শেরপুরে সংঘটিত সাম্প্রতিক সহিংসতায় জামায়াতে ইসলামীর এক রাজনৈতিক কর্মীর মৃত্যুতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। সহিংসতার ফলে প্রাণহানি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং অত্যন্ত দুঃখজনক।বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি সরকারের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।বলা হয়, জাতীয় নির্বাচন আর মাত্র দুই সপ্তাহ দূরে থাকাকালে সরকার বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামসহ সব রাজনৈতিক দলের প্রতি দায়িত্বশীল নেতৃত্ব প্রদর্শন এবং তাদের সমর্থকদের মধ্যে সংযম নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণহানির কোনো স্থান নেই।বিবৃতিতে বলা হয়, শেরপুরে সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে জেলার সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।সব রাজনৈতিক দল, নেতা এবং নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত সবার প্রতি শান্তি বজায় রাখা, আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক উপায়ে ভোটারদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। শান্ত পরিবেশ, শৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক আচরণের ওপরই জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভরশীল বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়।আরও বলা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বুধবার ২৮ জানুয়ারি সকালে ভারতের মহারাষ্ট্রের বারামতিতে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন। বারামতি বিমানবন্দরে অবতরণের চেষ্টার সময় উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়।দুর্ঘটনায় বর্ষীয়ান এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ারের ভাতিজা ও মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারসহ আরও চারজন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে পাইলট ও অজিত পাওয়ারের নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়েছেন। ওই দিন মহারাষ্ট্রের আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে নিজের শহর বারামতিতে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যাচ্ছিলেন তারা।বিমানের নজরদারি করা কয়েকটি সংস্থার তথ্যমতে, ওড়ার ২৪ মিনিটের মাথায় হঠাৎ সংকেত পাঠানো বন্ধ করে দেয় বিমান। পরে অবশ্য কয়েক মিনিটের মধ্যে আবারও সংকেত পাঠানো হয়।ফ্লাইটরাডার ২৪’-এর তথ্যমতে, অজিতের বিমানটি প্রথমবারের চেষ্টায় বারামতির রানওয়েতে নামতে পারেনি। এরপর একবার ঘুরে ফের অবতরণের চেষ্টা করেছিল। পরে ৮টা ৪৩ মিনিট থেকে ওই বিমানের সিগন্যাল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, ওই সময়েই বিমানটি ভেঙে পড়েছে।জানা গেছে, যে জায়গা থেকে বিমানটি সংকেত পাঠানো বন্ধ করেছিল সেটি মূল অবতরণস্থল বারামতি বিমানবন্দর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে। বারামতি বিমানবন্দরের ম্যানেজার শিবাজি তাওয়াড়ে জানান, অবতরণের সময়ে রানওয়ের থেকে কিছুটা দূরে ভেঙে পড়ে বিমানটি। মাটিতে আছড়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায়।
বুধবার ২৮ জানুয়ারি সকালে ভারতের মহারাষ্ট্রের বারামতিতে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন। বারামতি বিমানবন্দরে অবতরণের চেষ্টার সময় উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়।দুর্ঘটনায় বর্ষীয়ান এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ারের ভাতিজা ও মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারসহ আরও চারজন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে পাইলট ও অজিত পাওয়ারের নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়েছেন। ওই দিন মহারাষ্ট্রের আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে নিজের শহর বারামতিতে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যাচ্ছিলেন তারা।বিমানের নজরদারি করা কয়েকটি সংস্থার তথ্যমতে, ওড়ার ২৪ মিনিটের মাথায় হঠাৎ সংকেত পাঠানো বন্ধ করে দেয় বিমান। পরে অবশ্য কয়েক মিনিটের মধ্যে আবারও সংকেত পাঠানো হয়।ফ্লাইটরাডার ২৪’-এর তথ্যমতে, অজিতের বিমানটি প্রথমবারের চেষ্টায় বারামতির রানওয়েতে নামতে পারেনি। এরপর একবার ঘুরে ফের অবতরণের চেষ্টা করেছিল। পরে ৮টা ৪৩ মিনিট থেকে ওই বিমানের সিগন্যাল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, ওই সময়েই বিমানটি ভেঙে পড়েছে।জানা গেছে, যে জায়গা থেকে বিমানটি সংকেত পাঠানো বন্ধ করেছিল সেটি মূল অবতরণস্থল বারামতি বিমানবন্দর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে। বারামতি বিমানবন্দরের ম্যানেজার শিবাজি তাওয়াড়ে জানান, অবতরণের সময়ে রানওয়ের থেকে কিছুটা দূরে ভেঙে পড়ে বিমানটি। মাটিতে আছড়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায়।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ঠিক আগে যুক্তরাষ্ট্র ক্রিকেট দলে বড় ধাক্কা এলো। অভিজ্ঞ ব্যাটার অ্যারন জোন্সকে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে (আইসিসি)। দুর্নীতিবিরোধী বিধির একাধিক ধারায় অভিযোগ ওঠায় তাকে আপাতত মাঠের বাইরে থাকতে হচ্ছে।আইসিসি জানিয়েছে, জোন্সের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি ধারায় বিধিভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগের জবাব দিতে তাকে ১৪ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি কোনো ধরনের ক্রিকেট অংশ নিতে পারবেন না।৩১ বছর বয়সী এই ব্যাটার শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র দলের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ক্যাম্পে ছিলেন। ওই ক্যাম্পে থাকা ১৮ জন ক্রিকেটারের মধ্য থেকে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য চূড়ান্ত ১৫ সদস্যের দল গঠনের কথা ছিল। সাময়িক নিষেধাজ্ঞার ফলে আপাতত সেই দলে জোন্সের থাকা আর সম্ভব হচ্ছে না।আইসিসির তথ্যমতে, জোন্সের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বড় অংশই ২০২৩–২৪ মৌসুমে বার্বাডোজে অনুষ্ঠিত বিম-১০ টুর্নামেন্টকে ঘিরে, যা ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের (সিডব্লিউআই) অধীনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পাশাপাশি দুটি অভিযোগ আন্তর্জাতিক ম্যাচ সংশ্লিষ্ট, যা আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী কোডের আওতায় পড়েছে।আইসিসি জানিয়েছে, এই মামলা একটি বৃহত্তর তদন্তের অংশ। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য ব্যক্তি বা পক্ষের বিরুদ্ধেও অতিরিক্ত অভিযোগ আনা হতে পারে।
বহুজাতিক কোম্পানি সকার ট্রেডিং এসএ থেকে এলএনজি আনার জন্য জিটুজি সরকার-সরকার চুক্তি করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। যদিও বিগত সরকারের আমলে দরপত্র ছাড়া এমন চুক্তির সমালোচনা করা হয়েছিল, এবারও ঠিক একইভাবে দরপত্র ছাড়াই এ কোম্পানিকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এতে করে খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, এবং জ্বালানি বিভাগের পক্ষ থেকেও সম্ভাব্য ঝুঁকি, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক প্রভাব খতিয়ে দেখতে পেট্রোবাংলাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।জানা গেছে, সম্প্রতি উন্নয়ন-২ শাখা থেকে উপসচিব আহমেদ জিয়াউর রহমান স্বাক্ষরিত একটি চিঠি ১৯ জানুয়ারি পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়। সেখানে বলা হয়, সুইজারল্যান্ডের জেনেভাভিত্তিক সকার ট্রেডিং এসএ থেকে স্বল্পমেয়াদে এলএনজি আমদানি-সংক্রান্ত প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষত কোম্পানিটির অতীত কর্মকাণ্ড, আন্তর্জাতিক মহলে উত্থাপিত অভিযোগ এবং বাংলাদেশে বাপেক্সের সঙ্গে চলমান বিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।তথ্য অনুযায়ী, সকার ট্রেডিং এসএ মূলত আজারবাইজানের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল ও গ্যাস কোম্পানি সকারের একটি বাণিজ্যিক শাখা। যদিও প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়, প্রকৃতপক্ষে এটি আজারবাইজানের মালিকানাধীন। ‘সকার’ নামটি এসেছে স্টেট অয়েল কোম্পানি অব দ্য রিপাবলিক অব আজারবাইজান থেকে। সুইজারল্যান্ড কোনো তেল-গ্যাস উৎপাদনকারী দেশ নয়, তাই দেশটির মাধ্যমে এ চুক্তি প্রক্রিয়া নিয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছেন।২০১৭ সালে বাপেক্সের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, সকারের তিনটি গ্যাস কূপ খনন করার কথা ছিল খাগড়াছড়ির দক্ষিণ সেমুতাং-১, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ-৪ ও জামালপুরের মাদারগঞ্জ-১। এর মধ্যে কেবল সেমুতাং-১ কূপ খনন করে কোম্পানিটি, কিন্তু বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস পাওয়া যায়নি। ওই কূপের জন্য ১৪২ কোটি টাকা পরিশোধ করে বাপেক্স। বাকি দুটি কূপ নিয়ে চুক্তির বাইরে অগ্রিম অর্থ দাবি করায় জটিলতা তৈরি হয়। পরে ২০১৯ সালে সকার নিজে থেকেই চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দেয়। ২০২০ সালে তারা সিঙ্গাপুর ইন্টারন্যাশনাল আরবিট্রেশন সেন্টারে বাপেক্সের বিরুদ্ধে মামলা করে এবং প্রায় ৮৮৩ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে। মামলার আংশিক রায় সকারের পক্ষে গেছে, যার বিরুদ্ধে বাপেক্স আপিল করেছে।
দীর্ঘ বিরতি ভেঙে বড় পর্দায় ফিরেছেন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। বর্তমানে দুটি সিনেমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত এই নায়িকা। এরই মধ্যে এলো নতুন খবর; নতুন ওয়েব ফিল্ম ‘শিকার’-এ অভিনয় করতে যাচ্ছেন ঢালিউড কুইন অপু বিশ্বাস।জানা গেছে ওয়েব ফিল্মটি পরিচালনা করছেন কামরুজ্জামান রোমান। ইতোমধ্যে এই ওয়েব ফিল্মটির প্রি-প্রোডাকশনের কাজ শেষ হয়েছে। খুব শিগগিরই শুরু হবে শুটিং। এক বিজ্ঞপ্তিতে পরিচালক জানান, অপু বিশ্বাসকে নিয়ে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য একটি ভিন্নধর্মী গল্পে কাজ করতে নেমেছি আমরা।শিকার’-এর শুটিং হবে নেপালে। আগামী মার্চ মাসে পুরো টিম নিয়ে সেখানে যাবেন নির্মাতা রোমান। নেপালেই সিনেমার বড় অংশের দৃশ্যধারণ করা হবে বলেন তিনি ।
মাত্র ২৩ বয়স। কিছুদিন আগেও কোনো দলে ছিলেন না ট্রিনিটি রডম্যান। অথচ সেই রডম্যানই এবার নতুন এক চুক্তি করে রীতিমতো গোটা ফুটবল দুনিয়াকেই চমকে দিলেন। এমন এক চুক্তিস্বাক্ষর করলেন যার মাধ্যমে নারী ফুটবলে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি আয় করা ফুটবলার এখন তিনি।গত ৩১ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নারী সুপার লিগের (এনডব্লুএসএল) ওয়াশিংটন স্পিরিটের সঙ্গে রডম্যানের আগের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। তখন থেকেই হয়ে যান ফ্রি এজেন্ট।এরপর গতকাল শুক্রবারই ব্রেকিং খবর দেন তিনি। তার সঙ্গে এদিন ওয়াশিংটন স্পিরিট তিন বছরের নতুন চুক্তি করে। তবে কত আয় করবেন, সে ব্যাপারে স্পষ্ট কিছু না জানালেও ইএসপিএন, দ্য অ্যাথলেটিক, আল জাজিরাসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে জানা গেছে, নতুন চুক্তিতে বোনাসসহ প্রত্যেক বছর ২০ লাখ ডলার পাবেন ট্রিনিটি। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। নতুন চুক্তি অনুযায়ী ২০২৮ সাল পর্যন্ত ওয়াশিংটন স্পিরিটের হয়ে খেলবেন তিনি।শৈশবের ক্লাবের সঙ্গে নতুন চুক্তির পর ট্রিনিটি বেশ উচ্ছ্বসিত। বিশ্বের সর্বোচ্চ আয় করা নারী ফুটবলার বলেন, ‘আমি অনেক সৌভাগ্যবান। এটা অনেক বড় ঘটনা। আগের সবকিছু বদলে যাবে।’ ট্রিনিটি সাবেক বাস্কেটবল তারকা ডেনিস রডম্যানের মেয়ে। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ওয়াশিংটন স্পিরিটের হয়ে খেলছেন তিনি
বুধবার ২১ জানুয়ারি সকালে আত্মসমর্পণ করতে ট্রাইব্যুনালে যান মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রথম ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ।গত বছর নিজের সাজা স্থগিতের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন আবুল কালাম আজাদ। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী এই আবেদন করেনএর আগে ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান তাকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন।আদেশে তার বিরুদ্ধে প্রদত্ত দণ্ডাদেশ আদালতে আত্মসমর্পণপূর্বক আপিল দায়েরের শর্তে এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়।মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মোট ৮টি মানবতাবিরোধী অপরাধের তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। তার মধ্যে ৭টিতেই তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। ৩টিতে তার মৃত্যুদণ্ড, ৪টিতে কারাদণ্ড দেওয়ার সুযোগ থাকলেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার কারণে সেসব অপরাধের বিষয়ে দণ্ডাদেশ দেয়নি ট্রাইব্যুনাল। অন্য একটি অভিযোগ প্রসিকিউশন প্রমাণ করতে না পারায় সেটি খারিজ করা হয়।আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালে ১৪ জনকে হত্যা, তিন নারীকে ধর্ষণ, ৯ জনকে অপহরণ, ১০ জনকে আটক রাখা, পাঁচ বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং ১৫টি বাড়ির মালামাল লুণ্ঠনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়।ঘোষিত এ রায়ের মধ্য দিয়ে যুদ্ধাপরাধের প্রথম কোনো মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। তবে পলাতক থাকায় তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা সম্ভব হয়নি। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আগেই পালিয়ে ভারত হয়ে তিনি পাকিস্তানে চলে যান বলে জানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফুটবল প্রতীক পেয়েছেন ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা।বুধবার ২১ জানুয়ারি দুপুরে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয় থেকে তিনি প্রতীক সংগ্রহ করেন।প্রতীক পেয়ে তাসনিম জারা বলেন, গত কয়েকদিন ধরে ঢাকা-৯ আসনের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলছিলাম, খিলগাঁও, সবুজবাগ, মুগদা থানায় অনেকের সঙ্গে কথা হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই কেউ না কেউ জিজ্ঞেস করেছেন যে, নির্বাচনের মার্কাটা কী? কোন মার্কায় তারা ব্যালট পেপারে দেখতে পারবেন, আমাকে যদি সমর্থন করতে চান। সেই প্রশ্নের পরিষ্কার একটা উত্তর আমরা পেয়েছি।তিনি আরও বলেন, আমি নির্বাচনে ফুটবল মার্কায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। আগামীকাল থেকে নির্বাচনী প্রচারণার ক্যাম্পেইন আমরা শুরু করব।
মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আবুল হাশেম। সোমবার ১৯ জানুয়ারি বিকেলে বিক্ষোভ মিছিল শেষে বক্তৃতা করার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয় বেসরকারি মান্নান হার্ট ফাউন্ডেশনে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।তার আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে ঘটনাস্থলে।কুষ্টিয়া শহর জামায়াতের আমীর এনামুল হক বলেন, 'আমির হামজাকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পৌরসভা চত্বর থেকে সদর উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি শহরের সড়ক প্রদক্ষিণ করে একতারা মোড় এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। সেখানে জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মাওলানা আবুল হাশেম বক্তৃতা দিচ্ছিলেন। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ বোধ করেন। এ সময় তাকে নিকটস্থ একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তিনি হার্ট অ্যাটাক করেছিলেন বলে জানান জামায়াতের এই নেতা'।
শেরপুরে সংঘটিত সাম্প্রতিক সহিংসতায় জামায়াতে ইসলামীর এক রাজনৈতিক কর্মীর মৃত্যুতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। সহিংসতার ফলে প্রাণহানি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং অত্যন্ত দুঃখজনক।বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি সরকারের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।বলা হয়, জাতীয় নির্বাচন আর মাত্র দুই সপ্তাহ দূরে থাকাকালে সরকার বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামসহ সব রাজনৈতিক দলের প্রতি দায়িত্বশীল নেতৃত্ব প্রদর্শন এবং তাদের সমর্থকদের মধ্যে সংযম নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণহানির কোনো স্থান নেই।বিবৃতিতে বলা হয়, শেরপুরে সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে জেলার সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।সব রাজনৈতিক দল, নেতা এবং নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত সবার প্রতি শান্তি বজায় রাখা, আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক উপায়ে ভোটারদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। শান্ত পরিবেশ, শৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক আচরণের ওপরই জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভরশীল বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়।আরও বলা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ঠিক আগে যুক্তরাষ্ট্র ক্রিকেট দলে বড় ধাক্কা এলো। অভিজ্ঞ ব্যাটার অ্যারন জোন্সকে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে (আইসিসি)। দুর্নীতিবিরোধী বিধির একাধিক ধারায় অভিযোগ ওঠায় তাকে আপাতত মাঠের বাইরে থাকতে হচ্ছে।আইসিসি জানিয়েছে, জোন্সের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি ধারায় বিধিভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগের জবাব দিতে তাকে ১৪ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি কোনো ধরনের ক্রিকেট অংশ নিতে পারবেন না।৩১ বছর বয়সী এই ব্যাটার শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র দলের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ক্যাম্পে ছিলেন। ওই ক্যাম্পে থাকা ১৮ জন ক্রিকেটারের মধ্য থেকে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য চূড়ান্ত ১৫ সদস্যের দল গঠনের কথা ছিল। সাময়িক নিষেধাজ্ঞার ফলে আপাতত সেই দলে জোন্সের থাকা আর সম্ভব হচ্ছে না।আইসিসির তথ্যমতে, জোন্সের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বড় অংশই ২০২৩–২৪ মৌসুমে বার্বাডোজে অনুষ্ঠিত বিম-১০ টুর্নামেন্টকে ঘিরে, যা ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের (সিডব্লিউআই) অধীনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পাশাপাশি দুটি অভিযোগ আন্তর্জাতিক ম্যাচ সংশ্লিষ্ট, যা আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী কোডের আওতায় পড়েছে।আইসিসি জানিয়েছে, এই মামলা একটি বৃহত্তর তদন্তের অংশ। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য ব্যক্তি বা পক্ষের বিরুদ্ধেও অতিরিক্ত অভিযোগ আনা হতে পারে।
দীর্ঘ বিরতি ভেঙে বড় পর্দায় ফিরেছেন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। বর্তমানে দুটি সিনেমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত এই নায়িকা। এরই মধ্যে এলো নতুন খবর; নতুন ওয়েব ফিল্ম ‘শিকার’-এ অভিনয় করতে যাচ্ছেন ঢালিউড কুইন অপু বিশ্বাস।জানা গেছে ওয়েব ফিল্মটি পরিচালনা করছেন কামরুজ্জামান রোমান। ইতোমধ্যে এই ওয়েব ফিল্মটির প্রি-প্রোডাকশনের কাজ শেষ হয়েছে। খুব শিগগিরই শুরু হবে শুটিং। এক বিজ্ঞপ্তিতে পরিচালক জানান, অপু বিশ্বাসকে নিয়ে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য একটি ভিন্নধর্মী গল্পে কাজ করতে নেমেছি আমরা।শিকার’-এর শুটিং হবে নেপালে। আগামী মার্চ মাসে পুরো টিম নিয়ে সেখানে যাবেন নির্মাতা রোমান। নেপালেই সিনেমার বড় অংশের দৃশ্যধারণ করা হবে বলেন তিনি ।
নাগরিকত্ব ও তথ্য গোপনের অভিযোগে ঢাকা-১১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুমের প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের রিট সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে ঢাকা-১১ আসনে ড. এম এ কাইয়ুমের নির্বাচনে কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবী। মঙ্গলবার ২ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন লিপু, অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা। কাইয়ুমের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান খান, ব্যারিস্টার কাজী আক্তার হোসেন।
১৫ ঘন্টা আগে
নাগরিকত্ব ও তথ্য গোপনের অভিযোগে ঢাকা-১১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুমের প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের রিট সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে ঢাকা-১১ আসনে ড. এম এ কাইয়ুমের নির্বাচনে কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবী। মঙ্গলবার ২ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন লিপু, অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা। কাইয়ুমের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান খান, ব্যারিস্টার কাজী আক্তার হোসেন।
১৫ ঘন্টা আগে
শরিয়াহ আইন কী? আরবি ভাষায় শরিয়াহ বলতে ‘পথ’ বোঝায়, যা আল্লাহকে খুশি করার লক্ষ্যে মানুষের জন্য অনুকরণীয় আচরণবিধি। শরিয়াহ বলবৎ হলে ব্যক্তি, মানুষ ও সমাজের সব ক্ষেত্র শরীয়তের অনুশাসন অনুযায়ী পরিচালিত হবে। শরীয়তের আওতায় ব্যবসায়-বাণিজ্য, পারিবারিক আইন, নৈতিকতা, অপরাধ ও শাস্তি, দান-খয়রাতসহ সবই রয়েছে। বাংলাদেশে রাজনীতিতে বর্তমানে এক নতুন মেরূকরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশের প্রধান প্রধান ইসলামী দলগুলোর লক্ষ্য ‘ইসলামী শাসনতন্ত্র’ বা ‘শরিয়াহ আইন’ প্রতিষ্ঠা হলেও সম্প্রতি ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশর মধ্যে শরিয়াহ আইন ইস্যুতে সৃষ্ট বাদানুবাদ ইসলামী রাজনীতির অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে ‘জামায়াতে ইসলামী শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করবে না’ গত বুধবার দলটির আমির গণমাধ্যমকে এমনটাই জানান খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি দলের মার্থা দাস। তারপরই শরিয়াহ আইনের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। এর আগে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দুজন প্রার্থীকে জাতীয় নির্বাচনের মনোনয়ন দেয় জামায়াতে ইসলামী। ফলে ধর্মভিত্তিক দল হওয়া সত্ত্বেও সম্প্রতি এমন বেশ কিছু পদক্ষেপে তাদের পক্ষ থেকে তুলনামূলক উদার মনোভাব বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে তা কৌশলগত অবস্থান কি না, সেই প্রশ্নও আসছে।এদিকে কয়েক দিন আগে ইসলামী আন্দোলন অভিযোগ করেছে, জামায়াতে ইসলামী তাদের মূল লক্ষ্য অর্থাৎ শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার পথ থেকে সরে গেছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে দেওয়া কিছু বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, তারা রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘শরিয়াহ’ শব্দের চেয়ে ‘ন্যায়বিচার’ ও ‘মানবিক মর্যাদা’ এবং প্রচলিত আইনের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান বিশ্বের ভূ-রাজনীতিতে ধর্ম ও রাষ্ট্রের সম্পর্ক নিয়ে সর্বাধিক আলোচিত বিতর্কগুলোর অন্যতম হলো শরিয়াহ আইন। বিশেষ করে মুসলিম প্রধান দেশগুলোতে রাজনীতিতে শরিয়াহ আইনের প্রয়োগ বা বর্জন নিয়ে প্রগতিশীল এবং রক্ষণশীল মহলের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিভেদ বিদ্যমান। এই বিতর্ক শুধু ধর্মীয় পরিসরে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা মানবাধিকার, শাসনতন্ত্র এবং গণতন্ত্রের সংজ্ঞাকেও প্রভাবিত করছে। অর্থাৎ শরিয়াহ আইনকে রাষ্ট্র পরিচালনায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রশ্নে প্রধানত তিনটি দিক থেকে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এক. গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব। দুই. বিচারব্যবস্থা ও দণ্ডবিধি। তিন. সংখ্যালঘু ও নারী অধিকার।প্রচলিত ধর্মনিরপেক্ষ আইনের চেয়ে এই ইসলামী শরীয়তের বিধানগুলো একটি আরেকটির সঙ্গে বেশি সম্পৃক্ত। আর ইসলাম ধর্মের প্রভাব ও রীতি অনুযায়ী মহান আল্লাহর আইনই চূড়ান্ত। ইসলামিক পণ্ডিতদের মতে, শরীয়ত হলোআল্লাহ ও তার রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর দিকনির্দেশনার সমষ্টি। অর্থাৎ শরীয়তের প্রধান বা মৌলিক উৎস দুইটি-- আল্লাহর বাণী কুরআন ও তার রাসুল হজরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর বাণী, কর্ম ও মৌনসম্মতি (সুন্নাহ)। পরবর্তী সময়ে কোরআন ও সুন্নাহর স্বীকৃতি ও নির্দেশনার ভিত্তিতে শরীয়তের আরও দুটি বিষয় নির্ধারিত হয়। এগুলো হলো—ইজমা ও কিয়াস। সুতরাং, শরীয়তের উৎস চারটি।ইন্টারনেটের তথ্য বলছে, বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে শরিয়াহ আইন ব্যবহার করে। দেশগুলো হচ্ছে আফগানিস্তান, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, ইরাক, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, মৌরিতানিয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, সুদান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইয়েমেন ও ব্রুনাই।শরিয়াহ আইন নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ক: গত বুধবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির ডা. আমির শফিকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন শিক্ষাবিদ ড. গর্ডন ক্লিংগেনশমিটের নেতৃত্বে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের একটি প্রতিনিধি দল। বৈঠক শেষে ন্যাশনাল খ্রিষ্টান ফেলোশিপ অব বাংলাদেশের জেনারেল সেক্রেটারি মার্থা দাস সাংবাদিকদের বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর আমির মহোদয়ের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। উনি যে আশ্বাসগুলো দিয়েছেন, সেটাই আবার আমি একটু রিপিট করতে চাই। যেটা তিনি জাতির উদ্দেশে বলেছেন সেটা হলো, যদি মহান সৃষ্টিকর্তা ওনাদের এই দেশ পরিচালনার সুযোগ দেন, তাহলে এই বাংলাদেশে শরিয়াহ ল অর্থাৎ শরিয়াহ আইন তিনি বাস্তবায়ন করবেন না।’এ সময় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। পরে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘প্রতিনিধি দলের মূল প্রশ্ন ছিল রাষ্ট্র পরিচালনা বা সরকার পরিচালনার সুযোগ পেলে জামায়াত কোন আইনে দেশ চালাবে? অনেকে জিজ্ঞেস করেন যে শরিয়াহ আইনে না অমুক মডেলে তমুক মডেলে। ফলে আমিরে জামায়াত বলেছেন, বাংলাদেশে যে বিদ্যমান আইন সে আইনেই বাংলাদেশ চলবে, যেখানে সব ধর্মের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করা হবে। এবং এই আইনটাই যথেষ্ট এখন।’ তিনি আরও জানান, জামায়াতের আমির সেদিন বলেছিলেন আমাদের সংবিধান এবং বিদ্যামান যে আইনি কাঠামো আছে, সেখানে সব নির্দেশনা আছে। বাংলাদেশ এই বিদ্যমান আইন সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে থেকেই পরিচালিত হবে।এ ছাড়াও এহসানুল মাহবুব জুবায়ের পরে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘গত বুধবার আমিরে জামায়াতের বক্তব্য উল্লেখ করে একটি ফটোকার্ড আমাদের নজরে এসেছে, যেখানে তার বক্তব্যকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিকৃত করে প্রচার করা হয়েছে। ওই ফটোকার্ডে আমিরে জামায়াতের বক্তব্যের সঙ্গে মার্থা দাসের একটি বক্তব্যকে টুইস্ট করে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা বাস্তব বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বরং জামায়াত আমিরের বক্তব্যে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালিত হবে এবং জনগণের মতামত ও সম্মতি ছাড়া কোনো আইন পরিবর্তন বা সংশোধনের প্রশ্নই আসে না। তিনি সংবিধান, আইনের শাসন, ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং সব নাগরিকের অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। অতএব, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উপস্থাপনার মাধ্যমে জনমনে ভুল ধারণা সৃষ্টি না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।’প্রসঙ্গত, ১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামীর নাম একাধিকবার যেমন পরিবর্তন হয়েছে, তেমনই নানা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দলটির গঠনতন্ত্রেও বহুবার সংশোধন করা হয়েছে। গঠনতন্ত্রে ‘ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা’-এর পরিবর্তে ‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা’ সংবলিত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকে তাদের লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামী। এর আগে তাদের গঠনতন্ত্রে ‘আল্লাহ-প্রদত্ত ও রসুল-প্রদর্শিত ইসলাম কয়েমের প্রচেষ্টা’কে মূল উদ্দেশ্য হিসেবে উল্লেখ করা হলেও তা বাদ দিয়ে ‘গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা’র কথা বলা হয়। সর্বশেষ তারা গঠনতন্ত্রের ২২তম সংশোধনী আনে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে। জামায়াতের গঠনতন্ত্রে লক্ষ্য উদ্দেশ্য হিসেবে বলা আছে, ‘বাংলাদেশে নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা এবং মহান আল্লাহ তা’য়ালার সন্তুষ্টি অর্জন’।এদিকে গত শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অভিযোগ করেছে, জামায়াতের আমির বলেছেন, তারা ক্ষমতায় গেলে প্রচলিত আইনে দেশ শাসন করবেন। অথচ দেশের সব মানুষ একমত যে দেশের বর্তমান দুর্দশার কারণ বিদ্যমান আইন। সেই বিদ্যমান আইন পরিবর্তন করার জন্যই আমাদের রাজনীতি। এখন যদি সমঝোতার প্রধান দলই বিদ্যমান আইনে দেশ পরিচালনার প্রতিজ্ঞা করে তাহলে আমরা শঙ্কিত হই। আমরা নীতির রাজনীতি করি। আমাদের রাজনীতির সেই মৌলিক প্রশ্নে যখন ভিন্নমত তৈরি হয়, তখন তাদের সঙ্গে সমঝোতায় থাকার কোনো সুযোগ নেই।’উল্লেখ্য, ১৯৮৭ সালের ১৩ মার্চ বিভিন্ন ইসলামী ব্যক্তিত্ব ও সংগঠনের যৌথ প্রয়াসের ফলে ইসলামী শাসনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঐক্যপ্রয়াসী একটি ইস্যু ভিত্তিক আন্দোলন হিসেবে ‘ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন’ নামে এর আত্মপ্রকাশ ঘটে। পরবর্তী সময়ে আন্দোলনে অনৈক্য ও ভাঙনের ফলে এটি চরমোনাই পীর সৈয়দ ফজলুল করিমের নেতৃত্বে একটি একক রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়। মূল ১৯৯১ সাল থেকে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দল হিসেবে যাত্রা শুরু করে। ২০০৮ সালে নিবন্ধন জটিলতায় এর নাম পরিবর্তন করে ‘ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’ নামে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত হয় এবং হাতপাখা প্রতীক লাভ করে। দলটির স্লোগান হচ্ছে ‘শুধু নেতা নয়, নীতিরও পরিবর্তন চাই।’বিতর্কের কারণ: জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক অবস্থান বিশ্লেষণে দেখা যায়, তারা নিজেদের একটি ‘আধুনিক মডারেট’ দল হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে। দলটির কিছু নেতা বলছেন, আমরা একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ চাই। ইসলাম মানেই কেবল শাস্তি (হুদুদ) নয়, বরং নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করা। অন্যদিকে এই অবস্থানকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ‘আদর্শিক চ্যুতি’ হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, শরিয়াহ আইনের কথা সরাসরি না বলা মানেই হলো সেকুলার রাজনীতির দিকে ঝুঁকে পড়া।এই বাদানুবাদের পেছনে কেবল আদর্শিক নয়, বরং কৌশলগত কিছু কারণও রয়েছে। বিশেষ করে ভোটের রাজনীতি, আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা, তরুণ প্রজন্মকে আকৃষ্ট করা ইত্যাদি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আধুনিক শিক্ষিত তরুণদের কাছে শরিয়াহ আইনের প্রচলিত ধারণা অনেক সময় ভীতি সৃষ্টি করে, যা এড়াতে ভাষা ও কৌশলে পরিবর্তন আনছে দলগুলো।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত: রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে তারা অনেক সফট কথাবার্তা বলছে এবং তারা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবার জন্য অনেক কিছু বলছে, যাতে মনে হচ্ছে তারা অনেকটা উদার হয়ে গেছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে এ ধরনের কৌশল নেওয়া তো অস্বাভাবিক কোনো ব্যাপার না। কারণ দলটি নিয়ে মানুষের যে দৃষ্টিভঙ্গি (পারসেপশন) আছে, তা কাটাতেই হয়তো তারা এসব কথাবার্তা বলছে।জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শামছুল আলম কালবেলাকে বলেন, বাংলাদেশে রাজনীতিতে শরিয়াহ আইনের বিতর্কটি এখন আর কেবল ‘ধর্মীয়’ নেই, এটি এখন ‘পরিচয় ও কৌশলের’ লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। জামায়াত যেখানে কৌশলগত নমনীয়তা দেখাচ্ছে, ইসলামী আন্দোলন সেখানে নিজেদের ‘আপসহীন’ ইসলামী শক্তি হিসেবে তুলে ধরছে। ফলে শরিয়াহ আইন নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের এই প্রকাশ্য বিতর্ক বাংলাদেশের ধর্মীয় রাজনীতির মোড় পরিবর্তন করতে পারে। জামায়াত যদি শেষ পর্যন্ত শরিয়াহ আইনের দাবি থেকে নিজেকে পুরোপুরি গুটিয়ে নেয়, তবে তা দেশের ইসলামপন্থি ভোটারদের মধ্যে একটি বড় প্রভাব তৈরি করবে এবং চরমোনাই পীরের দলের জন্য একটি বড় সুযোগ সৃষ্টি করবে। old('details') }} old('details') }}
মানুষ ওজন এবং ডায়েট নিয়ে খুবই যত্নশীল। বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ৪০.৩% স্থূলতায় ভুগছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের তথ্য।ওজন কমানোর বাজারও এই মনোযোগকে বাড়িয়ে তুলছে। ২০২২ সালে এই বাজারের আকার প্রায় ১৪৩ বিলিয়ন ডলার ছিল এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এটি প্রায় ২৯৯ বিলিয়নে পৌঁছানোর প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সম্প্রতি GLP-1 ওষুধ ব্যবহারের মাধ্যমে ১৫ মিলিয়নেরও বেশি আমেরিকান ওজন কমাচ্ছেন, যা মূলত টাইপ ২ ডায়াবেটিসের জন্য তৈরি হয়েছিল। এসব কারণে ওজনকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্য নিয়ে চাপ আরও বাড়ছে।
২০৫০ সালের মধ্যে চরম তাপমাত্রার ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের শীর্ষ ৬টি দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।সোমবার ২৬ জানুয়ারি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাতে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার সাসটেইনেবিলিটি’-তে এই গবেষণাটি প্রকাশ হয়।ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার অব্যাহত থাকলে আগামী ২৫ বছরের মধ্যে চরম তাপপ্রবাহে আক্রান্ত বৈশ্বিক জনসংখ্যার হার প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। শিল্প-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় যদি বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়, তবে চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ বিশ্বের ৪১ শতাংশ মানুষ (প্রায় ৩৭৯ কোটি) অসহনীয় তাপমাত্রার মধ্যে বসবাস করবে। ২০১০ সালে এই পরিস্থিতির শিকার জনগোষ্ঠীর হার ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ (১৫৪ কোটি)।