বাংলাদেশের সাধারণ পাসপোর্টে যুক্ত করা হচ্ছে জুলাই শহিদ আবু সাঈদ, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ ও মোহাম্মদ ওয়াসিমের ছবি। রোববার (১৯ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।এতে বলা হয়, পাসপোর্টের ভেতরের পাতার জলছাপ পরিবর্তন করে সেখানে যুক্ত করা হচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমের ছবি। নতুন এই পরিবর্তনের অংশ হিসেবে পাসপোর্টের পৃষ্ঠাগুলোতে দেশের ঐতিহ্য ও ইতিহাসের নানা অনুষঙ্গ যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ই-পাসপোর্টের ৩২ ও ৩৩ নম্বর পৃষ্ঠায় জলছাপ হিসেবে যুক্ত হচ্ছে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি।আবু সাঈদ, মুগ্ধ কিংবা ওয়াসিমদের মতো তরুণদের আত্মত্যাগের সেই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক মুহূর্তটি এবার ঠাঁই পাচ্ছে বাংলাদেশের নাগরিকদের আন্তর্জাতিক এই ভ্রমণ নথিতে। অনুমোদিত নতুন নকশা অনুযায়ী, পাসপোর্টের বিভিন্ন পৃষ্ঠায় জাতীয় স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনার, জাতীয় সংসদ ভবন, সুপ্রিম কোর্টের পাশাপাশি স্থান পেয়েছে কান্তজিউ মন্দির, লালবাগ দুর্গ, পানামনগর ও কার্জন হলের মতো ঐতিহাসিক স্থাপনা। এছাড়া প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ঝাউবনসহ কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, সুন্দরবন, টাঙ্গুয়ার হাওর ও নীলগিরির ছবি জলছাপ হিসেবে ব্যবহার করা হবে। জাতীয় ফুল শাপলা, পাখি দোয়েল, মাছ ইলিশ ও ফল কাঁঠালের পাশাপাশি স্থান পেয়েছে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের বিখ্যাত চিত্রকর্ম সংগ্রাম।প্রজ্ঞাপনে আরও জানানো হয়েছে, পাসপোর্টের ডাটা পেইজে আগের মতোই ইসরায়েল ব্যতীত বিশ্বের সব দেশের জন্য এটি বৈধ থাকার বিষয়টি বহাল থাকছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছে।
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের গুলশানের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিলাসবহুল সামগ্রী উদ্ধার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।অভিযানে ফ্ল্যাট থেকে ৩০০টির বেশি কোট, ৫৩২টির বেশি টাই, ৮টি ঘড়ির বক্স (এর মধ্যে রোলেক্সের ৪টি), ৩ সেট মুক্তার (পার্ল) গয়না, ৪টি ঝাড়বাতি, একটি বেড, একটি সোফা এবং প্রায় ১০০টি কামিজ উদ্ধার করা হয়েছে বলে দুদক জানিয়েছে।বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া রোলেক্স ঘড়ির ক্রয় রসিদ অনুযায়ী দাম ১৪ হাজার থেকে ১৭ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার বলে জানা গেছে।রোববার (১৯ জুলাই) দুদকের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে একটি টিম এই অভিযান পরিচালনা করে বলে জানা গেছে।বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম বলেন, আজ সকাল সাড়ে ১০টায় আদালতের আদেশে সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ফ্ল্যাটে প্রবেশ ও ইনভেন্টরির কার্যক্রম শুরু হয়। ইনভেন্টরির কাজ এখনও শেষ হয়নি, আগামীকালও চলবে।ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর সাইফুজ্জামানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করেছে দুদক।গত ২ জুলাই দুদক উপ-পরিচালক মশিউর রহমানের সই করা চিঠির সূত্রে জানা যায়, আদালতের আদেশে আজ সাইফুজ্জামানের গুলশানের ২টি ফ্ল্যাটের সঠিক নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা, তদারকি এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নিয়ন্ত্রণে নেবে দুদক।ওই চিঠিতে বলা হয়, সাবেক ভূমিমন্ত্রী এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নামীয় সম্পদ ঢাকার গুলশানস্থ রোড নং-৬৬, ব্লক-নর্থওয়েস্ট (বি), প্লট নং-১১, ফ্ল্যাট নং-এ-৭, আয়তন ৩৭৪৭ বর্গফুট এবং (২) ঢাকার গুলশানস্থ রোড নং-৬৬, ব্লক-নর্থওয়েস্ট (বি), প্লট নং-১১, ফ্ল্যাট নং-বি-৭, আয়তন-৩৮৩২ বর্গফুট বিশিষ্ট ফ্ল্যাট ২টির সঠিক নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা, তদারকি এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রিসিভার হিসেবে দুদক পরিচালককে (সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিট) নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।ফ্ল্যাটে রিসিভারের প্রবেশ এবং মালামালের ইনভেন্টরি করার সময় দায়িত্ব পালনের জন্য গুলশান রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নিলয় রহমানকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।এর আগে ২৬ ফেব্রুয়ারি সাইফুজ্জামান চৌধুরীর (জাবেদ) নামে যুক্তরাজ্যে থাকা ৫১৮টি ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট ক্রোকের নির্দেশ দেন আদালত। আর ১৩ জানুয়ারি সাইফুজ্জামানের আরব আমিরাতসহ আট দেশে থাকা বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে তার নামে থাকা দুটি কোম্পানিতে করা বিনিয়োগ অবরুদ্ধেরও আদেশ দেওয়া হয়েছে। এসব সম্পদ ও বিনিয়োগের মোট পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৩২০ কোটি ৯২ লাখ টাকা।সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ২০১৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত একই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের গুলশানের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিলাসবহুল সামগ্রী উদ্ধার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।অভিযানে ফ্ল্যাট থেকে ৩০০টির বেশি কোট, ৫৩২টির বেশি টাই, ৮টি ঘড়ির বক্স (এর মধ্যে রোলেক্সের ৪টি), ৩ সেট মুক্তার (পার্ল) গয়না, ৪টি ঝাড়বাতি, একটি বেড, একটি সোফা এবং প্রায় ১০০টি কামিজ উদ্ধার করা হয়েছে বলে দুদক জানিয়েছে।বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া রোলেক্স ঘড়ির ক্রয় রসিদ অনুযায়ী দাম ১৪ হাজার থেকে ১৭ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার বলে জানা গেছে।রোববার (১৯ জুলাই) দুদকের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে একটি টিম এই অভিযান পরিচালনা করে বলে জানা গেছে।বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম বলেন, আজ সকাল সাড়ে ১০টায় আদালতের আদেশে সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ফ্ল্যাটে প্রবেশ ও ইনভেন্টরির কার্যক্রম শুরু হয়। ইনভেন্টরির কাজ এখনও শেষ হয়নি, আগামীকালও চলবে।ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর সাইফুজ্জামানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করেছে দুদক।গত ২ জুলাই দুদক উপ-পরিচালক মশিউর রহমানের সই করা চিঠির সূত্রে জানা যায়, আদালতের আদেশে আজ সাইফুজ্জামানের গুলশানের ২টি ফ্ল্যাটের সঠিক নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা, তদারকি এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নিয়ন্ত্রণে নেবে দুদক।ওই চিঠিতে বলা হয়, সাবেক ভূমিমন্ত্রী এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নামীয় সম্পদ ঢাকার গুলশানস্থ রোড নং-৬৬, ব্লক-নর্থওয়েস্ট (বি), প্লট নং-১১, ফ্ল্যাট নং-এ-৭, আয়তন ৩৭৪৭ বর্গফুট এবং (২) ঢাকার গুলশানস্থ রোড নং-৬৬, ব্লক-নর্থওয়েস্ট (বি), প্লট নং-১১, ফ্ল্যাট নং-বি-৭, আয়তন-৩৮৩২ বর্গফুট বিশিষ্ট ফ্ল্যাট ২টির সঠিক নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা, তদারকি এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রিসিভার হিসেবে দুদক পরিচালককে (সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিট) নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।ফ্ল্যাটে রিসিভারের প্রবেশ এবং মালামালের ইনভেন্টরি করার সময় দায়িত্ব পালনের জন্য গুলশান রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নিলয় রহমানকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।এর আগে ২৬ ফেব্রুয়ারি সাইফুজ্জামান চৌধুরীর (জাবেদ) নামে যুক্তরাজ্যে থাকা ৫১৮টি ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট ক্রোকের নির্দেশ দেন আদালত। আর ১৩ জানুয়ারি সাইফুজ্জামানের আরব আমিরাতসহ আট দেশে থাকা বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে তার নামে থাকা দুটি কোম্পানিতে করা বিনিয়োগ অবরুদ্ধেরও আদেশ দেওয়া হয়েছে। এসব সম্পদ ও বিনিয়োগের মোট পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৩২০ কোটি ৯২ লাখ টাকা।সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ২০১৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত একই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
অবশেষে অপেক্ষার অবসান। বিশ্বফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট কার মাথায় উঠছে, তা নির্ধারণ করতে আজ নিউ জার্সিতে মুখোমুখি হচ্ছে স্পেন ও আর্জেন্টিনা।এই ম্যাচ ঘিরে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায়ও ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। অনেক ফিলিস্তিনি সমর্থক স্পেনকে সমর্থন করছেন, কারণ তাদের বিশ্বাস—ফিলিস্তিনের প্রতি স্পেনের রাজনৈতিক ও মানবিক অবস্থানই এই সমর্থনের প্রধান কারণ।২০২৪ সালের মে মাসে স্পেন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ তখন বলেছিলেন, এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য ছিল ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকে এগিয়ে নেওয়া, গাজার মানবিক সংকট নিরসনে ভূমিকা রাখা, যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।স্পেন জাতীয় দলের কয়েকজন খেলোয়াড় ও কোচও গাজার মানুষের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন লামিনে ইয়ামাল এবং ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক কোচ পেপ গার্দিওলা। ফিলিস্তিনিদের কাছে এসব পদক্ষেপ ফুটবলের গণ্ডি ছাড়িয়ে প্রতীকী গুরুত্ব বহন করছে।গাজার পঙ্গুদের ফুটবল দল গাজা আল ইরাদা (গাজা ডিটারমিনেশন)-এর প্রধান কোচ হাতেম আল মাগরিবি বলেন, ‘পুরো ফিলিস্তিনি জাতি চায় স্পেন বিশ্বকাপ জিতুক।’ তিনি বলেন, ‘এই খেলোয়াড়রা তাদের পা বা হাত হারিয়েছে, কিন্তু যারা ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়িয়েছে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসা ও সম্মান প্রকাশ করার শক্তি হারায়নি।’এ সময় তিনি বিশ্বকাপ চলাকালে প্রকাশ্যে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানানোর জন্য মিসরের কোচ হোসাম হাসানকেও ধন্যবাদ জানান।বিশ্বকাপ ফাইনাল ঘিরে বিশ্বজুড়ে যেমন উত্তেজনা বাড়ছে, তেমনি গাজাতেও ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে। তবে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ইসরাইলি হামলার কারণে টুর্নামেন্টের ম্যাচ দেখা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠেছে।সাবেক ফুটবলার ও স্টেডিয়াম ব্যবস্থাপক আদনান আল আফিফি বলেন, ‘বিদ্যুৎ থাকলেই কেবল মানুষ খেলা দেখতে পারে। কিন্তু জ্বালানির সংকট ও অতিরিক্ত দামের কারণে জেনারেটরও চালানো যাচ্ছে না। এর মূল্য দিচ্ছেন সাধারণ ফিলিস্তিনিরা।’যুদ্ধের কারণে প্রায় হারিয়ে যাওয়া ক্রীড়া পরিবেশ কিছুটা ফিরিয়ে আনতে গাজা সিটির প্যালেস্টাইন স্পোর্টস ক্লাবে বিশ্বকাপ উপলক্ষে প্রদর্শনী ম্যাচের আয়োজন করছেন আল-আফিফি। বর্তমানে এটিই গাজা উপত্যকার একমাত্র সচল ফুটবল ক্লাব, যেখানে খেলোয়াড়রা অনুশীলন ও খেলতে পারেন।বৃহস্পতিবার ও শনিবার সেখানে ফিলিস্তিন ও স্পেনের প্রতিনিধিত্বকারী দুটি দলের মধ্যে বিশ্বকাপ অনুকরণে দুটি প্রদর্শনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। ম্যাচগুলোতে রেফারির পাশাপাশি প্রতীকী ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ব্যবস্থাও রাখা হয়, যাতে খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক ম্যাচের পরিবেশ অনুভব করতে পারেন।৩৭ বছর বয়সী আল-আফিফি বলেন, ‘পুরো পরিবেশ ছিল আবেগ ও ইতিবাচকতায় ভরা। স্পেন জাতীয় দলের প্রতি আমাদের সমর্থনের এটিই ছিল সবচেয়ে বড় প্রকাশ।’৩৩ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি আহমেদ আল বোজম বলেন, ‘আমি পুরোপুরি স্পেনের পক্ষে। কারণ তারা ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়িয়েছে।’ গাজার অনেক মানুষের মধ্যেই এমন অনুভূতি রয়েছে। এর পেছনে রয়েছে ইসরাইলের যুদ্ধের সময় ফিলিস্তিন বিষয়ে স্প্যানিশ সরকারের অবস্থান এবং বার্সেলোনার তারকা লামিনে ইয়ামালসহ স্পেনের কয়েকজন ক্রীড়াবিদের প্রকাশ্য সংহতি।এদিকে হাইভোল্টেজ এই ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। খবর টাইমস অব ইসরাইলেরইসরাইলে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত রাব্বি শিমন অ্যাক্সেল ওয়ানিশের সঙ্গে বৈঠকে নেতানিয়াহু এই সমর্থনের কথা জানান। এ সময় রাষ্ট্রদূত আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইর পক্ষ থেকে নেতানিয়াহুর জন্য একটি বার্তাও পৌঁছে দেন। জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, ‘হাভিয়ের, আপনি একজন সত্যিকারের বন্ধু। আপনি আমাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আমরা আর্জেন্টিনার পাশে আছি এবং নানা ক্ষেত্রেই তাদের সমর্থন করি। আগামীকালের (রোববার) ম্যাচের জন্যও শুভকামনা রইল। শুভকামনা আর্জেন্টিনার জন্য।’ সূত্র: আলজাজিরা
ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শেষ মহারণ আজ ১৯ জুলাই। মহাযজ্ঞের পর্দা নামবে আর্জেন্টিনা-স্পেনের ফাইনাল ম্যাচের মাধ্যমে। এদিন মেসি-ইয়ামালদের পায়ের যাদুর পাশাপাশি মুগ্ধতা ছড়াবে শাকিরা-ম্যাডোনা-জাস্টিন বিবারদের কণ্ঠের যাদু। ম্যাচের হাফটাইমে গাইবেন তারা।গুঞ্জন উঠেছিল প্রথমার্ধের পর ৩০-৪০ মিনিট পারফর্ম করবেন সংগীতশিল্পীরা। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের জন্য মাঠে নামবেন খেলোয়াড়রা। এরপরই ছোটে সমালোচনার পাগলা ঘোড়া। কেননা ফুটবল বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ১৫ মিনিটের বিরতি ৩০ মিনিটে পৌঁছালে ম্যাচের ছন্দপতন হতে পারে।তবে হাফটাইমে তারকাদের পারফর্ম নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে আয়োজক ফিফা। জানিয়েছে ৩০ মিনিট না ফাইনাল ম্যাচের বিরতি সর্বোচ্চ ১৭ মিনিট হবে। যা প্রচলিত ম্যাচের হাফটাইমের চেয়ে দুই মিনিট বেশি। ফিফা আরও জানিয়েছে এই ১৭ মিনিটের ১১ মিনিট বরাদ্দ থাকবে সংগীত পরিবেশনার জন্য। বাকি প্রায় ছয় মিনিট ব্যবহার করা হবে মঞ্চ স্থাপন ও সরিয়ে নেওয়া এবং মাঠে পানি দেওয়ার কাজে। স্পেন ও আর্জেন্টিনার ফুটবল ফেডারেশনকেও বিষয়টি অবগত করেছে ফেডারেশন অব ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। শেষ মুহূর্তের আনন্দ কোন দলের সঙ্গী হবে সে অপেক্ষায় সবাই।
আমের মৌসুমে ব্যবসায়ীদের লেনদেন নির্বিঘ্ন রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রাজশাহী অঞ্চলের চার জেলার আমের বাজারসংলগ্ন এলাকায় শনিবার (১৮ জুলাই) সীমিত পরিসরে ব্যাংকের শাখা ও উপশাখা খোলা রাখা হয়েছে। শুধু আজই নয়, আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত প্রতি শনিবার একই ব্যবস্থা চালু থাকবে।বাংলাদেশ ব্যাংক এক নির্দেশনায় জানিয়েছে, চলমান আমের মৌসুমে রাজশাহী অঞ্চলের চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট উপজেলা, নওগাঁর সাপাহার, পোরশা ও নিয়ামতপুর উপজেলা এবং রাজশাহী ও নাটোর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় গড়ে ওঠা স্থায়ী ও অস্থায়ী আমের বাজার সংলগ্ন ব্যাংকের শাখা নগদ অর্থের সরবরাহ ও জমা নিশ্চিত এবং ব্যবসায়ীদের নগদ অর্থ সংরক্ষণজনিত ঝুঁকি কমাতে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবারও খোলা থাকবে।সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবার সীমিত পরিসরে ব্যাংক খোলা রাখার এই সিদ্ধান্ত আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত বলবৎ থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তফসিলি ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সীমিত পরিসরে ব্যাংকের শাখা ও উপশাখা খোলা রাখার নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
১ দিন আগে
মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। চলার পথে অসতর্কতা, প্রবৃত্তির দুর্বলতা বা শয়তানের প্ররোচনায় ছোট-বড় অনেক গুনাহ হয়ে যেতে পারে। তবে ইসলাম মানুষকে কখনো নিরাশ হতে শেখায় না। মহান আল্লাহর অসীম রহমতের দিকে ফিরে আসার পথ দেখায়। পবিত্র কোরআন ও সহিহ হাদিসে গুনাহ মাফের আমল হিসেবে তাওবা, ইস্তেগফার, নামাজ ও নেক কাজের গুরুত্ব স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এমন কিছু সহজ আমলের মাধ্যমে একজন মুমিন আল্লাহর ক্ষমা ও রহমত লাভের আশা করতে পারেন।নিচে কোরআন ও হাদিসের আলোকে গুনাহ মাফের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ আমল তুলে ধরা হলো-১. আন্তরিকভাবে তাওবা করাগুনাহ থেকে ফিরে আসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো আন্তরিক তাওবা। আল্লাহ তাআলা বারবার বান্দাকে তাঁর দিকে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।আল্লাহ বলেন- ‘হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তাওবা করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।’ (সুরা নূর: ৩১)অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন- ‘তবে যারা তাওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকাজ করে, আল্লাহ তাদের মন্দ কাজগুলোকে ভালো কাজে পরিবর্তন করে দেবেন। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা ফুরকান: ৭০)তাওবার মূল শর্ত হলো- গুনাহটি পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়া, কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হওয়া এবং ভবিষ্যতে তা না করার দৃঢ় সংকল্প করা।২. সুন্দরভাবে অজু করাউত্তমভাবে অজু করলে আল্লাহ বান্দার ছোট ছোট গুনাহ ক্ষমা করে দেন। অজু শুধু নামাজের প্রস্তুতি নয়, এটি গুনাহ ঝরিয়ে দেওয়ারও মাধ্যম।এ প্রসঙ্গে নবীজি (স.) বলেছেন- ‘যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে অজু করে, তার শরীর থেকে গুনাহগুলো বের হয়ে যায়, এমনকি তার নখের নিচ থেকেও।’ (সহিহ মুসলিম: ২৪৫)৩. বেশি বেশি সেজদা ও নামাজ আদায়নামাজ বান্দাকে আল্লাহর নৈকট্য লাভের শ্রেষ্ঠ সুযোগ করে দেয়। বিশেষ করে সেজদার মুহূর্তে বান্দা আল্লাহর বিশেষ নৈকট্য লাভের সুযোগ পায়।সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত, হাদিসে এসেছে- ‘তুমি আল্লাহর জন্য বেশি বেশি সেজদা করো। কারণ তুমি যখনই আল্লাহর জন্য একটি সেজদা করবে, আল্লাহ তার বিনিময়ে তোমার মর্যাদা এক ধাপ বৃদ্ধি করবেন এবং একটি গুনাহ ক্ষমা করবেন।’ (সহিহ মুসলিম: ৪৮৮)৪. জামাতে নামাজ আদায় করামসজিদে গিয়ে জামাতে নামাজ পড়ার সওয়াব ও গুরুত্ব অনেক।নবীজি (স.) এক হাদিসে বলেছেন- ‘আমি কি তোমাদের এমন কাজের কথা বলব না, যার মাধ্যমে আল্লাহ গুনাহ মুছে দেন এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করেন? তা হলো- কষ্টের সময়ও ভালোভাবে অজু করা, মসজিদের দিকে বেশি বেশি পদক্ষেপ নেওয়া এবং এক নামাজের পর পরবর্তী নামাজের জন্য অপেক্ষা করা।’ (সহিহ মুসলিম: ২৫১)৫. জুমার নামাজ ও খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনাজুমার দিন যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে নামাজ আদায় করা গুনাহ মাফের কারণ।সালমান ফারসি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন- ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে, সাধ্যমতো পবিত্রতা অর্জন করে, সুগন্ধি ব্যবহার করে এবং মসজিদে গিয়ে কাউকে কষ্ট না দিয়ে নামাজ আদায় করে এবং ইমামের খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনে, তার এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমার মধ্যবর্তী গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেওয়া হয়।’ (সহিহ বুখারি: ৮৮৩)৬. ভালো কাজের মাধ্যমে মন্দ কাজ মুছে যায়কোনো ভুল বা গুনাহ হয়ে গেলে হতাশ না হয়ে দ্রুত কোনো নেক আমলের দিকে মনোযোগী হওয়া উচিত।আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘নিশ্চয়ই ভালো কাজগুলো মন্দ কাজগুলোকে মুছে দেয়।’ (সুরা হুদ: ১১৪)এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (স.) মুআজ ইবনে জাবাল (রা.)-কে উপদেশ দিয়ে বলেছিলেন- ‘তুমি যেখানেই থাকো আল্লাহকে ভয় করো। আর মন্দ কাজের পর এমন ভালো কাজ করো, যা মন্দকে মুছে দেবে এবং মানুষের সঙ্গে উত্তম আচরণ করো।’ (জামে তিরমিজি: ১৯৮৭)৭. সৃষ্টির প্রতি দয়া ও ইহসানআল্লাহর সৃষ্টির প্রতি দয়া করা ক্ষমা লাভের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। হাদিসে বর্ণিত আছে, এক ব্যক্তি তৃষ্ণার্ত একটি কুকুরকে পানি পান করানোর কারণে আল্লাহর ক্ষমা লাভ করেন।এ প্রসঙ্গে নবীজি (স.) বলেন- ‘প্রত্যেক প্রাণীর প্রতি দয়া করার মধ্যে সওয়াব রয়েছে।’ (সহিহ বুখারি: ২৩৬৩)৮. হজ ও ওমরা পালনসামর্থ্যবান মুসলিমের জন্য হজ একটি মহান ইবাদত। কবুল হজ পূর্বের গুনাহ মাফের অন্যতম বড় মাধ্যম হতে পারে।নবীজি (স.) বলেছেন- ‘যে ব্যক্তি হজ করল এবং তাতে কোনো অশ্লীল কথা বা পাপ কাজ করল না, সে এমন অবস্থায় ফিরে আসে যেন তার মা তাকে আজই জন্ম দিয়েছেন।’ (সহিহ বুখারি: ১৫২১)৯. নিয়মিত ইস্তেগফার করাএকজন মুমিনের সহজ ও গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলোর একটি হলো নিয়মিত ইস্তেগফার করা।মহান আল্লাহ বলেন- ‘আর যারা কোনো অশ্লীল কাজ করলে অথবা নিজেদের ওপর জুলুম করলে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজেদের গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে...।’ (সুরা আলে ইমরান: ১৩৫)ইস্তেগফারের অন্যতম সহজ দোয়া হলো- أَسْتَغْفِرُ اللهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লাহ ওয়া আতুবু ইলাইহ। অর্থ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই এবং তাঁর কাছেই তাওবা করি।১০. বিপদ-আপদে ধৈর্যধারণ করাজীবনের দুঃখ-কষ্ট, রোগ-বালাই ও দুশ্চিন্তাও মুমিনের জন্য গুনাহ মাফের কারণ হতে পারে।নবীজি (স.) বলেছেন- ‘মুসলিম ব্যক্তির ওপর যে ক্লান্তি, রোগ, শোক, কষ্ট, এমনকি সামান্য কাঁটার আঘাতও আসে- এর বিনিময়ে আল্লাহ তার গুনাহগুলো মাফ করে দেন।’ (সহিহ বুখারি: ৫৬৪১)আল্লাহর রহমতের দরজা সবসময় খোলাগুনাহ হয়ে গেলে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া ঠিক নয়; এটি শয়তানের একটি বড় প্ররোচনা।মহান আল্লাহ বলেন- ‘হে আমার বান্দারা, যারা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা যুমার: ৫৩)তাই প্রতিদিনের জীবনে তাওবা, ইস্তেগফার ও নেক আমলের চর্চার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা প্রত্যেক মুমিনের দায়িত্ব।তথ্যসূত্র: পবিত্র কোরআন; সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম ও জামে তিরমিজি
স্বাস্থ্যকর ভেবে এখন অনেকেই রান্নায় সয়াবিন তেল বাদ দিয়ে সরিষার তেল ব্যবহার করছেন। অনেকে মনে করেন, সরিষার তেলই সবচেয়ে ভালো। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরিষার তেলের কিছু উপকারিতা থাকলেও এটি অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক নয়। পরিমিত ব্যবহারই সবচেয়ে নিরাপদ।বাংলাদেশের বেশির ভাগ পরিবারে এখনো সয়াবিন তেলেই রান্না হয়। অন্যদিকে সূর্যমুখী, ক্যানোলা বা চালের তুষের তেল তুলনামূলক দামি হওয়ায় সবার নাগালের মধ্যে থাকে না। অনেকেই স্বাদ ও স্বাস্থ্য—দুই দিক বিবেচনা করে শর্ষের তেল বেছে নিচ্ছেন। শর্ষের তেলে রান্না করা ভর্তা, মাছ কিংবা মুড়ি—সবকিছুতেই আলাদা স্বাদ পাওয়া যায়।বিশেষজ্ঞদের মতে, সরিষার তেলে সয়াবিন তেলের তুলনায় সম্পৃক্ত চর্বির পরিমাণ কম এবং উপকারী একধরনের চর্বির পরিমাণ বেশি। এ কারণে এটি হৃদ্যন্ত্রের জন্য উপকারী হতে পারে। পাশাপাশি রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও কিছুটা সহায়তা করতে পারে।তবে সরিষার তেলে ওমেগা–৩ ও ওমেগা–৬-এর পরিমাণ তুলনামূলক কম। যদিও বর্তমান খাদ্যাভ্যাসে অন্যান্য খাবার থেকেই পর্যাপ্ত ওমেগা–৬ পাওয়া যায়। তাই পুষ্টিগুণের দিক থেকে শর্ষের তেলকে ভালো বিকল্প হিসেবে ধরা হয়।তবে সরিষার তেল নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। এর অন্যতম কারণ এতে থাকা ইরুসিক অ্যাসিড। প্রাণীর ওপর করা কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এই উপাদান হৃদ্যন্ত্রে চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে মানুষের ক্ষেত্রে এমন ক্ষতির শক্ত প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরিষার তেল ব্যবহারে ভিন্ন নীতি অনুসরণ করা হয়। কিছু দেশে রান্নায় এর ব্যবহার সীমিত, আবার দক্ষিণ এশিয়ার বহু পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শর্ষের তেল ব্যবহার করলেও বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির প্রমাণ খুব বেশি পাওয়া যায়নি।বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান তথ্য অনুযায়ী সরিষার তেল সম্পূর্ণ ক্ষতিকর বা সম্পূর্ণ নিরাপদ—কোনোটিই নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। তাই এটি পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।তবে শিশুদের প্রতিদিন সরিষার তেলে রান্না করা খাবার না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভেজালমুক্ত খাঁটি তেল ব্যবহার করাও জরুরি। কারণ ভেজাল তেল নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।এছাড়া যাদের হজমের সমস্যা রয়েছে, শর্ষের তেলের ঝাঁজ তাদের অস্বস্তি বাড়াতে পারে। হৃদ্রোগ, যকৃতের রোগ, দীর্ঘমেয়াদি কিডনির রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং গর্ভবতী নারীদের নিয়মিত শর্ষের তেল খাওয়ার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত। আর যাদের শর্ষের তেলে অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের এটি এড়িয়ে চলাই নিরাপদ।বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করিয়ে দেন, সুস্থ থাকতে প্রতিদিন মোট তেল গ্রহণের পরিমাণ চার থেকে পাঁচ টেবিল চামচের বেশি না হওয়াই ভালো। যে তেলই ব্যবহার করা হোক না কেন, পরিমিত ব্যবহারই সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
২০৫০ সালের মধ্যে চরম তাপমাত্রার ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের শীর্ষ ৬টি দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।সোমবার ২৬ জানুয়ারি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাতে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার সাসটেইনেবিলিটি’-তে এই গবেষণাটি প্রকাশ হয়।ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার অব্যাহত থাকলে আগামী ২৫ বছরের মধ্যে চরম তাপপ্রবাহে আক্রান্ত বৈশ্বিক জনসংখ্যার হার প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। শিল্প-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় যদি বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়, তবে চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ বিশ্বের ৪১ শতাংশ মানুষ (প্রায় ৩৭৯ কোটি) অসহনীয় তাপমাত্রার মধ্যে বসবাস করবে। ২০১০ সালে এই পরিস্থিতির শিকার জনগোষ্ঠীর হার ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ (১৫৪ কোটি)।
ডিজিটাল যুগে অনলাইন প্রতারণার ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলতে প্রতারকরা কেওয়াইসি (KYC) স্ক্যাম থেকে শুরু করে ডিজিটাল অ্যারেস্টের মতো নানা কৌশল অবলম্বন করছে, যার ফলে অনেকেই তাদের কষ্টার্জিত অর্থ হারাচ্ছেন। বহুল ব্যবহৃত মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের এই ধরনের সাইবার প্রতারণার হাত থেকে সুরক্ষিত রাখতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেফটি ফিচার চালু করেছে। এই ফিচারগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করলে আপনি সাইবার অপরাধীদের ফাঁদে পড়া থেকে অনেকটাই সুরক্ষিত থাকতে পারবেন।অচেনা নম্বর থেকে আসা কলের উপদ্রব কমাতে হোয়াটসঅ্যাপের ‘সাইলেন্স আননোন কলারস’ (Silence Unknown Callers) ফিচারটি দারুণ কার্যকর। এটি চালু থাকলে অচেনা নম্বর থেকে কল এলে আপনার ফোন বেজে উঠবে না, বরং কলটি শুধু কল ট্যাব এবং নোটিফিকেশনে দেখা যাবে। এছাড়া ‘কনটেক্সট কার্ডস’ (Context Cards) ফিচারের মাধ্যমে আপনি কোনো অচেনা নম্বর থেকে মেসেজ পাওয়ার পর সেটি আপনার সেভ করা আছে কি না বা ওই ব্যক্তি আপনার পরিচিত কোনো গ্রুপে আছেন কি না, তা সহজেই যাচাই করতে পারবেন। এর ফলে কারো মেসেজ ব্লক করা বা উপেক্ষা করার আগে আপনি প্রয়োজনীয় তথ্য পেয়ে যাবেন।ভিডিও কলের সময় স্ক্রিন শেয়ার করার সুবিধা থাকলেও, প্রতারকরা এই সুযোগে ব্যক্তিগত বা সংবেদনশীল তথ্য চুরি করতে পারে। এই ঝুঁকি এড়াতে হোয়াটসঅ্যাপ এখন কোনো অচেনা ব্যক্তির সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করার সময় ব্যবহারকারীকে সম্ভাব্য সতর্কবার্তা দেখায়। পাশাপাশি, আপনার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট অন্য কেউ অন্য কোনো ডিভাইসের সঙ্গে লিঙ্ক করার চেষ্টা করলে ‘ডিভাইস লিঙ্কিং অ্যালার্টস’ (Device Linking Alerts) ফিচারের মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপ সঙ্গে সঙ্গে আপনাকে সতর্কবার্তা পাঠাবে, যা অ্যাকাউন্টের অপব্যবহার রোধে সহায়ক।সবশেষে, অনলাইন নিরাপত্তার জন্য ‘টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন’ (Two-step Verification) ফিচারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সুবিধা চালু থাকলে অ্যাকাউন্ট রিসেট বা যাচাই করার সময় শুধু ওটিপি (OTP) নয়, বরং একটি অতিরিক্ত ভেরিফিকেশন ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। ফলে অননুমোদিত ব্যক্তি চাইলেই আপনার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারে না এবং অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার ঝুঁকিও অনেক কমে যায়।