দুই হত্যা মামলা এবং একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমের জামিন মঞ্জুর করেছেন হাইকোর্ট। তার আবেদনের ওপর চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজল এবং বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন।আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সারা হোসেন, অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু ও আইনজীবী খায়রুন্নেসা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সৈয়দা সাজিয়া শারমিন।পরে আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু কালবেলাকে বলেন, ‘তিনটি মামলার মধ্যে ঢাকার কতোয়ালি থানার একটি এবং মানিকগঞ্জের সিংগাইর থানার একটি হত্যা মামলায় তাকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। এছাড়া মানিকগঞ্জের হরিরামপুর থানার একটি হত্যা চেষ্টা মামরায়ও হাইকোর্ট তার জামিন মঞ্জুর করেছেন। পৃথক তিনটি মামলায় ইতিপূর্বে জারি করা রুল মঞ্জুর করে আদালত এ জামিন দেন।’তিনি আরও বলেন, ‘সাবেক এমপি মমতাজের বিরুদ্ধে মোট সাতটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে আজ তিনটিতে জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে। এর আগে আশুলিয়া থানায় করা একটি হত্যা মামলা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলা এবং মিরপুর মডেল থানায় করা একটি হত্যা মামলায় গত ১৫ জুন হাইকোর্ট রুল দিয়ে এই তিন মামলায় মমতাজকে অন্তর্বর্তী জামিন দেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে চেম্বার আদালত আশুলিয়া থানার একটি হত্যা মামলা ও মিরপুর মডেল থানার একটি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেন। এসব কারণে সাবেক এই এমপি এখনই কারামুক্তি পাচ্ছেন না।’লোকগানের জনপ্রিয় শিল্পী মমতাজ বেগম একাধিকবার মানিকগঞ্জ–২ (সিঙ্গাইর-হরিরামপুর) আসন থেকে আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সংসদ সদস্য ছিলেন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গত বছরের ১২ মে রাজধানীর ধানমন্ডির স্টার কাবাবের পেছনের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন তাকে আদালতে হাজিরের পর কারাগারে পাঠানো হয়।
সারাদেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এসময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১২৪ জন ডেঙ্গুরোগী। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৮ জনে এবং শনাক্ত রোগী বেড়ে পাঁচ হাজার ৯২৪ জনে দাঁড়িয়েছে।সোমবার (২৯ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় যারা ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তাদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৮ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) দুজন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) ১৬ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) ১৭ জন, খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) দুজন ও সিলেট বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) আটজন রয়েছেন।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে তাদের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে দুজনের, ডিএনসিসিতে একজনের, ডিএসসিসিতে একজনের ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে।এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১০০ জন ডেঙ্গুরোগী। এ নিয়ে চলতি বছর আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন পাঁচ হাজার ৪৫৫ জন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তিস্তা ব্যারাজ মহাপরিকল্পনা যেকোনো মূল্যে বাস্তবায়নের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।তিনি বলেছেন, বিএনপি সবসময় কৃষি ও কৃষকের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। দলটি যখনই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে, তখনই নদীর পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে।সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে সুন্দর, স্বাভাবিক ও বাস্তবমুখী হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেট সব শ্রেণি ও পেশার মানুষের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দেবে। গত তিন মাসেই দেশে ৯০০ কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন করা হয়েছে। আগামী ৫ বছরে সারা দেশে আরও ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের নানামুখী সংকটকে আমরা অস্বীকারও করতে চাই না, আবার সংকটের অজুহাতও বানাতে চাই না। বরং সংকট সফলভাবে মোকাবিলা করতেই আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার দুই দলের সমর্থকদের জন্যই প্রকাশে এলো মহাদুঃসংবাদ। একই রাউন্ড থেকেই নাকি বিদায়ঘণ্টা বেজে যাবে বিশ্ব ফুটবলের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও রেকর্ড সর্বোচ্চ শিরোপাধারী ব্রাজিলের। নকআউট নিয়ে এমন বিস্ফোরক ভবিষ্যদ্বাণীই এবার সামনে এসেছে।বিশ্বকাপ এলেই বিভিন্ন বিশ্লেষক ও পরিসংখ্যানবিদদের ভবিষ্যদ্বাণী আলোচনার জন্ম দেয়। এবার সেই তালিকায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় জার্মান অর্থনীতিবিদ জোয়াকিম ক্লেমেন্ট। ২০১৪ সাল থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন সঠিকভাবে পূর্বাভাস দেওয়ার দাবি করা এই গবেষক এবার ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে জাপানের কাছে হেরে বিদায় নেবে ব্রাজিল।অন্যদিকে, ইংল্যান্ড ও ঘানা ম্যাচে আলোচনায় আসেন নানা কিয়াঙ্কু বোন্সাম। দলকে জেতাতে ম্যাচ চলাকালে গ্যালারিতে তাকে সাদা পাউডার ছিটাতে দেখা যায়। সেই তান্ত্রিক আবারও সামনে এলেন। তার দাবি, শেষ ৩২ এ আর্জেন্টিনাকে বিদায় করবে কেপ ভার্দে। বিশ্বকাপে তার কথা ফলে যাওয়ার বেশ ভালোই উদাহরণ রয়েছে। মেসিদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হবে? নীল-সাদা ভক্তকুলের মধ্যেও তা নিয়ে রীতিমতো আতঙ্ক শুরু হয়ে গেছে।তাদের ভবিষ্যৎদ্বাণী সত্য হলে আজই বড় এক অঘণট দেখবে ফুটবল দুনিয়া। হিউস্টন স্টেডিয়ামে আজ সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় জাপানের বিপক্ষে খেলতে নামবে ব্রাজিল। ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে থাকায় নকআউটে হাজিমে মোরিয়াসুর দলকে পেয়েছে সেলেসাওরা। ক্লেমেন্টের মতে, নকআউটের ম্যাচটিতে জয় পাবে জাপান। ফলে প্রত্যাশার আগেই শেষ হবে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযান।নিজের পূর্বাভাসের পেছনে একটি গাণিতিক মডেল ব্যবহার করেন ক্লেমেন্ট। তার এই মডেলে ফুটবলীয় পরিসংখ্যানের পাশাপাশি মাথাপিছু জিডিপি, জনসংখ্যার আকার এবং তাপমাত্রার মতো বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হয়। এসব তুলনামূলক অপ্রচলিত সূচকের সমন্বয়ে তিনি বিভিন্ন দলের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা নির্ধারণ করেন।গত ৯ এপ্রিল প্রকাশিত ক্লেমেন্টের গবেষণাপত্রে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে পর্তুগালকে হারিয়ে নেদারল্যান্ডসকে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবে তার সব পূর্বাভাস যে বাস্তবতার সঙ্গে মিলে গেছে, তা নয়। নকআউট পর্বের সূচি চূড়ান্ত হওয়ার পরই ক্লেমেন্টের কিছু হিসাব ভুল প্রমাণিত হয়েছে। এদিকে, বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে নিয়ে ভবিষ্যৎদ্বানী করা নানা কিয়াঙ্কু বোন্সাম আলোচনায় আসেন গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ড ও ঘানার ম্যাচ দিয়ে। দলকে জেতাতে ম্যাচ চলাকালে গ্যালারিতে তাকে সাদা পাউডার ছিটাতে দেখা যায়। সেই তান্ত্রিক আবারও সামনে এলেন। তার দাবি, শেষ ৩২ এ আর্জেন্টিনাকে বিদায় করবে কেপ ভার্দে।ম্যাচটি মাঠে গড়ানোর আগেই ব্রিটিশ গণমাধ্যম ‘ডেইলি স্টার’-এর কাছে এক অদ্ভুত দাবি করেছিলেন ঘানার তান্ত্রিক বোন্সাম। তিনি বলেছিলেন, ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ও স্ট্রাইকার হ্যারি কেনের ওপর তিনি এমন এক কালো জাদুর অভিশাপ দিয়েছেন, যার কারণে কেন এই ম্যাচে কোনোভাবেই গোল করতে পারবেন না। কাকতালীয় হলেও সত্যি, কেন সেদিন গোল করতে পারেননি। এমনকি প্রথমার্ধে লক্ষ্যে কোনো শট নিতে পারেনি ইংল্যান্ড। ম্যাচটি ড্র হয়।এবার তিনি এক সাক্ষাৎকারে বললেন, ‘কেপ ভার্দে আর্জেন্টিনাকে বিদায় করবে।’ তবে এজন্য বোন্সাম কোনো কালো জাদু করবেন কি না তা জানাননি। আগামী ৪ জুলাই মায়ামি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় নবাগত দলের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। ইতোমধ্যে কেপ ভার্দে তাদের রক্ষণভাগ ও গোলকিপিং দিয়ে চমক দেখিয়েছে। স্পেন ও সৌদি আরবকে গোলশূন্য ড্রয়ে রুখে দিয়েছে, মাঝে উরুগুয়ের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করে তারা। তিন ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে শেষ ৩২ এ উঠে চমক দেখিয়েছে কেপ ভার্দে।
সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে নতুন ওয়েব ফিল্ম ‘লাইফলাইন’। রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর অডিটোরিয়ামে বিশেষ প্রদর্শনীর পর সিনেমাটি নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা বিদ্যা সিনহা সাহা মিম।সিনেমাটি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মিম জানান, ‘লাইফলাইন’ এর গল্পের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত জীবনের অনেকটাই মিল রয়েছে। তিনি বলেন, তার বাবা-মায়ের বয়স বাড়ছে এবং তারা মাঝেমধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েন। বাস্তব জীবনের সেই অনুভূতিই ‘অনন্যা’ চরিত্রে অভিনয় করতে তাকে বাড়তি সহায়তা করেছে।মিম বলেন, এই গল্পটা আমার ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। বাবা-মায়ের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যে আবেগ ও উদ্বেগ তৈরি হয়, সেটাই আমি অনুভব করেছি। তাই চরিত্রটির জন্য আলাদা করে নিজেকে প্রস্তুত করতে হয়নি। যারা সিনেমাটি দেখছেন, তারা খুব ভালো প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন। আমার বিশ্বাস, ‘লাইফলাইন’ সবার ভালো লাগবে।ওয়েব ফিল্মটি পরিচালনা করেছেন কাজী আসাদ। এর আগে তিনি চরকির জন্য জনপ্রিয় অরিজিনাল সিরিজ ‘আধুনিক বাংলা হোটেল’ নির্মাণ করেছিলেন। ‘লাইফলাইন’-এর গল্প লিখেছেন মাহমুদুল হাসান টিপু ও কাজী আসাদ। চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন আসাদুজ্জামান আবীর এবং কাজী আসাদ।সিনেমাটি সম্পর্কে নির্মাতা কাজী আসাদ বলেন, ভালোবাসার টানে একজন মানুষ কত দূর যেতে পারে এবং সেই পথে কত বড় ত্যাগ স্বীকার করতে হয়—এ প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে এই চলচ্চিত্রে। শহুরে তরুণী অনন্যার দুর্গম যাত্রার মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে জীবনের গভীর কিছু অনুভূতির গল্প।বাবা-মেয়ের আবেগঘন সম্পর্ককে কেন্দ্র করে নির্মিত ‘লাইফলাইন’-এ বাবা ও মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন বরেণ্য অভিনেতা খায়রুল আলম সবুজ ও বিদ্যা সিনহা সাহা মিম। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন চরিত্রে রয়েছেন রেজওয়ান পারভেজ, গাজী রাকায়েত, আ খ ম হাসান, নাজনীন হাসান চুমকি, আনিসা নূর আয়াত এবং ফাতেমাতুজ জোহরা ইভা।উল্লেখ্য, গত ২১ জুন চরকিতে মুক্তি পায় কাজী আসাদ পরিচালিত ওয়েব ফিল্ম ‘লাইফলাইন’। মুক্তির পর থেকেই দর্শকদের ইতিবাচক সাড়া ও প্রশংসা পাচ্ছেন বিদ্যা সিনহা সাহা মিম।
জাতীয় সংসদে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনীসহ অর্থবিল-২০২৬ পাস করেছে। সংশোধনীগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধি এবং প্রস্তাবিত বিনিয়োগের তথ্য প্রকাশ-সংক্রান্ত বিধান প্রত্যাহার।সোমবার (২৯ জুন) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি উত্থাপন করলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়।প্রধানমন্ত্রীর বাজেট আলোচনার সময় দেওয়া নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী জাতীয় বাজেটের কয়েকটি প্রস্তাবে সংশোধনী আনেন। এর মধ্যে আগামী পাঁচ অর্থবছরের জন্য ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো হয়েছে।সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে করমুক্ত আয়ের সীমা ৪ লাখ টাকা, ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ অর্থবছরে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ২০৩০-৩১ অর্থবছরে ৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে প্রস্তাবিত বাজেটে যথাক্রমে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, ৪ লাখ টাকা এবং ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা করমুক্ত আয়ের সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব ছিল।অর্থমন্ত্রী জানান, বিনিয়োগের তথ্য প্রকাশ-সংক্রান্ত প্রস্তাবটিও প্রত্যাহার করা হয়েছে, কারণ এটি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে অনেক জমি প্রকৃত বাজারমূল্যের পরিবর্তে মৌজা মূল্যে নিবন্ধিত হওয়ায় করদাতাদের জটিলতা থেকে রক্ষা করতেই এ প্রস্তাব আনা হয়েছিল। তবে জনমতের প্রতি সম্মান জানিয়ে সরকার এটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ায় আরও দুটি প্রস্তাবও প্রত্যাহার করা হয়েছে। এগুলো হলো— বেশিরভাগ ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন (টিআইএন) সনদ বাধ্যতামূলক করা এবং বণ্টন দলিল (পার্টিশন ডিড) ও নামজারি (মিউটেশন) নিবন্ধনের জন্য টিআইএন সনদ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব। অর্থমন্ত্রী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়কর হার বিদ্যমান ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন।তিনি পার্বত্য তিন জেলা ও সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য বিদ্যমান কর-সুবিধা আরও সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেন। এর ফলে ব্যবসা, কৃষি ও অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের আয়ের পাশাপাশি বেতনভিত্তিক আয়ও করমুক্ত থাকবে। চিংড়ি খাতকে সহায়তা দিতে আমদানি করা চিংড়ির খাদ্য, প্রোবায়োটিক, ভিটামিন, খনিজ, অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ এবং সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির ওপর শুল্ক, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেন তিনি।
১ ঘন্টা আগে
ব্যক্তিগত জীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা পেশাগত দায়িত্ব- প্রতিটি ক্ষেত্রেই সততা ইসলামের অন্যতম মৌলিক শিক্ষা। বিশেষ করে লেনদেনে সততা ঈমানের দাবি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।আজকের বিশ্বে প্রতারণা, ভেজাল, মিথ্যা প্রচার ও ওজনে কম দেওয়ার মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ড সমাজে নানা সংকট তৈরি করছে। ইসলাম এসবের বিপরীতে সততা, স্বচ্ছতা ও ন্যায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার শিক্ষা দেয়।লেনদেনে সততার নির্দেশপবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মাপে পূর্ণ মাত্রায় দেবে; আর যারা মাপে কম দেয় তোমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে না।’ (সুরা শুআরা: ১৮১)অন্য আয়াতে আরও কঠোরভাবে বলা হয়েছে, ‘দুর্ভোগ তাদের জন্য, যারা মাপে কম দেয়। যারা মানুষের কাছ থেকে মেপে নেয়, তখন পূর্ণমাত্রায় নেয়; আর যখন তাদের জন্য মাপে বা ওজন করে দেয়, তখন কম দেয়।’ (সুরা মুতাফফিফিন: ১–৩)এ আয়াতগুলো প্রমাণ করে, লেনদেনে সামান্য অসততাও আল্লাহর কাছে গুরুতর অপরাধ।ব্যবসায় সততার মর্যাদারাসুলুল্লাহ (স.) সৎ ব্যবসায়ীর অসাধারণ মর্যাদার কথা জানিয়েছেন এভাবে, ‘সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ী কেয়ামতের দিন নবী, সিদ্দিক ও শহিদদের সঙ্গে থাকবে।’ (জামে তিরমিজি: ১২০৯)এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, ব্যবসায় সততা শুধু পার্থিব সাফল্য নয়; আখেরাতেও সর্বোচ্চ মর্যাদার কারণ।প্রতারণা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধএকবার রাসুলুল্লাহ (স.) বাজারে একটি খাদ্যশস্যের স্তূপে হাত দিয়ে ভেতরে ভেজা অংশ দেখতে পান। বিক্রেতা বললেন, এতে বৃষ্টি পড়েছিল। তখন নবী (স.) বললেন, ‘কেন তুমি ভেজা অংশ খাদ্যশস্যের উপরে রাখনি, যাতে লোকেরা তা দেখতে পায়। যে ব্যাক্তি ধোকা দেয়, সে আমার সাথে কোনো সম্পর্ক রাখে না।’ (সহিহ মুসলিম: ১০২)ত্রুটি গোপন করা বৈধ নয়কোনো পণ্যের ত্রুটি জেনেও তা গোপন করে বিক্রি করা ইসলামে নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই যদি সত্য বলে এবং ত্রুটি স্পষ্ট করে, তবে তাদের বেচাকেনায় বরকত দেওয়া হয়। আর যদি তারা মিথ্যা বলে ও ত্রুটি গোপন করে, তবে তাদের বেচাকেনার বরকত নষ্ট হয়ে যায়।’ (সহিহ বুখারি: ২০৭৯; সহিহ মুসলিম: ১৫৩২)আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষালেনদেনের সঙ্গে আমানত ও প্রতিশ্রুতিও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দেন, তোমরা আমানত তার প্রাপকের কাছে পৌঁছে দাও।’ (সুরা নিসা: ৫৮)আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা অঙ্গীকারসমূহ পূর্ণ করো।’ (সুরা মায়িদা: ১)ঋণ পরিশোধের বিষয়েও ইসলামের নির্দেশনা স্পষ্ট। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মানুষের সম্পদ ফেরত দেওয়ার নিয়তে গ্রহণ করে, আল্লাহ তার পক্ষ থেকে তা আদায় করে দেন। আর যে ব্যক্তি তা নষ্ট করার উদ্দেশ্যে গ্রহণ করে, আল্লাহ তাকে ধ্বংস করে দেন।’ (সহিহ বুখারি: ২৩৮৭)ডিজিটাল লেনদেনেও একই নীতিবর্তমানে অনলাইন ব্যবসা ও ই-কমার্সের যুগে ইসলামের সততার শিক্ষা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। পণ্যের প্রকৃত তথ্য দেওয়া, ভুয়া রিভিউ না করা, সময়মতো পণ্য সরবরাহ করা, গ্রাহকের অর্থ ও তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা- এসবই ইসলামের সততার নীতির অন্তর্ভুক্ত। একইভাবে মিথ্যা বিজ্ঞাপন, ভুয়া ছাড় দেখানো, নকল বা নিম্নমানের পণ্য বিক্রি এবং গ্রাহককে বিভ্রান্ত করাও ইসলামের দৃষ্টিতে অসততা।মোটকথা, লেনদেনে সততা ইসলামের একটি মৌলিক শিক্ষা। এটি শুধু ব্যবসায়ীদের জন্য নয়; বরং ক্রেতা, বিক্রেতা, চাকরিজীবী, উদ্যোক্তা সবার জন্য সমান প্রযোজ্য। একজন মুমিনের প্রকৃত পরিচয় তার নামাজ-রোজার পাশাপাশি তার সততা ও আমানতদারিতার মধ্যেও প্রকাশ পায়। সততা শুধু মানুষের বিশ্বাস অর্জনের মাধ্যম নয়; এটি দুনিয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যে বরকত লাভ এবং আখিরাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম পথ। তথ্যসূত্র: সুরা শুআরা: ১৮১; সুরা মুতাফফিফিন: ১–৩; সুরা নিসা: ৫৮; সুরা মায়িদা: ১; সহিহ বুখারি: ২০৭৯, ২৩৮৭; সহিহ মুসলিম: ১০২, ১৫৩২; জামে তিরমিজি: ১২০৯
প্রতিদিনের রান্নায় ব্যবহৃত ছোট্ট একটি মশলা লবঙ্গ। কিন্তু এই সাধারণ মসলাটিই হতে পারে সুস্বাস্থ্যের শক্তিশালী সঙ্গী। দাঁতের ব্যথা উপশম থেকে শুরু করে হজমশক্তি উন্নত করা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে লবঙ্গের রয়েছে নানা সম্ভাব্য উপকারিতা। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন সকালে পরিমিত পরিমাণে (যেমন দুটি) লবঙ্গ খাওয়ার অভ্যাস শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে এটি কোনো রোগের নিশ্চিত চিকিৎসা নয়; বরং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। জেনে নিন লবঙ্গের স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলো।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের দাবি, প্রতিদিন সকালে মাত্র দুটি করে লবঙ্গ চিবিয়ে খেলে শরীরের বিশেষ উপকার হয়। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই মশলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, আয়রন, কার্বোহাইড্রেট, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, পটাসিয়াম, সোডিয়াম ও হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড। এর পাশাপাশি এতে মজুত রয়েছে ভিটামিন এ এবং ভিটামিন সি ম্যাংগানিজ ও পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার, যা শরীরকে ভেতর থেকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।লবঙ্গ মূলত একটি প্রাকৃতিক ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে, কারণ এর মধ্যে থাকা ইউজেনল নামক বিশেষ তেল দাঁতের তীব্র যন্ত্রণা নিমেষের মধ্যে উপশম করতে অত্যন্ত কার্যকরী। এই অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যের জন্যই বিভিন্ন কোম্পানির টুথপেস্ট, মাউথওয়াশ এবং পেইন রিলিফ ক্রিম তৈরিতে লবঙ্গ ব্যবহার করা হয়।লবঙ্গের মধ্যে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড জয়েন্টের ব্যথা ও আর্থ্রাইটিসের ফোলা ভাব কমাতে দারুণ সাহায্য করে যার কারণে অনেক অ্যারোমা থেরাপিস্ট বা বাতের চিকিৎসকেরা লবঙ্গ তেল মালিশ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সর্দি, কাশি, হাঁপানি, ব্রংকাইটিস ও সাইনোসাইটিসের মতো শ্বাসযন্ত্রের সমস্যায় লবঙ্গ তেলের সুগন্ধ ম্যাজিকের মতো কাজ করে। বদহজম, বমি ভাব, গ্যাস্ট্রিক ও ডায়রিয়ার মতো পেটের রোগ দূর করে হজম প্রক্রিয়াকে সচল রাখতেও লবঙ্গ অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করে।গবেষকদের মতে, লবঙ্গে উপস্থিত ইউজেনল উপাদানটি ফুসফুসের ক্যানসার এবং ত্বকের ক্যানসার প্রতিরোধে বিশেষ সাহায্য করতে পারে। শুধু তাই নয় নিয়মিত লবঙ্গ সেবন করলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায় এবং রক্ত ও শরীর সম্পূর্ণ পরিশুদ্ধ হয়। ম্যালেরিয়া ও কলেরার মতো মারাত্মক ব্যাধির ওষুধ তৈরিতেও লবঙ্গের ব্যবহার অপরিসীম। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে লবঙ্গ রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। চমৎকার ব্যথানাশক গুণের পাশাপাশি ঘর থেকে মশা তাড়ানোর ক্ষেত্রেও লবঙ্গ তেল অত্যন্ত কার্যকরী প্রাকৃতিক উপায় হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
২০৫০ সালের মধ্যে চরম তাপমাত্রার ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের শীর্ষ ৬টি দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।সোমবার ২৬ জানুয়ারি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাতে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার সাসটেইনেবিলিটি’-তে এই গবেষণাটি প্রকাশ হয়।ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার অব্যাহত থাকলে আগামী ২৫ বছরের মধ্যে চরম তাপপ্রবাহে আক্রান্ত বৈশ্বিক জনসংখ্যার হার প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। শিল্প-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় যদি বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়, তবে চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ বিশ্বের ৪১ শতাংশ মানুষ (প্রায় ৩৭৯ কোটি) অসহনীয় তাপমাত্রার মধ্যে বসবাস করবে। ২০১০ সালে এই পরিস্থিতির শিকার জনগোষ্ঠীর হার ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ (১৫৪ কোটি)।