পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ ও লঘুচাপের প্রভাবে সৃষ্ট ঝড়ো হাওয়া ও উত্তাল ঢেউয়ে তিনটি মাছধরা ট্রলার ডুবে গেছে। পৃথক তিনটি ঘটনায় অন্তত ১৩ জন জেলে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া বৈরী আবহাওয়ার কারণে আরও অন্তত পাঁচটি মাছধরা ট্রলার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহিপুর মৎস্য আড়ত মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাজু আহমেদ রাজা।তিনি জানান, কয়েকদিন ধরে সাগর অত্যন্ত উত্তাল থাকায় গভীর সমুদ্রে অবস্থানরত মাছধরা ট্রলারগুলো চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।তিনি আরও জানান, বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে চর বিজয় সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ছয় জেলেকে নিয়ে মাছ ধরার সময় একটি ছোট ট্রলার ডুবে যায়। এ ঘটনায় ট্রলারের মালিক মাসুদ মাঝি জীবিত উদ্ধার হলেও এখনও পাঁচ জেলের কোনো সন্ধান মেলেনি।এর আগে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে বঙ্গোপসাগরের প্রায় ১৭ কিলোমিটার গভীরে ফকিরহাট এলাকার এফবি মহিমা নামে একটি মাছধরা ট্রলার ১৮ জন জেলেকে নিয়ে ডুবে যায়। বুধবার দুপুর পর্যন্ত ১৬ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনও দুই জেলে নিখোঁজ রয়েছেন।অন্যদিকে, রোববার (৫ জুলাই) বঙ্গোপসাগরের প্রায় ৬০ কিলোমিটার গভীরে জেলার গলাচিপা উপজেলার খরিদা গ্রামের ইমাদুলের মালিকানাধীন আরেকটি মাছধরা ট্রলার ডুবে যায়। ট্রলারটিতে ১১ জন জেলে ছিলেন। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে উদ্ধার করা গেলেও এখনও ছয়জন জেলে নিখোঁজ রয়েছেন।এদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে আরও অন্তত পাঁচটি মাছধরা ট্রলার আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীরা। এতে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার শেয়ার মার্কেটের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাসহ বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারের জন্য বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, ‘সরকার ইতোমধ্যে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, পণ্যের বৈচিত্রকরণের মাধ্যমে বাজারের গভীরতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ শিক্ষার প্রসার ইত্যাদির মাধ্যমে উন্নত ও টেকসই পুঁজিবাজার গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এসকে আজিজুল বারী’র তারকা চিহ্নিত এক প্রশ্নে জবাবে প্রধানমন্ত্রী এই কথা বলেন।আজিজুল বারীর অনুপস্থিতিতে প্রশ্নটি সংসদে উত্থাপন করেন পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন।প্রধানমন্ত্রী সংসদে সরকারের নেওয়া অগ্রাধিকার ১৭ দফা কর্মসূচি তুলে ধরেন। এগুলো হচ্ছে- বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে পুঁজিবাজার বিষয়ে দক্ষ এবং অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন চেয়ারম্যান ও তিনজন কমিশনারকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে নিয়োগ প্রদান, নতুন কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বাজারে বিদ্যমান ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার, লাভজনক সরকারি মালিকাধীন কোম্পানিসমূহের শেয়ার স্টক এক্সচেঞ্জে অফলোডের মাধ্যমে সরাসরি তালিকাভুক্তিকরণে উদ্বুদ্ধ করা।এছাড়াও বহুজাতিক কোম্পানিসহ উচ্চ মূলধনসম্পন্ন কোম্পানিসমূহের শেয়ার ও স্টক এক্সচেঞ্জে অফলোডের মাধ্যমে সরাসরি তালিকাভুক্তিকরণের সুযোগ সৃষ্টি করা, এসএমই কোম্পানিসহ ভাল মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানিসমূহকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করা,পুঁজিবাজার কারসাজি বন্ধে অনিয়ম সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ ও প্রদানকারীর প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ও উৎসাহ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা, তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের হিসাব নিরীক্ষা, উপযুক্ত অডিটরের মাধ্যমে নিরীক্ষার নিমিত্তে নীতিমালা প্রণয়ন করা।ফরেন পোর্টফলিও ইনভেস্টমেন্ট অনবোর্ডিং পোর্টাল চালু, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধান সংস্কার, ওয়ান স্টপ সিকিউরিটিজ কাস্টডিয়ান সার্ভিস চালু, ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স হ্রাসকরণ, লভ্যাংশ আয়ে দ্বৈত কর বাতিল এবং বিও অ্যাকাউন্ট খোলা ও মূলধন প্রত্যাবসান প্রক্রিয়া ডিজিটাল করা, পুঁজিবাজার সংক্রান্ত বিশেষ ট্রাইব্যুনালে সরাসরি মামলা দায়ের সংক্রান্ত বিধান সিকিউরিটিজ আইনে অন্তর্ভুক্ত করা, পুঁজিবাজারের সংস্কারকল্পে একটি ‘পুঁজিবাজার সংস্কার কমিশন’ এবং অনিয়ম তদন্তে একটি বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠন করা, পুঁজিবাজারে ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে মার্কেট ও পণ্য উভয়ই সম্প্রসারিত করা, ই-কেওয়াইসি এর মাধ্যমে অনলাইন ও মোবাইল ভিত্তিক বিও হিসাব খোলা ও ট্রেডিং সুবিধা চালু করা, বিনিয়োগবান্ধব ও যুক্তিসঙ্গত করনীতি প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া,ব্যাংক ও এমএফএস এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাবে টাকা জমা ও উত্তোলনের সুবিধা প্রদান করা।এআইভিত্তিক শক্তিশালী নজরদারির মাধ্যমে বাজারের অনিয়ম ও জালিয়াতির সাথে জড়িতদের দ্রুত শনাক্তকরণ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ চলমান রাখা, তালিকাভুক্ত ইস্যুয়ার কোম্পানিসমূহে সুশাসন জোরদারকরণে সমন্বিত গ্রাহক হিসাবে অর্জিত সুদ আয়ের অংশ বিশেষ বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিলে জমা করার বিধান প্রণয়ন করা, আইনকানুন যুগোপযোগী করার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সম্পদ আরও সুরক্ষিত করা এবং সরকারী সিকিউরিটিজসমূহের (ট্রেজারি বন্ড, ট্রেজারি বিল ও সরকারি সুকুক) এর লেনদেন স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে নিষ্পন্ন করার মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অন্তর্ভুক্ত করা।ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে পুঁজিবাজারে ধসের কারণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের শেয়ারবাজারের ধারাবাহিক পতনের কারণ উদঘাটনের লক্ষ্যে বিভিন্ন সময় বিশেষজ্ঞ, বিনিয়োগকারী সংগঠন এবং বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।’তিনি বলেন, ‘পরিচালিত কার্যক্রমে শেয়ারবাজারের ধারাবাহিক পতনের পেছনে কারণগুলো ছিলো- বাজার কারসাজি ও কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দাম বাড়ানো-কমানো, কিছু কোম্পানির আইপিও, বন্ড ও অন্যান্য ইস্যুতে অনিয়ম, নিয়ন্ত্রক সংস্থার দীর্ঘমেয়াদী দুর্বল তদারকি এবং সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়া। কর্পোরেট সুশাসনের ঘাটতি ও আর্থিক তথ্যের স্বচ্ছতার অভাব, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সীমিত অংশগ্রহণ এবং বাজারে আস্থার সংকট, নীতিগত অসঙ্গতি ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও পুঁজিবাজার বান্ধব করনীতির অভাব ইত্যাদি।’এই ব্যাপারে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ শেয়ার মার্কেটের ধারাবাহিক পতন ঘটিয়ে হাজার হাজার বিনিয়োগকারীদের নিঃস্ব করার জন্য যারা দায়ী তাদের চিহ্নিত করাসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে শেয়ার মার্কেট কেলেঙ্কারির অভিযোগ দুদক কর্তৃক অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে কতিপয় ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে মামলাসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’তিনি বলেন, ‘শেয়ার মার্কেট কেলেঙ্কারির সাথে আরো অন্যান্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান জড়িত কিনা তা উদঘাটনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে শেয়ার মার্কেট কারসাজি, অনিয়ম ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কর্তৃক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ১,৪৯৭ (এক হাজার চারশত সাতানব্বই কোটি) টাকা অর্থদন্ড আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া দায়ী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের চিহ্নিতকরণে গঠিত তদন্ত কমিটির গঠন ও প্রদত্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে প্রেরণ করা হয়েছে।’
সরকার জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মানবাধিকারকর্মী আইরিন খানকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম স্বাক্ষরিত আধা-সরকারি পত্র (ডিও লেটার) থেকে এ তথ্য জানা গেছে।ওই পত্র অনুযায়ী, সরকার আইরিন খানকে সরকারের সিনিয়র সচিব পদমর্যাদা ও বেতন-ভাতায় দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেবে।ডিও লেটারে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মানবাধিকার, সুশাসন ও আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ হিসেবে আইরিন খান অত্যন্ত সুপরিচিত। তার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ে দক্ষতা বহুপাক্ষিক ফোরামে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।এতে আরও বলা হয়, বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান কার্যকরভাবে তুলে ধরা এবং দেশের কূটনৈতিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে আইরিন খান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে মনে করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।পত্রে তার নিয়োগ-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছে।আইরিন খান ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় ও হার্ভার্ড ল' স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। বর্তমানে তিনি জেনেভার গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজে শিক্ষকতা করছেন।২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব ছিলেন। তিনি সংস্থাটির প্রথম নারী, প্রথম এশীয় এবং প্রথম মুসলিম মহাসচিব। তার নেতৃত্বেই নারী ও কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বৈশ্বিক প্রচারণা শুরু করে।এর আগে ২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ল অর্গানাইজেশনের (আইডিএলও) মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। মানবাধিকারে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০০৬ সালে সিডনি পিস প্রাইজসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মাননায় ভূষিত হন।
শেষ হয়েছে নকআউট পর্বের দ্বিতীয় ধাপ। শেষ ষোলো থেকে জয় তুলে নিয়ে আটটি দল নিশ্চিত করেছে কোয়ার্টার ফাইনাল। শিরোপার লড়াইয়ে এখন টিকে আছে মরক্কো, ফ্রান্স, নরওয়ে, ইংল্যান্ড, স্পেন, বেলজিয়াম, আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড।সবশেষ দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে সুইজারল্যান্ড। অন্যদিকে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিয়েছে তিন আয়োজক দেশ কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো। তাদের সঙ্গে টুর্নামেন্ট শেষ হয়েছে প্যারাগুয়ে, ব্রাজিল, পর্তুগাল, মিশর ও কলম্বিয়ারও।এবারের কোয়ার্টার ফাইনালে জমজমাট কয়েকটি লড়াই অপেক্ষা করছে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য। প্রথম ম্যাচে দুইবারের ফাইনালিস্ট ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ মরক্কো। এরপর স্পেনের মুখোমুখি হবে বেলজিয়াম। তৃতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে শক্তিশালী নরওয়ের বিপক্ষে খেলবে ইংল্যান্ড। আর শেষ আটের শেষ ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা লড়বে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে।কোয়ার্টার ফাইনালের সূচি (বাংলাদেশ সময়)ফ্রান্স বনাম মরক্কো-১০ জুলাই, রাত ২:০০টা, বোস্টন স্টেডিয়ামস্পেন বনাম বেলজিয়াম-১১ জুলাই, রাত ১:০০টা, লস অ্যাঞ্জেলস স্টেডিয়ামনরওয়ে বনাম ইংল্যান্ড-১২ জুলাই, রাত ৩:০০টা, মায়ামি স্টেডিয়ামআর্জেন্টিনা বনাম সুইজারল্যান্ড-১২ জুলাই, সকাল ৭:০০টা, কানসাস সিটি স্টেডিয়াম।কোয়ার্টার ফাইনাল শেষে বিজয়ী চার দল সেমিফাইনালে জায়গা করে নেবে। শিরোপার দৌড়ে তাই প্রতিটি ম্যাচই হতে যাচ্ছে হাইভোল্টেজ লড়াই।
শেষ ষোলোয় মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার শুরুটা ছিল হতাশার। মেসির পেনাল্টি মিস হওয়ার পর কালো মেঘ ভর করে দলটির আকাশে। যদিও এই গল্পের শেষটা সবাইকে চমকে দিয়েছে। ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকা আর্জেন্টিনা ম্যাচটি জিতেছে ৩-২ গোলে। মেসি নিজে এই ৩ গোলের মধ্যে একটি করেছেন, আরেকটি করিয়েছেন। আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য এই প্রত্যাবর্তনে উজ্জীবিত দলটির সমর্থকরা। তবে ম্যাচ রেফারিং ও ভিএআরের দুটি সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র আপত্তি তুলেছে পরাজিত দল মিসর। দলটির কোচ হোসাম হাসানের দাবি—৬২ মিনিটে মোস্তফা জিকোর করা গোলটি অন্যায্যভাবে বাতিল করা হয়েছে। আবার আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে ফাউল হলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। ফলে এসব বিষয় নিয়ে চলছে তর্ক-বিতর্ক। আর্জেন্টিনার বিজয়ের পর দেশের শোবিজ অঙ্গনের বেশ কজন তারকা নিজেদের অনুভূতি ও ভাবনার কথা জানিয়েছেন।চিত্রনায়ক ওমর সানী ব্রাজিলের সমর্থক। তার দল দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিদায় নিয়েছে। তবে বিশ্বকাপের খেলা নিয়মিত দেখেন। মিসরের কোচ হোসাম হাসানের ছবি সম্বলিত একটি ফটোকার্ড নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে লেখেন, “সবকিছু এখন মার্কেটিং এবং টাকার খেলা। তারা চায় মেসি টিকে থাকুক। এখন অনেক কিছুই মাঠের বাইরে নির্ধারণ হয়, আজকে যা হয়েছে সম্পন্ন অন্যায়, এটাকে বিশ্বকাপ বললে ভুল হবে, এটি ফিফা মেসি বিশ্বকাপ।” ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়িকা পূর্ণিমা লিওনেল মেসির ভক্ত। তার প্রতি মুগ্ধতা ও ভালোবাসার জন্যই আর্জেন্টিনার একজন কট্টর সমর্থক তিনি। আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য বিজয়ের পর উল্লাস করতে দেখা যায় তার পোস্ট করা ভিডিওতে। উচ্ছ্বসিত পূর্ণিমা এক পোস্টে লেখেন, “আর্জেন্টিনার অসাধারণ একটি রাত! সারা বিশ্ব যখন ভেবেছিল খেলা শেষ, মেসি এবং তার যোদ্ধারা সত্যিকারের চ্যাম্পিয়নদের মতো দৃঢ়তা দেখালেন। সাহস, আবেগ এবং বিশ্বাস এক দর্শনীয় ভঙ্গিতে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিল। আলহামদুলিল্লাহ।”ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী মনিরা মিঠু ছোটবেলা থেকেই আর্জেন্টিনার সমর্থক। প্রিয় দলের বিজয়ের পর অশ্রুসিক্ত মেসির ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, “আমার বড় ভাই অভিনেতা চ্যালেঞ্জার, আমার ভাই ভাইজান শিখিয়ে দিয়েছিলেন—‘শুনো, ম্যারাডোনার দল আর্জেন্টিনা, সেই দল তুমি করবে।’ আমি তখন ক্লাস ফাইভে পড়ি। মাঝে আর্জেন্টিনার ধস নামলেও আর্জেন্টিনা ছেড়ে যাইনি, যাবও না।”ছোটবেলা থেকেই ব্রাজিলের সমর্থক ছোটপর্দার দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিম সাইয়ারা তটিনী। তবে আর্জেন্টিনা কিংবা তাদের সমর্থকদের প্রতি তার কোনো ঘৃণা নেই। আর্জেন্টিনার বিজয়ে উচ্ছ্বসিত তটিনী লেখেন, “এমন কামব্যাক আমার জীবনেও চাই।”ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব একজন ফুটবলপ্রেমী। আর্জেন্টিনার সমর্থক ও মেসির ভক্ত। প্রিয় দলের বিজয়ের পর তৌসিফ মাহবুব তার ফেসবুকে মেসির ছবি পোস্ট দিয়েছেন। তাতে এই অভিনেতা লেখেন, “পৃথিবীর সেরাদের কাছ থেকে সেরা কামব্যাক।” ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’খ্যাত অভিনেতা জিয়াউল হক পলাশের প্রিয় দল ব্রাজিল ও প্রিয় খেলোয়াড় নেইমার। বিশ্বকাপের আসর থেকে বিদায় নিয়েছে তার প্রিয় তারকা। তবে মেসিকেও সম্মান করেন। তাছাড়া পলাশের স্ত্রী আর্জেন্টিনার কট্টর সমর্থক। আর্জেন্টিনার বিজয়ের পর পলাশ ফেসবুকে লেখেন, “সংসারে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য ধন্যবাদ আর্জেন্টিনা। ধন্যবাদ ফিফা এবং রেফারি।”
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-জুন সময়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের মোট রপ্তানি আয় ছিল ৩৮.৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ১.৬৪ শতাংশ কম। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে হিস্যা আরও কমেছে।ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের একক বৃহত্তম গন্তব্য হিসেবে অবস্থান ধরে রাখলেও সেখানে রপ্তানি ৩.৩১ শতাংশ কমে ১৯.০৬ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। এর ফলে মোট রপ্তানিতে এই অঞ্চলের হিস্যা আগের বছরের ৫০.১০ শতাংশ থেকে কমে ৪৯.২৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে—যা স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হিসেবে বাংলাদেশের উত্তরণের আগে বাজার বৈচিত্র্যকরণের প্রয়োজনীয়তার একটি ইঙ্গিত।যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও যুক্তরাজ্যে প্রবৃদ্ধি- বাংলাদেশের অন্যান্য প্রথাগত বাজারের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন; এসব বাজারে রপ্তানি বেড়েছে: যুক্তরাষ্ট্র: ৭.৭৪ বিলিয়ন ডলার (২.৬৩% বৃদ্ধি), যার ফলে মোট রপ্তানিতে দেশটির হিস্যা ১৯.১৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০.০১ শতাংশ হয়েছে। যুক্তরাজ্য: ৪.৩৯ বিলিয়ন ডলার (০.৯১% বৃদ্ধি), যার ফলে হিস্যা সামান্য বেড়ে ১১.৩৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। কানাডা: ১.৩৪ বিলিয়ন ডলার (৩.২০% বৃদ্ধি), যার ফলে হিস্যা বেড়ে ৩.৪৭ শতাংশ হয়েছে।যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডা—এই তিন দেশের সম্মিলিত রপ্তানি এখন মোট রপ্তানির ৩৫ শতাংশেরও বেশি, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে রপ্তানি হ্রাসের প্রভাব কিছুটা পুষিয়ে দিয়েছে।অ-প্রথাগত বাজারেও রপ্তানি কমেছে- জাপান, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, তুরস্ক ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মতো অ-প্রথাগত বাজারে রপ্তানি ৪.২৫ শতাংশ কমে ৬.১৬ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে এবং এসব বাজারের সামগ্রিক হিস্যা ১৬.৩৬ শতাংশ থেকে কমে ১৫.৯৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি এই অঞ্চলগুলোতেও রপ্তানি হ্রাস পাওয়ার বিষয়টি ইঙ্গিত দেয় যে, বছরের এই নিম্নমুখী প্রবণতা কেবল বাংলাদেশের একক বৃহত্তম বাজারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। পণ্যের ধরন: নিট পণ্যের তুলনায় ওভেন পণ্যের রপ্তানি হ্রাসের হার কম।বিভাগ অনুযায়ী বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নিটওয়্যার রপ্তানি ২.৫৩ শতাংশ কমেছে; অন্যদিকে ওভেন পণ্যের রপ্তানি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল এবং কমেছে মাত্র ০.৬১ শতাংশ। এর মাধ্যমে সেই প্রবণতাই অব্যাহত রইল, যেখানে চলতি অর্থবছরের অধিকাংশ সময়জুড়েই নিট পণ্যের তুলনায় ওভেন পণ্যের রপ্তানি ভালো অবস্থানে ছিল।
৯ ঘন্টা আগে
বাংলাদেশে বর্তমানে মোট মসজিদের সংখ্যা ৩ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৫টি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মসজিদ রয়েছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে মসজিদের সংখ্যা ৭১ হাজার ৫৯৬টি। আর সবচেয়ে কম মসজিদ রয়েছে সিলেট বিভাগে, যার সংখ্যা ২২ হাজার ৬টি।সম্প্রতি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সমন্বয় বিভাগ মসজিদের এ পরিসংখ্যান তৈরি করেছে।বিভাগভিত্তিক মসজিদের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের আট বিভাগের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে রয়েছে ৬৩ হাজার ৭০৩টি মসজিদ। এরপর রয়েছে রাজশাহী বিভাগে ৪৫ হাজার ৮৭৯টি, রংপুর বিভাগে ৪৫ হাজার ৭৯২টি, বরিশাল বিভাগে ৩৫ হাজার ৬৯১টি, খুলনা বিভাগে ৩৪ হাজার ৫৮৬টি, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩১ হাজার ২১২টি এবং সিলেট বিভাগে ২২ হাজার ৬টি মসজিদ।বিভাগভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, দেশের মোট মসজিদের প্রায় এক-পঞ্চমাংশই ঢাকা বিভাগে অবস্থিত। অন্যদিকে চট্টগ্রাম বিভাগ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এবং সিলেট বিভাগে মসজিদের সংখ্যা সবচেয়ে কম।একই সঙ্গে জেলা এবং উপজেলাওয়ারী তালিকাও তৈরি করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের একজন কর্মকর্তা জানান, মাঠপর্যায়ে থাকা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অফিসের মাধ্যমে এ তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকতে পারে। এর আগে করোনা মহামারির সময় একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। সেই তালিকা অনুযায়ী এখন মসজিদের সংখ্যা ৪০ হাজারের মতো বেড়েছে বলেও জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।
কোষ্ঠকাঠিন্য বর্তমানে খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, কম পানি পান, ব্যস্ত জীবনযাপন এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার কারণে অনেকেই এ সমস্যায় ভোগেন। এতে শুধু শারীরিক অস্বস্তিই নয়, মানসিক চাপও বাড়ে।বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনলেই কোষ্ঠকাঠিন্য অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এ জন্য কিছু সহজ ও বৈজ্ঞানিকভাবে সমর্থিত ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করা যেতে পারে।পর্যাপ্ত পানি পানশরীরে পানির ঘাটতি হলে মল শক্ত হয়ে যায়। তাই নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি পান করলে অন্ত্রের কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকে এবং মলত্যাগ সহজ হয়।ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার খাওয়াশাকসবজি, ফল, ডাল ও শস্যজাত খাবারে থাকা ফাইবার মল নরম করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে সলিউবল ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে বেশি কার্যকর।নিয়মিত ব্যায়ামহাঁটা, সাইক্লিং কিংবা হালকা ব্যায়াম অন্ত্রের নড়াচড়া বাড়ায়। এতে মলত্যাগ সহজ হয়।কফি পানক্যাফেইন অন্ত্রকে উদ্দীপিত করে। ফলে অনেকের ক্ষেত্রে কফি পান করার পর দ্রুত মলত্যাগের প্রবণতা দেখা যায়।প্রোবায়োটিক খাবারদই, কিমচি কিংবা সাউয়ারক্রাউটের মতো খাবার অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে।ল্যাক্সেটিভ ওষুধচিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী স্টুল সফটনার বা ওসমোটিক ল্যাক্সেটিভ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে দীর্ঘদিন নিজে নিজে ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়।গ্লুকোম্যানান বা শিরাটাকি নুডলসএটি এক ধরনের সলিউবল ফাইবার, যা অন্ত্রের কার্যক্রম উন্নত করতে এবং মল নরম রাখতে সহায়তা করে।প্রিবায়োটিক খাবাররসুন, পেঁয়াজ, কলা, ডাল ও বিভিন্ন সবজিতে থাকা প্রিবায়োটিক উপাদান অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।ম্যাগনেসিয়াম সাইট্রেটএটি একটি সহজলভ্য সাপ্লিমেন্ট, যা অন্ত্রে পানি টেনে এনে মল নরম করে এবং দ্রুত মলত্যাগে সাহায্য করে।প্রুনস বা শুকনো বরইপ্রুনসে থাকা সরবিটল প্রাকৃতিক ল্যাক্সেটিভ হিসেবে কাজ করে। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে বেশ কার্যকর।দুধজাত খাবার কম খাওয়াযাঁদের ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে দুধজাত খাবার কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়াতে পারে। তাই সমস্যা হলে দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার কমিয়ে দেখা যেতে পারে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোষ্ঠকাঠিন্য সাধারণ সমস্যা হলেও দীর্ঘদিন অবহেলা করলে তা জটিল আকার নিতে পারে। তাই সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে এ সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
২০৫০ সালের মধ্যে চরম তাপমাত্রার ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের শীর্ষ ৬টি দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।সোমবার ২৬ জানুয়ারি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাতে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার সাসটেইনেবিলিটি’-তে এই গবেষণাটি প্রকাশ হয়।ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার অব্যাহত থাকলে আগামী ২৫ বছরের মধ্যে চরম তাপপ্রবাহে আক্রান্ত বৈশ্বিক জনসংখ্যার হার প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। শিল্প-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় যদি বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়, তবে চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ বিশ্বের ৪১ শতাংশ মানুষ (প্রায় ৩৭৯ কোটি) অসহনীয় তাপমাত্রার মধ্যে বসবাস করবে। ২০১০ সালে এই পরিস্থিতির শিকার জনগোষ্ঠীর হার ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ (১৫৪ কোটি)।
স্মার্টফোনের ব্যাটারি দীর্ঘস্থায়ী করতে কত শতাংশ চার্জ দেওয়া নিরাপদ, তা নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে রয়েছে নানা সংশয়। অনেকে মনে করেন, ১০০ শতাংশ চার্জ দিলে ব্যাটারি দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। আবার সারারাত চার্জে রাখা নিয়েও রয়েছে অনেক ভয়। তবে আধুনিক স্মার্টফোনের লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি এবং বর্তমানের চার্জিং প্রযুক্তি এই ধারণা অনেকটাই বদলে দিয়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, ব্যাটারির আয়ু বাড়াতে সঠিক পদ্ধতি কী।অনেকেই মনে করেন, ১০০ শতাংশ চার্জ দিলে ব্যাটারি ফেটে যেতে পারে বা নষ্ট হয়ে যায়। বিষয়টি পুরোপুরি ঠিক নয়। বর্তমানের প্রায় সব স্মার্টফোনেই উন্নত প্রযুক্তি রয়েছে, যা ব্যাটারি সম্পূর্ণ চার্জ হয়ে যাওয়ার পর বিদ্যুৎ প্রবাহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। তাই ১০০ শতাংশ চার্জ হওয়া মানেই ব্যাটারিতে অতিরিক্ত চার্জ ঢুকে যাচ্ছে, তা ভাবার কারণ নেই। তবে গরম পরিবেশে দীর্ঘ সময় ফোন ১০০ শতাংশ চার্জে লাগিয়ে রাখলে অতিরিক্ত তাপের কারণে ব্যাটারির ওপর চাপ পড়ে, যা ধীরে ধীরে ব্যাটারির কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়।৮০ শতাংশ চার্জিংয়ের পরামর্শ কেন?ব্যাটারি বিশেষজ্ঞদের মতে, লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ২০ শতাংশ থেকে ৮০ শতাংশ চার্জের মধ্যে সবচেয়ে কার্যকরভাবে কাজ করে। দীর্ঘমেয়াদে ব্যাটারির স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করলে ৮০ বা ৮৫ শতাংশ চার্জিং সীমার মধ্যে রাখা ভালো। এই কারণেই বর্তমানে অ্যাপলসহ বিভিন্ন স্মার্টফোন ব্র্যান্ড তাদের ডিভাইসে ‘চার্জ লিমিট’, ‘ব্যাটারি প্রোটেকশন’ বা ‘অপ্টিমাইজড চার্জিং’-এর মতো ফিচার দিচ্ছে। আপনি যদি একটি ফোন চার-পাঁচ বছর ব্যবহার করতে চান, তবে ৮০-৮৫ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ রাখার অভ্যাসটি বেশ উপকারী।সারারাত চার্জ কি নিরাপদ?নতুন প্রজন্মের স্মার্টফোনগুলোতে ‘অপ্টিমাইজড চার্জিং’ বা ‘অ্যাডাপ্টিভ চার্জিং’ ফিচার থাকে। এগুলো আপনার ব্যবহারের ধরন বুঝে চার্জিং পরিচালনা করে, ফলে সারারাত চার্জে থাকলেও ফোনটি আর আগের মতো ঝুঁকির মুখে থাকে না। তবে ফোন যদি খুব পুরোনো হয়, তবে এই বিষয়ে সতর্ক থাকা ভালো।ব্যাটারি ভালো রাখার কিছু জরুরি টিপসচার্জ কত শতাংশ রাখবেন তার চেয়েও বেশি জরুরি কিছু ছোট অভ্যাস অনুসরণ করা-তাপ থেকে দূরে রাখুন: ব্যাটারির সবচেয়ে বড় শত্রু হলো অতিরিক্ত তাপ। চার্জ দেওয়ার সময় ফোন গরম হলে কভার খুলে রাখুন এবং ভারী গেম খেলা বা মাল্টিটাস্কিং এড়িয়ে চলুন।পুরোপুরি চার্জ শেষ করবেন না: ফোন বারবার ০ শতাংশে নামিয়ে আনবেন না। চার্জ ২০ শতাংশের নিচে নামার আগেই চার্জে বসানো উত্তম।ভালো মানের চার্জার ব্যবহার করুন: ফোনের সাথে পাওয়া অরজিনাল চার্জার বা ভালো মানের সার্টিফাইড চার্জার ব্যবহার করুন।আপনার যদি সারাদিন বেশি ব্যাকআপের প্রয়োজন হয়, তবে ১০০ শতাংশ চার্জ দেওয়া একেবারেই স্বাভাবিক। তবে দীর্ঘমেয়াদে ব্যাটারির স্বাস্থ্য ধরে রাখতে চাইলে ফোনের চার্জিং লিমিট অপশনটি ব্যবহার করতে পারেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ফোনকে অতিরিক্ত গরম হওয়া থেকে রক্ষা করা এবং নিয়মিত সঠিক পদ্ধতিতে চার্জ দেওয়া।