ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস উইংয়ে মিনিস্টার (প্রেস) পদে নিয়োগ পেয়েছেন মো. সাইদুর রহমান। আগামী এক বছরের জন্য তাকে এই পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।রোববার (১৯ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।উপসচিব মো. গোলাম রব্বানীর সই করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মো. সাইদুর রহমানকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে ভারতের নয়াদিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস উইংয়ে মিনিস্টার (প্রেস) পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হলো।এই নিয়োগের মেয়াদ হবে যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী ১ বছর। এছাড়া নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্র দ্বারা নির্ধারিত হবে বলেও জনস্বার্থে জারি করা ওই আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে একদিনে আরো তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে ৩৭ জনের মৃত্যু হলো। সর্বশেষ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বরিশাল, খুলনা ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায়। সোমবার (২০ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে সোমবার সকাল আটটা থেকে আগের ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে। এ সময়ে হাসপাতালে ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ৩৭২ জন। এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৮৫৭ জন । শেষ ২৪ ঘণ্টায় ৩৪৬ জনসহ হাসপাতাল থেকে এখন পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ৯ হাজার ৭৮৬ ডেঙ্গু রোগী।বিভাগভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৭৭ জন রয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া বরিশাল বিভাগে ৬৭, চট্টগ্রাম ৫৪, খুলনা বিভাগে ৪৩ জন, ময়মনসিংহে ২১, রাজশাহীতে ৪ জন ভর্তি হয়েছেন।মাসভিত্তিক হিসাবে দেখা গেছে, চলতি বছর জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ২ জন করে, মে মাসে ১ জন, জুনে ১৩ জন ও জুলাইয়ে এ পর্যন্ত ১৯ জন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এলাকাভিত্তিক মৃত্যুর এ সংখ্যা ময়মনসিংহ ও খুলনায় ৫ জন, ঢাকা বিভাগে ১৯, চট্টগ্রামে ৪, রাজশাহী ১ বরিশাল বিভাগে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের বিচার কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে সেনা আইন ও ফৌজদারি আইনে একযোগে বিচার করার সুযোগ নেই। কোর্ট মার্শাল শেষে কোনো ফাইন্ডিংস থাকলে সে অনুযায়ী পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।সোমবার (২০ জুলাই) বিজিবি সদরদপ্তর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।উল্লেখ্য, ৪৫ বছর পলাতক থাকার পর সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের অন্যতম আসামি মেজর (অব.) মোজাফফরের হোসেনকে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিবি) গোয়েন্দারা। পরে তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের আসামি মেজর (অব.) মোজাফফরের বিচার কীভাবে হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘তার (মোজাফফর) অন্যান্য সহযোগীদের বিচার তখনকার সময়ে সামরিক আদালতে হয়েছে। সেখানে কিছু ফাইন্ডিংস আছে। তিনি পলাতক ছিলেন, দীর্ঘদিন ভিন্ন নাম ধারণ করে পার্শ্ববর্তী দেশে পলাতক ছিলেন।’তিনি বলেন, ‘দেশে আসার পরে আমরা যখন জানতে পেরেছি। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থার ইনফরমেশনের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করে সেনা আইনে বিচারের জন্য সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’মন্ত্রী জানান, জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে মোজাফফর হোসেনের বিচার হবে। আগে একই মামলায় যাদের বিচার ও দণ্ড কার্যকর হয়েছে, সেই রায়ের আলোকে তার বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত রয়েছে তা জেনারেল কোর্ট মার্শাল বিবেচনা করবে।মোজাফফরের সহযোগীদের বিরুদ্ধে নতুন করে তদন্ত বা ফৌজদারি মামলা হতে পারে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সেনা সদস্যদের ক্ষেত্রে মিলিটারি অ্যাক্ট প্রযোজ্য। যেহেতু তিনি একই মামলার পলাতক আসামি ছিলেন, তাই সেনাবাহিনী তাদের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’সিভিল কোর্টে কোনো আইনি বিষয় থাকলে পরবর্তীতে তা আইন অনুযায়ী বিবেচনা করা হবে জানিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘যদি সিভিল কোর্টের কোনো বিষয় থাকে, আইনানুগভাবে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।’একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে সেনা আইন ও ফৌজদারি আইনে একযোগে বিচার করার সুযোগ নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের চলমান সংঘাতের কারণে সীমান্ত এখন অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ল্যান্ডমাইন শনাক্তে বিজিবিকে বিশেষ যন্ত্রপাতি দেয়া হয়েছে এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের বিষয়ে এখনো কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়নি।
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে শুধু শিরোপাই হারায়নি আর্জেন্টিনা, গড়েছে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ইতিহাসও। মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ায় বিশ্বকাপ ফাইনালে সবচেয়ে বেশি লাল কার্ড পাওয়া দল এখন আর্জেন্টিনা।নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালের নির্ধারিত সময়ের যোগ করা মিনিটে স্পেনের তরুণ ডিফেন্ডার পাও কুবারসির ওপর বিপজ্জনক ট্যাকল করেন এনজো। রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ সঙ্গে সঙ্গে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখান, যা লাল কার্ডে রূপ নেয়। ফলে ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ১০ জনের দলে পরিণত হয় তৎকালীন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।অতিরিক্ত সময়ে সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে স্পেনের হয়ে জয়সূচক গোল করেন ফেরান তোরেস। সেই একমাত্র গোলেই ১-০ ব্যবধানে জিতে ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায় স্পেন।এনজোর এই লাল কার্ড বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসেও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি ফাইনালে লাল কার্ড দেখা মাত্র ষষ্ঠ ফুটবলার। আর তার এই বহিষ্কারের ফলে বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের লাল কার্ডের সংখ্যা দাঁড়ায় তিনটিতে—যা অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি। এর আগে ১৯৯০ সালের ফাইনালে পেদ্রো মনসন ও গুস্তাভো দেসোত্তিও লাল কার্ড দেখেছিলেন।
ঢাকাই সিনেমার চিত্রনায়িকা পরীমণি বিশ্বকাপের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনার সমর্থনে সরব ছিলেন। প্রিয় দল শিরোপা জিতলে আবার বিয়ে করবেন এমন ঘোষণাও দিয়েছিলেন তিনি। তবে ফাইনালে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের পর সেই ঘোষণা আর বাস্তবায়ন হলো না। ফাইনাল ম্যাচ শেষে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক সংক্ষিপ্ত পোস্টে পরীমণি লেখেন, বিয়েটা আর করতে হলো না, এই আর কি। ভালোবাসার আর্জেন্টিনা, আবার দেখা হবে।এর আগে, আর্জেন্টিনা ফাইনালে ওঠার পরও বিষয়টি নিয়ে মজার ছলে পোস্ট করেছিলেন এই অভিনেত্রী। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইনকে উদ্দেশ করে তিনি লিখেছিলেন, হ্যারি কেইন, পারলে না তুমি আমার বিয়েটা ঠেকাতে! সেই পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।তবে শেষ পর্যন্ত ফাইনালে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের মধ্য দিয়ে পরীমণির ঘোষিত বিয়ের পরিকল্পনাও আর বাস্তবায়িত হলো না। ম্যাচ শেষে আবারও প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে তিনি জানান, ভালোবাসার আর্জেন্টিনা। আবার দেখা হবে।যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের মধ্যে বেশ আলোচনার সৃষ্টি করেছে। কেউ বিষয়টিকে মজার ছলে নিয়েছেন, আবার কেউ আর্জেন্টিনার হারে তার হতাশার সঙ্গে সহমত প্রকাশ করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার ছাড়িয়েছে।সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে ৯০ দশমিক ১৯ ডলারে পৌঁছায়। গত সপ্তাহে ব্রেন্টের দাম ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছিল, যা এপ্রিলের পর সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক বৃদ্ধি।অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৪ দশমিক ২০ ডলারে উঠেছে। গত সপ্তাহে এর দাম বেড়েছিল ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ।বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাই বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। আইএনজির বিশ্লেষকরা বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ না থাকায় ব্রেন্টের দাম ৯০ ডলারের ওপরে উঠেছে।গত সপ্তাহান্তে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও তীব্র হয়। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে টানা নবম রাতের মতো হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র কুয়েত ও বাহরাইনও ইরানের হামলার খবর জানিয়েছে।ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির একটি অনিরাপদ দক্ষিণাঞ্চলীয় পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় দুটি তেলবাহী জাহাজ বিস্ফোরিত হয়ে অচল হয়ে গেছে। তবে রয়টার্স এ ঘটনার সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি।সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তারা ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ কার্যকর করছে। অন্যদিকে, ইরান বলছে, প্রণালির নিয়ম ভঙ্গকারী জাহাজগুলোকে তারা লক্ষ্যবস্তু করছে।হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হয়। ফলে এই পথে অস্থিরতা বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, সোমবার ওমানের কুমজার এলাকার উত্তর-পশ্চিমে একটি জাহাজে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।বার্কলেজের বিশ্লেষক অমরপ্রীত সিং বলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে বোঝা যাবে, নতুন করে অবরোধ পরিস্থিতির মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে কতটা তেল রপ্তানি সম্ভব হবে। তার মতে, বাজার এখনো সম্ভাব্য সংকটের প্রভাবকে পুরোপুরি বিবেচনায় নিচ্ছে না।রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, রোববার হরমুজ প্রণালি দিয়ে চারটি জাহাজ চলাচল করেছে, যা আগের দিনের আটটির তুলনায় কম। শুক্রবারের পর থেকে অন্তত তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার ও একটি বড় আকারের অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ এই পথ দিয়ে তেল সংগ্রহের জন্য প্রবেশ করেছে।
১১ ঘন্টা আগে
আমাদের প্রতিটি কাজ আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের একেকটি মাধ্যম। কর্মের ফলাফল অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই ফলাফলের পেছনের প্রক্রিয়া ও চেষ্টা। কারণ আমরা যখন আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে ভালো কিছুর আশা করি, তখন আল্লাহ নিজেই তার উত্তম প্রতিদান দেন। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, আমাদের সর্বদা তার সন্তুষ্টির সন্ধান করতে হবে এবং সেই পথে অবিচল থাকতে হবে যা তাকে খুশি করে।এখানে আল্লাহর নৈকট্য লাভের আটটি উপায় তুলে ধরা হলো:১. জিকির বা আল্লাহকে স্মরণ করাআল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, জেনে রাখো, আল্লাহর জিকির বা স্মরণের মাধ্যমেই কেবল অন্তর প্রশান্তি লাভ করে। (সূরা আর-রাদ, আয়াত: ২৮)।জিকির হলো অন্তরে ও মুখে আল্লাহকে স্মরণ করা। যেকোনো সময় বা স্থানে মন ও মননে আল্লাহর কথা চিন্তা করাই জিকির। কেবল ভাবনাই নয়, বিভিন্ন তাসবিহ ও দোয়ার মাধ্যমে মুখে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করাও এর অন্তর্ভুক্ত। বর্তমান যুগে এই জিকিরের গুরুত্ব অপরিসীম। চারপাশের অজস্র বিভ্রান্তি ও ব্যস্ততা থেকে মনকে সরিয়ে প্রকৃত বিষয়ের ওপর মনোযোগ ধরে রাখতে জিকির দারুণ কার্যকর ভূমিকা রাখে।সালাতের পর কিংবা রান্নাবান্না ও গাছে পানি দেওয়ার মতো দৈনন্দিন কাজের সময়ও জিকির করা সম্ভব। বুদ্ধিমান ও বিবেচনাবোধ সম্পন্ন মানুষের বর্ণনা দিতে গিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, তারা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহকে স্মরণ করে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, যারা দাঁড়িয়ে, বসে এবং শুয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা করে এবং বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি এগুলো বৃথা সৃষ্টি করেননি। আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি, আমাদের দোজখের আগুন থেকে রক্ষা করুন। (সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৯১)।একবার ভাবুন, আমরা যখন ঘরে কাজ করছি, খাচ্ছি কিংবা পরিবারের সঙ্গে হাসাহাসি করছি, তখনও আমাদের অন্তর যদি আল্লাহর স্মরণে যুক্ত থাকে, তবে জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই সর্বশক্তিমানের আনুগত্যে কাটবে।যেকোনো ভালো অভ্যাসের মতো নিয়মিত জিকির করার জন্যও কিছু অনুশীলন ও শৃঙ্খলা প্রয়োজন। ছোট ছোট আমল দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। যেমন— সুবহানাল্লাহ (আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি), আলহামদুলিল্লাহ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর), লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই) এবং আল্লাহু আকবার (আল্লাহ মহান)। এই জিকিরগুলোকে চিরস্থায়ী নেক আমল হিসেবে গণ্য করা হয়, যার প্রতিদান পার্থিব সব আনন্দের চেয়েও দীর্ঘস্থায়ী।একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) জানিয়েছেন যে, এই জিকিরগুলো নিয়মিত পাঠ করা তার অত্যন্ত প্রিয় ছিল। তিনি বলেছেন, সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার বলা আমার কাছে সূর্য যা কিছুর ওপর উদিত হয় তার সবকিছুর চেয়ে বেশি প্রিয়। (সহিহ মুসলিম)। ঘরের কাজ বা অফিসের কাজের ফাঁকেও পড়ার মতো আরও অনেক জিকির রয়েছে, যা কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত আছে।২. সালাত বা নামাজ আদায় করাআমরা যে সফলতা খুঁজছি, তা প্রতিদিন পাঁচবার আমাদের আহ্বান করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন বান্দার আমলের মধ্যে সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। যদি নামাজ ঠিক থাকে, তবে সে সফল ও সার্থক হবে। আর যদি নামাজ ত্রুটিপূর্ণ হয়, তবে সে ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। (সুনান আত-তিরমিজি)।নামাজ শুধু একটি বাধ্যবাধকতাই নয়, বরং একমাত্র ইবাদত যা রাসুলুল্লাহর (সা.) ঊর্ধ্বগমন বা মেরাজের রাতে আসমানে ফরজ করা হয়েছিল, যা বান্দার সঙ্গে আল্লাহর সরাসরি সংযোগের প্রতীক।আল্লাহর আরও কাছাকাছি হতে চাইলে নফল, সালাতুল হাজত বা তাহাজ্জুদের মতো সুন্নত ও নফল নামাজগুলো আদায় করা যেতে পারে। এই নামাজগুলোর প্রতিটিরই নিজস্ব তাৎপর্য ও সওয়াব রয়েছে। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী এগুলো নিয়মিত আদায়ের অভ্যাস করা উচিত যাতে ক্লান্তি না আসে। রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও জানিয়েছেন যে, বান্দা যখন সালাতে সেজদারত থাকে, তখন সে আল্লাহর সবচেয়ে কাছাকাছি থাকে। তিনি বলেছেন, বান্দা যখন সেজদায় থাকে, তখন সে তার প্রতিপালকের সবচেয়ে নিকটবর্তী হয়, তাই তোমরা সেজদারত অবস্থায় বেশি বেশি দোয়া করো। (মুসলিম)।৩. ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনামানুষ হিসেবে আমাদের বুঝতে হবে যে আমরা কেউই নিখুঁত নই। নিজের ভুলগুলো স্বীকার করা এবং তা সংশোধনের চেষ্টা করা পরিপক্বতা ও উৎকর্ষের লক্ষণ। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আদম সন্তান মাত্রই গুনাহগার বা ভুলকারী, আর গুনাহগারদের মধ্যে তারাই সর্বোত্তম যারা প্রতিনিয়ত তওবা বা অনুশোচনা করে। (সুনান আত-তিরমিজি)।ক্ষমা প্রার্থনার আরবি শব্দ হলো ইস্তিগফার। তওবা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় একটি গুণ। অত্যন্ত সুন্দর ও বিনীতভাবে আল্লাহর দিকে ফিরে আসার প্রক্রিয়া। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন। (সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২২২)।ক্ষমা প্রার্থনার কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। সৃষ্টির সেরা জীব এবং নিষ্পাপ হওয়া সত্ত্বেও রাসুলুল্লাহ (সা.) দিনে ৭০ বারেরও বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন। ৪. দরুদ শরিফ পাঠ করারাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার ওপর দশবার রহমত নাজিল করবেন। (সহিহ মুসলিম)।প্রিয় নবীর (সা.) ওপর দরুদ পাঠ করার অসংখ্য উপকারিতা রয়েছে। দরুদ আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে এবং আল্লাহর কাছাকাছি নিয়ে যায়। নবীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের অন্যতম সেরা মাধ্যম এটি। মহান সাহাবি ও খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) একবার বলেছিলেন, নিশ্চয়ই দোয়া আসমান ও জমিনের মাঝে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে। এর কোনো কিছুই ওপরে ওঠে না, যতক্ষণ না তুমি তোমার নবীর ওপর দরুদ পাঠ করো। (সুনান আত-তিরমিজি)।৫. প্রিয়জনদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলাইসলামে বিশ্বাস বা ইমান শুধু অন্তরের অন্তস্তলে লুকিয়ে থাকা কোনো ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং সামাজিক দায়িত্বের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। তাই মুসলমানদের পার্থিব জীবন ও ধর্মীয় জীবনের মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নেওয়ার দ্বিধায় ভুগতে হয় না। ইসলাম এমন একটি জীবনব্যবস্থা যা আমাদের দুনিয়াবি কাজ এবং দ্বীনি কাজের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে শেখায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) কখনো নিজেকে সমাজ থেকে গুটিয়ে রাখেননি।একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করার এবং শিরক বর্জন করার আদেশের পরপরই আল্লাহ তায়ালা মানুষের সঙ্গে ভালো আচরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তার সাথে কাউকে শরিক করো না। এবং পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, এতিম, অভাবগ্রস্ত, নিকট প্রতিবেশী, দূর প্রতিবেশী, সঙ্গী-সাথী, মুসাফির এবং তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসীদের প্রতি সদয় হও। নিশ্চয়ই আল্লাহ অহংকারী ও দাম্ভিকদের পছন্দ করেন না। (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৩৬)।বাবা-মায়ের জন্য খাবার তৈরি করা, তাদের ক্লান্ত পা টিপে দেওয়া, সন্তানদের সঙ্গে বই পড়া বা খেলা করা, ভাইবোনের সাথে অর্থপূর্ণ কথা বলা কিংবা ধর্মীয় ক্লাসের পর বন্ধুদের সাথে চা-কফি পানের মাধ্যমে এই সম্পর্কগুলো আরও দৃঢ় করা যায়। ৬. বেশি বেশি দোয়া করাদোয়া করা আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার অত্যন্ত শক্তিশালী মাধ্যম। আমাদের প্রতিপালক নিজেই আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন তার কাছে দোয়া করতে ও চাইতে।অন্যের জন্য দোয়া করার একটি সুন্দর দিক হলো, এর মাধ্যমে আমরা নিজেরাও উপকৃত হই। আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো মুসলিম বান্দা যখন তার অপর ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দোয়া করে, তখন ফেরেশতারা বলে, তোমার জন্যও অনুরূপ হোক। (সহিহ মুসলিম)।৭. কোরআন তিলাওয়াত করাকোরআন হলো মহান আল্লাহর বাণী, যা রাসুলুল্লাহর (সা.) ওপর আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে। আল্লাহর বাণী পড়ার চেয়ে উত্তম আর কী হতে পারে তার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার? রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব থেকে একটি হরফ পাঠ করবে, সে একটি নেকি পাবে, আর প্রতিটি নেকি দশ গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হবে। আমি বলছি না যে আলিফ-লাম-মীম একটি হরফ, বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ এবং মীম একটি হরফ। (সুনান আত-তিরমিজি)।বর্তমান সময়ে কোরআনের সাথে নতুন করে যুক্ত হওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। যখন আমাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনায় আমরা পথ হারিয়ে ফেলি বা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি, তখন আমাদের এমন একটি নির্দেশনার প্রয়োজন যা আমাদের এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে শেখাবে।৮. আল্লাহ সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা রাখাসবশেষে, আমাদের সর্বদা মনে রাখতে হবে যে, যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতেও আল্লাহর প্রতি আশাবাদী থাকা এবং হুসনে জন বা ইতিবাচক ধারণা রাখা অত্যন্ত জরুরি। এটা তখনই সম্ভব যখন আমরা আমাদের একমাত্র সৃষ্টিকর্তা, সর্বশক্তিমান ও পরম ক্ষমাশীল আল্লাহ সম্পর্কে মনে সুন্দর ধারণা পোষণ করব।হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, আমার বান্দা আমার প্রতি যেমন ধারণা করে, আমি তার সাথে তেমনই আচরণ করি। সে যখন আমাকে স্মরণ করে, আমি তার সাথে থাকি। সে যদি আমাকে মনে মনে স্মরণ করে, আমিও তাকে মনে মনে স্মরণ করি। সে যদি কোনো সমাবেশে আমাকে স্মরণ করে, আমি তার চেয়ে উত্তম সমাবেশে তাকে স্মরণ করি। সে যদি আমার দিকে এক বিঘত এগিয়ে আসে, আমি তার দিকে এক হাত এগিয়ে যাই। সে যদি আমার দিকে এক হাত এগিয়ে আসে, আমি তার দিকে চার হাত এগিয়ে যাই। সে যদি আমার দিকে হেঁটে আসে, আমি তার দিকে দৌড়ে যাই। (মুত্তাফাকুন আলাইহি)।আল্লাহর প্রতি ইতিবাচক ধারণা রাখা মনের একটি বিশেষ অবস্থা। প্রতিদিন চারপাশে ঘটে যাওয়া অন্যায় ও জুলুম আমাদের মনকে ব্যথিত করতে পারে। মন হয়তো অনেক সময় এর কারণ খুঁজতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং নিজের কমতিগুলোর জন্য জবাবদিহিতার ভয় পায়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার এক মুমূর্ষু যুবকের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কেমন বোধ করছ? যুবকটি উত্তর দিল, আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রাসুল! আমি আল্লাহর রহমতের আশা করছি, আবার নিজের পাপের ভয়ও পাচ্ছি। রাসুলুল্লাহ (সা.) তখন বললেন, এই ধরনের পরিস্থিতিতে কোনো বান্দার হৃদয়ে যখন এই দুটি অনুভূতি একসাথে জমা হয়, তখন আল্লাহ তাকে তা-ই দান করেন যা সে আশা করে এবং তাকে সেই ভয় থেকে মুক্তি দেন যা সে আশঙ্কা করে। (সুনান আত-তিরমিজি)
পেটপুরে খাওয়ার পর আমাদের বেশিরভাগই আরাম করে বসতে ও বিশ্রাম নিতে প্রস্তুত থাকি। কেউ কেউ সোফায় গিয়ে বসেন, আবার কেউ কেউ সরাসরি কাজে লেগে পড়েন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলেন, খাওয়ার ঠিক পরের সময়টা আপনার স্বাস্থ্যের ওপর অনেক বেশি প্রভাব ফেলতে পারে। মাত্র ১০ থেকে ১২ মিনিটের একটি ছোট হাঁটা হজমে সাহায্য করতে পারে এবং খাওয়ার পর রক্তে শর্করার স্বাস্থ্যকর মাত্রা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। এই সহজ অভ্যাসটি কেন আপনার দৈনন্দিন রুটিনে যোগ করা উচিত, চলুন জেনে নেওয়া যাক-খাওয়ার পর আপনার হাঁটা উচিত কেন?খাওয়ার পর অল্প কিছুক্ষণ হাঁটলে আপনার শরীর আরও ভালোভাবে খাবার হজম করতে পারে এবং বিপাকীয় স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পারে। এর ফলে এই উপকারগুলো মিলবে-১. রক্তে শর্করার বৃদ্ধি সামলাতে সাহায্য করবেখাওয়ার পর আমাদের শরীর কার্বোহাইড্রেটকে ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত করে, যার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। খাওয়ার পর অল্প কিছুক্ষণ হাঁটলে রক্তে গ্লুকোজ প্রবেশের গতি কমে যায়, যা রক্তে শর্করার আকস্মিক বৃদ্ধি কমাতে সাহায্য করে এবং শরীরকে যে পরিমাণ ইনসুলিন নিঃসরণ করতে হয়, তাও হ্রাস করে।সায়েন্টিফিক রিপোর্টস-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে, খাওয়ার পর হালকা হাঁটা খাবারের পরের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা উন্নত করতে পারে, বিশেষ করে ডায়াবেটিস এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে।২. হজমশক্তি উন্নত করেহালকা নড়াচড়া পরিপাকতন্ত্র এবং ভেগাস নার্ভকে সক্রিয় করে, যা হজম প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে খাবারকে আরও মসৃণভাবে চলতে সাহায্য করতে পারে। এটি পেট খালি হতে সাহায্য করে এবং খাওয়ার পর হজমের ধীরগতি কমাতে পারে।৩. পেট ফাঁপা কমাতে সাহায্য করেখাওয়ার পর যদি আপনার প্রায়ই অস্বস্তিকরভাবে পেট ভরা মনে হয়, তবে হালকা হাঁটা সাহায্য করতে পারে। খাওয়ার পর হাঁটা অন্ত্রের সঞ্চালন উন্নত করে এবং গ্যাস জমা হওয়া কমাতে পারে, যা বিশেষ করে তাদের জন্য সহায়ক যারা পেট ফাঁপা বা এমন খাবার খান যা পেটে ভারী হয়ে থাকে।৪. খাওয়ার পর অ্যাসিড রিফ্লাক্স কমায়খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়লে কখনও কখনও রিফ্লাক্স আরও খারাপ আকার ধারণ করতে পারে। ধীরে হাঁটলে খাবার পরিপাকতন্ত্রের মধ্য দিয়ে চলতে থাকে, যা অ্যাসিডের সংস্পর্শ এবং বুকজ্বালার সমস্যা কমাতে পারে।৫. শরীরে ইনসুলিন ব্যবহারের ক্ষমতা উন্নত করেহাঁটার সময় পেশীগুলো শক্তির জন্য গ্লুকোজ ব্যবহার করে, যার ফলে তারা ইনসুলিনের ওপর কম নির্ভর করে রক্তপ্রবাহ থেকে শর্করা শোষণ করতে পারে। ধীরে ধীরে এটি ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।আপনার কতক্ষণ হাঁটা উচিত?দুপুরের খাবার, রাতের খাবার বা দিনের সবচেয়ে বড় খাবারের পর ধীর থেকে দ্রুত গতিতে ১০ থেকে ১২ মিনিট হাঁটা আদর্শ। অল্প সময়ের জন্য হাঁটা আপনার দৈনন্দিন রুটিনে একটি স্বাস্থ্যকর সংযোজন হতে পারে, কিন্তু আপনি কী খাচ্ছেন তাও ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। ডায়াবেটিস বা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স আছে এমন ব্যক্তিদের একটি সুষম খাদ্যের অংশ হিসাবে গোটা শস্য, ডাল, সবুজ শাকসবজি, বাদাম এবং বীজ জাতীয় খাবার অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
২০৫০ সালের মধ্যে চরম তাপমাত্রার ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের শীর্ষ ৬টি দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।সোমবার ২৬ জানুয়ারি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাতে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার সাসটেইনেবিলিটি’-তে এই গবেষণাটি প্রকাশ হয়।ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার অব্যাহত থাকলে আগামী ২৫ বছরের মধ্যে চরম তাপপ্রবাহে আক্রান্ত বৈশ্বিক জনসংখ্যার হার প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। শিল্প-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় যদি বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়, তবে চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ বিশ্বের ৪১ শতাংশ মানুষ (প্রায় ৩৭৯ কোটি) অসহনীয় তাপমাত্রার মধ্যে বসবাস করবে। ২০১০ সালে এই পরিস্থিতির শিকার জনগোষ্ঠীর হার ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ (১৫৪ কোটি)।
ডিজিটাল যুগে অনলাইন প্রতারণার ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলতে প্রতারকরা কেওয়াইসি (KYC) স্ক্যাম থেকে শুরু করে ডিজিটাল অ্যারেস্টের মতো নানা কৌশল অবলম্বন করছে, যার ফলে অনেকেই তাদের কষ্টার্জিত অর্থ হারাচ্ছেন। বহুল ব্যবহৃত মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের এই ধরনের সাইবার প্রতারণার হাত থেকে সুরক্ষিত রাখতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেফটি ফিচার চালু করেছে। এই ফিচারগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করলে আপনি সাইবার অপরাধীদের ফাঁদে পড়া থেকে অনেকটাই সুরক্ষিত থাকতে পারবেন।অচেনা নম্বর থেকে আসা কলের উপদ্রব কমাতে হোয়াটসঅ্যাপের ‘সাইলেন্স আননোন কলারস’ (Silence Unknown Callers) ফিচারটি দারুণ কার্যকর। এটি চালু থাকলে অচেনা নম্বর থেকে কল এলে আপনার ফোন বেজে উঠবে না, বরং কলটি শুধু কল ট্যাব এবং নোটিফিকেশনে দেখা যাবে। এছাড়া ‘কনটেক্সট কার্ডস’ (Context Cards) ফিচারের মাধ্যমে আপনি কোনো অচেনা নম্বর থেকে মেসেজ পাওয়ার পর সেটি আপনার সেভ করা আছে কি না বা ওই ব্যক্তি আপনার পরিচিত কোনো গ্রুপে আছেন কি না, তা সহজেই যাচাই করতে পারবেন। এর ফলে কারো মেসেজ ব্লক করা বা উপেক্ষা করার আগে আপনি প্রয়োজনীয় তথ্য পেয়ে যাবেন।ভিডিও কলের সময় স্ক্রিন শেয়ার করার সুবিধা থাকলেও, প্রতারকরা এই সুযোগে ব্যক্তিগত বা সংবেদনশীল তথ্য চুরি করতে পারে। এই ঝুঁকি এড়াতে হোয়াটসঅ্যাপ এখন কোনো অচেনা ব্যক্তির সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করার সময় ব্যবহারকারীকে সম্ভাব্য সতর্কবার্তা দেখায়। পাশাপাশি, আপনার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট অন্য কেউ অন্য কোনো ডিভাইসের সঙ্গে লিঙ্ক করার চেষ্টা করলে ‘ডিভাইস লিঙ্কিং অ্যালার্টস’ (Device Linking Alerts) ফিচারের মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপ সঙ্গে সঙ্গে আপনাকে সতর্কবার্তা পাঠাবে, যা অ্যাকাউন্টের অপব্যবহার রোধে সহায়ক।সবশেষে, অনলাইন নিরাপত্তার জন্য ‘টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন’ (Two-step Verification) ফিচারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সুবিধা চালু থাকলে অ্যাকাউন্ট রিসেট বা যাচাই করার সময় শুধু ওটিপি (OTP) নয়, বরং একটি অতিরিক্ত ভেরিফিকেশন ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। ফলে অননুমোদিত ব্যক্তি চাইলেই আপনার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারে না এবং অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার ঝুঁকিও অনেক কমে যায়।