বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশ ও জনগণের ভাগ্যের উন্নয়ন সাধনই তার সরকারের প্রধান লক্ষ্য এবং জনগণের সুফল নিশ্চিত করে—এমন উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।রোববার (১৬ আগস্ট) কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের মৎস্যসম্পদ বাড়াতে এবং সাধারণ মানুষের জন্য মাছের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে পর্যায়ক্রমে দেশের সব খাল ও জলাশয়ে পোনা মাছ অবমুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন যে কৃষি খাতের টেকসই উন্নয়ন এবং কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার সর্বদা কৃষকদের পাশে থাকবে।নারী শিক্ষা ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কয়েকটি সামাজিক নিরাপত্তা পদক্ষেপের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, নারী সমাজকে স্বাবলম্বী ও শিক্ষিত করে তুলতে স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত নারী শিক্ষা অবৈতনিক করা হবে এবং মেধাবী ছাত্রীদের জন্য বিশেষ উপবৃত্তির ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়া প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের সুবিধাবঞ্চিত ১ লাখ ২০ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনা মূল্যে পোশাক ও স্কুলব্যাগ বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিগত শাসনামলে অপরিকল্পিত পদক্ষেপের কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে যে চরম সংকট তৈরি হয়েছিল, তার মাসুল এখন সাধারণ মানুষকে গুনতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়ে মানুষ দেশকে নতুন দিগন্তে পৌঁছে দিয়েছে। এখন দেশের সার্বিক শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে।প্রধানমন্ত্রী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে যারা জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াবে কিংবা দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও সামাজিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের হারিয়ে ঐতিহাসিক টেস্ট জয় পাওয়ায় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।রবিবার (১৬ আগস্ট) ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশ। দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমেই এমন স্মরণীয় জয় পেলেন টাইগাররা।বাংলাদেশ দল জয় নিশ্চিত করার সময় কিশোরগঞ্জের পথে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ম্যাচ শেষে তিনি ভিডিও কলে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঐতিহাসিক সাফল্যের জন্য তাদের অভিনন্দন জানান। এ সময় তিনি দেশের জনগণের পক্ষ থেকেও ক্রিকেটারদের শুভেচ্ছা জানান।প্রধানমন্ত্রী বলেন, অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে বাংলাদেশের এই জয় দেশের ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। খেলোয়াড়দের দৃঢ় মনোবল, আত্মবিশ্বাস, দক্ষতা ও দলগত প্রচেষ্টার ফলেই এই অসাধারণ সাফল্য এসেছে।তিনি বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন, পরের টেস্টেও দল ভালো খেলবে এবং সিরিজ জয়ের সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেবে।উল্লেখ্য, এই জয়ের মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের দীর্ঘ অপেক্ষারও অবসান হলো। ২৩ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো অস্ট্রেলিয়া সফরে এসে প্রথম টেস্টেই স্বাগতিকদের হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।
বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশ ও জনগণের ভাগ্যের উন্নয়ন সাধনই তার সরকারের প্রধান লক্ষ্য এবং জনগণের সুফল নিশ্চিত করে—এমন উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।রোববার (১৬ আগস্ট) কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের মৎস্যসম্পদ বাড়াতে এবং সাধারণ মানুষের জন্য মাছের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে পর্যায়ক্রমে দেশের সব খাল ও জলাশয়ে পোনা মাছ অবমুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন যে কৃষি খাতের টেকসই উন্নয়ন এবং কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার সর্বদা কৃষকদের পাশে থাকবে।নারী শিক্ষা ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কয়েকটি সামাজিক নিরাপত্তা পদক্ষেপের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, নারী সমাজকে স্বাবলম্বী ও শিক্ষিত করে তুলতে স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত নারী শিক্ষা অবৈতনিক করা হবে এবং মেধাবী ছাত্রীদের জন্য বিশেষ উপবৃত্তির ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়া প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের সুবিধাবঞ্চিত ১ লাখ ২০ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনা মূল্যে পোশাক ও স্কুলব্যাগ বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিগত শাসনামলে অপরিকল্পিত পদক্ষেপের কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে যে চরম সংকট তৈরি হয়েছিল, তার মাসুল এখন সাধারণ মানুষকে গুনতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়ে মানুষ দেশকে নতুন দিগন্তে পৌঁছে দিয়েছে। এখন দেশের সার্বিক শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে।প্রধানমন্ত্রী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে যারা জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াবে কিংবা দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও সামাজিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টেস্ট ক্রিকেটে টানা চারদিন বাংলাদেশের জন্য দুর্দান্ত কাটল। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাটিতেই এভাবে দাপট দেখানো যে কোনো দলের জন্যই স্বপ্ন। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিলো বাংলাদেশ। টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা অজিদের বিপক্ষে ৯ নম্বরের দল অবিশ্বাস্য এক জয়ের দেখা পেল।অস্ট্রেলিয়ার জন্য এই ফল হজম করা কঠিন হবে। তবে বাংলাদেশের জন্য এই অর্জন বহুদিন উপভোগ করার মতো। অস্ট্রেলিয়া ডেরা থেকে টেস্ট জয় এমনিতেই অনেক কঠিন। তার ওপর তাদের যা প্রস্তুতি ছিল, আর প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণের চার জনের প্রত্যেকের ৩০০-এর বেশি টেস্ট উইকেট, সেখানে এমন সাফল্য পাওয়া সত্যিই অসাধারণ। ডারউইন এখন বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে। তাদের টেস্ট ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচিত হলো। অস্ট্রেলিয়া মাটিতে একটি টেস্টের জন্য দীর্ঘ ২৩ বছরের অপেক্ষা পুরোপুরি সার্থক। তারা সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল এবং এই টেস্ট সিরিজটি তারা আর কোনোভাবেই হারবে না।২৩ বছর আগে ডারউইন ও কেয়ার্নসে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছিল বাংলাদেশ। দুই দশকেরও বেশি সময় পর দ্বিতীয়বারের মতো অস্ট্রেলিয়া সফর করল তারা। এই ম্যাচে বাংলাদেশ কতটা লড়াই করতে পারলেই যেন প্রত্যাশা পূরণ হতো! কিন্তু ১৩ আগস্ট প্রথম দিনেই পেসাররা যেভাবে বুলডোজার চালালেন, তাতেই এক অবিস্মরণীয় জয়ের ভিত যেন তৈরি হয়ে গেল।দুই সেশনেরও বেশি সময় অপ্রত্যাশিতভাবে বাংলাদেশের বোলারদের দাপট চলল। দুইশ রানের আগেই অলআউট অস্ট্রেলিয়া! যেন বিশ্বাসই হচ্ছিল না। অবশ্য ধারণা করা হচ্ছিল, মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডের শক্তিশালী বোলিং লাইনআপও একইভাবে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হবে। কিন্তু না, ব্যাটিংয়েও চলল বাংলাদেশের দাপট। তানজিদ হাসান তামিম ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি করলেন। নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজও হাফ সেঞ্চুরিতে বড় স্কোরের শক্ত ভিত গড়ে দিলেন।এই তিন ব্যাটারের অনবদ্য ব্যাটিং এবং টেল এন্ডারের উল্লেখযোগ্য অবদানে বাংলাদেশ ২২৮ রানের বড় লিড নেয়। বিদেশের মাটিতে এর আগে প্রথম ইনিংসে এত বড় লিড কখনও পায়নি তারা। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে গেল চাপ নিয়ে। এবারও হাসান জোড়া আঘাতে তাদের গলা চেপে ধরেন।প্রথম ইনিংসে স্টিভ স্মিথ, আর দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যামেরন গ্রিন বাংলাদেশের ধারালো বোলারদের সামনে যা একটু প্রতিরোধ গড়লেন। দেশের মাটিতে প্রথম সেঞ্চুরিতে অজিদের লিড এনে দেন। কিন্তু বল হাতে মিরাজ দেখালেন ঘূর্ণি জাদু। তাতে লিডটা বড় হলো না। বাংলাদেশের লক্ষ্যও থাকল নাগালের মধ্যে।প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ এবার ডাক মারলেন। এরপর সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক জয়ের বাকি আনুষ্ঠানিকতা সারলেন। প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশকে ৫৪ রানে অলআউট করার স্মৃতি অজিদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে কোনো কাজে দিলো না। ৫৭ রানের লক্ষ্য অনায়াসে পূরণ করে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখল বাংলাদেশ।
যাপিত জীবনে সুখের ব্যবচ্ছেদ করতে গিয়ে অনেকে গেয়ে ওঠেন, ‘সুখেরই পৃথিবী, সুখেরই অভিনয়, যতই আড়ালে রাখো, আসলে কেউ সুখী নয়।’ সম্পর্কের, জীবনের, দেশের কথা বলে— এরকম অসংখ্য গানের ফেরিওয়ালা কিংবদন্তি ব্যান্ড গায়ক আইয়ুব বাচ্চু। যিনি রূপালি গিটারে ছয়তারে মাতিয়েছেন বাংলা ভাষাভাষীদের। ১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট বন্দরনগরী চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার খরনা ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন আইয়ুব বাচ্চু। বাবা ইশহাক চৌধুরী। মা নুরজাহান বেগম। অল্প বয়সেই গানের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে উঠেছিল বাচ্চুর। কলেজে থাকাকালীন বন্ধুদের নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন ব্যান্ড গোল্ডেন বয়েজ। পরে ব্যান্ডটি আগলি বয়েজ নামে পরিচিতি পায়। চট্টগ্রামে বিয়ে, খতনাসহ কোনো অনুষ্ঠানই কনসার্ট ছাড়া কল্পনা করা যায় না। সেসব অনুষ্ঠানে অগ্রাধিকার ব্যান্ডের। ফলে ওই অনুষ্ঠানগুলোতে গান করে, গিটার বাজিয়ে দিব্যি চলে যাচ্ছিল উঠতি বয়সী বাচ্চুর। এলআরবিতে থিতু হওয়ার আগ পর্যন্ত একাধিক ব্যান্ডে জড়িয়েছেন এ রক আইকন। আগলি বয়েজের পর নাম লেখান ফিলিংসে। মূলধারার সংগীতে বাচ্চুকে দাঁড় করাতে ব্যান্ডটির বড় ভূমিকা ছিল। তবে সে সময় তার পরিচিতিটা ছিল গিটারিস্ট হিসেবে। ১৯৮০ সালে গিটারবাদক হিসেবেই যোগ দেন সোলসে। ঐতিহ্যবাহী এ ব্যান্ডের সঙ্গে এক দশক ছিলেন। সোলসে থাকাকালীন-ই গায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ আইয়ুব বাচ্চুর। বিটিভির এক অনুষ্ঠানে ‘ঘুম ভাঙা শহরে’ শিরোনামের একটি মৌলিক গান দিয়ে পথচলা শুরু। অল্পদিনেই গানটি লুফে নেন ব্যান্ডপ্রেমীরা। অনেকের মতে এই গানের মাধ্যমেই দেশে রক সংগীতের বিপ্লব শুরু করেন বাচ্চু। ১৯৯১ সালে সোলস ত্যাগ করে আইয়ুব বাচ্চু গড়ে তোলেন এলআরবি। পরের বছর বাজারে আসে ব্যান্ডটির দ্বৈত অ্যালবাম ‘এলআরবি -১’ ও ‘এলআরবি -২’। প্রথম দানেই দাবার চাল পাল্টে যায় গিটার যাদুকরের ক্যারিয়ারের। অ্যালবামের ‘শেষ চিঠি’, ‘ঘুম ভাঙা শহরে’, ‘হকার’ গানগুলো তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে। বাচ্চু জানান দেন বাংলা ব্যান্ডে নতুন রাজা আসছে। দ্বিতীয় অ্যালবাম আনতে বেশি সময় নেননি। মাঝে এক বছর বিরতি দিয়ে ১৯৯৩ ও ৯৪ সালে ‘সুখ’ ও ‘তবুও’ নামে পরপর দুটি অ্যালবাম আনেন। সেগুলোও পায় প্রথম অ্যালবামের মতো সফলতা। বিশেষ করে ‘সুখ’ অ্যালবামের ‘চলো বদলে যাই’ গানটির জনপ্রিয়তা চলে যায় অন্য পর্যায়ে। আর পেছনে তাকাতে হয়নি রকস্টারকে। একের পর এক শ্রোতাপ্রিয় গান দিয়ে তিনি চলে যান সাফল্যের শীর্ষে। দেশের ব্যান্ড তারকাদের তালিকায় প্রথম স্থানটি নেন দখল করে। দীর্ঘ সংগীত ক্যারিয়ার আইয়ুব বাচ্চুর। এক জীবনে তার অসংখ্য গান পেয়েছে তুমুল জনপ্রিয়তা। কিছু অতিক্রম করেছে কালকে। সেগুলোর মধ্যে রুপালি গিটার, ‘সেই তুমি, তারা ভরা রাতে, উল্লেখযোগ্য। এছাড়া আইয়ুব বাচ্চুর শ্রোতাপ্রিয় গানের তালিকায় রয়েছে ‘এক আকাশের তারা’, ‘এখন অনেক রাত’, ‘উড়াল দেব আকাশে’, ‘আমি বারো মাস তোমায় ভালোবাসি’, ‘হাসতে দেখো গাইতে দেখো’, ‘রূপালি গিটার’ এক চালা টিনের ঘর’, মেয়ে’সহ অসংখ্য গান।অডিওর পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও কণ্ঠ দিয়েছেন বাচ্চু। সেখানেও দেখিয়েছেন জনপ্রিয়তার দাপট। ‘অনন্ত প্রেম’, ‘আম্মাজান’ গানগুলোই তার প্রমাণ। ভক্তরা ভালোবেসে ‘এবি’ ডাকেন তাকে। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত জনপ্রিয়তার হাত ধরে পথ চলেছেন আইয়ুব বাচ্চু। মৃত্যুর আট বছরেও ফিকে হয়নি তা। একদিন ঘুমভাঙা শহরে গান শোনাতে এসেছিলেন। ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবরে এক ঘুমভাঙা সকালে শহর ছেড়ে পাড়ি জমান অনন্তলোকে। তার মৃত্যুতে সেদিন নড়ে উঠেছিল গোটা দেশ।
চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন বাজারে ছোট সাইজের প্রতি কেজি জাটকার দাম ৯০০ টাকা, ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০, এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম প্রায় ২ হাজার এবং দেড় কেজির বেশি ওজনের প্রতি কেজি ইলিশের দাম ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা। অথচ চট্টগ্রামের উপকূলে গত জুলাইয়ে দেড় হাজার টনের বেশি প্রায় ৩৫ লাখ ইলিশ ধরা পড়েছে। চলতি আগস্টেও একই পরিমাণে ইলিশ আহরণ করা হচ্ছে। অথচ বাজারে এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। বাজারে এখনো ইলিশ চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে। চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত জুলাইয়ে চট্টগ্রামের সমুদ্র উপকূল ও নদী থেকে ১ হাজার ৫৭২ টন ইলিশ ধরা পড়েছে। সংখ্যায় এই ইলিশের পরিমাণ ৩৪ লাখ ৯৪ হাজার ৩৭৮টি। সবচেয়ে বেশি ধরা পড়েছে চট্টগ্রাম নগরের উপকূলে এবং সীতাকুণ্ডের সন্দ্বীপ চ্যানেলে। মোট আহরণের প্রায় ৮০ শতাংশই সাগরের ইলিশ। তা ছাড়া গত মাসে সন্দ্বীপ চ্যানেল থেকে ৩ লাখ ৯ হাজার ৪০০টি ইলিশ আহরণ করা হয়েছে।এর পরিমাণ ১০৩ মেট্রিক টন। জুলাইয়ে চট্টগ্রামে আহরিত মোট ইলিশের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই এসেছে সন্দ্বীপ চ্যানেল থেকে। আন্দরকিল্লা মোড়ে ইরশাদুল আলম নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘বিক্রেতারা ফালি ফালি করে ইলিশ সাজিয়ে রাখছেন। কিন্তু দাম আকাশচুম্বি। দাম দেখে না কিনেই চলে যাচ্ছি।’ চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম বলেন, এখন মাছ আহরণ করা হচ্ছে। তবে তা চাহিদার তুলনায় কম। তবে সামনে আরও বেশি পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়বে। তখন দাম কিছুটা কমবে। কিন্তু বর্তমানে তো আগের তুলনায় জেলেদের জ্বালানি তেলসহ আনুষঙ্গিক খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই হয়তো দামও একটু বেশি। নগরের রানী রাসমণি ঘাট এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেখানে প্রতি মণ ইলিশ ২৪ থেকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঘাটেই প্রতি কেজি ইলিশের দাম পড়ছে ৬২০-৬৪০ টাকা। এর সঙ্গে যোগ হয় পরিবহন, আড়তদারি ও অন্যান্য খরচ। ফলে খুচরা বাজারে দাম আরও বেড়ে যাচ্ছে। মৎস্য ব্যবসায়ী ও জেলেরা বলছেন, ইলিশ আহরণে তাদের খরচ বেড়েছে।বিশেষ করে জ্বালানি তেলসহ নৌকা পরিচালনা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় মাছ ধরতে আগের তুলনায় বেশি ব্যয় হচ্ছে। ফলে আহরিত ইলিশ বাজারজাত করতে সেই বাড়তি খরচও দামের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।এদিকে জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে অমাবস্যার জো (জো মানে অমাবস্যা ও পূর্ণিমার তিথিতে নদী বা সমুদ্রের পানি ফুলে ওঠার সময়) চলছে। এ সময় সাগর ও নদীতে মাছের চলাচল এবং আহরণের সুযোগও বাড়ে। তাই জেলেরা সাগরে গিয়ে ইলিশ পাচ্ছেন। এখন যে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে, তা আকারে ছোট। ৫০০ গ্রামও হবে না। এমন ইলিশের দামও কেজিপ্রতি ১ হাজার ৫০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে।
২ ঘন্টা আগে
দোয়া মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত। এর মাধ্যমে বান্দা নিজের প্রয়োজন, দুর্বলতা, ভয়, আশা ও আকাঙ্ক্ষা আল্লাহর কাছে তুলে ধরে। আমাদের সমাজে অনেকের ধারণা, দোয়া করতে হলে আরবি ভাষা জানতে হবে। কিন্তু নামাজের বাইরে সাধারণ দোয়ার ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন নয়। একজন মানুষ নিজের ভাষায়ও আল্লাহর কাছে মনের কথা বলতে পারেন। দোয়ার মূল বিষয় ভাষার সৌন্দর্য নয়; বরং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস, বিনয় ও আন্তরিকতা।তবে শুরুতেই একটি বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন- নামাজের ভেতরের দোয়া এবং নামাজের বাইরের সাধারণ দোয়ার বিধান এক নয়। নামাজের ভেতরে অন্য ভাষায় দোয়া করার বিষয়ে ফকিহদের সতর্কতা রয়েছে। আর নামাজের বাইরে নিজের ভাষায় আল্লাহর কাছে প্রয়োজন তুলে ধরার বিষয়টি ভিন্ন।মাসনুন দোয়া অগ্রাধিকার, না জানলে নিজের ভাষায়দোয়ার ক্ষেত্রে কোরআনে বর্ণিত দোয়া এবং রাসুলুল্লাহ (স.)-এর শেখানো মাসনুন দোয়াগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া উত্তম। এসব দোয়ায় একজন মুমিন কী চাইবে এবং কীভাবে তার রবের কাছে চাইবে, তার সুন্দর শিক্ষা রয়েছে।কোরআনে নবী-রাসুল ও নেককার বান্দাদের বহু দোয়া বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স.)-ও সাহাবিদের বিভিন্ন প্রয়োজন ও পরিস্থিতির জন্য অনেক দোয়া শিখিয়েছেন। তাই এসব দোয়া শেখা ও অর্থ বুঝে পড়ার চেষ্টা করা উচিত।তবে সবার পক্ষে সব মাসনুন দোয়া মুখস্থ রাখা সম্ভব হয় না। অনেকের আরবি পড়তে বা বুঝতে অসুবিধা হয়। আবার ব্যক্তিগত জীবনে এমন অনেক প্রয়োজন দেখা দেয়, যার জন্য নির্দিষ্ট কোনো মাসনুন দোয়া জানা নাও থাকতে পারে। এমন ক্ষেত্রে নামাজের বাইরে নিজের মাতৃভাষায় আল্লাহর কাছে মনের কথা বলা যেতে পারে।দোয়ার শুরু হোক আল্লাহর প্রশংসায়দোয়ার কিছু আদব রয়েছে। এর মধ্যে আল্লাহর প্রশংসা করা এবং রাসুলুল্লাহ (স.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করা অন্যতম। ফাদালা ইবনে উবাইদ (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি দোয়া করার সময় আল্লাহর প্রশংসা ও নবী (স.)-এর ওপর দরুদ পাঠ না করেই দোয়া শুরু করলে রাসুলুল্লাহ (স.) তাকে তাড়াহুড়ো করেছে বলে উল্লেখ করেন। এরপর তিনি আল্লাহর প্রশংসা, নবী (স.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করে দোয়া করতে বলেন। (সুনান আবু দাউদ: ১৪৮১)তাই বাংলায় দোয়া করলেও শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা ও দরুদ পাঠ করা উত্তম। এরপর নিজের প্রয়োজনের কথা বিনীতভাবে বলুন।সহজ ভাষায় বলুন মনের কথাআল্লাহর কাছে দোয়া করার জন্য কঠিন, অলংকারপূর্ণ বা সাহিত্যিক ভাষার প্রয়োজন নেই। যে ভাষায় একজন মানুষ নিজের কথা সবচেয়ে ভালোভাবে প্রকাশ করতে পারেন, সে ভাষায়ই তিনি তাঁর রবের কাছে প্রয়োজন জানাতে পারেন।কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘আমি তো নিকটেই। আহ্বানকারী যখন আমাকে আহ্বান করে, আমি তার আহ্বানে সাড়া দিই।’ (সুরাবাকারা: ১৮৬)তাই দোয়ার সময় নিজের ভয়, দুশ্চিন্তা, অসহায়ত্ব কিংবা ভবিষ্যতের আশা আল্লাহর কাছে তুলে ধরা যায়। তবে শব্দের চেয়ে অন্তরের অবস্থা ও আল্লাহর প্রতি আস্থা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।দোয়ায় থাকুক দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণদোয়া শুধু দুনিয়াবি চাওয়া-পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখাই উত্তম। একজন মুমিনের দোয়ায় দুনিয়া ও আখেরাত দুই জীবনের কল্যাণই থাকা উচিত।কোরআনে শেখানো হয়েছে- ‘হে আমাদের রব, আমাদের দুনিয়াতেও কল্যাণ দিন এবং আখেরাতেও কল্যাণ দিন এবং আমাদের আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।’ (সুরা বাকারা: ২০১)এ দোয়ায় দুনিয়ার কল্যাণ, আখেরাতের কল্যাণ এবং জাহান্নামের শাস্তি থেকে মুক্তি সবই চাওয়া হয়েছে। তাই কোরআন ও সুন্নাহর দোয়াগুলো অর্থ বুঝে শেখার চেষ্টা করা ভালো।সেজদায় দোয়া ও নামাজের বিধানসেজদা দোয়ার জন্য বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ সময়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, বান্দা সেজদার অবস্থায় তার রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী থাকে। তাই সে সময় বেশি বেশি দোয়া করতে বলা হয়েছে। (সহিহ মুসলিম: ৪৮২)তবে নামাজের সেজদায় বাংলায় দোয়া করার বিষয়টি আলাদা। নামাজের ভেতরে মাসনুন আরবি দোয়া পড়াই সতর্কতামূলক ও উত্তম। আর নামাজের বাইরে হাত তুলে বা অন্য বৈধ সময়ে নিজের ভাষায় আল্লাহর কাছে দোয়া করা যেতে পারে।দোয়া কবুলে হালাল উপার্জনের গুরুত্বদোয়ার সঙ্গে মানুষের জীবনযাপনেরও সম্পর্ক রয়েছে। হালাল উপার্জন ও হালাল খাদ্যের ব্যাপারে ইসলাম বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।রাসুলুল্লাহ (স.) এমন এক ব্যক্তির কথা বলেছেন, যে দীর্ঘ সফরে রয়েছে, এলোমেলো চুল ও ধুলোমলিন অবস্থায় হাত তুলে আল্লাহর কাছে দোয়া করছে। কিন্তু তার খাবার, পানীয়, পোশাক ও আহার্য হারাম। এরপর বলা হয়েছে, এমন ব্যক্তির দোয়া কীভাবে কবুল হবে? (সহিহ মুসলিম: ১০১৫)হাদিসটি দোয়ার সঙ্গে হালাল জীবনযাপনের গুরুত্ব মনে করিয়ে দেয়। তাই দোয়ার পাশাপাশি নিজের উপার্জন, খাবার ও জীবনযাপনও হালাল রাখার চেষ্টা করা জরুরি।দ্রুত ফল না পেলেও হতাশ নয়দোয়া করার পর প্রত্যাশিত ফল দ্রুত না এলে অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েন। কিন্তু রাসুলুল্লাহ (স.) দোয়ার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করতে নিষেধ করেছেন।সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, ‘বান্দার দোয়া সর্বদা গৃহীত হয় যদি না সে অন্যায় কাজ অথবা আত্মীয়তার সম্পর্কচ্ছেদ করার জন্য দোয়া করে এবং তাড়াহুড়া না করে। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল! তাড়াহুড়া করা কি? তিনি বললেন, সে বলতে থাকে, আমি দোয়া তো করেছি, কিন্তু আমি দেখতে পেলাম না যে, তিনি আমার দোয়া কবুল করেছেন।’ (সহিহ মুসলিম: ২৭৩৫)তাই দোয়া করে ধৈর্য ধরতে হবে। কখন, কীভাবে এবং কোন সময়ে কোনো দোয়ার ফল দেওয়া হবে, তা আল্লাহই ভালো জানেন। বান্দার দায়িত্ব হলো তাঁর কাছে চাওয়া এবং তাঁর ওপর আস্থা রাখা।দোয়া হোক আন্তরিকদোয়ার জন্য আন্তরিকতাপূর্ণ ও বিনয় ভাব প্রকাশ পায় এমন সুন্দর শব্দ জানা ভালো; এক্ষেত্রে কোরআন ও সুন্নাহর দোয়া উত্তম। তবে আরবি ভাষার দোয়া জানা না থাকলে কেউ যেন আল্লাহর কাছে নিজের কথা বলতে সংকোচ বোধ না করেন। নামাজের বাইরে নিজের ভাষায় তিনি তাঁর প্রয়োজন, অনুতাপ, ভয়, আশা ও আকাঙ্ক্ষা আল্লাহর কাছে তুলে ধরতে পারেন।দোয়ার প্রাণ হলো আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস, বিনয় ও আন্তরিকতা। আল্লাহ আমাদের দোয়া কবুল করুন। আমিন।তথ্যসূত্র: সুরা বাকারা: ১৮৬, ২০১; সহিহ মুসলিম: ৪৮২, ১০১৫, ২৭৩৫; সুনান আবু দাউদ: ১৪৮১
চলছে বর্ষার মৌসুম। আর বর্ষার শুরুতেই বাড়িতে মশার উপদ্রব বহুগুণ বেড়ে গেছে। ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া কিংবা চিকুনগুনিয়ার মতো মারাত্মক মশাবাহিত রোগের ভয়ে আমরা অনেকেই বাজারচলতি কেমিক্যালযুক্ত স্প্রে, লিকুইড বা মশারি কয়েল ব্যবহার করে থাকি। তবে এসব কয়েল বা কেমিক্যাল স্প্রে থেকে নির্গত ধোঁয়া আমাদের ফুসফুসের জন্য অত্যন্ত মারাত্মক ক্ষতিকর, যা শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি কিংবা হাঁপানির মতো শারীরিক সমস্যা ডেকে আনতে পারে। মশাবাহিত রোগের হাত থেকে পরিবারকে বাঁচাতে ক্ষতিকর কেমিক্যাল কয়েলের মোহ ত্যাগ করে আজই বেছে নিন রান্নাঘরের সহজ উপাদান রসুন। প্রকৃতির এই সহজ টোটকায় আপনার ঘর থাকবে সতেজ, স্বাস্থ্যকর ও পুরোপুরি মশামুক্ত।কিন্তু আপনি কি জানেন? আমাদের রান্নাঘরের অতিপরিচিত একটি মসলা দিয়েই কোনো প্রকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই মশা চিরতরে বিদায় করা সম্ভব? সেটি হলো— রসুন। হাজার বছর ধরে আয়ুর্বেদে রসুনকে বিভিন্ন পোকামাকড় ও মশা তাড়ানোর প্রাকৃতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। রসুনে থাকা বিশেষ সালফার যৌগ এবং এর তীব্র গন্ধ মশার স্নায়ুতন্ত্রে প্রভাব ফেলে, যার ফলে মশা নিমেষে ঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়।জেনে নিন কোনো প্রকার কেমিক্যাল ছাড়াই রসুন ব্যবহার করে ঘরকে মশা মুক্ত রাখার কয়েকটি সহজ ঘরোয়া উপায়—১. রসুন মশা তাড়াতে কেন এত কার্যকরী?রসুনের মধ্যে 'অ্যালিসিন' নামক একটি শক্তিশালী সালফারযুক্ত উপাদান থাকে। এই অ্যালিসিনের তীব্র ও ঝাঁজালো গন্ধ মানুষের নাকে সহনীয় হলেও মশা কিংবা অন্যান্য উড়ন্ত পতঙ্গের সংবেদনশীল একেবারেই সহ্য করতে পারে না।মশা মানুষের শরীরের ঘাম ও কার্বন ডাই অক্সাইডের গন্ধ শুঁকে রক্ত চুষতে আসে। কিন্তু রসুনের ঝাঁঝালো বাষ্প বাতাসে ছড়িয়ে পড়লে মশা তার শিকার খোঁজার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে এবং ঘরের কাছাকাছি আসতে ভয় পায়।২. প্রাকৃতিক স্প্রে রসুনের হোমমেড১০-১২ কোয়া রসুন খোসা ছাড়িয়ে ভালো করে থেঁতলিয়ে নিন। এরপর ১ কাপ পানিতে সেই রসুন সেদ্ধ করে নিন মিনিট পাঁচেক। পানি ঠান্ডা হলে ছেঁকে একটি স্প্রে বোতলে ভরে নিন। এরপর ঘরের কোণে, পর্দা, জানালার ফাঁকে, খাটের নিচে বা বারান্দায় এই পানি স্প্রে করুন। রসুনের প্রাকৃতিক বাষ্পে ঘরের সব মশা সঙ্গে সঙ্গে পালিয়ে যাবে। মশা তাড়াতে রসুন ও নারিকেল তেলের বডি লোশন ব্যবহার করুন। ২ চামচ রসুনের রসের সঙ্গে ৩ চামচ বিশুদ্ধ নারিকেল তেল কিংবা নিম তেল ভালো করে মিশিয়ে নিন। সন্ধ্যায় ঘরে বা বাইরে বেরোনোর সময় হাত-পায়ে হালকা করে মেখে নিন। রসুনের গন্ধের কারণে মশা আপনার কাছাকাছি ঘেঁষতে পারবে না। এই তেল সম্পূর্ণ নিরাপদ ও ত্বকের জন্য উপকারী।রসুন ও লবঙ্গের ধূপ দিয়ে মশা তাড়ানোর যায়। কয়েকটি রসুনের কোয়া খোসাসহ থেঁতলিয়ে একটি ছোট বাটিতে রাখুন। এরপর ৫-৬টি আস্ত লবঙ্গ ও কয়েক ফোঁটা কর্পূরের তেল বা সরষের তেল দিন।এরপর ঘরের কোণে বা জানালার কাছে এ বাটিটি রেখে দিন। লবঙ্গ ও রসুনের সম্মিলিত ঝাঁজালো গন্ধে ঘরে মশা ঢুকতেই পারবে না।আবার রসুন সেদ্ধ বাষ্পীয় পদ্ধতি ব্যবহার করুন। সন্ধ্যার সময় যখন ঘরে মশার উপদ্রব সবচেয়ে বেশি হয়, তখন একটি পাত্রে জল ও এক মুঠো থেঁতো করা রসুন দিয়ে ফুটিয়ে নিন। ফুটন্ত পানির বাষ্প পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়তে দিন। রসুনের এই ভাপ ঘরের বাতাস থেকে মশাকে নিমেষে তাড়িয়ে দেবে।আর সহজ উপায়ে মশা আটকানো বা প্রতিরোধ করতে রসুনের কোয়া মাঝখান থেকে কেটে জানালার গ্রিলে বা দরজার পাশে রেখে দিন। রসুনের কাটা অংশের তীব্র তাজা গন্ধ বাইরের মশাকে ভেতরে প্রবেশ করতে বাধা দেয়।শিশু ও বয়স্কদের জন্য মশা তাড়ানোর নিরাপদ স্থান। ঘরে ছোট শিশু কিংবা হাঁপানির রোগী থাকলেও রসুনের স্প্রে ব্যবহারে কোনো শ্বাসকষ্ট বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নাই।
২০৫০ সালের মধ্যে চরম তাপমাত্রার ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের শীর্ষ ৬টি দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।সোমবার ২৬ জানুয়ারি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাতে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার সাসটেইনেবিলিটি’-তে এই গবেষণাটি প্রকাশ হয়।ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার অব্যাহত থাকলে আগামী ২৫ বছরের মধ্যে চরম তাপপ্রবাহে আক্রান্ত বৈশ্বিক জনসংখ্যার হার প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। শিল্প-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় যদি বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়, তবে চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ বিশ্বের ৪১ শতাংশ মানুষ (প্রায় ৩৭৯ কোটি) অসহনীয় তাপমাত্রার মধ্যে বসবাস করবে। ২০১০ সালে এই পরিস্থিতির শিকার জনগোষ্ঠীর হার ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ (১৫৪ কোটি)।
পড়াশোনা, অফিসের কাজ কিংবা বিনোদন, সবকিছুর জন্যই ইন্টারনেট অত্যন্ত জরুরি। আর এই কাজের জন্য ঘরে ঘরে এখন ব্যবহার করা হয় ওয়াইফাই রাউটার। তবে অনেক সময় রাউটারের স্পিড কমে গেলে ইন্টারনেটের গতি বাড়াতে মানুষ নানা রকম কৌশল খুঁজতে শুরু করে। ইদানীং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি অদ্ভুত কৌশল বেশ ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে, রাউটারের ওপর একটি পাঁচ টাকার কয়েন রাখলেই নাকি ইন্টারনেটের স্পিড দ্বিগুণ হয়ে যায়। অনেকের ধারণা, এই কয়েন সিগন্যালের দিক পরিবর্তন করে কানেক্টিভিটি উন্নত করতে সাহায্য করে। কিন্তু এই দাবির সত্যতা কতটুকু? এর পেছনে কি কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে, নাকি এর ফলে হিতে বিপরীত হতে পারে? চলুন জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত।রাউটারের ওপর কেন কয়েন রাখা হচ্ছে?ভাইরাল হওয়া দাবিগুলোতে বলা হচ্ছে, কয়েনের ধাতু রাউটার থেকে নির্গত তরঙ্গকে প্রতিফলিত বা অন্য দিকে ঘুরিয়ে দিতে পারে। যে ঘরে নেটওয়ার্ক ঠিকমতো পৌঁছায় না, সেভাবে কয়েন রাখলে নাকি ওয়াইফাই সিগন্যাল সহজে পৌঁছে যায়। এমনকি কিছু মানুষ নেটওয়ার্কে সামান্য উন্নতির দাবিও করছেন। তবে টেলিকম ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা একে স্রেফ একটি ভ্রান্ত ধারণা হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছেন এবং এর কোনো প্রযুক্তিগত বা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছেন।ধাতব বস্তু রাউটারের জন্য কেন ক্ষতিকর?প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা কখনোই রাউটারের ওপর বা তার কাছাকাছি কোনো ধাতব বস্তু রাখার পরামর্শ দেন না। এর পেছনে রয়েছে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ-সিগন্যাল দুর্বল হওয়া: ধাতু ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বা সেগুলোর গতিপথ এলোমেলো করে দিতে পারে। ফলে ইন্টারনেট সিগন্যাল শক্তিশালী হওয়ার পরিবর্তে উল্টো আরও দুর্বল হয়ে যায়।রাউটার অতিরিক্ত গরম হওয়া: রাউটারের ওপর কয়েন বা অন্য কোনো ভারী বস্তু রাখলে তার ভেন্টিলেশন বা বাতাস চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে রাউটার অতিরিক্ত গরম হয়ে ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।যেভাবে ওয়াইফাই সিগন্যাল বাড়াবেনকয়েন রাখার মতো অবৈজ্ঞানিক কৌশল বাদ দিয়ে ঘরের ইন্টারনেটের স্পিড এবং কভারেজ বাড়াতে কিছু কার্যকরী নিয়ম মেনে চলতে পারেন-সঠিক স্থান নির্বাচন: রাউটার সবসময় ঘরের মাঝামাঝি এবং কিছুটা উঁচুতে স্থাপন করুন। এতে বাড়ির সব কোণায় সমানভাবে সিগন্যাল পৌঁছাতে পারে।দূরত্ব বজায় রাখুন: মোটা দেওয়াল, লোহার আলমারি কিংবা বড় আসবাবপত্রের পেছনে রাউটার রাখা থেকে বিরত থাকুন।ইলেকট্রনিক যন্ত্র থেকে দূরে রাখুন: মাইক্রোওয়েভ ওভেন, কর্ডলেস ফোন এবং টেলিভিশনের কাছাকাছি রাউটার রাখবেন না। কারণ এসব যন্ত্র ওয়াইফাই সিগন্যালে বড় ধরনের ইন্টারফেয়ারেন্স বা বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে।নিয়মিত রিস্টার্ট: সপ্তাহে অন্তত এক-দুবার রাউটার রিস্টার্ট করুন। এতে এর মেমোরি পরিষ্কার হয় এবং পারফরম্যান্স কিছুটা উন্নত হয়।এক্সটেন্ডার ব্যবহার: বাড়ি অনেক বড় হলে বা সিগন্যাল ডেড-জোন (যেখানে নেটওয়ার্ক পৌঁছায় না) থাকলে ওয়াইফাই এক্সটেন্ডার বা মেশ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারেন।