দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই একই সময়ে সারা দেশে নতুন করে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে আরও ৯৪৫টি শিশু।বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক এক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে এসে মৃত্যু হয়েছে মোট ৬০৫টি শিশুর। আর ল্যাব টেস্টে নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত প্রমাণিত হওয়ার পর আরও ৯৩টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ গত সাড়ে তিন মাসে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে মোট ৬৯৮টি শিশু মারা গেছে।এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫২টি শিশু নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং হামের উপসর্গজনিত নতুন রোগীর সংখ্যা ৮৯৩। এই এক দিনে ৮৬০টি শিশু নতুন করে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ৯০৬টি শিশু।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৬ হাজার ৬৫৩ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১১ হাজার ৪৪২ জন। আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৮০ হাজার ৪৯৭ জন রোগী, যাদের মধ্যে ৭৬ হাজার ৭৮৮ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয়ে ইতিমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা জোড়া ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৪ জনে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় দেশটিতে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন জায়গায় শতশত ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে। খবর এএফপির। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) প্রাথমিকভাবে জানিয়েছিল, এই ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। তবে দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ সর্বশেষ আপডেটে ১৬৪ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ ছাড়া এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯৭১ জন আহত হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটের দিকে প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর কয়েক মুহূর্তের মধ্যে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে ভেনেজুয়েলায়। দুই ভূমিকম্পের মাঝখানে সময়ের ব্যবধান ছিল মাত্র ৪০ সেকেন্ড বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে ইউএসজিএস। ভয়াবহ এই বিপর্যয়ের পর অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ ইতোমধ্যে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন।মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের জিওলোকেশন করা একাধিক ভিডিওতে ভেনিজুয়েলা জুড়ে ভবন ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখা গেছে, যার মধ্যে রাজধানী কারাকাস এবং উপকূলীয় শহর কাতিয়া লা মারও রয়েছে। সেখানে একটি পাহাড়ের ঢালে বেশ কয়েকটি বহুতল ভবন ধসে পড়তে দেখা গেছে। বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, আতঙ্কিত বাসিন্দারা তাদের প্রিয়জন ও পোষা প্রাণীসহ বহুতল ভবনগুলো থেকে দ্রুত বেরিয়ে এসে রাস্তায় জড়ো হচ্ছেন।তীব্র আতঙ্কিত ও ঘরবাড়ি হারানো এসব মানুষ পরবর্তী আফটারশকের ভয়ে সারারাত খোলা আকাশের নিচে বাইরে কাটিয়েছেন।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টার অংশ হিসেবে বাংলাদেশিদের জন্য আবার ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর ঘোষণা দিল ভারত।বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের হাতে পরিচয়পত্র পেশের মধ্য দিয়ে ঢাকা মিশনের দায়িত্ব শুরু করার পর ভারতীয় ভিসা সেন্টারে এসে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন ভারতের নতুন হাই কমিশনার।দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, আগামী ২৮ জুন থেকেই বাংলাদেশিরা আবার ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন করতে পারবেন। প্রাথমিকভাবে পাঁচটি ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারের মাধ্যমে আবেদন নেওয়া হবে।তিনি আরও বলেন, আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমরা ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য স্বাভাবিক ভিসা আবেদন কার্যক্রম পুনরায় শুরু করছি, যা আগামী ২৮ জুন, রবিবার থেকে জমা দেওয়া যাবে। মানবিক বিবেচনায় জরুরি ক্ষেত্রে মেডিকেল ভিসার সুবিধা আমরা অব্যাহত রাখব।তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনায় ভারতীয় ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারের মাধ্যমে ভিসার আবেদন জমা দেওয়া যাবে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শহরে ভারতীয় ভিসা সেন্টারগুলোতেও এ কার্যক্রম চালু হবে। আমরা আশা করি, এর ফলে আমাদের দুই সার্বভৌম দেশের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ ম্যাচের প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে ঘটে এক আলোচিত ঘটনা। ম্যাচের ২২ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের করা একটি গোল ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) হস্তক্ষেপে বাতিল হলে মাঠে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।তবে সেই হতাশাকে শক্তিতে রূপান্তর করে শেষ পর্যন্ত ম্যাচে জোড়া গোল করে দলকে বড় জয় এনে দেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ভোরে মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের ২২ মিনিটে স্কটল্যান্ডের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে বল জালে পাঠান ভিনিসিয়ুস। রেফারি শুরুতে গোলের সংকেত দিলেও পরে ভিএআরের সহায়তা নেন। দীর্ঘ পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত আসে, শটে বল জালে জড়ানোর ঠিক আগে প্রতিপক্ষের একজন খেলোয়াড়কে ফাউল করেছিলেন ভিনিসিয়ুস। আর এই কারণেই গোলটি বাতিল করা হয়।যে কারণে বাতিল হয়েছে ভিনিসিয়ুসের সেই ‘গোল’কিংবদন্তি পেলে ও রিভালদোর এক অনন্য রেকর্ডে নাম লেখালেন নেইমাররেফারির এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে বিতর্ক শুরু হয়। অনেকের মতে, ঘটনাটি ছিল খুবই সামান্য স্পর্শ বা ‘সফট টাচ’। তবে সাবেক স্কটিশ ফুটবলার ও বর্তমান ধারাভাষ্যকার জেমস ম্যাকফ্যাডেন রেফারির এই সিদ্ধান্তটির পক্ষেই মত দিয়েছেন। তার মতে, বলে শট নেওয়ার আগে প্রতিপক্ষকে বাধা দেওয়ার ঘটনাটি ফাউল হিসেবেই গণ্য হওয়া উচিত।ম্যাকফ্যাডেন বলেন, “এটি পরিষ্কার ফাউল ছিল। স্পর্শ কম বা বেশি ছিল কি না, সেটি বড় বিষয় নয়। বল ক্লিয়ার করার সময় প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে লাথি মেরে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং সেই কারণেই গোলটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ সঠিক ছিল।”গোল বাতিল হওয়ার পর ভিনিসিয়ুসের মধ্যে হতাশার ছাপ দেখা গেলেও সেটি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। বরং ম্যাচে আরও বেশি প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেন ব্রাজিলের এই তারকা। আক্রমণে ধার বাড়াতে থাকেন তিনি এবং স্কটল্যান্ডের রক্ষণভাগকে ক্রমাগত চাপে রাখেন।প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সেই চেষ্টারই ফল পান ভিনিসিয়ুস। দুর্দান্ত এক হেডে বল জালে পাঠিয়ে নিজের গোলের খাতা খোলেন তিনি। শুধু তাই নয়, ম্যাচে সেটিই ছিল তার দ্বিতীয় গোল, যা ব্রাজিলের ব্যবধানও বাড়িয়ে দেয়।বিতর্কিত গোল বাতিলের ঘটনাটি ম্যাচের অন্যতম আলোচ্য বিষয় হয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত ভিনিসিয়ুস নিজের জাদুকরী পারফরম্যান্স দিয়েই সব আলোচনা নিজের দিকে ঘুরিয়ে নেন।
বিশ্বসংগীতের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী শিল্পীদের একজন মাইকেল জ্যাকসন। আজ ২৫ জুন, তার ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকীতে বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্ত স্মরণ করছেন এই কিংবদন্তি শিল্পীকে।১৯৫৮ সালের ২৯ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া মাইকেল জ্যাকসন খুব অল্প বয়সেই সংগীতজগতে যাত্রা শুরু করেন। ১৯৬৪ সালে ভাইদের সঙ্গে ‘জ্যাকসন ফাইভ’ ব্যান্ডের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে তার পথচলা শুরু হয়। পরে একক শিল্পী হিসেবে তিনি বিশ্বসংগীতের অন্যতম উজ্জ্বল তারকায় পরিণত হন।১৯৭১ সালে একক ক্যারিয়ার শুরু করার পর আশির দশকে বিশ্বসংগীতে একচ্ছত্র আধিপত্য গড়ে তোলেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় তার নামের সঙ্গে স্থায়ীভাবে যুক্ত হয় ‘পপসম্রাট’ উপাধি।দীর্ঘ সংগীতজীবনে তিনি উপহার দিয়েছেন অসংখ্য জনপ্রিয় ও কালজয়ী গান। গানের পাশাপাশি তার অসাধারণ নৃত্যশৈলী, মঞ্চ পরিবেশনা এবং বিখ্যাত ‘মুনওয়াক’ নাচ তাকে বিশ্বসংস্কৃতির এক অনন্য প্রতীকে পরিণত করেছে।২০০৯ সালের ২৫ জুন মাত্র ৫০ বছর বয়সে পৃথিবীকে বিদায় জানান মাইকেল জ্যাকসন। তবে মৃত্যুর পরও তার জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি। আজও তার গান, নাচ ও সৃজনশীলতা নতুন প্রজন্মকে সমানভাবে মুগ্ধ করে চলেছে।মাইকেলের মৃত্যুর পর বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। তদন্তে উঠে আসে, তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক কনরাড মারে ঘুমের ওষুধ হিসেবে অতিরিক্ত মাত্রায় চেতনানাশক প্রয়োগ করেছিলেন। পরে অবহেলার কারণে অনিচ্ছাকৃত হত্যার দায়ে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।মাইকেল জ্যাকসন শুধু একজন গায়ক ছিলেন না, তিনি ছিলেন একটি সাংস্কৃতিক যুগের নাম। তার কণ্ঠ, সুর, নৃত্য এবং মঞ্চ উপস্থিতি তাকে কোটি মানুষের হৃদয়ে চিরঅমর করে রেখেছে।
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বেড়েছে। বেড়ে এখন ৩৬ হাজার ১০৩ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন বা ৩৬ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।বুধবার (২৪ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্যানুযায়ী, ২৪ জুন পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার ১০৩ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ৫৫২ দশমিক ৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে।এর আগে গত ২৩ জুন পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৫ হাজার ৭৯৮ দশমিক ১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর বিপিএম-৬ পদ্ধতিত রিজার্ভ ছিল ৩১ হাজার ২৪৪ দশমিক ২২ মিলিয়ন ডলার। নিট রিজার্ভ গণনা করা হয় আইএমএফের বিপিএম-৬ পরিমাপ অনুসারে। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বিয়োগ করলে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ পাওয়া যায়।
১ দিন আগে
মহররম মাসের ১০ তারিখ আশুরা ইসলামে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি দিন। এ দিনের রোজার ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (স.) বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (স.)-কে রমজান ছাড়া অন্যকোনো দিনের রোজাকে আশুরার দিনের রোজার মতো এত গুরুত্ব দিতে দেখিনি।’ (সহিহ বুখারি: ২০০৬) রাসুলুল্লাহ (স.) আরও বলেন, ‘আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, আশুরার দিনের রোজা বিগত এক বছরের গুনাহের কাফফারা হবে।’ (সহিহ মুসলিম: ১১৬২)তবে অসুস্থতা, সফর, বার্ধক্য, গর্ভাবস্থা বা অন্য কোনো শরিয়তসম্মত কারণে অনেকের পক্ষে এই রোজা রাখা সম্ভব হয় না। প্রশ্ন হলো, রোজা রাখতে না পারলে কি আশুরার ফজিলত থেকে বঞ্চিত হতে হবে? ইসলামের শিক্ষা হলো- না। রোজা এ দিনের সর্বোত্তম আমল হলেও বরকত অর্জনের আরও বহু পথ রয়েছে। যারা শরিয়তসম্মত কারণে রোজা রাখতে পারছেন না, তাদের জন্যও এ দিনের বরকত অর্জনের পথ খোলা আছে। রোজার পাশাপাশি আরও বহু নেক আমলের মাধ্যমে আশুরার ফজিলত লাভ করা সম্ভব।বিজ্ঞাপন১. তওবা ও ইস্তেগফার করাআশুরার মতো ফজিলতপূর্ণ দিনগুলো তওবা ও আত্মশুদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।’ (সুরা নূর: ৩১)২. দোয়া ও মোনাজাত করারাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘দোয়াই হলো ইবাদত।’ (সুনানে তিরমিজি: ২৯৬৯) এ দিন নিজের, পরিবার, দেশ ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া করা যেতে পারে।বিজ্ঞাপনআরও পড়ুন: আশুরার দিন যেসব দোয়ার গুরুত্ব রয়েছে৩. কোরআন তেলাওয়াত করাআল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর কিতাব তেলাওয়াত করে... তারা এমন ব্যবসার আশা করে যা কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।’ (সুরা ফাতির: ২৯)৪. জিকির ও দরুদ পাঠ করারাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় কথা চারটি- সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার।’ (সহিহ মুসলিম: ২১৩৭) পাশাপাশি বেশি বেশি দরুদ পাঠও উত্তম। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করেন।’ (সহিহ মুসলিম: ৪০৮)৫. দান-সদকা করারাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘সদকা গুনাহকে নিভিয়ে দেয়, যেমন পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয়।’ (সুনানে তিরমিজি: ২৬১৬) অভাবী, এতিম, মিসকিন ও অসহায় মানুষের সাহায্যে সাধ্যানুযায়ী দান করা যেতে পারে।৬. আত্মীয়তার সম্পর্ক সুদৃঢ় করারাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে চায় তার রিজিক বৃদ্ধি পাক এবং আয়ুতে বরকত হোক, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।’ (সহিহ বুখারি: ৫৯৮৬) আশুরার দিনে আত্মীয়স্বজনের খোঁজ নেওয়া, সম্পর্কের টানাপোড়েন দূর করা এবং কোনো মনোমালিন্য থাকলে তা মিটিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া উত্তম আমল।৭. নফল নামাজ আদায় করাহাদিসে কুদসিতে আল্লাহ বলেন, ‘বান্দা নফল ইবাদতের মাধ্যমে আমার নৈকট্য অর্জন করতে থাকে। এমন কি অবশেষে আমি তাকে আমার এমন প্রিয়পাত্র বানিয়ে নেই যে, আমিই তার কান হয়ে যাই, যা দিয়ে সে শুনে। আমিই তার চোখ হয়ে যাই, যা দিয়ে সে দেখে। আর আমি তার হাত হয়ে যাই, যা দিয়ে সে ধরে। আমিই তার পা হয়ে যাই, যা দ্বারা সে চলে। সে যদি আমার কাছে কোনো কিছু চায়, আমি নিশ্চয়ই তাকে তা দান করি। আর যদি সে আমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে অবশ্যই আমি তাকে আশ্রয় দেই।’ (সহিহ বুখারি: ৬৫০২)৮. হজরত মুসা (আ.)-এর ঘটনা স্মরণ করাআশুরার দিনের সঙ্গে হজরত মুসা (আ.) ও বনি ইসরাইলের মুক্তির ঐতিহাসিক স্মৃতি জড়িত। রাসুলুল্লাহ (স.) ইহুদিদের বলেছিলেন, ‘মুসার ব্যাপারে আমরা তোমাদের চেয়ে বেশি হকদার।’ (সহিহ বুখারি: ২০০৪) এ ঘটনা থেকে আল্লাহর সাহায্য, ধৈর্য, কৃতজ্ঞতা এবং সত্যের চূড়ান্ত বিজয়ের শিক্ষা গ্রহণ করা যায়।৯. গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার অঙ্গীকার করামহররম 'আশহুরে হুরুম' বা সম্মানিত মাসগুলোর একটি। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে মাসের সংখ্যা বারোটি... এর মধ্যে চারটি সম্মানিত মাস।’ (সুরা তওবা: ৩৬) এ দিনে মিথ্যা, গিবত, হিংসা, জুলুম ও হারাম কাজ থেকে বেঁচে থাকার দৃঢ় সংকল্প করা উচিত।আশুরাকে ঘিরে প্রচলিত কিছু ভুল ধারণাকিছু সমাজে আশুরার দিনে বিশেষ খাবার রান্না, নির্দিষ্ট রঙের পোশাক পরা বা বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা পালনের রেওয়াজ প্রচলিত আছে। এসবের পক্ষে সহিহ ও নির্ভরযোগ্য কোনো দলিল পাওয়া যায় না। তাই কোরআন-সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত আমলগুলোর প্রতিই গুরুত্ব দেওয়া উচিত।শেষ কথাআশুরার সর্বোত্তম আমল রোজা। তবে শরিয়তসম্মত কারণে কেউ তা রাখতে না পারলে কল্যাণের দরজা বন্ধ হয়ে যায় না। তওবা, দোয়া, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির, দরুদ, দান-সদকা ও নফল ইবাদতের মাধ্যমে এ দিনের বরকত অর্জনের চেষ্টা করা যায়। আল্লাহ বান্দার আন্তরিকতা ও তাকওয়ার মূল্যায়ন করেন। তাই রোজা রাখতে না পারলেও আশুরার দিনটি যেন নেক আমল, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক মূল্যবান সুযোগ হয়ে ওঠে।
পাকা আম দিয়ে নানা স্বাদের আইসক্রিম তৈরি করা যায়। তবে সবচেয়ে সহজ এবং সুস্বাদু সম্ভবত এর মালাই আইসক্রিম তৈরি করা। এটি দেখতেও বেশ আকর্ষণীয় হয়। আপনার বাড়িতে যদি পাকা আম থাকে তাহলে আজই তৈরি করে খেতে পারেন পাকা আমের মালাই আইসক্রিম। এটি খেতে শিশুরাও বেশ পছন্দ করবে। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক পাকা আমের মালাই আইসক্রিম তৈরির রেসিপি-তৈরি করতে যা লাগবেপাকা আম- ২টিঘন দুধ- ১ কাপগুঁড়া দুধ- ৩-৪ চামচদুধের সর- ২ চামচচিনি- স্বাদ অনুযায়ী।যেভাবে তৈরি করবেনআম মুখের কাছটা কেটে এর ভেতর থেকে আঁটি বের করে নিন। এবার একটি পাত্রে আম ছাড়া বাকি সব উপকরণ দিয়ে জ্বাল দিয়ে নিন। ঘন হয়ে এলে নামিয়ে ঠান্ডা করে নিন। এবার সেই মিশ্রণ আমের ভেতরে ঢেলে মুখ বন্ধ করে দিন। এভাবে আম দুটি ফ্রিজে রেখে দিন সারারাত অথবা অন্তত ৫-৬ ঘণ্টা। এবার বের আমের খোসা তুলে ফেলে কেটে পরিবেশন করুন সুস্বাদু আমের মালাই কুলফি।
২০৫০ সালের মধ্যে চরম তাপমাত্রার ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের শীর্ষ ৬টি দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।সোমবার ২৬ জানুয়ারি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাতে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার সাসটেইনেবিলিটি’-তে এই গবেষণাটি প্রকাশ হয়।ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার অব্যাহত থাকলে আগামী ২৫ বছরের মধ্যে চরম তাপপ্রবাহে আক্রান্ত বৈশ্বিক জনসংখ্যার হার প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। শিল্প-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় যদি বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়, তবে চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ বিশ্বের ৪১ শতাংশ মানুষ (প্রায় ৩৭৯ কোটি) অসহনীয় তাপমাত্রার মধ্যে বসবাস করবে। ২০১০ সালে এই পরিস্থিতির শিকার জনগোষ্ঠীর হার ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ (১৫৪ কোটি)।