ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ত্বরান্বিত এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ আরও শক্তিশালী করতে দেশের সব বন্দর ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শীর্ষ ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন।শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।ব্রিফিংয়ে মাহদী আমিন বলেন, বেসরকারি খাতের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল- চট্টগ্রাম বন্দর কিংবা ঢাকা বিমানবন্দরে আমদানি-রপ্তানির বাণিজ্যিক কার্যক্রম টোয়েন্টিফোর সার্ভিস করা যায় কি-না।প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। সরকারের সকল দপ্তর মিলে সামনের দিনগুলোতে নিশ্চিত করবে যেন বাংলাদেশের প্রতিটি বন্দর ২৪ ঘণ্টা সার্ভিস প্রোভাইড করতে পারে। এর মাধ্যমে ইমপোর্ট-এক্সপোর্ট আরও ফাস্ট ও ত্বরান্বিত হবে।তিনি জানান, শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত দীর্ঘ এ বৈঠকে বেসরকারি খাতের নানা চ্যালেঞ্জ, বিদ্যমান সমস্যা ও বিনিয়োগের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।মাহদী আমিন বলেন, দেশে বেশ কিছু ইকোনোমিক জোন, বেজা ও বেপজা রয়েছে। সেগুলোতে কীভাবে আরও বেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা যায় এবং যেখানে জটিলতা রয়েছে তা কীভাবে সহজতর করা যায়, এসব নিয়ে প্রাইভেট সেক্টরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আলোচনা করেছেন। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানরাও সেখানে নিজেদের মতামত দিয়েছেন।বেসরকারি খাতের বিকাশে সরকারের নীতিগত সহায়তার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, সামনের দিনগুলোতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা চাই, যেখানে প্রাইভেট সেক্টরের জন্য সরকার থেকে পলিসি সাপোর্ট থাকবে।‘তার জন্য একটা প্রো-বিজনেস, প্রো-ইনভেস্টমেন্ট বাজেট আমরা দেখেছি এবং সেই নীতিমালাগুলোকে আমরা বাস্তবায়ন করব। যার মূল উদ্দেশ্য হবে বাংলাদেশের বিপুল পরিমাণ ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অর্থাৎ আমাদের তরুণ ও নারীদের কর্মসংস্থান এবং আত্মকর্মসংস্থানের জন্য আরও বিকশিত করা।’প্রধানমন্ত্রীর একটি স্লোগান তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবসময় বলেন- ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’ সেই নীতিকে ধারণ করেই বাংলাদেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে আজকের এই আলোচনা হয়েছে। আমাদের জনবান্ধব সরকার, জনবান্ধব বাজেট এবং জনবান্ধব নীতিমালা কার্যকর করার এই পথযাত্রাকে প্রাইভেট সেক্টরের প্রতিনিধিরা আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানিয়েছেন।পলিসি সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রস্তাবনার বিষয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত আসায় ব্যবসায়ীরা সন্তুষ্ট জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে ব্যবসাকে আরও সহজীকরণ করা, বিনিয়োগকে আরও প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে বাড়ানো এবং বাংলাদেশের জন্য বিপুল পরিমাণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন জানিয়েছেন, বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধান এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি শীর্ষস্থানীয় কোম্পানির প্রায় ৪৫ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বাংলাদেশ সফরে আসবেনশনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাইরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।এই উপদেষ্টা বলেন, এই ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করবেন। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক শেষে এ ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।মাহ্দী আমিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদলের সফর বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দু'দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও গভীর করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হবে।তিনি আরও বলেন, ‘সকালে অনুষ্ঠিত আলোচনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের ওপর দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের কথা ব্যক্ত করা হয়েছে। দেশটির প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরেছে এবং একটি সুন্দর গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে।’গত পাঁচ মাসে সরকারের গৃহীত নীতি ও পদক্ষেপগুলোকে মার্কিন পক্ষ সাধুবাদ জানিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বহুমাত্রিক ও বহুপাক্ষিক সম্পর্ককে একটি সুদৃঢ় অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।’প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশ সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা অর্জনের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) থেকে যে ট্রাভেল অ্যাডভাইজারি করা হয়, তার বর্তমান অবস্থান মার্কিন বিনিয়োগকারী ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। এর মাধ্যমে মার্কিন উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে এসে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এক্সপ্লোর করতে পারবেন। এই সফরের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়বে এবং দেশে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।’
রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে পুলিশের ব্যবহৃত যানবাহনকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য নাশকতার আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য বা দুষ্কৃতকারীরা পুলিশের জিপ, পিকআপ, বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের ওপর হামলা চালাতে পারে, গোয়েন্দা সংস্থার এমন তথ্যের ভিত্তিতে মাঠপর্যায়ের সব ইউনিটকে তাৎক্ষণিক নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।শনিবার (১ আগস্ট) পুলিশ সদর দপ্তরের এক জরুরি বার্তা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।জরুরি এই বার্তায় বলা হয়েছে, পুলিশের যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের শিথিলতা বা অবহেলার সুযোগ নেই। বিশেষ করে ডিউটির সময় এবং ডিউটি শেষে পার্কিং করা যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।এতে আরও বলা হয়েছে, ডিউটিরত কোনো যানবাহন সাময়িকভাবে থামানোর প্রয়োজন হলে সেটি অবশ্যই নিরাপদ স্থানে পার্ক করতে হবে এবং পুলিশের সদস্যদের সার্বক্ষণিক নজরদারির আওতায় রাখতে হবে। কোনো অবস্থাতেই চালক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য ছাড়া যানবাহন ফেলে রাখা যাবে না। অর্থাৎ আনঅ্যাটেন্ডেড অবস্থায় কোনো পুলিশি যানবাহন রাখার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।এছাড়া ডিউটি শেষে থানা, পুলিশলাইনস, অফিস কম্পাউন্ড কিংবা অন্যান্য নির্ধারিত স্থানে রাখা সব সরকারি যানবাহনের নিরাপত্তাও বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব স্থানে নিয়মিত টহল, প্রয়োজনীয় নজরদারি এবং সন্দেহজনক ব্যক্তি বা বস্তু শনাক্তে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।বার্তায় বিষয়টিকে ‘অতীব গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে উল্লেখ করে দেশের সব মহানগর, রেঞ্জ, জেলা ও ইউনিটের কর্মকর্তাদের নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।
আবারও সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (সাফ) সভাপতি নির্বাচচিত হয়েছে কাজী সালাহউদ্দিন। এই নিয়ে তিনি টানা পঞ্চমবার সাফের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।ভুটানের থিম্পুতে আজ অনুষ্ঠিত সাফের কংগ্রেসে সভাপতি পদে একমাত্র প্রার্থী ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক এই ফুটবলার। ফলে কংগ্রেসের অনুমোদনের মধ্য দিয়ে টানা পঞ্চম মেয়াদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাফের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার পথ সুগম হয়েছে।কংগ্রেসের অন্যতম আলোচ্য বিষয় ছিল সাফের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি নির্বাচন। তবে সভাপতি পদে সালাহউদ্দিন ছাড়া আর কোনো মনোনয়ন জমা না পড়ায় ভোটের প্রয়োজন হয়নি। সাফের গঠনতন্ত্রের ২৪.২ ধারা অনুযায়ী, কোনো পদের জন্য প্রার্থীর সংখ্যা শূন্যপদের বেশি না হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত বলে গণ্য হন। কাজী সালাহউদ্দিন ২০০৯ সাল থেকে সাফের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এ নিয়ে তিনি পঞ্চমবারের মতো নির্বাচিত হলেন। ৭০ বছরের ঊর্ধ্ব কেউ সাফের নির্বাহী কমিটির কোনো পদে প্রার্থী হতে পারবেন না- এত দিন এ কথাই বলা ছিল সাফের গঠনতন্ত্রে। তবে নিয়মটা গত বছর কলম্বোয় সাফের বিশেষ সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে বয়সের সীমা তুলে দেওয়া হয়। তাতে নির্বাচন করতে আর কোনো বাধা হয়নি সালাহউদ্দিনের জন্য।নতুন কার্যনির্বাহী কমিটিতে বাংলাদেশ থেকেও বাড়ছে প্রতিনিধিত্ব। বাফুফের সহ-সভাপতি সাব্বির আহমেদ আরিফ প্রথমবারের মতো সাফের এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য হতে যাচ্ছেন। সহ-সভাপতি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন শ্রীলঙ্কার জাসওয়ার উমারু লাবে। আর কার্যনির্বাহী কমিটির আরেক সদস্য হিসেবে থাকছেন মালদ্বীপের হুসাইন শাফিউ।
ব্যক্তিজীবন ও পেশাগত জীবনের সাফল্যে বেশ ভালোই চলছিল রাশমিকা মান্দানার সময়। বাগড়া দিল চোট। গুরুতর আহত হয়েছেন তিনি। পূর্ণ বিশ্রাম দিয়েছেন চিকিৎসকরা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য। জানা গেছে, ‘রাণাবলী’ ও ‘মাইসা’ নামের দুই ছবি নিয়ে ব্যস্ত রাশমিকা। দুটি ছবিই অ্যাকশনধর্মী। এই ছবিগুলোতে শুটিংয়ের সময় চোট পান অভিনেত্রী। আঘাত এতটাই গুরুতর যে রাশমিকার নিতম্ব ও কোমরের মাঝখানের একটি পেশিতন্তু পুরোপুরি ছিঁড়েছে বলে জানা গেছে।এদিকে রাশমিকার এই চোটে অবাক চিকিৎসকরা। তাদের দাবি এরকম চোটের সম্মুখীন সাধারণত ক্রীড়াবিদদের হতে হয়। কেননা তারা নিয়মিত কঠোর শারীরিক অনুশীলনের মধ্যে দিয়ে যান। জানা গেছে, হাঁটাচলা সম্পূর্ণ নিষেধ রাশমিকার। আগামী ছয় সপ্তাহ সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে তাকে। পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার পরে তিনি শুটিংয়ে ফিরতে পারবেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।সবশেষ রাশমিকাকে দেখা গেছে ‘ককটেল ২’ সিনেমায়। দর্শক প্রতিক্রিয়ার অভিজ্ঞতা বেশ ভালো। এতে তিনি ছাড়াও অভিনয় করেছেন কৃতি শ্যানন ও শাহিদ কাপুর।
দেশের বাজারে অস্বাভাবিক বেড়েছে সুগন্ধি চাল, পোলাওয়ের চালের দাম। এক মাসের ব্যবধানে মানভেদে কেজি প্রতি দাম বেড়েছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ঢাকার খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পোলাওয়ের চালের দাম ১৪০-১৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০০-২১০ টাকায় পৌঁছেছে।শনিবার (১ আগস্ট) ঢাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন দৃশের দেখা মিলে।একই সময়ে পাইকারি বাজারে ৫০ কেজির ভালো মানের চিনিগুঁড়া চালের বস্তার দাম বেড়েছে প্রায় তিন হাজার টাকা। ব্যবসায়ীরা এর জন্য রপ্তানির অনুমতি, সরবরাহ সংকট ও উৎপাদন কমে যাওয়াকে দায়ী করলেও ভোক্তা অধিকারকর্মীরা বলছেন, কার্যকর বাজার তদারকির অভাব এবং ব্যবসায়ীদের সুযোগ নেওয়ার কারণেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।চালের পাইকারেরা অভিযোগ করে বলেন, প্রবাসীদের কাছে চিনিগুড়া চালের বাড়তি চাহিদা থাকায় রপ্তানি চাহিদা বেড়েছে। এ কারণে অনেকে অবৈধ মজুদও করছেন।বাবুবাজারের সুগন্ধি চালের ব্যবসায়ী সিফাত সরকার বলেন, বর্তমানে ভালো মানের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৫০ কেজির বস্তা ১০ হাজার থেকে ১০ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে সুগন্ধি চালের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। চলতি বছর রপ্তানির পরিমাণ বাড়ায় দেশীয় বাজারে চালের সংকট তৈরি হয়েছে।পাশাপাশি ধানের ফলন কিছুটা কম হওয়া, কয়েকটি এলাকায় ফসলের ক্ষতি এবং আমদানির সরবরাহ শৃঙ্খলেও চাপ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।তিনি বলেন, আগে নওগাঁসহ বিভিন্ন মোকাম থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী সহজেই ট্রাকভর্তি সুগন্ধি চাল পাওয়া যেত। এখন চাল পাওয়া গেলেও দাম অনেক বেশি এবং সরবরাহও পর্যাপ্ত নয়। তবে এ সংকট মূলত সুগন্ধি চালেই সীমাবদ্ধ। সিদ্ধ চালের বাজার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল।কারওয়ান বাজারের সম্রাট শেখ বলেন, বাজারে পোলাও চালের কোনো প্রকৃত সংকট নেই। সরকার রপ্তানির সুযোগ করে দেওয়ায় ব্যবসায়ীরা দেশীয় বাজারের পরিবর্তে রপ্তানিতে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। এক মাস আগেও যে চাল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে, এখন সেটিই পাইকারি পর্যায়ে ২০২ টাকা কেজি দরে কিনতে হচ্ছে। মূলত রপ্তানি বন্ধ করা হলে দু-তিন দিনের মধ্যেই প্রতি কেজিতে প্রায় ৫০ টাকা পর্যন্ত দাম কমে আসতে পারে। দেশে পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও রপ্তানির কারণে বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে সুগন্ধি চালের দাম ২৫০ টাকা কেজিতেও পৌঁছাতে পারে।এ বিষয়ে ক্যাব সভাপতি এ এইচ এম শফিকুজ্জামান বলেন, বাজারে চালের কোনো সংকট নেই। তবে ধারণা করছি, অতি মুনাফার লোভে অসাধু ব্যবসায়ীরা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে।এদিকে, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো- ইপিবির তথ্য মতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে, দুই দফায় মোট ২৩ হাজার ৯৫৯ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
১২ ঘন্টা আগে
মুসলিম বিশ্বের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের মাস রমজান ও আনন্দ উৎসব ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে প্রাক্কলন প্রকাশ করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। হিজরি ১৪৪৮ সনের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম জর্ডান নিউজ।জ্যোতির্বিজ্ঞানভিত্তিক হিসাব ও সৌদি আরবের হিজরি ক্যালেন্ডার সংক্রান্ত ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) মধ্যপ্রাচ্যে পবিত্র রমজানের প্রথম রোজা হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাক্কলন অনুযায়ী, ১৪৪৮ হিজরি সনের শাবান মাসের ২৯ তারিখ অর্থাৎ ৬ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) সন্ধ্যায় রমজানের চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। ফলে শাবান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হতে পারে এবং সেই হিসেবে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সিয়াম সাধনা শুরু হবে।একই প্রতিবেদনে ২০২৭ সালের পবিত্র ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখও উল্লেখ করা হয়েছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের গণনা বলছে, ১৪৪৮ হিজরির রমজান মাস এবার ২৯ দিনের হতে পারে। সেই গাণিতিক হিসেবে ৮ মার্চ (সোমবার) রমজান মাস শেষ হবে এবং ৯ মার্চ (মঙ্গলবার) মধ্যপ্রাচ্যে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।উল্লেখ্য, হিজরি ১৪৪৮ সনের শুরু নিয়ে বিভিন্ন মুসলিম দেশের মধ্যে একদিনের পার্থক্য দেখা গিয়েছিল। কিছু দেশে ১৬ জুন ২০২৬ তারিখে নতুন বছর শুরু হলেও অন্য দেশগুলোতে ১৭ জুন থেকে মহরম মাস গণনা শুরু হয়। সময়ের এই পার্থক্যের কারণে চাঁদ দেখার ক্ষেত্রেও স্থানীয়ভাবে ভিন্নতা আসতে পারে।তবে ইসলামি শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী, রমজান শুরু ও ঈদুল ফিতরের চূড়ান্ত তারিখ প্রতি বছরের মতো স্থানীয় চাঁদ দেখা কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের এই হিসাব মূলত সাধারণ প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য তারিখ জানার লক্ষ্যে করা হয়ে থাকে।
কাঁচা মরিচ এমন একটি উপাদান যা ছাড়া রান্নার স্বাদ মেলে না। ঝাল আর ঝাঁঝালো সুবাসের জন্য এর জুড়ি মেলা ভার। তবে বর্ষায় কাঁচা মরিচের দামের ঝাঁঝও বেড়ে যায়। আবার এসময় মরিচ বেশিদিন তাজা রাখাও কঠিন হয়ে পড়ে। হয় শুকিয়ে যায়, নয়তো পচে যায়।সাধারণত ফ্রিজে কাঁচা মরিচ সংরক্ষণ করা হয়। কিন্তু চাইলে ফ্রিজ ছাড়াও কিছু ঘরোয়া উপায়ে দীর্ঘদিন মরিচ তাজা রাখা সম্ভব। চলুন জেনে নিই বিস্তারিত- বোটা ছাড়িয়ে নিন প্রথমেই কাঁচা মরিচের বোটা ছাড়িয়ে ফেলা জরুরি। তাই বাজার থেকে মরিচ কিনে আনার পরই বোটাগুলো সাবধানে ভেঙে ফেলে দিন। কেননা বোটা থেকেই পচন ধরতে শুরু করে। বোটা ফেলে দিলে মরিচ সহজে নষ্ট হয় না এবং বহুদিন পর্যন্ত তাজা থাকে। ভেজাভাব দূর করা মরিচ দীর্ঘদিন তাজা রাখতে সেটির ভেজাভাব দূর করা ভীষণ প্রয়োজন। ধোয়ার পর বা স্বাভাবিক বাতাসে কাঁচা মরিচ থাকা অতিরিক্ত আর্দ্রতা শুকিয়ে নিতে হবে। এরপর একটি খবরের কাগজ বা সুতির শুকনো কাপড়ে কাঁচা মরিচ মুড়ে কোনো ঠান্ডা এবং হাওয়া চলাচল করে এমন জায়গায় রেখে দিন। কাগজ বা কাপড় মরিচের অতিরিক্ত পানি শুষে নেয়, ফলে পচন ধরে না।জিপলক ব্যাগে রাখুন প্লাস্টিকের হাঁড়িমুখ বন্ধ কৌটো ব্যবহারের বদলে জিপলক ব্যাগ বা ছিদ্রযুক্ত এয়ারটাইট কৌটা ব্যবহার করতে পারেন। তবে কৌটার নিচে একটি টিস্যু পেপার পেতে তার ওপর বোঁটা ছাড়ানো শুকনো কাঁচা মরিচগুলো রাখতে হবে। এরপর ওপর থেকেও আরেকটি টিস্যু পেপার দিয়ে কৌটোর মুখ হালকা বন্ধ করে রাখলে মরিচ অনেকদিন ভালো থাকে।জুট ব্যাগ কাঁচা মরিচ সতেজ রাখার অন্যতম সেরা উপায় হলো জুট ব্যাগ বা চটের থলে। একটি পরিষ্কার চটের থলে সামান্য পানি দিয়ে হালকা ভিজিয়ে তার ভেতরে কাঁচা মরিচ রেখে ঘরের কোনো ঠান্ডা স্থানে ঝুলিয়ে রাখলে মরিচ শুকিয়ে যায় না এবং দীর্ঘদিন তাজা থাকে।হলুদের ব্যবহার হলুদের ব্যবহার কাঁচা মরিচ সংরক্ষণের একটি চমৎকার উপায় হতে পারে। এজন্য মরিচের বোটা ছাড়িয়ে একটি কৌটায় সামান্য শুকনো হলুদ গুঁড়োর সঙ্গে মাখিয়ে রাখলে তার অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণের কারণে মরিচের গায়ে ছত্রাক বা ফাঙ্গাস জন্মায় না।তাই ফ্রিজ না থাকলেও দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। রান্নাঘরের এই সামান্য কয়েকটি ঘরোয়া উপায় কাজে লাগালেই মরিচের স্বাদ ও সতেজতা বজায় থাকবে সপ্তাহ পেরিয়ে বহু দিন।
২০৫০ সালের মধ্যে চরম তাপমাত্রার ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের শীর্ষ ৬টি দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।সোমবার ২৬ জানুয়ারি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাতে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার সাসটেইনেবিলিটি’-তে এই গবেষণাটি প্রকাশ হয়।ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার অব্যাহত থাকলে আগামী ২৫ বছরের মধ্যে চরম তাপপ্রবাহে আক্রান্ত বৈশ্বিক জনসংখ্যার হার প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। শিল্প-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় যদি বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়, তবে চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ বিশ্বের ৪১ শতাংশ মানুষ (প্রায় ৩৭৯ কোটি) অসহনীয় তাপমাত্রার মধ্যে বসবাস করবে। ২০১০ সালে এই পরিস্থিতির শিকার জনগোষ্ঠীর হার ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ (১৫৪ কোটি)।
আগামী বছরের (২০২৭ সাল) ২ আগস্ট সৌদি আরবের আকাশে ঘটতে যাচ্ছে শতাব্দীর অন্যতম বিরল জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা। সেদিন কয়েক মিনিটের জন্য দিনের আলো মিলিয়ে যাবে, সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে ফেলবে চাঁদ, দিনের আকাশে দেখা যাবে তারা, তাপমাত্রা কমে আসবে এবং সূর্যের রহস্যময় বহিঃস্তর করোনা খালি চোখে দেখা যাবে।বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু একটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণ নয়; এটি একবিংশ শতাব্দীর দীর্ঘতম পূর্ণ সূর্যগ্রহণগুলোর একটি এবং ৭৫ বছরেরও বেশি সময় পর সৌদি আরবের ওপর দিয়ে অতিক্রম করা প্রথম পূর্ণ সূর্যগ্রহণ। সৌদি স্পেস এজেন্সি এটিকে ‘এই শতাব্দীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।কেন সৌদি আরবেই দেখা যাবে এই বিরল সূর্যগ্রহণ?পূর্ণ সূর্যগ্রহণ ঘটে তখনই, যখন সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করে এবং মাঝখানে থাকে চাঁদ।প্রকৃতির এক বিস্ময়কর কাকতালীয় কারণে চাঁদ সূর্যের তুলনায় প্রায় ৪০০ গুণ ছোট, আবার পৃথিবী থেকে ৪০০ গুণ বেশি কাছে। ফলে পৃথিবী থেকে দেখলে সূর্য ও চাঁদকে প্রায় একই আকারের মনে হয়। যখন তারা নিখুঁতভাবে এক সরলরেখায় আসে, তখন চাঁদ সূর্যকে সম্পূর্ণ ঢেকে ফেলে এবং পৃথিবীর ওপর একটি সরু ছায়াপথ সৃষ্টি করে।এই ছায়াপথকে বলা হয় ‘পাথ অব টোটালিটি’ । এই পথের ভেতরে থাকা মানুষই কেবল পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখতে পান, অন্য এলাকায় দেখা যায় আংশিক সূর্যগ্রহণ।২০২৭ সালের সূর্যগ্রহণের ছায়াপথ আটলান্টিক মহাসাগর থেকে শুরু হয়ে উত্তর আফ্রিকা, মিসর, লোহিত সাগর অতিক্রম করে সৌদি আরবের পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের ওপর দিয়ে ভারত মহাসাগরের দিকে চলে যাবে। সৌদি আরব এই ছায়াপথের ঠিক মাঝামাঝি অবস্থানে থাকায় দেশটি বিশ্বের অন্যতম সেরা পর্যবেক্ষণস্থলে পরিণত হবে।কেন এত দীর্ঘ হবে এই সূর্যগ্রহণ?এই সূর্যগ্রহণের দীর্ঘস্থায়িত্বের পেছনে রয়েছে মহাজাগতিক অবস্থানের বিশেষ সমন্বয়।আগস্টের শুরুতে পৃথিবী সূর্য থেকে বছরের সবচেয়ে দূরের অবস্থানের কাছাকাছি থাকে। ফলে সূর্যকে স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা ছোট দেখায়। একই সময়ে চাঁদ পৃথিবীর সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানের কাছাকাছি থাকবে, ফলে সেটিকে তুলনামূলক বড় দেখাবে।বড় চাঁদ যখন অপেক্ষাকৃত ছোট দেখানো সূর্যকে সম্পূর্ণ ঢেকে দেয়, তখন গ্রহণের স্থায়িত্ব বেড়ে যায়।বিশ্বের সর্বোচ্চ সময়, ছয় মিনিটের কিছু বেশি, দেখা যাবে প্রতিবেশী মিসরে। তবে সৌদি আরবেও এই অন্ধকার থাকবে প্রায় ছয় মিনিট, যা জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের জন্য বিরল সুযোগ সৃষ্টি করবে।সৌদি স্পেস এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী-• আভা অঞ্চলে অন্ধকার থাকবে প্রায় ৬ মিনিট। • জেদ্দা ও পশ্চিম উপকূলের কিছু এলাকায় থাকবে প্রায় ৫ মিনিট ৫০ সেকেন্ড। তুলনামূলকভাবে বিশ্বের অধিকাংশ পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দুই মিনিটেরও কম সময় স্থায়ী হয়।যেসব শহরে দেখা যাবে পূর্ণ সূর্যগ্রহণসৌদি জ্যোতির্বিজ্ঞান সমিতির সভাপতি প্রকৌশলী মাজেদ আবু জাহরার মতে, পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে-• মক্কা • জেদ্দা • তায়েফ • আল-বাহা • খামিস মুশাইত • জিজান • নাজরান এছাড়াও তুওয়াল, দাহবান, খুলাইস, আল-লিথ, আল-কুনফুদাহ, তানুমা, বারিক, সাবিয়া, সারাত আবিদাহসহ আরও অনেক শহর ও জনপদ এই পূর্ণ গ্রহণের আওতায় থাকবে।অন্যদিকে রাজধানী রিয়াদ, পূর্বাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে পূর্ণ গ্রহণ দেখা যাবে না। সেখানে সূর্যের সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত চাঁদ ঢেকে দেবে।কখন শুরু হবে গ্রহণ?পুরো গ্রহণ প্রক্রিয়া চলবে তিন ঘণ্টারও বেশি সময়।• প্রথম আংশিক গ্রহণ শুরু: বেলা ১১:৪১ টা (সৌদি সময়) • পূর্ণ গ্রহণ: দুপুর ১:২১ টা থেকে ১:৪৪ টা • গ্রহণ শেষ: বিকাল প্রায় ৩টা প্রধান শহরগুলোর সময়সূচিজেদ্দা• আংশিক গ্রহণ: দুপুর ১২:০০টা • পূর্ণ গ্রহণ: ১:২৫ টা• শেষ: ২:৪৩ টামক্কা• আংশিক গ্রহণ: ১২:০১ টা • পূর্ণ গ্রহণ: ১:২৬ টা • শেষ: ২:৪৪ টাতায়েফ• আংশিক গ্রহণ: ১২:০৩ টা• পূর্ণ গ্রহণ: ১:২৮ টা• শেষ: ২:৪৫ টাখামিস মুশাইত• আংশিক গ্রহণ: ১২:১৩ টা• পূর্ণ গ্রহণ: ১:৩৭ টা• শেষ: ২:৫৪ টাকেমন হবে সেই মুহূর্ত?পূর্ণ গ্রহণ শুরুর ঠিক আগে দিনের আলো রূপালি আভা ধারণ করবে। ছায়া আরও তীক্ষ্ণ হয়ে উঠবে। তারপর হঠাৎ করেই নেমে আসবে অন্ধকার।দিগন্তে দেখা দেবে গোধূলির মতো পরিবেশ, বাতাস কিছুটা শীতল হবে এবং দিনের আকাশেই ফুটে উঠবে উজ্জ্বল তারা ও গ্রহ।ঠিক মাঝখানে থাকবে একটি কালো বৃত্তের মতো সূর্য, যার চারপাশে ছড়িয়ে থাকবে সাদা আলোর মুকুট- সূর্যের করোনা। সাধারণ সময়ে সূর্যের তীব্র আলোয় এই করোনা দেখা যায় না; কেবল পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সময়ই এটি দৃশ্যমান হয়।কোথায় সবচেয়ে ভালো দেখা যাবে?জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, যারা পূর্ণ অভিজ্ঞতা নিতে চান, তাদের পাথ অব টোটালিটির কেন্দ্ররেখার যতটা সম্ভব কাছাকাছি অবস্থান করা উচিত।সবচেয়ে উপযুক্ত স্থানগুলো হলো-• জেদ্দা ও লোহিত সাগরের উপকূল- অধিকাংশ পর্যটকের জন্য এটি সবচেয়ে সহজ বিকল্প। এখানে একটি বড় বিমানবন্দর, প্রচুর হোটেল এবং প্রায় পাঁচ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের অন্ধকার থাকবে। উন্মুক্ত সৈকতগুলো থেকে আকাশের বিস্তৃত ও নির্মল দৃশ্য দেখা যাবে।• আভা ও খামিস মুশাইতের পার্বত্য এলাকা- রাজ্যের দীর্ঘতম অন্ধকার, প্রায় ছয় মিনিট, থাকবে এখানে। উচ্চতার কারণে সাধারণত বাতাস সেখানকার পরিষ্কার থাকে। তারপরও আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। কেননা, আগস্ট মাসে বিকালে পাহাড়ের উপর মেঘ জমতে পারে।• তায়েফ ও আল-বাহা- পাহাড়ি এই অঞ্চলের আবহাওয়া শীতল। সেখানকার পথের ভেতরে আরামদায়ক পরিবেশ বজায় থাকে। যারা গ্রীষ্মের তীব্র গরম থেকে বাঁচতে চান, তাদের জন্য এটি একটি ভালো বিকল্প।• মরুভূমির খোলা এলাকা- এটি ফটোগ্রাফারদের জন্য আদর্শ স্থান। সেখানে দিগন্তজুড়ে চাঁদের ছায়া অগ্রসর হওয়ার দৃশ্য স্পষ্ট দেখা যাবে। এ উপলক্ষে জেদ্দা অ্যাস্ট্রোনমি সোসাইটিসহ বিভিন্ন জ্যোতির্বিজ্ঞান সংগঠন বিশেষ পর্যবেক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।সংযুক্ত আরব আমিরাতে কী দেখা যাবে?সংযুক্ত আরব আমিরাতে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে না। দুবাইসহ পুরো দেশেই দেখা যাবে আংশিক সূর্যগ্রহণ।দুবাইয়ে স্থানীয় সময় দুপুর ১:৩৩ টা থেকে ৩:৪৮ টা পর্যন্ত সূর্যের প্রায় ৫৩ শতাংশ চাঁদ ঢেকে ফেলবে। দেশের পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলে এই হার ৬১ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।তবে সেখানে দিনের অন্ধকার, সূর্যের করোনা কিংবা দিনের আকাশে তারা দেখার সুযোগ থাকবে না।নিরাপদে সূর্যগ্রহণ দেখার নির্দেশনাসৌদি স্পেস এজেন্সি সতর্ক করে বলেছে, বিশেষ সুরক্ষাচশমা ছাড়া কখনওই সরাসরি সূর্যের দিকে তাকানো যাবে না। এতে চোখের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।নিরাপদ পর্যবেক্ষণের জন্য নির্দেশনাগুলো হলো-• আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সোলার ইক্লিপস গ্লাস ব্যবহার করতে হবে। • সাধারণ সানগ্লাস কখনওই যথেষ্ট সুরক্ষা দেয় না। • ক্ষতিগ্রস্ত বা আঁচড়যুক্ত গ্রহণের চশমা ব্যবহার করা যাবে না। • সোলার ফিল্টার ছাড়া দূরবীন, টেলিস্কোপ বা ক্যামেরা দিয়ে সূর্যের দিকে তাকানো বিপজ্জনক। • সূর্য পুরোপুরি ঢেকে যাওয়ার কয়েক মিনিট ছাড়া বাকি সব সময় সুরক্ষাচশমা পরে থাকতে হবে। সূর্যের আলো ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই আবার চশমা ব্যবহার করতে হবে।বিরল মহাজাগতিক প্রদর্শনীর অপেক্ষায় বিশ্বজ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, ২০২৭ সালের ২ আগস্ট সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম সেরা স্থান হয়ে উঠবে এই বিরল মহাজাগতিক ঘটনা প্রত্যক্ষ করার জন্য। গবেষক, আলোকচিত্রী এবং আকাশপ্রেমীদের জন্য এটি হবে এক অসাধারণ সুযোগ, কারণ এত দীর্ঘ সময়ের পূর্ণ সূর্যগ্রহণ এক জায়গা থেকে দেখা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। ৭৫ বছরের অপেক্ষার পর সৌদি আরবের আকাশে এই মহাজাগতিক প্রদর্শনী নিঃসন্দেহে ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে। সূত্র: গালফ নিউজ