প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি এবং তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের সঙ্গে দিল্লিতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রেক্ষিতে ঢাকায় ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পবন বাঢ়াকে তলব করা হয়েছে। দিল্লি বিমানবন্দরে রোববারের ওই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।সোমবার (১৫ জুন) দুপুর ২টার পর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় তাকে ডাকা হয়।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের সঙ্গে রোববার দিল্লির বিমানবন্দরে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, তাতে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।সূত্র জানিয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (দক্ষিণ এশিয়া অনুবিভাগ) ইশরাত জাহান ভারতীয় দূতকে তলব করেন।এর আগে, সোমবার দুপুরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে ভারতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের দিল্লিতে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এবং দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন।খলিলুর রহমান বলেন, এটা একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এবং দুঃখজনকও বটে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিচ্ছে। আজকের দিন শেষে আমরা এ বিষয়ে আপনাদের জানাবো।পরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ভারতের নয়াদিল্লির বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমানের বিষয়ে পুরো ঘটনা জেনে যদি কোনো অ্যাকশন নেওয়ার থাকে, সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেব। এ বিষয়ে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা কাজ করছেন।দিল্লিতে সোমবার শুরু হওয়া ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দুই দিনের বৈঠকে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান রোববার সন্ধ্যায় ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। ওই বৈঠকে তার বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল।কূটনৈতিক চিঠি দিয়ে আগে জানানোর পরও রোববার সন্ধ্যায় ভারতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে দিল্লিতে ঢুকতে বাধা দিয়েছে। পরে উচ্চ মহলের নির্দেশে অনুমতি দেওয়া হলেও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা দিল্লিতে না গিয়ে কলম্বো হয়ে ঢাকায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। পরে তিনি সোমবার দুপুরে ঢাকায় ফিরেছেন।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ওই বৈঠকে উপদেষ্টার অংশ নেওয়ার বিষয়টি গত শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছিল।
ভারতের ভিসা আবেদনের অ্যাপয়েন্টমেন্ট প্রক্রিয়া এবং মেডিকেল ভিসার ক্ষেত্রে নতুন একগুচ্ছ নির্দেশনা জারি করেছে ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার (আইভ্যাক)। নতুন এই নির্দেশনায় আবেদনের নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসা ভিসার ক্ষেত্রেও যুক্ত করা হয়েছে বেশ কিছু কঠোর নিয়মাবলি।সোমবার (১৫ জুন) এক বিজ্ঞপ্তিতে আইভ্যাক জানিয়েছে, এখন থেকে পরবর্তী কার্যদিবসের অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লটগুলো ঠিক তার পূর্ববর্তী কার্যদিবসে অনলাইনে প্রকাশ করা হবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ভিসা প্রত্যাশীদের দুপুর ২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে তাদের মূল আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। যেসব আবেদনকারী নির্দিষ্ট সময়ে সফলভাবে তাদের ওয়েবফাইল আপলোড করতে পারবেন, কেবল তাঁদের জন্যই বিকেল ৫টা থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের স্লট উন্মুক্ত করা হবে।আইভ্যাক স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, আপলোড করা ওয়েবফাইলটি অবশ্যই মূল ভিসা আবেদনপত্রের আসল পিডিএফ কপি হতে হবে, যা কোনোভাবেই ৩০ দিনের বেশি পুরোনো হওয়া চলবে না। আবেদনপত্রের ফাইলে কোনো ধরনের পরিবর্তন, এডিট বা বিকৃতি ধরা পড়লে তা সরাসরি বাতিল বলে গণ্য হবে।এদিকে চিকিৎসা ভিসার ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে আইভ্যাক। এখন থেকে মেডিকেল ভিসা পাওয়া আবেদনকারীদের অবশ্যই সেই নির্দিষ্ট হাসপাতালেই চিকিৎসা নিতে হবে, যার নাম ভিসা আবেদনে উল্লেখ ছিল এবং যার ভিত্তিতে ভিসা ইস্যু করা হয়েছে। কোনো বিশেষ বা জরুরি কারণে হাসপাতাল পরিবর্তন করতে হলে অবশ্যই ভারতের ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসের (এফআরআরও) পূর্ব অনুমতি নিতে হবে।এফআরআরও-এর অনুমোদন ছাড়া হাসপাতাল পরিবর্তন করাকে ভারতীয় ভিসা নীতিমালার গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এই নিয়ম অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর ভবিষ্যতে ভারতে প্রবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করা হয়েছে।
গণমাধ্যমকে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পথে এগিয়ে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১৫ জুন) সচিবালয়ে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও বার্তা সম্পাদকদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এই আহ্বান জানান।বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দলীয় অবস্থান বা সরকারের তোষামোদ নয়, জনগণের সামনে সত্যকে সত্য হিসেবেই তুলে ধরতে হবে। সেইসঙ্গে দেশের ইতিবাচক পরিবর্তন আনার জন্য গণমাধ্যমের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।এ বৈঠকে দেশের টেলিভিশন শিল্পের বর্তমান সংকট, সাংবাদিকদের পেশাগত চ্যালেঞ্জ, চাকরির নিরাপত্তা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংক্রান্ত ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ জানান, মানবিক ও সামাজিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার ক্ষেত্রেও গণমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। এ লক্ষ্যে একটি স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আগামী ১৮ জুন এ ব্যাপারে অংশীজনদের নিয়ে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। অংশীজনরা মিলে একটি নীতি কাঠামো তৈরি করলে বিদ্যমান সমস্যাগুলো নিরসন সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।বৈঠক শেষে চ্যানেল ২৪-এর নির্বাহী পরিচালক জহিরুল আলম জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে সাংবাদিকরা তাদের পেশাগত চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে পলিসি সাপোর্ট, সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
বিশ্বকাপের মঞ্চে শুধু মাঠের লড়াই নয়, গ্যালারিতেও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে আর্জেন্টিনা সরকার। সন্তানদের ভরণপোষণ না দেওয়া এবং বিভিন্ন আইনি জটিলতায় জড়িত হাজারো ব্যক্তিকে স্টেডিয়ামে প্রবেশে বাধা দিতে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছে দেশটি। এ লক্ষ্যে প্রায় ১৩ হাজার আর্জেন্টাইন সমর্থকের একটি তালিকাও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবারও শিরোপার অন্যতম দাবিদার। ‘জে’ গ্রুপে লিওনেল স্কালোনির দল প্রথম ম্যাচ খেলবে আলজেরিয়ার বিপক্ষে। এরপর তাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। তবে মাঠের লড়াইয়ের বাইরে সমর্থকদের নিয়েও কঠোর অবস্থান নিয়েছে আর্জেন্টিনা সরকার।স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের কাছে প্রায় ১৩ হাজার ব্যক্তির একটি তালিকা পাঠিয়েছে বুয়েনস আইরেস। তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের বেশির ভাগের বিরুদ্ধে সন্তানদের ভরণপোষণ বা ‘চাইল্ড সাপোর্ট’ বকেয়া রাখার অভিযোগ রয়েছে।আর্জেন্টাইন কর্তৃপক্ষের মতে, যারা নিজেদের সন্তানের আর্থিক দায়িত্ব পালন করেন না, তাদের বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক ক্রীড়া আসরে উপস্থিত থাকার সুযোগ পাওয়া উচিত নয়।বুয়েনস আইরেসের মেয়র হোর্হে মাখরি এ বিষয়ে বলেন, ‘যদি তারা নিজেদের সন্তানদের প্রয়োজন মেটাতে না পারে, তবে তাদের কোনো স্টেডিয়ামে ঢুকতে দেওয়া হবে না।’এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ‘সেফ স্ট্যান্ডস’ নামে একটি কর্মসূচি পরিচালনা করছে আর্জেন্টিনা সরকার। এর লক্ষ্য, আদালতে প্রমাণিত ভরণপোষণ বকেয়া কিংবা অন্যান্য গুরুতর আইনি অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ক্রীড়া ভেন্যুতে প্রবেশে বাধা দেওয়া।সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে এমন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে ব্যাপক কার্যক্রম চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমেও বিশ্বকাপ চলাকালে তাদের স্টেডিয়ামে প্রবেশ ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।২০২৩ সালে সম্প্রসারিত হওয়ার পর ‘সেফ স্ট্যান্ডস’ কর্মসূচির আওতায় আর্জেন্টিনায় ১ হাজার ৩২৮টি ফুটবল ম্যাচে ৪০ লাখের বেশি দর্শককে যাচাই করা হয়েছে। এই সময়ে ১ হাজার ১৬৬ জনের বিরুদ্ধে বিদ্যমান গ্রেপ্তারি পরোয়ানা শনাক্ত করা হয়েছে এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে শুধু ভরণপোষণ বকেয়া রাখা ব্যক্তিরাই নন, সহিংস অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের নামও এই তালিকায় রয়েছে।আর্জেন্টিনার জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী পাত্রিসিয়া বুররিচ বলেন, তালিকায় ১৫ হাজারের বেশি মানুষের নাম রয়েছে, যাদের স্টেডিয়ামে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হবে। আমাদের কাছে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আর্জেন্টিনার স্টেডিয়ামে কোনো অপরাধ বা সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এই বৈশ্বিক আয়োজনে প্রবেশ করতে পারবে না।
রাজস্থানের এক আইনজীবী নতুন একটি এসইউভি গাড়ি কেনার পর তাতে একাধিক ত্রুটি পাওয়ার অভিযোগ এনে আদালতে প্রতারণার মামলা করেছে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বলিউড তারকা শাহরুখ খান ও দীপিকা পাড়ুকোনের বিরুদ্ধেও এ মামলা দায়ের করা হয়েছে।ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ১৮-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, কীর্তি সিং নামের ওই আইনজীবী প্রায় ২৪ লাখ রুপি ব্যয়ে একটি হুন্ডাই আলকাজার কিনেছিলেন। কিন্তু ব্যবহারের শুরু থেকেই গাড়িটির ইঞ্জিনে সমস্যা, গতি বাড়ানোর সময় শক্তি কমে যাওয়া এবং অন্যান্য কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।তার দাবি, একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেও সন্তোষজনক সমাধান না পাওয়ায় তিনি আইনি আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।ভাইরাল হওয়া পোস্টগুলোতে আরও দাবি করা হয়েছে, মামলায় শুধু গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নয়, ব্র্যান্ডটির শুভেচ্ছাদূত হিসেবে শাহরুখ খান ও দীপিকা পাড়ুকোনকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।পোস্টে বলা হয়েছে, ‘ভাবুন তো, একটা গাড়ি কিনে শেষ পর্যন্ত বিজ্ঞাপনের তারকাদের বিরুদ্ধেই মামলা করতে হচ্ছে’।একটি অংশের মতে, জনপ্রিয় তারকারা যখন কোনো পণ্যের প্রচার করেন, তখন ভোক্তাদের আস্থা তৈরিতে তাদের ভূমিকা থাকে। ফলে পণ্য নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠলে তাদের দায়বদ্ধতার প্রশ্নও সামনে আসতে পারে।আবার অনেকে মনে করছেন, কোনো তারকা ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হলেই তিনি পণ্যের কারিগরি ত্রুটির জন্য আইনগতভাবে দায়ী হয়ে যান না। এ ধরনের বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। এ ছাড়া ভাইরাল দাবিগুলোর সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত শাহরুখ খান, দীপিকা পাড়ুকোন বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি।
দেশের বাজারে আবারও সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট সোনার দাম ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।সোমবার (১৫ জুন) সকালে বাজুস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। নতুন দাম একই দিন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্য বৃদ্ধির কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।নতুন সোনার দাম, ২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২২ টাকা, ২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ১৯ হাজার ৯৮৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৮ হাজার ৫৪৯ টাকা, সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৫৭ টাকা। এর আগে, গত ১৩ জুন সোনার দাম সর্বশেষ সমন্বয় করা হয়েছিল। তখন ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।সোনার পাশাপাশি রুপার দামও বাড়িয়েছে বাজুস। নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট রুপার দাম ভরিতে ২৩৩ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৫ হাজার ৩৬৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে।রুপার নতুন দাম, ২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা, ২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৩২ টাকা, সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ৩ হাজার ৩২৪ টাকা। বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সোনার দাম ৭৫ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৯ বার দাম বৃদ্ধি এবং ৩৬ বার দাম হ্রাস করা হয়েছে।অন্যদিকে, রুপার দাম এ বছর ৪৬ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৪ বার দাম বেড়েছে এবং ২২ বার কমেছে।বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য পরিবর্তন এবং স্থানীয় পর্যায়ে পিওর গোল্ডের দামের ওঠানামার প্রভাবেই দেশের স্বর্ণ ও রুপার বাজারে ঘন ঘন মূল্য সমন্বয় করা হচ্ছে।
১০ ঘন্টা আগে
প্রতি বছর মহররম মাসের মাধ্যমে মুসলমানরা নতুন হিজরি বছরকে স্বাগত জানায়। এই মাস এলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঐতিহাসিক ও বরকতময় হিজরতের স্মৃতি ভেসে ওঠে, যা আমাদের ত্যাগ, অবিচলতা এবং আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুলের শিক্ষা দেয়। শরিয়তে হিজরি নববর্ষের শুরুতে নির্দিষ্ট কোনো ইবাদত বা উৎসবের প্রচলন না থাকলেও, মহররম মাসের নিজস্ব কিছু বিশেষ ফজিলত ও মর্যাদা রয়েছে, যা প্রত্যেক মুসলমানের জানা এবং কাজে লাগানো উচিত।মহররম মাসের সবচেয়ে গৌরবময় দিক হলো এর মধ্যে পবিত্র আশুরা বা ১০ই মহররমের অন্তর্ভুক্তি। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদিনায় আগমন করলেন, তখন দেখলেন ইহুদিরা এই দিনে রোজা রাখছে। কারণ জানতে চাইলে তারা বললো, এই দিনে আল্লাহ তায়ালা মুসা আলাইহিস সালাম ও তার কওমকে ফেরাউনের অত্যাচার থেকে নাজাত দিয়েছিলেন এবং ফেরাউনকে সদলবলে ডুবিয়ে মেরেছিলেন। তাই মুসা আলাইহিস সালাম শুকরিয়াস্বরূপ এই রোজা রাখতেন। তখন নবীজি বললেন, মুসা আলাইহিস সালামের আদর্শ অনুসরণে আমরা তোমাদের চেয়ে বেশি হকদার। এরপর তিনি নিজে রোজা রাখলেন এবং সাহাবিদেরও রোজা রাখার নির্দেশ দিলেন। এই রোজার ফজিলত সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি আশা করি আল্লাহ তায়ালা এর মাধ্যমে বিগত এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন। ইহুদিদের সাথে সাদৃশ্য বর্জন করতে নবীজি আশুরার আগের দিন অর্থাৎ ৯ই মহররমসহ রোজা রাখার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। তাই মুসলমানদের জন্য ৯ ও ১০ অথবা ১০ ও ১১ই মহররম মিলিয়ে দুটি রোজা রাখা উত্তম।এই মহিমান্বিত মাসের ফজিলত জানার পর একজন মুসলমানের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব হলো মহান আল্লাহর দরবারে খাঁটি মনে তওবা করা। নতুন বছরের শুরুতে নিজের জীবনকে পর্যালোচনা করে অতীতের ভুলত্রুটি শুধরে আল্লাহর পথে ফিরে আসাই মুমিনের কাজ। মহররম মাসকে কেন্দ্র করে জীবনকে নতুনভাবে সাজানোর শপথ নিতে হবে। সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়, নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াত, নফল রোজা, দান-সদকা, জিকির-আজকার এবং পিতা-মাতার সেবা ও আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করতে হবে।একই সাথে মনে রাখতে হবে, হিজরি নববর্ষ বা মহররমের আগমনকে কেন্দ্র করে সমাজে প্রচলিত কিছু মনগড়া আমল বা নির্দিষ্ট কোনো দোয়ার কোনো ভিত্তি হাদিসে নেই। ইসলামে যেকোনো ইবাদত কবুল হওয়ার পূর্বশর্ত হলো তা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ অনুযায়ী হতে হবে। মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা, তিনি যেন এই নতুন বছর ও মহররম মাসকে আমাদের জন্য কল্যাণ ও বরকতময় করেন এবং আমাদের নেক আমলগুলো কবুল করেন।
পাকা কাঁঠালের সুমিষ্ট গন্ধ অনেককেই আকৃষ্ট করে, অনেকের কাছে এটি আবার ততটা প্রিয় ফল নয়। তবে পাকা কাঁঠাল খান বা না খান, এটি দিয়ে তৈরি পিঠা পছন্দ করবেন যে কেউ। আপনার বাড়িতে যদি চালের গুঁড়া, নারিকেল আর অল্প কিছু উপকরণ থাকে, তাহলে আজই কাঁঠাল দিয়ে তৈরি করে নিন সুস্বাদু পিঠা। চলুন জেনে নেওয়া যাক কাঁঠালের পিঠা তৈরির রেসিপি-তৈরি করতে যা লাগবেপাকা কাঁঠাল- ১৫-২০ কোয়াচালের গুঁড়া- এক কাপচিনি অথবা গুড়- আধা কাপনারিকেল- আধা কাপলবণ- সামান্যপানি- প্রয়োজন অনুযায়ীতেল- ভাজার জন্য।যেভাবে তৈরি করবেনপ্রথমে কাঁঠালের বীজ বাদ দিয়ে রস বের করে নিন। এরপর তার সঙ্গে চালের গুঁড়া, চিনি অথবা গুঁড়, নারিকেল, লবণ এবং প্রয়োজনমতো পানি মিশিয়ে ঘন মিশ্রণ তৈরি করুন। চুলায় একটি কড়াইতে তেল গরম হতে দিন। গরম হয়ে এলে তাতে মিশ্রণটি থেকে অল্প অল্প গোলা তুলে বড়া পিঠার মতো করে ভেজে নিন।
২০৫০ সালের মধ্যে চরম তাপমাত্রার ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের শীর্ষ ৬টি দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।সোমবার ২৬ জানুয়ারি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাতে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার সাসটেইনেবিলিটি’-তে এই গবেষণাটি প্রকাশ হয়।ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার অব্যাহত থাকলে আগামী ২৫ বছরের মধ্যে চরম তাপপ্রবাহে আক্রান্ত বৈশ্বিক জনসংখ্যার হার প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। শিল্প-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় যদি বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়, তবে চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ বিশ্বের ৪১ শতাংশ মানুষ (প্রায় ৩৭৯ কোটি) অসহনীয় তাপমাত্রার মধ্যে বসবাস করবে। ২০১০ সালে এই পরিস্থিতির শিকার জনগোষ্ঠীর হার ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ (১৫৪ কোটি)।