মুদ্রাস্ফীতির চাপে পিষ্ট সাধারণ মানুষের জন্য বড় সুখবর নিয়ে এল ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আজ জাতীয় সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট পেশ করছেন। এই বাজেটে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ কমাতে এবং হাতে বাড়তি টাকা রাখতে একগুচ্ছ জনমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে চাল-ডালসহ নিত্যপণ্যের দাম কমানো এবং করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর ঘোষণা সবার নজর কেড়েছে।করমুক্ত আয়ের সীমায় বড় ছাড় মধ্যবিত্তের জন্য বাজেটের সবচেয়ে বড় উপহার হলো করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধি। বর্তমানে বছরে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয়ের ওপর কোনো কর দিতে হয় না। অর্থমন্ত্রী এটি বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করেছেন। অর্থাৎ, সাধারণ মানুষের পকেটে এখন থেকে বাড়তি টাকা জমা থাকবে।নারীদের জন্য এই সুবিধা আরও বেশি। নারী করদাতা এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সি নাগরিকদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা হবে ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গ ও প্রতিবন্ধী করদাতাদের জন্য ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের ওপর কোনো কর দিতে হবে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আহত যোদ্ধাদের জন্যও থাকছে বিশেষ কর সুবিধা।চাল-ডালসহ ৬০ পণ্যের দাম কমবে বাজারে নিত্যপণ্যের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার আমদানিকারক ও সরবরাহকারীদের জন্য বড় কর ছাড় দিয়েছে। চাল, ডাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, ভোজ্যতেল, চিনি ও লবণের মতো ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর উৎস কর কমানো হয়েছে। আগে এসব পণ্যের ওপর উৎস কর ছিল ২ থেকে ৫ শতাংশ। এখন তা এক ধাক্কায় কমিয়ে মাত্র ০.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে বাজারে এসব পণ্যের দাম দ্রুতই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।চিকিৎসা খরচ কমানোর উদ্যোগ সাধারণ মানুষের চিকিৎসার খরচ সাশ্রয় করতে বাজেটে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে সব ধরনের কর ও ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে প্রতিবার ডায়ালাইসিসের খরচ প্রায় ৮০০ টাকা কমবে। এছাড়া হার্টের রিংয়ের দাম প্রায় ২০ হাজার টাকা এবং চোখের লেন্সের দাম ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কমানোর জন্য কর ছাড়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট এখন আরও সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে এবং সাধারণের খরচ কমাতে মোবাইল ফোনের সিম কার্ডের ওপর থাকা ৩০০ টাকা ট্যাক্স পুরোপুরি তুলে নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে নতুন সিম কেনা আরও সহজ ও সাশ্রয়ী হবে। পাশাপাশি মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবার ওপর থাকা উৎস কর ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে কথা বলা ও ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচও কিছুটা কমবে।প্রবীণদের জন্য ট্রেনের টিকিট ফ্রি জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের সম্মান জানাতে অর্থমন্ত্রী একটি ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছেন। এখন থেকে ৬৫ বছরের বেশি বয়সি নাগরিকরা সারা দেশে ট্রেনে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ভ্রমণ করতে পারবেন। এছাড়া মেট্রোরেলে ভ্রমণের ক্ষেত্রে তারা ২৫ শতাংশ ভাড়া ছাড় পাবেন। এটি দেশের প্রবীণ নাগরিকদের যাতায়াত সহজ ও আনন্দদায়ক করবে।ফ্যামিলি কার্ড ও সামাজিক সুরক্ষা নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রার মান বাড়াতে ৪১ লাখ নারীকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে কার্ডধারী নারী মাসে ২,৫০০ টাকা করে নগদ ভাতা পাবেন। এছাড়া প্রতিবন্ধী ভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে মাসে ১,০০০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ৩৮ লাখ মানুষ এই ভাতার সুবিধা পাবেন।সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। মূল্যস্ফীতির কথা মাথায় রেখেই তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রধান লক্ষ্য বাজারে শান্তি ফিরিয়ে আনা এবং সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। গত কয়েক বছরের অর্থনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে আমরা একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়তে চাই।‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’- প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। বাজেটের বিশাল এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক-দুই উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে।প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থ সংগ্রহ করা হবে। জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এই বাজেট প্রস্তাব পেশ করা হবে। এটি দেশের ৫৫তম বাজেট। এছাড়া বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি আমির খসরুর প্রথম বাজেট উপস্থাপন। নিয়ম অনুযায়ী, সংসদে উপস্থাপনের আগে বাজেটটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয় এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এতে সম্মতি জানান। ১ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে নতুন এই অর্থবছর।
সন্ধ্যা ৭টার পরিবর্তে রাত ৯টা পর্যন্ত দেশের সব শপিংমল, মার্কেট ও দোকান খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামীকাল শুক্রবার (১২ জুন) থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দেশের সব সিটি করপোরেশনের মেয়র বা প্রশাসক, সব বিভাগীয় কমিশনার এবং সব জেলা প্রশাসকের কাছে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য চিঠি পাঠিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এ নির্দেশনা মেলা, বাণিজ্যমেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।আগের নির্দেশনা অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত শপিংমল, দোকান খোলা রাখার নির্দেশনা দিয়েছিল সরকার। তবে খোলা রাখার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা ছিল না।নির্দেশনায় বলা হয়, বিদ্যুৎ বিভাগের পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ১ জুন থেকে শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ১০টার পরিবর্তে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা রাখার বিধান কার্যকর ছিল। তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামীকাল ১২ জুন থেকে এসব প্রতিষ্ঠান বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। এতে আরও বলা হয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান ও অনুষ্ঠিতব্য মেলা, বাণিজ্যমেলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও একই সময়সীমা প্রযোজ্য হবে। তবে খাবারের দোকান, হাসপাতাল, ওষুধের দোকানসহ জরুরি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলো এই নির্দেশনার আওতামুক্ত থাকবে।বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ৯টার মধ্যে বন্ধ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সব ধরনের বিলবোর্ডের বাতি রাত ৯টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আয়োজিত মেলা, বাণিজ্যমেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও রাত ৯টার মধ্যে শেষ করার ব্যবস্থা নিতে হবে।
ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করেছে সরকার। এ ঘটনার জেরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১১ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পক্ষে পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবুল হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।আদেশে বলা হয়, গত ২৭ মে হাসপাতালে এক ওডার্ডে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত এক তদন্ত কমিটির রিপোর্টে ওয়ার্ডে অক্সিজেন স্বল্পতা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলাকে এ মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালটির লাইসেন্স কেন বাতিল হাবে না, এ মর্মে একটি শোকজ নোটিশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নোটিশের জবাব দিতে তাদের ৭২ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেওয়া হলেও আরও ৪৮ ঘণ্টার সময় চেয়ে আবেদন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে গত ৯ জুন শোকজ নোটিশের লিখিত জবাব দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সে জবাববে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, তা কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক না হওয়ায় The Medical Practice and Private Clinics and Laboratories (Regulation) Ordinance, 1982 এর ১১(২) (খ) ধারা অনুযায়ী আপনার হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হইল।তবে অধ্যাদেশের ১২ ধারা অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিলের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করা যাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে আদেশে।
প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের সুযোগের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জয় পেলেই ইতিহাস গড়বে টাইগাররা।তবে সিরিজের প্রথম ম্যাচের মতো এবারও টস ভাগ্য সহায় হয়নি বাংলাদেশের। টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক জস ইংলিশ। ফলে বাংলাদেশকে শুরুতে নামতে হচ্ছে ফিল্ডিংয়ে।দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশ দলে একটি পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যাট হাতে ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হওয়ায় একাদশ থেকে বাদ পড়েছেন সাইফ হাসান। তার জায়গায় দলে ফিরেছেন সৌম্য সরকার।অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের পর অস্ট্রেলিয়াও একাদশে একটি পরিবর্তন এনেছে। লিয়াম স্কটের পরিবর্তে সুযোগ পেয়েছেন রেইলি মেরেডিথ।সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশ ডিএলএস পদ্ধতিতে ৮৬ রানের বড় জয় তুলে নেয়। চার বছর পর দলে ফিরে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখান মোসাদ্দেক হোসেইন। তিনি ৭০ বলে ৮৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলার পাশাপাশি বল হাতে ৩৭ রানে ২ উইকেট শিকার করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন। এছাড়া পেসার নাহিদ রানা ৪১ রানে ৪ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধস নামান। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে সহজেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় বাংলাদেশ। এখন দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জয় তুলে নিয়ে ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় রয়েছে অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজের দল। সিরিজ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মাঠে নামা টাইগারদের দিকে তাকিয়ে দেশের কোটি ক্রিকেটভক্ত।বাংলাদেশের একাদশ: সৌম্য সরকার, তানজিদ হাসান তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস (উইকেটকিপার), তৌহিদ হৃদয়, মোসাদ্দেক হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), তানভীর ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, নাহিদ রানা।অস্ট্রেলিয়ার একাদশ: ম্যাথু শর্ট, কুপার কনোলি, মারনাস লাবুশেন, জশ ইংলিশ (অধিনায়ক/উইকেটকিপার), অ্যালেক্স কেরি, ক্যামেরন গ্রিন, ম্যাট রেনশ, জেভিয়ার বার্টলেট, রিলি মেরেডিথ, নাথান এলিস, অ্যাডাম জাম্পা।
বলিউডের পাওয়ার কাপল দীপিকা পাড়ুকোন-রণবীর সিং এর ঘরে দ্বিতীয় সন্তান আসছে। খবরটি আগেই জানিয়েন এ দম্পতি। এবার প্রথমবারের মতো ক্যামেরায় ধরা পড়লো দীপিকার বেবিবাম্প—যা এখন ভক্তমহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। পিংকভিলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি দীপিকা-রণবীর তাদের নতুন বাড়ির নির্মাণ কাজের অগ্রগতি দেখতে গিয়েছিলেন। আর সেখানেই ক্যামেরাবন্দি হন এই তারকা দম্পতি। ঢিলেঢালা সাদা পোশাকে দীপিকার উপস্থিতি ছিল শান্ত, প্রায় নীরব এক সৌন্দর্যের মতো। নায়িকার বেবিবাম্পসহ ক্যামেরার ফ্রেমে ধরা পড়া মুহূর্তটি স্যোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়, আর ভক্তদের শুভেচ্ছায় ভরে ওঠে টাইমলাইন।সমুদ্রের দিকে মুখ করা সেই বাড়ির প্রতিটি কোণে যেন নতুন জীবনের প্রস্তুতির ছাপ। পাশে দাঁড়িয়ে রণবীর সিং বারবার দেখছিলেন কাজের অগ্রগতি, আর দীপিকা ছিলেন একেবারে স্বাভাবিক, শান্ত, আত্মস্থ।এই দৃশ্য শুধু একটি তারকা দম্পতির ব্যক্তিগত মুহূর্ত নয়—বরং সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়া এক নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত। পর্দার আলো, লাল গালিচার ঝলক পেরিয়ে এখানে তারা দাঁড়িয়ে আছেন জীবনের সবচেয়ে ব্যক্তিগত বাস্তবতায়।ভক্তদের জন্য এই মুহূর্ত তাই শুধু একটি ছবি নয়, বরং এক আবেগের নাম—যেখানে তারকারাও হয়ে ওঠেন সাধারণ, আর সাধারণ মুহূর্তই হয়ে ওঠে গল্প।
জাতীয় সংসদে বাংলাদেশের ইতিহাসের বৃহত্তম এবং দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট উত্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু চৌধুরী। বাজেটে গৃহীত পদক্ষেপের ফলে বেশ কিছু পণ্যের দাম কমবে।এর মধ্যে চিকিৎসা খাতে কিডনি ডায়ালাইসিস, হার্টের রিং বা স্টেন্ট, চোখের ইন্ট্রাওকুলার লেন্স, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনীয় স্পেশাল এসিস্টিভ ডিভাইস, ক্যান্সারের ওষুধ, সক্রিয় ফার্মাসিউটিক্যাল উপাদান, জীবনরক্ষাকারী অন্যান্য ওষুধ, মেডিক্যাল ইকুইপমেন্টস।ইলেক্ট্রনিকস সামগ্রীর মধ্যে ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার, কম্পিউটার প্রিন্টার, কম্পিউটার মনিটর, কম্পিউটার এক্সেসরিস এসএসডি, পিওএস মেশিন। এছাড়া শিশুখাদ্য, সকল ধরনের মসলা, সব ধরনের খেজুর, সব ধরনের সার, ভেটেরিনারি মেডিসিন কীটনাশক ও বালাইনাশক, পোল্ট্রি, ডেইরি ও মৎস্য খাদ্য।বাজেটে মূল্য কমবে যেসব পণ্যেরসংসদে প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রীযন্ত্রাংশের মধ্যে ৫০ হাজার ডলার মূল্য পর্যন্ত ইলেকট্রিক গাড়ি, ২০০০ সিসি পর্যন্ত প্লাগ-ইন ইলেকট্রিক গাড়ি, ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাক, ইলেকট্রিক বাইক, ইলেকট্রিক গাড়ির চার্জার ও চার্জিং স্টেশন, সোলার প্যানেল, সোলার ইনভার্টার, লিথিয়াম ব্যাটারি, লিথিয়াম ব্যাটারি প্যাক, ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম, সোলার প্যানেল মাউন্টিং স্ট্রাকচার, স্মার্টকার্ড ও ব্যাংক কার্ড, স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য মর্চুয়ারি, সিনথেটিক ওভেন ফ্যাব্রিক্স।দাম কমার তালিকায় আরো আছে মিউজিক্যাল ইন্সট্রুমেন্ট- যেমন গিটার, পিয়ানো, ভায়োলিন ইত্যাদি, সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরা এবং এই ক্যামেরা ও প্রজেক্টরের যন্ত্রাংশ, স্কিন কেয়ার ও বিউটি প্রোডাক্টস, জুয়েলারি, সিম কার্ড, ইলেক্ট্রিক কুকার, ইন্ডাকশন কুকার, ইনফ্রারেড কুকার, ওয়াটার পিউরিফায়ার, ওয়াটার হিটার ও গিজার স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্য সামগ্রী, মোবাইল ফোন, রেফ্রিজারেটর, ফ্রিজার, এসি, ওয়াশিং মেশিন, এটিএম, সিসি ক্যামেরা।এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুর ১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে এই প্রস্তাবিত বাজেটের অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অর্থ বিলে স্বাক্ষরের পর বিকেল ৩টায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্পিকারের অনুমতি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদে বাজেট বক্তৃতা শুরু করেন।
৪ ঘন্টা আগে
কোরআনুল কারিম মহান আল্লাহর কালাম এবং মুসলমানদের কাছে সর্বাধিক সম্মানিত গ্রন্থ। তাই কোরআন তেলাওয়াত, বহন ও স্পর্শ করার ক্ষেত্রে কী ধরনের পবিত্রতা প্রয়োজন- এ প্রশ্ন ইসলামি ফিকহের একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে মোবাইল অ্যাপ, অনুবাদ গ্রন্থ এবং দাওয়াতি কার্যক্রমের প্রসারে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।প্রশ্ন হলো, কোরআন স্পর্শ করার জন্য কি অজু থাকা বাধ্যতামূলক, নাকি সাধারণ পবিত্রতাই যথেষ্ট?মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই এটি মহিমান্নিত কোরআন, যা সুরক্ষিত কিতাবে রয়েছে। একে পূত-পবিত্রগণ ব্যতিত কেউ স্পর্শ করে না।’ (সুরা ওয়াকিয়া: ৭৭-৭৯)এই আয়াতের ব্যাখ্যায় মুফাসসিরদের মধ্যে দুটি প্রসিদ্ধ মত পাওয়া যায়। একদল বলেন, এখানে ‘পবিত্রগণ’ বলতে ফেরেশতাদের বোঝানো হয়েছে, যারা লাওহে মাহফুজে সংরক্ষিত কোরআন স্পর্শ করেন। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.), ইকরিমা (রহ.) এবং কিছু তাফসিরবিদের বক্তব্য থেকে এ মতের সমর্থন পাওয়া যায়।অন্যদিকে অধিকাংশ ফকিহ এ আয়াত থেকে মুসহাফ স্পর্শের জন্য পবিত্রতার প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত গ্রহণ করেছেন। যদিও তারা মূল দলিল হিসেবে হাদিসকে অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন।এ বিষয়ে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ দলিল হলো হজরত আমর ইবনে হাযম (রা.)-এর কাছে রাসুলুল্লাহ (স.) প্রেরিত পত্রের বর্ণনা। সেখানে বলা হয়েছে, ‘পবিত্র ব্যক্তি ছাড়া কেউ যেন কোরআন স্পর্শ না করে।’ (মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ৪৬৮; দারাকুতনি: ৪৩১; বায়হাকি)ইমাম মালিক, ইমাম শাফেয়ি, ইমাম আহমদ, ইবনু আবদুল বার, ইবনু কুদামা, ইমাম নববিসহ বহু মুহাদ্দিস ও ফকিহ এ বর্ণনাকে গ্রহণযোগ্য দলিল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইমাম ইবনু হাজর (রহ.) বলেন, এ হাদিসের একাধিক সনদ পরস্পরকে শক্তিশালী করে।ইমাম নববি (রহ.) উল্লেখ করেন, সনদ নিয়ে আলোচনা থাকলেও উম্মাহর গ্রহণযোগ্যতা এবং একাধিক সূত্রে বর্ণিত হওয়ার কারণে অধিকাংশ ফকিহ এ হাদিসকে আমলযোগ্য দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। (আল-মাজমু: ২/৬৯)এ বিষয়ে সাহাবায়ে কেরামের আমলও উল্লেখযোগ্য। ইমাম নববি (রহ.) ও ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) উল্লেখ করেন, হজরত আলী, সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস, সালমান ফারসি ও আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.)সহ একাধিক সাহাবি পবিত্রতা ছাড়া কোরআন স্পর্শ না করার মত পোষণ করেছেন। (আল-মাজমু: ২/৮০; মাজমুউল ফতোয়া: ২১/২৬৬)এ কারণেই ফিকহের অধিকাংশ গ্রন্থে মুসহাফ স্পর্শের জন্য অজুর শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে।আলী (রা.)-এর বর্ণনায় এসেছে, ‘নবী (স.)-কে কোরআন তেলাওয়াত থেকে শুধু জানাবাত ছাড়া অন্যকিছু বিরত রাখত না।’ (আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ; হাসান)এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, রাসুলুল্লাহ (স.) শুধু গোসল ফরজ হলেই তেলাওয়াত থেকে বিরত থাকতেন। ফকিহগণ এই হাদিস ও আমর ইবনে হাযমের হাদিস একসঙ্গে বিশ্লেষণ করে মুসহাফ স্পর্শ ও মুখস্থ তেলাওয়াতের মধ্যে পার্থক্য করেছেন।‘পবিত্র’ ও ‘অজু’ দুটি কি একই বিষয়?এ আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ‘তাহির’ (পবিত্র) শব্দের অর্থ নির্ধারণ। এখানেই মতভেদের মূল শিকড়।কিছু আলেমের মতে, এখানে ‘পবিত্র’ বলতে শুধু বড় নাপাকি (জানাবাত, হায়েজ, নিফাস) থেকে মুক্ত অবস্থাকে বোঝানো হয়েছে। তাদের যুক্তি হলো, হাদিসে ‘মুতাওয়াদ্দি’ (অজুকারী) শব্দ না বলে ‘তাহির’ (পবিত্র) শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।অন্যদিকে জমহুর ফকিহদের মতে, ‘তাহির’ শব্দটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত। ছোট নাপাকি (অজু ভঙ্গ হওয়া) থেকেও পবিত্র থাকা এর অন্তর্ভুক্ত। শরিয়তে পবিত্রতার দুটি স্তর রয়েছে- তাহারাতে কুবরা (বড় পবিত্রতা) ও তাহারাতে সুগরা (ছোট পবিত্রতা)। জমহুরের মতে উভয় স্তরই মুসহাফ স্পর্শের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক।চার মাজহাবের অবস্থানফিকহি মতভেদ থাকা সত্ত্বেও মুসলিম উম্মাহর মূলধারার অবস্থান চার মাজহাবের মতামত থেকেই স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।হানাফি, মালেকি, শাফেয়ি ও হাম্বলি- চার মাজহাবের জমহুর আলেমের মতে, অজু ছাড়া সরাসরি আরবি মুসহাফ স্পর্শ করা জায়েজ নয়। ইমাম নববি (রহ.) ‘আল-মাজমু’ গ্রন্থে এবং ইবনু কুদামা (রহ.) ‘আল-মুগনি’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, এ বিষয়ে সাহাবায়ে কেরাম ও পরবর্তী যুগের অধিকাংশ ফকিহ একই অবস্থান গ্রহণ করেছেন।ভিন্নমত কেন রয়েছে?কিছু আলেম যেমন ইমাম দাউদ জাহেরি, ইবনে হাযম (রহ.) এবং পরবর্তী যুগের কিছু গবেষক আলেম মনে করেন, সুরা ওয়াকিয়ার আয়াতে মানুষের অজুর প্রসঙ্গ সরাসরি উল্লেখ নেই। তাদের মতে, সেখানে ফেরেশতাদের কথা বলা হয়েছে।ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) ‘মাজমুউল ফতোয়াতে উল্লেখ করেন, এ বিষয়ে দলিলগুলোর ব্যাখ্যায় ইজতিহাদের সুযোগ রয়েছে। তার মতে, সুরা ওয়াকিয়ার আয়াতে মূলত ফেরেশতাদের প্রসঙ্গই অধিক স্পষ্ট।ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহ.) ‘ইলামুল মুওয়াক্কিয়িন’ গ্রন্থে বলেন, নবী (স.) কোরআনের আয়াত লিখে বিভিন্ন শাসকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। এ ঘটনাও বিষয়টির ভিন্নতর ব্যাখ্যার পক্ষে আলোচনায় উল্লেখ করা হয়।তবে উল্লেখযোগ্য যে, এ মতটি সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমদের মত নয়; বরং ইসলামি ফিকহের একটি সংখ্যালঘু মত হিসেবে পরিচিত।বিশেষ পরিস্থিতি ও বিধানঅধিকাংশ আলেমের মতে, অজু না থাকলেও মুখস্থ কোরআন তেলাওয়াত করা জায়েজ। তবে সরাসরি মুসহাফ স্পর্শ করার জন্য অজু প্রয়োজন- এটি জমহুরের অবস্থান।জানাবাত (গোসল ফরজ) অবস্থায় কোরআন তেলাওয়াত ও মুসহাফ স্পর্শ উভয় ক্ষেত্রেই অধিকাংশ আলেম কঠোর বিধান উল্লেখ করেছেন।হায়েজ ও নিফাস অবস্থায় হানাফি ও মালেকি মাজহাব অনুযায়ী কোরআন তেলাওয়াত ও মুসহাফ স্পর্শ উভয়ই নিষেধ। শাফেয়ি ও হাম্বলি মাজহাবে এ বিষয়ে বিস্তারিত মতভেদ রয়েছে। ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) ও শায়খ আব্দুল আজিজ ইবনে বায (রহ.) মনে করেন, হাফেজা মহিলার জন্য ভুলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে হায়েজ অবস্থায় তেলাওয়াতের অবকাশ রয়েছে।মোবাইল ফোনে কোরআন পড়ার বিধানসমসাময়িক অধিকাংশ আলেমের মতে, মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট বা কম্পিউটারের স্ক্রিনে কোরআন পড়া বা স্পর্শ করার জন্য অজু শর্ত নয়। কারণ ডিজিটাল স্ক্রিনে প্রদর্শিত অক্ষরগুলো প্রচলিত অর্থে মুসহাফের স্থায়ী লিখিত অক্ষরের মতো নয়। তবে কোরআনের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য অজু অবস্থায় তেলাওয়াত করা অবশ্যই উত্তম।কোরআন স্পর্শের জন্য অজুর বাধ্যবাধকতা নিয়ে ফিকহি আলোচনা ও মতভেদ থাকলেও চার মাজহাবের জমহুর আলেম মুসহাফ স্পর্শের জন্য অজুকে শর্ত হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তাদের অবস্থানের পক্ষে ‘পবিত্র ব্যক্তি ছাড়া কেউ যেন কোরআন স্পর্শ না করে’- এই হাদিস, সাহাবায়ে কেরামের আমল এবং দীর্ঘ ফিকহি ঐতিহ্য রয়েছে।অন্যদিকে কিছু আলেম এ বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন এবং দলিলগুলোর ভিন্নতর ব্যাখ্যার ভিত্তিতে শিথিল মত পোষণ করেছেন। তবে মতভেদ সত্ত্বেও কোরআনের মর্যাদা রক্ষা, আল্লাহর কালামের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন এবং উম্মাহর অধিকাংশ আলেমের অনুসৃত আমলের আলোকে অজু অবস্থায় মুসহাফ স্পর্শ করাই অধিক নিরাপদ, উত্তম ও সতর্কতাপূর্ণ পন্থা।তথ্যসূত্র: সুরা ওয়াকিয়া: ৭৭-৭৯; মুয়াত্তা মালিক: ৪৬৮; দারাকুতনি: ৪৩১; আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ; আল-মাজমু: ২/৬৯-৮০; আল-মুগনি: ১/১৩৭-১৪১; আত-তালখিসুল হাবির: ১/১৩১; . মাজমুউল ফতোয়া: ২১/২৬৬; ইলামুল মুওয়াক্কিয়িন; আল-ফিকহুল ইসলামি ওয়া আদিল্লাতুহু; আল-মুহাল্লা; তাফসির ইবনে কাসির
গরম বাড়লে শুধু অস্বস্তিই বাড়ে না, হৃদযন্ত্রকেও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কাজ করতে হয়। হৃদস্বাস্থ্য নিয়ে কথা বললে সাধারণত ব্যায়াম, কোলেস্টেরল বা ধূমপানের বিষয় সামনে আসে। কিন্তু আবহাওয়ার তাপমাত্রাও হৃদযন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, এ বিষয়টি অনেকেরই জানা নেই।শরীর সবসময় নিজের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে। গরমের সময় এ কাজটি আরো কঠিন হয়ে যায়। শরীরের অতিরিক্ত তাপ বের করে দিতে হৃদযন্ত্রকে ত্বকের দিকে বেশি রক্ত পাঠাতে হয়। একইসঙ্গে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে পানি ও প্রয়োজনীয় লবণ বেরিয়ে যায়। এই ঘাটতি পূরণ না হলে রক্তের পরিমাণ কমে যেতে পারে এবং তখন হৃদযন্ত্রকে আরো বেশি পরিশ্রম করতে হয়।ভারতের নয়ডার কৈলাশ হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এস. কে. আগারওয়ালের মতে, গরমের সময় শরীর থেকে বেশি পানি ও লবণ বের হয়ে যাওয়ায় হৃদযন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। এ সময় অনেকেই বেশি প্যাকেটজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার খান, যেগুলোতে সাধারণত সোডিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকে। তার মতে, পানিশূন্যতা, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ এবং খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন মিলিয়ে হৃদযন্ত্রকে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি কাজ করতে হয়।তবে ভালো খবর হলো, কিছু স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস মেনে চললে এসব ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।শুধু পানি খেলেই হবে না, শরীরকে রাখতে হবে আর্দ্রঅনেকেই তৃষ্ণা পেলে তবেই পানি পান করেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশেষ করে প্রচণ্ড গরমে তৃষ্ণা সবসময় শরীরের পানির চাহিদার সঠিক সংকেত দেয় না।যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, পানিশূন্যতা হৃদ্যন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাও কমিয়ে দেয়। তাই গরমের দিনে নিয়মিত পানি ও অন্যান্য তরল পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়।শরীরে পানির ঘাটতি হলে রক্তের পরিমাণ কমে যায়। ফলে শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছে দিতে হৃদ্যন্ত্রকে বেশি কাজ করতে হয়। এ কারণে তৃষ্ণা লাগার অপেক্ষা না করে সারাদিন অল্প অল্প করে পানি পান করা ভালো।তরমুজ, শসা, টমেটো, কমলা, বাঙ্গি ও স্ট্রবেরির মতো পানিসমৃদ্ধ ফল ও সবজিও শরীরকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এগুলো প্রয়োজনীয় পুষ্টিও জোগায়।মৌসুমি ফল ও সবজি হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারীগরমের মৌসুমে বাজারে নানা ধরনের ফল ও সবজি পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব খাবার শুধু সুস্বাদুই নয়, হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। তাজা ফল ও সবজিতে থাকা পটাশিয়াম, আঁশ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তনালি ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং শরীরের প্রদাহ কমায়। বিশেষ করে পটাশিয়াম শরীরে সোডিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ফল ও সবজি খাওয়ার অভ্যাস হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।ডা. আগারওয়ালের মতে, বেরি, পিচ, বিভিন্ন ধরনের তরমুজ, শাকসবজি, বেল পেপার ও টমেটোর মতো মৌসুমি খাবারে প্রচুর ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা হৃদস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।প্রোটিনের উৎসও গুরুত্বপূর্ণপ্রোটিন খাওয়া জরুরি, তবে সেটি কোন উৎস থেকে আসছে, তা আরো গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রক্রিয়াজাত মাংস ও চর্বিযুক্ত লাল মাংসে বেশি স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও সোডিয়াম থাকে। অন্যদিকে মাছ, ডাল, ছোলা, শিম, টোফু ও কম চর্বিযুক্ত দুধজাত খাবার হৃদস্বাস্থ্যের জন্য তুলনামূলক ভালো।প্রোটিন শক্তি জোগানো ও পেশি ঠিক রাখতে সাহায্য করলেও হৃদস্বাস্থ্যের জন্য স্বাস্থ্যকর উৎস থেকে প্রোটিন নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে চামড়াবিহীন মুরগির মাংস, মাছ, ডাল ও কম চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার ভালো বিকল্প হতে পারে।অতিরিক্ত লবণ এড়িয়ে চলুনগরমের দিনে অনেকেই চিপস, ফাস্টফুড বা প্যাকেটজাত খাবার খেতে পছন্দ করেন। কিন্তু এসব খাবারে সাধারণত সোডিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ রক্তচাপ বাড়াতে পারে। আর উচ্চ রক্তচাপ হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের বড় ঝুঁকিগুলোর একটি। গরমের সময় মানুষ সহজে পাওয়া যায় এমন খাবারের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ে। কিন্তু এসব খাবারে অনেক সময় অতিরিক্ত লবণ ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি থাকে, যা হৃদস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।সব চর্বি ক্ষতিকর নয়একসময় মনে করা হতো সব ধরনের চর্বিই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তবে এখন গবেষণা বলছে, চর্বির ধরনটাই আসল বিষয়।অলিভ অয়েল, অ্যাভোকাডো, বাদাম ও বিভিন্ন বীজে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। অন্যদিকে ট্রান্স ফ্যাট ও অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট ধমনিতে চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।মিষ্টি খাবার খেতে পারেন, তবে পরিমিতআইসক্রিম, ঠান্ডা পানীয় বা স্মুদি গরমের দিনের জনপ্রিয় খাবার। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এগুলো পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই, শুধু পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ এসব খাবারে অনেক সময় অতিরিক্ত চিনি ও ক্যালরি থাকে। বিকল্প হিসেবে তাজা ফলের সরবত, ফ্রোজেন ইয়োগার্ট বা ফলের স্মুদি বেছে নেওয়া যেতে পারে।সহজ খাবারই হতে পারে সবচেয়ে ভালোগরমের কারণে অনেকেই দীর্ঘ সময় রান্নাঘরে থাকতে চান না। এতে অনেক সময় অস্বাস্থ্যকর খাবারের দিকে ঝোঁক বাড়ে। এ সময় কম রান্নার বা সহজে তৈরি করা যায় এমন স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়া ভালো। যেমন—ডাল বা কুইনোয়া দিয়ে সালাদ, ঠান্ডা স্যুপ কিংবা হালকা গ্রিল করা মাছ ও সবজি।এ মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি পান, মৌসুমি ফল ও সবজি খাওয়া, স্বাস্থ্যকর প্রোটিন ও ভালো চর্বি বেছে নেওয়া এবং লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্যাভ্যাসে ছোট ছোট ইতিবাচক পরিবর্তনই দীর্ঘমেয়াদে বড় উপকার এনে দিতে পারে। এসব অভ্যাস মেনে চললে গরমের সময়ও হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখা সম্ভব।সূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া
২০৫০ সালের মধ্যে চরম তাপমাত্রার ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের শীর্ষ ৬টি দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।সোমবার ২৬ জানুয়ারি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাতে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার সাসটেইনেবিলিটি’-তে এই গবেষণাটি প্রকাশ হয়।ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার অব্যাহত থাকলে আগামী ২৫ বছরের মধ্যে চরম তাপপ্রবাহে আক্রান্ত বৈশ্বিক জনসংখ্যার হার প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। শিল্প-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় যদি বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়, তবে চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ বিশ্বের ৪১ শতাংশ মানুষ (প্রায় ৩৭৯ কোটি) অসহনীয় তাপমাত্রার মধ্যে বসবাস করবে। ২০১০ সালে এই পরিস্থিতির শিকার জনগোষ্ঠীর হার ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ (১৫৪ কোটি)।