আবারও ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বাংলাদেশ।বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত ৯টা ৪০ মিনিটে ৪ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়।ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন কেন্দ্র (ইএমএসসি) ও মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। এর উপকেন্দ্র ছিল ভারতের আসাম রাজ্যের সিলচর শহর থেকে ১৯ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে এবং মণিপুরের রাজধানী ইম্ফল থেকে ১০০ কিলোমিটার পশ্চিমে (২৪ দশমিক ৯১৬ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯২ দশমিক ৯৬২ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ)।উৎপত্তিস্থলটি রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ২৮৭ কিলোমিটার দূরে হলেও ভারতের আসাম ও মণিপুর রাজ্যের সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের সিলেট জেলা ও এর আশপাশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বিভিন্ন এলাকায় মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের ঝাঁকুনি অনুভূত হয়েছে।ভূমিকম্পের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই এ নিয়ে পোস্ট দিয়েছেন।জানা গেছে, সিলেট, ময়মনসিংহ ও ঢাকার কিছু কিছু জায়গা থেকে ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।এর আগে গত রবিবার (৭ জুন) রাত ১১টা ৩৭ মিনিটের দিকে রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৬ মাত্রার ভূকম্পনে কাঁপে সারা দেশ। এর কেন্দ্র স্থল ছিল ভুটানে।
ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করেছে সরকার। এ ঘটনার জেরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১১ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পক্ষে পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবুল হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।আদেশে বলা হয়, গত ২৭ মে হাসপাতালে এক ওডার্ডে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত এক তদন্ত কমিটির রিপোর্টে ওয়ার্ডে অক্সিজেন স্বল্পতা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলাকে এ মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালটির লাইসেন্স কেন বাতিল হাবে না, এ মর্মে একটি শোকজ নোটিশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নোটিশের জবাব দিতে তাদের ৭২ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেওয়া হলেও আরও ৪৮ ঘণ্টার সময় চেয়ে আবেদন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে গত ৯ জুন শোকজ নোটিশের লিখিত জবাব দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সে জবাববে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, তা কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক না হওয়ায় The Medical Practice and Private Clinics and Laboratories (Regulation) Ordinance, 1982 এর ১১(২) (খ) ধারা অনুযায়ী আপনার হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হইল।তবে অধ্যাদেশের ১২ ধারা অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিলের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করা যাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে আদেশে।
আবারও ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বাংলাদেশ।বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত ৯টা ৪০ মিনিটে ৪ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়।ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন কেন্দ্র (ইএমএসসি) ও মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। এর উপকেন্দ্র ছিল ভারতের আসাম রাজ্যের সিলচর শহর থেকে ১৯ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে এবং মণিপুরের রাজধানী ইম্ফল থেকে ১০০ কিলোমিটার পশ্চিমে (২৪ দশমিক ৯১৬ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯২ দশমিক ৯৬২ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ)।উৎপত্তিস্থলটি রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ২৮৭ কিলোমিটার দূরে হলেও ভারতের আসাম ও মণিপুর রাজ্যের সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের সিলেট জেলা ও এর আশপাশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বিভিন্ন এলাকায় মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের ঝাঁকুনি অনুভূত হয়েছে।ভূমিকম্পের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই এ নিয়ে পোস্ট দিয়েছেন।জানা গেছে, সিলেট, ময়মনসিংহ ও ঢাকার কিছু কিছু জায়গা থেকে ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।এর আগে গত রবিবার (৭ জুন) রাত ১১টা ৩৭ মিনিটের দিকে রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৬ মাত্রার ভূকম্পনে কাঁপে সারা দেশ। এর কেন্দ্র স্থল ছিল ভুটানে।
দলের অনেক তারকা ক্রিকেটারকে ছাড়াই বাংলাদেশ সফরে এসেছে অস্ট্রেলিয়া দল। মাঠে নেমে স্টার্ক-কামিন্সদের অভাব হাড়েহাড়ে টের পাচ্ছে অজিরা। মিরপুরে টাইগারদের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচেই বিধ্বস্ত হয়েছে ওয়ানডে ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দলটি। টানা দুই ম্যাচ জিততে অজিদের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে সিরিজ ঘরে তুলেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে অজিদের ৪ উইকেটে হারিয়েছে টাইগাররা।ভারত, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তানসহ সেরা দশে থাকা প্রায় প্রতিটি দলের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ দল। তবে অপেক্ষা ছিল কেবল অস্ট্রেলিয়ার জন্য। ২০০৫ সালে প্রথমবার ত্রিদেশীয় সিরিজে অজিদের বিপক্ষে ওয়ানডেতে জয় পেয়েছিল টাইগাররা। এরপর ২০১৭ সালে টেস্টে জয় ও ২০২১ সালে টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ।কিন্তু মাইটি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানেডে সিরিজ জয়ের অপেক্ষায় ছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। তবে সেই অপেক্ষা শেষ হলো, ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে টানা দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ ঘরের তুলেছে মিরাজ বাহিনী। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪২ ওভারে ১৮৭ রান তুলেছিল অজিরা। এরপর মিরপুরে হানা দেয় বেরসিক বৃষ্টি, ফলে কাটা গেছে ম্যাচে ৯ ওভার। বৃষ্টি আইনে ৪১ ওভারে ১৯১ রানের লক্ষ্য পায় বাংলাদেশ। জবাব দিতে নেমে বল ও উইকেট হাতে থাকতেই জয় তুলে নিয়েছে টাইগাররা।জবাবে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। গুড লেন্থে পড়া বলে স্ট্রেইট ড্রাইভ খেলতে গিয়ে বোলারের হাতে ফিরতি ক্যাচ দেন তানজিদ তামিম। এরপর শান্তকে নিয়ে দলের হাল ধরেন ওপেনার সৌম্য সরকার। দুই ব্যাটার মিলে গড়েন ৮৬ রানের জুটি। তবে রির্ভাস সুইপ খেলতে গিয়ে ৪২ রানে কাটা পড়েন সৌম্য।৮৬ রানে দুই উইকেট হারানো বাংলাদেশের বিপদ বাড়ান শান্ত। ৯৮ রানের মাথায় ৪২ করে প্যাভিলিয়নে ফিরেন টাইগারদের সহ-অধিনায়ক। আউট হওয়ার আগে অবশ্য নতুন মাইলফলক ছুঁয়েছেন তিনি। দেশের ১১তম ব্যাটার হিসেবে ওয়ানডেতে দুই হাজার রান করেন তিনি, যা বাংলাদেশের হয়ে যৌথভাবে দ্বিতীয় দ্রুততম।মিরপুরে লিটনের ওয়ানডে পরিসংখ্যান ভালো নয়। প্রায় এক যুগের ক্যারিয়ারে করতে পারেননি কোনো ফিফটি। আজকের ম্যাচেও হলো একই দশা। দারুণ খেলতে থাকা লিটন আটকে গেলেন মিরপুরের ধাঁধায়। ক্যামরুন গ্রিনের আচমকা বাউন্সার লিটনের গ্লাভস ছুঁয়ে উইকেটরক্ষক ইংলিসের হাতে জমা হয়। তাতে ২১ রান করে বিদায় নেন এই ব্যাটার।ছয়ে নামা মোসাদ্দেকের শুরুটা ছিল আত্মবিশ্বাসী। ডাউন দ্য ট্র্যাকেই এসে খেলেছেন প্রথম বল। অ্যাডাম জাম্পার ওপর বেশি চড়াও হয়েছিলেন এই ব্যাটার, হাঁকিয়েছেন তিন বাউন্ডারি। কিন্তু জাম্পার বলেই উচ্চবিলাসী শট খেলতে গিয়ে বিদায় নেন মোসাদ্দেক। ১৪৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে আচমকা ব্যাকফুটে পড়ে যায় বাংলাদেশ। তবে মিরাজ ও হৃদয়ের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ৩৬ বল ও ৫ উইকেট হাতে থাকতেই জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।আরও পড়ুনকাতারের প্রধান কোচ হলেন বাংলাদেশের ফাতেমাএর আগে টসে জিতে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে কোনো রান না করেই লজ্জার রেকর্ড গড়ে অস্ট্রেলিয়া। স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ না করেই তিন উইকেট হারায় সফরকারীরা। ওয়ানডে ইতিহাসে ১০২৪ ম্যাচ খেলে এবারই প্রথম শূন্য রানে তিন উইকেট হারানোর নজির গড়ে জশ ইংলিসের দল।ইনিংসের শুরুতে চাপ তৈরি করেন তাসকিন আহমেদ। টানা দুই ম্যাচে ম্যাথু শর্টকে আউট করেন তিনি। এরপর দ্বিতীয় ওভারে কুপার কনোলিকে লিটনের হাতে ক্যাচ বানিয়ে ফেরান মোস্তাফিজুর রহমান। একই ওভারে ম্যাট রেনশও আউট হন। পরে অ্যালেক্স ক্যারি কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে অস্ট্রেলিয়া।১৮তম ওভারে জশ ইংলিসকে আউট করেন তানভীর ইসলাম। ৮১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় সফরকারীরা। সেই অবস্থায় সপ্তম উইকেটে ১০৩ রানের জুটি গড়ে দলকে সামলান জেভিয়ার বার্টলেট ও মার্নাস লাবুশেন। তবে ৪১তম ওভারে আবারও ধাক্কা খায় অস্ট্রেলিয়া। তাসকিনের জোড়া আঘাতের পর ৪২ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮৭ রান করে অস্ট্রেলিয়া।এরপর বৃষ্টির কারণে দীর্ঘ সময় খেলা বন্ধ থাকে। পরে ডাকওয়ার্থ–লুইস–স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে ম্যাচ ৪১ ওভারে নামিয়ে আনা হয়। এতে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯২ রান।
বলিউডের পাওয়ার কাপল দীপিকা পাড়ুকোন-রণবীর সিং এর ঘরে দ্বিতীয় সন্তান আসছে। খবরটি আগেই জানিয়েন এ দম্পতি। এবার প্রথমবারের মতো ক্যামেরায় ধরা পড়লো দীপিকার বেবিবাম্প—যা এখন ভক্তমহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। পিংকভিলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি দীপিকা-রণবীর তাদের নতুন বাড়ির নির্মাণ কাজের অগ্রগতি দেখতে গিয়েছিলেন। আর সেখানেই ক্যামেরাবন্দি হন এই তারকা দম্পতি। ঢিলেঢালা সাদা পোশাকে দীপিকার উপস্থিতি ছিল শান্ত, প্রায় নীরব এক সৌন্দর্যের মতো। নায়িকার বেবিবাম্পসহ ক্যামেরার ফ্রেমে ধরা পড়া মুহূর্তটি স্যোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়, আর ভক্তদের শুভেচ্ছায় ভরে ওঠে টাইমলাইন।সমুদ্রের দিকে মুখ করা সেই বাড়ির প্রতিটি কোণে যেন নতুন জীবনের প্রস্তুতির ছাপ। পাশে দাঁড়িয়ে রণবীর সিং বারবার দেখছিলেন কাজের অগ্রগতি, আর দীপিকা ছিলেন একেবারে স্বাভাবিক, শান্ত, আত্মস্থ।এই দৃশ্য শুধু একটি তারকা দম্পতির ব্যক্তিগত মুহূর্ত নয়—বরং সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়া এক নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত। পর্দার আলো, লাল গালিচার ঝলক পেরিয়ে এখানে তারা দাঁড়িয়ে আছেন জীবনের সবচেয়ে ব্যক্তিগত বাস্তবতায়।ভক্তদের জন্য এই মুহূর্ত তাই শুধু একটি ছবি নয়, বরং এক আবেগের নাম—যেখানে তারকারাও হয়ে ওঠেন সাধারণ, আর সাধারণ মুহূর্তই হয়ে ওঠে গল্প।
জাতীয় সংসদে বাংলাদেশের ইতিহাসের বৃহত্তম এবং দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট উত্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু চৌধুরী। বাজেটে গৃহীত পদক্ষেপের ফলে বেশ কিছু পণ্যের দাম কমবে।এর মধ্যে চিকিৎসা খাতে কিডনি ডায়ালাইসিস, হার্টের রিং বা স্টেন্ট, চোখের ইন্ট্রাওকুলার লেন্স, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনীয় স্পেশাল এসিস্টিভ ডিভাইস, ক্যান্সারের ওষুধ, সক্রিয় ফার্মাসিউটিক্যাল উপাদান, জীবনরক্ষাকারী অন্যান্য ওষুধ, মেডিক্যাল ইকুইপমেন্টস।ইলেক্ট্রনিকস সামগ্রীর মধ্যে ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার, কম্পিউটার প্রিন্টার, কম্পিউটার মনিটর, কম্পিউটার এক্সেসরিস এসএসডি, পিওএস মেশিন। এছাড়া শিশুখাদ্য, সকল ধরনের মসলা, সব ধরনের খেজুর, সব ধরনের সার, ভেটেরিনারি মেডিসিন কীটনাশক ও বালাইনাশক, পোল্ট্রি, ডেইরি ও মৎস্য খাদ্য।বাজেটে মূল্য কমবে যেসব পণ্যেরসংসদে প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রীযন্ত্রাংশের মধ্যে ৫০ হাজার ডলার মূল্য পর্যন্ত ইলেকট্রিক গাড়ি, ২০০০ সিসি পর্যন্ত প্লাগ-ইন ইলেকট্রিক গাড়ি, ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাক, ইলেকট্রিক বাইক, ইলেকট্রিক গাড়ির চার্জার ও চার্জিং স্টেশন, সোলার প্যানেল, সোলার ইনভার্টার, লিথিয়াম ব্যাটারি, লিথিয়াম ব্যাটারি প্যাক, ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম, সোলার প্যানেল মাউন্টিং স্ট্রাকচার, স্মার্টকার্ড ও ব্যাংক কার্ড, স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য মর্চুয়ারি, সিনথেটিক ওভেন ফ্যাব্রিক্স।দাম কমার তালিকায় আরো আছে মিউজিক্যাল ইন্সট্রুমেন্ট- যেমন গিটার, পিয়ানো, ভায়োলিন ইত্যাদি, সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরা এবং এই ক্যামেরা ও প্রজেক্টরের যন্ত্রাংশ, স্কিন কেয়ার ও বিউটি প্রোডাক্টস, জুয়েলারি, সিম কার্ড, ইলেক্ট্রিক কুকার, ইন্ডাকশন কুকার, ইনফ্রারেড কুকার, ওয়াটার পিউরিফায়ার, ওয়াটার হিটার ও গিজার স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্য সামগ্রী, মোবাইল ফোন, রেফ্রিজারেটর, ফ্রিজার, এসি, ওয়াশিং মেশিন, এটিএম, সিসি ক্যামেরা।এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুর ১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে এই প্রস্তাবিত বাজেটের অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অর্থ বিলে স্বাক্ষরের পর বিকেল ৩টায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্পিকারের অনুমতি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদে বাজেট বক্তৃতা শুরু করেন।
১ দিন আগে
কোরআনুল কারিম মহান আল্লাহর কালাম এবং মুসলমানদের কাছে সর্বাধিক সম্মানিত গ্রন্থ। তাই কোরআন তেলাওয়াত, বহন ও স্পর্শ করার ক্ষেত্রে কী ধরনের পবিত্রতা প্রয়োজন- এ প্রশ্ন ইসলামি ফিকহের একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে মোবাইল অ্যাপ, অনুবাদ গ্রন্থ এবং দাওয়াতি কার্যক্রমের প্রসারে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।প্রশ্ন হলো, কোরআন স্পর্শ করার জন্য কি অজু থাকা বাধ্যতামূলক, নাকি সাধারণ পবিত্রতাই যথেষ্ট?মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই এটি মহিমান্নিত কোরআন, যা সুরক্ষিত কিতাবে রয়েছে। একে পূত-পবিত্রগণ ব্যতিত কেউ স্পর্শ করে না।’ (সুরা ওয়াকিয়া: ৭৭-৭৯)এই আয়াতের ব্যাখ্যায় মুফাসসিরদের মধ্যে দুটি প্রসিদ্ধ মত পাওয়া যায়। একদল বলেন, এখানে ‘পবিত্রগণ’ বলতে ফেরেশতাদের বোঝানো হয়েছে, যারা লাওহে মাহফুজে সংরক্ষিত কোরআন স্পর্শ করেন। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.), ইকরিমা (রহ.) এবং কিছু তাফসিরবিদের বক্তব্য থেকে এ মতের সমর্থন পাওয়া যায়।অন্যদিকে অধিকাংশ ফকিহ এ আয়াত থেকে মুসহাফ স্পর্শের জন্য পবিত্রতার প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত গ্রহণ করেছেন। যদিও তারা মূল দলিল হিসেবে হাদিসকে অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন।এ বিষয়ে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ দলিল হলো হজরত আমর ইবনে হাযম (রা.)-এর কাছে রাসুলুল্লাহ (স.) প্রেরিত পত্রের বর্ণনা। সেখানে বলা হয়েছে, ‘পবিত্র ব্যক্তি ছাড়া কেউ যেন কোরআন স্পর্শ না করে।’ (মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ৪৬৮; দারাকুতনি: ৪৩১; বায়হাকি)ইমাম মালিক, ইমাম শাফেয়ি, ইমাম আহমদ, ইবনু আবদুল বার, ইবনু কুদামা, ইমাম নববিসহ বহু মুহাদ্দিস ও ফকিহ এ বর্ণনাকে গ্রহণযোগ্য দলিল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইমাম ইবনু হাজর (রহ.) বলেন, এ হাদিসের একাধিক সনদ পরস্পরকে শক্তিশালী করে।ইমাম নববি (রহ.) উল্লেখ করেন, সনদ নিয়ে আলোচনা থাকলেও উম্মাহর গ্রহণযোগ্যতা এবং একাধিক সূত্রে বর্ণিত হওয়ার কারণে অধিকাংশ ফকিহ এ হাদিসকে আমলযোগ্য দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। (আল-মাজমু: ২/৬৯)এ বিষয়ে সাহাবায়ে কেরামের আমলও উল্লেখযোগ্য। ইমাম নববি (রহ.) ও ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) উল্লেখ করেন, হজরত আলী, সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস, সালমান ফারসি ও আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.)সহ একাধিক সাহাবি পবিত্রতা ছাড়া কোরআন স্পর্শ না করার মত পোষণ করেছেন। (আল-মাজমু: ২/৮০; মাজমুউল ফতোয়া: ২১/২৬৬)এ কারণেই ফিকহের অধিকাংশ গ্রন্থে মুসহাফ স্পর্শের জন্য অজুর শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে।আলী (রা.)-এর বর্ণনায় এসেছে, ‘নবী (স.)-কে কোরআন তেলাওয়াত থেকে শুধু জানাবাত ছাড়া অন্যকিছু বিরত রাখত না।’ (আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ; হাসান)এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, রাসুলুল্লাহ (স.) শুধু গোসল ফরজ হলেই তেলাওয়াত থেকে বিরত থাকতেন। ফকিহগণ এই হাদিস ও আমর ইবনে হাযমের হাদিস একসঙ্গে বিশ্লেষণ করে মুসহাফ স্পর্শ ও মুখস্থ তেলাওয়াতের মধ্যে পার্থক্য করেছেন।‘পবিত্র’ ও ‘অজু’ দুটি কি একই বিষয়?এ আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ‘তাহির’ (পবিত্র) শব্দের অর্থ নির্ধারণ। এখানেই মতভেদের মূল শিকড়।কিছু আলেমের মতে, এখানে ‘পবিত্র’ বলতে শুধু বড় নাপাকি (জানাবাত, হায়েজ, নিফাস) থেকে মুক্ত অবস্থাকে বোঝানো হয়েছে। তাদের যুক্তি হলো, হাদিসে ‘মুতাওয়াদ্দি’ (অজুকারী) শব্দ না বলে ‘তাহির’ (পবিত্র) শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।অন্যদিকে জমহুর ফকিহদের মতে, ‘তাহির’ শব্দটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত। ছোট নাপাকি (অজু ভঙ্গ হওয়া) থেকেও পবিত্র থাকা এর অন্তর্ভুক্ত। শরিয়তে পবিত্রতার দুটি স্তর রয়েছে- তাহারাতে কুবরা (বড় পবিত্রতা) ও তাহারাতে সুগরা (ছোট পবিত্রতা)। জমহুরের মতে উভয় স্তরই মুসহাফ স্পর্শের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক।চার মাজহাবের অবস্থানফিকহি মতভেদ থাকা সত্ত্বেও মুসলিম উম্মাহর মূলধারার অবস্থান চার মাজহাবের মতামত থেকেই স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।হানাফি, মালেকি, শাফেয়ি ও হাম্বলি- চার মাজহাবের জমহুর আলেমের মতে, অজু ছাড়া সরাসরি আরবি মুসহাফ স্পর্শ করা জায়েজ নয়। ইমাম নববি (রহ.) ‘আল-মাজমু’ গ্রন্থে এবং ইবনু কুদামা (রহ.) ‘আল-মুগনি’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, এ বিষয়ে সাহাবায়ে কেরাম ও পরবর্তী যুগের অধিকাংশ ফকিহ একই অবস্থান গ্রহণ করেছেন।ভিন্নমত কেন রয়েছে?কিছু আলেম যেমন ইমাম দাউদ জাহেরি, ইবনে হাযম (রহ.) এবং পরবর্তী যুগের কিছু গবেষক আলেম মনে করেন, সুরা ওয়াকিয়ার আয়াতে মানুষের অজুর প্রসঙ্গ সরাসরি উল্লেখ নেই। তাদের মতে, সেখানে ফেরেশতাদের কথা বলা হয়েছে।ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) ‘মাজমুউল ফতোয়াতে উল্লেখ করেন, এ বিষয়ে দলিলগুলোর ব্যাখ্যায় ইজতিহাদের সুযোগ রয়েছে। তার মতে, সুরা ওয়াকিয়ার আয়াতে মূলত ফেরেশতাদের প্রসঙ্গই অধিক স্পষ্ট।ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহ.) ‘ইলামুল মুওয়াক্কিয়িন’ গ্রন্থে বলেন, নবী (স.) কোরআনের আয়াত লিখে বিভিন্ন শাসকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। এ ঘটনাও বিষয়টির ভিন্নতর ব্যাখ্যার পক্ষে আলোচনায় উল্লেখ করা হয়।তবে উল্লেখযোগ্য যে, এ মতটি সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমদের মত নয়; বরং ইসলামি ফিকহের একটি সংখ্যালঘু মত হিসেবে পরিচিত।বিশেষ পরিস্থিতি ও বিধানঅধিকাংশ আলেমের মতে, অজু না থাকলেও মুখস্থ কোরআন তেলাওয়াত করা জায়েজ। তবে সরাসরি মুসহাফ স্পর্শ করার জন্য অজু প্রয়োজন- এটি জমহুরের অবস্থান।জানাবাত (গোসল ফরজ) অবস্থায় কোরআন তেলাওয়াত ও মুসহাফ স্পর্শ উভয় ক্ষেত্রেই অধিকাংশ আলেম কঠোর বিধান উল্লেখ করেছেন।হায়েজ ও নিফাস অবস্থায় হানাফি ও মালেকি মাজহাব অনুযায়ী কোরআন তেলাওয়াত ও মুসহাফ স্পর্শ উভয়ই নিষেধ। শাফেয়ি ও হাম্বলি মাজহাবে এ বিষয়ে বিস্তারিত মতভেদ রয়েছে। ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) ও শায়খ আব্দুল আজিজ ইবনে বায (রহ.) মনে করেন, হাফেজা মহিলার জন্য ভুলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে হায়েজ অবস্থায় তেলাওয়াতের অবকাশ রয়েছে।মোবাইল ফোনে কোরআন পড়ার বিধানসমসাময়িক অধিকাংশ আলেমের মতে, মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট বা কম্পিউটারের স্ক্রিনে কোরআন পড়া বা স্পর্শ করার জন্য অজু শর্ত নয়। কারণ ডিজিটাল স্ক্রিনে প্রদর্শিত অক্ষরগুলো প্রচলিত অর্থে মুসহাফের স্থায়ী লিখিত অক্ষরের মতো নয়। তবে কোরআনের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য অজু অবস্থায় তেলাওয়াত করা অবশ্যই উত্তম।কোরআন স্পর্শের জন্য অজুর বাধ্যবাধকতা নিয়ে ফিকহি আলোচনা ও মতভেদ থাকলেও চার মাজহাবের জমহুর আলেম মুসহাফ স্পর্শের জন্য অজুকে শর্ত হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তাদের অবস্থানের পক্ষে ‘পবিত্র ব্যক্তি ছাড়া কেউ যেন কোরআন স্পর্শ না করে’- এই হাদিস, সাহাবায়ে কেরামের আমল এবং দীর্ঘ ফিকহি ঐতিহ্য রয়েছে।অন্যদিকে কিছু আলেম এ বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন এবং দলিলগুলোর ভিন্নতর ব্যাখ্যার ভিত্তিতে শিথিল মত পোষণ করেছেন। তবে মতভেদ সত্ত্বেও কোরআনের মর্যাদা রক্ষা, আল্লাহর কালামের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন এবং উম্মাহর অধিকাংশ আলেমের অনুসৃত আমলের আলোকে অজু অবস্থায় মুসহাফ স্পর্শ করাই অধিক নিরাপদ, উত্তম ও সতর্কতাপূর্ণ পন্থা।তথ্যসূত্র: সুরা ওয়াকিয়া: ৭৭-৭৯; মুয়াত্তা মালিক: ৪৬৮; দারাকুতনি: ৪৩১; আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ; আল-মাজমু: ২/৬৯-৮০; আল-মুগনি: ১/১৩৭-১৪১; আত-তালখিসুল হাবির: ১/১৩১; . মাজমুউল ফতোয়া: ২১/২৬৬; ইলামুল মুওয়াক্কিয়িন; আল-ফিকহুল ইসলামি ওয়া আদিল্লাতুহু; আল-মুহাল্লা; তাফসির ইবনে কাসির
গরম বাড়লে শুধু অস্বস্তিই বাড়ে না, হৃদযন্ত্রকেও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কাজ করতে হয়। হৃদস্বাস্থ্য নিয়ে কথা বললে সাধারণত ব্যায়াম, কোলেস্টেরল বা ধূমপানের বিষয় সামনে আসে। কিন্তু আবহাওয়ার তাপমাত্রাও হৃদযন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, এ বিষয়টি অনেকেরই জানা নেই।শরীর সবসময় নিজের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে। গরমের সময় এ কাজটি আরো কঠিন হয়ে যায়। শরীরের অতিরিক্ত তাপ বের করে দিতে হৃদযন্ত্রকে ত্বকের দিকে বেশি রক্ত পাঠাতে হয়। একইসঙ্গে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে পানি ও প্রয়োজনীয় লবণ বেরিয়ে যায়। এই ঘাটতি পূরণ না হলে রক্তের পরিমাণ কমে যেতে পারে এবং তখন হৃদযন্ত্রকে আরো বেশি পরিশ্রম করতে হয়।ভারতের নয়ডার কৈলাশ হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এস. কে. আগারওয়ালের মতে, গরমের সময় শরীর থেকে বেশি পানি ও লবণ বের হয়ে যাওয়ায় হৃদযন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। এ সময় অনেকেই বেশি প্যাকেটজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার খান, যেগুলোতে সাধারণত সোডিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকে। তার মতে, পানিশূন্যতা, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ এবং খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন মিলিয়ে হৃদযন্ত্রকে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি কাজ করতে হয়।তবে ভালো খবর হলো, কিছু স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস মেনে চললে এসব ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।শুধু পানি খেলেই হবে না, শরীরকে রাখতে হবে আর্দ্রঅনেকেই তৃষ্ণা পেলে তবেই পানি পান করেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশেষ করে প্রচণ্ড গরমে তৃষ্ণা সবসময় শরীরের পানির চাহিদার সঠিক সংকেত দেয় না।যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, পানিশূন্যতা হৃদ্যন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাও কমিয়ে দেয়। তাই গরমের দিনে নিয়মিত পানি ও অন্যান্য তরল পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়।শরীরে পানির ঘাটতি হলে রক্তের পরিমাণ কমে যায়। ফলে শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছে দিতে হৃদ্যন্ত্রকে বেশি কাজ করতে হয়। এ কারণে তৃষ্ণা লাগার অপেক্ষা না করে সারাদিন অল্প অল্প করে পানি পান করা ভালো।তরমুজ, শসা, টমেটো, কমলা, বাঙ্গি ও স্ট্রবেরির মতো পানিসমৃদ্ধ ফল ও সবজিও শরীরকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এগুলো প্রয়োজনীয় পুষ্টিও জোগায়।মৌসুমি ফল ও সবজি হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারীগরমের মৌসুমে বাজারে নানা ধরনের ফল ও সবজি পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব খাবার শুধু সুস্বাদুই নয়, হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। তাজা ফল ও সবজিতে থাকা পটাশিয়াম, আঁশ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তনালি ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং শরীরের প্রদাহ কমায়। বিশেষ করে পটাশিয়াম শরীরে সোডিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ফল ও সবজি খাওয়ার অভ্যাস হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।ডা. আগারওয়ালের মতে, বেরি, পিচ, বিভিন্ন ধরনের তরমুজ, শাকসবজি, বেল পেপার ও টমেটোর মতো মৌসুমি খাবারে প্রচুর ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা হৃদস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।প্রোটিনের উৎসও গুরুত্বপূর্ণপ্রোটিন খাওয়া জরুরি, তবে সেটি কোন উৎস থেকে আসছে, তা আরো গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রক্রিয়াজাত মাংস ও চর্বিযুক্ত লাল মাংসে বেশি স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও সোডিয়াম থাকে। অন্যদিকে মাছ, ডাল, ছোলা, শিম, টোফু ও কম চর্বিযুক্ত দুধজাত খাবার হৃদস্বাস্থ্যের জন্য তুলনামূলক ভালো।প্রোটিন শক্তি জোগানো ও পেশি ঠিক রাখতে সাহায্য করলেও হৃদস্বাস্থ্যের জন্য স্বাস্থ্যকর উৎস থেকে প্রোটিন নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে চামড়াবিহীন মুরগির মাংস, মাছ, ডাল ও কম চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার ভালো বিকল্প হতে পারে।অতিরিক্ত লবণ এড়িয়ে চলুনগরমের দিনে অনেকেই চিপস, ফাস্টফুড বা প্যাকেটজাত খাবার খেতে পছন্দ করেন। কিন্তু এসব খাবারে সাধারণত সোডিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ রক্তচাপ বাড়াতে পারে। আর উচ্চ রক্তচাপ হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের বড় ঝুঁকিগুলোর একটি। গরমের সময় মানুষ সহজে পাওয়া যায় এমন খাবারের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ে। কিন্তু এসব খাবারে অনেক সময় অতিরিক্ত লবণ ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি থাকে, যা হৃদস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।সব চর্বি ক্ষতিকর নয়একসময় মনে করা হতো সব ধরনের চর্বিই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তবে এখন গবেষণা বলছে, চর্বির ধরনটাই আসল বিষয়।অলিভ অয়েল, অ্যাভোকাডো, বাদাম ও বিভিন্ন বীজে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। অন্যদিকে ট্রান্স ফ্যাট ও অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট ধমনিতে চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।মিষ্টি খাবার খেতে পারেন, তবে পরিমিতআইসক্রিম, ঠান্ডা পানীয় বা স্মুদি গরমের দিনের জনপ্রিয় খাবার। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এগুলো পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই, শুধু পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ এসব খাবারে অনেক সময় অতিরিক্ত চিনি ও ক্যালরি থাকে। বিকল্প হিসেবে তাজা ফলের সরবত, ফ্রোজেন ইয়োগার্ট বা ফলের স্মুদি বেছে নেওয়া যেতে পারে।সহজ খাবারই হতে পারে সবচেয়ে ভালোগরমের কারণে অনেকেই দীর্ঘ সময় রান্নাঘরে থাকতে চান না। এতে অনেক সময় অস্বাস্থ্যকর খাবারের দিকে ঝোঁক বাড়ে। এ সময় কম রান্নার বা সহজে তৈরি করা যায় এমন স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়া ভালো। যেমন—ডাল বা কুইনোয়া দিয়ে সালাদ, ঠান্ডা স্যুপ কিংবা হালকা গ্রিল করা মাছ ও সবজি।এ মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি পান, মৌসুমি ফল ও সবজি খাওয়া, স্বাস্থ্যকর প্রোটিন ও ভালো চর্বি বেছে নেওয়া এবং লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্যাভ্যাসে ছোট ছোট ইতিবাচক পরিবর্তনই দীর্ঘমেয়াদে বড় উপকার এনে দিতে পারে। এসব অভ্যাস মেনে চললে গরমের সময়ও হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখা সম্ভব।সূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া
২০৫০ সালের মধ্যে চরম তাপমাত্রার ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের শীর্ষ ৬টি দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।সোমবার ২৬ জানুয়ারি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাতে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার সাসটেইনেবিলিটি’-তে এই গবেষণাটি প্রকাশ হয়।ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার অব্যাহত থাকলে আগামী ২৫ বছরের মধ্যে চরম তাপপ্রবাহে আক্রান্ত বৈশ্বিক জনসংখ্যার হার প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। শিল্প-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় যদি বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়, তবে চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ বিশ্বের ৪১ শতাংশ মানুষ (প্রায় ৩৭৯ কোটি) অসহনীয় তাপমাত্রার মধ্যে বসবাস করবে। ২০১০ সালে এই পরিস্থিতির শিকার জনগোষ্ঠীর হার ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ (১৫৪ কোটি)।