একদিনের সফরে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৩ জুন) সকাল পৌনে ৯টায় সকার প্রধান গুলশানের বাসা থেকে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছান বলে জানিয়েছেন, তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিমানে কক্সবাজারে যাচ্ছেন। গুলশানের বাসা থেকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসেছেন। তার সঙ্গে ডা. জুবাইদা রহমানও সফরে আছেন। বৃক্ষরোপণ, খাল খননসহ বিভিন্ন কর্মসূচি শেষ করে রাতে তিনি ঢাকায় ফিরবেন। কক্সবাজার পৌঁছে সকাল সাড়ে ১০টায় পিএমখালী ইউনিয়নের পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তার কর্মসূচি শুরু করবেন। দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান এবং বিকেলে চকরিয়া বাস টার্মিনালে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত জনসভা, সন্ধ্যায় সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া মেরিন ড্রাইভ সড়ক ঘুরে দেখবেন তারেক রহমান। কক্সবাজারবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী নতুন উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে ঘিরে জেলায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝেও দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। প্রত্যাশার কথাও জানাচ্ছেন তারা।কক্সবাজারবাসীর প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে- চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কার্যকর উদ্যোগ। এছাড়া পর্যটন খাতের উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পূর্ণ ব্যবহার এবং শুঁটকি শিল্প রক্ষায়ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান স্থানীয়রা।পাশাপাশি কুতুবদিয়া রক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ, মহেশখালী-কক্সবাজার চ্যানেলে সেতু, মাদক চোরাচালান বন্ধ ও সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার দাবিও রয়েছে স্থানীয়দের।সরকারপ্রধানের এ সফরকে কেন্দ্র করে জোরদার করা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সমাবেশস্থল ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প এলাকা ইতোমধ্যেই পরিদর্শন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমেদ ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন ৫৪ হাজার ৩২৩ জন বাংলাদেশি হাজি। হজ করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত সৌদি আরবে ৫০ জন হজযাত্রী ও হাজি মারা গেছেন।শুক্রবার (১২ জুন) দিনগত রাত ৩টা পর্যন্ত ১২৩টি ফিরতি ফ্লাইটে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৩১৩ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫০ হাজার ১০ জন দেশে ফিরেছেন।ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালে আইটি হেল্পডেস্কের প্রতিদিনের বুলেটিন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। গত ২৬ মে সৌদি আরবে হজ অনুষ্ঠিত হয়।পোর্টালে জানানো হয়, সর্বশেষ গত ১১ জুন বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রী সুলতানা রাজিয়া চৌধুরী (৬৭) মদিনায় মারা গেছেন। তার বাড়ি সিলেট সদরে।সৌদি আরবে মৃত্যুবরণ করা বাংলাদেশি হজযাত্রীদের মধ্যে ৩৩ জন পুরুষ ও ১৭ জন নারী। এদের মধ্যে মক্কায় ৩৫, মদিনায় ১৪ ও জেদ্দায় একজনের মৃত্যু হয়েছে।বুলেটিন অনুযায়ী, দেশে ফেরা ৫৪ হাজার ৩২৩ জন হাজির মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৩১৩ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫০ হাজার ১০ জন রয়েছেন।এসব হাজি দেশে ফেরাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৫৮টি, সৌদি এয়ারলাইন্স ৪৮টি এবং ফ্লাইনাস ২১টি ফিরতি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।হজ বুলেটিনে আরও জানানো হয়, সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানীয় হাসপাতালে মোট ৪১০ জন হাজি চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। বর্তমানে ১৮ জন হাজি বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।এবার বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালন করেছেন। এরমধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজ পালন করেন। হজযাত্রীদের সৌদি আরবগামী প্রথম ফ্লাইট ছিল ১৮ এপ্রিল এবং শেষ ফ্লাইট ২১ মে। অন্যদিকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয়েছে ৩০ মে, যা চলবে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত।
কক্সবাজারে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।শনিবার (১৩ জুন) সকাল পৌনে ১০টায় প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করে।এর আগে সকাল পৌনে ৯টায় সকারপ্রধান গুলশানের বাসা থেকে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছান বলে জানিয়েছেন তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিমানে কক্সবাজারে যাচ্ছেন। গুলশানের বাসা থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসেছেন। তার সঙ্গে ডা. জুবাইদা রহমানও সফরে আছেন। বৃক্ষরোপণ, খাল খননসহ বিভিন্ন কর্মসূচি শেষ করে রাতে তিনি ঢাকায় ফিরবেন। কক্সবাজার পৌঁছে সকাল সাড়ে ১০টায় পিএমখালী ইউনিয়নের পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তার কর্মসূচি শুরু করবেন।দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান এবং বিকেলে চকরিয়া বাস টার্মিনালে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত জনসভা, সন্ধ্যায় সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।এ ছাড়া মেরিন ড্রাইভ সড়ক ঘুরে দেখবেন তারেক রহমান। কক্সবাজারবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী নতুন উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন তিনি।
স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে দুর্দান্ত এক জয় দিয়ে। ক্যালিফোর্নিয়ার সোফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘ডি’র ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টে শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে মাউরিসিও পচেত্তিনোর শিষ্যরা। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে যুক্তরাষ্ট্র। সপ্তম মিনিটে ওয়েস্টন ম্যাককেনি ও ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিকের দারুণ সমন্বয়ে তৈরি আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে দেন প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার দামিয়ান বোবাদিয়া। আত্মঘাতী ওই গোলেই এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। এরপর ম্যাচের ৩১ মিনিটে পুলিসিকের পাস থেকে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফোলারিন বালোগান। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আবারও গোল করে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন তিনি। বালোগানের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় যুক্তরাষ্ট্র।দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে প্যারাগুয়ে। ৭৩ মিনিটে মিগুয়েল আলমিরন ও হুলিও এনসিসোর আক্রমণ থেকে বদলি খেলোয়াড় মাউরিসিও গোল করে ব্যবধান কমান। তবে শেষ পর্যন্ত ম্যাচে ফিরতে পারেনি দক্ষিণ আমেরিকার এই দল।অতিরিক্ত সময়ের অষ্টম মিনিটে জিওভানি রেইনা বক্সের বাইরে থেকে দৃষ্টিনন্দন শটে চতুর্থ গোল করেন। তার সেই গোলেই ৪-১ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত করে যুক্তরাষ্ট্র।
বলিউডের পাওয়ার কাপল দীপিকা পাড়ুকোন-রণবীর সিং এর ঘরে দ্বিতীয় সন্তান আসছে। খবরটি আগেই জানিয়েন এ দম্পতি। এবার প্রথমবারের মতো ক্যামেরায় ধরা পড়লো দীপিকার বেবিবাম্প—যা এখন ভক্তমহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। পিংকভিলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি দীপিকা-রণবীর তাদের নতুন বাড়ির নির্মাণ কাজের অগ্রগতি দেখতে গিয়েছিলেন। আর সেখানেই ক্যামেরাবন্দি হন এই তারকা দম্পতি। ঢিলেঢালা সাদা পোশাকে দীপিকার উপস্থিতি ছিল শান্ত, প্রায় নীরব এক সৌন্দর্যের মতো। নায়িকার বেবিবাম্পসহ ক্যামেরার ফ্রেমে ধরা পড়া মুহূর্তটি স্যোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়, আর ভক্তদের শুভেচ্ছায় ভরে ওঠে টাইমলাইন।সমুদ্রের দিকে মুখ করা সেই বাড়ির প্রতিটি কোণে যেন নতুন জীবনের প্রস্তুতির ছাপ। পাশে দাঁড়িয়ে রণবীর সিং বারবার দেখছিলেন কাজের অগ্রগতি, আর দীপিকা ছিলেন একেবারে স্বাভাবিক, শান্ত, আত্মস্থ।এই দৃশ্য শুধু একটি তারকা দম্পতির ব্যক্তিগত মুহূর্ত নয়—বরং সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়া এক নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত। পর্দার আলো, লাল গালিচার ঝলক পেরিয়ে এখানে তারা দাঁড়িয়ে আছেন জীবনের সবচেয়ে ব্যক্তিগত বাস্তবতায়।ভক্তদের জন্য এই মুহূর্ত তাই শুধু একটি ছবি নয়, বরং এক আবেগের নাম—যেখানে তারকারাও হয়ে ওঠেন সাধারণ, আর সাধারণ মুহূর্তই হয়ে ওঠে গল্প।
জাতীয় সংসদে বাংলাদেশের ইতিহাসের বৃহত্তম এবং দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট উত্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু চৌধুরী। বাজেটে গৃহীত পদক্ষেপের ফলে বেশ কিছু পণ্যের দাম কমবে।এর মধ্যে চিকিৎসা খাতে কিডনি ডায়ালাইসিস, হার্টের রিং বা স্টেন্ট, চোখের ইন্ট্রাওকুলার লেন্স, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনীয় স্পেশাল এসিস্টিভ ডিভাইস, ক্যান্সারের ওষুধ, সক্রিয় ফার্মাসিউটিক্যাল উপাদান, জীবনরক্ষাকারী অন্যান্য ওষুধ, মেডিক্যাল ইকুইপমেন্টস।ইলেক্ট্রনিকস সামগ্রীর মধ্যে ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার, কম্পিউটার প্রিন্টার, কম্পিউটার মনিটর, কম্পিউটার এক্সেসরিস এসএসডি, পিওএস মেশিন। এছাড়া শিশুখাদ্য, সকল ধরনের মসলা, সব ধরনের খেজুর, সব ধরনের সার, ভেটেরিনারি মেডিসিন কীটনাশক ও বালাইনাশক, পোল্ট্রি, ডেইরি ও মৎস্য খাদ্য।বাজেটে মূল্য কমবে যেসব পণ্যেরসংসদে প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রীযন্ত্রাংশের মধ্যে ৫০ হাজার ডলার মূল্য পর্যন্ত ইলেকট্রিক গাড়ি, ২০০০ সিসি পর্যন্ত প্লাগ-ইন ইলেকট্রিক গাড়ি, ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাক, ইলেকট্রিক বাইক, ইলেকট্রিক গাড়ির চার্জার ও চার্জিং স্টেশন, সোলার প্যানেল, সোলার ইনভার্টার, লিথিয়াম ব্যাটারি, লিথিয়াম ব্যাটারি প্যাক, ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম, সোলার প্যানেল মাউন্টিং স্ট্রাকচার, স্মার্টকার্ড ও ব্যাংক কার্ড, স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য মর্চুয়ারি, সিনথেটিক ওভেন ফ্যাব্রিক্স।দাম কমার তালিকায় আরো আছে মিউজিক্যাল ইন্সট্রুমেন্ট- যেমন গিটার, পিয়ানো, ভায়োলিন ইত্যাদি, সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরা এবং এই ক্যামেরা ও প্রজেক্টরের যন্ত্রাংশ, স্কিন কেয়ার ও বিউটি প্রোডাক্টস, জুয়েলারি, সিম কার্ড, ইলেক্ট্রিক কুকার, ইন্ডাকশন কুকার, ইনফ্রারেড কুকার, ওয়াটার পিউরিফায়ার, ওয়াটার হিটার ও গিজার স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্য সামগ্রী, মোবাইল ফোন, রেফ্রিজারেটর, ফ্রিজার, এসি, ওয়াশিং মেশিন, এটিএম, সিসি ক্যামেরা।এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুর ১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে এই প্রস্তাবিত বাজেটের অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অর্থ বিলে স্বাক্ষরের পর বিকেল ৩টায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্পিকারের অনুমতি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদে বাজেট বক্তৃতা শুরু করেন।
১ দিন আগে
হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন ৫৪ হাজার ৩২৩ জন বাংলাদেশি হাজি। হজ করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত সৌদি আরবে ৫০ জন হজযাত্রী ও হাজি মারা গেছেন।শুক্রবার (১২ জুন) দিনগত রাত ৩টা পর্যন্ত ১২৩টি ফিরতি ফ্লাইটে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৩১৩ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫০ হাজার ১০ জন দেশে ফিরেছেন।ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালে আইটি হেল্পডেস্কের প্রতিদিনের বুলেটিন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। গত ২৬ মে সৌদি আরবে হজ অনুষ্ঠিত হয়।পোর্টালে জানানো হয়, সর্বশেষ গত ১১ জুন বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রী সুলতানা রাজিয়া চৌধুরী (৬৭) মদিনায় মারা গেছেন। তার বাড়ি সিলেট সদরে।সৌদি আরবে মৃত্যুবরণ করা বাংলাদেশি হজযাত্রীদের মধ্যে ৩৩ জন পুরুষ ও ১৭ জন নারী। এদের মধ্যে মক্কায় ৩৫, মদিনায় ১৪ ও জেদ্দায় একজনের মৃত্যু হয়েছে।বুলেটিন অনুযায়ী, দেশে ফেরা ৫৪ হাজার ৩২৩ জন হাজির মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৩১৩ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫০ হাজার ১০ জন রয়েছেন।এসব হাজি দেশে ফেরাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৫৮টি, সৌদি এয়ারলাইন্স ৪৮টি এবং ফ্লাইনাস ২১টি ফিরতি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।হজ বুলেটিনে আরও জানানো হয়, সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানীয় হাসপাতালে মোট ৪১০ জন হাজি চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। বর্তমানে ১৮ জন হাজি বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।এবার বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালন করেছেন। এরমধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজ পালন করেন। হজযাত্রীদের সৌদি আরবগামী প্রথম ফ্লাইট ছিল ১৮ এপ্রিল এবং শেষ ফ্লাইট ২১ মে। অন্যদিকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয়েছে ৩০ মে, যা চলবে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত।
গরম বাড়লে শুধু অস্বস্তিই বাড়ে না, হৃদযন্ত্রকেও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কাজ করতে হয়। হৃদস্বাস্থ্য নিয়ে কথা বললে সাধারণত ব্যায়াম, কোলেস্টেরল বা ধূমপানের বিষয় সামনে আসে। কিন্তু আবহাওয়ার তাপমাত্রাও হৃদযন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, এ বিষয়টি অনেকেরই জানা নেই।শরীর সবসময় নিজের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে। গরমের সময় এ কাজটি আরো কঠিন হয়ে যায়। শরীরের অতিরিক্ত তাপ বের করে দিতে হৃদযন্ত্রকে ত্বকের দিকে বেশি রক্ত পাঠাতে হয়। একইসঙ্গে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে পানি ও প্রয়োজনীয় লবণ বেরিয়ে যায়। এই ঘাটতি পূরণ না হলে রক্তের পরিমাণ কমে যেতে পারে এবং তখন হৃদযন্ত্রকে আরো বেশি পরিশ্রম করতে হয়।ভারতের নয়ডার কৈলাশ হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এস. কে. আগারওয়ালের মতে, গরমের সময় শরীর থেকে বেশি পানি ও লবণ বের হয়ে যাওয়ায় হৃদযন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। এ সময় অনেকেই বেশি প্যাকেটজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার খান, যেগুলোতে সাধারণত সোডিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকে। তার মতে, পানিশূন্যতা, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ এবং খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন মিলিয়ে হৃদযন্ত্রকে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি কাজ করতে হয়।তবে ভালো খবর হলো, কিছু স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস মেনে চললে এসব ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।শুধু পানি খেলেই হবে না, শরীরকে রাখতে হবে আর্দ্রঅনেকেই তৃষ্ণা পেলে তবেই পানি পান করেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশেষ করে প্রচণ্ড গরমে তৃষ্ণা সবসময় শরীরের পানির চাহিদার সঠিক সংকেত দেয় না।যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, পানিশূন্যতা হৃদ্যন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাও কমিয়ে দেয়। তাই গরমের দিনে নিয়মিত পানি ও অন্যান্য তরল পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়।শরীরে পানির ঘাটতি হলে রক্তের পরিমাণ কমে যায়। ফলে শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছে দিতে হৃদ্যন্ত্রকে বেশি কাজ করতে হয়। এ কারণে তৃষ্ণা লাগার অপেক্ষা না করে সারাদিন অল্প অল্প করে পানি পান করা ভালো।তরমুজ, শসা, টমেটো, কমলা, বাঙ্গি ও স্ট্রবেরির মতো পানিসমৃদ্ধ ফল ও সবজিও শরীরকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এগুলো প্রয়োজনীয় পুষ্টিও জোগায়।মৌসুমি ফল ও সবজি হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারীগরমের মৌসুমে বাজারে নানা ধরনের ফল ও সবজি পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব খাবার শুধু সুস্বাদুই নয়, হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। তাজা ফল ও সবজিতে থাকা পটাশিয়াম, আঁশ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তনালি ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং শরীরের প্রদাহ কমায়। বিশেষ করে পটাশিয়াম শরীরে সোডিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ফল ও সবজি খাওয়ার অভ্যাস হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।ডা. আগারওয়ালের মতে, বেরি, পিচ, বিভিন্ন ধরনের তরমুজ, শাকসবজি, বেল পেপার ও টমেটোর মতো মৌসুমি খাবারে প্রচুর ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা হৃদস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।প্রোটিনের উৎসও গুরুত্বপূর্ণপ্রোটিন খাওয়া জরুরি, তবে সেটি কোন উৎস থেকে আসছে, তা আরো গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রক্রিয়াজাত মাংস ও চর্বিযুক্ত লাল মাংসে বেশি স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও সোডিয়াম থাকে। অন্যদিকে মাছ, ডাল, ছোলা, শিম, টোফু ও কম চর্বিযুক্ত দুধজাত খাবার হৃদস্বাস্থ্যের জন্য তুলনামূলক ভালো।প্রোটিন শক্তি জোগানো ও পেশি ঠিক রাখতে সাহায্য করলেও হৃদস্বাস্থ্যের জন্য স্বাস্থ্যকর উৎস থেকে প্রোটিন নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে চামড়াবিহীন মুরগির মাংস, মাছ, ডাল ও কম চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার ভালো বিকল্প হতে পারে।অতিরিক্ত লবণ এড়িয়ে চলুনগরমের দিনে অনেকেই চিপস, ফাস্টফুড বা প্যাকেটজাত খাবার খেতে পছন্দ করেন। কিন্তু এসব খাবারে সাধারণত সোডিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ রক্তচাপ বাড়াতে পারে। আর উচ্চ রক্তচাপ হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের বড় ঝুঁকিগুলোর একটি। গরমের সময় মানুষ সহজে পাওয়া যায় এমন খাবারের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ে। কিন্তু এসব খাবারে অনেক সময় অতিরিক্ত লবণ ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি থাকে, যা হৃদস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।সব চর্বি ক্ষতিকর নয়একসময় মনে করা হতো সব ধরনের চর্বিই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তবে এখন গবেষণা বলছে, চর্বির ধরনটাই আসল বিষয়।অলিভ অয়েল, অ্যাভোকাডো, বাদাম ও বিভিন্ন বীজে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। অন্যদিকে ট্রান্স ফ্যাট ও অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট ধমনিতে চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।মিষ্টি খাবার খেতে পারেন, তবে পরিমিতআইসক্রিম, ঠান্ডা পানীয় বা স্মুদি গরমের দিনের জনপ্রিয় খাবার। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এগুলো পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই, শুধু পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ এসব খাবারে অনেক সময় অতিরিক্ত চিনি ও ক্যালরি থাকে। বিকল্প হিসেবে তাজা ফলের সরবত, ফ্রোজেন ইয়োগার্ট বা ফলের স্মুদি বেছে নেওয়া যেতে পারে।সহজ খাবারই হতে পারে সবচেয়ে ভালোগরমের কারণে অনেকেই দীর্ঘ সময় রান্নাঘরে থাকতে চান না। এতে অনেক সময় অস্বাস্থ্যকর খাবারের দিকে ঝোঁক বাড়ে। এ সময় কম রান্নার বা সহজে তৈরি করা যায় এমন স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়া ভালো। যেমন—ডাল বা কুইনোয়া দিয়ে সালাদ, ঠান্ডা স্যুপ কিংবা হালকা গ্রিল করা মাছ ও সবজি।এ মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি পান, মৌসুমি ফল ও সবজি খাওয়া, স্বাস্থ্যকর প্রোটিন ও ভালো চর্বি বেছে নেওয়া এবং লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্যাভ্যাসে ছোট ছোট ইতিবাচক পরিবর্তনই দীর্ঘমেয়াদে বড় উপকার এনে দিতে পারে। এসব অভ্যাস মেনে চললে গরমের সময়ও হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখা সম্ভব।সূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া
২০৫০ সালের মধ্যে চরম তাপমাত্রার ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের শীর্ষ ৬টি দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।সোমবার ২৬ জানুয়ারি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাতে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার সাসটেইনেবিলিটি’-তে এই গবেষণাটি প্রকাশ হয়।ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার অব্যাহত থাকলে আগামী ২৫ বছরের মধ্যে চরম তাপপ্রবাহে আক্রান্ত বৈশ্বিক জনসংখ্যার হার প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। শিল্প-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় যদি বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়, তবে চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ বিশ্বের ৪১ শতাংশ মানুষ (প্রায় ৩৭৯ কোটি) অসহনীয় তাপমাত্রার মধ্যে বসবাস করবে। ২০১০ সালে এই পরিস্থিতির শিকার জনগোষ্ঠীর হার ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ (১৫৪ কোটি)।