গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নতুন করে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ১২৭ জন। রোববার (১৪ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৫২ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৫ হাজার ৯৫১ জনে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ৭৫ জন এবং ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৩২৩ জন।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭০ হাজার ৫৭৯ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৬৬ হাজার ৮৪০ জন।গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারো মৃত্যু না হলেও ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯২ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ৫৬০ জনের মৃত্যু হলো।পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি হামের প্রকোপ ঢাকা বিভাগে। এই বিভাগে ৩৯ হাজার ৮৯৮ জন হাম সন্দেহে আক্রান্ত হয়েছেন, যার মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ৭ হাজার ১১৭ জনের।
বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ গ্রেপ্তার হয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ইন্টারপোলের সহযোগিতায় দুবাই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে।পুলিশ সদরদপ্তরের ঊধ্বর্তন এক কর্মকর্তা রোববার (১৪ জুন) দুপুরে গণমাধ্যমকে তথ্য নিশ্চিত করেন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ কর্মকর্তা বলেন, দুদকের মামলায় ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ১২ জুন তারা একটি চিঠি দিয়ে আমাদের এ তথ্য জানিয়েছে।
দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশের সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপির) বেনজির আহমেদকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে জানান, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ এবং ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি থেকে পাঠানো এক ইমেইলে বাংলাদেশ সরকারকে বেনজির আহমেদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানানো হয়েছে। ইউএইর ফেডারেল আইন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) আবেদন পাঠাতে হবে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বেনজির আহমেদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার, ১৯৭৩-এর আওতায় একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরের এনসিবি ঢাকা ইন্টারপোলের কাছে আবেদন করেছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল ইন্টারপোল বেনজির আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, এটি বাংলাদেশ পুলিশের একটি ঐতিহাসিক সাফল্য। এর মাধ্যমে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসার পথে দেশ আরও একধাপ এগিয়ে যাবে। অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও তদন্ত-সংক্রান্তি নথিপত্র প্রস্তুত করছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যর্পণ, প্রস্তাব প্রস্তুত ও অনুমোদনের কাজ সম্পন্ন করার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন পাঠানো হবে।
সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে এক উইকেটে হারিয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়িয়েছে অস্ট্রেলিয়া। এর আগে, ব্যাট করে ২৭৫ রানের টার্গেট দেয় বাংলাদেশ। জবাবে, শেষ ওভারে এক উইকেট হাতে রেখেই ম্যাচ জেতে অজিরা। ইনিংসের প্রথম ওভারেই, বারলেটের বলে বোল্ড হয়ে মাত্র ২ রানে ফেরেন সৌম্য সরকার। দ্বিতীয় উইকেটে, ৫১ রানের পার্টনারশিপ গড়ে আউট হন ১৯ রান করা তানজিদ হাসান তামিম। অপরদিকে, অধিনায়ক শান্ত ফেরেন ২৪ রান করে। দু'জনই আউট হন ম্যাট রেনশো'র বলে। এরপর তাওহীদ হৃদয়কে নিয়ে ৯২ রানের জুটি গড়ে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে সাজঘরে ফেরেন লিটন; পরে আবারও ক্রিজে এসে তুলে নেন মিরপুরে তার প্রথম ফিফটি। অন্যদিকে, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে নিয়ে ৯৩ রানের জুটি গড়েন হৃদয়। পার্টনারশিপ ভাঙ্গে হৃদয় ৮৩ রান করে ডারউইশের বলে ফিরলে। নির্ধারিত ওভার শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৭৪ রানে থামে বাংলাদেশ। মোসাদ্দেক অপরাজিত থাকেন ৫১ বলে ৫৬ রান করে। জবাবে, ৭০ রানের মধ্যে তিন উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। অন্যপ্রান্তে অবিচল কুপার কনোলি লাবুশেন, গ্রীন, পিককে নিয়ে কিছু ছোট ছোট জুটি গড়ে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন।ম্যাচের শেষদিকে, ৪ রানে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচ জমিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। সেট ব্যাটার কনোলি ১৪৯ রানে আউট হলে ম্যাচ নেমে আসে শেষ উইকেটে। তবে, ম্যাচ জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এই পরাজয়ের পরও ২-১'এ সিরিজ নিশ্চিত করে টাইগার'রা।
তারকাদের হাতে দামি উপহার তুলে দিয়ে ফের আলোচনার সৃষ্টি করেছে চ্যানেল আই। তারা ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খানকে দিলো প্রায় কোটি টাকার দামি উপহার। এর আগে একই মঞ্চে চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস পেয়েছিলেন সোনার কলস। শনিবার (১৩ জুন) বৃষ্টিভেজা দুপুরে চ্যানেল আইয়ের স্টুডিওতে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন শাকিব। সেখানেই তার হাতে ফরিদুর রেজা সাগর তুলে দেন রোজ গোল্ড এডিশনের রোলেক্সের দামি ঘড়ি। যার মূল্য ৭১. ৯৭ লাখ টাকা।অপ্রত্যাশিত মুহূর্তটিতে আবেগী হয়ে পড়েন শাকিব। জানান, কয়েক দিন ধরেই এমন একটি ঘড়ি কিনতে চাইছিলেন। তার আগেই এত দামি ঘড়িটি উপহার হিসেবে পেয়ে গেলেন। শাকিব বলেন, আমি কখনও ভাবিনি এত দামি উপহার একজন আরেকজনকে দিতে পারে বা একজন শিল্পীকে দেয়। এটা আসলে সাগর ভাইয়ের পক্ষেই সম্ভব।শাকিব আরও বলেন, কোনো শিল্পীর দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানো, চিকিৎসায় অর্থ সাহায্য কিংবা যেকোনো সহায়তায় আমি চ্যানেল আইকে এগিয়ে আসতে দেখেছি। এতো দামি উপহারে শিল্পীকে সম্মান দেয়া তাই একমাত্র চ্যানেল আইয়ের পক্ষেই সম্ভব।সবশেষে এ নায়ক বলেন, এই দামি ঘড়িটি এখন আমার কাছে হয়ে গেছে অমূল্য একটা সম্পদ। এমন মমতা ও ভালোবাসার সম্মান, উপহারকে আমি চাইবো এটি আমার সংগ্রহে থাকুক। সারা জীবন এ মুহূর্তকে আমি সুখকর স্মৃতি হিসেবে বাঁধিয়ে আমার কাছে রাখতে চাই। সত্যি আমি কৃতজ্ঞ।শাকিব খানের আগে ফরিদুর রেজা সাগরের কাছ থেকে সম্মাননা ও বিশেষ উপহার হিসেবে দামি একটি স্বর্ণের কলস উপহার পান চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। বিশেষ দামি উপহার পাওয়ার পর নায়িকা সংবাদমাধমে জানিয়েছিলেন, এমন ভালোবাসা আর সম্মান তার ক্যারিয়ারে আবেগঘন, স্মরণীয় এবং মূল্যবান প্রাপ্তিগুলোর একটি।
নিত্যপণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে হাঁপিয়ে ওঠা নিম্ন ও স্বল্প আয়ের মানুষের স্বস্তির জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যাপক কর ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে বাজারে এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। বাজেট ঘোষণার পর কাঁচা মরিচ ছাড়া অন্য কোনো পণ্যের দাম তো কমেইনি, উল্টো চাল ও ব্রয়লার মুরগির দাম আরও বেড়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর ঢাকা মহানগরীর নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের খুচরা বাজারদরের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ চিত্র দেখা গেছে।টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ জুন বাজেট প্রস্তাবের আগের দিন রাজধানীর বাজারে প্রতি কেজি মোটা চাল (স্বর্ণা/চায়না/ইরি) বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকায়, যা বাজেটের পর গতকাল শনিবার ২ টাকা বেড়ে ৫২ টাকায় ঠেকেছে। একইভাবে মাঝারি মানের চালের (পাইজাম/আটাশ) কেজি ৫৪ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৫৫ টাকা। স্বল্প আয়ের মানুষের আমিষের প্রধান উৎস ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা বাজেটের আগে ছিল ১৬০ টাকা। টিসিবির তালিকায় থাকা ৫৭টি পণ্যের মধ্যে কেবল কাঁচা মরিচের দাম কেজিপ্রতি ৭০ টাকা থেকে কমে ৬০ টাকা হয়েছে। বাকি ৫৪টি পণ্যের দাম আগের মতোই চড়া রয়েছে।বাজারে আসা ক্রেতারা বলছেন, গত সপ্তাহ থেকে বাজারের পরিস্থিতি প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। বাজেট ঘোষণার কারণে এখন পর্যন্ত কোনো নতুন মূল্য পরিবর্তন চোখে পড়েনি। উল্টো উচ্চমূল্যের কারণে ভোক্তাদের স্বস্তি মিলছে না। অন্যদিকে খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, বাজেট ঘোষণার কারণে এখনো কোনো পণ্যের দামে পরিবর্তন আসেনি। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান যে দামে পণ্য দিচ্ছে, সে অনুযায়ী তাঁদের বিক্রি করতে হচ্ছে।বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজেট ঘোষণার পর সাধারণত শুল্ক বা কর হ্রাসের প্রভাব খুচরা বাজারে পড়তে কিছুটা সময় লাগে। ফলে এখনই বড় ধরনের পরিবর্তন না দেখা গেলেও আগামী কয়েক সপ্তাহে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেদিকে নজর রাখছেন ব্যবসায়ী ও ভোক্তারা।তবে এবারের বাজেটে চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, চিনি ও ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎসে কর ৫, ২ ও ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এ ছাড়া মসলা ও খেজুরের নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং শিশুখাদ্যের আমদানি শুল্ক ১৫ থেকে ১০ শতাংশে নামানো হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, এতে বাজারে শিশুখাদ্যসহ এসব পণ্যের দাম কমবে।কিন্তু এই সুবিধার সুফল পাওয়া নিয়ে এরই মধ্যে বড় সংশয় দেখা দিয়েছে। কারণ, করের আওতা বাড়াতে সরকার এবারই প্রথম খুচরা বিক্রেতাদের পণ্য সরবরাহের ওপর প্রতি ১ হাজার টাকায় ২ টাকা (দশমিক ২০ শতাংশ) হারে অগ্রিম কর সংগ্রহের প্রস্তাব করেছে।প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য করের হার বৃদ্ধি নয়; বরং করের ভিত্তি সম্প্রসারণ। এই উদ্দেশ্যে কয়েকটি বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। করভিত্তি সম্প্রসারণের জন্য খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে পণ্য সরবরাহে দশমিক ২০ শতাংশ অগ্রিম কর সংগ্রহের প্রস্তাব করছি। সংগৃহীত এই অগ্রিম করের পরিমাণ হবে অতি নগণ্য, প্রতি ১ হাজার টাকায় মাত্র ২ টাকা।যদিও অর্থমন্ত্রী এটিকে অতি নগণ্য বলছেন, তবে ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, এই নতুন অগ্রিম করের কারণে দেশের লাখ লাখ খুচরা ব্যবসায়ীর ওপর করের বোঝা চাপবে। যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তার ঘাড়েই পড়বে এবং পণ্যের দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
১১ ঘন্টা আগে
হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন ৫৪ হাজার ৩২৩ জন বাংলাদেশি হাজি। হজ করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত সৌদি আরবে ৫০ জন হজযাত্রী ও হাজি মারা গেছেন।শুক্রবার (১২ জুন) দিনগত রাত ৩টা পর্যন্ত ১২৩টি ফিরতি ফ্লাইটে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৩১৩ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫০ হাজার ১০ জন দেশে ফিরেছেন।ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালে আইটি হেল্পডেস্কের প্রতিদিনের বুলেটিন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। গত ২৬ মে সৌদি আরবে হজ অনুষ্ঠিত হয়।পোর্টালে জানানো হয়, সর্বশেষ গত ১১ জুন বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রী সুলতানা রাজিয়া চৌধুরী (৬৭) মদিনায় মারা গেছেন। তার বাড়ি সিলেট সদরে।সৌদি আরবে মৃত্যুবরণ করা বাংলাদেশি হজযাত্রীদের মধ্যে ৩৩ জন পুরুষ ও ১৭ জন নারী। এদের মধ্যে মক্কায় ৩৫, মদিনায় ১৪ ও জেদ্দায় একজনের মৃত্যু হয়েছে।বুলেটিন অনুযায়ী, দেশে ফেরা ৫৪ হাজার ৩২৩ জন হাজির মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৩১৩ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫০ হাজার ১০ জন রয়েছেন।এসব হাজি দেশে ফেরাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৫৮টি, সৌদি এয়ারলাইন্স ৪৮টি এবং ফ্লাইনাস ২১টি ফিরতি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।হজ বুলেটিনে আরও জানানো হয়, সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানীয় হাসপাতালে মোট ৪১০ জন হাজি চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। বর্তমানে ১৮ জন হাজি বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।এবার বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালন করেছেন। এরমধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজ পালন করেন। হজযাত্রীদের সৌদি আরবগামী প্রথম ফ্লাইট ছিল ১৮ এপ্রিল এবং শেষ ফ্লাইট ২১ মে। অন্যদিকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয়েছে ৩০ মে, যা চলবে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত।
ইতোমধ্যেই ফলের রাজা আমের মিষ্টি গন্ধে ভরে উঠেছে চারপাশ। বাঙালির সাথে আমের সম্পর্কটা যেন একদম আবেগের, আর তাই আম পছন্দ করেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা বাহারি জাতের আমের স্বাদ ও ঘ্রাণে এই সময়ে মেতে ওঠে সব বয়সী মানুষ। তাই তো মৌসুমের শুরুতেই গ্রাম থেকে আসা স্নেহের উপহার হোক বা বাজার থেকে কেনা—প্রিয়জনদের তৃপ্তির জন্য অনেকেই একসাথে বেশ অনেকটা আম ঘরে তোলেন।কিন্তু এত আম একসাথে আনার পরই শুরু হয় সংরক্ষণের আসল দুশ্চিন্তা। শহরে পড়াশোনা বা চাকরির সুবাদে যারা মেস বা ব্যাচেলর বাসায় একা থাকেন, তাদের অনেকের কাছেই হয়তো ফ্রিজ থাকে না। অন্যদিকে, যারা পরিবার নিয়ে থাকেন তাদেরও ঝক্কি কম নয়। ফ্রিজ থাকলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য বাজারের ভিড়ে সেখানে এতগুলো আমের জায়গা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, তার ওপর লোডশেডিংয়ের ভয় তো আছেই। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো, ফ্রিজের কৃত্রিম ঠান্ডায় আমের সেই মনকাড়া সুবাস আর আসল স্বাদটা অনেকটাই ফিকে হয়ে যায়।তাই আমের আসল স্বাদ ও গন্ধ অটুট রেখে, ফ্রিজের কোনো রকম ঝামেলা ছাড়াই দীর্ঘদিন সতেজ রাখার কিছু সহজ ও কার্যকরী ঘরোয়া উপায় নিচে দেওয়া হলো- সঠিক আম বেছে নেওয়াসংরক্ষণের প্রথম ধাপই হলো ভালো আম নির্বাচন করা। কেনার সময় খুব বেশি নরম বা আঘাতপ্রাপ্ত আম এড়িয়ে চলা উচিত। সামান্য শক্ত এবং সতেজ আম সংরক্ষণের জন্য সবচেয়ে ভালো। কোনো আমে দাগ বা পচনের লক্ষণ থাকলে তা দ্রুত অন্য আমকেও নষ্ট করে ফেলতে পারে।পানিতে ভিজিয়ে মুছে নেওয়াবাজার বা বাগান থেকে আম আনার পরই অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা একটি বালতি বা গামলায় ঠান্ডা পানিতে আমগুলো ভিজিয়ে রাখুন। এতে আমের ভেতরের অতিরিক্ত গরম বা তাপ বের হয়ে যায়, ফলে আম দ্রুত পাকতে শুরু করে না। পানি থেকে তোলার পর প্রতিটি আম শুকনো সুতি কাপড় দিয়ে খুব ভালো করে মুছে নিতে হবে। খেয়াল রাখবেন আমের গায়ে যেন একটুও পানি লেগে না থাকে, নইলে দাগ পড়ে পচে যেতে পারে।কাগজে মুড়িয়ে রাখাআম সতেজ রাখার এটি একটি দারুণ ও সহজ উপায়। প্রতিটি আম আলাদাভাবে পুরনো পত্রিকা বা সাধারণ বাদামি কাগজে মুড়িয়ে রাখুন। কাগজ আমের গায়ে থাকা অতিরিক্ত আর্দ্রতা শুষে নেয়। ফলে ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাস আক্রমণ করতে পারে না। তবে আম যদি পুরোপুরি পাকা হয়, তাহলে একটানা বেশিদিন কাগজে মুড়িয়ে রাখলে গরমে নষ্ট হতে পারে। তাই নিয়মিত খেয়াল রাখতে হবে।খোলামেলা ও বাতাস চলাচল করে এমন স্থানে রাখুন আম কখনোই প্লাস্টিকের ব্যাগে, বদ্ধ জায়গায় বা সরাসরি সূর্যের আলোতে রাখা ঠিক নয়। ঘরের সবচেয়ে ঠান্ডা, অন্ধকার এবং বাতাস চলাচল করে এমন জায়গা নির্বাচন করুন। রান্নাঘরের চুলা বা অতিরিক্ত গরম স্থান থেকে আম সবসময় দূরে রাখতে হবে।স্তূপ করে রাখবেন না জায়গা বাঁচানোর জন্য অনেকেই আম একটির ওপর আরেকটি সাজিয়ে রাখেন। এতে নিচের আমগুলোর ওপর চাপ পড়ে এবং সেগুলো দ্রুত নরম হয়ে যায়। মেঝেতে চট, সুতি কাপড় বা পত্রিকা বিছিয়ে তার ওপর একটু ফাঁকা ফাঁকা করে এক স্তরে আম রাখলে প্রতিটি আমের চারপাশে পর্যাপ্ত বাতাস পৌঁছায়।খড়, পাটের বস্তার ব্যবহারগ্রামবাংলায় খড় বা পাটের বস্তার ব্যবহার বেশ পরীক্ষিত। একটি ঝুড়ি বা বাঁশের ডালার নিচে খড় বা পরিষ্কার পাটের বস্তা বিছিয়ে আমগুলো সাজিয়ে তার ওপর আবার খড় দিয়ে ঢেকে দিতে পারেন। এটি প্রাকৃতিকভাবে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। বাংলার ঐতিহ্যবাহী বড় মাটির পাত্র বা কলসও এক্ষেত্রে দারুণ কাজে দেয়।নিয়মিত পরীক্ষা করুন সংরক্ষিত আম প্রতিদিন অন্তত একবার উল্টেপাল্টে দেখা উচিত। কোনো আমে কালো দাগ দেখলে বা বেশি নরম হতে শুরু করেছে বুঝতে পারলে দ্রুত সেটি আলাদা করে ফেলতে হবে। কারণ একটি পচা আম থেকে খুব সহজেই ফাঙ্গাস ছড়িয়ে অন্য আমগুলো নষ্ট হয়ে যেতে পারে।আম একটি দারুণ পুষ্টিকর ও জনপ্রিয় মৌসুমি ফল। সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে পারলে শুধু অর্থের সাশ্রয়ই হয় না, বরং খাদ্য অপচয়ও রোধ করা যায়। এই ছোট ছোট নিয়মগুলো মেনে চললে খুব সহজেই ফ্রিজের ঝামেলা ছাড়া পরিবারের সবাইকে নিয়ে দীর্ঘদিন আমের আসল স্বাদ উপভোগ করতে পারবেন।
২০৫০ সালের মধ্যে চরম তাপমাত্রার ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের শীর্ষ ৬টি দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।সোমবার ২৬ জানুয়ারি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাতে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার সাসটেইনেবিলিটি’-তে এই গবেষণাটি প্রকাশ হয়।ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার অব্যাহত থাকলে আগামী ২৫ বছরের মধ্যে চরম তাপপ্রবাহে আক্রান্ত বৈশ্বিক জনসংখ্যার হার প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। শিল্প-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় যদি বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়, তবে চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ বিশ্বের ৪১ শতাংশ মানুষ (প্রায় ৩৭৯ কোটি) অসহনীয় তাপমাত্রার মধ্যে বসবাস করবে। ২০১০ সালে এই পরিস্থিতির শিকার জনগোষ্ঠীর হার ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ (১৫৪ কোটি)।