দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও আট শিশু মারা গেছে। যা চলতি মাসের এখন পর্যন্ত এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু।বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় আরো ১৯৭ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, গেল ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারাদেশে হাম আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯৫ জনের। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে ৬৮৪ জন প্রাণ হারিয়েছে।হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ২৯৮ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরেই আছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ৯৪ জন। এছাড়া রাজশাহীতে ৮৯, চট্টগ্রামে ৫৫, বরিশালে ৪৩, ময়মনসিংহে ৬৫, খুলনায় ৩১ ও রংপুর বিভাগে ৯ জন মারা গেছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, গেল ২৪ ঘণ্টায় আরো ৯৭৪ জন হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এসেছে। তাদের মধ্যে ভর্তি হয়েছে ৯৪১ জন।ঢাকা বিভাগে ভর্তি ৩২০ জন, রাজশাহীতে ২৯, সিলেটে ৯২, চট্টগ্রামে ২৪০, বরিশালে ১১৪, ময়মনসিংহে ৫৮, খুলনায় ৭৫, রংপুরে ১৩ জন।এ নিয়ে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম রোগী ভর্তির সংখ্যা দাঁড়াল ৯৭ হাজার ৮১৯ জন। যার মধ্যে ৯৪ হাজার ২৭৫ জন হাসপাতাল ছেড়েছে।আর দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ১৫ হাজার ১৩৮। আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৪ হাজার ১০৪।
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে হলে ভারতের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন বলে মনে করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা আশা করব, শেখ হাসিনাসহ যেসব আসামি ওখানে রয়েছেন, বাংলাদেশে যাদের বিচার হয়েছে এবং বিচার হওয়া প্রয়োজন; বাংলাদেশ সরকার থেকে আমরা যে বারবার তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি, চিঠি দিচ্ছি; সেগুলো তারা রেসপন্স করবে এবং ডিপ্লোম্যাটিক চ্যানেলে আরও ত্বরান্বিত করে তাদের ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে।বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।শামা ওবায়েদ বলেন, শেখ হাসিনা ইস্যুতে আমি মনে করি না যে এখানে ভারত আর বাংলাদেশের সম্পর্কের কোনো ব্যাঘাত ঘটবে। সম্পর্ক সম্পর্কের জায়গায় থাকবেই এবং একটি দেশের সঙ্গে আরেকটি দেশের সম্পর্ক বহুমাত্রিক হয়।তিনি বলেন, আমাদের এক্সচেঞ্জ থাকবে, ডায়লগ চলমান থাকবে। আপনারা দেখেছেন যে বিমসটেকের একটি মিটিংয়ে আমাদের উপদেষ্টা (ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম) ভিজিট করছেন। এটা তো একটা চলমান প্রক্রিয়া, সেটা থাকবেই। কিন্তু এটা বাংলাদেশের মানুষের জন্য, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য, বাংলাদেশের ইতিহাসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই জুলাই মাসে এটা বলতেই হবে, যারা রক্ত দিয়েছে, যারা মারা গেছে, যারা আহত অবস্থায় রয়েছে, তাদের পরিবারের জন্য একটা ক্লোজার দরকার। তারাও দেখতে চায় যে, যারা তাদের ছেলে-মেয়েদের খুন করেছে, আহত করেছে, তাদের বিচার হচ্ছে। সবকিছু মিলিয়ে বাংলাদেশ সরকার আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছে এবং আমরা চাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এগুলো ত্বরান্বিত হোক।এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে গেছেন। এই যে জুলাই মাসটা চলছে, যেখানে এখন দাবিটা আরও জোরালো হচ্ছে যে—যাদের সাজা হয়ে গেছে, তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে দেশের মাটিতে বাংলাদেশের মানুষ তাদের সাজার কার্যকর হওয়াটা দেখতে চায়।তিনি বলেন, আমরা একাধিকবার আপনাদের বলেছি যে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এবং আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুজনেই এটা উল্লেখ করেছেন এবং ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে আইনি প্রক্রিয়াটা কী। যেহেতু সাজা হয়ে গেছে, সেহেতু একজন আসামির আইনগতভাবে আত্মসমর্পণের আর কোনো সুযোগ নাই। সুতরাং, যখনই তিনি বাংলাদেশে আসবেন, তাকে অ্যারেস্ট করা হবে—এটাই আইনগতভাবে হবে।এখন উনি কীভাবে আসবেন? আমরা এক্সট্রাডিশন ট্রিটি অনুযায়ী আমাদের কমিউনিকেশন ইন্টারিম (অন্তর্বর্তীকালীন) পর্যায় থেকে শুরু করেছি। যেমন—হাসিনার মতো আসামি, হাদি হত্যাকাণ্ডের আসামি এরা ভারতে আছে। তারা কীভাবে ফেরত আসবে, সেটা যদি এক্সট্রাডিশন ট্রিটি অনুযায়ী আসে, তাহলে সেটার আইনগত নিয়ম আছে এবং ডিপ্লোম্যাটিক কিছু নর্মস আছে। এই দুটো ফলো করেই হয়তো উনি ফেরত আসবেন এবং আসার সাথে সাথেই অ্যারেস্ট হবেন।শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে চাইলে ট্রাভেল ডকুমেন্ট দেওয়া হবে কিনা-জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাসপোর্ট, ভিসা; এই কাজকর্মগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখে। তাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়তো ভালো জবাব দিতে পারবে যে উনার কী ধরনের ট্রাভেল ডকুমেন্টস লাগবে। কিন্তু আমি সাধারণভাবে যেটা বুঝি যে, সেটা অবশ্যই ভারত সরকারের সাহায্যেই হবে। তিনি বলেন, ভারত সরকারের এখানে একটা রোল রয়েছে। সুতরাং, এক্সট্রাডিশন ট্রিটি অনুযায়ী যদি ভারত সরকার এটা ত্বরিত গতিতে করে, ডিপ্লোম্যাটিক চ্যানেলটা যদি তারা ত্বরান্বিত করে, তাহলে সেই অনুযায়ী ডকুমেন্টস হবে। একজন ব্যক্তির এক দেশ থেকে আরেক দেশে যাওয়ার জন্য জাস্ট একটা পিকচারসহ ট্রাভেল ডকুমেন্ট লাগে, যে 'ওই ব্যক্তিই সেই ব্যক্তি'। সেরকম একটা ডকুমেন্ট হয়তো ভারত সরকারও প্রোভাইড করতে পারে, বাংলাদেশ সরকারও করতে পারে বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভালো বলতে পারবে।
সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সুখী-সমৃদ্ধ বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। যে যার অবস্থান থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে জনপ্রশাসন সভাকক্ষে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ কথা জানান।তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর একটি প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধিরা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করেছেন। তিনি অধীর আগ্রহে তাদের বক্তব্য শুনেছেন।উপ-প্রেস সচিব বলেন, এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘এখনকার যুদ্ধটা অনেক বড়। এখানে টিকে থাকতে হলে, আগামীতে সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে, ঐক্যবদ্ধভাবে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’সুজন মাহমুদ জানান, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে দেশের অবিচ্ছেদ অংশ হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তিনি এবং তার সরকার এমন একটা দেশ গড়ে তুলতে কাজ করছেন যেখানে কোনো জাতি-গোষ্ঠীর বৈষম্য থাকবে না। সবার জন্য প্রত্যাশিত বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে চান তিনি। কাউকে আলাদা মনে করেন না।বৈঠকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে সমতলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভূমির মালিকানা সমস্যা সমাধানে ভূমি কমিশন গঠন, আদিবাসী অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য জাতীয় কনভেনশন অনুষ্ঠান, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শব্দের পরিবর্তে গোত্র ভিত্তিক পরিচয় প্রদান, আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, কেন্দ্রীয় কালচারাল সেন্টার, বিভিন্ন প্রকল্পের নামে বা রিজার্ভ বনাঞ্চল থেকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বসতি উচ্ছেদ বন্ধ করা এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য ঋণ সুবিধা প্রদানের দাবি উপস্থাপন করা হয়।এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমাদের ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। দেশের সব প্রতিষ্ঠান, দেশের অর্থনীতি ফ্যাসিস্ট সরকার ধ্বংস করে গেছে। প্রতি বছর ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হতো। এভাবে যদি অর্থ পাচার না হতো তাহলে আপনাদের (ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী) অনেক সমস্যা সমাধান হয়ে যেত।’তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকার পর্যায়ক্রমে যেগুলো সমাধানযোগ্য সেগুলো আগে সমাধান করার চেষ্টা করছে।’দেশের বিরাজমান সমস্যার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘দেশে এত এত সমস্যা এখনো বিরাজমান দেখে এখনো বিস্মিত হই। কেননা ১৭ বছর তো এগুলো অ্যাড্রেস হওয়ার কথা ছিল। সে সময় এগুলো যদি অ্যাড্রেস করা হতো, তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যেত।’তিনি বলেছেন, ‘আগে এত উন্নয়নের গল্প শুনতাম সেগুলো আসলে কোথায়? এখন সব চাপ টা এসেছে আমাদের সরকারের ওপরে। এই সরকারের ওপরে জনগণের প্রত্যাশা অনেক। আমরা চেষ্টা করছি সেই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে।’দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ফ্যাসিস্ট সরকার ধ্বংস করে দিয়েছে, এই অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকারের নেয়া উদ্যোগগুলো প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে তুলে ধরেছেন বলে জানান উপ-প্রেস সচিব।প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘ওরা একটা জেনারেশকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যাত্রা শুরু করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তার সময়ে ৩১ বেডের হাসপাতাল স্থাপিত হয়েছে। তারপর আমাদের সরকার যখন ক্ষমতায় এসেছে ততবারই সেটার উন্নয়ন হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পর সেটা ৫০ বেডে উন্নীত করা হয়েছে। এখন আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ১০১ বেডে উন্নীত করার।’‘অথচ আগের সরকার ইউনিয়ন ভিত্তিক কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছিলো। কিন্তু সেগুলোর কোনো কার্যক্রম নেই।’২০২৬-২৭ অর্থ বছরে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধিসহ কিডনি ডায়ালাইসিস ও হার্টের রিং প্রভৃতি জরুরি মেডিকেল যন্ত্রাংশের ওপরে আরোপিত কর হ্রাস করার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।বৈঠকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, সংসদ সদস্য আন্না মিনজ, সংস্কৃতিকর্মী সঞ্জিব দ্রংসহ ১৭ জেলার ১৮টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।সূত্র: বাসস
আগামী রোববার দিবাগত রাত ১টায় বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন ও আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হচ্ছে। এই ম্যাচে জয়ী হয়ে কে চ্যাম্পিয়ন হবে, এ নিয়ে এখন চলছে নানা ভবিষ্যদ্বাণী।এ ম্যাচের ফল নিয়ে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) জানায়, বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা, লিওনেল মেসির নেতৃত্ব এবং নকআউটে চাপ সামলানোর অসাধারণ ক্ষমতা আর্জেন্টিনার বড় শক্তি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পিছিয়ে থেকেও জয় তুলে নিয়ে তারা ফাইনালে এসেছে। এ ছাড়া পুরো টুর্নামেন্টে সবচেয়ে শক্তিশালী রক্ষণভাগগুলোর একটি দেখিয়েছে স্পেন। ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে এবং তাদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দারুণ। যদি একটি দল বেছে বলতে হয়, তাহলে আর্জেন্টিনাকে খুব সামান্য এগিয়ে রাখব। অভিজ্ঞতা ও বড় ম্যাচে মানসিক দৃঢ়তার কারণে তাদের এগিয়ে রাখব।এআই বলছে, আর্জেন্টিনা ২-১ ব্যবধানে স্পেনকে হারাতে পারে। অথবা অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলেও জিততে পারে আর্জেন্টিনা।তবে স্পেন জিতলেও সেটি কোনো অঘটন হবে না; এটি এমন একটি ফাইনাল যেখানে যে কোনো দল শিরোপা জিততে পারে।আর্জেন্টিনাকে সামান্য এগিয়ে রাখার কারণগুলো হলো:বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা: আর্জেন্টিনার বর্তমান দলে এমন অনেক খেলোয়াড় আছেন যারা একাধিক বড় টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলেছেন। এই অভিজ্ঞতা ফাইনালের মতো চাপের ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। মেসির প্রভাব: লিওনেল মেসি এখনো ম্যাচের গতি বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। তিনি নিজে গোল করতে পারেন, আবার সতীর্থদের জন্য সুযোগও তৈরি করেন।নকআউট মানসিকতা: এই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা কঠিন নকআউট ম্যাচগুলো জিতে এসেছে। চাপের মুহূর্তে তারা ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা দেখিয়েছে।রক্ষণ ও গোলকিপিং: আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ এবং গোলকিপারের বড় ম্যাচে নির্ভরযোগ্য পারফরম্যান্স তাদের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস দেয়।তবে স্পেনকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। বরং স্পেনের কিছু বড় সুবিধাও আছে। যেমন: তারা টুর্নামেন্টজুড়ে দারুণ ছন্দে আছে। বল দখলে রেখে খেলার ক্ষমতা অসাধারণ। তরুণ ও গতিময় আক্রমণভাগ যে কোনো রক্ষণ ভেঙে দিতে পারে। ফ্রান্সের মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে ফাইনালে এসেছে।এআই বলছে, তাই আমি বলছি না যে আর্জেন্টিনাই নিশ্চিত জিতবে। আমার মূল্যায়নে সম্ভাবনা এমন হতে পারে- আর্জেন্টিনা ৫৫% এবং স্পেন ৪৫%।এটি কোনো নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী নয়; বরং দুই দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, অভিজ্ঞতা ও কৌশলগত শক্তি বিবেচনায় একটি বিশ্লেষণভিত্তিক অনুমান। ফাইনালে একটি মুহূর্ত, একটি ভুল বা একটি দুর্দান্ত ব্যক্তিগত নৈপুণ্যই ফল বদলে দিতে পারে।
দেশের ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে এখন টান টান উত্তেজনা। আটলান্টায় চলছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার হাইভোল্টেজ সেমিফাইনাল ম্যাচ। বিশ্বজুড়ে যখন এই ম্যাচ নিয়ে ব্যাপক উন্মাদনা, ঠিক সেই মুহূর্তেই এক অদ্ভুত শপথ করে বসলেন ঢাকাই সিনেমার আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণি। আর্জেন্টিনা দলের কট্টর এই সমর্থক ঘোষণা দিয়েছেন, তার প্রিয় দল কাপ জিতলেই তিনি আবারও বিয়ে করবেন! ম্যাচ চলাকালীন নিজের ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন এই নায়িকা। সেখানে লেখেন, 'আর্জেন্টিনা কাপ জিতলে আমি আবার একটা বিয়া করবো ফাইনাল।' স্ট্যাটাসের শেষে বেশ কয়েকটি ইমোজি জুড়ে দিয়েছেন তিনি। মুহূর্তেই তার এই পোস্টটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া পায়। মিনিট বিশেকের মধ্যেই পোস্টটিতে ৪২ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া ও প্রায় তিন হাজার শেয়ার দেখা যায়। কিন্তু মন্তব্যঘর বন্ধ রাখেন নায়িকা।উল্লেখ্য, ব্যক্তিগত জীবনে একাধিক বিয়ে ও বিচ্ছেদ নিয়ে এর আগেও বহুবার আলোচনায় এসেছেন পরীমণি। ক্যারিয়ারের শুরুতে ২০১০ সালে কাজিন ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে তার প্রথম বিয়ের খবর শোনা যায়। এরপর ২০১২ সালে ফুটবলার ফেরদৌস কবীর সৌরভের সঙ্গে তার বিয়ের ছবি প্রকাশ্যে আসে। এরপর তামিম হাসান নামে এক সাংবাদিকের সঙ্গে তার বিয়ে হয় বলে শোনা যায়। পরবর্তীতে ২০২০ সালে নির্মাতা কামরুজ্জামান রনিকে বিয়ে করলেও সেই সংসার টেকেনি বেশিদিন। সর্বশেষ ২০২১ সালে অভিনেতা শরিফুল রাজকে বিয়ে করে ব্যাপক আলোচনায় আসেন এই নায়িকা। এই দম্পতির সংসারে শাহীম মুহাম্মদ পুণ্য নামের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। তবে নানা টানাপোড়েনের পর ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে রাজের সঙ্গেও পরীমণির আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে।বর্তমানে ছেলে পুণ্য ও কন্যা প্রিয়মকে ঘিরেই পরীমণির পুরো জগৎ। সিঙ্গেল মাদার হিসেবে সন্তানদের মানুষ করার পাশাপাশি সিনেমা ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও নিয়মিত কাজ করছেন তিনি। জীবনের এমন একটি পর্যায়ে এসে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে তার নতুন করে বিয়ের এই ঘোষণা ভক্তদের মাঝে বাড়তি বিনোদনের খোরাক জুগিয়েছে।
গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবার এবং ১০ শিল্পগোষ্ঠীর দেশে-বিদেশে ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ আদালতের মাধ্যমে জব্দ করা হয়েছে। এই তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন।বুধবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বিএফআইইউয়ের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে বিএফআইইউয়ের প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন এ তথ্য জানান।অনুষ্ঠানে ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন বলেন, শেখ হাসিনার পরিবার ও ১০ শিল্পগোষ্ঠীর কাছে থাকা সম্পদের মধ্যে দেশের মধ্যে জব্দ করা হয়েছে ৫৭ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকার সম্পদ বিদেশে জব্দ করা হয়েছে।তবে কার কত সম্পদ জব্দ করা হয়েছে, সেই তথ্য আলাদা করে জানাতে চাননি তিনি।তিনি বলেন, দেশ থেকে যে সম্পদ চুরি হয়ে গেছে, তা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। আশা করছি, এ বছরের শেষে সম্পদ উদ্ধারের বিষয়ে সুখবর দিতে পারব।ছাত্র-জনতার গণ–অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর তিনি ভারতে চলে যান। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবার ও ১০ শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, প্রতারণা, জালিয়াতি, মুদ্রা পাচার, কর ও শুল্ক ফাঁকি এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু হয়।তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।আজকের বিএফআইইউয়ের অনুষ্ঠানে এক সাংবাদিক জানতে চান, দেশে কোনো সরকার ক্ষমতা থেকে চলে গেলেই তাদের বিষয়ে অনুসন্ধান হয়, সম্পদ জব্দ হয়। এটি কেন? আর অন্তর্বর্তী সরকারে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিদের বিষয়েও তদন্ত করা হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাব দেন বিএফআইইউয়ের প্রধান।বিএফআইইউয়ের প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন বলেন, আমরা কাজ করার ক্ষেত্রে দলমত ও ব্যক্তির দিকে তাকাব না। আমরা দেখব কাজের দিকে। সন্দেহজনক লেনদেন হলেই ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়। সন্দেহজনক লেনদেন যিনি করে থাকেন না কেন, এখানে সেই ব্যক্তির পরিচয় আমাদের কাছে মুখ্য বিষয় নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের কেউ করে থাকলে, সেটাও সামনে আসবে।
১ দিন আগে
পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বস্ততা হলো একটি সুস্থ সমাজ ও সম্পর্কের মেরুদণ্ড। পরিবার থেকে শুরু করে ব্যবসা, রাষ্ট্র বা ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব সবকিছুর ভিত্তিই হলো এই পারস্পরিক বিশ্বাস। আর সেই আস্থার মূলে আঘাত করা বা বেঈমানি (খিয়ানত) করা ইসলামের দৃষ্টিতে এমন এক গুরুতর গুনাহ, যার ভয়াবহ পরিণতির কথা কোরআন ও সহিহ হাদিসে বারবার সতর্ক করা হয়েছে।সাধারণত বিশ্বাসঘাতকতাকে আমরা কেবল বড় কোনো রাজনৈতিক বা রাষ্ট্রীয় প্রেক্ষাপটে চিন্তা করি। কিন্তু ইসলামে এর পরিধি অত্যন্ত বিস্তৃত। কারও আমানতের খিয়ানত করা বা তার ন্যায্য অধিকার নষ্ট করাও বেঈমানির অন্তর্ভুক্ত।১. বিশ্বাসঘাতককে পছন্দ করেন না আল্লাহপবিত্র কোরআনে বেঈমানি বা খিয়ানতকে আল্লাহর অপছন্দনীয় কাজ হিসেবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই তিনি কোনো বিশ্বাসঘাতক ও অকৃতজ্ঞকে ভালোবাসেন না।’ (সুরা হজ: ৩৮)এ ছাড়া পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ আরও নির্দেশ দিয়েছেন- ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সঙ্গে খেয়ানত করো না এবং জেনেশুনে নিজেদের আমানতেরও খেয়ানত করো না।’ (সুরা আনফাল: ২৭) প্রতিশ্রুতি রক্ষার বিষয়ে আল্লাহ বলেন- ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা চুক্তিসমূহ পূর্ণ করো।’ (সুরা মায়েদা: ১) এসব আয়াত থেকে পরিষ্কার হয় যে, বেঈমানি আল্লাহর অত্যন্ত অপছন্দনীয় কাজ এবং এটি একজন মুমিনের আদর্শ চরিত্রের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।২. মুনাফিকির আলামতবিশ্বাসঘাতকতা মানুষের চরিত্রে মুনাফিকির বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি করে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘মুনাফিকের আলামত তিনটি- সে কথা বললে মিথ্যা বলে, অঙ্গীকার করলে তা ভঙ্গ করে এবং আমানত রাখা হলে তার খিয়ানত করে।’ (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)অন্য এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘চারটি বৈশিষ্ট্য যার মধ্যে থাকবে, সে খাঁটি মুনাফিক। আর যার মধ্যে এর একটি থাকবে, তার মধ্যে মুনাফিকির একটি বৈশিষ্ট্য থাকবে- যতক্ষণ না সে তা ত্যাগ করে। যখন তার কাছে আমানত রাখা হয়, সে খেয়ানত করে; কথা বললে মিথ্যা বলে; অঙ্গীকার করলে তা ভঙ্গ করে; আর ঝগড়া করলে সীমালঙ্ঘন করে।’ (সহিহ বুখারি; সহিহ মুসলিম)
গ্রীষ্মের উত্তাপ থেকে বর্ষার আগমন সবসময়ই এক স্বস্তিদায়ক মুক্তি। কিন্তু শীতল আবহাওয়া এবং গরম চায়ের কাপের সঙ্গে আসে আরেকটি ঋতুগত উদ্বেগ- খাদ্য নিরাপত্তা। বর্ষাকালে আর্দ্রতা এবং স্যাঁতসেঁতে অবস্থার কারণে ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক এবং অন্যান্য ক্ষতিকারক জীবাণুর বংশবৃদ্ধি সহজতর হয়। এর মানে হলো, খাবার যদি সঠিকভাবে সংরক্ষণ বা পরিবেশন করা না হয়, তবে তা দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এই বিষয়টি মাথায় রেখে বর্ষাকালে আপনাকে খাবার সংরক্ষণ করতে হবে। বর্ষাকালে পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে কয়েকটি সাধারণ খাদ্য নিরাপত্তা অভ্যাস অনুসরণ করতে হবে-১. আপনার রান্নাঘর পরিষ্কার রাখুনসুস্থ থাকার অন্যতম শর্ত হলো সব সময় খাবার তৈরির জায়গা পরিষ্কার রাখা। ব্যবহারের আগে খাবার তৈরির সমস্ত স্থান এবং রান্নাঘরের সরঞ্জাম জীবাণুনাশক দিয়ে ধুয়ে ও জীবাণুমুক্ত করুন। গরম পানি ও জীবাণুনাশক ব্যবহার করে রান্নাঘরের মেঝে নিয়মিত পরিষ্কার করুন।রান্নাঘর পরিষ্কার থাকলে তা রান্নার সময় খাবারে জীবাণু ছড়ানোর সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়।২. রান্নাঘরের স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখুনরান্নাঘরের স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতে হবে। অর্থাৎ বাসনপত্র ভালোভাবে ধুয়ে রাখতে হবে এবং সংরক্ষণের আগে সেগুলো পুরোপুরি শুকিয়ে নিতে হবে। ফ্রিজের ভেতর ও বাইরে পরিষ্কার করতে হবে এবং প্রতি দুই সপ্তাহে একবার ডিফ্রস্ট করতে হবে। সঠিকভাবে পরিষ্কার ও সংরক্ষণ করলে ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাকের বৃদ্ধি রোধ করা যায়, বিশেষ করে আর্দ্র আবহাওয়ায়।৩. খাদ্য নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিনবর্ষাকালে আপনাকে খাবার তৈরি ও সংরক্ষণের প্রতি আরও বেশি মনোযোগী হতে হবে। কারণ এসময় পেটের সমস্যা বা এ ধরনের আরও অনেক অসুখে আক্রান্ত হওয়া সহজ। প্রতিদিন স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলুন। খাবার সঠিকভাবে সংরক্ষণ করুন। কোনো খাবার বাসি হয়ে গেছে বুঝতে পারলে তা খাওয়া থেকে বিরত থাকাই উত্তম হবে। কারণ এসময় এ ধরনের সামান্য সমস্যাও বড় স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই পরিচ্ছন্ন থাকুন এবং স্বাস্থ্যকর উপায়ে তৈরি খাবার খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখুন।
২০৫০ সালের মধ্যে চরম তাপমাত্রার ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের শীর্ষ ৬টি দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।সোমবার ২৬ জানুয়ারি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাতে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার সাসটেইনেবিলিটি’-তে এই গবেষণাটি প্রকাশ হয়।ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার অব্যাহত থাকলে আগামী ২৫ বছরের মধ্যে চরম তাপপ্রবাহে আক্রান্ত বৈশ্বিক জনসংখ্যার হার প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। শিল্প-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় যদি বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়, তবে চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ বিশ্বের ৪১ শতাংশ মানুষ (প্রায় ৩৭৯ কোটি) অসহনীয় তাপমাত্রার মধ্যে বসবাস করবে। ২০১০ সালে এই পরিস্থিতির শিকার জনগোষ্ঠীর হার ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ (১৫৪ কোটি)।
স্মার্টফোন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অফিসের কাজ থেকে শুরু করে বিনোদন, সবই এখন স্মার্টফোনেই সম্পন্ন হয়। তাই দিনে বহুবার ফোন আনলক করা এবং স্ক্রিনে আঙুল ছোঁয়ানোর প্রয়োজন হয়। তবে নিয়মিত ব্যবহারের পাশাপাশি ভুল পদ্ধতিতে স্ক্রিন পরিষ্কার করার ফলে ফোনের ডিসপ্লের উজ্জ্বলতা এবং স্মুথনেস ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে। অনেকেই মনে করেন দীর্ঘদিন ব্যবহারের কারণেই এমনটা হয়, কিন্তু মূলত স্ক্রিন পরিষ্কারের ভুল অভ্যাসই ফোনের সুরক্ষায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।স্মার্টফোনের ডিসপ্লেতে কারখানা থেকেই একটি অত্যন্ত পাতলা ও স্বচ্ছ স্তর লাগানো থাকে, যাকে ওলিওফোবিক কোটিং বলা হয়। এই কোটিংয়ের কারণে স্ক্রিনে আঙুলের ছাপ, তেল বা ধুলা সহজে বসে না। ফলে নতুন ফোনের স্ক্রিনে আঙুল খুব সহজে চলে এবং ব্যবহার করার অভিজ্ঞতা অনেক বেশি স্মুথ হয়। এছাড়া এই স্তরের কারণে একটি নরম কাপড় দিয়ে মুছে ফেললেই স্ক্রিন খুব সহজেই পরিষ্কার হয়ে যায়।অনেক সময় আমরা শার্ট, রুমাল, টিস্যু পেপার বা যেকোনো কাপড়ের টুকরো দিয়ে বারবার ফোনের স্ক্রিন ঘষে পরিষ্কার করি। আবার অনেকে স্ক্রিন পরিষ্কার করতে অ্যালকোহল বা বিভিন্ন রাসায়নিক ক্লিনার ব্যবহার করেন। এভাবে বারবার পরিষ্কার করার ফলে স্ক্রিনের ওপরের ওলিওফোবিক কোটিং ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যেতে থাকে। একবার এই স্তর নষ্ট হয়ে গেলে স্ক্রিনে দ্রুত আঙুলের ছাপ পড়ে, ব্যবহারের সময় আগের মতো স্মুথ অনুভূতি থাকে না এবং ডিসপ্লেও দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে।আপনার স্মার্টফোনের স্ক্রিন দীর্ঘদিন নতুনের মতো সতেজ রাখতে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। স্ক্রিন পরিষ্কারের জন্য সবসময় মাইক্রোফাইবার কাপড় ব্যবহার করুন। তীব্র রাসায়নিকযুক্ত ক্লিনার ব্যবহার সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলুন। প্রয়োজনে শুধুমাত্র ইলেকট্রনিক ডিভাইসের স্ক্রিন পরিষ্কারের জন্য তৈরি নিরাপদ সলিউশন ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া ভালো মানের টেম্পার্ড গ্লাস বা স্ক্রিন প্রোটেক্টর ব্যবহার করা বেশ উপকারী। এতে মূল স্ক্রিনে আঁচড় পড়ে না এবং ওলিওফোবিক কোটিংও দীর্ঘস্থায়ী হয়। সামান্য এই সতর্কতা আপনার স্মার্টফোনের স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা, টাচ রেসপন্স এবং স্মুথনেস দীর্ঘকাল বজায় রাখতে সাহায্য করবে।