কক্সবাজারে মিয়ানমার সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে তিনজন নিহত হয়েছেন। রোববার (২৪ মে) নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুমের বাইশফাঁড়ি ৪২ নম্বর সীমান্ত পিলার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিজিবির রামু সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ।নিহতরা হলেন, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সুনইয়ং চাকমার ছেলে লেঠাইয়া (৪১), নিওমং চাকমার ছেলে অংক্যামং (৫০), অইমং চাকমার ছেলে চিংক্যা অং (৪০)।কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, পাহাড়ি খেতে কাজ করছিলেন। এ সময় স্থলমাইন বিস্ফোরণে তিনজন চাকমা সম্প্রদায়ের নাগরিক নিহত হয়েছেন।এদিকে সীমান্ত এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও ভীতি দেখা দিয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় চলাচলের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। স্থানীয়রা সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, মাইন বিস্ফোরণে নিহত তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সি শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি হবে আগামী ১ জুন।রোববার (২৪ মে) বিকেলে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ঢাকা মহানগরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইবুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন শুনানির এ দিন ধার্য করেন বলে জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান এদিন দুপুরে দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।তিনি বলেন, সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ এবং স্বপ্নার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর মৃত্যুর সহায়তার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। মামলায় ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।এরপর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালত অভিযোগপত্রটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায়, ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইবুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে বদলির আদেশ দেন।এ দিন সোহেল রানা ও স্বপ্নাকেও কড়া পাহারায় আদালতে হাজির করা করা হয়। তবে তাদের এজলাসে তোলা হয়নি।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান যুগে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ছাড়া জনসংযোগ সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে পরিষ্কার ধারণা এবং আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে হবে।রোববার (২৪ মে) সকালে সচিবালয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।তথ্যমন্ত্রী বলেন, পেশাগত কারণেই জনসংযোগ কর্মকর্তাদের ইনফরমেশন ইকো-সিস্টেম বোঝা প্রয়োজন। যে সেবা জাতিকে দেওয়া দরকার সেটি হচ্ছে নাকি, সেদিকে মনোযোগ দিতে হবে কর্মকর্তাদের।তথ্য ক্যাডারে ৩ শতাধিক কর্মকর্তা রয়েছেন উল্লেখ করে দক্ষতাসম্পন্ন জনবল গড়ে তোলার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সঠিক ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। মিসইনফরমেশন এবং ডিসইনফরমেশন ফ্যাক্ট চেক করার জন্য আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে ব্যবহার করা সম্ভব।
লিওনেল মেসির অসাধারণ নৈপুণ্যে দীর্ঘ ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছিল আর্জেন্টিনা।কাতারের রাজধানী দোহার লুসাইল স্টেডিয়ামে রোমাঞ্চকর ফাইনালে ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় আলবিসেলেস্তেরা। কিলিয়ান এমবাপের হ্যাটট্রিকও থামাতে পারেনি লিওনেল স্কালোনির দলকে। টাইব্রেকারে এমিলিয়ানো মার্টিনেজের অসাধারণ পারফরম্যান্স আর মেসির স্বপ্নপূরণ মিলিয়ে তৈরি হয়েছিল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা মুহূর্ত।এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মাটিতে সেই শিরোপা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ আর্জেন্টিনার সামনে। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বে দুর্দান্ত আধিপত্য দেখিয়ে ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছে তারা। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকে ঘরের মাঠ ও অ্যাওয়ে- দুই ম্যাচেই হারিয়েছে স্কালোনির শিষ্যরা।সব মিলিয়ে গত চার বছরে দুটি কোপা আমেরিকা ও একটি বিশ্বকাপ জেতা আর্জেন্টিনা আবারও অন্যতম ফেবারিট হিসেবেই নামবে এবারের বিশ্বকাপে। আর সেটাই স্বাভাবিক। কারণ দলটিতে এখনো আছেন লিওনেল মেসি, হুলিয়ান আলভারেজ, লওতারো মার্টিনেজ, এনজো ফার্নান্দেজ, ম্যাক অ্যালিস্টারদের মতো তারকারা।বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘জে’-তে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র এক মাস বাকি থাকতে স্কালোনি প্রকাশ করেন ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক দল। এখন প্রশ্ন- কারা জায়গা পাবেন শেষ ২৬ জনের স্কোয়াডে? যদিও সবার মনে প্রশ্ন জাগছে কবে ঘোষণা হবে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ২৬ জনের চূড়ান্ত স্কোয়াড? ব্রাজিল, জার্মানি, ইংল্যান্ড থেকে শুরু করে অনেক দেশই এর মধ্যে স্কোয়ায় ঘোষণা করে ফেলেছে। আর্জেন্টিনা কবে ঘোষণা করবে? জানা গেছে, ২৮ মে’র মধ্যেই ২৬ জনের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করবেন কোচ লিওনেল স্কালোনি।গোলরক্ষকগোলবারের নিচে আর্জেন্টিনার প্রথম পছন্দ যে এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, তা নিয়ে কোনো সংশয় নেই। ২০২২ বিশ্বকাপ এবং কোপা আমেরিকায় অসাধারণ পারফরম্যান্সে আর্জেন্টিনার সাফল্যের অন্যতম বড় নায়ক এই অ্যাস্টন ভিলা গোলরক্ষক। বিশেষ করে টাইব্রেকারে তার মানসিক দৃঢ়তা ও সেভ করার ক্ষমতা প্রতিপক্ষের জন্য ভয়ঙ্কর অস্ত্র। সর্বশেষ তার দারুণ নৈপুণ্যে অ্যাস্টন ভিলা জয় করেছে ইউরোপা লিগ শিরোপা।তার ব্যাকআপ হিসেবে থাকছেন মার্সেইয়ের জেরোনিমো রুল্লি। এছাড়া অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের হুয়ান মুসো ও ক্রিস্টাল প্যালেসের ওয়াল্টার বেনিতেজও আর্জেন্টিনা দলে জায়গার জন্য লড়াইয়ে আছেন।ডিফেন্ডাররক্ষণভাগে আর্জেন্টিনা এখন বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দল। ক্রিস্টিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্টিনেজের জুটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সেরা সেন্টার-ব্যাক জুটিগুলোর একটি বলেই ধরা হয়। আগ্রাসী ডিফেন্ডিং, বল কন্ট্রোল ও লিডারশিপ- সবকিছুতেই তারা দুর্দান্ত।অভিজ্ঞ নিকোলাস ওতামেন্দিও এখনো দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। যদিও তিনি জানিয়েছেন, এটিই হতে যাচ্ছে তার শেষ বিশ্বকাপ।ফুলব্যাক পজিশনে নাহুয়েল মোলিনা ও নিকোলাস তালিয়াফিকো স্কালোনির প্রথম পছন্দ। এছাড়া গনজালো মন্তিয়েল, মারকোস আকুনা, কেভিন ম্যাক অ্যালিস্টারদের মতো বহুমুখী ডিফেন্ডারও স্কোয়াডকে গভীরতা দিয়েছে।মিডফিল্ডারআর্জেন্টিনার মিডফিল্ডই এখন দলের সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ অংশ। রদ্রিগো ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও লিয়ান্দ্রো পারেদেস-২০২২ বিশ্বকাপজয়ী এই মিডফিল্ড এখনো স্কালোনির আস্থার জায়গা।তবে এবার নতুন প্রজন্মও উঠে আসছে জোরালোভাবে। ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনো, ক্লদিও এচেভেরি ও নিকোলাস পাজদের নিয়ে ইতোমধ্যেই দারুণ উত্তেজনা তৈরি হয়েছে আর্জেন্টিনায়।তবে ইনজুরির কারণে জিওভানি লো সেলসো ও ভ্যালেন্তিন কার্বোনির বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।আক্রমণভাগআক্রমণভাগেই সম্ভবত সবচেয়ে ভয়ঙ্কর আর্জেন্টিনা। সামনে আছেন লিওনেল মেসি- যিনি সম্ভবত নিজের শেষ বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন। বয়স ৩৯ ছুঁইছুঁই হলেও মেসি এখনো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।তার পাশে হুলিয়ান আলভারেজ ও লওতারো মার্টিনেজের উপস্থিতি আর্জেন্টিনাকে আরও ভয়ঙ্কর করে তুলেছে। আলভারেজ অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদে দুর্দান্ত সময় কাটাচ্ছেন, অন্যদিকে লওতারো কোপা আমেরিকার সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন।এছাড়া হুলিয়ানো সিমিওনে, গারনাচো, ম্যাতিয়াস সুলেদের মতো তরুণরাও স্কালোনির পরিকল্পনায় আছেন। তবে অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া অবসর নেওয়ায় আক্রমণভাগে অভিজ্ঞতার একটা শূন্যতা তৈরি হয়েছে।আর্জেন্টিনার তারকা খেলোয়াড়আর্জেন্টিনা মানেই লিওনেল মেসি। ২০২২ বিশ্বকাপে স্বপ্নপূরণের পরও তার ক্ষুধা শেষ হয়নি। ২০২৬ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে সম্ভবত তার শেষ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। তাই মেসিকে ঘিরে আবেগ এবার আরও বেশি।তবে শুধুই মেসি নন, বর্তমান আর্জেন্টিনা দলটি শক্তিশালী হয়েছে সমন্বয়ের কারণে। হুলিয়ান আলভারেজ এখন ইউরোপের অন্যতম ভয়ঙ্কর ফরোয়ার্ড। অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদে দিয়েগো সিমিওনের অধীনে আরও পরিণত হয়েছেন তিনি। সামনে থেকে প্রেসিং, গোল করা ও অ্যাসিস্ট- সবকিছুতেই কার্যকর।মিডফিল্ডে রদ্রিগো ডি পল স্কালোনির ‘ইঞ্জিন’। তার কর্মক্ষমতা, আগ্রাসন ও লড়াকু মানসিকতা পুরো দলকে উজ্জীবিত করে। অন্যদিকে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও এনজো ফার্নান্দেজ মিডফিল্ডে ভারসাম্য এনে দেন।রক্ষণভাগে এমিলিয়ানো মার্টিনেজ এখন আর্জেন্টিনার মানসিক শক্তির প্রতীক। বড় ম্যাচে তার উপস্থিতিই বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেয় পুরো দলকে। আর রোমেরো-লিসান্দ্রো জুটি প্রতিপক্ষ আক্রমণভাগের জন্য বড় মাথাব্যথা।এছাড়া থিয়াগো আলমাদা ও হুলিয়ানো সিমিওনের মতো তরুণরাও হতে পারেন আর্জেন্টিনার ‘এক্স-ফ্যাক্টর’।সম্ভাব্য একাদশ (৪-৩-৩)স্কালোনি সম্ভবত তার পরীক্ষিত ৪-৩-৩ ফরমেশনেই খেলবেন। গোলপোস্টে থাকবেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। রক্ষণে মোলিনা, রোমেরো, লিসান্দ্রো ও তালিয়াফিকো।মিডফিল্ডে ডি পল ও ম্যাক অ্যালিস্টার নিশ্চিতভাবেই থাকবেন। তৃতীয় জায়গার জন্য এনজো ফার্নান্দেজ ও থিয়াগো আলমাদার মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে।আর আক্রমণভাগে মেসি, লওতারো ও আলভারেজ- এই ত্রয়ীকেই সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হচ্ছে।সম্ভাব্য একাদশ: এমি মার্টিনেজ; মোলিনা, লিসান্দ্রো, রোমেরো, তালিয়াফিকো, ডি পল, ম্যাক অ্যালিস্টার, এনজো ফার্নান্দেজ, মেসি, লওতারো মার্টিনেজ, হুলিয়ান আলভারেজ।
বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আয়োজনগুলোর একটি কান চলচ্চিত্র উৎসবের ৭৯তম আসরের সমাপ্তি ঘটেছে। ফ্রান্সের কান শহরে অনুষ্ঠিত এই উৎসবের পর্দা নামে শনিবার (২৩ মে) স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টায়। এর আগে সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু হয় সমাপনী অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী আয়োজন।প্রায় দুই সপ্তাহব্যাপী চলা এ উৎসবে বিশ্বের নানা দেশের নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী ও প্রযোজকদের মিলনমেলা বসে। সমাপনী রাতে ঘোষণা করা হয় বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক বিভাগের বিজয়ীদের নাম।এবারের আসরের সর্বোচ্চ সম্মান ‘পাম দ্য’র’ বা স্বর্ণপাম জিতে নেয় রোমানিয়ান নির্মাতা ক্রিস্তিয়ান মুঙ্গিউ পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘ফিয়র্ড’। নরওয়ের পটভূমিতে নির্মিত ছবিটিতে একটি অভিবাসী ধর্মীয় পরিবারের সামাজিক ও পারিবারিক সংকটের গল্প তুলে ধরা হয়েছে।প্রদর্শনীর পর থেকেই আন্তর্জাতিক সমালোচকদের প্রশংসা কুড়াতে শুরু করে ‘ফিয়র্ড’। উৎসবজুড়ে এটিকে অন্যতম শক্তিশালী প্রতিযোগী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিচারকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংযত নির্মাণশৈলী, বাস্তবধর্মী উপস্থাপন এবং আবেগঘন গল্প বলার দক্ষতার কারণেই চলচ্চিত্রটি সর্বোচ্চ স্বীকৃতি অর্জন করেছে।এই জয়ের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো কান উৎসবের স্বর্ণপাম ঘরে তুললেন পরিচালক ক্রিস্তিয়ান মুঙ্গিউ। এর আগে তিনি ২০০৭ সালেও এই সম্মান অর্জন করেছিলেন।উৎসবের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘গ্রাঁ প্রি’ পেয়েছে রুশ পরিচালক আন্দ্রেই জভিয়াগিনৎসেভের চলচ্চিত্র ‘মিনোটর’। অন্যদিকে জুরি পুরস্কার জিতেছে জার্মান নির্মাতা ভ্যালেসকা গ্রিসেবাখ পরিচালিত ‘দ্য ড্রিমড অ্যাডভেঞ্চার’।সেরা পরিচালকের পুরস্কার যৌথভাবে পেয়েছেন পোল্যান্ডের পাভেল পাভলিকোভস্কি এবং স্পেনের পরিচালক জুটি হাভিয়ের কালভো ও হাভিয়ের আমব্রোসি। ‘ফাদারল্যান্ড’ চলচ্চিত্রের জন্য সম্মাননা পান পাভলিকোভস্কি, আর ‘দ্য ব্ল্যাক বল’-এর জন্য পুরস্কৃত হন স্প্যানিশ এই পরিচালক জুটি।অভিনয় বিভাগেও ছিল যৌথ বিজয়ের চিত্র। ‘অল অব আ সাডেন’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পান ভার্জিনি এফিরা ও তাও ওকামোতো। একইভাবে ‘কাওয়ার্ড’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য যৌথভাবে সেরা অভিনেতার পুরস্কার জেতেন ভ্যালেনতিন ক্যাম্পান ও এমানুয়েল মাকিয়া।চিত্রনাট্য বিভাগে পুরস্কৃত হয়েছেন এমানুয়েল মার। তার চলচ্চিত্র ‘আ ম্যান অব হিজ টাইম’ এই সম্মান অর্জন করে।সমাপনী আয়োজনে আয়োজকরা জানান, এবারের উৎসবে ইউরোপীয় আর্টহাউস সিনেমার শক্তিশালী উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। পাশাপাশি সামাজিক বাস্তবতাভিত্তিক গল্প বলার প্রবণতাও বিশেষভাবে প্রাধান্য পেয়েছে।বিশ্ব চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কিংবদন্তি শিল্পী বারব্রা স্ট্রেইস্যান্ডকে প্রদান করা হয় সম্মানসূচক পাম দ্য’র। শারীরিকভাবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে না পারলেও ভিডিও বার্তার মাধ্যমে আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।শক্তিশালী গল্পনির্ভর সিনেমার জয়গান এবং ইউরোপীয় চলচ্চিত্রধারার ধারাবাহিক প্রভাবের মধ্য দিয়ে শেষ হলো এবারের কান চলচ্চিত্র উৎসব। পুরো আয়োজনজুড়ে সবচেয়ে আলোচিত চলচ্চিত্র ছিল ‘ফিয়র্ড’, যা শেষ পর্যন্ত জিতে নেয় কাঙ্ক্ষিত স্বর্ণপাম।
পদত্যাগ করলেন ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জুবায়দুর রহমান। রোববার (২৪ মে) ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের একজন সদস্য বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর গত বছরের জুলাই মাসে জুবায়দুর রহমানকে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসাবে ইসলামী ব্যাংকের বোর্ডে নিয়োগ দিয়েছিলেন। জুবায়দুর রহমান চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন।ড. জোবায়দুর রহমান ১৯৭৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টার থেকে ফাইন্যান্সে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কে অধ্যাপক এবং ইতালির বোকোনি বিশ্ববিদ্যালয় ও রাশিয়ার মস্কো স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।বিশ্বব্যাংকের সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে ড. রহমান বিশ্বের ৭০টিরও বেশি দেশে আর্থিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
৪ ঘন্টা আগে
মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্র সৌদি আরবে পবিত্র হজ পালনে গিয়ে এ পর্যন্ত ২৭ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৮ জন পুরুষ ও ৯ জন নারী রয়েছেন।মৃতদের মধ্যে মক্কায় ১৮ জন এবং মদিনায় ৯ জন ইন্তেকাল করেছেন।রোববার (২৪ মে) এয়ারলাইন্স, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ হজ অফিস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।তথ্য মতে, এ বছর এখন পর্যন্ত মোট ৭৯ হাজার ১৬৪ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী ও ব্যবস্থাপনা সদস্য সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় গেছেন চার হাজার ৪৬৪ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯২৬ জন।এছাড়া হজ এজেন্সি, হাব প্রতিনিধি ও বিভিন্ন টিমের ব্যবস্থাপনা সদস্য রয়েছেন ৭৭৪ জন।হজযাত্রী পরিবহনে মোট ২০১টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালনা করেছে ৯৮টি, সৌদি এয়ারলাইন্স ৭৩টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ৩০টি ফ্লাইট। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে গেছেন ৩৮ হাজার ৭০২ জন, সৌদি এয়ারলাইন্সে ২৭ হাজার ৩৪০ জন এবং ফ্লাই নাসে ১২ হাজার ১৫৭ জন হজযাত্রী।
অনেকেই শরীরকে সতেজ রাখতে ভরসা রাখছেন ডাবের পানি আর মাঠার ওপর। কিন্তু এই দুই জনপ্রিয় পানীয়ের মধ্যে কোনটি বেশি উপকারী, তা নিয়েই রয়েছে অনেকের কৌতূহল।চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের মতে, গরমে শরীর ঠান্ডা ও হাইড্রেটেড রাখতে দুটিই ভালো, তবে কাজের ধরন ভিন্ন।ডাবের পানি কতটা উপকারী?ডাবের পানি হলো প্রাকৃতিক এক ধরনের এনার্জি ড্রিংক। এতে ক্যালোরি কম থাকে এবং প্রচুর পটাশিয়াম থাকে, যা শরীরের পানিশূন্যতা দ্রুত পূরণ করতে সাহায্য করে। গরমে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে যে লবণ ও খনিজ বের হয়ে যায়, তা ফিরিয়ে আনতে ডাবের পানি খুব কার্যকর।বিশেষজ্ঞদের মতে, খালি পেটে ডাবের পানি খেলে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায়। রাস্তায় বের হলে বা দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে এটি শরীরকে দ্রুত সতেজ ও হাইড্রেটেড রাখে।মাঠা কতটা উপকারীবাংলাদেশে দই দিয়ে তৈরি ঠান্ডা পানীয়কে সাধারণভাবে মাঠা বা ঘোল বলা হয়। গরমে এটি শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখে এবং হজম শক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে। এতে থাকা প্রোবায়োটিক উপাদান অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং পেটের সমস্যা কমায়।এছাড়া এতে ক্যালসিয়াম, প্রোটিন ও অল্প পরিমাণ ফ্যাট থাকে, যা শরীরকে দীর্ঘ সময় শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। খাবারের পর মাঠা খাওয়া শরীরের জন্য বেশি উপকারী বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।পুষ্টিগুণে পার্থক্যডাবের পানিতে থাকে প্রাকৃতিক শর্করা, পটাশিয়াম ও সোডিয়াম, যা দ্রুত শরীরকে হাইড্রেট করে। অন্যদিকে মাঠাতে থাকে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও প্রোবায়োটিক, যা হজম ও অন্ত্রের জন্য বেশি উপকারী।কোনটা কখন খাবেন,বিশেষজ্ঞদের মতে, রাস্তায় বের হলে বা দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে ডাবের পানি সবচেয়ে ভালো পছন্দ। আর ঘরোয়া পরিবেশে বা খাবারের পর মাঠা খেলে শরীর বেশি উপকার পায়।
২০৫০ সালের মধ্যে চরম তাপমাত্রার ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের শীর্ষ ৬টি দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।সোমবার ২৬ জানুয়ারি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাতে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার সাসটেইনেবিলিটি’-তে এই গবেষণাটি প্রকাশ হয়।ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার অব্যাহত থাকলে আগামী ২৫ বছরের মধ্যে চরম তাপপ্রবাহে আক্রান্ত বৈশ্বিক জনসংখ্যার হার প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। শিল্প-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় যদি বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়, তবে চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ বিশ্বের ৪১ শতাংশ মানুষ (প্রায় ৩৭৯ কোটি) অসহনীয় তাপমাত্রার মধ্যে বসবাস করবে। ২০১০ সালে এই পরিস্থিতির শিকার জনগোষ্ঠীর হার ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ (১৫৪ কোটি)।