র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশের আওতাধীন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে নতুন একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের বিধান রেখে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের চতুর্থ দিনে বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।র্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি আইনের বিলটি উত্থাপনের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পরীক্ষা-নীরিক্ষার জন্য পাঠানো হয়। কমিটিকে যাচাই-বাছাই শেষে আগামী দুই কর্মদিবসের মধ্যে সংসদে ফেরত পাঠাতে বলা হয়েছে।বিলে বলা হয়েছে, দেশের জননিরাপত্তা রক্ষা, সন্ত্রাসবাদ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন এবং পুলিশ বাহিনীকে সহায়তার জন্য আধুনিক, পেশাদার, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক একটি বিশেষায়িত ইউনিট প্রয়োজন। একইসঙ্গে এ বাহিনীর ক্ষমতা প্রয়োগে স্বচ্ছতা, তদারকি ও কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।বিলের ১ ধারায় বলা হয়েছে, এই আইন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’ নামে অভিহিত হবে।পুলিশের আওতায় বিশেষায়িত ইউনিটবিলের ৪ ধারায় বলা হয়েছে, ‘পুলিশ বাহিনীর আওতাধীন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট থাকবে।’সরকার প্রয়োজনের নিরিখে পুলিশ বাহিনী, শৃঙ্খলা বাহিনী এবং নির্ধারিত সংখ্যক কর্মকর্তা, আর্মড পার্সোনেল বা কর্মচারী পদায়ন বা প্রেষণে নিয়োগের মাধ্যমে এই ইউনিট গঠন করবে। ইউনিটের সদর দপ্তর থাকবে ঢাকায়।এসআরবি’র একজন মহাপরিচালক থাকবেন। তিনি বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত অন্যূন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হবেন। মহাপরিচালক ইউনিটের প্রশাসনিক, আর্থিক ও অপারেশনাল ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন।যেসব দায়িত্ব পালন করবে এসআরবিবিলের ১০ ধারায় এসআর-এর দায়িত্ব ও কার্যাবলি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—“জননিরাপত্তা রক্ষা’, ‘সন্ত্রাস ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন’, ‘বেআইনি অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার’ এবং ‘মাদক, সাইবার অপরাধ, গুম ও ভূমিদস্যুতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।”এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, মানবপাচার, অপহরণসহ মানবতাবিরোধী কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, আইন-শৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করার দায়িত্বও থাকবে। আদালত, সরকার বা পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশ অনুসারে এসব অপরাধের তদন্তও করতে পারবে ইউনিটটি।তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতাবিলের ১২ ধারায় এসআরবি-কে কোনো স্থানে প্রবেশ, তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তবে এসব ক্ষমতা ফৌজদারি কার্যবিধি ও বিদ্যমান অন্যান্য আইনের বিধান প্রতিপালন সাপেক্ষে প্রয়োগ করতে হবে।১৩ ধারায় বলা হয়েছে, ‘তল্লাশি, আটক, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী তদন্তকারী কর্মকর্তার যে ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কার্যাবলি রয়েছে, পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার নিচে নন—এমন ইউনিটের কর্মকর্তা তা প্রয়োগ করতে পারবেন।’তবে গ্রেপ্তার বা আলামত জব্দ করার পর তা এসআরবি-এর কাছে আটকে রাখা যাবে না। বিলের ১৪ ধারায় বলা হয়েছে, “গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে বা জব্দকৃত আলামত অনতিবিলম্বে নিকটবর্তী থানা কর্তৃপক্ষের হেফাজতে সোপর্দ বা হস্তান্তর করবেন।” একই সঙ্গে এ বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।ফৌজদারি মামলার তদন্ত করতে পারবেআদালত, সরকার বা পুলিশ মহাপরিদর্শক যেকোনো সময় এসআরবি মহাপরিচালককে কোনো ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবেন। মহাপরিচালক পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর বা তার ঊর্ধ্ব পদমর্যাদার কোনো সদস্যকে তদন্তের দায়িত্ব দিতে পারবেন।তদন্তের সময় ফৌজদারি কার্যবিধি ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে। তদন্তের প্রয়োজনে এসআরবি-এর হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ থাকার কথাও বিলে বলা হয়েছে।সদস্যদের যেসব কাজ শৃঙ্খলা লঙ্ঘনবিলের ১৭ ধারায় এসআরবি সদস্যদের বিভিন্ন শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে কর্তব্যরত অবস্থায় মাতাল বা নেশাগ্রস্ত থাকা, সহকর্মীকে আঘাত বা অসদাচরণ করা, অনুমতি ছাড়া গার্ড, চৌকি বা পেট্রোল ত্যাগ করা, আটক বা গ্রেপ্তার থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আইনসংগত আদেশ অমান্য করা রয়েছে।এ ছাড়া দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা, অস্ত্র-গোলাবারুদ বা সরঞ্জাম ক্ষতি বা হারানো, অসুস্থতার ভান করা, বলপূর্বক অর্থ আদায়, বেআইনিভাবে জমি দখল, সম্পদ চুরি বা ধ্বংস, অপরাধীকে আটক করতে ব্যর্থ হওয়া এবং জুয়া বা অবৈধ মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকাকেও শৃঙ্খলা লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।১৫ দিনের বেশি আটক থাকলে প্রতি ৭ দিনে প্রতিবেদনকোনো সদস্যের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের অভিযোগ বা আশঙ্কার যৌক্তিক কারণ থাকলে তাকে আটক করার ক্ষমতা রাখা হয়েছে। তবে আটকাদেশ প্রদানকারী কর্মকর্তাকে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে এবং আটক সদস্যকে লিখিতভাবে কারণ জানাতে হবে।কোনো সদস্য ১৫ দিনের বেশি আটক থাকলে প্রতি সাত দিন অন্তর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দিতে হবে। আর “আটককৃত সদস্যের বিরুদ্ধে প্রাথমিক কোনো প্রমাণ না থাকিলে তাহাকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হইবে।”শাস্তি হিসেবে বরখাস্ত, অপসারণ, অবসর ও পদাবনতিএসআরবি সদস্যদের শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের জন্য গুরুদণ্ড ও লঘুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।গুরুদণ্ড হিসেবে চাকরি থেকে বরখাস্ত, অপসারণ, বাধ্যতামূলক অবসর, চাকরি থেকে অব্যাহতি, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পদাবনতি, পদোন্নতি বন্ধ, সর্বোচ্চ এক বছরের জ্যেষ্ঠতা বা বেতন-ভাতা বাজেয়াপ্ত এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করার বিধান রয়েছে।লঘুদণ্ড হিসেবে অনূর্ধ্ব এক মাসের বেতনের সমপরিমাণ জরিমানা, তিরস্কার, অনূর্ধ্ব ৩০ দিনের জন্য কোয়ার্টার গার্ডে আটক, অনূর্ধ্ব ৩০ দিনের জন্য ব্যাটালিয়নে আটক রেখে অতিরিক্ত ড্রিল, গার্ড বা অন্য দায়িত্ব এবং দৈনিক দুই ঘণ্টা করে সর্বোচ্চ ১৪ দিনের জন্য শাস্তিমূলক ড্রিলের বিধান রাখা হয়েছে।তবে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে কোনো সদস্যকে এসব শাস্তি দেওয়া যাবে না।শাস্তির বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে আপিলবিভাগীয় কার্যধারায় দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে আদেশ প্রদানের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে। ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত পুলিশ সুপারের আদেশের বিরুদ্ধে মহাপরিচালক বা তার ক্ষমতাপ্রাপ্ত অতিরিক্ত মহাপরিচালকের কাছে এবং মহাপরিচালকের আদেশের বিরুদ্ধে পুলিশ মহাপরিদর্শকের কাছে আপিল করা যাবে। আপিলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার দায়িত্ব পালনকালে মন্ত্রণালয়ের অধীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি সংক্রান্ত নথিপত্র চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।বৃহস্পতিবার দুদকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে এসব তথ্য ও রেকর্ডপত্র চেয়ে আজ চিঠি পাঠিয়েছে সংস্থাটি। চিঠিতে আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চাহিদাকৃত তথ্য ও নথি দুদকে প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ও অনুসন্ধান দলের প্রধান মো. জাহিদ কালাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, অভিযোগের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান পরিচালনা ও প্রতিবেদন দাখিলের জন্য চার সদস্যের একটি বিশেষ অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে।চিঠিতে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার মেয়াদকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকল প্রকার নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি সংক্রান্ত তথ্যাদি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক রেকর্ডপত্র তলব করা হয়।এ ছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের ৭ মে এবং ২০২৬ সালের ১৮ এপ্রিলের দুটি স্মারকের মাধ্যমে সম্পন্ন বদলি সংক্রান্ত নথির সত্যায়িত অনুলিপিও চেয়েছে দুদক।একই সঙ্গে ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে চলতি দায়িত্ব প্রদান, দায়িত্ব বাতিল এবং পদায়ন সংক্রান্ত যাবতীয় নথির সত্যায়িত অনুলিপি চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন মাঠ পর্যায়ে- বিশেষ করে ঢাকা, বগুড়া, বরিশাল, পাবনা, ধামরাই ও নরসিংদীতে কর্মরত কয়েকজন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নথির সত্যায়িত অনুলিপি তলব করেছে কমিশন।চিঠিতে উল্লিখিত তথ্যাদির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিদ্যমান বিধিবিধান ও সহায়ক নথিও যথাসময়ে সরবরাহের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।দুদক সূত্রে জানা যায়, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূত সুবিধা প্রদান, দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের সুরক্ষাবলয় (সেফগার্ড) তৈরি করে বহাল রাখার যে অভিযোগ রয়েছে, কমিশন বর্তমানে তা খতিয়ে দেখছে।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশের আওতাধীন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে নতুন একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের বিধান রেখে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের চতুর্থ দিনে বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।র্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি আইনের বিলটি উত্থাপনের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পরীক্ষা-নীরিক্ষার জন্য পাঠানো হয়। কমিটিকে যাচাই-বাছাই শেষে আগামী দুই কর্মদিবসের মধ্যে সংসদে ফেরত পাঠাতে বলা হয়েছে।বিলে বলা হয়েছে, দেশের জননিরাপত্তা রক্ষা, সন্ত্রাসবাদ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন এবং পুলিশ বাহিনীকে সহায়তার জন্য আধুনিক, পেশাদার, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক একটি বিশেষায়িত ইউনিট প্রয়োজন। একইসঙ্গে এ বাহিনীর ক্ষমতা প্রয়োগে স্বচ্ছতা, তদারকি ও কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।বিলের ১ ধারায় বলা হয়েছে, এই আইন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’ নামে অভিহিত হবে।পুলিশের আওতায় বিশেষায়িত ইউনিটবিলের ৪ ধারায় বলা হয়েছে, ‘পুলিশ বাহিনীর আওতাধীন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট থাকবে।’সরকার প্রয়োজনের নিরিখে পুলিশ বাহিনী, শৃঙ্খলা বাহিনী এবং নির্ধারিত সংখ্যক কর্মকর্তা, আর্মড পার্সোনেল বা কর্মচারী পদায়ন বা প্রেষণে নিয়োগের মাধ্যমে এই ইউনিট গঠন করবে। ইউনিটের সদর দপ্তর থাকবে ঢাকায়।এসআরবি’র একজন মহাপরিচালক থাকবেন। তিনি বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত অন্যূন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হবেন। মহাপরিচালক ইউনিটের প্রশাসনিক, আর্থিক ও অপারেশনাল ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন।যেসব দায়িত্ব পালন করবে এসআরবিবিলের ১০ ধারায় এসআর-এর দায়িত্ব ও কার্যাবলি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—“জননিরাপত্তা রক্ষা’, ‘সন্ত্রাস ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন’, ‘বেআইনি অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার’ এবং ‘মাদক, সাইবার অপরাধ, গুম ও ভূমিদস্যুতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।”এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, মানবপাচার, অপহরণসহ মানবতাবিরোধী কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, আইন-শৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করার দায়িত্বও থাকবে। আদালত, সরকার বা পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশ অনুসারে এসব অপরাধের তদন্তও করতে পারবে ইউনিটটি।তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতাবিলের ১২ ধারায় এসআরবি-কে কোনো স্থানে প্রবেশ, তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তবে এসব ক্ষমতা ফৌজদারি কার্যবিধি ও বিদ্যমান অন্যান্য আইনের বিধান প্রতিপালন সাপেক্ষে প্রয়োগ করতে হবে।১৩ ধারায় বলা হয়েছে, ‘তল্লাশি, আটক, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী তদন্তকারী কর্মকর্তার যে ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কার্যাবলি রয়েছে, পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার নিচে নন—এমন ইউনিটের কর্মকর্তা তা প্রয়োগ করতে পারবেন।’তবে গ্রেপ্তার বা আলামত জব্দ করার পর তা এসআরবি-এর কাছে আটকে রাখা যাবে না। বিলের ১৪ ধারায় বলা হয়েছে, “গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে বা জব্দকৃত আলামত অনতিবিলম্বে নিকটবর্তী থানা কর্তৃপক্ষের হেফাজতে সোপর্দ বা হস্তান্তর করবেন।” একই সঙ্গে এ বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।ফৌজদারি মামলার তদন্ত করতে পারবেআদালত, সরকার বা পুলিশ মহাপরিদর্শক যেকোনো সময় এসআরবি মহাপরিচালককে কোনো ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবেন। মহাপরিচালক পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর বা তার ঊর্ধ্ব পদমর্যাদার কোনো সদস্যকে তদন্তের দায়িত্ব দিতে পারবেন।তদন্তের সময় ফৌজদারি কার্যবিধি ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে। তদন্তের প্রয়োজনে এসআরবি-এর হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ থাকার কথাও বিলে বলা হয়েছে।সদস্যদের যেসব কাজ শৃঙ্খলা লঙ্ঘনবিলের ১৭ ধারায় এসআরবি সদস্যদের বিভিন্ন শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে কর্তব্যরত অবস্থায় মাতাল বা নেশাগ্রস্ত থাকা, সহকর্মীকে আঘাত বা অসদাচরণ করা, অনুমতি ছাড়া গার্ড, চৌকি বা পেট্রোল ত্যাগ করা, আটক বা গ্রেপ্তার থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আইনসংগত আদেশ অমান্য করা রয়েছে।এ ছাড়া দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা, অস্ত্র-গোলাবারুদ বা সরঞ্জাম ক্ষতি বা হারানো, অসুস্থতার ভান করা, বলপূর্বক অর্থ আদায়, বেআইনিভাবে জমি দখল, সম্পদ চুরি বা ধ্বংস, অপরাধীকে আটক করতে ব্যর্থ হওয়া এবং জুয়া বা অবৈধ মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকাকেও শৃঙ্খলা লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।১৫ দিনের বেশি আটক থাকলে প্রতি ৭ দিনে প্রতিবেদনকোনো সদস্যের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের অভিযোগ বা আশঙ্কার যৌক্তিক কারণ থাকলে তাকে আটক করার ক্ষমতা রাখা হয়েছে। তবে আটকাদেশ প্রদানকারী কর্মকর্তাকে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে এবং আটক সদস্যকে লিখিতভাবে কারণ জানাতে হবে।কোনো সদস্য ১৫ দিনের বেশি আটক থাকলে প্রতি সাত দিন অন্তর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দিতে হবে। আর “আটককৃত সদস্যের বিরুদ্ধে প্রাথমিক কোনো প্রমাণ না থাকিলে তাহাকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হইবে।”শাস্তি হিসেবে বরখাস্ত, অপসারণ, অবসর ও পদাবনতিএসআরবি সদস্যদের শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের জন্য গুরুদণ্ড ও লঘুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।গুরুদণ্ড হিসেবে চাকরি থেকে বরখাস্ত, অপসারণ, বাধ্যতামূলক অবসর, চাকরি থেকে অব্যাহতি, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পদাবনতি, পদোন্নতি বন্ধ, সর্বোচ্চ এক বছরের জ্যেষ্ঠতা বা বেতন-ভাতা বাজেয়াপ্ত এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করার বিধান রয়েছে।লঘুদণ্ড হিসেবে অনূর্ধ্ব এক মাসের বেতনের সমপরিমাণ জরিমানা, তিরস্কার, অনূর্ধ্ব ৩০ দিনের জন্য কোয়ার্টার গার্ডে আটক, অনূর্ধ্ব ৩০ দিনের জন্য ব্যাটালিয়নে আটক রেখে অতিরিক্ত ড্রিল, গার্ড বা অন্য দায়িত্ব এবং দৈনিক দুই ঘণ্টা করে সর্বোচ্চ ১৪ দিনের জন্য শাস্তিমূলক ড্রিলের বিধান রাখা হয়েছে।তবে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে কোনো সদস্যকে এসব শাস্তি দেওয়া যাবে না।শাস্তির বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে আপিলবিভাগীয় কার্যধারায় দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে আদেশ প্রদানের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে। ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত পুলিশ সুপারের আদেশের বিরুদ্ধে মহাপরিচালক বা তার ক্ষমতাপ্রাপ্ত অতিরিক্ত মহাপরিচালকের কাছে এবং মহাপরিচালকের আদেশের বিরুদ্ধে পুলিশ মহাপরিদর্শকের কাছে আপিল করা যাবে। আপিলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।
বিরাট কোহলি ও আনুশকা শর্মার লন্ডনে বসবাস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা রয়েছে। কেন এই তারকা দম্পতি ভারত ছেড়ে যুক্তরাজ্যে থাকতে চেয়েছেন, তা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা জল্পনা সামনে এসেছে। এবার মাধুরী দীক্ষিতের স্বামী চিকিৎসক ড. শ্রীরাম নেনের একটি পুরোনো সাক্ষাৎকারের বক্তব্য ঘিরে বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।এক পডকাস্টে ড. নেনে দাবি করেছিলেন, আনুশকা শর্মার সঙ্গে লন্ডনে বসবাসের বিষয়টি নিয়ে তার কথাও হয়েছিল। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগত জীবনকে আরও স্বাভাবিকভাবে উপভোগ করা এবং সন্তানদের তুলনামূলকভাবে সাধারণ পরিবেশে বড় করার ইচ্ছা থেকেই লন্ডনকে বেছে নেওয়ার কথা ভেবেছিলেন বিরাট-আনুশকা।ড. নেনের ভাষ্য, ভারতে বিরাট ও আনুশকার মতো অত্যন্ত জনপ্রিয় তারকা দম্পতির পক্ষে ব্যক্তিগত পরিসর ধরে রাখা বেশ কঠিন। বাইরে বের হলে তাদের ঘিরে ভক্তদের আগ্রহ, ক্যামেরা ও ছবি তোলার আবদার নিয়মিতই থাকে। ফলে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনে এর চাপও তৈরি হয়।নেনের দাবি, আনুশকা তাকে জানিয়েছিলেন, অতিরিক্ত মানুষের ভিড় ও সার্বক্ষণিক নজরদারি লন্ডনে যাওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে। সেখানে তুলনামূলকভাবে ব্যক্তিগত পরিসর বজায় রেখে জীবনযাপন করা সম্ভব, এমনটাই তারা চেয়েছিলেন বলে ওই সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দেন তিনি।বিরাট ও আনুশকার দুই সন্তান রয়েছে। পরিবারের জন্য ব্যক্তিগত ও স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টি তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলেও ওই বক্তব্যে উঠে আসে।তবে বিরাট কোহলি ও আনুশকা শর্মা নিজেরা লন্ডনে স্থায়ীভাবে বসবাসের কারণ হিসেবে ড. নেনের এই বক্তব্যকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন, এমন তথ্য নেই। ফলে লন্ডনে তাদের বসবাসের পেছনে ঠিক কোন কারণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তা নিয়ে আলোচনা এখনো মূলত বিভিন্ন প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ওপর নির্ভরশীল।সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় জুটি সালমান শাহ ও শাবনূর। পর্দায় তাদের রসায়ন দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল। তবে একসময় তাদের সম্পর্ক নিয়ে বাস্তব জীবনেও নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি ‘শাবনূরকে বিয়ে করেছেন সালমান শাহ’এমন খবরও প্রকাশিত হয়েছিল বিভিন্ন পত্রিকায়।তৎকালীন সেই গুঞ্জনের মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছিলেন সালমান শাহ। ১৯৯৬ সালের ১৯ জুলাই ঢাকার একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শাবনূরের সঙ্গে তার বিয়ের খবর নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন তিনি। এ সময় তার পাশে ছিলেন বাবা এ কিউ চৌধুরী।মূলত প্রযোজক সমিতির নিষেধাজ্ঞা এবং নিজের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে অবস্থান জানাতেই ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানেই শাবনূরের সঙ্গে বিয়ের গুঞ্জনের প্রসঙ্গ ওঠে।সালমান শাহ জানান, কয়েকটি সাপ্তাহিক পত্রিকায় তাকে ও শাবনূরকে নিয়ে বিয়ের গুজব ছড়ানো হচ্ছে। তবে বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেন তিনি। শাবনূরকে ছোট বোনের মতো জানেন এবং স্নেহ করেন বলেও জানান এই অভিনেতা। পাশাপাশি নিজের বৈবাহিক অবস্থানও স্পষ্ট করে তিনি বলেন, তিনি বিবাহিত।ছেলের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে শাবনূরকে ঘিরে ছড়ানো গুঞ্জন নিয়ে কথা বলেন সালমান শাহর বাবা এ কিউ চৌধুরীও।তিনি বলেন, আমি আমার সন্তানকে জানি। শাবনূরকেও আমি চিনি। সালমান এ কাজ করতেই পারে না। নিশ্চয়ই কেউ ওর বিরুদ্ধে চক্রান্তে নেমেছে।অর্থাৎ, শাবনূরকে বিয়ে করার যে খবর তখন ছড়িয়েছিল, সেটিকে পুরোপুরি গুজব ও ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখেছিলেন সালমান শাহর বাবা।এর আগে ১৯৯৬ সালের এপ্রিল মাসে প্রযোজক সমিতি সালমান শাহকে দুই সপ্তাহের জন্য এফডিসিতে নিষিদ্ধ করেছিল। আগে জানলে টাকা দিয়ে পুরস্কার কিনতাম এমন একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ওই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল বলে সে সময়ের সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ৩ বছরে চার শতাধিক গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একইসঙ্গে বন্ধ সব কারখানার তালিকা তৈরির কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিনের এক প্রশ্নের উত্তরে এসব কথা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।সংসদ সদস্য রুহুল আমিন প্রশ্ন রাখেন, বাংলাদেশে বর্তমানে কতগুলো তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গিয়েছে; সেগুলোর নামের তালিকা কী; বন্ধ হওয়ার কারণ কী এবং তৈরি পোশাক খাতের উন্নয়নে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে কিনা; হয়ে থাকলে, তা কী?জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ৩ বছরে বিজিএমইএ-এর সদস্য ২৮২টি এবং বিকেএমইএ-এর ১২৩টিসহ প্রায় ৪০০-এর অধিক গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়েছে। বন্ধ কারখানার নামের তালিকা সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।কারখানাসমূহ বন্ধের প্রধান প্রধান কারণ হলো—বিশ্বব্যাপী করোনা পরিস্থিতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধ, আমেরিকা-ইরানের মধ্যে ভয়াবহ যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক মন্দা পরিস্থিতি, দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থ পাচারের কারণে ব্যাংকিং সেক্টরে তারল্য সংকট, ইউরোপের সঙ্গে ভারত এবং ভিয়েতনামের FTA চুক্তি; এবং বিদেশি ক্রেতার নিজস্ব মনিটরিংয়ের সুবিধার্থে ছোট ও মাঝারি কারখানায় রপ্তানি আদেশ প্রদানে অনাগ্রহ।বক্তব্যে তৈরি পোশাক খাতের উন্নয়নে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বাজার ধরে রাখার জন্য সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে, রপ্তানিমুখী দেশীয় বস্ত্রখাতে শুদ্ধ বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাক-এর পরিবর্তে বিকল্প নগদ সহায়তা ১.৫০%, ইউরো অঞ্চলে বস্ত্রখাতের রপ্তানিকারকদের জন্য বিদ্যমান ১.৫০%-এর অতিরিক্ত বিশেষ সহায়তা ০.৫০%, রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতের (নিট, ওভেন ও সোয়েটার) অন্তর্ভুক্ত সকল ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের অতিরিক্ত সুবিধা ৩.০০%, তৈরি পোশাক খাতে বিশেষ নগদ সহায়তা ০.৩০%।আরেক সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের আরেক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে, জেলা পর্যায়ে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্স এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে দেশব্যাপী বাজার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।এছাড়া, বাজারে অতিরিক্ত মূল্য আদায়, মজুতদারি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, পণ্যের মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা এবং অন্যান্য অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী জরিমানা ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, বাজারে স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন কর্তৃক সিন্ডিকেট, কার্টেল ও যোগসাজশমূলক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জনস্বার্থে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ এবং দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে সরকারের এসব বাজার মনিটরিং, তদারকি ও আইনানুগ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী অব্যাহত ও অধিকতর জোরদার করা হবে।
১৪ ঘন্টা আগে
সংসারে শান্তি, স্বস্তি ও কল্যাণ চান সবাই। তবে শুধু অর্থ-সম্পদ বা বাহ্যিক স্বাচ্ছন্দ্যই পারিবারিক সুখের নিশ্চয়তা দেয় না। ইসলামে বরকত বলতে বোঝায়—কোনো নিয়ামতে আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন কল্যাণ ও স্থায়িত্ব আসা, যাতে অল্পের মধ্যেও প্রশান্তি ও উপকার পাওয়া যায়। কোরআন-সুন্নাহর আলোকে কিছু আমল ও জীবনাচরণ পরিবারে বরকত ও শান্তি বয়ে আনতে পারে।১. ইমান ও তাকওয়া অবলম্বনপরিবারে বরকতের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো ইমান ও তাকওয়া। মহান আল্লাহ বলেন—وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْقُرَىٰ آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَفَتَحْنَا عَلَيْهِمْ بَرَكَاتٍ مِّنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِঅর্থ: ‘আর যদি জনপদের অধিবাসীরা ইমান আনত ও তাকওয়া অবলম্বন করত, তবে আমি তাদের জন্য আকাশ ও জমিনের বরকতসমূহ খুলে দিতাম।’—সুরা আল-আরাফ, আয়াত: ৯৬তাই পরিবারে আল্লাহভীতি, ইমানি পরিবেশ ও ইসলামী জীবনচর্চা গড়ে তোলা বরকতের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।২. নামাজ ও কোরআন তিলাওয়াতপরিবারের সদস্যদের নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ে অভ্যস্ত করা এবং ঘরে কোরআন তিলাওয়াতের পরিবেশ তৈরি করা উচিত। বিশেষ করে সুরা বাকারা তিলাওয়াতের ব্যাপারে হাদিসে বিশেষ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা তোমাদের ঘরগুলোকে কবর বানিয়ো না। যে ঘরে সুরা বাকারা পাঠ করা হয়, শয়তান সে ঘর থেকে পালিয়ে যায়।’—সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৭৮০৩. ভোরের সময় কাজে লাগানোদিনের শুরুটা ইবাদত ও ভালো কাজে কাটানো বরকতের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর উম্মতের জন্য ভোরের সময় বরকতের দোয়া করেছেন।সাখর ইবনে গামিদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—اللَّهُمَّ بَارِكْ لِأُمَّتِي فِي بُكُورِهَاঅর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমার উম্মতের ভোরবেলায় বরকত দান করুন।’—সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৬০৬; জামে তিরমিজি, হাদিস: ১২১২তাই অযথা ঘুমিয়ে সময় নষ্ট না করে ফজরের নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত ও প্রয়োজনীয় কাজ দিয়ে দিনের শুরু করা ভালো।৪. হালাল উপার্জন ও সদকাসংসারের বরকতের জন্য উপার্জনের পথ হালাল হওয়া অত্যন্ত জরুরি। হারাম উপার্জন বাহ্যিকভাবে সম্পদ বাড়ালেও তাতে প্রকৃত কল্যাণ থাকে না। অন্যদিকে হালাল উপার্জনের পাশাপাশি নিয়মিত সদকা করা এবং আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা উচিত।মহান আল্লাহ বলেন—لَئِن شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْঅর্থ: ‘তোমরা কৃতজ্ঞ হলে অবশ্যই আমি তোমাদের আরও বাড়িয়ে দেব।’—সুরা ইবরাহিম, আয়াত: ৭৫. ঘরে সালাম ও একসঙ্গে খাবারঘরে প্রবেশের সময় পরিবারের সদস্যদের সালাম দেওয়া ইসলামের সুন্দর শিক্ষা। একইভাবে খাবার শুরু করার সময় ‘বিসমিল্লাহ’ বলা এবং সম্ভব হলে পরিবারের সবাই মিলে খাবার খাওয়ার মধ্যেও বরকত রয়েছে।রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা একসঙ্গে খাবার খাও এবং আল্লাহর নাম উল্লেখ করো, তাহলে তাতে তোমাদের জন্য বরকত দেওয়া হবে।’—সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৭৬৪তাই পরিবারের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে একসঙ্গে খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে।৬. আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখাআত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাও জীবনে বরকতের কারণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—مَنْ أَحَبَّ أَنْ يُبْسَطَ لَهُ فِي رِزْقِهِ وَأَنْ يُنْسَأَ لَهُ فِي أَثَرِهِ فَلْيَصِلْ رَحِمَهُঅর্থ: ‘যে ব্যক্তি চায় তার রিজিক প্রশস্ত করা হোক এবং তার আয়ু দীর্ঘ করা হোক, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।’—সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৯৮৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৫৫৭আত্মীয়ের খোঁজ নেওয়া, বিপদে পাশে দাঁড়ানো এবং সম্পর্ক নষ্ট না করা তাই একজন মুসলমানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।তাই সংসারে বরকত পেতে শুধু বেশি অর্থের পেছনে ছুটলেই হবে না। ইমান ও তাকওয়া, নামাজ-কোরআন, হালাল উপার্জন, সদকা, পারিবারিক সৌহার্দ্য ও আত্মীয়তার সম্পর্ক—এসবের মাধ্যমে ঘরে আল্লাহর রহমত ও কল্যাণের পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব।
আমাদের মধ্যে অনেকেই এক কাপ ব্ল্যাক কফি ছাড়া সকাল শুরু করতে পারেন না। এটি সকালের নাস্তার আগে আমাদের সজাগ ও মনোযোগী হতে সাহায্য করতে পারে। খাওয়ার আগে কফি পান করা এবং খাওয়ার পরে কফি পান করা এক জিনিস নয়। খালি পেটে ব্ল্যাক কফি? হ্যাঁ, বেশিরভাগ সুস্থ মানুষই পারেন, কিন্তু এমন কিছু মানুষ আছেন যাদের শরীর এটি সহ্য করতে পারে না। কফি পাকস্থলীর অ্যাসিডও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং কারও কারও পেটে অস্বস্তি বা রিফ্লাক্সের কারণ হতে পারে।খালি পেটে ব্ল্যাক কফি পান করলে কী হয়?ব্ল্যাক কফি স্বাভাবিকভাবেই অ্যাসিডিক। খাওয়ার আগে এটি পান করলে এর প্রভাব প্রশমিত করার জন্য পাকস্থলীতে কোনো খাবার থাকে না। বেশিরভাগ সুস্থ মানুষের জন্য এটি পরিমিত পরিমাণে পান করা ক্ষতিকর নয়। কিন্তু এটি সবার জন্য ভালো অভ্যাস নয়, বিশেষ করে যারা অ্যাসিডিটির ঝুঁকিতে আছেন। খালি পেটে ব্ল্যাক কফি পান করাকে দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করার আগে এর কারণ বোঝা গুরুত্বপূর্ণ।কফি পাকস্থলীকে উত্তেজিত করে অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরি করতে পারে। কেউ কেউ জ্বালাপোড়া বা পেটে অস্বস্তি অনুভব করতে পারেন। ক্যাফেইন অন্ননালীর নিচের স্ফিংটার পেশীকেও শিথিল করে দিতে পারে। এই পেশীটি পাকস্থলীর অ্যাসিডকে খাদ্যনালীতে ফিরে আসতে বাধা দেয়। সংবেদনশীল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি অ্যাসিড রিফ্লাক্সের একটি কারণ হতে পারে।খালি পেটে ব্ল্যাক কফি পান করলে কি অ্যাসিডিটি হতে পারে?কারও কারও ক্ষেত্রে হতে পারে, বিশেষ করে যারা পাকস্থলীর অ্যাসিডের প্রতি সংবেদনশীল, তাদের ক্ষেত্রে কফি অ্যাসিডিটি বা রিফ্লাক্সের উপসর্গ বাড়িয়ে তুলতে পারে। নিউট্রিয়েন্টস-এ প্রকাশিত ২০২২ সালের একটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, কফি পাকস্থলীর অ্যাসিড এবং গ্যাস্ট্রিনের উৎপাদনকে উদ্দীপিত করতে পারে, যা হজম প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে, অ্যাসিড রিফ্লাক্সের ওপর এর প্রভাব ততটা স্পষ্ট নয়।কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে, কফি রিফ্লাক্সের উপসর্গ বাড়িয়ে তুলতে পারে, আবার অন্য গবেষণায় এর কোনো উল্লেখযোগ্য যোগসূত্র পাওয়া যায়নি। পর্যালোচনাটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বেশিরভাগ গবেষণায় কফি পেপটিক আলসারের ঝুঁকি বাড়ায় বলে দেখা যায়নি। গবেষকরা জোর দিয়ে বলেছেন যে ব্যক্তিভেদে প্রতিক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে। কফির ধরন, রোস্টিং, প্রস্তুত প্রণালী এবং এটি খাবারের সঙ্গে পান করা হচ্ছে কি না, এই ধরনের বিষয়গুলো এর প্রভাবকে প্রভাবিত করতে পারে।কাদের সতর্ক থাকা উচিত?সকালের নাস্তায় এক কাপ ব্ল্যাক কফি পান করা সবারই বাদ দেওয়া উচিত নয়। তবে কিছু ব্যক্তিকে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হতে পারে। যাদের অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা জিইআরডি (GERD) আছে তাদের এই অভ্যাস বাদ দিতে হবে, কারণ সকালের কফি এই সমস্যা বাড়িয়ে তুলতে পারে। সংবেদনশীল পাকস্থলী বা গ্যাস্ট্রাইটিস থাকলেও বাদ দিতে হবে, কারণ তখন খালি পেটে কফি অস্বস্তির কারণ হতে পারে। খাবার ছাড়া গ্রহণ করলে ক্যাফেইনকে আরও শক্তিশালী মনে হতে পারে এবং এর ফলে উদ্বেগ বা অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। কফি পানের পর যদি সমস্যাগুলো নিয়মিত ফিরে আসে, তাহলে কোল্ড কফি, খাবারের সঙ্গে কফি অথবা কফি পানের সময় পরিবর্তন করার কথা বিবেচনা করতে পারেন।খালি পেটে ব্ল্যাক কফি পান করার কি কোনো উপকারিতা আছে?যারা কফি ভালোভাবে সহ্য করতে পারেন, তাদের জন্য এর কিছু সাধারণ উপকারিতা থাকতে পারে। চিনি, দুধ বা ক্রিম ছাড়া পান করলে ব্ল্যাক কফিতে ক্যালোরি খুব কম থাকে। ক্যাফেইন সতর্কতা এবং মানসিক স্বচ্ছতা বাড়াতেও সাহায্য করতে পারে, যে কারণে অনেকেই সকালে এটি পছন্দ করেন।কেউ কেউ মনে করেন যে কফি সকালে ঘুম থেকে উঠেই সতর্কতা এবং মানসিক স্বচ্ছতা জাগিয়ে তুলতে সাহায্য করে। হজমের সংবেদনশীলতা নেই এমন সুস্থ মানুষদের জন্য পরিমিত পরিমাণে পান করলে ব্ল্যাক কফি সাধারণত কোনো দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি করে না। তবে খালি পেটে কফি পান করাকে কোনো বিশেষ স্বাস্থ্য বা ওজন কমানোর কৌশল হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
২০৫০ সালের মধ্যে চরম তাপমাত্রার ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের শীর্ষ ৬টি দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।সোমবার ২৬ জানুয়ারি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাতে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার সাসটেইনেবিলিটি’-তে এই গবেষণাটি প্রকাশ হয়।ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার অব্যাহত থাকলে আগামী ২৫ বছরের মধ্যে চরম তাপপ্রবাহে আক্রান্ত বৈশ্বিক জনসংখ্যার হার প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। শিল্প-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় যদি বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়, তবে চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ বিশ্বের ৪১ শতাংশ মানুষ (প্রায় ৩৭৯ কোটি) অসহনীয় তাপমাত্রার মধ্যে বসবাস করবে। ২০১০ সালে এই পরিস্থিতির শিকার জনগোষ্ঠীর হার ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ (১৫৪ কোটি)।
বড় ব্যাটারি, কার্ভড অ্যামোলেড ডিসপ্লে ও উন্নত ক্যামেরা—এই তিন বৈশিষ্ট্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশের বাজারে এসেছে ভিভোর নতুন ৫জি স্মার্টফোন ভিভো ভি৮০ লাইট ৫জি।৭০৫০ এমএএইচ ব্যাটারির পাশাপাশি ফোনটিতে রয়েছে ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেটের ১.৫কে অ্যামোলেড ডুয়াল-কার্ভড ডিসপ্লে।রবিবার ৩০ আগস্ট বাংলাদেশে ফোনটি উন্মোচন করে ভিভো। তরুণদের দৈনন্দিন ব্যবহার ও বিনোদনকে গুরুত্ব দিয়ে ‘স্লে এভরি এজ’ বার্তায় বাজারে আনা হয়েছে ডিভাইসটি।বড় কার্ভড ডিসপ্লে, নতুন ক্যামেরা ডিজাইনভিভো ভি৮০ লাইট ৫জি-তে রয়েছে ৬. ৮৩ ইঞ্চির ১. ৫কে অ্যামোলেড ডুয়াল-কার্ভড ডিসপ্লে। এতে রয়েছে ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট এবং সর্বোচ্চ ২০০০ নিট এইচবিএম উজ্জ্বলতা। ফলে গেমিং, ভিডিও দেখা ও দৈনন্দিন ব্যবহারে মসৃণ ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা পাওয়া যাবে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।ফোনটির পেছনের ক্যামেরা সেটআপে ব্যবহার করা হয়েছে ‘স্কাইলাইন ক্যামেরা’ ডিজাইন। আড়াআড়ি ক্যামেরা বিন্যাস ও আলোর প্রতিফলনের বিশেষ নকশার পাশাপাশি ফোনটি পাওয়া যাবে সিল্ক হোয়াইট ও স্যাফায়ার ব্লু রঙে।৫০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরাক্যামেরা বিভাগে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের সনি ক্লিয়ার নাইট পোর্ট্রেট ক্যামেরা। কম আলোতেও বিস্তারিত ছবি তোলার সুবিধার কথা জানিয়েছে ভিভো।সেলফির জন্য রয়েছে ৩২ মেগাপিক্সেলের গ্রুপ সেলফি ক্যামেরা। এর মাধ্যমে এক ফ্রেমে একাধিক ব্যক্তির ছবি তোলার সুবিধা পাওয়া যাবে বলে দাবি প্রতিষ্ঠানটির।ডাইমেনসিটি ৭৩৬০ টার্বো প্রসেসরপারফরম্যান্সের জন্য ফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ৪ ন্যানোমিটার প্রযুক্তির ৮-কোর ডাইমেনসিটি ৭৩৬০ টার্বো প্রসেসর। সঙ্গে রয়েছে ৮ জিবি র্যাম ও এক্সটেন্ডেড র্যামের সুবিধা।ভিভোর দাবি, সিস্টেম অপটিমাইজেশনের কারণে ফোনটি ৫০ মাস বা তার বেশি সময় ধরে স্মুথ পারফরম্যান্স দিতে সক্ষম হবে।৭০৫০ এমএএইচ ব্যাটারিভি৮০ লাইট ৫জি-এর অন্যতম আকর্ষণ বড় সক্ষমতার ৭০৫০ এমএএইচ ব্লুভোল্ট ব্যাটারি। ধুলা ও পানি থেকে সুরক্ষার জন্য এতে রয়েছে আইপি৬৮ ও আইপি৬৯ রেটিং।দাম শুরু ৫৯,৯৯৯ টাকাবাংলাদেশের বাজারে ফোনটি দুটি স্টোরেজ সংস্করণে পাওয়া যাবে। ৮ জিবি র্যাম ও ১২৮ জিবি স্টোরেজ সংস্করণের দাম ৫৯ হাজার ৯৯৯ টাকা। আর ৮ জিবি র্যাম ও ২৫৬ জিবি স্টোরেজ সংস্করণের দাম ৬৯ হাজার ৯৯৯ টাকা।ক্রেতাদের জন্য সর্বোচ্চ ৯ মাস পর্যন্ত শূন্য শতাংশ সুদে হায়ার পারচেজ ও ইএমআই সুবিধার কথাও জানিয়েছে ভিভো।প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বড় ব্যাটারি, কার্ভড ডিসপ্লে, উন্নত ক্যামেরা, শক্তিশালী প্রসেসর এবং পানি-ধুলা প্রতিরোধী সুরক্ষার সমন্বয়ে ভি৮০ লাইট ৫জি দৈনন্দিন ব্যবহার, ছবি তোলা, গেমিং ও বিনোদনে ব্যবহারকারীদের ভালো অভিজ্ঞতা দেবে।