ঢালিউডের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি আশরাফুল হক ডনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার (৯ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা ঢাকাই চলচ্চিত্রের এই খলনায়ককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।এর আগে, আশরাফুল হক ডনকে জামিনে মুক্তি দিলে তদন্তে বিঘ্ন সৃষ্টি এবং পুনরায় পলাতক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে জানিয়ে তাকে জেলহাজতে আটক রাখার আবেদন করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।রোববার ভোর ৫টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আশরাফুল হক ডনকে আটক করে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। পরে তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করলে তারা তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠায়। আদালতের হাজতখানায় রাখার পর বিকেলে তাকে এজলাসে তোলা হয়।সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান জানান, সালমান শাহ হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি আশরাফুল হক ডন। গত বছরের ২১ অক্টোবর মামলার পর আত্মগোপনে ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের এই খলনায়ক। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থেকে যেতে চেয়েছিলেন সৌদি আরবে ওমরাহ করার জন্য। তবে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার সময় ধরা পড়েন তিনি।এদিকে, আদালতে পাঠানো সিআইডির প্রতিবেদনে বলা হয়, আশরাফুল হক ডন দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। তাকে পুলিশ হেফাজতে এনে মামলার বিষয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া চলছিল। জামিনে মুক্তি পেলে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তিনি পুনরায় পলাতক হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে সিআইডি। এ কারণে তার জামিনের বিরোধিতা করে তাকে জেলহাজতে আটক রাখার আবেদন করা হয়।ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।মামলার এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহকে এজাহারনামীয় অন্যান্য আসামি ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা পরস্পর যোগসাজশে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করেন।বর্তমানে মামলার তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিআইডি। আলোচিত এ মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ এরই মধ্যে আটবার পিছিয়েছে। সবশেষ আগামী ৩০ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেছেন আদালত।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিভ্রান্তকারীদের কোনো প্ররোচনায় বাংলাদেশের মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না। বাংলাদেশের মানুষ এখন সামনের দিকে যাবে। বাংলাদেশের মানুষ নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে। বাংলাদেশের মানুষ একই সাথে তার দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে।রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে গৃহ হস্তান্তর, অনুদান ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর এখন দেশ গঠনের সময় এসেছে। পৃথিবীর বহু দেশ আমাদের পরে স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু তারা কাজ করার মাধ্যমে, পরিশ্রম করার মাধ্যমে তাদের দেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে। কাজেই আর পেছনে পড়ে থাকা যাবে না। জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও দেশের ভাগ্য পরিবর্তনই এখন একমাত্র লক্ষ্য। নিজের ঘোষিত পরিকল্পনার প্রতি জনসমর্থন প্রত্যাশা করে তারেক রহমান বলেন, বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ এবং জনসমর্থন থাকলে সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত, প্রত্যেকটি হাত শ্রমিকের হাতে রূপান্তর করতে চাই আমরা, যাতে করে প্রত্যেকটি মানুষ নিজের হাতের পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের এবং পরিবারের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারে।
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার (৯ আগস্ট) বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির দুজন সিনিয়র সদস্য এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।তারা জানান, বুধবার (১২ আগস্ট) দলীয়ভাবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বর্তমানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। পাশাপাশি তিনি দলের মহাসচিব পদেও রয়েছেন।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দেড় যুগের বেশি সময় পর বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে। এখন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব চাইবে এমন একজনকে রাষ্ট্রপতি করতে, যিনি রাষ্ট্রের সংকটময় মুহূর্তে শক্ত হাতে হাল ধরতে সক্ষম ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য। কেননা, দেশের যেকোনো সংকটকালে রাষ্ট্রপতিকে অভিভাবকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হয়। মির্জা ফখরুল সেটি পারবেন।মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিএনপি মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দলের কঠিন সময়ে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দলের বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালনে তার ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। তার সুচিন্তিত বক্তব্য ও শান্ত রাজনৈতিক কৌশল দলমত নির্বিশেষে রাজনৈতিক মহলে তাকে একটি বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা দিয়েছে। এ ছাড়া দেশের ভেতরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তার সমন্বয়ক ভূমিকা অনস্বীকার্য। তবে মির্জা ফখরুলের ব্যক্তিত্ব, অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা তাকে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক অভিভাবকের পদে সম্ভাব্য বিবেচনায় শীর্ষ সারিতে রেখেছে।সংশ্লিষ্টরা জানান, বিএনপিতে বিশ্বস্ততা ও দুঃসময়ের কাণ্ডারি হিসেবে মির্জা ফখরুল অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একজন ‘সাদামাটা ও সজ্জন’ রাজনীতিবিদ হিসেবে সমধিক পরিচিত। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ আজ পর্যন্ত মেলেনি। শুধু তা-ই নয়, রাজনৈতিক বিতর্কে শালীনতা বজায় রাখা এবং মার্জিত আচরণের জন্য তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের কাছেও সমানভাবে শ্রদ্ধেয়। বিশেষ করে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপির চরম দুঃসময়ে দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন মির্জা ফখরুল।বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুমা খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি এবং বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রবাস জীবনে থেকে অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখে নেতৃত্ব দিয়েছেন মির্জা ফখরুল। শত শত মামলা, হামলা ও কারাবরণ সত্ত্বেও জিয়া পরিবারের প্রতি তার অবিচল আনুগত্য এবং সাংগঠনিক কর্মতৎপরতা তাকে নেতাকর্মীদের কাছে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। টানা বহু বছর প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দলের জাতীয় রাজনীতি সামলানোর কারণে শীর্ষ পদের জন্য তাকে একজন যোগ্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করেন অনেক নেতাকর্মী ও সমর্থক। রাষ্ট্রপতির মতো আলংকারিক ও নিরপেক্ষ ভারসাম্য বজায় রাখার পদের জন্য তার মেজাজ ও ব্যক্তিত্ব মানানসই বলে মনে করেন অনেকে।এ ছাড়া রাজনৈতিক অঙ্গনে মির্জা ফখরুলের রয়েছে সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা। যেহেতু রাষ্ট্রপতি পদটি কোনো একক দলের নয়, বরং তা রাষ্ট্রের। তিনি তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় প্রমাণ করেছেন, তিনি উগ্রবাদ বিরোধী এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। সেইসঙ্গে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষা এবং সুশীল সমাজের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক তাকে একজন ‘গার্ডিয়ান ফিগার’ হিসেবে উপস্থাপন করে। আন্তর্জাতিকভাবে কূটনৈতিক মহলেও তার আলাদা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, যা নতুন সরকারের জন্য বৈশ্বিক সম্পর্ক উন্নয়নে সহায়ক হবে।১৯৪৮ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেওয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রয়েছে বর্ণাঢ্য পারিবারিক ইতিহাস। তার বাবা মরহুম রুহুল আমিন (চখা মিয়া) ছিলেন কৃষি প্রতিমন্ত্রী। তার বড় চাচা মির্জা গোলাম হাফিজ ১৯৭৮ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত ভূমিমন্ত্রী এবং ১৯৭৯ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত দ্বিতীয় জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১-১৯৯৬ সাল পর্যন্ত আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন।দেশের বর্ষীয়ান নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম সাবেক শিক্ষক এবং অভিজ্ঞ সংসদ সদস্য। ৭৯ বছর বয়সী এ নেতার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও ধীরস্থির সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাকে অভিভাবকত্বের আসনে বসানোর জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত করে তুলেছে। মির্জা ফখরুল ১৯৭২ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষা ক্যাডারে ঢাকা কলেজে অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করেন। পরবর্তী সময়ে বেশ কয়েকটি সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেন। তিনি বাংলাদেশ সরকারের পরিদর্শন ও আয়-ব্যয় পরীক্ষণ অধিদপ্তরে নিরীক্ষক হিসেবেও কাজ করেন। ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এসএ বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পান। ১৯৮২ সালে মরহুম এইচএম এরশাদ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর বারী পদত্যাগ করার আগ পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। বারী পদত্যাগ করার পর মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজে অর্থনীতির অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষকতা করেন।মির্জা ফখরুল ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ থেকে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্রথমে কৃষি মন্ত্রণালয় ও পরবর্তীকালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।নিয়ম অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়। এজন্য ইতোমধ্যে সংসদ সচিবালয় থেকে ভোটার তালিকা তথা সংসদ সদস্যদের নাম ইসি সচিবালয়ে পাঠানো হয়েছে। আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট হবে।
বাবা হোর্হে মেসিকে শেষ বিদায় জানাতে আর্জেন্টিনার রোজারিওতে পৌঁছেছেন লিওনেল মেসি। স্থানীয় সময় শনিবার (৮ আগস্ট) রাত ৮টা ৪০ মিনিটে রোজারিওতে পৌঁছান তিনি। এ সময় মেসির সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো ও সন্তানরা।এরপর পুলিশের নিরাপত্তাবেষ্টনীতে একটি ভ্যানে করে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন তিনি। বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। রোজারিওর কাছের শহর পেরেজে হোর্হে মেসিকে সমাহিত করা হবে।এর আগে স্থানীয় সময় শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে মারা যান হোর্হে মেসি। তার মৃত্যুর কারণ ও পরিস্থিতি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। তবে জানা গেছে, ৬৮ বছর বয়সী এই ব্যবসায়ী ও আর্জেন্টাইন অধিনায়কের বাবা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতার সঙ্গে লড়ছিলেন।বিশ্বকাপ চলাকালেই জানা গিয়েছিল গুরুতর অসুস্থ মেসির বাবা হোর্হে মেসি, লড়ছেন মৃত্যুর সঙ্গে। এরপর গতকাল (শনিবার) আর্জেন্টিনার রোজারিওতে নেমে আসে সেই শোকাবহ দিন। ফুটবল বিশ্বের সর্বকালের অন্যতম সেরা তারকা হয়ে ওঠা মেসির পুরো ক্যারিয়ারজুড়ে তার বাবা হোর্হে মেসি ছিলেন অন্যতম সঙ্গী ও এজেন্ট।আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস বলছে, হোর্হে মেসির শেষ বিদায়ের আয়োজন হবে একান্ত পারিবারিক পরিসরে, শুধু পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে। তবে মেসির বাবার মরদেহ যেখানে সমাহিত হওয়ার কথা, সেই কবরস্থানের ফটকে এরই মধ্যে ভিড় করেছেন অসংখ্য ভক্ত। প্রিয় তারকার এই কঠিন সময়ে পাশে থাকার জন্যই সেখানে জড়ো হয়েছেন তারা।ক্যারিয়ারের পুরো পথচলায় মেসিকে সমর্থন দিয়ে গেছেন তার বাবা। তাকে শেষবিদায় জানানো এবং শোকাহত পরিবারের পাশে থাকতে চান তিনি, বিশেষ করে মা সেলিয়ার পাশে। শেষকৃত্যের পর মেসির মায়ামিতে ফেরার কথা থাকলেও, তাকে দ্রুত ফেরানোর পরিকল্পনা নেই ইন্টার মায়ামির। লিগস কাপের গ্রুপ পর্বে আজ (রোববার) মন্টেরির বিপক্ষে ম্যাচে তার শুরুর একাদশে থাকার কথা ছিল। তবে বাবার মৃত্যুর কারণে সেই ম্যাচ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
ঢালিউডের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি আশরাফুল হক ডনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার (৯ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা ঢাকাই চলচ্চিত্রের এই খলনায়ককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।এর আগে, আশরাফুল হক ডনকে জামিনে মুক্তি দিলে তদন্তে বিঘ্ন সৃষ্টি এবং পুনরায় পলাতক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে জানিয়ে তাকে জেলহাজতে আটক রাখার আবেদন করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।রোববার ভোর ৫টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আশরাফুল হক ডনকে আটক করে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। পরে তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করলে তারা তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠায়। আদালতের হাজতখানায় রাখার পর বিকেলে তাকে এজলাসে তোলা হয়।সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান জানান, সালমান শাহ হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি আশরাফুল হক ডন। গত বছরের ২১ অক্টোবর মামলার পর আত্মগোপনে ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের এই খলনায়ক। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থেকে যেতে চেয়েছিলেন সৌদি আরবে ওমরাহ করার জন্য। তবে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার সময় ধরা পড়েন তিনি।এদিকে, আদালতে পাঠানো সিআইডির প্রতিবেদনে বলা হয়, আশরাফুল হক ডন দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। তাকে পুলিশ হেফাজতে এনে মামলার বিষয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া চলছিল। জামিনে মুক্তি পেলে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তিনি পুনরায় পলাতক হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে সিআইডি। এ কারণে তার জামিনের বিরোধিতা করে তাকে জেলহাজতে আটক রাখার আবেদন করা হয়।ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।মামলার এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহকে এজাহারনামীয় অন্যান্য আসামি ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা পরস্পর যোগসাজশে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করেন।বর্তমানে মামলার তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিআইডি। আলোচিত এ মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ এরই মধ্যে আটবার পিছিয়েছে। সবশেষ আগামী ৩০ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেছেন আদালত।
জরুরি মুহূর্তে মোবাইল রিচার্জ ও গ্যাস-বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল পরিশোধের সুবিধার্থে গ্রাহকদের জন্য নতুন একটি ডিজিটাল ঋণব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই সেবার আওতায় মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিনা সুদে ৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ধার নেওয়ার সুযোগ পাওয়া যাবে।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রণীত নতুন খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, গৃহীত এই ক্ষুদ্রঋণ আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। মূলত দেশে ক্যাশলেস বা নগদবিহীন অর্থনীতির বিকাশ ঘটাতে এবং ডিজিটাল আর্থিক সেবার পরিধি আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সর্বসাধারণ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের জন্য এরই মধ্যে খসড়াটি প্রকাশ করা হয়েছে। সবার পরামর্শ ও মতামত নিবিড়ভাবে পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত নির্দেশনা জারি করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।প্রস্তাবিত নীতিমালায় স্পষ্ট করা হয়েছে, ডিজিটাল এই ঋণের ওপর কোনো ধরনের সুদ প্রযোজ্য হবে না। তবে ঋণের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে ব্যাংক বা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নির্দিষ্ট অঙ্কের সার্ভিস ফি বা সেবামূল্য আদায় করতে পারবে। নির্ধারিত কাঠামো অনুযায়ী, ৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত ঋণে সর্বোচ্চ ৫ টাকা এবং ২৫১ থেকে ৫০০ টাকার ক্ষেত্রে ১০ টাকা ফি ধার্য করা হয়েছে। একইভাবে ৫০১ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত ১৫ টাকা, এক হাজার এক থেকে দুই হাজার টাকার ক্ষেত্রে ২৫ টাকা, দুই হাজার এক থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত ৩৫ টাকা এবং তিন হাজার এক থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের জন্য সর্বোচ্চ ৫০ টাকা সার্ভিস ফি দিতে হবে।বাংলাদেশ ব্যাংক কঠোরভাবে নির্দেশনা দিয়েছে যে, অনুমোদিত এই সার্ভিস ফি ছাড়া গ্রাহকের কাছ থেকে কোনো ধরনের সুদ, জরিমানা, প্রসেসিং ফি বা অতিরিক্ত অন্য কোনো অর্থ আদায় করা যাবে না। এমনকি কোনো গ্রাহক যদি নির্ধারিত ৩০ দিন সময়ের আগেই ঋণের টাকা পরিশোধ করে দেন, তবে তার কাছ থেকে আগাম সমন্বয়ের (আর্লি সেটেলমেন্ট) জন্য বাড়তি কোনো ফি নেওয়ারও সুযোগ থাকবে না।আধুনিক এই ঋণ প্রদান ও গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে সম্পূর্ণ ডিজিটাল মাধ্যমে। সনাতন পদ্ধতির মতো কাগজের নথিপত্রে স্বাক্ষরের কোনো প্রয়োজন এতে পড়বে না। এর পরিবর্তে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে গ্রাহকের সম্মতি গ্রহণ এবং বায়োমেট্রিক পদ্ধতির মাধ্যমে পরিচয় যাচাই করে দ্রুততার সঙ্গে এই ঋণ অনুমোদন করবে ব্যাংকগুলো।
২১ ঘন্টা আগে
দোয়া মহান রবের কাছে বান্দার বিনীত প্রার্থনা, নির্ভরতা ও আত্মসমর্পণের প্রকাশ। এটি মুমিনের শ্রেষ্ঠ ইবাদতগুলোর একটি। দোয়ার মাধ্যমেই বান্দা মহান আল্লাহর সঙ্গে নিজের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘আল্লাহর কাছে দোয়ার চেয়ে অধিক সম্মানিত কোনো কিছু নেই।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ: ৩৮২৯)মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’ (সুরা গাফির: ৬০)কোরআন ও হাদিসে এমন কয়েক শ্রেণির মানুষের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যাঁদের দোয়া বিশেষভাবে কবুল হওয়ার সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে।দোয়া কখনও বিফলে যায় নাঅনেক সময় মানুষ মনে করেন, তাঁর দোয়া কবুল হয়নি। অথচ রাসুলুল্লাহ (স.) জানিয়েছেন, কোনো মুসলিম পাপের জন্য কিংবা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার উদ্দেশ্যে দোয়া না করলে আল্লাহ তাঁর দোয়ার তিনটি প্রতিদানের একটি দান করেন। হয় তিনি সঙ্গে সঙ্গে দোয়া কবুল করেন, অথবা তার প্রতিদান আখেরাতের জন্য সঞ্চিত রাখেন, কিংবা সমপরিমাণ কোনো বিপদ দূর করে দেন। (মুসনাদে আহমদ: ১১১৩৩)যাদের দোয়া দ্রুত কবুল হয়১. মজলুম বা নির্যাতিত ব্যক্তির দোয়াঅন্যায়ের শিকার মানুষের দোয়া আল্লাহ বিশেষভাবে কবুল করেন। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘মজলুমের ফরিয়াদকে ভয় করবে। কেননা তার ফরিয়াদ ও আল্লাহর মধ্যে কোনো পর্দা থাকে না।’ (সহিহ বুখারি: ২৪৪৮)২. নিরুপায় বা বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির দোয়াচরম বিপদে পড়ে যে ব্যক্তি একনিষ্ঠভাবে আল্লাহকে ডাকে, আল্লাহ তার ডাকে সাড়া দেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘বরং তিনি, যিনি নিরুপায়ের আহবানে সাড়া দেন এবং বিপদ দূরীভূত করেন।’ (সুরা নামল: ৬২)৩. সন্তানের জন্য মা-বাবার দোয়াসন্তানের জন্য মা-বাবার দোয়া আল্লাহর কাছে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (স.) ইরশাদ করেন, তিন ব্যক্তির দোয়া অবশ্যই কবুল হয়: ১. মা-বাবার দোয়া, ২. মুসাফিরের দোয়া, ৩. মাজলুমের দোয়া। (তিরমিজি: ১৯০৫)এ কারণে সন্তানের দায়িত্ব বাবা-মায়ের সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা। একই সঙ্গে বাবা-মায়েরও উচিত রাগ বা আবেগের বশে সন্তানের জন্য বদদোয়া না করা।৪. রোজাদারের দোয়ারোজা ইবাদতের পাশাপাশি দোয়া কবুলেরও বিশেষ সময়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (স.) ইরশাদ করেছেন, তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। ১. রোজাদার যখন ইফতার করে। ২. ন্যায়পরায়ণ শাসক। ৩. মজলুমের দোয়া।’ (তিরমিজি: ২৫২৫)আরও পড়ুন: ইফতার ও সাহরির সময়ের ৫ গুরুত্বপূর্ণ দোয়া৫. মুসাফিরের দোয়াসফররত ব্যক্তির দোয়াও আল্লাহ বিশেষভাবে কবুল করেন। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, তিনটি দোয়া মাকবুল- মাজলুমের দোয়া, মুসাফিরের দোয়া, সন্তানের জন্য তার পিতার দোয়া। (সুনানে তিরমিজি: ৩৪৪৮)৬. অসুস্থ ব্যক্তির দোয়াঅসুস্থ বান্দার প্রতি আল্লাহর বিশেষ রহমত থাকে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘তোমরা যখন কোনো রোগীর কাছে যাবে, তখন তার কাছে তোমাদের জন্য দোয়া চাইবে। কেননা তার দোয়া ফেরেশতাদের দোয়ার মতো।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৪৪১)৭. অনুপস্থিত মুসলিম ভাইয়ের জন্য দোয়াকোনো মুসলিম যখন তাঁর কোনো ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দোয়া করেন, তখন ফেরেশতারা বলেন, ‘আমিন। তোমার জন্যও অনুরূপ কল্যাণ হোক।’ (সহিহ মুসলিম: ২৭৩২)দোয়া কবুলের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ও আদবহালাল উপার্জনহালাল জীবিকা দোয়া কবুলের অন্যতম শর্ত। রাসুলুল্লাহ (স.) সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)-কে বলেন, ‘তোমার খাদ্য হালাল করো, তাহলে তোমার দোয়া কবুল হবে।’ (আল-মুজামুল আওসাত: ৬৪৯৫)হামদ ও দরুদ পাঠদোয়ার শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা এবং রাসুলুল্লাহ (স.)-এর প্রতি দরুদ পাঠ করা দোয়ার গুরুত্বপূর্ণ আদব। এক ব্যক্তি আল্লাহর প্রশংসা ও দরুদ পাঠ না করে দোয়া করলে নবী (স.) তাকে তাড়াহুড়া না করে সঠিক নিয়মে দোয়া করার নির্দেশ দেন। (সুনানে আবু দাউদ: ১৪৮১; সুনানে তিরমিজি: ৩৪৭৭)পাপের জন্য দোয়া না করাযে দোয়ায় পাপের বিষয় থাকে অথবা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার আবেদন থাকে, সেই দোয়া কবুল করা হয় না। (মুসনাদে আহমদ: ১১১৩৩)ধৈর্য ধারণরাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘প্রত্যেকের দোয়া কবুল হয়ে থাকে, যতক্ষণ না সে তাড়াহুড়া করে বলে, আমি তো দোয়া করলাম, কিন্তু কবুল হলো না।’ (সহিহ বুখারি: ৬৩৪০)দোয়া প্রয়োজন প্রকাশের পাশাপাশি আল্লাহর প্রতি গভীর আস্থা ও নির্ভরতার বহিঃপ্রকাশ। কোরআন ও হাদিসে যাঁদের দোয়া কবুল হওয়ার সুসংবাদ এসেছে, তাঁদের গুণাবলি নিজের জীবনে ধারণ করার চেষ্টা করা প্রত্যেক মুমিনের দায়িত্ব।
আমরা সবাই স্বাস্থ্যকর খাবার পছন্দ করতে চাই। তাই আমরা ব্রাউন ব্রেডের সঙ্গে সাদা পাউরুটি অদলবদল করি, বিস্কুটের পরিবর্তে একটি এনার্জি বার কিংবা বা এক গ্লাস ফলের রস খেয়ে ভাবি যে আমরা আমাদের শরীরের উপকার করছি। কিন্তু যদি এই তথাকথিত স্বাস্থ্যকর খাবারগুলো ততটা পুষ্টিকর না হয়? চতুর বিপণন, রঙিন প্যাকেজিং এবং লো-ফ্যাট, মাল্টিগ্রেন এবং প্রাকৃতিক ইত্যাদি শব্দের কারণে খাবারগুলোকে স্বাস্থ্যকর মনে হতে পারে। তবে কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো আমরা যতটা স্বাস্থ্যকর মনে করে খাই, ঠিক ততটা স্বাস্থ্যকর নয়।ব্রাউন ব্রেডবেশিরভাগ মানুষ ব্রাউন ব্রেড বেছে নেয় এই ভেবে যে, এটি সাদা রুটির চেয়ে অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। কিন্তু এটা সবসময় সত্য নয়। অনেক ক্ষেত্রে, ব্রাউন ব্রেড ময়দা দিয়ে তৈরি করা হয় এবং ক্যারামেল বা গুড় ব্যবহার করে বাদামি করা হয়। এটি স্বাস্থ্যকর দেখতে হতে পারে, কিন্তু পুষ্টিগতভাবে এটি সাদা রুটি থেকে খুব আলাদা নয়। শতভাগ গমের তৈরি রুটি প্রাকৃতিকভাবে ফাইবার সমৃদ্ধ এবং আপনাকে দীর্ঘ সময়ের জন্য পেট ভরিয়ে রাখবে। তাই পরের বার যখন আপনি কেনাকাটা করবেন, তখন রুটির রঙ দিয়ে বিচার করবেন না, তার পরিবর্তে উপাদানগুলো পরীক্ষা করুন।এনার্জি বারচতুর বিজ্ঞাপন কিছু খাবারকে স্বাস্থ্যকর হিসেবে দেখাতে পারে। এনার্জি বার ব্যস্ত সকাল, অফিসের বিরতি এবং এমনকী ওয়ার্কআউট-পরবর্তী ক্ষুধার্তের জন্য একটি জনপ্রিয় স্ন্যাক হয়ে উঠেছে। এগুলো প্রোটিন, ফাইবার এবং শক্তির প্রতিশ্রুতি দেয়, তবে এতে চিনি, সিরাপ, চকোলেট আবরণ এবং প্রিজারভেটিভ থাকতে পারে। কিছু বারে নিয়মিত চকোলেট বারের মতো প্রায় পরিমাণে চিনি থাকে। তাই স্বাস্থ্যকর হিসেবে উল্লেখ করা থাকলেও এগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অস্বাস্থ্যকর হতে পারে।স্বাদযুক্ত দইদই হলো স্বাস্থ্যকর খাবারের মধ্যে একটি। এটি প্রোটিন, ক্যালসিয়াম এবং অন্ত্র-বান্ধব প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ। কিন্তু একবার চিনি, ফলের সিরাপ এবং কৃত্রিম স্বাদ যোগ করা হলে এর উপকারিতা বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন হতে শুরু করে। অনেক স্বাদযুক্ত দইয়ে কয়েক চা চামচ যোগ করা চিনি থাকে, যা আর স্বাস্থ্যকর থাকে না। তাই দইয়ের উপকার পেতে চাইলে স্বাদযুক্ত দইয়ের বদলে টকদই বেছে নিন।প্যাকেটজাত ফলের রসএক গ্লাস ফলের রস আপনার প্রতিদিনের ফল খাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় বলে মনে হতে পারে তবে এটি পুরো ফল খাওয়ার মতো নয়। প্রক্রিয়াকরণের সময় বেশিরভাগ ফাইবার অপসারণ করা হয়, সেইসঙ্গে এতে থাকে অনেকটা প্রাকৃতিক শর্করা। কিছু প্যাকেটজাত জুসে চিনি যোগ করা থাকে। তাই ফলের রসের চেয়ে ফলই বেশি উপকারী।কম চর্বিযুক্ত খাবারলো-ফ্যাট- শব্দটি আশ্বস্ত করে, কিন্তু তা পুরো গল্পটি বলে না। যখন কোম্পানি খাবার থেকে চর্বি অপসারণ করে, সেখানে স্বাদ উন্নত করতে অতিরিক্ত চিনি, লবণ বা স্টার্চ যোগ করে। তাই ফ্যাট কন্টেন্ট কমে গেলেও পণ্য আসলে স্বাস্থ্যকর না-ও হতে পারে। শুধুমাত্র সামনের লো-ফ্যাট লেবেলের দিকে না তাকিয়ে, প্যাকটি উল্টান এবং ভেতরে আসলে কী আছে তা পরীক্ষা করুন।ভেজিটেবল চিপসবিটরুট চিপস, পালং শাকের চিপস এবং মিষ্টি আলুর চিপস স্মার্ট স্ন্যাকসের মতো শোনাচ্ছে, কিন্তু এগুলো সবজি খাওয়ার মতো উপকারী নয়। এগুলো তেল, স্ট্যার্চ এবং প্রচুর লবণ দিয়ে ভাজা বা তৈরি করা হয়। এগুলোতে শাক-সবজি থাকতে পারে তবে সাধারণত তাজা থেকে আপনি যে পুষ্টি পাবেন তা প্রতিস্থাপন করার জন্য যথেষ্ট নয়।
২০৫০ সালের মধ্যে চরম তাপমাত্রার ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের শীর্ষ ৬টি দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।সোমবার ২৬ জানুয়ারি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাতে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার সাসটেইনেবিলিটি’-তে এই গবেষণাটি প্রকাশ হয়।ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার অব্যাহত থাকলে আগামী ২৫ বছরের মধ্যে চরম তাপপ্রবাহে আক্রান্ত বৈশ্বিক জনসংখ্যার হার প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। শিল্প-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় যদি বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়, তবে চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ বিশ্বের ৪১ শতাংশ মানুষ (প্রায় ৩৭৯ কোটি) অসহনীয় তাপমাত্রার মধ্যে বসবাস করবে। ২০১০ সালে এই পরিস্থিতির শিকার জনগোষ্ঠীর হার ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ (১৫৪ কোটি)।
বর্তমানে স্মার্ট ফোন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু অনেকেই না বুঝেই ফোনে গুচ্ছ গুচ্ছ অ্যাপ ইনস্টল করে ফেলেন। গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে পাওয়া গেলেই যে অ্যাপটি নিরাপদ- তা কিন্তু নয়। কোন অ্যাপ প্রয়োজনীয়, আর কোনটি থেকে বিপদ ঘটতে পারে, তা বোঝা খুবই জরুরি।সম্প্রতি এমন কিছু অ্যাপের তালিকা প্রকাশ হয়েছে, যেগুলো দ্রুত ফোন থেকে রিমুভ করার জন্য ব্যবহারকারীদের সতর্ক করা হয়েছে। কারণ এই অ্যাপগুলো হ্যাকারদের হাতে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য তুলে দিতে পারে এবং আপনার ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণও হারানোর ঝুঁকি থাকে। ফলে এ সব অ্যাপ অতি দ্রুত মুছে ফেলার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এমন অনেক ভুয়ো অ্যাপ নেটমাধ্যমে ছড়িয়ে রয়েছে যেগুলি একঝলক দেখলে বোঝার উপায় নেই যে, আসল না নকল। আর সেই সব অ্যাপের মাধ্যমেই ক্ষতিকর ম্যালঅয়্যার ছড়িয়ে দিচ্ছে হ্যাকারেরা। না বুঝে এমন কোনো অ্যাপ ইনস্টল করে ফেললেই আপনার ফোন বা ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ অন্যের হাতে চলে যেতে পারে। ফলে এ সব অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য যে কোনো মুহূর্তে বেহাত হয়ে যেতে পারে।কোন কোন অ্যাপ ক্ষতিকারক?১. সেক্স ক্র্যাপ্তকাররেন্সি অ্যাপএই অ্যাপটি এখন পর্যন্ত গুগল প্লে স্টোর থেকে অন্তত ১০ হাজার বার ডাউনলোড হয়েছে। যদিও এটি দেখতে একটি সাধারণ ক্রিপ্টো অ্যাপের মতো, কিন্তু বাস্তবে এটি একটি ম্যালওয়্যার।সাইবার বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এটি ব্যবহারকারীদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলার জন্য তৈরি।২. টিকটক ক্লোন অ্যাপএটি আসল টিকটক নয়, এর নকল সংস্করণ! অনেকেই না বুঝে এটি ইনস্টল করে ফেলেছেন। এই অ্যাপটি আপনার ব্যাঙ্ক ও অনলাইন লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য হ্যাক করে ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সাইবার নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ।৩. হোয়াটসঅ্যাপ স্টিকার মেকার ও আর্ট ফিল্টারএই দুই অ্যাপও ক্ষতিকর। এগুলোর মাধ্যমে আপনার ফোনের ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও, লোকেশন বা কনট্যাক্ট লিস্ট চুরি হয়ে যেতে পারে। এরই মধ্যে এই অ্যাপগুলোতে ম্যালওয়্যারের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে।৪. জিপিএস লোকেশন ফাইন্ডার, আর্ট গার্লস ওয়ালপেপার এইচডি, স্মার্ট কিউআর ক্রিয়েটরএই অ্যাপগুলোও ভীষণভাবে বিপজ্জনক। এগুলোর মাধ্যমে ফোনে ম্যালওয়্যার প্রবেশ করে আপনার ওপর নজরদারি চালানো হতে পারে।নতুন কোনো অ্যাপ ইনস্টল করার আগে যেসব বিষয়গুলো খেয়াল রাখা প্রয়োজন.নতুন যে কোনও অ্যাপ ইনস্টল করার আগে দেখে নিতে হবে, সেই অ্যাপটির উৎস কী। অর্থাৎ ডেভেলপারের নাম, তৈরির সময় আর কী কী ফিচার রয়েছে। অনেক সময়ে একই নামে একাধিক অ্যাপ থাকে প্লে স্টোরে। সে ক্ষেত্রে দেখে নিতে হবে, ব্যবহারকারীরা কী মতামত দিচ্ছেন, কত বার অ্যাপটি ইনস্টল করা হয়েছে, কোনো আপত্তিকর ছবি বা ভিডিও লিঙ্ক এর সঙ্গে রয়েছে কি না। তেমন হলে সতর্ক হতে হবে। অ্যাপটি ইনস্টল করার সময়ে যদি দেখেন আপনার ফোনের অডিও, ভিডিও, ক্যামেরা, লোকেশন ও আরও কিছু ব্যক্তিগত তথ্যের অনুমতি চাইছে, তা হলে সেই অ্যাপটি ইনস্টল করবেন না।