একাত্তরে দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে প্রকৃত শহীদ এবং মুক্তিযোদ্ধার সঠিক তালিকা প্রণয়ন যাদের দায়িত্ব ছিল, তারা সেটাকে রাজনীতিকীকরণ করেছে বলে সংসদে প্রশ্নোত্তরে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।বুধবার (১৫ জুলাই) পিরোজপুর-৩ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমীন দুলালের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রথমে আমি বলেছি, দেশ স্বাধীনের পরে তাদের দায়িত্ব ছিল সঠিকভাবে শহীদদের ও মুক্তিযোদ্ধাদের একটি তালিকা প্রণয়ন করা। তারা সেটিকে রাজনৈতিকভাবে উপস্থাপন করেছে, তারা সেটা নিরপেক্ষভাবে সঠিকভাবে করেনি।একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। তবে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় ১৯৮৪ সালে তৎকালীন স্বৈরশাসক এরশাদের আমলে। এরপর বিভিন্ন সরকারের সময় সে তালিকা পরিবর্তন, পরিমার্জন করা হয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এরই মধ্যে, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় তারা বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কমিটি মতন করে গঠন করেছে। যেখানে আমরা চেষ্টা করব সঠিক যারা মুক্তিযোদ্ধা, সঠিক যারা শহীদ, তাদেরকে চিহ্নিত করা জন্য।ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বিকাল ৩টায় সংসদ অধিবেশন শুরু হয়।দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী প্রথম ৩০ মিনিট ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নকাল। প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ছিল সাটি তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন। এরমধ্যে তিনি নির্ধারিত সময়ে তিনটি তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন ও এই সংক্রান্ত সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন।একাত্তরের শহীদ ও গণহত্যার শিকারদের সঠিক তালিকা প্রণয়নের পরিকল্পনা সরকারের আছে কিনা রুহুল আমীন দুলালের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তার দলের নির্বাচনি অঙ্গীকার মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।তিনি বলেন, এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যাগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের গবেষকদের নিয়ে বিশেষজ্ঞ সভা আয়োজন, বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তার ভিত্তিতে কার্যক্রম গ্রহণ। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে গণহত্যার শিকার ও সকল শহীদের একটি নির্ভুল ও গ্রহণযোগ্য তালিকা প্রণয়ন এবং তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ স্বীকৃতি ও মর্যাদা প্রদান সম্ভব হবে।দলীয়করণমুক্ত প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করার বিষয়ে কুড়িগ্রাম-১ আসনের জামায়াতের ইসলামীর সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনার প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে আমি বলতে চাই, আপনাকে একটু আমি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল হচ্ছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গঠিত দল। আপনাকে একই সাথে আমি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, মাঠে থেকে যুদ্ধ করেছেন এবং শুধু তাই নয় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণাও দিয়েছিলেন।তারেক রহমান বলেন, বর্তমানে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল রয়েছে এবং একটু আগেই বললাম এই দল বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দ্বারা গঠিত এই দল। স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিশ্বাস করে মনে প্রাণে যে, মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রতি তাদের পবিত্র একটি দায়িত্ব রয়েছে। সে কারণেই আমি একটু আগেই আমি বলেছিলাম যে যাদের দায়িত্ব ছিল দেশ স্বাধীনের পরে তাদের দায়িত্ব ছিল সঠিকভাবে শহীদদের ও মুক্তিযোদ্ধাদের একটি তালিকা প্রণয়ন করা তারা সেটিকে রাজনৈতিকভাবে উপস্থাপন করেছে, তারা সেটা নিরপেক্ষভাবে সঠিকভাবে করেনি।তিনি বলেন,পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে এই তালিকা তৈরিতে বিভিন্ন রকম সমস্যা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে সরকার চেষ্টা করছে, বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদেরকে নিয়ে একটির পূর্ণাঙ্গ সঠিক মুক্তিযোদ্ধার তালিকা তৈরি করতে পারি।
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি থেকে সরে এসেছেন শিক্ষার্থীরা। এর বদলে ছয় দফা দাবি নিয়ে সচিবালয়ে প্রবেশ করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ছয়জন প্রতিনিধি। বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে তারা শিক্ষা ভবনের সামনে থেকে সচিবালয়ের উদ্দেশে রওনা দেন।এর আগে বিকেল ৪টার দিকে শিক্ষা ভবনের সামনে পৌঁছালে পুলিশ তাদের আটকে দেয়। পরে ছয়জন প্রতিনিধিকে সচিবালয়ে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।শিক্ষার্থীদের ছয় দফা দাবি–১. দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় যারা পুনরায় অংশ নিতে চায়, তাদের সেই সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।২. যারা একই বিষয়ের পরীক্ষা পুনরায় দেবে, তাদের ক্ষেত্রে আগের ও পুনঃপরীক্ষার ফলাফলের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বরটি চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য করতে হবে।৩. প্রশ্নপত্রে থাকা ভুল প্রশ্নের জন্য শিক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দিতে হবে।৪. চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে স্থিতিশীল হওয়ার জন্য কিছু সময় দিয়ে এরপর পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।৫. পূর্বঘোষণা ছাড়া প্রশ্নপত্রের ধরনে পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় শিক্ষার্থীদের কাছে অপরিচিত ছিল। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নম্বর মূল্যায়ন করতে হবে।৬. পরীক্ষা চলাকালে ‘সচেতন গার্ড’-এর নামে কিছু শিক্ষকের কঠোর ও বিভ্রান্তিকর আচরণ বন্ধ করতে হবে, যাতে পরীক্ষার্থীরা ভীত না হয় বা মানসিক চাপে না পড়ে।এর আগে শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন করলেও সচিবালয়ে আলোচনায় অংশ নিতে যাওয়া প্রতিনিধি দলের দাবির তালিকায় মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি রাখা হয়নি।
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ২০০ হামলার ঘটনায় ৩৮৩ সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৩৪ জন, লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন ৬০ জন, হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন ৪৯ জন সাংবাদিক। একইসময়ে ১১ জন সাংবাদিককে আটক করা হয়েছে।২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে ১৫২ ঘটনায় ২৫৭ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছিলেন। আহত হয়েছিলেন ১১১ সাংবাদিক।বুধবার (১৫ জুলাই) হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) প্রকাশিত দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। ছয় মাসে মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, এ সময়ে ৪০টি সভা-সমাবেশ আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সরাসরি বা পরোক্ষভাবে বাধা দিয়েছে।এসব ঘটনায় ৩১১ জন আহত ও ৩৮ জন আটক হন। তাদের মধ্যে রাজনৈতিক কর্মী, শিক্ষার্থী, শ্রমিক ও সাধারণ পথচারী আছেন।এছাড়া, এ সময়ে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের বিভিন্ন ধারায় পৃথক ৩০ মামলায় ৮১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৪৪ জনকে।দেশের মূলধারার ১৬টি জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, এইচআরএসএসের সংগৃহীত তথ্য ও ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্টের ভিত্তিতে ছয় মাসের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এসব তথ্য সংকলন করা হয়েছে প্রতিবেদনে।এইচআরএসএস জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ায় গত ছয় মাসে ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যক্তির সমালোচনায় ১ জনকে পিটিয়ে হত্যা, ২ জন আহত, ১৮ জনকে আটক ও ১৭টি মামলা হয়েছে।এছাড়া, ১৭ জনকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও কোরআন অবমাননার অভিযোগে আটক করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ১৭টি মামলা হয়েছে ও ১ জনকে মারধর করা হয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়, সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশের অধীনে ৩৩ সাংবাদিককে আসামি করে পৃথক ১৫টি মামলা হয়েছে।২০২৫ সালের একইসময়ে সাইবার নিরাপত্তা আইনের অধীনে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ৫টি মামলা হয়। ওই বছর মোট ১৬ মামলায় ২৩ জনকে অভিযুক্ত ও ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।হেফাজতে, নির্যাতনে, বন্দুকযুদ্ধে মৃত্যুর বিষয়ে এইচআরএসএসের পক্ষ থেকে উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজত, নির্যাতন, গুলি ও কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মোট ১১ জন নিহত হয়েছে।২০২৫ সালের একইসময়ে এই সংখ্যা ছিল ১৪ জন।প্রতিবেদনে বলা হয়, ছয় মাসে হেফাজতে ও নির্যাতনের শিকার হয়ে ৫ জন, গুলিবিদ্ধ হয়ে ২ জন ও বন্দুকযুদ্ধে ৩ জন নিহত হয়েছেন।এছাড়া, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়া খেয়ে গ্রেপ্তার এড়াতে পালাতে গিয়ে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।কারা হেফাজতে মৃত্যুর বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সারাদেশে কারাগারগুলোতে অন্তত ৫৮ জন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ২৬ জন কয়েদি ও ৩২ জন হাজতি।মৃতদের মধ্যে ১৫ জন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের, ১ জন বিএনপির এবং ৪২ জন সাধারণ কয়েদি।২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে কারা হেফাজতে ৪০ জন মারা যান, যার মধ্যে ১৩ জন কয়েদি ও ২৭ জন হাজতি।এইচআরএসএস জানায়, দীর্ঘদিন গুম বা জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ না পাওয়া গেলেও গত ১০ এপ্রিল বাগেরহাটের মোংলায় কোস্টগার্ড পরিচয়ে মিরাজ শেখ (৩২) নামে এক যুবককে তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি), সংবাদ সম্মেলন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত আবেদন করা হলেও এখনো তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
বিশ্বকাপ থেকে আর্জেন্টিনাকে বাদ দিতে আবেদন করেছে প্রায় কোটি মানুষ। হ্যাঁ, অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি। চলমান বিশ্বকাপের মাঝপথেই ঠিক এমন ঘটনাই ঘটেছে টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠেছে যে, নকআউট পর্বে মিশর ও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সাম্প্রতিক জয়গুলো বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে এসেছে। এছাড়া, আলজেরিয়ার বিপক্ষে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে লিওনেল মেসির বিরুদ্ধে গুরুতর ফাউলের অভিযোগ উঠলেও রেফারি তাকে কার্ড দেখাননি—এমন দাবিও জোরালো হয়েছে।চীনা সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের একটি প্রতিবেদন বলা হয়, ‘আর্জেন্টিনা আউট ডটকম’ (ArgentinaOut.com) নামের একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কারের এই প্রচারণা চালানো হচ্ছে।তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এটি স্পষ্ট যে ফিফা এবং রেফারিরা লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনার প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে। জয়ী যদি আগেই নির্ধারিত হয়ে থাকে, তবে বাকি বিশ্বের আর প্রতিযোগিতা করার প্রয়োজনীয়তা কী? আমরা দাবি জানাই, আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কার করা হোক এবং বাকি দলগুলোকে একটি ন্যায্য সুযোগ দেয়া হোক।’আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্স এবং রেফারিদের ভূমিকা নিয়ে মাঠের বাইরে এই তুমুল বিতর্কের মধ্যেই আজ রাতে মাঠে গড়াচ্ছে ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা মহারণ। ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ কেন্দ্রিক রাজনৈতিক বৈরিতা এবং ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল—এই দুইয়ের মিশেলে দুই দেশের ফুটবল দ্বৈরথ সবসময়ই উত্তেজনার পারদ বাড়িয়ে দেয়।ম্যারাডোনার সেই বিখ্যাত ঘটনার ঠিক ৪০ বছর পর আজ আবারও মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। একদিকে লিওনেল মেসির একক নৈপুণ্যে টানা দ্বিতীয় শিরোপার স্বপ্ন দেখছে আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে বিতর্ক আর চাপের মুখে পড়া বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা এই ম্যাচে কেমন প্রভাব ফেলে—তা দেখতেই এখন তাকিয়ে আছে গোটা বিশ্ব।
ঢাকাই সিনেমার চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ ও অভিনেত্রী কেয়া পায়েলের ফেসবুক পোস্টের একটি ঘনিষ্ঠ ছবি ঘিরে সামাজিকমাধ্যমে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। দুজনই নিজেদের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ছবিটি প্রকাশ করেছেন।ছবিতে কেয়া পায়েলকে আলিঙ্গন করে রয়েছেন শুভ। ছবির ক্যাপশনে লেখা, হ্যাপিলি ম্যারিড উইথ কেয়া পায়েল।এমন পোস্ট প্রকাশের পর অনেকেই ধারণা করেন, সত্যিই হয়ত বিয়ে করেছেন এই দুই তারকা। বিশেষ করে আরিফিন শুভর ব্যক্তিগত জীবনের পরিবর্তনের পর এমন জল্পনা আরও জোরালো হয়। তবে বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাস্তবে তাদের বিয়ে হয়নি। এ বিষয়ে জানা গেছে, এটি নতুন একটি ওয়েব ফিল্মের প্রচারণার অংশ।‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ শিরোনামের ওয়েব ফিল্মে প্রথমবারের মতো জুটি বেঁধেছেন আরিফিন শুভ ও কেয়া পায়েল। এটি পরিচালনা করছেন জাহিদ প্রীতম এবং প্রযোজনা করছে ছবিয়াল। ইতোমধ্যেই এর শুটিং শুরু হয়েছে।
গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবার এবং ১০ শিল্পগোষ্ঠীর দেশে-বিদেশে ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ আদালতের মাধ্যমে জব্দ করা হয়েছে। এই তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন।বুধবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বিএফআইইউয়ের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে বিএফআইইউয়ের প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন এ তথ্য জানান।অনুষ্ঠানে ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন বলেন, শেখ হাসিনার পরিবার ও ১০ শিল্পগোষ্ঠীর কাছে থাকা সম্পদের মধ্যে দেশের মধ্যে জব্দ করা হয়েছে ৫৭ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকার সম্পদ বিদেশে জব্দ করা হয়েছে।তবে কার কত সম্পদ জব্দ করা হয়েছে, সেই তথ্য আলাদা করে জানাতে চাননি তিনি।তিনি বলেন, দেশ থেকে যে সম্পদ চুরি হয়ে গেছে, তা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। আশা করছি, এ বছরের শেষে সম্পদ উদ্ধারের বিষয়ে সুখবর দিতে পারব।ছাত্র-জনতার গণ–অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর তিনি ভারতে চলে যান। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবার ও ১০ শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, প্রতারণা, জালিয়াতি, মুদ্রা পাচার, কর ও শুল্ক ফাঁকি এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু হয়।তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।আজকের বিএফআইইউয়ের অনুষ্ঠানে এক সাংবাদিক জানতে চান, দেশে কোনো সরকার ক্ষমতা থেকে চলে গেলেই তাদের বিষয়ে অনুসন্ধান হয়, সম্পদ জব্দ হয়। এটি কেন? আর অন্তর্বর্তী সরকারে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিদের বিষয়েও তদন্ত করা হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাব দেন বিএফআইইউয়ের প্রধান।বিএফআইইউয়ের প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন বলেন, আমরা কাজ করার ক্ষেত্রে দলমত ও ব্যক্তির দিকে তাকাব না। আমরা দেখব কাজের দিকে। সন্দেহজনক লেনদেন হলেই ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়। সন্দেহজনক লেনদেন যিনি করে থাকেন না কেন, এখানে সেই ব্যক্তির পরিচয় আমাদের কাছে মুখ্য বিষয় নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের কেউ করে থাকলে, সেটাও সামনে আসবে।
৯ ঘন্টা আগে
ইসলামের দৃষ্টিতে বন্যায় ঘরবাড়ি বা সম্পদ হারানো একজন মুমিনের জন্য ধৈর্যের পরীক্ষা। তিনি ধৈর্য ধারণ করলে এটি গুনাহ মাফ, মর্যাদা বৃদ্ধি এবং আখেরাতে মহান প্রতিদানের কারণ হতে পারে। পাশাপাশি বন্যার পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণকারীর জন্য সহিহ হাদিসের আলোকে শহীদের মর্যাদা লাভের আশা করা যায়।ভয়াবহ বন্যা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে মুহূর্তের মধ্যে মানুষের ঘরবাড়ি, ফসল, গবাদিপশু ও জীবনের সব সঞ্চয় নষ্ট হয়ে যেতে পারে। খোলা আকাশের নিচে আশ্রয়হীন মানুষের হৃদয়ে তখন হাহাকার নেমে আসা স্বাভাবিক। এমন কঠিন সময়ে একজন মুমিনের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে- এই অপূরণীয় ক্ষতির কি কোনো প্রতিদান আছে? ইসলাম এ বিষয়ে কী শিক্ষা দেয়?পবিত্র কোরআন ও সহিহ হাদিসে বর্ণিত শিক্ষা হলো- মুমিন যদি এমন কঠিন বিপদে ধৈর্য ধারণ করেন এবং আল্লাহর ফয়সালার প্রতি সন্তুষ্ট থাকেন, এই ক্ষতি তার জন্য গুনাহ মাফ, মর্যাদা বৃদ্ধি এবং আখেরাতে মহান প্রতিদানের কারণ হতে পারে।বিপদ ঈমানের পরীক্ষাপ্রাকৃতিক দুর্যোগ বা সম্পদের ক্ষতি সব সময় অমঙ্গলের নিদর্শন নয়; অনেক সময় এটি ঈমানের পরীক্ষা।মহান আল্লাহ বলেন- ‘আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং সম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলের ক্ষতির মাধ্যমে। আর ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন।’ (সুরা বাকারা: ১৫৫)পরবর্তী আয়াতগুলোতে আল্লাহ তাআলা ধৈর্যশীলদের প্রশংসা করেছেন এবং তাদের জন্য রহমত ও হেদায়াতের সুসংবাদ দিয়েছেন। (সুরা বাকারা: ১৫৬-১৫৭)সম্পদ আল্লাহর আমানতদুনিয়ার সব সম্পদই মূলত আল্লাহর দেওয়া আমানত। তিনি তাঁর হিকমত অনুযায়ী কাউকে সম্পদ দান করেন, আবার তাঁর ইচ্ছায় তা ফিরিয়েও নেন। তাই সম্পদ হারিয়ে হতাশ না হয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখাই একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্য।উম্মে সালামাহ (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (স.) যেকোনো মুসিবতের সময় এই দোয়া পড়তে শিক্ষা দিয়েছেন- اللَّهُمَّ أْجُرْنِي فِي مُصِيبَتِي وَاخْلُفْ لِي خَيْرًا مِنْهَاউচ্চারণ: আল্লাহুম্মা'জুরনি ফি মুসিবাতি, ওয়াখলুফ লি খাইরাম মিনহা। অর্থ: হে আল্লাহ! আমার এই বিপদে আমাকে সওয়াব দান করুন এবং এর পরিবর্তে আমাকে এর চেয়ে উত্তম কিছু দান করুন। (সহিহ মুসলিম: ৯১৮) বি.দ্র: দোয়াটি পড়ার আগে ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন পড়া হাদিসের শিক্ষা।বিপদের কষ্ট গুনাহ মাফের কারণবন্যার পানিতে ভিজে থাকা, আশ্রয়ের অভাব, ক্ষুধা বা দুশ্চিন্তা মুমিনের প্রতিটি কষ্টের বিনিময়ে আল্লাহ তার গুনাহ মাফ করে দেন।রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন- ‘মুসলিম ব্যক্তির ওপর যে ক্লান্তি, রোগ, দুশ্চিন্তা, শোক, কষ্ট কিংবা যন্ত্রণা আসে- এমনকি একটি কাঁটার আঘাতও; এর বিনিময়ে আল্লাহ তার গুনাহগুলো মাফ করে দেন।’ (সহিহ বুখারি: ৫৬৪১; সহিহ মুসলিম)বন্যায় মৃত্যু ও আখেরাতের শহীদি মর্যাদাবন্যায় সম্পদ হারানো যেমন কষ্টের, তার চেয়েও বড় কষ্ট প্রিয়জনকে হারানো। সহিহ হাদিসে পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণকারীকে শহীদের মর্যাদাপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন- ‘শহীদ পাঁচ প্রকার... তাদের মধ্যে একজন হলো পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণকারী।’ (সহিহ বুখারি: ২৮২৯; সহিহ মুসলিম)তাই যদি কেউ বন্যার পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণ করেন, তবে সহিহ হাদিসের আলোকে তার জন্য আখেরাতে শহীদের মর্যাদা লাভের আশা করা যায়। তবে চূড়ান্ত প্রতিদান ও মর্যাদা একমাত্র আল্লাহ তাআলাই নির্ধারণ করবেন।বিপদ মানেই কি আল্লাহর গজব?প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটলেই অনেকেই সেটিকে আল্লাহর গজব বা শাস্তি বলে প্রচার করেন। তবে কোরআন-সুন্নাহর আলোকে কোনো নির্দিষ্ট দুর্যোগকে নিশ্চিতভাবে আল্লাহর গজব বলা যায় না।এ ধরনের ঘটনা কারও জন্য সতর্কবার্তা হতে পারে, আবার কারও জন্য ঈমানের পরীক্ষা ও মর্যাদা বৃদ্ধির মাধ্যমও হতে পারে। তাই দুর্যোগের সময় অন্যদের নিয়ে মন্তব্য না করে নিজের আমল সংশোধন করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই ইসলামের শিক্ষা।আর্তমানবতার পাশে দাঁড়ানোও ইবাদতবন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, এটি বড় ধরনের ইবাদতও।রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন- ‘যে ব্যক্তি দুনিয়ায় কোনো মুসলিমের কষ্ট দূর করবে, আল্লাহ কেয়ামতের দিন তার একটি কষ্ট দূর করে দেবেন।’ (সহিহ মুসলিম: ২৫৮০)তাই খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ, আশ্রয় ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া একজন মুসলিমের জন্য অত্যন্ত সওয়াবের কাজ।একজন মুমিনের কাছে বন্যায় হারিয়ে যাওয়া ঘরবাড়ি বা সম্পদই শেষ কথা নয়। যদি সে ধৈর্য ধারণ করে, আল্লাহর ফয়সালার প্রতি সন্তুষ্ট থাকে এবং তাঁর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করে, তবে দুনিয়ার এই ক্ষতি আখেরাতে মহান প্রতিদানের কারণ হতে পারে। মহান আল্লাহ বলেন- ‘নিশ্চয়ই ধৈর্যশীলদের তাদের প্রতিদান অগণিতভাবে দেওয়া হবে।’ (সুরা জুমার: ১০)তাই এই কঠিন সময়ে হতাশ না হয়ে আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করা, ইস্তেগফার করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই একজন প্রকৃত মুমিনের দায়িত্ব।তথ্যসূত্র: সুরা বাকারা: ১৫৫–১৫৭; সুরা জুমার: ১০; সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম
জ্বর, গলা ব্যথা, সর্দি-কাশি বা শরীর খারাপ হলেই অনেকেই দ্রুত সুস্থ হওয়ার আশায় অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে ফেলেন। আবার কেউ কেউ চিকিৎসকের কাছেও অ্যান্টিবায়োটিকের জন্য জোর করেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রয়োজন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া শুধু অকার্যকরই নয়, এটি শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণও হতে পারে।বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যান্টিবায়োটিক শুধু ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের বিরুদ্ধে কাজ করে। যেমন গলার ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ, কানের সংক্রমণ, ত্বকের সংক্রমণ, মূত্রনালির সংক্রমণ কিংবা কিডনির কিছু সংক্রমণে এটি কার্যকর। কিন্তু সাধারণ সর্দি, মৌসুমি জ্বর, ফ্লু বা করোনা ভাইরাসজনিত অসুস্থতায় অ্যান্টিবায়োটিক কোনো উপকার করে না।অনেক সময় ভাইরাসজনিত অসুস্থতার লক্ষণ ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের সঙ্গে মিল থাকায় মানুষ বিভ্রান্ত হন। তবে কোন রোগে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করবেন চিকিৎসক।বিশেষজ্ঞরা জানান, অকারণে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে শরীরে নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ত্বকে র্যাশ, ডায়রিয়া, বমি বমি ভাব, বমি, অ্যালার্জি এবং কিডনি বা যকৃতের কার্যকারিতায় সমস্যা।এছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক শরীরের উপকারী ব্যাকটেরিয়াও ধ্বংস করে দেয়। বিশেষ করে অন্ত্রের উপকারী জীবাণু হজমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এগুলো নষ্ট হয়ে গেলে ক্ষতিকর জীবাণু সহজে বৃদ্ধি পেতে পারে এবং গুরুতর সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।বিশেষজ্ঞদের আরেকটি বড় উদ্বেগ হলো অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হওয়া। প্রয়োজন ছাড়া বারবার অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করলে ব্যাকটেরিয়া ধীরে ধীরে ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ফলে ভবিষ্যতে সত্যিকারের সংক্রমণ হলেও সেই অ্যান্টিবায়োটিক আর কার্যকর নাও হতে পারে। তখন আরও শক্তিশালী ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে, যার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও বেশি।এ ধরনের প্রতিরোধ শুধু একজন ব্যক্তির জন্য নয়, পুরো সমাজের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করে। কারণ ওষুধ-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া সহজেই অন্য মানুষের শরীরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে এমন সংক্রমণের সংখ্যা বাড়ে, যেগুলোর চিকিৎসা কঠিন হয়ে পড়ে।বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কখনো অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া উচিত নয়। কেন এই ওষুধ দেওয়া হচ্ছে, কতদিন খেতে হবে এবং এটি আদৌ প্রয়োজন কি না—এসব বিষয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করা জরুরি।এছাড়া চিকিৎসক অ্যান্টিবায়োটিক দিলে সেটি নির্ধারিত নিয়ম মেনে পুরো কোর্স শেষ করতে হবে। মাঝপথে ওষুধ বন্ধ করা, অন্যের অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া বা ভবিষ্যতের জন্য ওষুধ জমিয়ে রাখা কোনোভাবেই ঠিক নয়।বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যান্টিবায়োটিক জীবনরক্ষাকারী ওষুধ হলেও এটি তখনই কার্যকর, যখন সঠিক রোগে এবং সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয়। তাই নিজের ইচ্ছায় নয়, চিকিৎসকের পরামর্শেই অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করা সবচেয়ে নিরাপদ।সূত্র: জাতিসংঘ হেলথ কেয়ার
২০৫০ সালের মধ্যে চরম তাপমাত্রার ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের শীর্ষ ৬টি দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।সোমবার ২৬ জানুয়ারি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাতে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার সাসটেইনেবিলিটি’-তে এই গবেষণাটি প্রকাশ হয়।ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার অব্যাহত থাকলে আগামী ২৫ বছরের মধ্যে চরম তাপপ্রবাহে আক্রান্ত বৈশ্বিক জনসংখ্যার হার প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। শিল্প-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় যদি বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়, তবে চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ বিশ্বের ৪১ শতাংশ মানুষ (প্রায় ৩৭৯ কোটি) অসহনীয় তাপমাত্রার মধ্যে বসবাস করবে। ২০১০ সালে এই পরিস্থিতির শিকার জনগোষ্ঠীর হার ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ (১৫৪ কোটি)।
এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত না করার সিদ্ধান্ত এবং পরীক্ষার্থীদের শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের ‘ফার্মের মুরগি’ বলে মন্তব্যকে ঘিরে চলমান বিতর্কের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করেছে ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ নামে একটি ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম। শিক্ষামন্ত্রীর একটি ফোনালাপ ভাইরাল হওয়ার পর এ উদ্যোগকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ফেসবুকে ‘Broiler Chicken Party’ নামে একটি পেজ চালু করা হয়। ‘We are the Broiler Generation; We are not insulted, We are awakened’ (আমরা ব্রয়লার প্রজন্ম; আমরা অপমানিত নই, আমরা জাগ্রত) স্লোগান নিয়ে যাত্রা শুরু করা পেজটিতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হাজারো অনুসারী যুক্ত হন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এ প্রতিবেদন লেখার আগ পর্যন্ত ৯ হাজার ফলোয়ার যুক্ত হন এই পেজে।পেজ কর্তৃপক্ষ এক পোস্টে দাবি করেছে, এটিই তাদের একমাত্র অফিসিয়াল পেজ এবং বিভাগীয় বা জেলা পর্যায়ে তাদের কোনো আলাদা পেজ নেই।উল্লেখ্য, ‘ফার্মের মুরগি’ বিতর্কের সূত্রপাত টানা ভারী বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যেও এইচএসসি পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে ঘিরে। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সমালোচনার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের একটি ফোনালাপের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। রাজধানীর সিটি কলেজের এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক হোয়াটসঅ্যাপে মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সময় সেই আলাপ অন্য একটি মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়।ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে পরীক্ষার্থীদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘এগুলো তো ফার্মের মুরগি। একটু বৃষ্টিতে ভিজলেই জ্বর চলে আসে।’ একই ফোনালাপে তিনি দাবি করেন, ব্যক্তিগতভাবে পরীক্ষা স্থগিতের পক্ষে থাকলেও জেলা প্রশাসন, শিক্ষা বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ‘ফার্মের মুরগি’ মন্তব্যকে অপমানজনক উল্লেখ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজধানীর সায়েন্সল্যাব, শাহবাগ, উত্তরাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। আন্দোলনে ‘আমি কে, তুমি কে, ফার্মের মুরগি’ স্লোগানের পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও ওঠে। পরে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর ও বরিশালসহ বিভিন্ন স্থানেও একই দাবিতে কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।এদিকে নতুন খোলা ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ পেজে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ছবি, ভিডিও, বিভিন্ন কর্মসূচির আপডেট, ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট ও হ্যাশট্যাগভিত্তিক নানা কনটেন্ট প্রকাশ করা হচ্ছে। পেজটির প্রোফাইল ছবি প্রকাশের পর অল্প সময়েই সেটি শতাধিকবার শেয়ার হয় এবং দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই দাবি করছেন, এই প্ল্যাটফর্মটি ভারতের ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন উদ্যোগ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র আদলে তৈরি। গত মে মাসে ভারতের এক বিচারপতির মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া সেই অনলাইন উদ্যোগ পরে তরুণদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার প্রতীকী প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছিল।