নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছেন, আগামী অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে ইসি সচিবালয়ে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি- আরএফইডি আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এসব কথা জানান তিনি।ইসি মাছউদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তি নিয়ে সরকারকে চিঠি দিবে ইসি। যাতে নির্দিষ্ট সময়ে সব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় সে ব্যাপারে আমরা সরকারকে সহযোগিতা করবো।ইসি মাছউদ আরও বলেন, আমরা আশা করি, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনের মতোই সফল হবে। তবে গণমাধ্যমের সহযোগিতা ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব নয়। এসময় সাংবাদিকদের সংবাদে মিস লিড যাতে না হয় সেদিকে নজর দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গে মারা গেছে ৬৪৮ জন এবং নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৩ জন। সব মিলিয়ে এই রোগে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৪১ জনে।সোমবার (৬ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।প্রতিবেদনে জানানো হয়,রোববার (৫ জুলাই) সকাল আটটা থেকে সোমবার সকাল আটটা পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৩ শিশুর মৃত্যু হলেও নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। তবে এই ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে আরও ১ হাজার ১০৬টি শিশু।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংক্রমণ রোধে মাঠপর্যায়ে টিকাদান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার এবং শিশুর শরীরে হামের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
রাজধানীর গুলশান-বনানী-বারিধারা লেকের পরিবেশ সুরক্ষা, পানি দূষণ রোধ এবং সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।সোমবার (৬ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন।সভা শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ তথ্য জানান।তিনি জানান, সভায় প্রধানমন্ত্রী লেকের বর্জ্য অপসারণ, পানি দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সিটি কর্পোরেশন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, লেক দূষণমুক্ত করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে যেসব ভবনের পয়ঃবর্জ্য সরাসরি লেকে গিয়ে পড়ছে, তা রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরিসভায় গুলশান-বনানী-বারিধারা লেকের পরিবেশ রক্ষায় স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপনের বিষয়েও গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া লেক ও এর সঙ্গে সংযুক্ত খালগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, বর্জ্য অপসারণ এবং পানি প্রবাহ সচল রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।কড়াইল বস্তির বর্জ্য যাতে সরাসরি লেকে না পড়ে, সেজন্য কী কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়া যায় তা নিয়েও আলোচনা হয় বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু।
স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের মহারণের আগে আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠেই কথা বললেন পর্তুগাল অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। প্রতিপক্ষকে শক্তিশালী দল হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও জয়ের বিশ্বাস নিয়েই মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে রোনালদো বলেন, আমরা ভালোভাবে অনুশীলন করেছি এবং ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। স্পেন খুবই কঠিন প্রতিপক্ষ, তবে আমরাও প্রস্তুত।৪১ বছর বয়সী এই তারকা জানান, বিশ্বকাপের মতো আসরে প্রতিটি ম্যাচই কঠিন। অনেক শক্তিশালী দল এরই মধ্যে বিদায় নিয়েছে, তাই ছোট ছোট মুহূর্তই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারে। তবে পর্তুগালের সামর্থ্যের ওপর তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে।স্পেনের তরুণ সেনসেশন লামিনে ইয়ামালেরও প্রশংসা করে রোনালদো বলেন, ইয়ামালের সামনে দারুণ ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে। তবে এই ম্যাচকে রোনালদো বনাম ইয়ামালের লড়াই হিসেবে দেখতে রাজি নন তিনি। তার ভাষায়, এটি দুই খেলোয়াড়ের নয়; বরং পর্তুগাল ও স্পেনের মধ্যকার লড়াই।সংবাদ সম্মেলনে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও কথা বলেন পর্তুগিজ মহাতারকা। তিনি নিশ্চিত করেন, ২০২৬ বিশ্বকাপই তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। তবে বিদায়ের আগে আরও কিছুটা পথ যেতে চান তিনি।রোনালদো বলেন, এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ। আমি প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে চাই। তবে আশা করি, স্পেনের বিপক্ষের ম্যাচটিই যেন আমার শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ না হয়।পর্তুগালের জার্সিতে ইতিহাস গড়া এই কিংবদন্তি আরও বলেন, ফুটবল তাকে অনেক কিছু দিয়েছে। তাই কোনো আক্ষেপ নয়; বরং শান্ত মন নিয়েই ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় উপভোগ করতে চান তিনি।
চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নরওয়ের কাছে হেরে ৫ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের আকস্মিক বিদায়ে ভেঙে পড়েছেন দলটির বিশ্বজুড়ে থাকা কোটি সমর্থক। সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের মতো এই বড় ধাক্কা ছুঁয়ে গেছে বাংলাদেশের বিনোদন জগতের তারকাদেরও। ব্রাজিলের এমন বিদায়ে অনেকটাই হতাশ অভিনেত্রী সাফা কবির। তবে প্রিয় দলের এই অপ্রত্যাশিত বিদায়ের পরও পুরোপুরি ভেঙে না পড়ে পরের বিশ্বকাপে ব্রাজিল ঘুরে দাঁড়াবে, এমনই আশা তার। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বসে সরাসরি ম্যাচটি উপভোগ করেন সাফা কবির। ব্রাজিলের পরাজয় ও টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হওয়ার পর স্টেডিয়ামের বাইরে থেকে একটি নিজের ভিডিও প্রকাশ করেন অভিনেত্রী। দেখা যায়, ব্রাজিলের জার্সির ওপর বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা কাঁধে জড়িয়ে হেঁটে যাচ্ছেন তিনি। চোখের সানগ্লাস ও বিষণ্ণ মনে ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘এই মুহূর্তে মন ভালো নেই, দুঃখজনক। তবে আগামী বিশ্বকাপে ইনশাআল্লাহ, আগামী বিশ্বকাপে আমরা আসব।’এই পোস্টের ক্যাপশনে একটি ভাঙা হৃদয়ের ইমোজি দিয়ে তিনি লেখেন, ‘ইনশাআল্লাহ নেক্সট টাইম’ (আগামীবার)।প্রিয় দলের বিদায়ের এই মন খারাপের খবরের পাশাপাশি নিজের দেশকে নিয়েও এক বড় স্বপ্নের কথা উঠে এসেছে তার আগের একটি পোস্টে। ম্যাচ চলাকালীন গ্যালারি থেকে শেয়ার করা একটি ছবিতে দেখা যায়, ব্রাজিলের ১০ নম্বর জার্সি পরে গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। সেই পোস্টের ক্যাপশনে বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে নিজের গভীর আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে সাফা লেখেন, ‘আজ আমি ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬-এ ব্রাজিলকে সমর্থন করতে এসেছি। কিন্তু আমার হৃদয়ের গভীরে আরেকটা স্বপ্ন আছে—একদিন বাংলাদেশও এই মঞ্চে খেলবে, আর আমি এখানে দাঁড়িয়ে গর্বের সঙ্গে আমার নিজের দেশকে সমর্থন করব।’বাংলাদেশের পতাকা হাতে নিয়ে নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অভিনেত্রী সাফা কবিরউল্লেখ্য, মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। সাফা কবিরের মতোই মেহজাবীন চৌধুরীও স্টেডিয়ামে ম্যাচটি উপভোগ করেছেন।
টানা দুই দফা দাম বাড়ানোর পর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা (ভ্যাটসহ)।সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বাজুস। নতুন মূল্য তালিকা একই দিন দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট থেকে কার্যকর হয়েছে।বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৫ হাজার ১৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৩২ টাকা।বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের নকশা অনুযায়ী মজুরি যোগ হবে। এছাড়া বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট নেওয়া যাবে না। অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে আগের নিয়মই বহাল থাকবে।এর আগে, সর্বশেষ গত ৩ জুলাই প্রতি ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা নির্ধারণ করেছিল বাজুস। সেদিন ২১ ক্যারেটের দাম ছিল ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকা।চলতি বছরে এ পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ৮৭ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৩ বার দাম বেড়েছে, ৪৩ বার কমেছে এবং একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে।অন্যদিকে, রুপার দামে কোনো পরিবর্তন আনেনি বাজুস। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৮৯৯ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের রুপা ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৪ হাজার ২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩৩ টাকা নির্ধারিত রয়েছে।
১১ ঘন্টা আগে
মানুষের স্বভাব হলো বড় গুনাহ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করা, কিন্তু এমন অনেক গুনাহ আছে, যেগুলোকে আমরা তেমন গুরুত্ব দিই না। ‘এটুকু করলে কী হবে!’, ‘সবাই তো করছে’ কিংবা ‘পরে তওবা করে নেব’- এমন ভাবনা থেকেই অনেক সময় মানুষ এমন কাজ করে বসে, যা আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।রাসুলুল্লাহ (স.) ছোট মনে করা গুনাহ সম্পর্কে সতর্ক করে বলেছেন, ‘তোমরা তুচ্ছ মনে করা গুনাহ থেকে সাবধান থাকো। কারণ এগুলো মানুষের ওপর একত্রিত হতে হতে তাকে ধ্বংস করে দেয়।’ (মুসনাদ আহমাদ)তাই কোনো গুনাহকেই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। নিচে এমন ১০টি গুনাহ তুলে ধরা হলো, যেগুলোকে মানুষ অনেক সময় তুচ্ছ মনে করে, অথচ কোরআন-সুন্নাহয় সেগুলোর ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা এসেছে।১. গিবত (পরনিন্দা)অনেকেই মনে করেন, কারও অনুপস্থিতিতে তার দোষের কথা বললে তেমন সমস্যা নেই। অথচ আল্লাহ তাআলা গিবতকে মৃত ভাইয়ের গোশত ভক্ষণ করার সঙ্গে তুলনা করেছেন। ‘তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে?’ (সুরা হুজরাত: ১২)২. নামিমা (চোগলখুরি)একজনের কথা আরেকজনের কাছে এমনভাবে পৌঁছে দেওয়া, যাতে তাদের মধ্যে সম্পর্ক নষ্ট হয়- এটি অত্যন্ত মারাত্মক গুনাহ। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘চোগলখোর জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (সহিহ বুখারি; সহিহ মুসলিম)৩. যাচাই না করে সংবাদ বা পোস্ট ছড়িয়ে দেওয়াডিজিটাল যুগে এটি খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! কোনো ফাসিক ব্যক্তি যদি তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তা যাচাই করে নাও।’ (সুরা হুজরাত: ৬)৪. হারাম দৃশ্যের দিকে তাকানোঅনেকে মনে করেন, একবার তাকালে ক্ষতি কী! অথচ আল্লাহ তাআলা দৃষ্টি সংযত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। ‘মুমিন পুরুষদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে।’ (সুরা নূর: ৩০) (একই নির্দেশ মুমিন নারীদের জন্যও রয়েছে- আয়াত ৩১)৫. আমানতের ব্যাপারে অবহেলাঅন্যের টাকা, জিনিস বা দায়িত্ব যথাযথভাবে রক্ষা না করা বা সময়মতো ফেরত না দেওয়াকে অনেকে তেমন গুরুত্ব দেন না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও রাসুলের সঙ্গে খেয়ানত করো না এবং জেনে-শুনে নিজেদের আমানতেরও খেয়ানত করো না।’ (সুরা আনফাল: ২৭)৬. প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করাকথা দিয়ে কথা না রাখা, অকারণে ওয়াদা ভঙ্গ করা বা দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়াকে অনেকে স্বাভাবিক মনে করেন। রাসুলুল্লাহ (স.) মুনাফিকের অন্যতম লক্ষণ হিসেবে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কথা উল্লেখ করেছেন। (সহিহ বুখারি; সহিহ মুসলিম)৭. অহংকার ও মানুষকে তুচ্ছ মনে করাঅহংকার শুধু দামি পোশাক পরা নয়; বরং সত্যকে প্রত্যাখ্যান করা এবং মানুষকে তুচ্ছ মনে করাই প্রকৃত অহংকার। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (সহিহ মুসলিম)৮. নামাজের ব্যাপারে উদাসীনতাশুধু নামাজ পড়লেই দায়িত্ব শেষ নয়; সময়মতো, মনোযোগের সঙ্গে এবং গুরুত্ব দিয়ে নামাজ আদায় করাও জরুরি। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অতএব দুর্ভোগ সেই সব নামাজিদের জন্য, যারা তাদের নামাজ সম্পর্কে উদাসীন।’ (সুরা মাউন: ৪–৫)৯. অপচয়খাবার, পানি, বিদ্যুৎ বা অর্থ- অপ্রয়োজনে অপচয় করাকে অনেকেই সাধারণ বিষয় মনে করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই।’ (সুরা ইসরা: ২৭)১০. গুনাহকে হালকাভাবে নিয়ে তওবা বিলম্ব করা‘পরে তওবা করব’- এ চিন্তা মানুষকে গুনাহের মধ্যে আটকে রাখে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর দিকে ফিরে আসো, যাতে সফলকাম হতে পারো।’ (সুরা নূর: ৩১) অন্য আয়াতে এসেছে, ‘আল্লাহ তাদেরই তাওবা কবুল করেন, যারা না জেনে মন্দ কাজ করার পর অচিরেই তাওবা করে।’ (সুরা নিসা: ১৭)কেন তুচ্ছ মনে করা গুনাহও ভয়াবহ?আলেমরা বলেন, একটি গুনাহের ভয়াবহতা শুধু তার ধরনে নয়; বরং মানুষের মনোভাবেও নির্ভর করে। যখন কেউ-গুনাহকে হালকাভাবে নেয়,বারবার একই গুনাহ করে,তওবা করতে বিলম্ব করে,প্রকাশ্যে গুনাহ করে অন্যদের উৎসাহিত করে,তখন সেই গুনাহ তার ঈমান ও আমলের ওপর গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।আমাদের করণীয়একজন মুমিন কখনো কোনো গুনাহকে তুচ্ছ মনে করেন না। কারণ তিনি জানেন, প্রতিটি গুনাহই আল্লাহর অবাধ্যতা। তাই প্রতিদিন আত্মসমালোচনা করা, বেশি বেশি ইস্তেগফার করা, ভুল বুঝতে পারলে দ্রুত তওবা করা এবং কোরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনার চেষ্টা করা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব।মনে রাখতে হবে, অনেক সময় মানুষ যে গুনাহকে তুচ্ছ মনে করে, আখেরাতে সেই গুনাহই তার জন্য কঠিন জবাবদিহির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই কোনো গুনাহকে হালকাভাবে না নিয়ে, আল্লাহর ক্ষমা ও রহমতের আশায় সর্বদা তাঁর দিকে ফিরে আসাই একজন মুমিনের প্রকৃত পথ।
গ্রীষ্মের তীব্র তাপদাহে মানবদেহের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ায় বাড়ছে ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতার ঝুঁকি।চিকিৎসকদের মতে, এই তীব্র গরমে রক্তচাপ কমে যাওয়া এবং হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়া (ফেইন্টিং) অত্যন্ত স্বাভাবিক ঘটনা। তবে কোনো প্রবীণ ব্যক্তি হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তা কেবলই গরমের কারণে সাধারণ ফেইন্টিং, নাকি স্ট্রোক—তা দ্রুত শনাক্ত করা অত্যন্ত জরুরি।সাধারণ জ্ঞান হারানো সঠিক প্রাথমিক চিকিৎসায় দ্রুত নিরাময় সম্ভব হলেও, স্ট্রোকের ক্ষেত্রে প্রতিটি সেকেন্ড মূল্যবান। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতিসহ দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক প্রতিবন্ধকতা দেখা দিতে পারে। বয়স্কদের ক্ষেত্রে স্ট্রোকের লক্ষণ কেন এড়িয়ে যাওয়া হয়?বিখ্যাত চিকিৎসা সাময়িকী দ্য ল্যানসেট-এ প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, প্রবীণদের ক্ষেত্রে স্ট্রোকের মৃত্যুর ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। ‘দ্য সায়েন্স অ্যান্ড ইনফরমেশন টু রিডিউস হিট রিস্ক’ সংস্থার মতে, ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বের ব্যক্তিরা তীব্র তাপজনিত ক্লান্তির (হিট এক্সহশেন) উচ্চ ঝুঁকিতে থাকেন। অনেক সময় পরিবারের সদস্যরা বয়স্কদের দুর্বলতা বা জ্ঞান হারানোকে কেবলই গরমের ক্লান্তি ভেবে ভুল করেন, যার ফলে স্ট্রোকের মতো মারাত্মক রোগের লক্ষণগুলো ঢাকা পড়ে যায়। ফেইন্টিং বনাম স্ট্রোক: মূল পার্থক্য সাধারণ জ্ঞান হারানো ১. মস্তিষ্কে সাময়িকভাবে রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়া (পানিশূন্যতা, গরম বা কম রক্তশর্করার কারণে)। ২. সাময়িক ব্ল্যাকআউট বা অল্প সময়ের জন্য জ্ঞান হারানো এবং দ্রুত চেতনা ফিরে পাওয়া। ৩. সাধারণত কোনো স্থায়ী ক্ষতি হয় না (পড়ে গিয়ে চোট পাওয়া ছাড়া)। স্ট্রোক১. মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অংশে রক্তপ্রবাহ সম্পূর্ণ বন্ধ বা বাধাগ্রস্ত হওয়া। ২. জ্ঞান হারানোর পূর্বেই দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা দেখা দেওয়া। ৩. সময়মতো চিকিৎসা না পেলে স্থায়ী ব্রেন ড্যামেজ বা পক্ষাঘাত হতে পারে। সাধারণ জ্ঞান হারানোর পূর্বলক্ষণসমূহ যদি এটি সাধারণ জ্ঞান হারানো হয়ে থাকে, তবে অচেতন হওয়ার আগে সাধারণত নিচের লক্ষণগুলো দেখা যায়: > হঠাৎ মাথা ঘোরানো বা ভারসাম্য বজায় রাখতে কষ্ট হওয়া।> হৃদস্পন্দন দ্রুত হওয়ার কারণে অতিরিক্ত ঘাম হওয়া।> রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়ায় ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া।> চোখের সামনে অন্ধকার দেখা বা ‘টানেল ভিশন’ হওয়া। > শুইয়ে দেওয়ার পর দ্রুত জ্ঞান ফিরে আসা। > স্ট্রোকের মারাত্মক লক্ষণসমূহস্ট্রোকের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। প্রবীণদের মধ্যে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবিলম্বে জরুরি হেল্পলাইনে যোগাযোগ করতে হবে: মুখের অবয়ব বেঁকে যাওয়া: হঠাৎ মুখের একপাশ ঝুলে পড়া।অসংলগ্ন কথা: কথা জড়িয়ে যাওয়া বা স্পষ্ট করে বলতে না পারা।শরীরের একপাশে দুর্বলতা: শরীরের যেকোনো একদিকের হাত বা পা অবশ হয়ে যাওয়া এবং তা নাড়াতে না পারা।হঠাৎ বিভ্রান্তি: চিন্তাভাবনা গুছিয়ে উঠতে না পারা বা তীব্র মানসিক বিভ্রান্তি। দৃষ্টিশক্তি হ্রাস: অপটিক নার্ভে সংকেত বাধাগ্রস্ত হওয়ায় চোখে দেখতে সমস্যা হওয়া।হাঁটতে অসুবিধা ও তীব্র মাথা ঘোরানো: শরীরের নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা।হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা: কোনো পূর্বলক্ষণ ছাড়াই প্রচণ্ড মাথাব্যথা শুরু হওয়া। জীবন রক্ষাকারী ৬০ সেকেন্ডের ‘এফএএসটি’ (FAST) পরীক্ষা কারো স্ট্রোক হচ্ছে কিনা তা মাত্র ১ মিনিটে নিশ্চিত হতে ‘এফএএসটি’ পদ্ধতিটি প্রয়োগ করুন:F (Face - মুখ): আক্রান্ত ব্যক্তিকে হাসতে বলুন। দেখুন মুখের একপাশ ঝুলে যাচ্ছে কিনা।A (Arms - হাত): তাকে দুটি হাত ওপরে তুলতে বলুন। যদি একটি হাত ওপরে না উঠে নিচের দিকে নেমে যায়, তবে তা স্ট্রোকের লক্ষণ।S (Speech - কথা): তাকে একটি সহজ বাক্য পুনরাবৃত্তি করতে বলুন। কথা জড়িয়ে গেলে বা অস্পষ্ট শোনালে বুঝতে হবে স্ট্রোক হচ্ছে।T (Time - সময়): উপরের যেকোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসা সেবা বা অ্যাম্বুলেন্স ডাকুন। কেন গরমের দিনে বয়স্কদের স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে? জার্নাল অব অ্যাপ্লাইড ফিজিওলজি-তে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গ্রীষ্মের উত্তাপ এবং আগে থেকে থাকা কিছু রোগ যৌথভাবে বয়স্কদের স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এর প্রধান কারণগুলো হলো:> তীব্র পানিশূন্যতা > রক্ত সঞ্চালন হ্রাস পাওয়া এবং রক্ত ঘন হয়ে যাওয়া> উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস> হৃদরোগ এবং হিট স্ট্রেস > উচ্চ ঝুঁকিতে আছেন যারা৬০ বছরের ঊর্ধ্বের প্রবীণ ব্যক্তি, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের রোগী, হৃদরোগী, ধূমপায়ী এবং যারা পূর্বে স্ট্রোক করেছেন—তারা এই গরমে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। তাই বয়স্ক কেউ হঠাৎ পড়ে গেলে প্রথমে তার পালস ও শ্বাস-প্রশ্বাস পরীক্ষা করুন এবং ‘এফএএসটি’ টেস্ট নিন। স্ট্রোক সন্দেহ হলে রোগীকে কোনো অবস্থাতেই খাবার বা পানি দেবেন না, কারণ এই সময় তাদের গিলন প্রক্রিয়া অকেজো থাকে, যা শ্বাসনালী বন্ধ করে দমবন্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। রোগীকে ঠাণ্ডা ও আরামদায়ক স্থানে রেখে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করুন।
২০৫০ সালের মধ্যে চরম তাপমাত্রার ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের শীর্ষ ৬টি দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।সোমবার ২৬ জানুয়ারি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাতে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার সাসটেইনেবিলিটি’-তে এই গবেষণাটি প্রকাশ হয়।ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার অব্যাহত থাকলে আগামী ২৫ বছরের মধ্যে চরম তাপপ্রবাহে আক্রান্ত বৈশ্বিক জনসংখ্যার হার প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। শিল্প-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় যদি বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়, তবে চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ বিশ্বের ৪১ শতাংশ মানুষ (প্রায় ৩৭৯ কোটি) অসহনীয় তাপমাত্রার মধ্যে বসবাস করবে। ২০১০ সালে এই পরিস্থিতির শিকার জনগোষ্ঠীর হার ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ (১৫৪ কোটি)।
স্মার্টফোনের ব্যাটারি দীর্ঘস্থায়ী করতে কত শতাংশ চার্জ দেওয়া নিরাপদ, তা নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে রয়েছে নানা সংশয়। অনেকে মনে করেন, ১০০ শতাংশ চার্জ দিলে ব্যাটারি দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। আবার সারারাত চার্জে রাখা নিয়েও রয়েছে অনেক ভয়। তবে আধুনিক স্মার্টফোনের লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি এবং বর্তমানের চার্জিং প্রযুক্তি এই ধারণা অনেকটাই বদলে দিয়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, ব্যাটারির আয়ু বাড়াতে সঠিক পদ্ধতি কী।অনেকেই মনে করেন, ১০০ শতাংশ চার্জ দিলে ব্যাটারি ফেটে যেতে পারে বা নষ্ট হয়ে যায়। বিষয়টি পুরোপুরি ঠিক নয়। বর্তমানের প্রায় সব স্মার্টফোনেই উন্নত প্রযুক্তি রয়েছে, যা ব্যাটারি সম্পূর্ণ চার্জ হয়ে যাওয়ার পর বিদ্যুৎ প্রবাহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। তাই ১০০ শতাংশ চার্জ হওয়া মানেই ব্যাটারিতে অতিরিক্ত চার্জ ঢুকে যাচ্ছে, তা ভাবার কারণ নেই। তবে গরম পরিবেশে দীর্ঘ সময় ফোন ১০০ শতাংশ চার্জে লাগিয়ে রাখলে অতিরিক্ত তাপের কারণে ব্যাটারির ওপর চাপ পড়ে, যা ধীরে ধীরে ব্যাটারির কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়।৮০ শতাংশ চার্জিংয়ের পরামর্শ কেন?ব্যাটারি বিশেষজ্ঞদের মতে, লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ২০ শতাংশ থেকে ৮০ শতাংশ চার্জের মধ্যে সবচেয়ে কার্যকরভাবে কাজ করে। দীর্ঘমেয়াদে ব্যাটারির স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করলে ৮০ বা ৮৫ শতাংশ চার্জিং সীমার মধ্যে রাখা ভালো। এই কারণেই বর্তমানে অ্যাপলসহ বিভিন্ন স্মার্টফোন ব্র্যান্ড তাদের ডিভাইসে ‘চার্জ লিমিট’, ‘ব্যাটারি প্রোটেকশন’ বা ‘অপ্টিমাইজড চার্জিং’-এর মতো ফিচার দিচ্ছে। আপনি যদি একটি ফোন চার-পাঁচ বছর ব্যবহার করতে চান, তবে ৮০-৮৫ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ রাখার অভ্যাসটি বেশ উপকারী।সারারাত চার্জ কি নিরাপদ?নতুন প্রজন্মের স্মার্টফোনগুলোতে ‘অপ্টিমাইজড চার্জিং’ বা ‘অ্যাডাপ্টিভ চার্জিং’ ফিচার থাকে। এগুলো আপনার ব্যবহারের ধরন বুঝে চার্জিং পরিচালনা করে, ফলে সারারাত চার্জে থাকলেও ফোনটি আর আগের মতো ঝুঁকির মুখে থাকে না। তবে ফোন যদি খুব পুরোনো হয়, তবে এই বিষয়ে সতর্ক থাকা ভালো।ব্যাটারি ভালো রাখার কিছু জরুরি টিপসচার্জ কত শতাংশ রাখবেন তার চেয়েও বেশি জরুরি কিছু ছোট অভ্যাস অনুসরণ করা-তাপ থেকে দূরে রাখুন: ব্যাটারির সবচেয়ে বড় শত্রু হলো অতিরিক্ত তাপ। চার্জ দেওয়ার সময় ফোন গরম হলে কভার খুলে রাখুন এবং ভারী গেম খেলা বা মাল্টিটাস্কিং এড়িয়ে চলুন।পুরোপুরি চার্জ শেষ করবেন না: ফোন বারবার ০ শতাংশে নামিয়ে আনবেন না। চার্জ ২০ শতাংশের নিচে নামার আগেই চার্জে বসানো উত্তম।ভালো মানের চার্জার ব্যবহার করুন: ফোনের সাথে পাওয়া অরজিনাল চার্জার বা ভালো মানের সার্টিফাইড চার্জার ব্যবহার করুন।আপনার যদি সারাদিন বেশি ব্যাকআপের প্রয়োজন হয়, তবে ১০০ শতাংশ চার্জ দেওয়া একেবারেই স্বাভাবিক। তবে দীর্ঘমেয়াদে ব্যাটারির স্বাস্থ্য ধরে রাখতে চাইলে ফোনের চার্জিং লিমিট অপশনটি ব্যবহার করতে পারেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ফোনকে অতিরিক্ত গরম হওয়া থেকে রক্ষা করা এবং নিয়মিত সঠিক পদ্ধতিতে চার্জ দেওয়া।