জাতীয় সংসদের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আমানউল্লাহ আমান।বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গঠনের প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম। পরে সংসদ তা গ্রহণ করে।কমিটির সভাপতি আমানউল্লাহ আমান ছাড়াও সদস্য হিসেবে রয়েছেন ইয়াসের খান চৌধুরী (ময়মনসিংহ-৯), মো. আশরাফ উদ্দিন (নরসিংদী-৫), মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল (জামালপুর-৩), মো. মজিবুর রহমান (গাজীপুর-১), নিলোফার চৌধুরী মনি (সংরক্ষিত মহিলা আসন-১০), ফাহমিদা হক (সংরক্ষিত মহিলা আসন-১৮), মো. শফিকুল ইসলাম (পটুয়াখালী-২) এবং মোসা. নাজমুন নাহার (সংরক্ষিত মহিলা আসন-৪০)।
দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এলএনজি আমদানি ও সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।সংসদে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারের মহেশখালীর গভীর সমুদ্রে কুতুবদিয়া এলাকায় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের বিষয়ে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। প্রস্তাবিত এই টার্মিনালের মাধ্যমে ডিসেম্বর ২০২৮ সালের মধ্যে এলএনজি সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী জানান, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশে এলএনজি আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। এর মাধ্যমে দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি আরও উন্নত করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।এদিকে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জ্বালানি চাহিদা পূরণে পায়রা ও মোংলা বন্দর এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে আরও দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তাব নিয়ে কাজ চলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জ্বালানি চাহিদা পূরণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এসব টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালগুলো স্থাপন করা হলে দেশের সামগ্রিক জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে। একই সঙ্গে গ্যাসের সংকটও অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।আজ বুধবার দুদকের জনসংযোগ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে বিভিন্ন সময় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ১৮৮ জন যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতি ও বদলি বাণিজ্যে প্রায় ৪ কোটি টাকার বেশি আর্থিক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে বলে জানা গেছে। ওই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উন্মোচনে প্রকাশ্যে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।এ বিষয়ে উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম বলেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বদলি বাণিজ্য, নিয়োগ, পদোন্নতি সংক্রান্ত অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় এই অভিযোগ অনুসন্ধানে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।অনুসন্ধানে দুর্নীতি দমন কমিশনের একজন উপপরিচালকের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে।অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন- সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুল আলম, যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মাসুম আহমেদ উপসচিব।দুদক কর্মকর্তা জানান, তাদের বিরুদ্ধে বদলি বাণিজ্য, নিয়োগ পদোন্নতি এবং পছন্দের ব্যক্তিদের পছন্দের জায়গায় পোস্টিং বা পদায়নের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। আকতারুল ইসলাম জানান, তাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগে অনুসন্ধান করা হচ্ছে সেগুলো হলো- ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল এবং পদায়ন করে ৭৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ১৫০ জন সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তারা পদোন্নতিতে দেড় কোটি টাকার দুর্নীতি এবং পদোন্নতির প্রাপ্তদের পছন্দের জায়গায় পদায়ন মোট দুই কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে।এসব অভিযোগ নথিপত্র যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেবে দুদক।
লিওনেল মেসির অবসরের সিদ্ধান্তে নাড়া খেয়েছে আর্জেন্টিনার ফুটবল অঙ্গন। এবার জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ও অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস।৩২ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার জানিয়েছেন, মেসির জাতীয় দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। একই সঙ্গে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।সংবাদ সম্মেলনে পারেদেস বলেন, জাতীয় দলের হয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে।নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি বলেন, সব কিছু মিলিয়েই বিষয়টি বেশ কঠিন। আমি আগেও যা বলেছি নিষেধাজ্ঞা, মেসির সিদ্ধান্ত... সবকিছু। পরিস্থিতি আগের মতো থাকবে কি না, জানি না। কোচের সঙ্গে এখনও কথা হয়নি। কথা বলব, এরপর কী সিদ্ধান্ত হয়, সেটাই দেখব।মেসির বিদায় মেনে নিতে পারছেন না পারেদেস। আর্জেন্টাইন তারকার লেগ্যাসির প্রশংসা করে তিনি বলেন, কখনও হাল না ছাড়া, স্বপ্নের পেছনে ছোটা এবং শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন পূরণ করে দেখানো এটাই মেসির সবচেয়ে বড় শিক্ষা।মেসিকে আবার আর্জেন্টিনার জার্সিতে দেখা যাবে কি না, সেই প্রশ্নেও আক্ষেপ ঝরেছে পারেদেসের কণ্ঠে।তিনি বলেন, ‘আমরা সব সময় তার সঙ্গে খেলতে চাই, তাকে পাশে চাই। কিন্তু তিনি এমন একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যেটা আমরা চাইনি।’বিশ্বকাপের ফাইনালই মেসির শেষ ম্যাচ হতে পারে এমন ইঙ্গিত আগেই সতীর্থদের দিয়েছিলেন বলেও জানান পারেদেস। তবে সেই সম্ভাবনার জন্যও তারা মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন না।পারেদেস বলেন, আমরা বিশ্বকাপের শেষ দিকে কথা বলেছিলাম, ফাইনালটাই হয়তো তার শেষ ম্যাচ হতে পারে। কিন্তু তারপরও আমরা প্রস্তুত ছিলাম না। কারণ আমাদের কাছে তিনি কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটা আলাদা করে বলার প্রয়োজন নেই।মেসির বিদায়ের পাশাপাশি পারেদেসের জাতীয় দল ছাড়ার ভাবনার পেছনে বড় কারণ হয়ে উঠেছে ফিফার নিষেধাজ্ঞাও। বিশ্বকাপ ফাইনালের পর স্পেনের এরিক গার্সিয়া ও গাভির সঙ্গে বিবাদে জড়ানোর ঘটনায় তাকে ১০ ম্যাচ নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। একই সঙ্গে করা হয়েছে ৯০ হাজার ডলার জরিমানা।তবে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শাস্তি বহাল থাকলে আগামী বেশ কয়েকটি ম্যাচে পারেদেসকে ছাড়াই খেলতে হবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।এরই মধ্যে ক্লাব ফুটবলে ফিরছেন পারেদেস। বুধবার কোপা আর্জেন্টিনার শেষ ষোলোয় ভেলেস সার্সফিল্ডের মুখোমুখি হবে তার ক্লাব বোকা জুনিয়র্স।মেসির বিদায়ের পর আর্জেন্টিনার আরেক অভিজ্ঞ মুখ পারেদেসও যদি জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ান, তাহলে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য সেটি হবে আরেকটি বড় ধাক্কা।
বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এমন অনেক জনপ্রিয় অভিনেত্রী রয়েছেন, যারা বাবা-মায়ের দেওয়া নামের পরিবর্তে ভিন্ন নামে চলচ্চিত্রে পরিচিতি পেয়েছেন। পর্দার সেই নামই সময়ের সঙ্গে হয়ে উঠেছে তাদের তারকা পরিচয়। এতটাই জনপ্রিয় হয়েছে এসব নাম যে, অনেক দর্শকই হয়তো জানেন না প্রিয় অভিনেত্রীর জন্মসূত্রে পাওয়া আসল নাম।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে বাংলা চলচ্চিত্রের কয়েকজন জনপ্রিয় অভিনেত্রীর পর্দার নাম ও আসল নাম তুলে ধরা হয়েছে। একনজরে দেখে নেওয়া যাক, নাম বদলে তারকা পরিচিতি পাওয়া অভিনেত্রীদের-শাবানাঢাকাই চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী শাবানার আসল নাম আফরোজা সুলতানা রত্না। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি বাংলা সিনেমার ইতিহাসে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। ‘শাবানা’ নামটিই শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠে তার স্থায়ী চলচ্চিত্র পরিচয়।ববিতাআন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা বরেণ্য অভিনেত্রী ববিতার আসল নাম ফরিদা আক্তার পপি। ষাটের দশক থেকে চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। বিশ্বখ্যাত নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেত’ চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছিলেন তিনি।কবরীবাংলা চলচ্চিত্রের ‘মিষ্টি মেয়ে’ হিসেবে পরিচিত কবরীর আসল নাম মীনা পাল। অভিনয়, সৌন্দর্য ও স্বতন্ত্র অভিনয়শৈলীর কারণে তিনি কয়েক দশক ধরে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন তিনি।রোজী আফসারীচলচ্চিত্রের পরিচিত মুখ রোজী আফসারীর আসল নাম শামীমা আক্তার বলে উল্লেখ করা হয়। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন এবং বাংলাদেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।দিতিজনপ্রিয় অভিনেত্রী দিতির আসল নাম পারভীন সুলতানা। আশি ও নব্বইয়ের দশকে তার অভিনীত বহু চলচ্চিত্র দর্শকপ্রিয়তা পায়। বড় পর্দার পাশাপাশি টেলিভিশন নাটকেও নিজের অভিনয় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি।মৌসুমীঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা মৌসুমীর আসল নাম আরিফা আক্তার জামান। নব্বইয়ের দশকে চলচ্চিত্রে অভিষেকের পর অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি তারকা খ্যাতি অর্জন করেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য সিনেমায় অভিনয় করে তিনি ঢালিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।শাবনূরঢাকাই সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় নায়িকা শাবনূরের আসল নাম শারমিন নাহিদ নূপুর। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে চলচ্চিত্রে এসে তিনি দ্রুত দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেন। বিশেষ করে রোমান্টিক ও পারিবারিক গল্পের সিনেমায় তার অভিনয় ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়।পূর্ণিমাচিত্রনায়িকা পূর্ণিমার আসল নাম দিলারা হানিফ রিতা। চলচ্চিত্রে অভিষেকের পর অভিনয় দক্ষতা ও সৌন্দর্যের কারণে তিনি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। সিনেমার পাশাপাশি বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠান উপস্থাপনাতেও তাকে দেখা গেছে।মাহিয়া মাহিসমসাময়িক ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মাহিয়া মাহির আসল নাম শারমিন আক্তার নিপা। চলচ্চিত্রে অভিষেকের পর বেশ কয়েকটি ব্যবসাসফল সিনেমায় অভিনয় করে তিনি নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন।পরীমণিবর্তমান প্রজন্মের আলোচিত অভিনেত্রী পরীমণির আসল নাম শামসুন্নাহার স্মৃতি। চলচ্চিত্রে কাজের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের কারণেও নিয়মিত আলোচনায় থাকেন তিনি।চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য নাম পরিবর্তনের ঘটনা নতুন নয়। অনেক সময় নামকে সহজ, শ্রুতিমধুর এবং দর্শকের কাছে সহজে মনে রাখার মতো করে তুলতে শিল্পীরা নতুন নাম গ্রহণ করেন। আবার কখনো নির্মাতা, প্রযোজক কিংবা চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরামর্শেও পরিবর্তন করা হয় নাম।তবে মজার বিষয় হলো, সময়ের সঙ্গে এসব পর্দার নাম এতটাই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে যে, দর্শকের কাছে সেটিই হয়ে গেছে অভিনেত্রীদের প্রকৃত পরিচয়। আফরোজা সুলতানা রত্না থেকে শাবানা, ফরিদা আক্তার পপি থেকে ববিতা, মীনা পাল থেকে কবরী কিংবা শামসুন্নাহার স্মৃতি থেকে পরীমণি নাম বদলের মধ্য দিয়েই তারা পেয়েছেন নতুন এক তারকা পরিচয়।আজ তাদের জন্মনাম অনেকের কাছেই অজানা হলেও, চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত নামগুলোই রয়ে গেছে দর্শকের স্মৃতি ও ভালোবাসায়।
দেশের বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে বেড়েছে ৫ টাকা। এখন থেকে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হবে ২০৪ টাকায়, যা আগে ছিল ১৯৯ টাকা। তবে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে বোতলজাত ভোজ্যতেলের নতুন দাম সমন্বয় করা হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নতুন এ দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। তবে খুচরা বাজারে ক্ষেত্রবিশেষে ভোজ্যতেলের দাম ও সরবরাহে কিছুটা ভিন্নতা দেখা যেতে পারে।
১৪ ঘন্টা আগে
জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গবেষণা সংস্থাগুলো পবিত্র রমজান মাস ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ করেছে। হিসাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালের পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে পারে ৮ ফেব্রুয়ারি (সোমবার)। তবে রমজান ও ঈদুল ফিতরের চূড়ান্ত তারিখ সম্পূর্ণভাবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করবে।মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাদ্যম গালফ নিউজ এ তথ্য জানায়। প্রতিবেদনে জানানো হয়, হিজরি বর্ষপঞ্জি চন্দ্রভিত্তিক হওয়ায় প্রতিবছর রমজান ১০ থেকে ১২ দিন এগিয়ে আসে। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৭ সালের রমজান আগের বছরের চেয়ে প্রায় ১০-১১ দিন আগে শুরু হতে পারে।জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) রমজান শুরু হতে পারে। ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় নতুন চাঁদ দেখা গেলে সেই রাতেই প্রথম তারাবি এবং পরদিন থেকে রোজা শুরু হবে। তবে চূড়ান্ত তারিখ চাঁদ দেখার ওপরই নির্ভর করবে। রমজান ২৯ বা ৩০ দিনের হয়ে থাকে এবং শাওয়ালের চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হয়।বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১০ মার্চ (বুধবার) ঈদুল ফিতর হতে পারে।ইসলামী বর্ষপঞ্জির নবম মাস রমজান মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এ মাসেই মহানবী (সা.)-এর ওপর পবিত্র কোরআন নাজিল শুরু হয়। রমজানে মুসলমানরা সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও ধূমপান থেকে বিরত থেকে রোজা পালন করেন এবং নামাজ, তিলাওয়াত, দান-সদকা ও আত্মসংযমের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।২০২৭ সালের রমজানকে সামনে রেখে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই মুসলিম দেশগুলো মসজিদ ও জনসেবামূলক কাজের প্রস্তুতি নেবে। পাশাপাশি, ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ চাঁদ দেখার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ঘোষণা করবে।জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গণনা অনুযায়ী ৮ ফেব্রুয়ারি রমজান শুরুর সম্ভাব্য তারিখ হলেও, এর চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের ওপরই নির্ভর করে-যেটি মূলত চাঁদ দেখার বিষয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
আমাদের মধ্যে অনেকেই এক কাপ ব্ল্যাক কফি ছাড়া সকাল শুরু করতে পারেন না। এটি সকালের নাস্তার আগে আমাদের সজাগ ও মনোযোগী হতে সাহায্য করতে পারে। খাওয়ার আগে কফি পান করা এবং খাওয়ার পরে কফি পান করা এক জিনিস নয়। খালি পেটে ব্ল্যাক কফি? হ্যাঁ, বেশিরভাগ সুস্থ মানুষই পারেন, কিন্তু এমন কিছু মানুষ আছেন যাদের শরীর এটি সহ্য করতে পারে না। কফি পাকস্থলীর অ্যাসিডও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং কারও কারও পেটে অস্বস্তি বা রিফ্লাক্সের কারণ হতে পারে।খালি পেটে ব্ল্যাক কফি পান করলে কী হয়?ব্ল্যাক কফি স্বাভাবিকভাবেই অ্যাসিডিক। খাওয়ার আগে এটি পান করলে এর প্রভাব প্রশমিত করার জন্য পাকস্থলীতে কোনো খাবার থাকে না। বেশিরভাগ সুস্থ মানুষের জন্য এটি পরিমিত পরিমাণে পান করা ক্ষতিকর নয়। কিন্তু এটি সবার জন্য ভালো অভ্যাস নয়, বিশেষ করে যারা অ্যাসিডিটির ঝুঁকিতে আছেন। খালি পেটে ব্ল্যাক কফি পান করাকে দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করার আগে এর কারণ বোঝা গুরুত্বপূর্ণ।কফি পাকস্থলীকে উত্তেজিত করে অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরি করতে পারে। কেউ কেউ জ্বালাপোড়া বা পেটে অস্বস্তি অনুভব করতে পারেন। ক্যাফেইন অন্ননালীর নিচের স্ফিংটার পেশীকেও শিথিল করে দিতে পারে। এই পেশীটি পাকস্থলীর অ্যাসিডকে খাদ্যনালীতে ফিরে আসতে বাধা দেয়। সংবেদনশীল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি অ্যাসিড রিফ্লাক্সের একটি কারণ হতে পারে।খালি পেটে ব্ল্যাক কফি পান করলে কি অ্যাসিডিটি হতে পারে?কারও কারও ক্ষেত্রে হতে পারে, বিশেষ করে যারা পাকস্থলীর অ্যাসিডের প্রতি সংবেদনশীল, তাদের ক্ষেত্রে কফি অ্যাসিডিটি বা রিফ্লাক্সের উপসর্গ বাড়িয়ে তুলতে পারে। নিউট্রিয়েন্টস-এ প্রকাশিত ২০২২ সালের একটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, কফি পাকস্থলীর অ্যাসিড এবং গ্যাস্ট্রিনের উৎপাদনকে উদ্দীপিত করতে পারে, যা হজম প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে, অ্যাসিড রিফ্লাক্সের ওপর এর প্রভাব ততটা স্পষ্ট নয়।কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে, কফি রিফ্লাক্সের উপসর্গ বাড়িয়ে তুলতে পারে, আবার অন্য গবেষণায় এর কোনো উল্লেখযোগ্য যোগসূত্র পাওয়া যায়নি। পর্যালোচনাটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বেশিরভাগ গবেষণায় কফি পেপটিক আলসারের ঝুঁকি বাড়ায় বলে দেখা যায়নি। গবেষকরা জোর দিয়ে বলেছেন যে ব্যক্তিভেদে প্রতিক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে। কফির ধরন, রোস্টিং, প্রস্তুত প্রণালী এবং এটি খাবারের সঙ্গে পান করা হচ্ছে কি না, এই ধরনের বিষয়গুলো এর প্রভাবকে প্রভাবিত করতে পারে।কাদের সতর্ক থাকা উচিত?সকালের নাস্তায় এক কাপ ব্ল্যাক কফি পান করা সবারই বাদ দেওয়া উচিত নয়। তবে কিছু ব্যক্তিকে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হতে পারে। যাদের অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা জিইআরডি (GERD) আছে তাদের এই অভ্যাস বাদ দিতে হবে, কারণ সকালের কফি এই সমস্যা বাড়িয়ে তুলতে পারে। সংবেদনশীল পাকস্থলী বা গ্যাস্ট্রাইটিস থাকলেও বাদ দিতে হবে, কারণ তখন খালি পেটে কফি অস্বস্তির কারণ হতে পারে। খাবার ছাড়া গ্রহণ করলে ক্যাফেইনকে আরও শক্তিশালী মনে হতে পারে এবং এর ফলে উদ্বেগ বা অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। কফি পানের পর যদি সমস্যাগুলো নিয়মিত ফিরে আসে, তাহলে কোল্ড কফি, খাবারের সঙ্গে কফি অথবা কফি পানের সময় পরিবর্তন করার কথা বিবেচনা করতে পারেন।খালি পেটে ব্ল্যাক কফি পান করার কি কোনো উপকারিতা আছে?যারা কফি ভালোভাবে সহ্য করতে পারেন, তাদের জন্য এর কিছু সাধারণ উপকারিতা থাকতে পারে। চিনি, দুধ বা ক্রিম ছাড়া পান করলে ব্ল্যাক কফিতে ক্যালোরি খুব কম থাকে। ক্যাফেইন সতর্কতা এবং মানসিক স্বচ্ছতা বাড়াতেও সাহায্য করতে পারে, যে কারণে অনেকেই সকালে এটি পছন্দ করেন।কেউ কেউ মনে করেন যে কফি সকালে ঘুম থেকে উঠেই সতর্কতা এবং মানসিক স্বচ্ছতা জাগিয়ে তুলতে সাহায্য করে। হজমের সংবেদনশীলতা নেই এমন সুস্থ মানুষদের জন্য পরিমিত পরিমাণে পান করলে ব্ল্যাক কফি সাধারণত কোনো দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি করে না। তবে খালি পেটে কফি পান করাকে কোনো বিশেষ স্বাস্থ্য বা ওজন কমানোর কৌশল হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
২০৫০ সালের মধ্যে চরম তাপমাত্রার ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের শীর্ষ ৬টি দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।সোমবার ২৬ জানুয়ারি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাতে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার সাসটেইনেবিলিটি’-তে এই গবেষণাটি প্রকাশ হয়।ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার অব্যাহত থাকলে আগামী ২৫ বছরের মধ্যে চরম তাপপ্রবাহে আক্রান্ত বৈশ্বিক জনসংখ্যার হার প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। শিল্প-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় যদি বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়, তবে চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ বিশ্বের ৪১ শতাংশ মানুষ (প্রায় ৩৭৯ কোটি) অসহনীয় তাপমাত্রার মধ্যে বসবাস করবে। ২০১০ সালে এই পরিস্থিতির শিকার জনগোষ্ঠীর হার ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ (১৫৪ কোটি)।
এখন বাড়িতে বেশিরভাগ মানুষই ঐতিহ্যবাহী পুরনো বাল্ব বা সিএফএল বাদ দিয়ে আলোকসজ্জার জন্য এলইডি বাল্ব কিংবা এলইডি টিউবলাইট ব্যবহার করতে শুরু করেছেন। এর মূল কারণ হলো এগুলো পুরনো দিনের প্রযুক্তির তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ খরচ করে ঘর আলোকিত করতে পারে। তবে সাধারণ মানুষের মনে প্রায়ই একটি প্রশ্ন জাগে যে, এলইডি বাল্ব এবং এলইডি টিউবলাইটের মধ্যে আসলে কোনটিতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় বেশি হয় এবং ঘরের কোন অংশের জন্য ঠিক কোনটি ব্যবহার করা শ্রেয়। এই দুইটি আধুনিক আলোক উৎসের বিদ্যুৎ খরচ, আলো ছড়ানোর ক্ষমতা এবং দামের তারতম্য সম্পর্কে বিস্তারিত হিসাব জেনে নেওয়া যাক।সাধারণত এলইডি বাল্ব এবং এলইডি টিউবলাইটের বিদ্যুৎ খরচের পরিমাণ ভিন্ন হয়ে থাকে, কারণ দুইটির আলো দেওয়ার ক্ষমতা ও ক্ষেত্র আলাদা প্রকৃতির। একটি সাধারণ এলইডি বাল্ব সাধারণত সাত থেকে বারো ওয়াটের হয়ে থাকে, পক্ষান্তরে এলইডি টিউবলাইট সচরাচর আঠারো থেকে বাইশ ওয়াটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। সে হিসেবে একটি টিউবলাইট এককভাবে বাল্বের চেয়ে কিছুটা বেশি বিদ্যুৎ খরচ করতে পারে ঠিকই, তবে একটিমাত্র টিউবলাইট পুরো ঘরকে অনেক বেশি সুন্দর ও ভালোভাবে আলোকিত করতে সক্ষম। এলইডি টিউবলাইটগুলো লম্বা আকৃতির হয় এবং এর আলো চারদিকে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে। যে কারণে বড় আকৃতির ঘর, রান্নাঘর বা বসার ঘরের জন্য টিউবলাইট অত্যন্ত উপযোগী। একটি ২০ ওয়াটের টিউবলাইট অনায়াসেই একটি বড় ঘর আলোকিত করতে পারে।অন্যদিকে এলইডি বাল্ব সাধারণত গোলাকার আকৃতির হয়ে থাকে এবং এর আলো একটি নির্দিষ্ট দিকে বেশি তীব্রভাবে ছড়ায়। ফলে একটি মাঝারি বা বড় ঘরে পর্যাপ্ত আলো পেতে হলে একত্রে দুই থেকে তিনটি বাল্ব জ্বালানোর প্রয়োজন হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি একটি ছোট বা মাঝারি ঘরের জন্য একটি নির্দিষ্ট ওয়াটের টিউবলাইট ব্যবহার করেন, তবে তা কম বিদ্যুৎ খরচ করে পুরো ঘরে সমানভাবে আলো ছড়াতে পারে। কিন্তু এর পরিবর্তে যদি একাধিক বাল্ব ব্যবহার করতে হয়, তবে মোট বিদ্যুৎ খরচ অনেক সময় টিউবলাইটের চেয়ে বেশি হয়ে দাঁড়ায়। সেদিক থেকে বিচার করলে ঘরের আকার ও প্রয়োজনীয়তার ওপর নির্ভর করে টিউবলাইট অনেক সময় কম বিদ্যুৎ খরচে অনেক বেশি সুবিধা প্রদান করে।