দেশে হাম-সংক্রান্ত রোগে আরও আট শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩৯ জনে।বুধবার (১০ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কেউ মারা না গেলেও সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যু হয়েছে আটজনের।অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯২ জনের প্রাণ গেছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামে প্রাণহানির সংখ্যা ৫৪৭ জন।প্রতিবেদনে উল্লেখিত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৯৪ জনের। এসময়ে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯৪৫ জন।গত ১৫ মার্চের পর থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৯ হাজার ৯২৭ জন। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৮২ হাজার ২৯ জন। একই সময়ে হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ৬৬ হাজার ৯৯৯ জন এবং সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৬৩ হাজার ১৪৫ জন।বিভাগভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, নিশ্চিত হামে সবচেয়ে বেশি ৫৬ রোগী মারা গেছে ঢাকায়। এছাড়া বরিশালে ১৯, চট্টগ্রামে ১০, সিলেটে তিন এবং ময়মনসিংহ ও রাজশাহীতে দুজন করে মৃত্যুবরণ করেছে।সন্দেহজনক হামেও সবচেয়ে বেশি ২২৯ জনের মৃত্যু ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এরপর ৮৬ জন মারা গেছে রাজশাহীতে। সেই সঙ্গে সিলেটে ৬৬, ময়মনসিংহে ৫০, চট্টগ্রামে ৪৭, বরিশালে ৩৮, খুলনায় ২৩ ও রংপুরে আটজন প্রাণ হারিয়েছে।
দেশের বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ধারা ৪৯(১)(ঘ)(আ) অনুযায়ী প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. আশরাফুল আলমকে ব্যাংকটির পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।বুধবার (১০ জুন) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, বেসরকারি ব্যাংকটির সার্বিক কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ, ব্যাংকের স্বার্থ সংরক্ষণ, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা ও বৃহত্তর জনস্বার্থ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।পর্যবেক্ষক হিসেবে মো. আশরাফুল আলম ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভাসহ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে অংশ নেবেন। পাশাপাশি ব্যাংকের কার্যক্রম সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রয়োজনীয় তথ্য ও পর্যবেক্ষণ দেবেন।বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, দেশের ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইসলামী ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগের এ পদক্ষেপ ব্যাংকটির কার্যক্রমে আস্থা ও শৃঙ্খলা আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকারি শূন্য পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করবে সরকার। বুধবার (১০ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৯ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য আবুল কালামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এই মহান সংসদকে আমি এতটুকু জানাতে চাই যে, সরকারের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন পদ খালি আছে, যেগুলো আরও গতিশীল করার জন্য, দেশের মানুষকে আরও সহজে সুবিধাজনকভাবে সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য কতগুলো নিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ। সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি পর্যালোচনা করছে।তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব আমরা এই পোস্টগুলোতে (শূন্য পদ) নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করবো ইনশাআল্লাহ।এদিকে পাবনা-৫ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের অনুপস্থিতিতে তার তারকা চিহ্নিত অপর এক প্রশ্ন উত্থাপন করেন পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম রেজা হাবিব।জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ৫ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তার মধ্যে শুধু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং অধীনস্থ দপ্তর ও সংস্থাসমূহে শূন্য পদের বিপরীতে ২ হাজার ৮৭৯ জন লোক নিয়োগের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।সরকার সম উন্নয়নে বিশ্বাসী উল্লেখ করে মাদারীপুর-২ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্পিকারকে উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়েকদিন আগে আপনার নেতৃত্বে আমরা কীভাবে এই সংসদ সেশনটা চলবে সেই বিষয়ে আমাদের কমিটির মিটিংয়ে বসেছিলাম। সেখানে মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতাও ছিলেন। তিনি একটি বিষয় উল্লেখ করেছিলেন যে, ঈদের আগে সরকারের পক্ষ থেকে কিছু কিছু সহযোগিতা দেওয়া হয়েছিল, যেগুলো বিরোধীদলীয় নেতারা হয়তো পাননি। আমি মিটিং থেকে বেরিয়ে এসে এলজিআরডি মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী উভয়কেই সঙ্গে সঙ্গে নির্দেশনা দিয়েছিলাম যে, যদি বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য কেউ না পেয়ে থাকেন, যাতে দ্রুত সেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।তিনি বলেন, এই নির্দেশনা দিয়ে আমি এটাই বোঝাতে চাইছি যে, বর্তমান সরকার দেশের সম উন্নয়নে বিশ্বাস করে এবং সরকারদলীয় সংসদ সদস্যরা যেভাবে এলাকার উন্নয়ন করবেন, ঠিক একইভাবে সরকারের সম্পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে। বিরোধীদলীয় সদস্যবৃন্দ যারা আছে, তাদের এলাকায় আমরা সমানভাবে কাজ করার চেষ্টা করব।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) পর্দা উঠতে যাচ্ছে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ আসর ফিফা বিশ্বকাপের। ফুটবল ইতিহাসের বৃহত্তম এই মহাযজ্ঞ যৌথভাবে আয়োজন করছে উত্তর আমেরিকার তিনটি দেশ— যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডা।এর আগে যুক্তরাষ্ট্র (১৯৯৪) এবং মেক্সিকো (১৯৭০ ও ১৯৮৬) বিশ্বকাপ আয়োজন করলেও, কানাডার জন্য এবারই প্রথম বিশ্বমঞ্চের আয়োজক হওয়ার ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তিন দেশের ১৬টি ভেন্যুতে ৩৯ দিনব্যাপী এই আসরে সর্বমোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। আগামীকাল (১১ জুন) ম্যাক্সিকোর ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকায় (আজটেকা স্টেডিয়াম) ম্যাক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের খেলা। আর ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে এই বিশ্বযুদ্ধের। ম্যাক্সিকোর ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকা। ছবি: সংগৃহীতউদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যা যা থাকছেবিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উত্তর আমেরিকার তিনটি দেশ—মেক্সিকো, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে—একসঙ্গে আয়োজিত হবে। এই প্রথমবারের মতো একটি বিশ্বকাপ তিন দেশে সমান্তরালভাবে উদ্বোধন করা হচ্ছে।বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম তিনটি আয়োজক দেশে সমান্তরালভাবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে। প্রতিটি অনুষ্ঠান শুরু হবে সংশ্লিষ্ট আয়োজক দেশের উদ্বোধনী ম্যাচের ৯০ মিনিট আগে। তিনটি অনুষ্ঠান আলাদা হলেও এগুলো একটি অভিন্ন থিমের মাধ্যমে যুক্ত থাকবে—যেখানে ফুটবলের মাধ্যমে মানুষকে সীমান্ত পেরিয়ে একত্রিত করার বার্তা তুলে ধরা হবে।অনুষ্ঠানগুলোর প্রযোজক হিসেবে দায়িত্বে আছেন মার্কো বালি। তিনি একাধিক অলিম্পিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টের ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রতিটি শো আলাদা বৈশিষ্ট্য বহন করলেও সবগুলোই ফুটবলের ঐক্যের বার্তার সঙ্গে যুক্ত থাকবে।প্রতিটি দেশ নিজেদের সংস্কৃতি ও ভিজ্যুয়াল পরিচয় তুলে ধরবে—কানাডা: ‘কালচারাল মোজাইক’ বা সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যমেক্সিকো: ঐতিহ্যবাহী ‘পাপেল পিকাডো’ শিল্পযুক্তরাষ্ট্র: ‘ঝলমলে, উজ্জ্বল’ কাপ থিমফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, ‘বিশ্বকাপের সূচনা এমন একটি মুহূর্ত, যা পুরো বিশ্ব একসঙ্গে ভাগ করে নেয়। মেক্সিকো সিটি থেকে শুরু হয়ে টরন্টো ও লস অ্যাঞ্জেলেসে এই অনুষ্ঠানগুলো অনুষ্ঠিত হবে, যা সংগীত, সংস্কৃতি ও ফুটবলের এক অভিন্ন উদ্যাপন হবে।’সময় ও স্থানভিত্তিক আয়োজনমেক্সিকো সিটি (১১ জুন)মেক্সিকো সিটির এস্তাদিও আজতেকায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে স্বদেশীয় সংস্কৃতি, আধুনিক লোকশিল্প এবং ‘পাপেল পিকাডো’ প্রদর্শিত হবে। এতে শাকিরা, জে বালভিন, মানা, লিলা ডাউনসসহ আরও অনেক আন্তর্জাতিক সংগীতশিল্পী অংশ নেবেন। শাকিরা।টরন্টো (১২ জুন)কানাডার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান টরন্টো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। এখানে দেশটির বৈচিত্র্য ও সাংস্কৃতিক মিশ্রণ তুলে ধরা হবে। এতে পারফর্ম করবেন আলানিস মরিসেট, মাইকেল বুবলে, এলেসিয়া কারা, জেসি রেইজস, নোরা ফাতেহি, সঞ্জয়সহ অনেকে। এটি কানাডার জন্য ঘরের মাটিতে প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচের আগে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হবে।লস অ্যাঞ্জেলেস (১২ জুন)যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে। এতে থাকবে বৃহৎ ভিজ্যুয়াল শো এবং কেটি পেরি, ফিউচার, আনিতা, এলএলএ ও রেমার মতো প্রমুখ শিল্পিদের পারফরম্যান্স।প্রতিটি অনুষ্ঠানের পর মাঠে খেলোয়াড়দের ওয়ার্ম-আপ, প্রি-ম্যাচ অনুষ্ঠান এবং আনুষ্ঠানিক কিক-অফ প্রোটোকল সম্পন্ন হবে।মেক্সিকো সিটির অনুষ্ঠান প্রায় ১৬ মিনিট ৩০ সেকেন্ড, আর টরন্টো ও লস অ্যাঞ্জেলেসের অনুষ্ঠান প্রায় ১৩ মিনিট করে চলবে।
মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে দীর্ঘ ৩০ বছর পর জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শা ‘র (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) লাশ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি এবং ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত গত ২৪ মে এ আদেশ দেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত আসে বলে জানা গেছে।এর আগে চলতি বছরের ২০ মে সিআইডির পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ আদালতে আবেদন করেন। তিনি আবেদনপত্রে উল্লেখ করেন, হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের স্বার্থে সালমান শাহ’র মরদেহ পুনরায় পরীক্ষা করা প্রয়োজন। আদালত আবেদন মঞ্জুর করার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম শেষে লাশ উত্তোলন ও ময়নাতদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।মামলার নথি অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে সালমান শাহ নিউ ইস্কাটন রোডের বাসায় অসুস্থ অবস্থায় পাওয়া গেলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই সময় রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয় এবং সিলেটের শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হয়।পরবর্তীতে দীর্ঘ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর সালমান শাহ’র মামা মো. আলমগীর রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন তার স্ত্রী সামীরা হক, শিল্পপতি ও প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ আরও অনেকে।এর আগে ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত মামলাটিকে অপমৃত্যু থেকে পরিবর্তন করে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।মামলার অভিযোগে বলা হয়, সালমান শাহ’র মৃত্যুকে ঘিরে সন্দেহজনক পরিস্থিতি, শারীরিক আঘাতের চিহ্ন এবং ঘটনাস্থলের নানা অসঙ্গতি তদন্তের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে। তাই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে পুনরায় ময়নাতদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশবাসীর মাথাপিছু আয় বেড়ে তিন হাজার ২০ মার্কিন ডলার হয়েছে। যা টাকার হিসাবে ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৮৭৩ টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ১৫ পয়সা ধরে)। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার মাথাপিছু আয় ৩ হাজার ডলার ছাড়াল।এদিকে দেশজ উৎপাদন (জিডিপি), অর্থাৎ অর্থনীতির আকারও ৫০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ৫০১ বিলিয়ন ডলার।বুধবার (১০ জুন) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এ তথ্য প্রকাশ করেছে। বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, বিনিয়োগ ও সঞ্চয় স্থবিরতার মধ্যেও চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার দাঁড়িয়েছে ৬১ লাখ ২০ হাজার ২০৯ কোটি টাকা, যা ডলারের হিসাবে ৫০১ বিলিয়ন। আগের অর্থবছর জিডিপির আকার ছিল ৫৫ হাজার ১৫ হাজার ২৬ কোটি টাকা বা ৪৫৬ বিলিয়ন ডলার। ডলার প্রতি ১২২ টাকা ১৪ পয়সা বিনিময় হার ধরে জিডিপির আকার ঘোষণা করা হয়েছে।এ হিসেবে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ।খাতভেদে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি হয়েছে সেবা খাতে। এ খাতে প্রবৃদ্ধির হার ৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ।এ ছাড়া শিল্পে ২ দশমিক ৮৬ এবং কৃষিতে ২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় কৃষি ও সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি কমলেও শিল্প খাতে বেড়েছে।অন্যদিকে গত অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ছিল ২ হাজার ৭৬৯ মার্কিন ডলার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে তিন হাজার ২০ মার্কিন ডলার। এ হিসাবে বছরের ব্যবধানে মাথাপিছু আয় বেড়েছে ২৫১ মার্কিন ডলার।বিবিএসের সংক্ষিপ্ত পর্যবেক্ষণ বলা হয়, সামগ্রিকভাবে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ১৪ শতাংশে উন্নীত হওয়া এবং মাথাপিছু আয় ৩ হাজার ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করা ইতিবাচক লক্ষণ। তবে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া এবং জিডিপির তুলনায় জাতীয় সঞ্চয় ও বিনিয়োগের হার কিছুটা হ্রাস পাওয়া সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য একটি সতর্কবার্তা।
৪৪ মিনিট আগে
কোরআনুল কারিম মহান আল্লাহর কালাম এবং মুসলমানদের কাছে সর্বাধিক সম্মানিত গ্রন্থ। তাই কোরআন তেলাওয়াত, বহন ও স্পর্শ করার ক্ষেত্রে কী ধরনের পবিত্রতা প্রয়োজন- এ প্রশ্ন ইসলামি ফিকহের একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে মোবাইল অ্যাপ, অনুবাদ গ্রন্থ এবং দাওয়াতি কার্যক্রমের প্রসারে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।প্রশ্ন হলো, কোরআন স্পর্শ করার জন্য কি অজু থাকা বাধ্যতামূলক, নাকি সাধারণ পবিত্রতাই যথেষ্ট?মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই এটি মহিমান্নিত কোরআন, যা সুরক্ষিত কিতাবে রয়েছে। একে পূত-পবিত্রগণ ব্যতিত কেউ স্পর্শ করে না।’ (সুরা ওয়াকিয়া: ৭৭-৭৯)এই আয়াতের ব্যাখ্যায় মুফাসসিরদের মধ্যে দুটি প্রসিদ্ধ মত পাওয়া যায়। একদল বলেন, এখানে ‘পবিত্রগণ’ বলতে ফেরেশতাদের বোঝানো হয়েছে, যারা লাওহে মাহফুজে সংরক্ষিত কোরআন স্পর্শ করেন। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.), ইকরিমা (রহ.) এবং কিছু তাফসিরবিদের বক্তব্য থেকে এ মতের সমর্থন পাওয়া যায়।অন্যদিকে অধিকাংশ ফকিহ এ আয়াত থেকে মুসহাফ স্পর্শের জন্য পবিত্রতার প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত গ্রহণ করেছেন। যদিও তারা মূল দলিল হিসেবে হাদিসকে অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন।এ বিষয়ে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ দলিল হলো হজরত আমর ইবনে হাযম (রা.)-এর কাছে রাসুলুল্লাহ (স.) প্রেরিত পত্রের বর্ণনা। সেখানে বলা হয়েছে, ‘পবিত্র ব্যক্তি ছাড়া কেউ যেন কোরআন স্পর্শ না করে।’ (মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ৪৬৮; দারাকুতনি: ৪৩১; বায়হাকি)ইমাম মালিক, ইমাম শাফেয়ি, ইমাম আহমদ, ইবনু আবদুল বার, ইবনু কুদামা, ইমাম নববিসহ বহু মুহাদ্দিস ও ফকিহ এ বর্ণনাকে গ্রহণযোগ্য দলিল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইমাম ইবনু হাজর (রহ.) বলেন, এ হাদিসের একাধিক সনদ পরস্পরকে শক্তিশালী করে।ইমাম নববি (রহ.) উল্লেখ করেন, সনদ নিয়ে আলোচনা থাকলেও উম্মাহর গ্রহণযোগ্যতা এবং একাধিক সূত্রে বর্ণিত হওয়ার কারণে অধিকাংশ ফকিহ এ হাদিসকে আমলযোগ্য দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। (আল-মাজমু: ২/৬৯)এ বিষয়ে সাহাবায়ে কেরামের আমলও উল্লেখযোগ্য। ইমাম নববি (রহ.) ও ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) উল্লেখ করেন, হজরত আলী, সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস, সালমান ফারসি ও আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.)সহ একাধিক সাহাবি পবিত্রতা ছাড়া কোরআন স্পর্শ না করার মত পোষণ করেছেন। (আল-মাজমু: ২/৮০; মাজমুউল ফতোয়া: ২১/২৬৬)এ কারণেই ফিকহের অধিকাংশ গ্রন্থে মুসহাফ স্পর্শের জন্য অজুর শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে।আলী (রা.)-এর বর্ণনায় এসেছে, ‘নবী (স.)-কে কোরআন তেলাওয়াত থেকে শুধু জানাবাত ছাড়া অন্যকিছু বিরত রাখত না।’ (আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ; হাসান)এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, রাসুলুল্লাহ (স.) শুধু গোসল ফরজ হলেই তেলাওয়াত থেকে বিরত থাকতেন। ফকিহগণ এই হাদিস ও আমর ইবনে হাযমের হাদিস একসঙ্গে বিশ্লেষণ করে মুসহাফ স্পর্শ ও মুখস্থ তেলাওয়াতের মধ্যে পার্থক্য করেছেন।‘পবিত্র’ ও ‘অজু’ দুটি কি একই বিষয়?এ আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ‘তাহির’ (পবিত্র) শব্দের অর্থ নির্ধারণ। এখানেই মতভেদের মূল শিকড়।কিছু আলেমের মতে, এখানে ‘পবিত্র’ বলতে শুধু বড় নাপাকি (জানাবাত, হায়েজ, নিফাস) থেকে মুক্ত অবস্থাকে বোঝানো হয়েছে। তাদের যুক্তি হলো, হাদিসে ‘মুতাওয়াদ্দি’ (অজুকারী) শব্দ না বলে ‘তাহির’ (পবিত্র) শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।অন্যদিকে জমহুর ফকিহদের মতে, ‘তাহির’ শব্দটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত। ছোট নাপাকি (অজু ভঙ্গ হওয়া) থেকেও পবিত্র থাকা এর অন্তর্ভুক্ত। শরিয়তে পবিত্রতার দুটি স্তর রয়েছে- তাহারাতে কুবরা (বড় পবিত্রতা) ও তাহারাতে সুগরা (ছোট পবিত্রতা)। জমহুরের মতে উভয় স্তরই মুসহাফ স্পর্শের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক।চার মাজহাবের অবস্থানফিকহি মতভেদ থাকা সত্ত্বেও মুসলিম উম্মাহর মূলধারার অবস্থান চার মাজহাবের মতামত থেকেই স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।হানাফি, মালেকি, শাফেয়ি ও হাম্বলি- চার মাজহাবের জমহুর আলেমের মতে, অজু ছাড়া সরাসরি আরবি মুসহাফ স্পর্শ করা জায়েজ নয়। ইমাম নববি (রহ.) ‘আল-মাজমু’ গ্রন্থে এবং ইবনু কুদামা (রহ.) ‘আল-মুগনি’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, এ বিষয়ে সাহাবায়ে কেরাম ও পরবর্তী যুগের অধিকাংশ ফকিহ একই অবস্থান গ্রহণ করেছেন।ভিন্নমত কেন রয়েছে?কিছু আলেম যেমন ইমাম দাউদ জাহেরি, ইবনে হাযম (রহ.) এবং পরবর্তী যুগের কিছু গবেষক আলেম মনে করেন, সুরা ওয়াকিয়ার আয়াতে মানুষের অজুর প্রসঙ্গ সরাসরি উল্লেখ নেই। তাদের মতে, সেখানে ফেরেশতাদের কথা বলা হয়েছে।ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) ‘মাজমুউল ফতোয়াতে উল্লেখ করেন, এ বিষয়ে দলিলগুলোর ব্যাখ্যায় ইজতিহাদের সুযোগ রয়েছে। তার মতে, সুরা ওয়াকিয়ার আয়াতে মূলত ফেরেশতাদের প্রসঙ্গই অধিক স্পষ্ট।ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহ.) ‘ইলামুল মুওয়াক্কিয়িন’ গ্রন্থে বলেন, নবী (স.) কোরআনের আয়াত লিখে বিভিন্ন শাসকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। এ ঘটনাও বিষয়টির ভিন্নতর ব্যাখ্যার পক্ষে আলোচনায় উল্লেখ করা হয়।তবে উল্লেখযোগ্য যে, এ মতটি সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমদের মত নয়; বরং ইসলামি ফিকহের একটি সংখ্যালঘু মত হিসেবে পরিচিত।বিশেষ পরিস্থিতি ও বিধানঅধিকাংশ আলেমের মতে, অজু না থাকলেও মুখস্থ কোরআন তেলাওয়াত করা জায়েজ। তবে সরাসরি মুসহাফ স্পর্শ করার জন্য অজু প্রয়োজন- এটি জমহুরের অবস্থান।জানাবাত (গোসল ফরজ) অবস্থায় কোরআন তেলাওয়াত ও মুসহাফ স্পর্শ উভয় ক্ষেত্রেই অধিকাংশ আলেম কঠোর বিধান উল্লেখ করেছেন।হায়েজ ও নিফাস অবস্থায় হানাফি ও মালেকি মাজহাব অনুযায়ী কোরআন তেলাওয়াত ও মুসহাফ স্পর্শ উভয়ই নিষেধ। শাফেয়ি ও হাম্বলি মাজহাবে এ বিষয়ে বিস্তারিত মতভেদ রয়েছে। ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) ও শায়খ আব্দুল আজিজ ইবনে বায (রহ.) মনে করেন, হাফেজা মহিলার জন্য ভুলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে হায়েজ অবস্থায় তেলাওয়াতের অবকাশ রয়েছে।মোবাইল ফোনে কোরআন পড়ার বিধানসমসাময়িক অধিকাংশ আলেমের মতে, মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট বা কম্পিউটারের স্ক্রিনে কোরআন পড়া বা স্পর্শ করার জন্য অজু শর্ত নয়। কারণ ডিজিটাল স্ক্রিনে প্রদর্শিত অক্ষরগুলো প্রচলিত অর্থে মুসহাফের স্থায়ী লিখিত অক্ষরের মতো নয়। তবে কোরআনের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য অজু অবস্থায় তেলাওয়াত করা অবশ্যই উত্তম।কোরআন স্পর্শের জন্য অজুর বাধ্যবাধকতা নিয়ে ফিকহি আলোচনা ও মতভেদ থাকলেও চার মাজহাবের জমহুর আলেম মুসহাফ স্পর্শের জন্য অজুকে শর্ত হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তাদের অবস্থানের পক্ষে ‘পবিত্র ব্যক্তি ছাড়া কেউ যেন কোরআন স্পর্শ না করে’- এই হাদিস, সাহাবায়ে কেরামের আমল এবং দীর্ঘ ফিকহি ঐতিহ্য রয়েছে।অন্যদিকে কিছু আলেম এ বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন এবং দলিলগুলোর ভিন্নতর ব্যাখ্যার ভিত্তিতে শিথিল মত পোষণ করেছেন। তবে মতভেদ সত্ত্বেও কোরআনের মর্যাদা রক্ষা, আল্লাহর কালামের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন এবং উম্মাহর অধিকাংশ আলেমের অনুসৃত আমলের আলোকে অজু অবস্থায় মুসহাফ স্পর্শ করাই অধিক নিরাপদ, উত্তম ও সতর্কতাপূর্ণ পন্থা।তথ্যসূত্র: সুরা ওয়াকিয়া: ৭৭-৭৯; মুয়াত্তা মালিক: ৪৬৮; দারাকুতনি: ৪৩১; আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ; আল-মাজমু: ২/৬৯-৮০; আল-মুগনি: ১/১৩৭-১৪১; আত-তালখিসুল হাবির: ১/১৩১; . মাজমুউল ফতোয়া: ২১/২৬৬; ইলামুল মুওয়াক্কিয়িন; আল-ফিকহুল ইসলামি ওয়া আদিল্লাতুহু; আল-মুহাল্লা; তাফসির ইবনে কাসির
শীতকালে গলা ব্যথা বা খুশখুশ করা খুব স্বাভাবিক বিষয় মনে হলেও গরমে এমন সমস্যায় অনেকেই অবাক হন। প্রচণ্ড রোদে ঘুরে আসার পর বরফ শীতল পানীয় পান করলে কিংবা এসির ঠান্ডায় বেশিক্ষণ থাকলে গলা ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় এসির তাপমাত্রা খুব বেশি কমিয়ে রাখলে বা মুখ খুলে ঘুমালে মুখগহ্বর শুকিয়ে যায়, যা থেকেও গলার অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। এই ধরনের প্রাথমিক সমস্যায় ঘরোয়া কিছু উপায়ের সাহায্য নিলে দ্রুত আরাম পাওয়া সম্ভব।লবণ পানি দিয়ে গার্গলসকালে ঘুম থেকে ওঠার পর হালকা গরম পানিতে সামান্য লবণ মিশিয়ে গার্গল করা অত্যন্ত কার্যকর। এছাড়া বাজারে পাওয়া যায় এমন কোনো অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল মাউথওয়াশ গরম পানিতে মিশিয়েও কুলকুচি করতে পারেন। এতে গলার খুশখুশানি ভাব দ্রুত কমে।ভেষজ চা ও মসলাআদা দিয়ে ফোটানো চা গলা ব্যথার উপশমে দারুণ কাজ করে। পাশাপাশি গোলমরিচ, লবঙ্গ, দারুচিনি, আদা ও তুলসী পাতা পানিতে ফুটিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করে নিতে পারেন। এই গরম পানীয়ের সাথে এক চামচ মধু মিশিয়ে দিনে দুই থেকে তিনবার খেলে গলার অস্বস্তি অনেকটা কমে যায়লবঙ্গ বা আদা মুখে রাখাগলা বেশি খুশখুশ করলে মুখে লবঙ্গ বা শুকনো আদা রাখতে পারেন। লবঙ্গ ও আদাতে রয়েছে শক্তিশালী ভেষজ গুণ এবং অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল উপাদান। এগুলো চিবিয়ে রস খেলে ধীরে ধীরে গলার অস্বস্তি ও ব্যথা কমে আসে।পর্যাপ্ত পানি পান ও লেবুর ব্যবহারমুখ ও গলা শুকিয়ে গেলে গলার কষ্ট বাড়ে। তাই সারাদিন প্রচুর পরিমাণে হালকা গরম পানি পান করা জরুরি। হালকা গরম পানিতে পাতিলেবুর রস মিশিয়েও দিনে একবার পান করতে পারেন। ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। তবে যাদের অ্যাসিডিটির সমস্যা আছে, তারা খালি পেটে লেবুর পানি এড়িয়ে চলবেন।গরম পানির ভাপ নেওয়াগলা ব্যথার সঙ্গে মাথা ভার হয়ে থাকলে ফুটন্ত গরম পানির ভাপ নেওয়া খুব উপকারী। গরম জলের যে ভাপ বেরোয় তা নাক বা মুখ দিয়ে ভেতরে নিলে গলার প্রদাহ কমে এবং মাথা হালকা অনুভব হয়। নিয়মিত এই নিয়মগুলো মেনে চললে গরমে হওয়া গলা ব্যথার সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
২০৫০ সালের মধ্যে চরম তাপমাত্রার ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের শীর্ষ ৬টি দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।সোমবার ২৬ জানুয়ারি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাতে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার সাসটেইনেবিলিটি’-তে এই গবেষণাটি প্রকাশ হয়।ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার অব্যাহত থাকলে আগামী ২৫ বছরের মধ্যে চরম তাপপ্রবাহে আক্রান্ত বৈশ্বিক জনসংখ্যার হার প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। শিল্প-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় যদি বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়, তবে চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ বিশ্বের ৪১ শতাংশ মানুষ (প্রায় ৩৭৯ কোটি) অসহনীয় তাপমাত্রার মধ্যে বসবাস করবে। ২০১০ সালে এই পরিস্থিতির শিকার জনগোষ্ঠীর হার ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ (১৫৪ কোটি)।