পুলিশ প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল করেছে সরকার। বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ২১ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।এদের মধ্যে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজি), ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি এবং পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তারা রয়েছেন।রোববার (২৮ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাদের বদলি-পদায়ন করা হয়।প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমানকে পদোন্নতি দিয়ে অতিরিক্ত আইজি হিসেবে পুলিশ সদর দপ্তরে পদায়ন করা হয়েছে। এনএসআই পরিচালক (ডিআইজি) ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইনকে পদোন্নতি দিয়ে সিআইডির অতিরিক্ত আইজি, ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামানকে পুলিশ টেলিকমের অতিরিক্ত আইজি এবং র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (ডিআইজি) ফারুক আহমেদকে পদোন্নতি দিয়ে হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।এ ছাড়া ডিআইজি পর্যায়ে প্রলয় চিসিমকে পিটিসি নোয়াখালী, মিয়া মাসুদ করিমকে এপিবিএনের এফডিএমএন কার্যালয়, মোহাম্মদ ওসমান গনিকে পিটিসি রংপুর এবং এএফএম মোশাররফ হোসেন মিয়াজীকে পিটিসি খুলনায় পদায়ন করা হয়েছে।অতিরিক্ত ডিআইজি পর্যায়ে মোহা. আসাদুজ্জামানকে র্যাবে, এ কে এম আক্তারুজ্জামান ও মো. কুতুব উদ্দিনকে পুলিশ সদর দপ্তরে, মো. আল মামুনকে ২য় এপিবিএনের অধিনায়ক, সরকার মোহাম্মদ কায়সারকে পিএসটিএস বেতবুনিয়া এবং মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খানকে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি (বিপিএ), সারদায় বদলি করা হয়েছে।এ ছাড়া অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আব্দুল ওয়ারীশকে পিটিসি রংপুর এবং মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খানকে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।পুলিশ সুপার পর্যায়ে কাজী এহসানুল কবীরকে পুলিশ সদর দপ্তর, মো. জাহিদুর রহমানকে বিপিএ সারদা, সালমা সৈয়দ পলিকে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয় এবং মো. শহীদুল ইসলাম ও মো. কামরুজ্জামানকে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তৌহিদ আহমদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষকৃত্য অনুষ্ঠান ও দাফনকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। এছাড়া ইরাকেও একটি শোকানুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ইরানের কর্মকর্তারা আশা করছেন, শোকানুষ্ঠান ও দাফনে অংশ নিতে প্রায় দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে।দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে রোববার (২৮ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৪ জুলাই রাজধানী তেহরান এবং ধর্মীয় শহর কোমে শোকানুষ্ঠান শুরু হবে। এরপর ৯ জুলাই খামেনির জন্মশহর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে।শোকানুষ্ঠান নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ ও দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।এদিকে ইরাকের কারবালার একটি শিয়া পবিত্র স্থানে পৃথক শোকানুষ্ঠানেরও পরিকল্পনা রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।৮৬ বছর বয়সী আলি খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে তার সরকারি বাসভবনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন। প্রথমে তার দাফন অনেক আগেই সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে তা কয়েক দফা পিছিয়ে দেয়া হয়। কারণ, অনুষ্ঠানে ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রায় সবাই উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান প্রজন্মই দেশের ভবিষ্যৎ। তাই একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত থাকতে হবে।রোববার (২৮ জুন) সংসদ ভবনের ভিআইপি ক্যাফেটেরিয়ায় মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের আয়োজনে জাতীয় সংসদ ভবনে মধ্যাহ্নভোজ করেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সংসদ অধিবেশন দেখতে আসা শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও দর্শনার্থীরা।প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য জানান।তিনি জানান, মধ্যাহ্নভোজে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর আইন বিভাগের ২৯ জন শিক্ষার্থী, গণসাক্ষরতা অভিযানের সহযোগী সংস্থা ‘সুরভী’র মাধ্যমে আসা সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ ২১ জন এবং তেজগাঁও কলেজ ডিবেটিং সোসাইটির শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ ১৬ জন অংশ নেন।জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, এ সময় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে এবং নিজেদের যোগ্য, দক্ষ ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বর্তমান প্রজন্মই দেশের ভবিষ্যৎ। তাই একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত থাকতে হবে।এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আয়োজনে মধ্যাহ্নভোজে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা সরকারপ্রধানের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীরা সংসদ ভবন পরিদর্শন কর্মসূচির অংশ হিসেবে সংসদ সচিবালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা লাভ করে। এছাড়া, সংসদ লাইব্রেরি পরিদর্শন, উত্তর প্লাজায় ফটোসেশন এবং সংসদ অধিবেশন কক্ষে সংসদের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেছে তারা।
পা হড়কালেই সব শেষ হয়ে যেতে পারত, ছিটকে পড়তে হতো টুর্নামেন্ট থেকে। ভীষণ চাপের ম্যাচে আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলল ক্রোয়েশিয়া। দ্বিতীয়ার্ধে ঘানা একবার ঘুরে দাঁড়ালেও দ্রুতই আবার নিয়ন্ত্রণ নেয় জ্লাতকো দালিচের দল। দারুণ জয়ে তারা গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে পা রাখল নকআউট পর্বে।ফিলাডেলফিয়ায় বাংলাদেশ সময় রোববার ভোরে শেষ হওয়া ম্যাচে ২-১ গোলে জিতেছে ক্রোয়াটরা। পেতার সুচিচের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে সমতা ফেরান ডেরিক লাকাশেন। তবে ঘানার গোলের কিছুক্ষণ পরই ব্যবধান গড়ে দেন নিকোলা ভ্লাসিচ।ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪-২ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর টানা দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘এল’ গ্রুপের রানার্সআপ হলো ক্রোয়েশিয়া। ৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে থেকে সেরা আটটি তৃতীয় দলের একটি হয়ে পরের ধাপে খেলবে ঘানা।একই সময়ে শুরু হওয়া অন্য ম্যাচে পানামাকে ২-০ গোলে হারিয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপসেরা হয়েছে ইংল্যান্ড।আগেই বিদায় নিশ্চিত হওয়া পানামা পয়েন্টের খাতা খুলতে পারেনি।দুই দলের কাউকেই ম্যাচের শুরুর দিকে গতিময় ফুটবল খেলতে দেখা যায়নি। নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় ঘানা কখনোই সেভাবে তেড়েফুঁড়ে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করেনি। তবে প্রথম মিনিট থেকেই চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করে ক্রোয়েশিয়া।ভাগ্য সহায় হলে সপ্তদশ মিনিটেই গোল পেতে পারত ২০১৮ আসরের রানার্সআপরা। কিন্তু ডি-বক্সের বাইরে থেকে নিকোলা ভ্লাসিচের শট গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও পোস্টে লেগে ফিরে আসে।৩১তম মিনিটে দূরপাল্লার শটেই দলকে এগিয়ে নেন পেতার সুচিচ। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে নিচু শটে গোলটি করেন ইন্টার মিলানের এই মিডফিল্ডার। বলের গতি-প্রকৃতি বুঝতে মুহূর্তের বিলম্ব হওয়ায় তা ঠেকানোর তেমন সুযোগ পাননি গোলরক্ষক।জাতীয় দলের হয়ে প্রায় দুই বছর পর জালের দেখা পেলেন সুচিচ। এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে উয়েফা নেশনস লিগে পোল্যান্ডের বিপক্ষে নিজের প্রথম গোল করেছিলেন তিনি।৪০তম মিনিটে ম্যাচে প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি করে ঘানা। অ্যান্টোয়ান সেমেনিওর কোনাকুনি শট দূরের পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম মিনিটে বদলি হিসেবে নামার পরই ক্রোয়াট রক্ষণে ভীতি ছড়ান ঘানার ফরোয়ার্ড ফাতায়ু। ডি-বক্সের বাইরে থেকে তার শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। পরের পাঁচ মিনিটে আরও দুটি ভালো আক্রমণ করলেও সাফল্য পায়নি তারা।প্রতিপক্ষ ছন্দ হারিয়ে ফেলায় চাপ ধরে রাখে ঘানা। ৭৩তম মিনিটে স্থির বলের পরিস্থিতি থেকে গোল আদায় করে নেয় তারা। সতীর্থের মুক্ত লাথি থেকে পাওয়া বলে অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে বাঁ পায়ের শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন সেন্টার-ব্যাক ডেরিক লাকাশেন।শুরুতে অফসাইডের বাঁশি বাজলেও বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর ভিডিও সহকারী রেফারির সহায়তায় সিদ্ধান্ত বদলান মূল রেফারি। তাতে উল্লাসে ফেটে পড়ে ঘানার শিবির।তাদের সেই উচ্ছ্বাস অবশ্য বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৮২তম মিনিটে মার্কো পাশালিচের বুলেট গতির শট এক হাতে ঠেকিয়ে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন ঘানার গোলরক্ষক। লুকা মদ্রিচের নেওয়া সেই কর্নার থেকেই আবার এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। লাফিয়ে উঠে হেডে জালের দেখা পান নিকোলা ভ্লাসিচ।বাকি সময়ে আর তেমন উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি করতে পারেনি কোনো দল। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ক্রোয়েশিয়া।
কলকাতার জনপ্রিয় রিয়েলিটি অনুষ্ঠান ‘দাদাগিরি’তে বড় পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করা সৌরভ গাঙ্গুলীর জায়গায় এবার দায়িত্ব নিচ্ছেন অভিনেতা দেব। বেশ কয়েকদিনের জল্পনার পর বিষয়টি নিজেই নিশ্চিত করেছেন তিনি।নতুন দায়িত্ব নিয়ে উচ্ছ্বসিত হলেও কিছুটা দুশ্চিন্তায় আছেন দেব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের একটি ছবি শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, ‘একটু নার্ভাস, একটু খুশি। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে প্রচণ্ড উত্তেজিত। একেবারে নতুন যাত্রা শুরু করছি।’ পোস্টে তিনি সংশ্লিষ্ট টেলিভিশন চ্যানেলকেও উল্লেখ করেন।এরই মধ্যে কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় ‘দাদাগিরি’র নতুন পর্বের প্রচারণার দৃশ্য ধারণ করেছেন দেব। তবে সেই ছবি ও ভিডিও এখনো প্রকাশ করা হয়নি।দীর্ঘদিন সৌরভ গাঙ্গুলীর সঞ্চালনায় জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই অনুষ্ঠানে দেব কতটা নতুনত্ব আনতে পারবেন, তা নিয়ে দর্শকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি ‘দাদাগিরি’তে দেবের নতুন রূপ কেমন হবে, তা জানার আগ্রহও দেখা গেছে ভক্তদের মধ্যে।এদিকে, কিছুদিন আগে দেব পরিচালিত নতুন সিনেমা দেশু ৭-এর পোস্টারও প্রকাশ পেয়েছে। এ ছাড়া পশ্চিমবঙ্গের বিনোদন অঙ্গনেও বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে। সম্প্রতি দীর্ঘদিনের সঞ্চালিকা রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবর্তে জনপ্রিয় অনুষ্ঠান দিদি নম্বর ওয়ান-এর নতুন সঞ্চালক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়।
দেশের বাজারে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভ্যাটসহ স্বর্ণালংকারে দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বাড়ানো হয়েছে।গত বৃহস্পতিবার কমানো হয়েছিল ২ হাজার ২১৬ টাকা।শনিবার (২৭ জুন) সকাল ১০টা থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে।বাজুস জানায়, সোমবার সকালে বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এ দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।নতুন দাম অনুযায়ী, এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণালঙ্কারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা। যা গতকাল ছিল ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা।এ ছাড়া ভ্যাটসহ ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দুই লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি এক লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এক লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকা।স্বর্ণের দামের সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে রুপার দামও। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৪৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৮৫৮ টাকা।
১ দিন আগে
ব্যক্তিগত জীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা পেশাগত দায়িত্ব- প্রতিটি ক্ষেত্রেই সততা ইসলামের অন্যতম মৌলিক শিক্ষা। বিশেষ করে লেনদেনে সততা ঈমানের দাবি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।আজকের বিশ্বে প্রতারণা, ভেজাল, মিথ্যা প্রচার ও ওজনে কম দেওয়ার মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ড সমাজে নানা সংকট তৈরি করছে। ইসলাম এসবের বিপরীতে সততা, স্বচ্ছতা ও ন্যায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার শিক্ষা দেয়।লেনদেনে সততার নির্দেশপবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মাপে পূর্ণ মাত্রায় দেবে; আর যারা মাপে কম দেয় তোমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে না।’ (সুরা শুআরা: ১৮১)অন্য আয়াতে আরও কঠোরভাবে বলা হয়েছে, ‘দুর্ভোগ তাদের জন্য, যারা মাপে কম দেয়। যারা মানুষের কাছ থেকে মেপে নেয়, তখন পূর্ণমাত্রায় নেয়; আর যখন তাদের জন্য মাপে বা ওজন করে দেয়, তখন কম দেয়।’ (সুরা মুতাফফিফিন: ১–৩)এ আয়াতগুলো প্রমাণ করে, লেনদেনে সামান্য অসততাও আল্লাহর কাছে গুরুতর অপরাধ।ব্যবসায় সততার মর্যাদারাসুলুল্লাহ (স.) সৎ ব্যবসায়ীর অসাধারণ মর্যাদার কথা জানিয়েছেন এভাবে, ‘সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ী কেয়ামতের দিন নবী, সিদ্দিক ও শহিদদের সঙ্গে থাকবে।’ (জামে তিরমিজি: ১২০৯)এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, ব্যবসায় সততা শুধু পার্থিব সাফল্য নয়; আখেরাতেও সর্বোচ্চ মর্যাদার কারণ।প্রতারণা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধএকবার রাসুলুল্লাহ (স.) বাজারে একটি খাদ্যশস্যের স্তূপে হাত দিয়ে ভেতরে ভেজা অংশ দেখতে পান। বিক্রেতা বললেন, এতে বৃষ্টি পড়েছিল। তখন নবী (স.) বললেন, ‘কেন তুমি ভেজা অংশ খাদ্যশস্যের উপরে রাখনি, যাতে লোকেরা তা দেখতে পায়। যে ব্যাক্তি ধোকা দেয়, সে আমার সাথে কোনো সম্পর্ক রাখে না।’ (সহিহ মুসলিম: ১০২)ত্রুটি গোপন করা বৈধ নয়কোনো পণ্যের ত্রুটি জেনেও তা গোপন করে বিক্রি করা ইসলামে নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই যদি সত্য বলে এবং ত্রুটি স্পষ্ট করে, তবে তাদের বেচাকেনায় বরকত দেওয়া হয়। আর যদি তারা মিথ্যা বলে ও ত্রুটি গোপন করে, তবে তাদের বেচাকেনার বরকত নষ্ট হয়ে যায়।’ (সহিহ বুখারি: ২০৭৯; সহিহ মুসলিম: ১৫৩২)আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষালেনদেনের সঙ্গে আমানত ও প্রতিশ্রুতিও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দেন, তোমরা আমানত তার প্রাপকের কাছে পৌঁছে দাও।’ (সুরা নিসা: ৫৮)আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা অঙ্গীকারসমূহ পূর্ণ করো।’ (সুরা মায়িদা: ১)ঋণ পরিশোধের বিষয়েও ইসলামের নির্দেশনা স্পষ্ট। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মানুষের সম্পদ ফেরত দেওয়ার নিয়তে গ্রহণ করে, আল্লাহ তার পক্ষ থেকে তা আদায় করে দেন। আর যে ব্যক্তি তা নষ্ট করার উদ্দেশ্যে গ্রহণ করে, আল্লাহ তাকে ধ্বংস করে দেন।’ (সহিহ বুখারি: ২৩৮৭)ডিজিটাল লেনদেনেও একই নীতিবর্তমানে অনলাইন ব্যবসা ও ই-কমার্সের যুগে ইসলামের সততার শিক্ষা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। পণ্যের প্রকৃত তথ্য দেওয়া, ভুয়া রিভিউ না করা, সময়মতো পণ্য সরবরাহ করা, গ্রাহকের অর্থ ও তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা- এসবই ইসলামের সততার নীতির অন্তর্ভুক্ত। একইভাবে মিথ্যা বিজ্ঞাপন, ভুয়া ছাড় দেখানো, নকল বা নিম্নমানের পণ্য বিক্রি এবং গ্রাহককে বিভ্রান্ত করাও ইসলামের দৃষ্টিতে অসততা।মোটকথা, লেনদেনে সততা ইসলামের একটি মৌলিক শিক্ষা। এটি শুধু ব্যবসায়ীদের জন্য নয়; বরং ক্রেতা, বিক্রেতা, চাকরিজীবী, উদ্যোক্তা সবার জন্য সমান প্রযোজ্য। একজন মুমিনের প্রকৃত পরিচয় তার নামাজ-রোজার পাশাপাশি তার সততা ও আমানতদারিতার মধ্যেও প্রকাশ পায়। সততা শুধু মানুষের বিশ্বাস অর্জনের মাধ্যম নয়; এটি দুনিয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যে বরকত লাভ এবং আখিরাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম পথ। তথ্যসূত্র: সুরা শুআরা: ১৮১; সুরা মুতাফফিফিন: ১–৩; সুরা নিসা: ৫৮; সুরা মায়িদা: ১; সহিহ বুখারি: ২০৭৯, ২৩৮৭; সহিহ মুসলিম: ১০২, ১৫৩২; জামে তিরমিজি: ১২০৯
সুস্থ জীবনযাপন শুধু রোগমুক্ত থাকার বিষয় নয়। শরীর ও মন ভালো রাখতে প্রয়োজন নিয়মিত কিছু ভালো অভ্যাস। যেমন সঠিক খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা, নিয়মিত ব্যায়াম এবং ভালো ঘুম— এসব ছোট ছোট পরিবর্তনই দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকতে বড় ভূমিকা রাখে।বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনযাত্রায় কিছু অভ্যাস যোগ করলে অনেক ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো সম্ভব।১. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুনশরীরের জন্য উপযুক্ত ওজন বজায় রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত ওজন উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্রোগ, স্ট্রোক এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে শুধু ওজনের সংখ্যা নয়, বয়স, শরীরের গঠন ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে২. পুষ্টিকর খাবার খানশরীর সুস্থ রাখতে প্রয়োজন সুষম খাবার। খাবারের তালিকায় রাখতে পারেন— ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার, খনিজ উপাদান, আঁশযুক্ত খাবার, শস্যজাতীয় খাবার, বাদাম, কম চর্বিযুক্ত প্রোটিন ও কম চর্বিযুক্ত দুধজাত খাবার। ৩. প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানপ্যাকেটজাত ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারে সাধারণত বেশি লবণ, চিনি ও চর্বি থাকে। এসব খাবার নিয়মিত খেলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে চিপস, মিষ্টি জাতীয় খাবার, কোমল পানীয় ও অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার কম খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।৪. পর্যাপ্ত পানি পান করুনশরীরের জন্য পানি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। পর্যাপ্ত পানি পান করলে— মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ভালো থাকে, হজমে সহায়তা করে। এছাড়াও শরীরে শক্তি বজায় থাকে ও কিডনির সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। সাধারণভাবে দিনে প্রায় ৮ গ্লাস পানি পান করার লক্ষ্য রাখা যেতে পারে।৫. নিয়মিত ব্যায়াম করুনশারীরিক কার্যক্রম শরীরকে সক্রিয় রাখে। নিয়মিত ব্যায়াম করলে মন ভালো থাকে, পেশি শক্ত হয় এবং ঘুম ভালো হয়। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি ধরনের ব্যায়াম করার চেষ্টা করা উচিত।৬. দীর্ঘ সময় বসে থাকা কমানঅনেকক্ষণ বসে থাকা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বেশি সময় নিষ্ক্রিয় থাকলে স্থূলতা, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।৭. খোলা বাতাসে সময় কাটানপ্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটানো মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। সূর্যের আলো শরীরে ভিটামিন ডি তৈরি করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি মন ভালো রাখা ও মানসিক চাপ কমাতেও সহায়তা করে।৮. পর্যাপ্ত ঘুমানভালো ঘুম শরীরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমের সময় শরীর শক্তি ফিরে পায়। এ সময়ের মধ্যে পেশি মেরামত করে, মস্তিস্ককে শান্ত রেখে স্মৃতি ঠিক রাখে। এও মনে রাখা উচিৎ, প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করা উচিত।৯. মদ্যপান এড়িয়ে চলুনসুস্থ জীবনযাপনের জন্য মদ্যপান সীমিত রাখা বা এড়িয়ে চলুন। অতিরিক্ত মদ্যপান শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি করতে পারে।১০. ধূমপান ছাড়ুনধূমপান ফুসফুস, হৃদ্যন্ত্রসহ শরীরের বিভিন্ন অংশের ক্ষতি করে। যেকোনো বয়সে ধূমপান ছাড়া যায়; ছাড়লে স্বাস্থ্যের উন্নতি হতে পারে।১১. প্রয়োজন হলে ভিটামিন গ্রহণ করুনশরীরে কোনো পুষ্টির ঘাটতি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন বা পরিপূরক গ্রহণ করা যেতে পারে। তবে নিজের ইচ্ছায় নিয়মিত এসব গ্রহণ না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।১২. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুননিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলে অনেক রোগ শুরুতেই শনাক্ত করা সম্ভব। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও টিকা নেওয়া সুস্থ থাকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।বলে রাখা, সুস্থ জীবন কোনো একদিনের সিদ্ধান্ত নয়। প্রতিদিনের ছোট ছোট ভালো অভ্যাসই তৈরি করে দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন।
২০৫০ সালের মধ্যে চরম তাপমাত্রার ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের শীর্ষ ৬টি দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।সোমবার ২৬ জানুয়ারি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাতে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার সাসটেইনেবিলিটি’-তে এই গবেষণাটি প্রকাশ হয়।ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার অব্যাহত থাকলে আগামী ২৫ বছরের মধ্যে চরম তাপপ্রবাহে আক্রান্ত বৈশ্বিক জনসংখ্যার হার প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। শিল্প-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় যদি বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়, তবে চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ বিশ্বের ৪১ শতাংশ মানুষ (প্রায় ৩৭৯ কোটি) অসহনীয় তাপমাত্রার মধ্যে বসবাস করবে। ২০১০ সালে এই পরিস্থিতির শিকার জনগোষ্ঠীর হার ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ (১৫৪ কোটি)।