চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ও পলাতক থাকা ৫৭ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।বরখাস্ত হওয়া তিন কর্মকর্তা হলেন—৩৩তম বিসিএস ব্যাচের মিশু বিশ্বাস, জুয়েল চাকমা এবং ৩৬তম বিসিএস ব্যাচের মাহমুদুল হাসান।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (শৃঙ্খলা) কাজী সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে পুলিশের অন্তত ৮২ জন ক্যাডার কর্মকর্তা পলাতক আছেন। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে বরখাস্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৫৭ জনের একটি তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে আজ তিনজনকে বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। বাকিদেরও পর্যায়ক্রমে বরখাস্ত করা হবে।’সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বরখাস্তের তালিকায় থাকা অন্য কর্মকর্তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক ডিআইজি নূরে আলম মিনা, সাবেক ডিআইজি মো. আনিসুর রহমান, ডিআইজি এ কে এম এহসানউল্লাহ, ডিআইজি বিপ্লব বিজয় তালুকদার এবং ডিআইজি টুটুল চক্রবর্তী।তালিকায় আরও আছেন—সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার এস এম মেহেদী হাসান, রিফাত রহমান শামীম, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, সঞ্জিত কুমার রায়, সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার কাজী আশরাফুল আজীম, মো. ইকবাল হোসাইন, মো. নাজমুল ইসলাম, মানস কুমার পোদ্দার, কাজী মনিরুজ্জামান, মো. শাহ নূর আলম পাটওয়ারী ও এটিইউর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন।এ ছাড়া পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্যে তালিকায় রয়েছেন—মো. আলী আশরাফ ভূঞা, জেসমিন কেকা, মো. আবু মারুফ হোসেন, আয়েশা সিদ্দিকা, মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন, মো. রহমত উল্লাহ চৌধুরী, মো. তারেক বিন রশিদ, মো. আসাদুজ্জামান, আরিফুর রহমান মন্ডল, মোহাম্মদ জায়েদুল আলম, মো. শাহজাহান, গোলাম মোস্তফা রাসেল, হাসান আরাফাত, রাজীব দাস, হাসানুজ্জামান মোল্যা, মো. হাফিজ আল ফারুক, রুবাইয়াত জামান, এস এম জাহাঙ্গীর হাছান, রাজন কুমার দাস, মো. মাসুদুর রহমান মনির, মোৎ. রাশেদুল ইসলাম, তোহিদুল ইসলাম, মো. রওশানুল হক সৈকত ও এস এম শামীম।সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী কমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্যে বরখাস্তের তালিকায় আছেন—মো. হাবিবুল্লাহ দালাল, মো. আরিফুজ্জামান, মো. আল ইমরান হোসেন, মোহাম্মদ ইমরুল, শাহ আলম মো. আখতারুজ্জামান ইসলাম, ইফতেখারুল ইসলাম, পলাশ রঞ্জন দে, মফিজুর রহমান পলাশ, মো. গোলাম রুহানী ও নাহিদ ফেরদৌস। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় রয়েছেন।
একযোগে ১৭২ জন উপসচিবকে যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের পর প্রশাসনে এটিই সবচেয়ে বড় পদোন্নতির ঘটনাবৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। তবে, নতুন যুগ্ম-সচিবদের পদায়ন করে আদেশ জারি করা হয়নি।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তাদের যোগদানপত্র সরাসরি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর বা অনলাইনে ই-মেইলে (sa1@mopa.gov.bd) পাঠাতে পারবেন।পদোন্নতির আদেশে উল্লেখিত কর্মস্থল থেকে কোনো কর্মকর্তার দপ্তর/কর্মস্থল ইতোমধ্যে পরিবর্তন হলে কর্মরত দপ্তরের নাম ঠিকানা উল্লেখ করে যোগদানপত্র দাখিল করবেন।পরবর্তী সময়ে কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনরকম বিরূপ বা ভিন্নরূপ তথ্য পাওয়া গেলে, তার ক্ষেত্রে এই আদেশের প্রয়োজনীয় সংশোধন বা বাতিল করার অধিকার কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।বর্তমানে প্রশাসনে যুগ্ম-সচিবের সংখ্যা হলো এক হাজার ৬১ জন। এ পদোন্নতির মূল বিবেচ্য ছিল বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) প্রশাসন ক্যাডারের ২৪তম ব্যাচ। এছাড়া, ইতোপূর্বে বঞ্চিত বিভিন্ন ব্যাচের কর্মকর্তারাও পদোন্নতির তালিকায় রয়েছেন।‘সরকারের উপসচিব, যুগ্মসচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিব পদে পদোন্নতি বিধিমালা, ২০০২’-এ বলা হয়েছে, যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে ৭০ শতাংশ প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ও ৩০ শতাংশ অন্যান্য ক্যাডারের উপসচিব পদে কর্মরতদের বিবেচনায় নিতে হবে।বিধিমালা অনুযায়ী, উপসচিব পদে কমপক্ষে ৫ বছর চাকরিসহ সংশ্লিষ্ট ক্যাডারের সদস্য হিসেবে কমপক্ষে ১৫ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা বা উপ-সচিব পদে কমপক্ষে ৩ বছর চাকরিসহ ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকলে কোনো কর্মকর্তা যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্য (এমপি) হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন সরোয়ার আলমগীর। অনুষ্ঠানে তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় জাতীয় সংসদের স্পিকারের কার্যালয়ে এ শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের তৃতীয় তফসিল এবং জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি-৫ এর আলোকে এই শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়। শপথ গ্রহণ শেষে নতুন সংসদ সদস্য প্রচলিত রীতি অনুযায়ী সংসদ সচিবের কক্ষে রক্ষিত শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন।শপথ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ ও অন্যান্য হুইপরা। এছাড়া, বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য এবং সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত থেকে নবনির্বাচিত এমপিকে অভিনন্দন জানান।এর আগে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরকে চট্টগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ঘোষণা করে গেজেট জারি করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একইদিন দুপুরে সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দেওয়া সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।রায়ের পর সারোয়ার আলমগীরের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম বলেন, সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল করে ইসি যে আদেশ দিয়েছিল, তা অবৈধ এবং তার প্রার্থিতা বৈধ ছিল বলে হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন। ফলে তার ফলাফলের গেজেট প্রকাশ ও শপথ নিতে আইনগত বাধা নেই।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় গত ১২ ফেব্রুয়ারি। নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর অংশ নেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে লড়তে সারোয়ার আলমগীরের দাখিল করা মনোনয়নপত্র গত ২ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তা গ্রহণ করেন। এ নিয়ে ইসিতে আপিল করেন একই আসনের জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে তিনি এই আপিল করেন। আপিল মঞ্জুর করে সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র গ্রহণের রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত বাতিল করে গত ১৮ জানুয়ারি রায় দেয় নির্বাচন কমিশন। অর্থাৎ, নির্বাচন কমিশনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল হয়।এ নিয়ে নির্বাচনের আগে প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট করেন সারোয়ার আলমগীর। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুল দিয়ে সারোয়ার আলমগীরকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি দিতে ও ‘ধানের শীষ’ প্রতীক বরাদ্দ দিতে নির্দেশ দেন।তবে, হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন একই আসনের জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে গত ৩ ফেব্রুয়ারি আদেশ দেন আপিল বিভাগ। আদেশে বলা হয়, যদি তিনি (সারোয়ার আলমগীর) নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে সফল হন, তবে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ (যতটুকু প্রার্থী হিসেবে তার জন্য প্রযোজ্য) এ-সংক্রান্ত আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।লিভ টু আপিল মঞ্জুরের পর গত ৩১ মার্চ নিয়মিত আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী। এই আপিলের ওপর শুনানি শেষে গত ১৬ জুন আদেশ দেন আপিল বিভাগ। আপিল নিষ্পত্তি করে দেওয়া আদেশে আপিল বিভাগ দ্রুত, সম্ভাব্য দুই সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্টে রুল নিষ্পত্তি করতে বলেন। রুল নিষ্পত্তি হওয়া পর্যন্ত গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের দেওয়া আদেশ চলমান থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়। অর্থাৎ, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে ফলাফল প্রকাশ (যতটুকু প্রার্থী হিসেবে তাঁর জন্য প্রযোজ্য) স্থগিত থাকবে।আপিল বিভাগের আদেশের পর রিটটি চূড়ান্ত শুনানির জন্য হাইকোর্টের কার্যতালিকায় ওঠে গত ২১ জুন। সেদিন আদালত রুল শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। এর ধারাবাহিকতায় ২ জুলাই শুনানি শেষে আজ রুল অ্যাবসলিউট (যথাযথ) ঘোষণা করে রায় দেন আদালত।আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম, এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, আইনজীবী নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম শুনানিতে অংশ নেন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন।জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী ও আবদুল্লাহ সাদিক। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. রাজু মিয়া।
৩৯ বছরে পা দিয়েও ফুটবলে জাদু দেখাচ্ছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। তার দুর্দান্ত খেলায় একপ্রকার উড়ে যাচ্ছে প্রতিপক্ষরা। সেইসঙ্গে এবারের ফুটবল বিশ্বকাপে একের পর এক রেকর্ড গড়ছেন এই মহাতারকা। এবার ফুটবলের রাজপুত্রকে আরও দুই রেকর্ডের স্বীকৃতি দিল গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস।বুধবার (৮ জুলাই) নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে পোস্ট করে সেই কৃতিত্বের কথা জানিয়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ নিজেদের সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে জানিয়েছে, বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোলে সরাসরি অবদান রাখা ফুটবলার মেসি। গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে এ মুহূর্তে সর্বোচ্চের তালিকায় শীর্ষে মেসি।এ ছাড়াও বিশ্বকাপে টানা সর্বোচ্চ ম্যাচে গোল করা খেলোয়াড়ও তিনি। অর্থাৎ এই দুই নতুন কৃতিত্ব মেসির নামের সাথে জুড়ে দিল গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস। গিনেস কর্তৃপক্ষের তরফে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত মোট ২১ গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন মেসি, যা এক টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে একটানা ৯ বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করে আরেক বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন লিও।
প্রায় দুই দশকের দীর্ঘ বিরতির অবসান ঘটিয়ে আবারও মিশরের ঐতিহাসিক গিজার পিরামিডে সুরের জাদু ছড়াতে আসছেন লাতিন পপ সম্রাজ্ঞী শাকিরা। আগামী ২৮ নভেম্বর বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্যতম এই অনিন্দ্যসুন্দর ভেন্যুতে মঞ্চ মাতাবেন তিনি। সর্বশেষ ২০০৭ সালে এই একই স্থানে পারফর্ম করেছিলেন এই কলম্বিয়ান সুপারস্টার।আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, বিনোদন সংস্থা ‘ভেঞ্চার লাইফস্টাইল’-এর আয়োজনে এই মেগা কনসার্টটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর আগেও প্রতিষ্ঠানটি জেনিফার লোপেজ, জন লিজেন্ড, কেটি পেরি এবং ডেমি লোভাটোর মতো বিশ্বখ্যাত তারকাদের মধ্যপ্রাচ্যে নিয়ে এসে দারুণ সব কনসার্ট উপহার দিয়েছে।চলতি বছর শাকিরা তার নতুন অ্যালবাম ও বিশ্বব্যাপী তুমুল জনপ্রিয় ‘লাস মুজেরেস ইয়া নো লোরান’ ইরা বা অধ্যায় নিয়ে বিশ্ব ভ্রমণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সংগীতাঙ্গন কাঁপানো এই গায়িকা বিশ্বজুড়ে ৯৫ মিলিয়নেরও বেশি রেকর্ড বিক্রি করেছেন। তার ঝুলিতে রয়েছে একাধিক গ্র্যামি এবং লাতিন গ্র্যামি পুরস্কার। সম্প্রতি ফিফা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ট্র্যাক লিস্টে জায়গা করে নিয়েছে তার নতুন গান ‘দাই দাই’। মিশরে নিজের এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তন নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন খোদ শাকিরা। এক বিবৃতিতে ভক্তদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমি মিশরের গিজার পিরামিডে পারফর্ম করতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত। আমি আপনাদের সবাইকে ভালোবাসি।’ পপ-মিউজিকের এই রানীর আগমনকে কেন্দ্র করে এখনই মিশরের সাধারণ দর্শক এবং বিশ্বজুড়ে থাকা তার ভক্তদের মাঝে তুমুল উন্মাদনা ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
দেশের বাজারে সোনার দাম আরও এক দফা কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভ্যাটসহ স্বর্ণালঙ্কারের দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৩২৩ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। সোনার দাম কমার পাশাপাশি রুপার দামও কমিয়েছে সংগঠনটি।আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টা থেকে সোনার ও রুপার এই নতুন দাম কার্যকর করা হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানিয়েছে, আজ সকাল ৯টায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে এই নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালঙ্কারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা। গতকাল পর্যন্ত এর দাম ছিল ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা।২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা এখন থেকে বিক্রি হবে ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৪ টাকা।সোনার দামের সঙ্গে কমানো হয়েছে রুপার দামও। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৬০৭ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৮৫৮ টাকা।
১ দিন আগে
আনন্দ মানুষের স্বাভাবিক অনুভূতি। ইসলাম কখনোই মানুষের হাসি, খুশি বা বৈধ আনন্দ-উল্লাসকে নিরুৎসাহিত করেনি। বরং সেই আনন্দ যেন সীমালঙ্ঘন, গুনাহ বা অন্যের কষ্টের কারণ না হয়, সেদিকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছে। বিশ্বকাপ, বিয়ে কিংবা সামাজিক উৎসবকে কেন্দ্র করে আমরা অনেক সময় অজান্তেই এমন কিছু কাজ করে ফেলি, যা ইসলামের দৃষ্টিতে অনুচিত। একজন সচেতন মুসলমান হিসেবে আনন্দের মুহূর্তেও নিচের বিষয়গুলো থেকে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।১. সালাত ও আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফিল হওয়াআনন্দ-উল্লাস কখনোই আল্লাহর আনুগত্যকে ছাপিয়ে যেতে পারে না। কিন্তু খেলা দেখা, উৎসব বা অনুষ্ঠানের ব্যস্ততায় অনেকে সালাত বিলম্বিত করেন, এমনকি ছেড়েও দেন।মহান আল্লাহ বলেন, ‘শয়তান তো মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে চায় এবং তোমাদের আল্লাহর স্মরণ ও সালাত থেকে বিরত রাখতে চায়।’ (সুরা মায়েদা: ৯১)একজন মুমিনের আনন্দ কখনোই তার ইবাদতের পথে বাধা হতে পারে না।২. বাজি বা জুয়ার শর্তে আনন্দ করাবিশ্বকাপ বা বড় কোনো খেলাকে কেন্দ্র করে বন্ধুদের মধ্যে প্রায়ই শোনা যায়- ‘তোর দল জিতলে তুই খাওয়াবি, আর আমার দল জিতলে আমি।’ আলেমদের মতে, এ ধরনের পারস্পরিক শর্তযুক্ত বাজি জুয়ার (মাইসির/কিমার) অন্তর্ভুক্ত। কারণ এতে জয়-পরাজয়ের ওপর নির্ভর করে উভয় পক্ষের লাভ-লোকসানের শর্ত যুক্ত থাকে।মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদাররা! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, মূর্তি এবং ভাগ্য নির্ধারণের তীর- এসব শয়তানের অপবিত্র কাজ। অতএব, তোমরা এগুলো থেকে দূরে থাকো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।’ (সুরা মাযেদা: ৯০)৩. ট্রলিং, গালিগালাজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ আচরণখেলার উত্তেজনা বা বিজয়ের আনন্দে অনেকেই প্রতিপক্ষকে বিদ্রূপ করেন, গালিগালাজ করেন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন।রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘মুমিন ব্যক্তি গালিদাতা, অভিশাপকারী, অশ্লীলভাষী কিংবা কুরুচিপূর্ণ বাক্য ব্যবহারকারী নয়।’ (জামে তিরমিজি: ১৯৭৭)একজন মুসলমানের আনন্দ যেন কখনো অন্যের সম্মানহানির কারণ না হয়।৪. জনদুর্ভোগ সৃষ্টি ও অন্যের শান্তি নষ্ট করাউচ্চ শব্দে সাউন্ড সিস্টেম বাজানো, আতশবাজি ফোটানো, গভীর রাতে অপ্রয়োজনীয় হইচই করা কিংবা রাস্তা আটকে উল্লাস করা অন্য মানুষের কষ্টের কারণ হতে পারে।রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে।’ (সহিহ বুখারি: ১০; তিরমিজি: ২৬২৭)আলেমরা বলেন, এই হাদিসের আলোকে এমন সব কাজ থেকেও বিরত থাকা উচিত, যা অকারণে অন্যের ক্ষতি, ভয় বা দুর্ভোগের কারণ হয়।৫. অপচয় ও বিলাসিতায় সীমা ছাড়িয়ে যাওয়াআনন্দের উপলক্ষে অযথা অর্থ ব্যয়, খাবারের অপচয়, অতিরিক্ত সাজসজ্জা কিংবা অনেক ক্ষেত্রে আতশবাজিতে অর্থ নষ্ট করা ইসলামের মিতব্যয়িতার শিক্ষার পরিপন্থী।আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই।’ (সুরা ইসরা: ২৭)একই অর্থ অসহায় মানুষের উপকারে ব্যয় করলে তা অনেক বেশি কল্যাণকর হতে পারে।আনন্দ মানুষের স্বাভাবিক অনুভূতি। ইসলাম কখনোই মানুষের হাসি, খুশি বা বৈধ আনন্দ-উল্লাসকে নিরুৎসাহিত করেনি। বরং সেই আনন্দ যেন সীমালঙ্ঘন, গুনাহ বা অন্যের কষ্টের কারণ না হয়, সেদিকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছে। বিশ্বকাপ, বিয়ে কিংবা সামাজিক উৎসবকে কেন্দ্র করে আমরা অনেক সময় অজান্তেই এমন কিছু কাজ করে ফেলি, যা ইসলামের দৃষ্টিতে অনুচিত। একজন সচেতন মুসলমান হিসেবে আনন্দের মুহূর্তেও নিচের বিষয়গুলো থেকে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।১. সালাত ও আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফিল হওয়াআনন্দ-উল্লাস কখনোই আল্লাহর আনুগত্যকে ছাপিয়ে যেতে পারে না। কিন্তু খেলা দেখা, উৎসব বা অনুষ্ঠানের ব্যস্ততায় অনেকে সালাত বিলম্বিত করেন, এমনকি ছেড়েও দেন।মহান আল্লাহ বলেন, ‘শয়তান তো মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে চায় এবং তোমাদের আল্লাহর স্মরণ ও সালাত থেকে বিরত রাখতে চায়।’ (সুরা মায়েদা: ৯১)একজন মুমিনের আনন্দ কখনোই তার ইবাদতের পথে বাধা হতে পারে না।২. বাজি বা জুয়ার শর্তে আনন্দ করাবিশ্বকাপ বা বড় কোনো খেলাকে কেন্দ্র করে বন্ধুদের মধ্যে প্রায়ই শোনা যায়- ‘তোর দল জিতলে তুই খাওয়াবি, আর আমার দল জিতলে আমি।’ আলেমদের মতে, এ ধরনের পারস্পরিক শর্তযুক্ত বাজি জুয়ার (মাইসির/কিমার) অন্তর্ভুক্ত। কারণ এতে জয়-পরাজয়ের ওপর নির্ভর করে উভয় পক্ষের লাভ-লোকসানের শর্ত যুক্ত থাকে।মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদাররা! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, মূর্তি এবং ভাগ্য নির্ধারণের তীর- এসব শয়তানের অপবিত্র কাজ। অতএব, তোমরা এগুলো থেকে দূরে থাকো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।’ (সুরা মাযেদা: ৯০)৩. ট্রলিং, গালিগালাজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ আচরণখেলার উত্তেজনা বা বিজয়ের আনন্দে অনেকেই প্রতিপক্ষকে বিদ্রূপ করেন, গালিগালাজ করেন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন।রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘মুমিন ব্যক্তি গালিদাতা, অভিশাপকারী, অশ্লীলভাষী কিংবা কুরুচিপূর্ণ বাক্য ব্যবহারকারী নয়।’ (জামে তিরমিজি: ১৯৭৭)একজন মুসলমানের আনন্দ যেন কখনো অন্যের সম্মানহানির কারণ না হয়।৪. জনদুর্ভোগ সৃষ্টি ও অন্যের শান্তি নষ্ট করাউচ্চ শব্দে সাউন্ড সিস্টেম বাজানো, আতশবাজি ফোটানো, গভীর রাতে অপ্রয়োজনীয় হইচই করা কিংবা রাস্তা আটকে উল্লাস করা অন্য মানুষের কষ্টের কারণ হতে পারে।রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে।’ (সহিহ বুখারি: ১০; তিরমিজি: ২৬২৭)আলেমরা বলেন, এই হাদিসের আলোকে এমন সব কাজ থেকেও বিরত থাকা উচিত, যা অকারণে অন্যের ক্ষতি, ভয় বা দুর্ভোগের কারণ হয়।৫. অপচয় ও বিলাসিতায় সীমা ছাড়িয়ে যাওয়াআনন্দের উপলক্ষে অযথা অর্থ ব্যয়, খাবারের অপচয়, অতিরিক্ত সাজসজ্জা কিংবা অনেক ক্ষেত্রে আতশবাজিতে অর্থ নষ্ট করা ইসলামের মিতব্যয়িতার শিক্ষার পরিপন্থী।আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই।’ (সুরা ইসরা: ২৭)একই অর্থ অসহায় মানুষের উপকারে ব্যয় করলে তা অনেক বেশি কল্যাণকর হতে পারে।
দিনের শুরুটা যেমন হয়, অনেক ক্ষেত্রেই পুরো দিনের ছন্দও তেমন থাকে। তাই সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর কিছু সহজ কিন্তু কার্যকর অভ্যাস শরীর ও মনকে সতেজ রাখার পাশাপাশি কর্মক্ষমতাও বাড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে স্বাস্থ্যকর রুটিন অনুসরণ করলে মানসিক চাপ কমে, মনোযোগ বাড়ে এবং দৈনন্দিন কাজেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।যে ৫ অভ্যাস গড়ে তুলবেন১. ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস পানি পান করুনরাতভর ঘুমের পর শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হয়। সকালে এক গ্লাস পানি পান করলে শরীর আর্দ্র থাকে, বিপাকক্রিয়া সক্রিয় হয় এবং সতেজ অনুভূতি আসে।২. কিছু সময় রোদে থাকুনঘুম থেকে ওঠার পর কয়েক মিনিট প্রাকৃতিক আলো বা সকালের রোদে থাকলে শরীরের জৈবঘড়ি স্বাভাবিক থাকে। এতে ঘুমের মান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি মনও প্রফুল্ল থাকে।৩. হালকা ব্যায়াম বা হাঁটার অভ্যাস করুনপ্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ মিনিট হাঁটা, স্ট্রেচিং বা হালকা ব্যায়াম রক্তসঞ্চালন বাড়ায় এবং শরীরকে কর্মব্যস্ত দিনের জন্য প্রস্তুত করে। এটি মানসিক চাপ কমাতেও সহায়ক।৪. স্বাস্থ্যকর নাশতা দিয়ে দিন শুরু করুনসকালের নাশতা বাদ না দিয়ে প্রোটিন, ফল, শাকসবজি বা আঁশসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা। এতে শরীর প্রয়োজনীয় শক্তি পায় এবং দীর্ঘ সময় ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে থাকে।৫. দিনের পরিকল্পনা করে নিনদিনের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি ছোট তালিকা তৈরি করলে সময় ব্যবস্থাপনা সহজ হয়। কোন কাজ আগে করবেন, কোনটি পরে করবেন তা ঠিক করে নিলে অপ্রয়োজনীয় চাপও কমে।যেসব অভ্যাস এড়িয়ে চলবেনসকালে ঘুম থেকে উঠেই দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার, নাশতা না করা বা অতিরিক্ত চিনি-সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার অভ্যাস পুরো দিনের কর্মক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিনে বড় পরিবর্তন আনার চেষ্টা না করে ছোট ছোট স্বাস্থ্যকর অভ্যাস নিয়মিত অনুসরণ করাই সবচেয়ে কার্যকর। ধারাবাহিকভাবে এসব অভ্যাস বজায় রাখতে পারলে শরীর ও মন দুটিই ভালো থাকবে, পাশাপাশি কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
২০৫০ সালের মধ্যে চরম তাপমাত্রার ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের শীর্ষ ৬টি দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।সোমবার ২৬ জানুয়ারি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাতে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার সাসটেইনেবিলিটি’-তে এই গবেষণাটি প্রকাশ হয়।ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার অব্যাহত থাকলে আগামী ২৫ বছরের মধ্যে চরম তাপপ্রবাহে আক্রান্ত বৈশ্বিক জনসংখ্যার হার প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। শিল্প-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় যদি বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়, তবে চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ বিশ্বের ৪১ শতাংশ মানুষ (প্রায় ৩৭৯ কোটি) অসহনীয় তাপমাত্রার মধ্যে বসবাস করবে। ২০১০ সালে এই পরিস্থিতির শিকার জনগোষ্ঠীর হার ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ (১৫৪ কোটি)।
স্মার্টফোনের ব্যাটারি দীর্ঘস্থায়ী করতে কত শতাংশ চার্জ দেওয়া নিরাপদ, তা নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে রয়েছে নানা সংশয়। অনেকে মনে করেন, ১০০ শতাংশ চার্জ দিলে ব্যাটারি দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। আবার সারারাত চার্জে রাখা নিয়েও রয়েছে অনেক ভয়। তবে আধুনিক স্মার্টফোনের লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি এবং বর্তমানের চার্জিং প্রযুক্তি এই ধারণা অনেকটাই বদলে দিয়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, ব্যাটারির আয়ু বাড়াতে সঠিক পদ্ধতি কী।অনেকেই মনে করেন, ১০০ শতাংশ চার্জ দিলে ব্যাটারি ফেটে যেতে পারে বা নষ্ট হয়ে যায়। বিষয়টি পুরোপুরি ঠিক নয়। বর্তমানের প্রায় সব স্মার্টফোনেই উন্নত প্রযুক্তি রয়েছে, যা ব্যাটারি সম্পূর্ণ চার্জ হয়ে যাওয়ার পর বিদ্যুৎ প্রবাহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। তাই ১০০ শতাংশ চার্জ হওয়া মানেই ব্যাটারিতে অতিরিক্ত চার্জ ঢুকে যাচ্ছে, তা ভাবার কারণ নেই। তবে গরম পরিবেশে দীর্ঘ সময় ফোন ১০০ শতাংশ চার্জে লাগিয়ে রাখলে অতিরিক্ত তাপের কারণে ব্যাটারির ওপর চাপ পড়ে, যা ধীরে ধীরে ব্যাটারির কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়।৮০ শতাংশ চার্জিংয়ের পরামর্শ কেন?ব্যাটারি বিশেষজ্ঞদের মতে, লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ২০ শতাংশ থেকে ৮০ শতাংশ চার্জের মধ্যে সবচেয়ে কার্যকরভাবে কাজ করে। দীর্ঘমেয়াদে ব্যাটারির স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করলে ৮০ বা ৮৫ শতাংশ চার্জিং সীমার মধ্যে রাখা ভালো। এই কারণেই বর্তমানে অ্যাপলসহ বিভিন্ন স্মার্টফোন ব্র্যান্ড তাদের ডিভাইসে ‘চার্জ লিমিট’, ‘ব্যাটারি প্রোটেকশন’ বা ‘অপ্টিমাইজড চার্জিং’-এর মতো ফিচার দিচ্ছে। আপনি যদি একটি ফোন চার-পাঁচ বছর ব্যবহার করতে চান, তবে ৮০-৮৫ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ রাখার অভ্যাসটি বেশ উপকারী।সারারাত চার্জ কি নিরাপদ?নতুন প্রজন্মের স্মার্টফোনগুলোতে ‘অপ্টিমাইজড চার্জিং’ বা ‘অ্যাডাপ্টিভ চার্জিং’ ফিচার থাকে। এগুলো আপনার ব্যবহারের ধরন বুঝে চার্জিং পরিচালনা করে, ফলে সারারাত চার্জে থাকলেও ফোনটি আর আগের মতো ঝুঁকির মুখে থাকে না। তবে ফোন যদি খুব পুরোনো হয়, তবে এই বিষয়ে সতর্ক থাকা ভালো।ব্যাটারি ভালো রাখার কিছু জরুরি টিপসচার্জ কত শতাংশ রাখবেন তার চেয়েও বেশি জরুরি কিছু ছোট অভ্যাস অনুসরণ করা-তাপ থেকে দূরে রাখুন: ব্যাটারির সবচেয়ে বড় শত্রু হলো অতিরিক্ত তাপ। চার্জ দেওয়ার সময় ফোন গরম হলে কভার খুলে রাখুন এবং ভারী গেম খেলা বা মাল্টিটাস্কিং এড়িয়ে চলুন।পুরোপুরি চার্জ শেষ করবেন না: ফোন বারবার ০ শতাংশে নামিয়ে আনবেন না। চার্জ ২০ শতাংশের নিচে নামার আগেই চার্জে বসানো উত্তম।ভালো মানের চার্জার ব্যবহার করুন: ফোনের সাথে পাওয়া অরজিনাল চার্জার বা ভালো মানের সার্টিফাইড চার্জার ব্যবহার করুন।আপনার যদি সারাদিন বেশি ব্যাকআপের প্রয়োজন হয়, তবে ১০০ শতাংশ চার্জ দেওয়া একেবারেই স্বাভাবিক। তবে দীর্ঘমেয়াদে ব্যাটারির স্বাস্থ্য ধরে রাখতে চাইলে ফোনের চার্জিং লিমিট অপশনটি ব্যবহার করতে পারেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ফোনকে অতিরিক্ত গরম হওয়া থেকে রক্ষা করা এবং নিয়মিত সঠিক পদ্ধতিতে চার্জ দেওয়া।