দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে বর্তমানে সাড়ে ৫ লাখের বেশি দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। দুই বিভাগ মিলিয়ে বর্তমানে মোট বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৫ লাখ ৬১ হাজার ৪৪টি। গত ১ বছরে ৬৩ হাজার ৩০৯টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে।মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এসব তথ্য জানিয়েছেন।স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. গোলাম রছুলের করা প্রশ্নে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।আইনমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে (৩১ মার্চ পর্যন্ত) ২১ হাজার ৬৫২টি দেওয়ানি ও ১৭ হাজার ৬১টি ফৌজদারি মামলাসহ সর্বমোট ৩৮ হাজার ৭১৩টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। অন্যদিকে, হাইকোর্ট বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে ৫ লাখ ২২ হাজার ৩৩১টি মামলা। যার মধ্যে দেওয়ানি মামলার সংখ্যা ১ লাখ ১ হাজার ১৬৮টি এবং ফৌজদারি মামলার সংখ্যা ৪ লাখ ২১ হাজার ১৬৩টি। বিগত ২০২৫ সালে আপিল বিভাগে ৭ হাজার ৫৫৩টি এবং হাইকোর্ট বিভাগে ৫৫ হাজার ৭৫৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।তিনি আরও জানান, দেশের সব অধস্তন আদালতে (৩১ মার্চ পর্যন্ত) মোট ৪০ লাখ ৭৮ হাজার ৪৩২টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। যার মধ্যে ১৬ লাখ ৯০ হাজার ৪৪৩টি দেওয়ানি এবং ২৩ লাখ ৮৭ হাজার ৯৮৯টি ফৌজদারি মামলা। অধস্তন আদালতে মামলার নিষ্পত্তির হার কিছুটা ইতিবাচক, সেখানে গত এক বছরে ২ লাখ ৭৫ হাজার ৮৪টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে দেওয়ানি মামলা ৪৯ হাজার ৭৩টি এবং ফৌজদারি মামলা ২ লাখ ২৬ হাজার ১১টি।আইনমন্ত্রী জানান, সারা দেশের আদালতগুলোতে এই বিপুল পরিমাণ মামলার জট কমাতে ও নিষ্পত্তি দ্রুততর করতে সরকারের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিচার ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ৫৩৬টি বিচারকের পদ সৃজন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি নতুন করে ১৫০ জন সিভিল জজ নিয়োগসহ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে আদালতের সহায়ক কর্মচারী নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ ছাড়া সরকার সম্প্রতি ৬৫০টি সিভিল জজ ও সিনিয়র সিভিল জজ আদালত, ৪০৬টি যুগ্ম দায়রা জজ আদালত এবং ২০৪টি অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত প্রতিষ্ঠা করেছে। এসব নবপ্রতিষ্ঠিত আদালতের বিপরীতে নতুন বিচারকের পদ সৃষ্টির বিষয়টি বর্তমানে সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে, যা সম্পন্ন হলে মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, জানান মন্ত্রী।
বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারকে দীর্ঘস্থায়ী করতে প্রশাসনের যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রকাশ্যে কাজ করেছেন, তাদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। ইতোমধ্যে সরকারের বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা তাদের খুঁজে বের করতে কাজ শুরু করেছে।মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা বজায় রাখার বিষয়ে গাইবান্ধা-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিমের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাঠ পর্যায়ে কোনো কর্মকর্তার নৈতিক স্খলনজনিত বিষয় নজরে এলে তাদের সাময়িক বরখাস্তসহ যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পাশাপাশি বিভাগীয় মামলা রুজু করে শাস্তির বিধান রয়েছে এবং এই তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ডোসিয়ারে সংরক্ষণ করা হয়, যা পরবর্তী সময়ে পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয়।তিনি বলেন, কর্মকর্তাদের সচেতনতা বাড়াতে চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা ও তদন্ত অনুবিভাগ থেকে ৬টি বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের মাধ্যমে ১৮০ জন কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং এ বছর আরও ৮টি প্রশিক্ষণ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া সিভিল সার্ভিসের প্রতিটি বাধ্যতামূলক কোর্সে দুর্নীতি প্রতিরোধ, নৈতিকতা ও শিষ্টাচার সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলেও তিনি জানান।এদিন সংসদে সরকারি চাকরির শূন্য পদের একটি বড় খতিয়ান তুলে ধরেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী। গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামানের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, দেশে বর্তমানে সরকারি চাকরিতে মোট ১৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন, যার মধ্যে শূন্য পদের সংখ্যা ৫ লাখ ২১ হাজার ৯২২টি। এছাড়া প্রশাসনের শীর্ষ পদগুলোর বিপরীতে কর্মরতদের সংখ্যা উল্লেখ করে তিনি জানান, সচিব ও সিনিয়র সচিবের ৬৯টি পদের বিপরীতে ৬৭ জন, অতিরিক্ত সচিবের ৩৬৮টি পদের বিপরীতে ৩৭৮ জন, যুগ্ম সচিবের ১ হাজার ১১৬টি পদের বিপরীতে ৮৯৩ জন এবং উপসচিবের ২ হাজার ২৪৫টি পদের বিপরীতে ২ হাজার ৯৪০ জন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন।সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বিসিএস পরীক্ষার গতিশীলতা বৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিসিএসে নিয়োগের সুপারিশের সময় ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনা হচ্ছে। যেমন ৪৪তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশে ৩ বছর ৭ মাস সময় লাগলেও, ৪৫তম বিসিএসে ২ বছর ১১ মাস ২৭ দিন, ৪৬তম বিসিএসে ২ বছর ২ মাস ৯ দিন এবং সর্বশেষ ৪৭তম বিসিএসে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাত্র ১ বছর ৭ মাসের মধ্যে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। আগামীতে ৫০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের এক বছরের মধ্যেই চূড়ান্ত ফলাফল দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। একই প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও জানান, সরকারি জনবল সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে সরকারি চাকরিতে নারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীর হার ২৯ শতাংশ।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, আসন্ন অগাস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে অক্টোবরের প্রথমার্ধে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে প্রাথমিক কর্মপরিকল্পনা (রোডম্যাপ) প্রণয়ন করেছে নির্বাচন কমিশন। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পৃথক রোডম্যাপ করা হয়েছে। চলতি মাসের শেষের দিকে এগুলো চূড়ান্ত করে প্রকাশ করা হতে পারে।’তিনি বলেন, ‘অগাস্টের দ্বিতীয়ার্ধে তফসিল ঘোষণা করে অক্টোবরের প্রথমার্ধে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।’তথ্য উপদেষ্টা বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সারাদেশকে হাওর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল, পার্বত্য ও উপকূলীয় অঞ্চল, নদীপ্রধান ও চরাঞ্চল এবং সমতল ও শহরাঞ্চল- এই চার ভাগে ভাগ করে নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাওর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ইউনিয়ন পরিষদের ভোট গ্রহণের মধ্যদিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন কার্যক্রম শুরু করবে ইসি।’
বিশ্বকাপে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে আর্জেন্টিনা। শেষ ষোলোর নকআউট ম্যাচে আজ মিসরের মুখোমুখি হবে লিওনেল স্কালোনির দল। তাই এই ম্যাচে শক্তিশালী একাদশই মাঠে নামানোর পরিকল্পনা করছেন আর্জেন্টাইন কোচ।কেপ ভার্দের বিপক্ষে জয় পেলেও সেই ম্যাচের একাদশে কয়েকটি পরিবর্তন আসতে পারে। আর্জেন্টিনার গণমাধ্যমের খবর, রক্ষণ, মাঝমাঠ ও আক্রমণে তিনটি বদল আনতে যাচ্ছেন স্কালোনি। ফাকুন্দো মেদিনা, থিয়াগো আলমাদা ও লাউতারো মার্তিনেজের জায়গায় প্রথম একাদশে দেখা যেতে পারে নিকোলাস তালিয়াফিকো, লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও হুলিয়ান আলভারেজকে।যদিও ম্যাচের আগেই একাদশ নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রেখেছেন স্কালোনি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, তার দল চূড়ান্ত করা আছে, তবে ম্যাচের আগে সেটি প্রকাশ করতে চান না। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সম্ভাব্য একাদশ বাস্তবতার খুব কাছাকাছি।দীর্ঘ ১৮ বছর পর আবার মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও মিসর। এর আগে ২০০৮ সালে একমাত্র দেখায় জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে এবারই প্রথম মুখোমুখি হবে দুই দল। ম্যাচটির আরেকটি বড় আকর্ষণ লিওনেল মেসি ও মোহামেদ সালাহর সম্ভাব্য প্রথম আন্তর্জাতিক দ্বৈরথ।আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ :এমিলিয়ানো মার্তিনেজ (গোলরক্ষক), নাহুয়েল মলিনা, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, নিকোলাস তালিয়াফিকো, রদ্রিগো দে পল, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, এনজো ফার্নান্দেজ, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, লিওনেল মেসি ও হুলিয়ান আলভারেজ।
বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খানের তৃতীয় বিয়ের পর নতুন করে ভাইরাল হয়েছে সালমান খানের একটি পুরোনো মন্তব্য। কয়েক বছর আগে মজার ছলে বলা সেই কথাই এখন সামাজিক মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে।টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনযায়ী, ঘটনাটি জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘দ্য কপিল শর্মা শো’-এর। সে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সালমান খান। একপর্যায়ে সঞ্চালক কপিল শর্মা আমির খানের প্রসঙ্গ টানেন। তখন নিজের স্বভাবসুলভ রসিকতায় সালমান বলেন, ‘আমির একজন পারফেকশনিস্ট। বিয়ে একদম পারফেক্ট না হওয়া পর্যন্ত সে বিয়ে করেই যাবে।’সালমানের এই মন্তব্যে স্টুডিওজুড়ে হাসির রোল পড়ে যায়। পরে ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তবে আমিরের তৃতীয় বিয়ের পর সেই ভিডিও আবারও নতুন করে ভাইরাল হয়েছে। নেটিজেনদের অনেকেই বলছেন, মজার ছলে বলা সালমানের কথাটি যেন সময়ের সঙ্গে নতুন অর্থ পেয়েছে।সম্প্রতি দীর্ঘদিনের সঙ্গী গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করেছেন আমির খান। মুম্বাইয়ে ঘনিষ্ঠ পরিবার ও স্বজনদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয় তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। নবদম্পতির প্রথম ছবি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই অভিনন্দনের পাশাপাশি আলোচনায় উঠে আসে আমিরের ব্যক্তিগত জীবন।আমির প্রথম বিয়ে করেছিলেন রীনা দত্তকে। সেই সংসার ভেঙে যাওয়ার পর ২০০৫ সালে তিনি বিয়ে করেন নির্মাতা কিরণ রাওকে। ২০২১ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়। এরপর দীর্ঘদিনের বন্ধু গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান আমির। অবশেষে তাকেই জীবনসঙ্গী করলেন এই অভিনেতা।অন্যদিকে, ৬০ বছর বয়সেও সালমান খান বলিউডের ‘চিরকুমার’ হিসেবেই পরিচিত। ব্যক্তিগত জীবনে একাধিক সম্পর্কের গুঞ্জন শোনা গেলেও তিনি কখনো বিয়ে করেননি।বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন উঠলেই বরাবরের মতো রসিকতাই করেন এই সুপারস্টার। তাই আমিরকে নিয়ে তাঁর সেই পুরোনো মন্তব্য আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
সবশেষ সমন্বয়ে দেশের বাজারে কমানো হয়েছে সোনার দাম। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দেশের বাজারে সবশেষ সমন্বয়কৃত দামেই মূল্যবান এই ধাতু বিক্রি হচ্ছে।সবশেষ সোমবার (৬ জুলাই) সকালে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে সোনার দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সেদিন ভরিতে মূল্যবান এই ধাতুটির দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টা থেকেই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়ছে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৫ হাজার ১৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৩২ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য। সোনার অলঙ্কার ও রুপার অলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এছাড়া সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়ম বহাল থাকবে।এর আগে, সবশেষ গত ৩ জুলাই সকালে সোনার দাম সমন্বয় করেছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। সেদিন প্রতি ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়।এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৮৭ বার সমন্বয় করা হয়েছে সোনার দাম। যেখানে দাম ৪৩ দফা বাড়ানো হয়েছে, কমানো হয়েছে ৪৩ দফা ও ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।সোনার দাম কমানো হলেও দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৮৯৯ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৩৩ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৫৩ দফা সমন্বয় করা হয়েছে রুপার দাম। যেখানে দাম ২৭ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে বাকি ২৬ দফা। আর ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল রুপার দাম। যার মধ্যে বেড়েছিল ১০ বার, আর কমেছিল মাত্র ৩ বার।
১০ ঘন্টা আগে
দীর্ঘ ১৩ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় দেরা শহরের ঐতিহাসিক আল-ওমারি মসজিদ। সিরিয়াসহ পুরো লেভান্ত অঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন এই মসজিদের নাম জড়িয়ে আছে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাবের (রা.) সঙ্গে। গত কয়েক দশকে মসজিদটি শুধু ধর্মীয় ইবাদতখানা হিসেবে ব্যবহার হয়নি, বরং সিরিয়ার যুদ্ধ ও বিপ্লবের এক অনন্য জাতীয় প্রতীকে পরিণত হয়েছে। এবার সেই ঐতিহাসিক স্থাপত্যটি ইসলামিক ওয়ার্ল্ড এডুকেশনাল, সায়েন্টিফিক অ্যান্ড কালচারাল অর্গানাইজেশনের (ইসেসকো) বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে।সপ্তম শতাব্দীর প্রথমার্ধে খলিফা ওমরের (রা.) শাসনামলে এই মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু হয়। তার নামানুসারেই এই নামকরণের মাধ্যমে তৎকালীন গৌরবময় যুগের স্মৃতি ধরে রাখা হয়েছে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মসজিদটি সিরিয়ার হওরান অঞ্চলের একটি প্রধান ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক নিদর্শন এবং স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে পরিচিত।সিরিয়ার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা এবং মুসলিম বিশ্বের ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোর মধ্যে এর অবস্থান সুসংহত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে মসজিদটিকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই স্বীকৃতির ফলে ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি সংরক্ষণ, নথিবদ্ধকরণ এবং পুনর্নির্মাণের নতুন পথ উন্মোচন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।আল-ওমারি মসজিদের ইমাম শায়খ বাসাম আল-মাসরি আল জাজিরাকে বলেন, সিরিয়ার জনগণ, বিশেষ করে দেরা শহরের মানুষের হৃদয়ে এই মসজিদের স্থান অত্যন্ত উঁচুতে।মসজিদটি শুধু নামাজের স্থান ছিল না, বরং সিরিয়ার বিপ্লবের শুরুর দিনগুলোতে বিক্ষোভকারীদের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল। মসজিদের চত্বরেই প্রথম গড়ে তোলা হয়েছিল যুদ্ধের আহতদের চিকিৎসার জন্য অস্থায়ী ফিল্ড হাসপাতাল।শায়খ বাসাম আরও জানান, যুদ্ধের বছরগুলোতে মসজিদর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে এর ঐতিহাসিক মিনার এবং মূল ভবনের বড় একটি অংশ ধ্বংস হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে এর সংস্কার কাজ শুরু হলেও এর ঐতিহাসিক ও স্থাপত্যশৈলীর মান ধরে রাখতে আরও দীর্ঘমেয়াদি যত্ন ও বড় ধরনের পুনর্নির্মাণ প্রক্রিয়া প্রয়োজন।ইসলামী ইতিহাস গবেষক মুসা আল-মুসালামা আল জাজিরাকে বলেন, লেভান্ত বা শাম অঞ্চলে নির্মিত শুরুর দিককার মসজিদগুলোর একটি হওয়ায় আল-ওমারি মসজিদের গুরুত্ব অপরিসীম। ইসলামী স্থাপত্যের ইতিহাসে এর বিশেষ মর্যাদা রয়েছে।তিনি আরও বলেন, বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় এর অন্তর্ভুক্তি প্রমাণ করে যে মুসলিম বিশ্ব এই ঐতিহাসিক নিদর্শনটি রক্ষায় কতটা আন্তরিক। মসজিদটি হওরান অঞ্চলের মানুষের ইতিহাস ও পরিচয়ের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। একই সঙ্গে এটি এমন এক জাতীয় প্রতীক, যা স্থানীয়দের সামষ্টিক স্মৃতিতে চিরকাল ভাস্বর হয়ে থাকবে।কালের আবর্তে টিকে থাকা প্রাচীন দেওয়াল আর যুদ্ধের ক্ষত বুকে নিয়ে দেরা শহরের আল-ওমারি মসজিদ আজও ইসলামের সোনালী অতীত এবং আধুনিক ইতিহাসের গল্প শুনিয়ে যাচ্ছে। এখন শুধু অপেক্ষা, যথাযথ সংস্কারের মাধ্যমে লেভান্ত অঞ্চলের অন্যতম প্রধান এই সভ্যতার স্মারক যেন আবার তার পুরনো গৌরব ফিরে পায়।
ঝাল-মসলায় ভরপুর, গাঢ় রঙের মাখামাখি গরুর কালা ভুনা- নাম শুনলেই জিভে পানি চলে আসে। ঐতিহ্যবাহী এই খাবার এখন দেশের প্রায় সব ঘরেই জনপ্রিয়। ঈদ, দাওয়াত কিংবা ছুটির দিনের বিশেষ আয়োজনে এক প্লেট গরম ভাতের সঙ্গে কালা ভুনা যেন স্বাদের বাড়তি আনন্দ এনে দেয়।অনেকে মনে করেন, কালা ভুনা তৈরি করা বেশ কঠিন। তবে সঠিক মসলা আর ধীরে ধীরে কষানোর কৌশল জানলে ঘরেই সহজে তৈরি করা যায় অসাধারণ স্বাদের এই পদ।যেসব উপকরণ লাগবেগরুর মাংস – ১ কেজিপেঁয়াজ কুচি – ৪ কাপআদা বাটা – ২ টেবিল চামচরসুন বাটা – ২ টেবিল চামচমরিচ গুঁড়া – ২ টেবিল চামচহলুদ গুঁড়া – ১ চা চামচধনে গুঁড়া – ১ টেবিল চামচজিরা গুঁড়া – ১ চা চামচটক দই – আধা কাপসরিষার তেল – আধা কাপদারুচিনি, এলাচ, লবঙ্গ – পরিমাণমতোগরম মসলা গুঁড়া – ১ চা চামচগোলমরিচ গুঁড়া – আধা চা চামচকাঁচামরিচ – ৫/৬টিলবণ – স্বাদমতোযেভাবে রান্না করবেনপ্রথমে মাংস ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। এরপর আদা-রসুন বাটা, দই, লবণ ও সব গুঁড়া মসলা দিয়ে ভালোভাবে মেখে অন্তত আধা ঘণ্টা রেখে দিন।চুলায় একটি ভারী পাতিল বসিয়ে তেল গরম করুন। তাতে গোটা গরম মসলা ফোড়ন দিয়ে পেঁয়াজ কুচি দিন। পেঁয়াজ ধীরে ধীরে বাদামি হয়ে এলে মেরিনেট করা মাংস ঢেলে দিন।এবার মাঝারি আঁচে দীর্ঘ সময় ধরে মাংস কষাতে হবে। ধীরে ধীরে মসলার রং গাঢ় হবে এবং মাংস থেকে তেল আলাদা হতে শুরু করবে। প্রয়োজন হলে সামান্য গরম পানি দিতে পারেন।মাংস নরম হয়ে এলে কম আঁচে আরও কিছুক্ষণ ভুনুন। এতে কালচে রং ও দারুণ স্মোকি স্বাদ আসবে। শেষে গরম মসলা, গোলমরিচ গুঁড়া ও কাঁচামরিচ ছড়িয়ে কিছুক্ষণ ঢেকে রাখুন।এছাড়াও স্বাদ বাড়ানোর কালা ভুনার আসল স্বাদ আসে ধীরে ধীরে কষানোয়। তাড়াহুড়ো না করে কম আঁচে রান্না করলে মাংসের ভেতর মসলার স্বাদ ভালোভাবে ঢুকে যায়। চাইলে শেষে সামান্য ঘি যোগ করেও বাড়তি ঘ্রাণ আনতে পারেন।গরম ভাত, নান বা পরোটার সঙ্গে পরিবেশন করুন মজাদার গরুর কালা ভুনা।
২০৫০ সালের মধ্যে চরম তাপমাত্রার ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের শীর্ষ ৬টি দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।সোমবার ২৬ জানুয়ারি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাতে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার সাসটেইনেবিলিটি’-তে এই গবেষণাটি প্রকাশ হয়।ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার অব্যাহত থাকলে আগামী ২৫ বছরের মধ্যে চরম তাপপ্রবাহে আক্রান্ত বৈশ্বিক জনসংখ্যার হার প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। শিল্প-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় যদি বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়, তবে চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ বিশ্বের ৪১ শতাংশ মানুষ (প্রায় ৩৭৯ কোটি) অসহনীয় তাপমাত্রার মধ্যে বসবাস করবে। ২০১০ সালে এই পরিস্থিতির শিকার জনগোষ্ঠীর হার ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ (১৫৪ কোটি)।
স্মার্টফোনের ব্যাটারি দীর্ঘস্থায়ী করতে কত শতাংশ চার্জ দেওয়া নিরাপদ, তা নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে রয়েছে নানা সংশয়। অনেকে মনে করেন, ১০০ শতাংশ চার্জ দিলে ব্যাটারি দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। আবার সারারাত চার্জে রাখা নিয়েও রয়েছে অনেক ভয়। তবে আধুনিক স্মার্টফোনের লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি এবং বর্তমানের চার্জিং প্রযুক্তি এই ধারণা অনেকটাই বদলে দিয়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, ব্যাটারির আয়ু বাড়াতে সঠিক পদ্ধতি কী।অনেকেই মনে করেন, ১০০ শতাংশ চার্জ দিলে ব্যাটারি ফেটে যেতে পারে বা নষ্ট হয়ে যায়। বিষয়টি পুরোপুরি ঠিক নয়। বর্তমানের প্রায় সব স্মার্টফোনেই উন্নত প্রযুক্তি রয়েছে, যা ব্যাটারি সম্পূর্ণ চার্জ হয়ে যাওয়ার পর বিদ্যুৎ প্রবাহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। তাই ১০০ শতাংশ চার্জ হওয়া মানেই ব্যাটারিতে অতিরিক্ত চার্জ ঢুকে যাচ্ছে, তা ভাবার কারণ নেই। তবে গরম পরিবেশে দীর্ঘ সময় ফোন ১০০ শতাংশ চার্জে লাগিয়ে রাখলে অতিরিক্ত তাপের কারণে ব্যাটারির ওপর চাপ পড়ে, যা ধীরে ধীরে ব্যাটারির কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়।৮০ শতাংশ চার্জিংয়ের পরামর্শ কেন?ব্যাটারি বিশেষজ্ঞদের মতে, লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ২০ শতাংশ থেকে ৮০ শতাংশ চার্জের মধ্যে সবচেয়ে কার্যকরভাবে কাজ করে। দীর্ঘমেয়াদে ব্যাটারির স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করলে ৮০ বা ৮৫ শতাংশ চার্জিং সীমার মধ্যে রাখা ভালো। এই কারণেই বর্তমানে অ্যাপলসহ বিভিন্ন স্মার্টফোন ব্র্যান্ড তাদের ডিভাইসে ‘চার্জ লিমিট’, ‘ব্যাটারি প্রোটেকশন’ বা ‘অপ্টিমাইজড চার্জিং’-এর মতো ফিচার দিচ্ছে। আপনি যদি একটি ফোন চার-পাঁচ বছর ব্যবহার করতে চান, তবে ৮০-৮৫ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ রাখার অভ্যাসটি বেশ উপকারী।সারারাত চার্জ কি নিরাপদ?নতুন প্রজন্মের স্মার্টফোনগুলোতে ‘অপ্টিমাইজড চার্জিং’ বা ‘অ্যাডাপ্টিভ চার্জিং’ ফিচার থাকে। এগুলো আপনার ব্যবহারের ধরন বুঝে চার্জিং পরিচালনা করে, ফলে সারারাত চার্জে থাকলেও ফোনটি আর আগের মতো ঝুঁকির মুখে থাকে না। তবে ফোন যদি খুব পুরোনো হয়, তবে এই বিষয়ে সতর্ক থাকা ভালো।ব্যাটারি ভালো রাখার কিছু জরুরি টিপসচার্জ কত শতাংশ রাখবেন তার চেয়েও বেশি জরুরি কিছু ছোট অভ্যাস অনুসরণ করা-তাপ থেকে দূরে রাখুন: ব্যাটারির সবচেয়ে বড় শত্রু হলো অতিরিক্ত তাপ। চার্জ দেওয়ার সময় ফোন গরম হলে কভার খুলে রাখুন এবং ভারী গেম খেলা বা মাল্টিটাস্কিং এড়িয়ে চলুন।পুরোপুরি চার্জ শেষ করবেন না: ফোন বারবার ০ শতাংশে নামিয়ে আনবেন না। চার্জ ২০ শতাংশের নিচে নামার আগেই চার্জে বসানো উত্তম।ভালো মানের চার্জার ব্যবহার করুন: ফোনের সাথে পাওয়া অরজিনাল চার্জার বা ভালো মানের সার্টিফাইড চার্জার ব্যবহার করুন।আপনার যদি সারাদিন বেশি ব্যাকআপের প্রয়োজন হয়, তবে ১০০ শতাংশ চার্জ দেওয়া একেবারেই স্বাভাবিক। তবে দীর্ঘমেয়াদে ব্যাটারির স্বাস্থ্য ধরে রাখতে চাইলে ফোনের চার্জিং লিমিট অপশনটি ব্যবহার করতে পারেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ফোনকে অতিরিক্ত গরম হওয়া থেকে রক্ষা করা এবং নিয়মিত সঠিক পদ্ধতিতে চার্জ দেওয়া।