জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, আগের অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সংকট তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকার দেশ ও দেশের মানুষকে এই সংকট থেকে রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।শনিবার (০৮ আগস্ট) জাতীয় সংসদের এলডি হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র, রাজনীতি ও প্রশাসনে ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীরা বসে নেই। এই চক্র কৌশলে দেশের জ্বালানি বা বিদ্যুৎ খাতকে অস্থিতিশীল করতে বেশ সক্রিয় রয়েছে। তারা বিভিন্নভাবে সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ খাত নিয়ে তারা নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে।এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হল প্রাঙ্গণে নিম ও অর্জুন গাছের চারা রোপণ করেন।প্রধানমন্ত্রী পরে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে চিকিৎসক সমাবেশের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার অস্বীকার করেনি যে বর্তমানে দেশের মানুষ বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকটে রয়েছে। কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দিতে পূর্বে যে অপরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তার খেসারত এখন দেশ, দেশের মানুষ ও সরকারকে দিতে হচ্ছে।’তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অবস্থায় দেশকে পেয়েছে। নানা সংকট কাটিয়ে সেই অবস্থা থেকে উত্তরণে ইতোমধ্যে আমরা নানা কাজ শুরু করেছি। পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে যেন গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানি সংকট থেকে মানুষকে ধীরে ধীরে বের করে আনা যায়।’এর আগে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ও মোনাজাতের মাধ্যমে চিকিৎসক সমাবেশ শুরু হয়। এ সমাবেশে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ড্যাবের নেতাকর্মী ও চিকিৎসকেরা অংশ নেন।ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, ড্যাব মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল প্রমুখ।মার্কিন উদ্ভাবক ও ব্যবসায়ী টমাস আলভা এডিসনের একটি উক্তির উদাহরণ দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘তিনি বলেছিলেন ভবিষ্যতের চিকিৎসকরা কোনো ওষুধ দেবেন না। বরং তারা রোগীদের শরীরচর্চা, সুষম খাদ্য এবং রোগ প্রতিরোধের কারণ ও উপায় সম্পর্কে সচেতন করবেন। তার এ নীতির সঙ্গে বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্যনীতির মিল আছে।’প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর’ নীতিতে বিশ্বাস করে। এর অর্থ হলো ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম’। মানে কোনো রোগ হওয়ার পরে তার সমাধান বা চিকিৎসা খোঁজার চেয়ে, তা যেন না হতে পারে সেই বিষয়ে আগে থেকেই সতর্ক থাকা দরকার।’তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতে সরকার সারাদেশে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যারা নাগরিকদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে সতর্ক ও সচেতন করবে। তবে স্বাস্থ্যকর্মীদের যথাযথভাবে প্রশিক্ষিত করার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের নেতৃত্ব দিতে হবে।’সমাবেশে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ড্যাবের নেতাকর্মী ও চিকিৎসকেরা অংশ নেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ, ড্যাব মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বিশ্বকাপের হতাশা ভুলে ক্লাব ফুটবলে যোগ দিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। এর মাঝেই বড় দুঃসংবাদ পেয়েছেন তিনি। আর্জেন্টিনার রোজারিওর একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় না ফেরার দেশে চলে গেলেন লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসি।ইনফোবের তথ্য অনুযায়ী, লিওনেল মেসির বাবা ও এজেন্ট হোর্হে মেসি গত রাতে রোজারিওর একটি ক্লিনিকে মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। দীর্ঘদিন অসুস্থতার সাথে লড়াই করছিলেন তিনি।মেসির বাবা হওয়ার পাশাপাশি হোর্হে ছিলেন তার দীর্ঘদিনের এজেন্টও। স্ত্রী সেলিয়া কুচ্চিত্তিনির সঙ্গে তার চারটি সন্তান ছিল—লিওনেল মেসি, রদ্রিগো, মাতিয়াস ও মারিয়া সোল। বিশ্বসেরা ফুটবলার হয়ে ওঠার পথে মেসির সবচেয়ে বড় ভরসা ছিলেন তার বাবা।শৈশবে মেসি গ্রোথ হরমোনের অভাবজনিত রোগে আক্রান্ত হন। সে সময় আর্জেন্টিনার ক্লাব নিউয়েলস ওল্ড বয়েজের যুবদলে খেলা মেসির চিকিৎসার সব ব্যবস্থা করেছিলেন হোর্হে। ইউরোপে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য মেসি যখন স্পেনে পাড়ি জমান, তখন সঙ্গে ছিলেন হোর্হেও। বাবা-ছেলে যখন বার্সেলোনায় নতুন জীবন শুরু করেন, পরিবারের বাকি সদস্যদের দেখাশোনার জন্য সেলিয়া থেকে যান রোজারিওতে। পরে মেসির ক্যারিয়ারের সব দিক সামলাতেন হোর্হে। চুক্তি, ট্রান্সফারসহ মাঠের বাইরের সব বিষয়ে ছেলের পাশে ছিলেন তিনি। জনসম্মুখে তিনি খুব একটা আসতেন না এবং সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারও কম দিতেন। জার্মানির ‘কিকার’ ও স্পেনের ‘ইনফরমে রবিনসনের’ মতো কিছু গণমাধ্যমে কথা বললেও বেশিরভাগ সময় তিনি প্রচারবিমুখই ছিলেন। মাঝেমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেলের অর্জন ও পরিবারের নানা মুহূর্ত শেয়ার করতেন তিনি। বিশ্বকাপসহ বড় বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে পরিবার নিয়ে গ্যালারিতে দেখা যেত তাকে।তবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে দৃশ্যপট ছিল ভিন্ন। মেসির স্ত্রী আন্তোনেল্লা রোকুজ্জো এবং তিন ছেলে থিয়াগো, মাতেও ও সিরো খেলা দেখতে গেলেও হোর্হে বা পরিবারের অন্য সদস্যদের সেভাবে দেখা যায়নি; যা নিয়ে সে সময় নানা আলোচনা হয়েছিল। ইনফোবায়ে তখনই জানিয়েছিল, হোর্হে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন।ছেলের শৈশবে ফুটবল ক্যারিয়ার এগিয়ে নিতে যিনি পথ খুঁজে বের করেছিলেন, ১৩ বছর বয়সী মেসিকে সঙ্গে নিয়ে যিনি ইউরোপে জীবন শুরু করেছিলেন—সেই বাবা কয়েক দশক ধরে ছেলের পাশে ছিলেন এজেন্ট হয়ে। মেসির ফুটবল যাত্রার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সঙ্গী সেই বাবা ৬৮ বছর বয়সে না ফেরার দেশে চলে গেলেন।
জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, আগের অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সংকট তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকার দেশ ও দেশের মানুষকে এই সংকট থেকে রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।শনিবার (০৮ আগস্ট) জাতীয় সংসদের এলডি হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র, রাজনীতি ও প্রশাসনে ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীরা বসে নেই। এই চক্র কৌশলে দেশের জ্বালানি বা বিদ্যুৎ খাতকে অস্থিতিশীল করতে বেশ সক্রিয় রয়েছে। তারা বিভিন্নভাবে সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ খাত নিয়ে তারা নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে।এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হল প্রাঙ্গণে নিম ও অর্জুন গাছের চারা রোপণ করেন।প্রধানমন্ত্রী পরে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে চিকিৎসক সমাবেশের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার অস্বীকার করেনি যে বর্তমানে দেশের মানুষ বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকটে রয়েছে। কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দিতে পূর্বে যে অপরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তার খেসারত এখন দেশ, দেশের মানুষ ও সরকারকে দিতে হচ্ছে।’তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অবস্থায় দেশকে পেয়েছে। নানা সংকট কাটিয়ে সেই অবস্থা থেকে উত্তরণে ইতোমধ্যে আমরা নানা কাজ শুরু করেছি। পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে যেন গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানি সংকট থেকে মানুষকে ধীরে ধীরে বের করে আনা যায়।’এর আগে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ও মোনাজাতের মাধ্যমে চিকিৎসক সমাবেশ শুরু হয়। এ সমাবেশে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ড্যাবের নেতাকর্মী ও চিকিৎসকেরা অংশ নেন।ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, ড্যাব মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল প্রমুখ।মার্কিন উদ্ভাবক ও ব্যবসায়ী টমাস আলভা এডিসনের একটি উক্তির উদাহরণ দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘তিনি বলেছিলেন ভবিষ্যতের চিকিৎসকরা কোনো ওষুধ দেবেন না। বরং তারা রোগীদের শরীরচর্চা, সুষম খাদ্য এবং রোগ প্রতিরোধের কারণ ও উপায় সম্পর্কে সচেতন করবেন। তার এ নীতির সঙ্গে বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্যনীতির মিল আছে।’প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর’ নীতিতে বিশ্বাস করে। এর অর্থ হলো ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম’। মানে কোনো রোগ হওয়ার পরে তার সমাধান বা চিকিৎসা খোঁজার চেয়ে, তা যেন না হতে পারে সেই বিষয়ে আগে থেকেই সতর্ক থাকা দরকার।’তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতে সরকার সারাদেশে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যারা নাগরিকদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে সতর্ক ও সচেতন করবে। তবে স্বাস্থ্যকর্মীদের যথাযথভাবে প্রশিক্ষিত করার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের নেতৃত্ব দিতে হবে।’সমাবেশে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ড্যাবের নেতাকর্মী ও চিকিৎসকেরা অংশ নেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ, ড্যাব মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বিশ্বকাপের হতাশা ভুলে ক্লাব ফুটবলে যোগ দিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। এর মাঝেই বড় দুঃসংবাদ পেয়েছেন তিনি। আর্জেন্টিনার রোজারিওর একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় না ফেরার দেশে চলে গেলেন লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসি।ইনফোবের তথ্য অনুযায়ী, লিওনেল মেসির বাবা ও এজেন্ট হোর্হে মেসি গত রাতে রোজারিওর একটি ক্লিনিকে মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। দীর্ঘদিন অসুস্থতার সাথে লড়াই করছিলেন তিনি।মেসির বাবা হওয়ার পাশাপাশি হোর্হে ছিলেন তার দীর্ঘদিনের এজেন্টও। স্ত্রী সেলিয়া কুচ্চিত্তিনির সঙ্গে তার চারটি সন্তান ছিল—লিওনেল মেসি, রদ্রিগো, মাতিয়াস ও মারিয়া সোল। বিশ্বসেরা ফুটবলার হয়ে ওঠার পথে মেসির সবচেয়ে বড় ভরসা ছিলেন তার বাবা।শৈশবে মেসি গ্রোথ হরমোনের অভাবজনিত রোগে আক্রান্ত হন। সে সময় আর্জেন্টিনার ক্লাব নিউয়েলস ওল্ড বয়েজের যুবদলে খেলা মেসির চিকিৎসার সব ব্যবস্থা করেছিলেন হোর্হে। ইউরোপে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য মেসি যখন স্পেনে পাড়ি জমান, তখন সঙ্গে ছিলেন হোর্হেও। বাবা-ছেলে যখন বার্সেলোনায় নতুন জীবন শুরু করেন, পরিবারের বাকি সদস্যদের দেখাশোনার জন্য সেলিয়া থেকে যান রোজারিওতে। পরে মেসির ক্যারিয়ারের সব দিক সামলাতেন হোর্হে। চুক্তি, ট্রান্সফারসহ মাঠের বাইরের সব বিষয়ে ছেলের পাশে ছিলেন তিনি। জনসম্মুখে তিনি খুব একটা আসতেন না এবং সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারও কম দিতেন। জার্মানির ‘কিকার’ ও স্পেনের ‘ইনফরমে রবিনসনের’ মতো কিছু গণমাধ্যমে কথা বললেও বেশিরভাগ সময় তিনি প্রচারবিমুখই ছিলেন। মাঝেমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেলের অর্জন ও পরিবারের নানা মুহূর্ত শেয়ার করতেন তিনি। বিশ্বকাপসহ বড় বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে পরিবার নিয়ে গ্যালারিতে দেখা যেত তাকে।তবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে দৃশ্যপট ছিল ভিন্ন। মেসির স্ত্রী আন্তোনেল্লা রোকুজ্জো এবং তিন ছেলে থিয়াগো, মাতেও ও সিরো খেলা দেখতে গেলেও হোর্হে বা পরিবারের অন্য সদস্যদের সেভাবে দেখা যায়নি; যা নিয়ে সে সময় নানা আলোচনা হয়েছিল। ইনফোবায়ে তখনই জানিয়েছিল, হোর্হে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন।ছেলের শৈশবে ফুটবল ক্যারিয়ার এগিয়ে নিতে যিনি পথ খুঁজে বের করেছিলেন, ১৩ বছর বয়সী মেসিকে সঙ্গে নিয়ে যিনি ইউরোপে জীবন শুরু করেছিলেন—সেই বাবা কয়েক দশক ধরে ছেলের পাশে ছিলেন এজেন্ট হয়ে। মেসির ফুটবল যাত্রার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সঙ্গী সেই বাবা ৬৮ বছর বয়সে না ফেরার দেশে চলে গেলেন।
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এবং তামিলাগা ভেত্রি কাঝাগম (টিভিকে) প্রধান সি. জোসেফ বিজয়ের সঙ্গে তার স্ত্রী সঙ্গীতা সর্নালিঙ্গম বিবাহবিচ্ছেদের মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।শুক্রবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আদালতে হাজির হয়ে তিনি মামলা প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক কারণ জানান। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই পারিবারিক আইনি বিরোধের অবসান ঘটল।মামলার প্রেক্ষাপট ও আইনি প্রক্রিয়া:এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সঙ্গীতা তামিলনাড়ুর চেঙ্গালপাট্টুর একটি পরিবার আদালতে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেছিলেন। আবেদনে তিনি দাম্পত্য জীবনের মতপার্থক্যের কথা উল্লেখ করে সম্পর্কের অবসান, স্থায়ী ভরণপোষণ এবং চেন্নাইয়ের নীলাঙ্কারাইয়ে বৈবাহিক বাড়িতে বসবাস অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছিলেন। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ জুন ও পরবর্তী শুনানিতে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত না হতে পারলেও সঙ্গীতা মামলা প্রত্যাহারের ইচ্ছার কথা জানান। অবশেষে শুক্রবার আদালতের আদেশের মাধ্যমে মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিষ্পত্তি করা হয়।দীর্ঘ তিন দশকের সম্পর্ক ও রাজনৈতিক পটভূমি:১৯৯৯ সালের ২৫ আগস্ট চেন্নাইয়ে ঐতিহ্যবাহী হিন্দু রীতিতে বিজয় ও সঙ্গীতার আন্তঃধর্মীয় বিয়ে হয়। তাদের ঘরে ২০০০ সালে এক পুত্রসন্তান এবং ২০০৫ সালে এক কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। পরবর্তীতে ২০২৩ এবং ২০২৫ সালের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সঙ্গীতার অনুপস্থিতিকে কেন্দ্র করে তাদের দাম্পত্য কলহ নিয়ে জল্পনা জোরালো হয়েছিল। সম্প্রতি তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে টিভিকে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থনে জোটে সরকার গঠন করে।
দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভ্যাটসহ স্বর্ণালঙ্কারের দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে সোনার এই নতুন দাম কার্যকর করা হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানিয়েছে, আজ সকাল ৯টায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে এই নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালঙ্কারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকা। যা গতকাল ছিল ২ লাখ ২৯ হাজার ৬৬৪ টাকা।২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫৪১ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা এখন থেকে বিক্রি হবে ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৩১ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮২২ টাকা।সোনার দাম বাড়ানো হলেও অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা।এর আগে গত ৬ আগস্ট দেশের বাজারে ভ্যাটসহ স্বর্ণালঙ্কারের দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৯ হাজার ৮৫৬ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। একদিন পর ৭ আগস্ট নতুন দাম নির্ধারণ করে ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়।
২১ ঘন্টা আগে
শাহাদাত একজন মুমিনের জন্য সর্বোচ্চ সম্মানের মৃত্যু। আল্লাহর পথে প্রাণ বিসর্জনকারীদের জন্য কোরআন ও হাদিসে বিশেষ মর্যাদা ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে শহীদ বলতে শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত ব্যক্তিকেই বোঝায় না। কোরআন-হাদিসে এমন আরও কিছু অবস্থার কথা উল্লেখ আছে, যেখানে মৃত্যুবরণকারী শহীদের মর্যাদা লাভ করেন।শহীদ বলতে কী বোঝায়?আরবি ‘শহীদ’ শব্দের অর্থ সাক্ষী। ইসলামি পরিভাষায়, যে ব্যক্তি একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে জীবন উৎসর্গ করেন, তাঁকে শহীদ বলা হয়। তবে এই মর্যাদা লাভের জন্য বিশুদ্ধ ঈমান ও খাঁটি নিয়ত অপরিহার্য। পার্থিব স্বার্থ, খ্যাতি বা লোকদেখানোর উদ্দেশ্যে প্রাণ দিলে তা শাহাদাত হিসেবে গণ্য হবে না।মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে, তাদের মৃত মনে করো না। বরং তারা তাদের প্রতিপালকের কাছে জীবিত এবং রিজিকপ্রাপ্ত।’ (সুরা আলে ইমরান: ১৬৯)অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে, তাদের মৃত বলো না। বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা উপলব্ধি করতে পারো না।’ (সুরা বাকারা: ১৫৪)মুফাসসিরদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, শহীদরা বরজখের জীবনে আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ নেয়ামত লাভ করেন। সেই জীবনের প্রকৃতি ও বাস্তবতা মানুষের ইন্দ্রিয় দিয়ে উপলব্ধি করা সম্ভব নয়।ফিকহশাস্ত্রে শহীদের প্রকারভেদফিকহশাস্ত্রে শহীদ প্রধানত দুই ধরনের-১. শহীদে হাকিকি: যিনি আল্লাহর পথে লড়াই করতে গিয়ে শহীদ হন। তাঁকে গোসল দেওয়া হয় না। রক্তমাখা পোশাকেই জানাজাশেষে দাফন করা হয়।২. শহীদে হুকমি: যাঁরা যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে হাদিসে বর্ণিত বিভিন্ন রোগ, দুর্ঘটনা বা বিশেষ কারণে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁদের স্বাভাবিক নিয়মে গোসল, জানাজা ও দাফন করা হয়। তবে আখেরাতে তাঁরা শহীদের সওয়াব লাভ করবেন।কারা শহীদের সওয়াব লাভ করবেন?রাসুলুল্লাহ (স.) যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে মৃত্যুবরণকারী কিছু মুমিনের জন্যও শহীদের সওয়াবের সুসংবাদ দিয়েছেন। সহিহ হাদিস অনুযায়ী তাঁদের মধ্যে রয়েছেন-মহামারিতে মৃত্যুবরণকারীপেটের রোগে মৃত্যুবরণকারীপানিতে ডুবে মৃত্যুবরণকারীআগুনে পুড়ে মৃত্যুবরণকারীভবন বা দেয়াল চাপা পড়ে মৃত্যুবরণকারীপ্রসবকালীন মৃত্যুবরণকারী নারী(সহিহ মুসলিম: ১৯১৪,১৯১৫; সুনানে আবু দাউদ: ৩১১১)এ ছাড়া রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিজের সম্পদ, জীবন, পরিবার কিংবা দ্বীন রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হয়, সে-ও শহীদ।’ (সুনানে তিরমিজি: ১৪২১)হাদিসে উল্লেখিত এসব ব্যক্তি শহীদে হুকমি হিসেবে আখেরাতে শহীদের সওয়াব লাভ করবেন।শহীদের বিশেষ মর্যাদাহাদিসে শহীদের জন্য বিশেষ সম্মান ও পুরস্কারের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, জান্নাতে প্রবেশের পর কেউ আর দুনিয়ায় ফিরে আসতে চাইবে না। তবে শহীদ ব্যতিক্রম। শাহাদাতের মর্যাদা দেখে সে বারবার দুনিয়ায় ফিরে এসে আল্লাহর পথে শহীদ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করবে। (সহিহ বুখারি: ২৮১৭)আরেক হাদিসে এসেছে, শহীদের রক্তের প্রথম ফোঁটা ঝরার সঙ্গে সঙ্গেই মানুষের ঋণ ছাড়া তাঁর সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। তাঁকে জান্নাতে তাঁর মর্যাদা দেখানো হয়, কবরের আজাব থেকে নিরাপত্তা দেওয়া হয় এবং কেয়ামতের দিনের মহাভীতি থেকেও রক্ষা করা হবে। তাঁর মাথায় পরানো হবে সম্মানের মুকুট। (সুনানে তিরমিজি: ১৬৬৩)ঋণের দায় ও মানুষের হকশহীদের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ হলেও মানুষের হক বা ঋণের ব্যাপারে ইসলাম অত্যন্ত কঠোর। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘আল্লাহর পথে শহীদ হওয়া ব্যক্তির সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়, তবে ঋণ ব্যতীত।’ (সহিহ মুসলিম: ১৮৮৫)অর্থাৎ শহীদের মর্যাদা লাভ করলেও মানুষের পাওনা বা ঋণের দায় থেকে মুক্তি মেলে না। তাই কারও হক নষ্ট করা বা ঋণ পরিশোধে অবহেলা করা ইসলামে অত্যন্ত গুরুতর বিষয়।শহীদ কে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আল্লাহরকাউকে নিশ্চিতভাবে শহীদ ঘোষণা করা বা তাঁর জান্নাত নিশ্চিত বলে দাবি করা মানুষের কাজ নয়। কার নিয়ত কতটা বিশুদ্ধ ছিল এবং কে প্রকৃত শহীদের মর্যাদা লাভ করবেন, তার চূড়ান্ত ফয়সালা একমাত্র আল্লাহ তাআলাই করবেন। তবে কোরআন ও সহিহ হাদিসে যাঁদের জন্য শহীদের সুসংবাদ এসেছে, তাঁদের ব্যাপারে একজন মুমিন সুপ্রত্যাশা পোষণ করতে পারেন।একজন মুমিনের কর্তব্য হলো বিশুদ্ধ ঈমান, খাঁটি নিয়ত এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিকে জীবনের সর্বোচ্চ লক্ষ্য বানানো। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে শাহাদাত কামনা করে, আল্লাহ তাকে শহীদের মর্যাদা দান করেন, যদিও সে নিজের বিছানায় স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করে। (সহিহ মুসলিম: ১৯০৯)
উচ্চ রক্তচাপ (হাইপারটেনশন) বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম নীরব ঘাতক। অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি শরীরে দীর্ঘদিন অবস্থান করে হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনি বিকল হওয়া, চোখের ক্ষতি এবং অন্যান্য জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্যমতে, বিশ্বজুড়ে শতকোটি মানুষ উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত, যার একটি বড় অংশ জানেনই না যে তারা এ রোগে ভুগছেন।বিশেষজ্ঞদের মতে, ওষুধের পাশাপাশি সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখলে উচ্চ রক্তচাপ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। কিছু প্রাকৃতিক খাবারও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।১. কলাকলা পটাশিয়ামের অন্যতম ভালো উৎস। পটাশিয়াম শরীর থেকে অতিরিক্ত সোডিয়ামের প্রভাব কমাতে সাহায্য করে এবং রক্তনালিকে শিথিল রাখে। ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।উপকারিতা* রক্তচাপ কমাতে সহায়ক।* হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা ভালো রাখে।* পেশির স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা বজায় রাখে।* শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য রক্ষা করে।২. পালং শাকপালং শাকে রয়েছে পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, নাইট্রেট, ফোলেট এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এসব উপাদান রক্তনালিকে প্রসারিত করে এবং রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।উপকারিতা* রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।* রক্তপ্রবাহ উন্নত করে।* হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।* শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের জোগান দেয়।৩. ওটসওটসে রয়েছে দ্রবণীয় আঁশ (বিটা-গ্লুকান), যা খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমাতে সহায়তা করে। নিয়মিত ওটস খেলে হৃদযন্ত্র সুস্থ থাকে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।উপকারিতা* খারাপ কোলেস্টেরল কমায়।* দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে।* হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।* রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।৪. বিটরুটবিটরুটে প্রচুর প্রাকৃতিক নাইট্রেট থাকে। শরীরে এটি নাইট্রিক অক্সাইডে রূপান্তরিত হয়ে রক্তনালিকে প্রসারিত করে, ফলে রক্তচাপ কমতে সাহায্য করে।উপকারিতা* রক্তচাপ কমাতে কার্যকর।* রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে।* শারীরিক কর্মক্ষমতা বাড়ায়।* লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়ক।৫. টক দইটক দইয়ে রয়েছে ক্যালসিয়াম, প্রোটিন এবং প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখার পাশাপাশি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।উপকারিতা* হজমশক্তি উন্নত করে।* হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে সহায়ক।* রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।* রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে।উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আরও যেসব অভ্যাস জরুরি* প্রতিদিন লবণ কম খান (প্রতিদিন ৫ গ্রামের কম)।* প্রক্রিয়াজাত ও অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।* প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম করুন।* ওজন স্বাভাবিক রাখুন।* ধূমপান ও মদ্যপান থেকে বিরত থাকুন।* পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন।* মানসিক চাপ কমাতে ধ্যান, প্রার্থনা বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করতে পারেন।* নিয়মিত রক্তচাপ পরিমাপ করুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করুন।যদিও কলা, পালং শাক, ওটস, বিটরুট ও টক দই উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে, তবে এগুলো কোনোভাবেই চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধের বিকল্প নয়। যাদের দীর্ঘদিনের উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি রোগ, ডায়াবেটিস বা হৃদরোগ রয়েছে, তারা খাদ্যতালিকায় বড় পরিবর্তন আনার আগে অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেবেন।উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর ও প্রাকৃতিক খাবার রাখা, লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার কম খাওয়া, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। সচেতনতা ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা একটি সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
২০৫০ সালের মধ্যে চরম তাপমাত্রার ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের শীর্ষ ৬টি দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।সোমবার ২৬ জানুয়ারি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাতে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার সাসটেইনেবিলিটি’-তে এই গবেষণাটি প্রকাশ হয়।ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার অব্যাহত থাকলে আগামী ২৫ বছরের মধ্যে চরম তাপপ্রবাহে আক্রান্ত বৈশ্বিক জনসংখ্যার হার প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। শিল্প-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় যদি বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়, তবে চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ বিশ্বের ৪১ শতাংশ মানুষ (প্রায় ৩৭৯ কোটি) অসহনীয় তাপমাত্রার মধ্যে বসবাস করবে। ২০১০ সালে এই পরিস্থিতির শিকার জনগোষ্ঠীর হার ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ (১৫৪ কোটি)।
ল্যাপটপ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি ডিভাইস। অফিসের কাজ বা প্রজেক্ট তৈরি থেকে শুরু করে বিনোদনের মাধ্যম হিসেবেও ল্যাপটপ সমানভাবে কার্যকর। কিন্তু অনেকেরই অভিযোগ, ব্যবহারের কিছুদিনের মধ্যেই ল্যাপটপের ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়ে যায়। মূলত আমাদেরই কিছু ছোটখাটো ভুল বা ভুল সেটিংসের কারণে এমনটা ঘটে। সঠিক কিছু সতর্কতা ও নিয়মের মাধ্যমে এই সমস্যার সহজ সমাধান করা সম্ভব।ল্যাপটপের স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা বা ব্রাইটনেস সবসময় ১০০ শতাংশে রাখলে ব্যাটারি অনেক দ্রুত শেষ হয়। তাই প্রয়োজনের তুলনায় উজ্জ্বলতা কমিয়ে রাখলে ব্যাটারির ব্যাকআপ অনেকটাই বাড়ানো সম্ভব।অনেক সময় আমরা বেশ কিছু অ্যাপ ব্যবহার না করলেও সেগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকে এবং প্রচুর ব্যাটারি খরচ করে। তাই উইন্ডোজের টাস্ক ম্যানেজার বা ম্যাকবুকের অ্যাক্টিভিটি মনিটরে গিয়ে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপগুলো বন্ধ করে রাখা জরুরি।ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ বা কিবোর্ডের ব্যাকলাইট সবসময় চালু রাখলে ব্যাটারির ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। তাই ব্যবহারের প্রয়োজন না থাকলে এই ফিচারগুলো বন্ধ রাখলে ব্যাটারি দীর্ঘক্ষণ সচল থাকে।ল্যাপটপের ব্যাটারি সাশ্রয়ী মোড বা পাওয়ার সেভিং মোড সবসময় ব্যবহার করা উচিত। এই ফিচারটি ব্যাকগ্রাউন্ডের অপ্রয়োজনীয় কার্যক্রম কমিয়ে প্রসেসরের বিদ্যুৎ খরচ নিয়ন্ত্রণ করে, যা দীর্ঘ সময় চার্জ ধরে রাখতে সাহায্য করে।ল্যাপটপ পুরনো হয়ে গেলে এর ব্যাটারির কার্যক্ষমতা স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়। তাই নিয়মিত ব্যাটারির স্বাস্থ্য বা হেলথ পরীক্ষা করা উচিত। যদি ব্যাটারির স্বাস্থ্য অনেক বেশি খারাপ হয়ে যায়, তবে নতুন ব্যাটারি ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ।ল্যাপটপ চার্জ দেওয়ার জন্য সবসময় ল্যাপটপের নিজস্ব বা অরিজিনাল চার্জার ব্যবহার করা উচিত। নিম্নমানের বা লোকাল চার্জার ব্যাটারির মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। এছাড়া দীর্ঘ সময় ভারী সফটওয়্যার চালানো বা অতিরিক্ত তাপমাত্রায় ল্যাপটপ ব্যবহার থেকে বিরত থাকা উচিত, কারণ এতে ব্যাটারির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।ল্যাপটপের সফটওয়্যার ও ড্রাইভার নিয়মিত আপডেট করা উচিত। কারণ অনেক সময় নতুন আপডেটে ব্যাটারি অপ্টিমাইজেশনের সুবিধা যুক্ত করা থাকে, যা ল্যাপটপের ব্যাটারি ব্যাকআপ উন্নত করতে সাহায্য করে।এই নিয়মগুলো মেনে চলার পরও যদি ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়ে যায়, তবে বুঝতে হবে এটি পরিবর্তনের সময় এসেছে। সেক্ষেত্রে অনুমোদিত সার্ভিস সেন্টারে যোগাযোগ করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ছোটখাটো এই সতর্কতা ও সঠিক সেটিংস ব্যবহারের মাধ্যমেই ল্যাপটপের ব্যাটারির আয়ু অনেকাংশে বাড়িয়ে দীর্ঘস্থায়ী সুফল পাওয়া সম্ভব।