‘ককরোচ জনতা পার্টি’র নেতৃত্বে সংসদ অভিমুখে পদযাত্রার একদিন পর নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে অবস্থানরত কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করেছে পুলিশ।মঙ্গলবার (২১ জুলাই) নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে একটি বিক্ষোভ মিছিলের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন তারা। মিছিল থেকে নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করা হয়।সূত্র থেকে জানা গেছে, রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে রাতভর বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন, কিন্তু সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে পুলিশ রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবসহ অন্যান্য নেতাদের ঘটনাস্থল থেকে আটক করেন।উল্লেখ্য, সোমবার মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রবেশিকা পরীক্ষার (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্ত ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে হাজার হাজার শিক্ষার্থী সংসদের দিকে মিছিল করেন। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে এই মিছিলে পুলিশ লাঠিপেটা ও টিয়ার গ্যাস ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।সূত্র: এনডিটিভি
দেওয়ালে রক্তের দাগ, উল্টে পড়ে থাকা ব্যারিকেড, ভাঙা কাচ এবং রাস্তা জুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা স্যান্ডেল। কোথাও একটা স্কার্ফ, কোথাও ভাঙা চশমা আর ছেঁড়া শার্ট—ভারতের রাজধানী জুড়ে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলার স্মারক হিসেবে পড়ে রয়েছে এগুলো।নয়া দিল্লির প্রাণকেন্দ্র— পার্লামেন্ট স্ট্রিট এবং ঔপনিবেশিক আমলের চত্বর কনট প্লেস— সোমবারের পুলিশি ক্র্যাকডাউনের চিহ্ন বহন করছে। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে হাজার হাজার আন্দোলনকারী, যাদের বেশিরভাগই শিক্ষার্থী, স্থবির করে দিয়েছিল পুরো রাজধানী।আন্দোলনকারীদের একটি বড় অংশ পার্লামেন্টের একবারে দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায়, তবে পুলিশের টিয়ার গ্যাসে বাধ্য হয়ে পিছিয়ে আসে। এ ঘটনায় ১০০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।১৮ বছর বয়সী অংশুল দেব বলেন, আমি এখনো নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছি না যে আমি দিল্লিতে আছি।অংশুল আরও বলেন, আমাদের অভিভাবকরা যে সরকারকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসিয়েছেন, তারা আমাদের সাথে সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের মতো আচরণ করছে। এটি আমাদের দেশ, এবং তাদের বিদ্বেষমূলক রাজনীতি থেকে আমরা আমাদের দেশকে মুক্ত করছি। আমরা এই মোহ ভেঙে দিতে এখানে এসেছি।প্রশ্নপত্র ফাঁস ও জালিয়াতিতে লাখ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভারতের তরুণ সমাজ, যা বিশ্বের বৃহত্তম জেন-জি (Gen Z) গোষ্ঠী, তাদের মধ্যে গত দুই মাস ধরে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হচ্ছিল। কিছু ক্ষেত্রে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যায়; আবার কোথাও কোথাও যে-সব শিক্ষার্থী উত্তরপত্রের কপি চেয়েছিল, তারা দেখে যে তাদের ভুল গ্রেডিং করা হয়েছে। প্রশ্ন ফাঁসের জেরে অন্তত ২০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন।প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এসব প্রতিবাদ নিয়ে কোনো কথা বলেননি, যদিও সোমবার আন্দোলনকারীদের খুব কাছাকাছি দূরত্বে থাকা পার্লামেন্টে তাকে হাস্যোজ্জ্বল মুখে দেখা গেছে।মঙ্গলবার বিকেলে ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা, কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী নয়া দিল্লিতে মোদীর বাসভবনের বাইরে অবস্থান নেন। অন্যান্য সংসদ সদস্যরাও তার সঙ্গে যোগ দেন এবং তিনি সবাইকে একত্র হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।বিশ্লেষকরা বলছেন, মোদী সরকারের কাছ থেকে দাবি আদায় করার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী আন্দোলনকারীদের সামনে বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, সরকারের কাউকে জবাবদিহির আওতায় না আনার মানসিকতা এবং পুলিশের নির্মম দমন-পীড়ন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের একটি অভিযোগকেই জোরালো করেছে—তিনি সামাজিকভাবে নির্বাচিত হলেও কার্যত একজন স্বৈরাচারীর মতো আচরণ করেন।এক স্বৈরাচারীর মুখোমুখিপুলিশ জোরপূর্বক ওয়াংচুককে আন্দোলনস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর থেকেই আন্দোলনকারী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা মোদির পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছেন। সোমবার মধ্য নয়াদিল্লি জুড়ে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের স্লোগান প্রতিধ্বনিত হয়।লেখক ও মোদীর জীবনীকার নিলঞ্জন মুখোপাধ্যায় বলেন, এত বিপুলসংখ্যক আন্দোলনকারীর উপস্থিতি নিজে থেকেই প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত মোদি আন্দোলনকারীদের কোনো ছাড় না দিয়ে নিজেকে কঠোর ও অটল মনোভাবের নেতা হিসেবে জাহির করার চিরাচরিত কৌশলই বেছে নিয়েছেন।২০১৪ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা এই প্রধানমন্ত্রীর জীবনীকার আরও যোগ করেন, ভোটব্যাংকে টান না পড়া পর্যন্ত মোদি কোনো প্রতিবাদ গুঁড়িয়ে দিতে বা ব্রুট ফোর্স (পশুবল) প্রয়োগ করতে দ্বিধা করেন না।তিনি আরও বলেন, তারা তাদের পুরোনো দমন-পীড়নের পথেই হাঁটবে। তরুণদের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভ এবং সরকারবিরোধী হাওয়া থাকা সত্ত্বেও মোদি এই আন্দোলন থেকে নিজেকে পরাজিত হিসেবে তুলে ধরতে চাইবেন না।সূত্র: আল-জাজিরা
ডিপফেক, ভুয়া তথ্য (ডিসইনফরমেশন), মিথ্যাচার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।তিনি বলেন, এসব অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বিশেষ আইনজীবী প্যানেল গঠনের সব প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এখন শুধু আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি বাকি রয়েছে, যা আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নাগরিকদের বিরুদ্ধে পরিচালিত ডিপফেক, মিথ্যাচার ও সাইবার বুলিং কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।ডা. জাহেদ বলেন, সরকার শুরু থেকেই তথ্যের অপব্যবহার, বিশেষ করে ডিসইনফরমেশন এবং সাইবার বুলিংকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তিনি বলেন, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যাপক বিস্তারের ফলে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া, মানুষের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো, ছবি ও ভিডিও বিকৃত করে প্রচার করা এবং ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। এসব কর্মকা- শুধু ব্যক্তির সম্মানহানি ঘটাচ্ছে না, বরং সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি এবং মানুষের নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠছে। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বিশেষ করে নারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন। শুধু নারী হওয়ার কারণেই অনেককে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপমান, হুমকি, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং মিথ্যা প্রচারণার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তিনি বলেন, এই আইনজীবী প্যানেল শুধু অভিযোগ পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেবে না, প্রয়োজন হলে স্বতঃপ্রণোদিত হয়েও আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারবে। সরকার যেসব ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে, সেসব ক্ষেত্রেও প্যানেলটি সক্রিয়ভাবে কাজ করবে। এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সাধারণ নাগরিকদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ভুক্তভোগীদের দ্রুত সহায়তা প্রদান করা।তথ্য উপদেষ্টা নাগরিকদেরও আহ্বান জানান, কেউ যদি সাইবার বুলিং, ডিপফেক, মিথ্যা তথ্য বা অনলাইন হয়রানির শিকার হন, তাহলে যেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের স্বাধীনতা যেমন রয়েছে, তেমনি এর দায়িত্বশীল ব্যবহারও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।ডা. জাহেদ বলেন, মূলধারার গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের আগে সম্পাদকীয় যাচাই-বাছাইয়ের একটি প্রক্রিয়া থাকে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ব্যবস্থা নেই। ফলে যে কেউ যেকোনো তথ্য মুহূর্তেই ছড়িয়ে দিতে পারেন। এ কারণে ব্যবহারকারীদের আরও সচেতন হতে হবে এবং কোনো তথ্য বা ছবি যাচাই ছাড়া শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। তিনি বলেন, রাষ্ট্র যেমন নাগরিকদের সচেতন করার দায়িত্ব পালন করবে, তেমনই নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক কার্যক্রম সম্পর্কেও তথ্য তুলে ধরেন জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২০ জুলাই পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।২০২৫ সালের একই সময়ে যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৭ হাজার ২১৮ জন, সেখানে ২০২৬ সালের একই সময়ে আক্রান্ত হয়েছেন ১০ হাজার ৮৫৭ জন। একইভাবে মৃত্যুর সংখ্যাও কমেছে। গত বছর একই সময়ে ডেঙ্গুতে ৬২ জনের মৃত্যু হলেও এবার মৃত্যু হয়েছে ৩৭ জনের। যদিও প্রতিটি মৃত্যু দুঃখজনক, তারপরও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।জ্বালানি খাতের অগ্রগতির বিষয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক পদ্ধতিতে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানির জন্য ৪০টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনার মধ্যে ইতোমধ্যে ২৯টি কূপ খনন করা হয়েছে। এসব কূপ থেকে প্রায় ২৭০ দশমিক ৮ মিলিয়ন এমএমসিএফটি গ্যাস উৎপাদন নিশ্চিত হয়েছে এবং এর মধ্যে ১২৫ দশমিক ৩ এমএমসিএফটি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বাকি কূপগুলো খনন করে আরও প্রায় ১ হাজার ৪৯১ এমএমসিএফটি গ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, দেশে গ্যাসের সম্ভাব্য মজুদ যথাযথভাবে অনুসন্ধান করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি জানান, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার ‘নিরাপদ খাদ্য প্রবিধানমালা-২০২৬’ জারি করেছে। নতুন এই বিধিমালা অনুযায়ী খাদ্য উৎপাদন, আমদানি, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিপণনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধনের আওতায় আসতে হবে। একই সঙ্গে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং বাজার তদারকি অব্যাহত রয়েছে। খাদ্য মজুদও দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান তিনি।ব্রিফিংয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, আগামী আগস্টের মাঝামাঝি পরীক্ষামূলকভাবে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু করা হবে। প্রথম পর্যায়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মাধ্যমে এই ডেবিট কার্ড দেওয়া হবে। ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ হাজার এবং আগামী বছরের জুনের মধ্যে দুই লাখ প্রবাসীর হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। পরবর্তী সময়ে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে এর কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা অন্তত ১০ ধরনের সেবা সহজে পাবেন বলে জানান তিনি।তিনি আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষায় সরকার পলিথিনের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব পাটজাত ব্যাগ ব্যবহারে গুরুত্ব দিচ্ছে। ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন বাজারে স্বল্পমূল্যে পাটের ব্যাগ বিতরণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পরিবেশ দূষণকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা আদায় এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে।শিল্প খাত প্রসঙ্গে তিনি জানান, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন ২৫টি মিলের মধ্যে ১৬টি মিল পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়বে, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং সরকারি ভর্তুকির চাপ কমবে বলে সরকার আশা করছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান কর্মসংস্থানও সুরক্ষিত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার বিভিন্ন খাতে সংস্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্য, জ্বালানি, খাদ্য, শিল্প, পরিবেশ ও প্রবাসী কল্যাণসহ বিভিন্ন খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে।তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে প্রযুক্তির অপব্যবহার থেকে নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া। সবাইকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, একটি সচেতন সমাজ গড়ে তুলতে সরকার যেমন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, তেমনি নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। ডিপফেক, মিথ্যাচার ও সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর এবং নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
রূপকথার শেষ পাতাটা তো সব সময় আনন্দের রঙে আঁকা থাকে। কিন্তু নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের বিকেলটা লিওনেল মেসির জন্য কোনো রূপকথা আনেনি। এনেছে এক বুকভাঙা হাহাকার।বিশ্বকাপের ফাইনালে হারের পর সদ্য চ্যাম্পিয়ন হওয়া স্পেনকে অভিনন্দন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি।মেসি তার পোস্টে লিখেছেন, ‘ব্যথাটা অনেক বড়, আর এই ক্ষত শুকাতে সময় লাগবে। তবে আমি ভালো দিকগুলোর কথাও মনে রাখছি।’তিনি বলেন, ‘সেই ম্যাচগুলোর কথা মনে রাখছি, যেগুলোতে আমরা সবকিছু উজাড় করে দিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলাম এবং যা চিরকাল স্মৃতিতে অমলিন হয়ে থাকবে। মনে রাখছি পুরো একটি দেশের সমর্থনের কথাও। এই সমর্থন, এই দলের পরিশ্রম ও প্রচেষ্টার সঙ্গে মিলে আমাদের আবারও বিশ্বের সেরাদের কাতারে ফিরিয়ে এনেছে।’মেসি আরও বলেন, ‘আজ আমরা যা করেছি, তার মূল্যায়ন করা কঠিন। তবে এই দল টানা দুটি বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছেছে।’ভক্তদের উদ্দেশে তিনি লেখেন, ‘প্রতিটি শুভেচ্ছা ও প্রতিটি বার্তার জন্য হৃদয়ের গভীর থেকে অনেক ধন্যবাদ। আবারও আমরা একটি জাতি হিসেবে একত্রিত হতে পেরেছি, সবাই একসঙ্গে দাঁড়িয়ে আর্জেন্টাইন হওয়ার অপরিসীম গর্ব ভাগ করে নিয়েছি।’শেষে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য স্পেনকে অভিনন্দন জানিয়ে মেসি লেখেন “চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য স্পেনকেও অভিনন্দন জানাতে চাই।”
বলিউড অভিনেত্রী কাজলকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি কলকাতা বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় তাকে ঘিরে ধরেন আলোকচিত্রী ও ভক্তরা। সেই মুহূর্তের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, লাল রঙের পোশাকে হাসিমুখে বিমানবন্দর থেকে বের হচ্ছেন কাজল। পাপারাজ্জিদের ক্যামেরার ফ্ল্যাশের মধ্যেও তিনি ছিলেন বেশ স্বাভাবিক ও প্রাণবন্ত। তবে কলকাতায় আসার কারণ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য না করে রহস্যময় হাসি দিয়ে গাড়িতে উঠে পড়েন তিনি।ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে কাজল কলকাতার দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দিরে পূজা দেন। এ সময় নিরাপত্তাকর্মীদের ঘিরে তিনি মন্দিরে প্রবেশ করেন এবং পূজা শেষে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।এরই মধ্যে ভারতীয় বাংলা চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী রাইমা সেন ইনস্টাগ্রামে কাজলের সঙ্গে তোলা একটি ছবি প্রকাশ করে জানান, তারা একসঙ্গে দারুণ একটি সন্ধ্যা কাটিয়েছেন। এরপর থেকেই শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। অনেকেই ধারণা করছেন, টলিউড ও বলিউডের যৌথ কোনো সিনেমা বা নতুন প্রকল্পের জন্যই হয়তো কলকাতায় এসেছেন কাজল। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।উল্লেখ্য, গত বছর মুক্তি পাওয়া কাজল অভিনীত চলচ্চিত্র ‘মা’-এর প্রচারণার অংশ হিসেবেও তিনি কলকাতা সফর করেছিলেন। সে সময়ও দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দিরে পূজা দিয়েছিলেন এই অভিনেত্রী।কলকাতার সঙ্গে কাজলের সম্পর্ক বরাবরই গভীর। অভিনেত্রী তনুজা মুখার্জির কন্যা হওয়ায় বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে ছোটবেলা থেকেই তার নিবিড় সম্পর্ক। দুর্গাপূজায় শাড়ি পরে বাঙালি সাজে অংশ নেওয়া এবং ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করতেও দেখা যায় তাকে। তাই কলকাতা সফর কাজলের জন্য সবসময়ই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।তবে এবারের সফরের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী তা এখনো রহস্যই রয়ে গেছে। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও চলচ্চিত্র অঙ্গনে এ নিয়ে আলোচনা থামছেই না।
দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে সোনার দাম। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) থেকে ২২ ক্যারেট বা ভালো মানের সোনার দাম ভরিপ্রতি ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ২১ হাজার ৪৪১ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। নতুন দর মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।বাজুস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, দেশের বাজারে তেজাবি (খাঁটি) সোনার দাম বেড়ে যাওয়ায় স্বর্ণের নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে।নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের সোনার ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৪৬৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৮১ হাজার ৬০৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার ভরি ১ লাখ ৪৮ হাজার ৩৬৬ টাকা।আগের দামের তুলনায় ২১ ক্যারেটের সোনার ভরি ১ হাজার ৫৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ হাজার ৩৪১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার ভরি ১ হাজার ৫০ টাকা বেড়েছে।এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারেও সোনার দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। গোল্ডপ্রাইস ডটঅর্গের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার আউন্সপ্রতি সোনার দাম ৩৭ ডলার বেড়েছে। তবে গত এক মাসের হিসাবে দাম এখনও ১৭২ ডলার কম রয়েছে।বাজেটে পরিবর্তনের ফলে বর্তমানে সোনার গয়নার মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ফলে ক্রেতাদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট নেওয়া হবে না। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রতি ভরি সোনার গয়নায় নির্দিষ্ট ২ হাজার ৫০০ টাকা ভ্যাট নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে মোট মূল্যের ওপর ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট ছিল।অন্যদিকে রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেট রুপার ভরি ৪ হাজার ৬০৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৩ হাজার ৭৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার ভরি ২ হাজার ৮৫৭ টাকা।
১২ ঘন্টা আগে
হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নির্বাহী কমিটির অনুমোদনক্রমে ২০২৭ সালের হজের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় দুটি প্যাকেজ নির্ধারণ করেছে সরকার। এর মধ্যে ‘হজ প্যাকেজ-১’-এর খরচ ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা এবং ‘হজ প্যাকেজ-২ (সাশ্রয়ী)’-এর খরচ ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) এ দুই হজ প্যাকেজ ঘোষণা করেন। হজ প্যাকেজ-১ : এই প্যাকেজের হজযাত্রীদের মক্কায় হারাম শরীফের বহিঃচত্বর থেকে ১০০০ থেকে ১৪০০ মিটারের মধ্যে এবং মদিনায় মারকাজিয়া এলাকায় আবাসন সুবিধা দেওয়া হবে। মিনায় জোন-২ এ তাঁবুর অবস্থান হবে এবং মিনা- আরাফায় 'সার্ভিস প্যাকেজ-৩' ক্যাটাগরির সার্ভিসসহ মোয়াল্লেম কর্তৃক খাবার সরবরাহ করা হবে। সাধারণত সৌদি আরবে অবস্থানকাল হবে ৩৫-৪০ দিন। উল্লেখ্য, অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ সাপেক্ষে রুম আপগ্রেডেশন ও শর্ট প্যাকেজ সুবিধা নেয়া যাবে। এ প্যাকেজের খরচ ধরা হয়েছে ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা।হজ প্যাকেজ-২ (সাশ্রয়ী) : এটি হজ প্যাকেজ-১ এর চেয়ে কিছুটা সুলভ। এই প্যাকেজের হজযাত্রীদের মক্কায় হোটেল হারাম শরীফের বহিঃচত্বর থেকে ২-৩ কিলোমিটারের মধ্যে হবে এবং মদিনায় মারকাজিয়া এলাকার বাইরে মসজিদে নববী হতে ৮০০ মিটারের মধ্যে আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। মিনায় জোন-৫ এ তাঁবুর অবস্থান হবে এবং মিনা- আরাফায় 'সার্ভিস প্যাকেজ-৩' ক্যাটাগরির সার্ভিসসহ মোয়াল্লেমের মাধ্যমে খাবার সরবরাহ করা হবে। হোটেলের অবস্থান দুই কিলোমিটারের বেশি দূরে হলে সৌদি সরকারের বিধান অনুসারে সালাওয়াত বাসের ব্যবস্থা থাকবে। এ প্যাকেজের খরচ ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা।
বর্ষা মৌসুমে বাজারে সহজেই পাওয়া যায় পাটশাক। অনেকেই এটিকে সাধারণ একটি মৌসুমি শাক মনে করলেও পুষ্টিগুণের দিক থেকে এটি বেশ সমৃদ্ধ। ভিটামিন এ, বি৬, বি৯, সি, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়ামসহ নানা উপকারী উপাদানে ভরপুর পাটশাক নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে শরীরের নানা উপকার হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চোখের যত্ন থেকে শুরু করে হাড়, দাঁত, ত্বক ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এই শাক।চোখের সুস্থতায় সহায়কপাটশাকে থাকা ভিটামিন বি৬ ও ফোলেট চোখের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব পুষ্টি উপাদান রাতকানা রোগের ঝুঁকি কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে। প্রতি ১০০ গ্রাম পাটশাকে থাকা ভিটামিন বি৬ একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক চাহিদার উল্লেখযোগ্য অংশ পূরণ করতে সক্ষম।রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়পাটশাকে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা শক্তিশালী করতে সহায়তা করে। বর্ষাকালে সর্দি-কাশি, ভাইরাসজনিত সংক্রমণ ও মৌসুমি নানা অসুস্থতার ঝুঁকি কমাতেও এটি উপকারী হতে পারে।ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারেপাটশাকে থাকা ভিটামিন বি৯ বা ফোলেট শরীরে নতুন কোষ তৈরি এবং ক্ষতিগ্রস্ত কোষ মেরামতে সহায়তা করে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যাপ্ত ফোলেট গ্রহণ জরায়ুমুখ, কোলন ও ফুসফুসের মতো কিছু ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।দাঁত ও মাড়ি ভালো রাখেক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ পাটশাক দাঁত ও মাড়ি মজবুত রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় এই শাক থাকলে দাঁতের ক্ষয় ও মাড়ির বিভিন্ন সমস্যার ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে।হাড় মজবুত রাখতে কার্যকরপাটশাকে থাকা ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম একসঙ্গে কাজ করে হাড়ের শক্তি বজায় রাখতে সহায়তা করে। এই দুই খনিজের ভারসাম্য ঠিক থাকলে হাড় ক্ষয় বা অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকিও কমতে পারে।ত্বক ও চুলের যত্নে উপকারীপাটশাকে থাকা ভিটামিন বি২ শরীরে কোলাজেনের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে। কোলাজেন ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে, বলিরেখা কমাতে এবং চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাদে সামান্য তিতকুটে হলেও পাটশাক পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি দেশীয় শাক। তাই বর্ষাকালে নিয়মিত খাদ্যতালিকায় এই শাক রাখলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় এবং নানা স্বাস্থ্য উপকারও মিলতে পারে।
২০৫০ সালের মধ্যে চরম তাপমাত্রার ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের শীর্ষ ৬টি দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।সোমবার ২৬ জানুয়ারি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাতে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার সাসটেইনেবিলিটি’-তে এই গবেষণাটি প্রকাশ হয়।ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার অব্যাহত থাকলে আগামী ২৫ বছরের মধ্যে চরম তাপপ্রবাহে আক্রান্ত বৈশ্বিক জনসংখ্যার হার প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। শিল্প-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় যদি বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়, তবে চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ বিশ্বের ৪১ শতাংশ মানুষ (প্রায় ৩৭৯ কোটি) অসহনীয় তাপমাত্রার মধ্যে বসবাস করবে। ২০১০ সালে এই পরিস্থিতির শিকার জনগোষ্ঠীর হার ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ (১৫৪ কোটি)।
শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও অনলাইন আসক্তি কমাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপ করছে। অনেক দেশ এরই মধ্যে আইন কার্যকর করেছে, আবার অনেক দেশে নতুন আইন প্রণয়নের কাজ চলছে।বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, বিশ্বের অন্তত ২০টি দেশ শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আইন করেছে, আইন প্রস্তাব করেছে বা নতুন বিধিনিষেধ আনার উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি দেশে ইতোমধ্যে এসব বিধিনিষেধ কার্যকর হয়েছে।অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, চীন, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধ কার্যকর রয়েছে। কোথাও বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, আবার কোথাও অভিভাবকের অনুমতি ও বয়স যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।তুরস্ক আইন পাস করেছে, যা চলতি বছরের শেষ দিকে কার্যকর হবে। সংযুক্ত আরব আমিরাতও ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে।এদিকে ইউরোপের অনেক দেশও একই পথে হাঁটছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নতুন নিয়ম আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। গ্রিস, অস্ট্রিয়া, স্লোভেনিয়া, জার্মানি, সুইডেন, ডেনমার্ক, নরওয়ে, যুক্তরাজ্য ও কানাডাও বয়সসীমা নির্ধারণ বা নতুন আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা করছে।ফ্রান্সে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করার একটি বিল মঙ্গলবার পার্লামেন্টে ভোটে ওঠার কথা রয়েছে। বিলটি পাস হলে সেপ্টেম্বর থেকে আইনটি কার্যকর করার আশা করছে সরকার।এ ছাড়া পর্তুগাল, স্পেন ও ইতালিতেও শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সীমিত করতে নতুন আইন নিয়ে আলোচনা চলছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের অতিরিক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার মানসিক স্বাস্থ্য, ঘুম, পড়াশোনা ও সামাজিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ অনলাইনে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বয়সভিত্তিক বিধিনিষেধ আরোপের দিকে ঝুঁকছে।