি আলা মারাকিয়িল ফালাহ: ৪০৭)কিবলা নির্ধারণ করতে না পারলেবন্যার সময় অনেকেই অপরিচিত জায়গায় আশ্রয় নেন। মেঘলা আকাশ, রাতের অন্ধকার বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে কিবলার দিক নির্ধারণ কঠিন হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে যথাসাধ্য চেষ্টা করে যে দিকে কিবলা হওয়ার প্রবল ধারণা হয়, সেদিকে মুখ করে নামাজ পড়বেন। পরে ভুল প্রমাণিত হলেও, যথাযথ চেষ্টা করে আদায় করা নামাজ পুনরায় পড়তে হবে না।ভেজা কাপড় বা কাদা লাগলে নামাজ হবে কি?বন্যার পানিতে কাপড় ভিজে যাওয়া বা কাদা লাগা মানেই কাপড় নাপাক হয়ে যায় না। যতক্ষণ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে জানা না যায় যে এতে নাপাকি (যেমন মলমূত্র) লেগেছে, ততক্ষণ শুধু সন্দেহের কারণে কাপড়কে অপবিত্র মনে করা যাবে না।ইসলামের একটি মূলনীতি হলো- নিশ্চিত বিষয় শুধু সন্দেহের কারণে দূর হয় না।মসজিদে যেতে না পারলেবন্যার কারণে মসজিদে যাওয়া সম্ভব না হলে ঘর, আশ্রয়কেন্দ্র বা অন্যকোনো নিরাপদ স্থানে নামাজ আদায় করা যাবে। অসুস্থতা, ভয় বা দুর্যোগের মতো ওজরের কারণে জামাত থেকে অনুপস্থিতির সুযোগ রয়েছে।বন্যার কারণে জুমা আদায় সম্ভব না হলেবন্যার কারণে কেউ যদি এমন স্থানে আটকা পড়েন, যেখানে জুমার নামাজের জন্য প্রয়োজনীয় জামাত ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করা সম্ভব নয়, তাহলে তার ওপর জুমার নামাজ আদায় করা আবশ্যক থাকবে না। এ ক্ষেত্রে তিনি জোহরের নামাজ আদায় করবেন।হানাফি ফিকহের গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে, জুমার নামাজ সহিহ হওয়ার জন্য জামাতের উপস্থিতি অন্যতম শর্ত। ইমাম ছাড়া প্রয়োজনীয় সংখ্যক মুসল্লি না থাকলে জুমা আদায় সহিহ হয় না। (রদ্দুল মুহতার: ৩/২৪)দুর্যোগের সময় আল্লাহর দিকে ফিরে আসাবন্যা ও অন্যান্য দুর্যোগ মানুষের জন্য পরীক্ষা হতে পারে। এমন সময়ে ধৈর্য ধারণ করা, আল্লাহর কাছে দোয়া করা এবং নিজের ইবাদত অব্যাহত রাখা একজন মুমিনের দায়িত্ব।আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা বাকারা: ১৫৩)আল্লাহ আমাদের সব ধরনের বিপদ থেকে হেফাজত করুন, দুর্যোগে আক্রান্ত মানুষদের কষ্ট লাঘব করুন এবং আমাদের ইবাদতগুলো কবুল করুন।তথ্যসূত্র: পবিত্র কোরআন; সহিহ বুখারি; সহিহ মুসলিম; ফিকহুস সুন্নাহ
ক্যানসার প্রতিরোধে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং ধূমপান-অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকা ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। এর পাশাপাশি কিছু পুষ্টিকর পানীয় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। তবে কোনো পানীয়ই ক্যানসারের নিশ্চিত প্রতিরোধক বা চিকিৎসা নয়—এ বিষয়টি মনে রাখা জরুরি।সম্প্রতি গবেষকদের আলোচনায় উঠে এসেছে এমন কিছু পানীয়, যেগুলোতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহরোধী উপাদান শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে।মাচা গ্রিন টিমাচা গ্রিন টি-তে রয়েছে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, পলিফেনল ও অ্যামাইনো অ্যাসিড। এসব উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক। এছাড়া এটি রক্ত সঞ্চালন উন্নত করতে এবং প্রদাহ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।তৈরির পদ্ধতি: এক কাপ গরম পানিতে এক চা চামচ মাচা চায়ের গুঁড়া মিশিয়ে নিন। চাইলে সামান্য ব্রাউন সুগার ও দুধ যোগ করা যেতে পারে। ভালোভাবে নেড়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।সবুজ স্মুদিশাকসবজি ও ফল দিয়ে তৈরি সবুজ স্মুদিতে থাকে প্রচুর ফাইবার, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান। এটি শরীরের সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।তৈরির পদ্ধতি: পালং শাক, কলা ও শসা ছোট টুকরো করে কেটে নিন। এর সঙ্গে সামান্য আদা যোগ করে ব্লেন্ড করুন। পরিবেশনের আগে ওপরে এক চিমটি গোলমরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দিতে পারেন।হলুদ দুধহলুদে থাকা কারকিউমিন প্রদাহরোধী উপাদান হিসেবে পরিচিত। গোলমরিচের পিপারিন কারকিউমিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়তা করে। দারুচিনিও এতে বাড়তি স্বাদ ও পুষ্টিগুণ যোগ করে।তৈরির পদ্ধতি: এক কাপ দুধে এক চা চামচ হলুদ, একটি গোলমরিচ ও ছোট এক টুকরো দারুচিনি দিয়ে কয়েক মিনিট ফুটিয়ে নিন। ঘুমের আগে গরম গরম পান করা যেতে পারে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যানসার প্রতিরোধে শুধু নির্দিষ্ট কোনো খাবার বা পানীয়ের ওপর নির্ভর না করে সামগ্রিক স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। পাশাপাশি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকাও জরুরি।
২০৫০ সালের মধ্যে চরম তাপমাত্রার ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের শীর্ষ ৬টি দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।সোমবার ২৬ জানুয়ারি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাতে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার সাসটেইনেবিলিটি’-তে এই গবেষণাটি প্রকাশ হয়।ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার অব্যাহত থাকলে আগামী ২৫ বছরের মধ্যে চরম তাপপ্রবাহে আক্রান্ত বৈশ্বিক জনসংখ্যার হার প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। শিল্প-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় যদি বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়, তবে চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ বিশ্বের ৪১ শতাংশ মানুষ (প্রায় ৩৭৯ কোটি) অসহনীয় তাপমাত্রার মধ্যে বসবাস করবে। ২০১০ সালে এই পরিস্থিতির শিকার জনগোষ্ঠীর হার ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ (১৫৪ কোটি)।
অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন বাজারে আসার গুঞ্জন নিয়ে প্রযুক্তি বিশ্বে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি আইফোন আলট্রা নামে পরিচিত এই ডিভাইসের একটি ডামি মডেলের ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। অ্যাপল হ্যাব নামক একটি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত ভিডিওটিতে সাদা রঙের একটি ফোল্ডেবল ফোনের ডামি দেখানো হয়েছে, যা স্যামসাং গ্যালাক্সি জেড ফোল্ডের মতো বইয়ের আদলে খোলা ও ভাঁজ করা যায়।ডিভাইসটির পেছনে ডুয়াল রিয়ার ক্যামেরা সেটআপ দেখা গেছে এবং এর নিচের অংশে স্পিকার গ্রিল ও ইউএসবি টাইপ-সি পোর্ট রাখা হয়েছে। এছাড়া ফোনের ভেতরের ডিসপ্লের উপরের বাঁদিকে সেলফি ক্যামেরা থাকার বিষয়টিও ভিডিওতে স্পষ্ট হয়েছে।স্যামসাং ২০১৮ সাল থেকেই ফোল্ডেবল স্মার্টফোনের বাজারে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে এবং পরবর্তীতে গুগল, ভিভো, ওয়ানপ্লাস ও শাওমির মতো সংস্থাও একই পথে হেঁটেছে। এখন পর্যন্ত অ্যাপল তাদের প্রথম ফোল্ডেবল ফোন নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি, তবে বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা অনুযায়ী এর দাম ১.৫০ লাখ টাকা থেকে ২ লাখ টাকার মধ্যে হতে পারে। অ্যাপল শেষ পর্যন্ত এই বছরের মধ্যেই তাদের এই নতুন ডিভাইসটি বাজারে আনে কি না, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে প্রযুক্তিপ্রেমীরা।