সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে করা সার্বিক কাজের (কর্মকাণ্ডের) বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করা হয়েছে। ওই সরকারের সময় গৃহীত সিদ্ধান্তের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে আইন প্রণয়ন, সংস্কার কমিশন ও দেশি-বিদেশি চুক্তির বৈধতাও চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে রিটে। রিটে এসব বিষয়ে কমিশন গঠন করে ইনকোয়ারি (অনুসন্ধান) করার আর্জি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখার আর্জি জানানো হয়েছে। জনস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মুহাম্মদ মুহসিন রশীদ রবিবার (৩ মে) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিটটি করেন। রিটে ক্যাবিনেট সচিব ও আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। সোমবার (৪ মে) রিটের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিনিয়র আইনজীবী মুহাম্মদ মুহসিন রশীদ নিজে। এ সংক্রান্তি বিষয়ে আজ দুপুর একটায় ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানানো হবে বলেও জানিয়েছেন আইনজীবী। এর আগে শপথ ও এই সরকারের গঠন প্রক্রিয়াকে বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের এ আইনজীবী। ওই রিট আবেদন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ খারিজ করে দিয়েছিলেন। এরপর তিনি ওই খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন করেছিলেন। ২০২৪ সালের ৪ ডিসেম্বর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ ও এই সরকারের গঠন প্রক্রিয়াকে বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে হাইকোর্টের এ সংক্রান্তি রায়ের বিরুদ্ধে রিটকারীর লিভ টু আপিলটি পর্যবেক্ষণসহ খারিজ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ ও নিয়মিত আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এর পর আবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যক্রম চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগে নেতৃত্বাধীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ওই বছরের ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙে দেন। একই সঙ্গে ৮ আগস্ট ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। এ সরকার গঠন ও উপদেষ্টাদের শপথের আগে রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের কাছে মতামত চেয়ে রেফারেন্স পাঠান। রাষ্ট্রপতির বিশেষ রেফারেন্স অনুযায়ী তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বিভাগ ওই বছরের ৮ আগস্ট মতামত দেন। সর্বোচ্চ আদালতের মতামতে বলা হয়, রাষ্ট্রের সাংবিধানিক শূন্যতা পূরণে জরুরি প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের নির্বাহী কার্য পরিচালনার জন্য অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা ও অন্য উপদেষ্টাদের নিয়োগ দিতে পারবেন এবং তাদের শপথ পাঠ করাতে পারবেন।
যুক্তরাষ্ট্রে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। সোমবার সকাল ৮টা ৪৭ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মরদেহ বহনকারী বিমান ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ওয়াশিংটনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, শনিবার (যুক্তরাষ্ট্র সময়) রাত ৮টা ৫০ মিনিটে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এমিরেটসের একটি উড়োজাহাজে লিমনের মরদেহ ঢাকার উদ্দেশে পাঠানো হয়। এর আগে, গত বৃহস্পতিবার ফ্লোরিডার টাম্পা বে এলাকায় একটি ইসলামিক সোসাইটিতে লিমনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা অংশ নেন। জানা গেছে, ২৭ বছর বয়সি লিমন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। গত ১৬ এপ্রিল তিনি নিখোঁজ হন। একই সময়ে নিখোঁজ হন নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি (২৭)। তাদের এক বন্ধু বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে ঘটনাটি সামনে আসে। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে লিমনের রুমমেট মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুঘরবেহকে তার পারিবারিক বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের পর ২৪ এপ্রিল ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকার কাছ থেকে আবর্জনার ব্যাগের ভেতর লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, মরদেহে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল এবং উদ্ধারকালে দেহে কোনো পোশাক ছিল না। এ ঘটনায় আবুঘরবেহর বিরুদ্ধে ফার্স্ট ডিগ্রি হত্যার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে তার কাছ থেকে একটি অস্ত্র উদ্ধারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে ব্যাপক শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। সোমবার সকাল ৮টা ৪৭ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মরদেহ বহনকারী বিমান ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ওয়াশিংটনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, শনিবার (যুক্তরাষ্ট্র সময়) রাত ৮টা ৫০ মিনিটে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এমিরেটসের একটি উড়োজাহাজে লিমনের মরদেহ ঢাকার উদ্দেশে পাঠানো হয়। এর আগে, গত বৃহস্পতিবার ফ্লোরিডার টাম্পা বে এলাকায় একটি ইসলামিক সোসাইটিতে লিমনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা অংশ নেন। জানা গেছে, ২৭ বছর বয়সি লিমন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। গত ১৬ এপ্রিল তিনি নিখোঁজ হন। একই সময়ে নিখোঁজ হন নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি (২৭)। তাদের এক বন্ধু বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে ঘটনাটি সামনে আসে। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে লিমনের রুমমেট মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুঘরবেহকে তার পারিবারিক বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের পর ২৪ এপ্রিল ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকার কাছ থেকে আবর্জনার ব্যাগের ভেতর লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, মরদেহে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল এবং উদ্ধারকালে দেহে কোনো পোশাক ছিল না। এ ঘটনায় আবুঘরবেহর বিরুদ্ধে ফার্স্ট ডিগ্রি হত্যার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে তার কাছ থেকে একটি অস্ত্র উদ্ধারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে ব্যাপক শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান জানিয়েছেন, আইনি প্রক্রিয়ায় হয়রানি না করার নিশ্চয়তা পেলে তিনি দ্রুতই দেশে ফিরতে প্রস্তুত। সম্প্রতি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমি আইনের মুখোমুখি হতে চাই, কিন্তু আমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ কোনো প্রটোকল চাই না, শুধু সাধারণ নাগরিক হিসেবে আইনি প্রক্রিয়ার সময় হয়রানি না করার নিশ্চয়তা চাই। এই নিশ্চয়তা কাল দেওয়া হলে আমি পরশুই দেশে ফিরব। রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন এই অলরাউন্ডার। তিনি জানান, ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষে পুরোপুরি রাজনীতিতে সময় দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। দল পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, আমার পল্টি দেওয়ার অভ্যাস নেই। ছোট দলেও খেলেছি, সেখানেও অনুগত ছিলাম। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করে তিনি বলেন, কোনো দলকে দীর্ঘ সময় নিষিদ্ধ করে রাখা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থি। তার মতে, জোর করে দমন করে রাখলে দেশের বা রাজনীতির উন্নতি হয় না। রাজনীতিতে প্রতিহিংসার সংস্কৃতি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে সাকিব বলেন, একই ভুলের পুনরাবৃত্তি হলে এই চক্র চলতেই থাকবে। কাউকে না কাউকে এই ধারা শেষ করতে হবে।
তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের প্রাথমিক ভোট গণনার শুরুতেই চমক দেখাচ্ছেন অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ বিজয়। সোমবার (৪ মে) স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে ভোট গণনা শুরু হয়। সবশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তামিলনাড়ুতে তামিলরা ভেত্রি কাঝাগম (টিভিকে) এগিয়ে থেকে দ্রাবিড় মুন্নেত্র কা ঝা গমকে (ডিএমকে) পিছনে ফেলেছে। এবারের নির্বাচনে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ক্ষমতাসীন ডিএমকে, বিজেপি জোট (এআইএডিএমকে) ও টিভিকে মুখোমুখি লড়াই করছে। বিজয় পেরাম্বুর আসনে এগিয়ে থাকলেও তিরুচিরাপল্লী ইস্ট আসনে এখনও পিছিয়ে। বিভিন্ন কেন্দ্রে দেখা যাচ্ছে টিভিকে এআইএডিএমকে তৃতীয় স্থানে ঠেলে দিয়েছে, যদিও এখন পর্যন্ত অনেক জায়গায় ডিএমকে এগিয়ে রয়েছে। তামিলনাড়ুতে চলচ্চিত্র জগতের তারকাদের রাজনীতিতে প্রবেশের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বিজয়ের উত্থানে নতুন করে আলোচনায় এসেছে এম জি আর ফ্যাক্টর। তিনি এই অবস্থান ধরে রাখতে পারলে এম জি রামাচন্দ্র এবং জে জয়ললিতার পর তৃতীয় বড়ো অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ হিসেবে রাজ্যে গভীর প্রভাব ফেলতে পারেন।
দেশে বর্তমানে ১ কোটি ২০ লাখের বেশি টিন বা টিআইএনধারী আছেন। তাদের মধ্যে এ বছর সাড়ে ৪২ লাখ টিআইএনধারী রিটার্ন দিয়েছেন। কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বা টিন সার্টিফিকেট ছাড়া অনেক কাজ করা সম্ভব না। তাই টিআইএন নেওয়া জরুরি। অনেকে কেবল সেবা নেওয়ার জন্য টিআইএন নিতে বাধ্য হন। তবে অনেক বছর শেষে রিটার্নও দেন না। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ওয়েবসাইটে গিয়ে টিআইএন নেওয়া যায়।টিএন সার্টিফিকেট কীটিন সার্টিফিকেট বা ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) হলো : একটি ইউনিক নম্বর, যা বাংলাদেশে করদাতাদের শনাক্তকরণের জন্য ব্যবহৃত হয়।এটি করদাতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় হিসাবে কাজ করে এবং আয়কর সংক্রান্তি বিভিন্ন কার্যক্রমে অপরিহার্য ভূমিকা রাখে। এর মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) করদাতার আয়, কর পরিশোধ ও আর্থিক তথ্য সহজে বিশ্লেষণ করতে পারে। টিআইএন বা টিন সার্টিফিকেট ছাড়া বিভিন্ন কাজ বা সেবা নেওয়া যাবে না। প্রায় ৪০ ধরনের কাজে টিআইএন প্রয়োজন।এর মধ্যে অন্যতম হলো-সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন ১৬ হাজার টাকার বেশি হলে এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক ও তদারকি পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী।সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা কর্তৃপক্ষের কাছ ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া বা পুনর্নিবন্ধন নিতে হলে টিআইএন লাগবে।সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা নির্দিষ্ট এলাকায় জমি বা ফ্ল্যাটের মালিক হলে টিআইএন থাকতে হবে। কারণ, টিআইএন ছাড়া এসব সম্পদ নিবন্ধন নেওয়া যাবে না।গাড়ির মালিকদের টিআইএন লাগবে।টিআইএন ছাড়া গাড়ির নিবন্ধন, ফিটনেস নবায়ন- এসব হবে না।ডাক্তার, আইনজীবী, প্রকৌশলী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট বা এনবিআরের নিবন্ধনভুক্ত যে-কোনো পেশাজীবীর সনদ নিতে টিআইএন লাগবে।যারা ঋণপত্র (এলসি) খোলেন বা ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট, তাদের টিআইএন লাগবে।সরকারি বা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে দরপত্র জমা দিতে টিআইএন লাগে।টিআইএন ছাড়া ক্রেডিট কার্ড নেওয়া যাবে না। ক্রেডিট কার্ডধারীদের টিআইএন থাকতে হবে।ঢাকা ক্লাব, গুলশান ক্লাব, উত্তরা ক্লাবের মতো অভিজাত ক্লাবের সদস্য হতেও টিআইএন দরকার হবে। আবার ছেলেমেয়েদের ইংরেজি মাধ্যমে পড়াতে চাইলে অভিভাবকের টিআইএন লাগবে।ছোট-বড়ো ব্যাবসা করতে টিআইএন লাগবে। যেমন : মুঠোফোনের রিচার্জের ব্যাবসা, মোবাইল ব্যাংকিং, পরিবেশক, এজেন্সি, বিভিন্ন ধরনের পরামর্শক, কেটারিং, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, জনবল সরবরাহ, সিকিউরিটি সার্ভিস।বেশ কিছু সেবা নিতে আপনার টিআইএন লাগবে। যেমন : ঋণপত্র স্থাপন, রপ্তানি নিবন্ধন সনদ নেওয়া, বিমা জরিপ প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, হিসাববিদসহ বিভিন্ন ধরনের পেশাজীবী সংগঠনের সদস্য, কোম্পানির পরিচালক ও স্পনসর, শেয়ারহোল্ডার, বিবাহ নিবন্ধনকারী বা কাজি, ড্রাগ লাইসেন্সধারী।ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে পাঁচ লাখ টাকার বেশি ঋণ নিলেও টিআইএন থাকতে হবে।জাতীয় সংসদ, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে টিআইএন থাকতে হবে।
৪ ঘন্টা আগে
তাওয়াফ শব্দের অর্থ হলো কোনো কিছুকে কেন্দ্র করে প্রদক্ষিণ করা। ইসলামি শরিয়তে তাওয়াফ বলতে পবিত্র কাবাঘরকে নির্দিষ্ট নিয়মে সাতবার প্রদক্ষিণ করাকে বোঝানো হয়। হজ ও ওমরা উভয় ইবাদতেই তাওয়াফ একটি অপরিহার্য অনুষঙ্গ হলেও এদের প্রকারভেদ, ধর্মীয় মর্যাদা এবং পালনের পদ্ধতিতে বেশ কিছু মৌলিক ও সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে। হানাফি ফিকহের প্রামাণ্য গ্রন্থসমূহের আলোকে বিষয়টি নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।তাওয়াফের কোরআনি ভিত্তিআল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন- وَلْيَطَّوَّفُوا بِالْبَيْتِ الْعَتِيقِ ‘তারা যেন প্রাচীন ঘর (কাবা) তাওয়াফ করে।’ (সুরা, হজ : ২৯)। এই আয়াতের ভিত্তিতেই তাওয়াফে জিয়ারাহ হজের অন্যতম ফরজ রুকন হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। (বাদায়েউস সানায়ে, কিতাবুল হজ)।তাওয়াফের পর দুই রাকাত নামাজ আদায়ের বিষয়ে কোরআনে নির্দেশ এসেছে- وَاتَّخِذُوا مِن مَّقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى ‘মকামে ইবরাহিমকে নামাজের স্থান হিসেবে গ্রহণ করো।’ (সুরা বাকারা : ১২৫)।এই আয়াতের নির্দেশনা ও হাদিস এবং ফিকহি ব্যাখ্যার ভিত্তিতে হানাফি মাজহাবে তাওয়াফ-পরবর্তী দুই রাকাত নামাজ ওয়াজিব বলা হয়েছে- হজ ও ওমরা উভয় ক্ষেত্রেই।১. সংখ্যা ও প্রকারভেদে পার্থক্য।হজ ও ওমরার মধ্যে সবচেয়ে বড়ো পার্থক্য হলো তাওয়াফের সংখ্যায়।ওমরা : ওমরায় একটি তাওয়াফ রয়েছে, যাকে তাওয়াফে ওমরা বলা হয়। এটি ওমরার ফরজ রুকন। এটি ছাড়া ওমরা পূর্ণ হয় না। হজ : হানাফি মাজহাব অনুযায়ী হজে তিন ধরনের তাওয়াফ রয়েছে-তাওয়াফে কুদুম : মক্কায় পৌঁছার পর প্রাথমিক অভিবাদনমূলক তাওয়াফ (সুন্নত)।তাওয়াফে জিয়ারাহ (তাওয়াফে ইফাদা) : হজের মূল ফরজ রুকন; এটি ছাড়া হজ পূর্ণ হয় না।তাওয়াফে বিদা : মক্কা ত্যাগের আগে বিদায়ি তাওয়াফ (ওয়াজিব)।২. সময়গত পার্থক্যহজের তাওয়াফ : তাওয়াফে জিয়ারাহ জিলহজ মাসের ১০ তারিখ সুবহে সাদিক থেকে ১২ তারিখ সূর্যাস্তের মধ্যে আদায় করা ওয়াজিব। নির্ধারিত সময়ের পর আদায় করলে হানাফিমতে দন ওয়াজিব হয়। ওমরার তাওয়াফ : ওমরার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই; বছরের যে-কোনো সময় তা আদায় করা যায়। তবে হজের নির্ধারিত দিনগুলোতে (৯–১৩ জিলহজ) ওমরা করা হানাফিমতে মাকরুহে তাহরিমি।৩. রামাল ও ইজতিবার বিধান।হানাফি ফিকহের মূলনীতি হলো- যে তাওয়াফের পর সাঈ করা হয়, কেবল সেই তাওয়াফেই রামাল (প্রথম তিন চক্করে দ্রুত হাঁটা) ও ইজতিবা (ডান কাঁধ খোলা রাখা) সুন্নত।ওমরা : যেহেতু ওমরার তাওয়াফের পর সাঈ করা হয়, তাই এতে রামাল ও ইজতিবা সুন্নত।হজ : হজে অবস্থাভেদে বিধান পরিবর্তিত হয়, -কেউ যদি তাওয়াফে কুদুমের সাথে সাঈ করে ফেলেন, তবে সেখানে রামাল ও ইজতিবা করবেন।আর সাঈ পিছিয়ে দিলে তাওয়াফে জিয়ারা হতে করবেন। তাওয়াফে বিদায়ে কোনো রামাল বা ইজতিবা নেই। (রদ্দুল মুহতার : ২/৪৯৬)।৪. সাঈ ও তাওয়াফের সম্পর্কওমরায় তাওয়াফের পরপরই সাঈ করা ওয়াজিব; এটি ছাড়া ওমরা পূর্ণ হয় না। হজে তাওয়াফে জিয়ারাহ ও সাইর মাঝে সময়ের ব্যবধান থাকতে পারে। তবে তাওয়াফে বিদার পর কোনো সাঈ নেই।৫. বিদায়ি তাওয়াফের বিধানহজের ক্ষেত্রে তাওয়াফে বিদা একটি স্বতন্ত্র ওয়াজিব ইবাদত। এটি না করলে দম ওয়াজিব হয়। নবি কারিম (সে.) ইরশাদ করেন- ‘কেউ যেন বায়তুল্লাহকে শেষ সাক্ষাৎ না করে চলে না যায়।’ (সহিহ মুসলিম : ১৩২৭)।ওমরায় আলাদা কোনো বিদায়ি তাওয়াফ নেই।
অনেকেরই টমেটো খেলে বুক জ্বালা, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দেখা দেয়। মূলত টমেটোর কারণে অ্যাসিড রিফ্ল্যাক্সের সমস্যায় ভোগেন তারা।‘নিউট্রিয়েন্টস’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুযায়ী, টমেটো এবং টমেটো দিয়ে তৈরি খাবার খেলে ‘অ্যাসিড রিফ্লাক্স’ বা গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (GERD)-এর সমস্যা বাড়ে। টমেটো খেলে কেন অ্যাসিডিটির সমস্যা বাড়ে?টমেটোতে রয়েছে উচ্চমাত্রায় ম্যালিক অ্যাসিড এবং সাইট্রিক অ্যাসিড। এই অ্যাসিডগুলো পাকস্থলীতে গিয়ে আরও বেশি গ্যাসট্রিক অ্যাসিড নিঃসরণে উদ্বুদ্ধ করে। টমেটোতে অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি। এটি খাদ্যনালি ও পাকস্থলীর মাঝখানের কপাটিকা বা পেশি (LES)-কে শিথিল করে দেয়। এর জেরে পাকস্থলীর অ্যাসিড ওপরের দিকে উঠে আসে। তাই টমেটোর খেলেই বুক জ্বালা, গলায় অ্যাসিড উঠে আসার মতো সমস্যা দেখা দেয়। কাঁচা টমেটো তুলনায় বেশি স্বাস্থ্যকর। রান্না করা বা টমেটো, কেচাপ, পিউরি, সস ইত্যাদি বেশি শরীরের ক্ষতি করে। প্রসেসিংয়ের সময় টমেটোতে অ্যাসিডের ঘনত্ব বেড়ে যায়। আর রান্নার সময় টমেটোর সঙ্গে আরও উপাদান মিশিয়ে অ্যাসিডের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। এজন্য টমেটো সস বা টমেটো সুপ্ খেলে গ্যাস-অম্বলের সমস্যা বেশি হয়।অ্যাসিডিটির সমস্যা এড়িয়ে টমেটো খাবেন কীভাবে?টমেটোর মধ্যে আছে লাইকোপেন নামের শক্তিশালী অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে। এটি ফ্রি র্যাডিকেলের সঙ্গে লড়াই করে, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায় এবং কোষকে ক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করে। ত্বক এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নত করে টমেটো। এটি ক্যানসার, প্রদাহের মতো রোগের ঝুঁকিও কমায়। তাই টমেটো খাওয়া বাদ দেওয়া যাবে না। বদলাতে হবে খাওয়ার ধরন। রান্নায় অল্প পরিমাণ টমেটো ব্যবহার করুন। ব্যবহারের আগে টমেটোর বীজ ফেলে দিন। টমেটোর সঙ্গে শসা, শাকসবজি, আলু-গাজরের মতো সবজি খান। এগুলো অ্যাসিডের পরিমাণকে ব্যালান্স করে দেয়। রাতে বা ঘুমোতে যাওয়ার আগে টমেটো খাবেন না। এরপরও যদি এই সবজি খেলে সমস্যা হয় তাহলে তা এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।
২০৫০ সালের মধ্যে চরম তাপমাত্রার ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের শীর্ষ ৬টি দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।সোমবার ২৬ জানুয়ারি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাতে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার সাসটেইনেবিলিটি’-তে এই গবেষণাটি প্রকাশ হয়।ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার অব্যাহত থাকলে আগামী ২৫ বছরের মধ্যে চরম তাপপ্রবাহে আক্রান্ত বৈশ্বিক জনসংখ্যার হার প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। শিল্প-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় যদি বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়, তবে চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ বিশ্বের ৪১ শতাংশ মানুষ (প্রায় ৩৭৯ কোটি) অসহনীয় তাপমাত্রার মধ্যে বসবাস করবে। ২০১০ সালে এই পরিস্থিতির শিকার জনগোষ্ঠীর হার ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ (১৫৪ কোটি)।