জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশন মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেল ৩টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছেমঙ্গলবার (৩০ জুন) সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পাসের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) এ মুলতবির কথা ঘোষণা করেন।এর আগে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস হয়েছে। যা বুধবার (১ জুলাই) থেকে নতুন বাজেট কার্যকর হবে। নতুন বাজেটে কর, ভ্যাট ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে।
জাতীয় সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ পাস হয়েছে। নতুন এ আইনের মাধ্যমে ১৮৬৭ সালের প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো ‘The Public Gambling Act, 1867’ রহিতকরণ করা হয়েছে। আইনে জুয়া, অনলাইন জুয়া, দূরবর্তী জুয়া, বেটিং (বাজি বা পণ), বাজিকর (Bookmaker), ম্যাচ ফিক্সিং, স্পট ফিক্সিং, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল ওয়ালেট, ক্রিপ্টোকারেন্সি, ভুয়া সিম, ঘোস্ট সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট, মিরর সাইট, ভিপিএনসহ মোট ২৪ ধরনের বিষয়কে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।একই সঙ্গে অপরাধের ধরন অনুযায়ী ১৪ ধরনের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। গত ২৩ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন। পরে বিলটি পরীক্ষা করে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটির সুপারিশের পর মঙ্গলবার বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিলটি উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান ‘The Public Gambling Act, 1867’ দেড়শ বছরেরও বেশি পুরোনো আইন এবং বর্তমান সময়ের প্রযুক্তিনির্ভর জুয়ার ধরন মোকাবিলায় এটি আর যথেষ্ট নয়। সংবিধানের ১৮(২) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রকে জুয়া নিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০১৮ সালের জেলা প্রশাসক সম্মেলনে আইনটি যুগোপযোগী করে শাস্তির পরিমাণ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছিল।তিনি বলেন, বর্তমানে অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো, ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়া, ভুয়া সিম, ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট, বায়োমেট্রিক জালিয়াতি, ভিপিএন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে সংঘটিত জুয়া, অর্থপাচার ও প্রতারণা দেশের সামাজিক শৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, জননিরাপত্তা এবং তরুণ সমাজের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠেছে। এসব অপরাধ প্রতিরোধ এবং রাষ্ট্রের নৈতিক ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় আধুনিক ও সমন্বিত আইন প্রণয়ন প্রয়োজন হওয়ায় নতুন আইনটি আনা হয়েছে।নতুন আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়ে ১৪ ধরনের অপরাধ নির্ধারণ করা হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততা, অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়া পরিচালনা, অনলাইন বেটিং, জুয়ার স্থান পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ, রক্ষণাবেক্ষণ বা ব্যবহার, জুয়ার সামগ্রী প্রস্তুত, সংরক্ষণ, বিক্রি, বিতরণ বা ব্যবহার, বাজিকর হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা, ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিং, জুয়ার বিজ্ঞাপন, বিভ্রান্তিকর প্রচারণা, স্পন্সরশিপ, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ও রেফারেল ক্যাম্পেইন পরিচালনা, ভিপিএন, প্রক্সি, মিরর সাইট, হোস্টিং, ডোমেইন সার্ভিস বা ক্লাউড অবকাঠামো ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনা, ভুয়া সিম, ঘোস্ট সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট ও বায়োমেট্রিক জালিয়াতির মাধ্যমে জুয়া পরিচালনা এবং জুয়ার অর্থ লেনদেন, অর্থপাচার ও ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার।আইনে সাধারণ জুয়ার অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড এবং এক কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড, অনলাইন বেটিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। জুয়ার স্থান পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ বা ব্যবহারের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও চার লাখ টাকা অর্থদণ্ডের পাশাপাশি আদালতের আদেশে সংশ্লিষ্ট ভবন, কক্ষ, যানবাহন, সার্ভার অবকাঠামো বা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা যাবে। জুয়ার সামগ্রী সংরক্ষণ, প্রস্তুত, সরবরাহ, বিক্রি, বিতরণ, আমদানি বা ব্যবহারের জন্য সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং আদালতের মাধ্যমে এসব সামগ্রী বাজেয়াপ্ত বা ধ্বংসের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা রাখা হয়েছে। বাজিকর হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশন মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেল ৩টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছেমঙ্গলবার (৩০ জুন) সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পাসের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) এ মুলতবির কথা ঘোষণা করেন।এর আগে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস হয়েছে। যা বুধবার (১ জুলাই) থেকে নতুন বাজেট কার্যকর হবে। নতুন বাজেটে কর, ভ্যাট ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে।
২০১৪ সালের বিশ্বকাপ থেকে একের পর এক নিখুঁত পূর্বাভাস দিয়ে ফুটবল বিশ্বে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন জার্মান অর্থনীতিবিদ জোয়াকিম ক্লেমেন্ট। চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপেও তার ভবিষ্যদ্বাণী ছিল আকাশছোঁয়া—তার গাণিতিক মডেল বলছিল, এবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে নেদারল্যান্ডস, আর পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল উপহার দেবে আসরের সবচেয়ে বড় হতাশা!কিন্তু মাঠের ফুটবলে ব্রাজিলের নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে ভেস্তে গেল সেই গাণিতিক হিসাব। আর ম্যাচ শেষেই সেই 'ভবিষ্যদ্বক্তা' গুরুকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধুয়ে দিলেন ব্রাজিলিয়ান পোস্টার বয় নেইমার জুনিয়র।বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে জাপানের মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল। ম্যাচের ২৯ মিনিটে জাপানের কাইশু সানো গোল করে দলকে লিড এনে দিলে নড়েচড়ে বসেন ফুটবলপ্রেমীরা। অনেকেই ভাবছিলেন, ক্লেমেন্টের ভবিষ্যদ্বাণীই হয়তো সত্যি হতে চলেছে।তবে দ্বিতীয়ার্ধে ক্যাসেমিরোর দুর্দান্ত গোলে সমতায় ফেরে ব্রাজিল।ম্যাচের যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে (৯৬ মিনিট) গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি গোল করে ব্রাজিলের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেন।ম্যাচ শেষ হওয়ার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জোয়াকিম ক্লেমেন্টকে সরাসরি ট্যাগ এক্স পোষ্ট করেন নেইমার। তিনি লিখেন, "মিস্টার জোয়াকিম ক্লেমেন্ট... পরের বিশ্বকাপে আবার চেষ্টা করবেন।"জার্মান অর্থনীতিবিদ ক্লেমেন্ট তার গাণিতিক মডেলে প্রথাগত ফুটবলীয় রেকর্ডের বাইরে গিয়ে মাথাপিছু জিডিপি, দেশের জনসংখ্যা এবং আবহাওয়ার তাপমাত্রার মতো অপ্রচলিত ভেরিয়েবল ব্যবহার করে এই পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। গত ৯ এপ্রিল প্রকাশিত তার গবেষণাপত্রে দাবি করা হয়েছিল, ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে পর্তুগালকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হবে নেদারল্যান্ডস, আর ব্রাজিল বাদ পড়বে দ্রুতই। তবে মাঠের নাটকীয়তায় আপাতত ভুল প্রমাণিত হলো সেই জটিল গাণিতিক সমীকরণ।
বিশ্ব কাঁপছে বিশ্বকাপে। সেই ঢেউ লেগেছে বাংলাদেশে। উন্মাদনায় ভাসছে সর্বস্তরের মানুষ। গত ১১ জুন পর্দা উঠতেই পছন্দের দলের সমর্থনে শুরু হয়েছে কথার লড়াই। সাধারণ মানুষ থেকে তারকারা— কেউ বাদ যাচ্ছেন না তালিকা থেকে।এদিকে বিশ্বকাপের এ আসরে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে ব্রাজিল। নিজের পছন্দের দলের জয়ে উচ্ছ্বসিত শোবিজ তারকারা।অভিনেতা নিলয় আলমগীর এক পোস্টে লিখেছেন, ‘শেষ মুহূর্তে ইজ্জতটা বাঁচল, শুভকামনা ব্রাজিল’। অভিনেতা আব্দুন নূর সজল লিখেছেন, ‘এই তো আমার ব্রাজিল! লড়াই, সৌন্দর্য আর জয়—সব একসাথে। জাপানের বিপক্ষে ২–১ গোলের অসাধারণ জয়। অভিনন্দন ব্রাজিল।’ছবিটি শেয়ার করে অভিনেত্রী জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি লিখেছেন, ‘উস্তাদের মার শেষ রাতে। জাপান্টিনা মন খারাপ করও না।’‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ খ্যাত জিয়াউল হক পলাশ ব্রাজিলের জার্সি পরিহিত একটি ছবি প্রকাশ করে নিজের দলের জয় উদযাপন করেছেন। ক্যাপশনে কিছু না লিখলেও ব্রাজিলের পতাকা ব্যবহার করেছেন। এদিকে ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর নির্মাতা কাজল আরিফিন অমি এক পোস্টে ধারাবাহিকের জনপ্রিয় সংলাপ ‘এ এ এ এ’ লিখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।ছোটপর্দার আরেক জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব একমাত্র সন্তানের সঙ্গে ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘ব্রাজিল’। পোস্টে অভিনেতা জানিয়েছেন, প্রকাশিত ছবিটি ২০২২ সালের।অভিনেত্রী সাফা কবির লিখেছেন, ‘কী দারুণ একটা ম্যাচ! প্রতিটি মুহূর্তই সার্থক হলো। এগিয়ে যাও, ব্রাজিল!’ এদিকে গায়িকা পড়শী ব্রাজিলের জার্সিতে একটি ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘ব্রাজিল’। অভিনেতা শরিফুল রাজ ব্রাজিলের পতাকা একটি ছবি প্রকাশ করেছেন। ক্যাপশনে বেশিকিছু না লিখে শুধু ব্রাজিল লিখেছেন।
বার্ষিক সমাপনী মজুদ গণনা, পরিসম্পদ মূল্যায়ন ও বাস্তব যাচাই কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে বুধবার (১ জুলাই) সারাদেশের সব তেল ডিপো ও প্রধান স্থাপনা থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ ও বিপণন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) পক্ষ থেকে এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বিপিসির বণ্টন ও পরিবীক্ষণ অধিশাখার মহাব্যবস্থাপক ফেরদৌসী মাসুম হিমেল স্বাক্ষরিত ওই আদেশে জানানো হয়েছে যে, বিপিসির আওতাধীন কোম্পানিগুলোর প্রধান স্থাপনা ও ডিপোসমূহে বার্ষিক সমাপনী মজুদ গণনা ও যাচাই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামস্থ প্রধান স্থাপনা থেকে শুরু করে দেশের সব ডিপো এবং স্থাপনার বিপণন কার্যক্রম এদিন স্থগিত থাকবে।তবে বিমান চলাচলের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখার বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে, দেশি ও বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোতে নিরবচ্ছিন্নভাবে জেট-এ১ জ্বালানি তেল সরবরাহ অব্যাহত রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট ডিপোর মজুদ ট্যাংকের বার্ষিক যাচাই কার্যক্রম দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করে সরবরাহ সচল রাখতে হবে।যমুনা অয়েল, পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও ইস্টার্ন রিফাইনারিসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কাছে এই আদেশের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে এবং কার্যক্রমটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
২ ঘন্টা আগে
ইসলামের সর্বোচ্চ পবিত্র স্থাপনা কাবা শরিফের বার্ষিক ঐতিহ্যবাহী ধৌতকরণ অনুষ্ঠান (গুসলুল কাবা) ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) ফজরের নামাজের পর মসজিদুল হারামে এ আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হয়। ইসলামিক ইনফরমেশনের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ-এর পক্ষে কাবা শরিফ ধৌত করার এ অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেন প্রিন্স সৌদ বিন মিশআল বিন আবদুল আজিজ। প্রতিবছরের মতো এবারও নির্ধারিত আনুষ্ঠানিকতা ও সুগন্ধি সামগ্রী ব্যবহার করে কাবা শরিফের অভ্যন্তর পরিষ্কার ও সুগন্ধিমণ্ডিত করা হয়।প্রথম ধাপ: প্রস্তুতিপ্রাথমিক পর্যায়ে ধৌতকরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। কাবার কিসওয়া রক্ষায় দরজার পর্দার নিচের অংশ সাময়িকভাবে উত্তোলন করা হয়। এ ধাপে প্রায় ২০ লিটার জমজম পানি এবং ৮০ মিলিলিটার বিশেষ উদ তেল ব্যবহার করা হয়।দ্বিতীয় ধাপ: ধৌতকরণকাবার দেওয়াল, স্তম্ভ ও মেঝে জমজম পানি ও তায়েফের গোলাপজলে ভেজানো বিশেষ কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করা হয়। এতে ব্যবহৃত হয়-১.৫৪০ মিলিলিটার গোলাপজল২.১১ লিটার বিশেষ সুগন্ধি৩. ৩ মিলিলিটার মৃগনাভি (মাস্ক)তৃতীয় ধাপ: সুগন্ধিকরণশেষ ধাপে কাবার অভ্যন্তরভাগ আতর ও বখুর ধূপ দিয়ে সুরভিত করা হয়। এতে ব্যবহার করা হয়-১.৫০০ মিলিলিটার আতর২.৫০০ গ্রাম প্রিমিয়াম বখুরইসলামের ইতিহাসে কাবা শরিফ ধৌত করার এ ঐতিহ্য অত্যন্ত প্রাচীন। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, মুহাম্মদ (সা.) কাবা শরিফে প্রবেশ করে এর অভ্যন্তরে নামাজ আদায় করেছিলেন এবং তা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছিলেন। সেই সুন্নাহর ধারাবাহিকতায় যুগ যুগ ধরে সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে কাবা শরিফের বার্ষিক গোসলের আয়োজন করে আসছে। বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের কাছে এই বার্ষিক গোসল অনুষ্ঠান গভীর ধর্মীয় তাৎপর্য বহন করে। এটি কাবা শরিফের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান, পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতা রক্ষার এক অনন্য ঐতিহ্যের প্রতীক।
মাছ খাওয়ার উপকারিতা অঢেল। মাছ প্রোটিনের এক চমৎকার উৎস। এতে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন এ, ডি, বি১২ এবং আয়োডিন ও ক্যালসিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় খনিজ। নিয়মিত মাছ খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়, দৃষ্টিশক্তি ভালো থাকে এবং হাড় মজবুত হয়। কিন্তু তাই বলে সব মাছই শরীরের জন্য উপকারী নয়!মাছ খাওয়ার যেমন সুফল আছে, তেমনি কিছু মাছ শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। যেমন, বাজারে প্রায়শই কম দামে দেখা মেলে তেলাপিয়া মাছের। তবে সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, কৃত্রিম উপায়ে চাষ করা তেলাপিয়া মাছ অনেক সময় টক্সিন বা বিষাক্ত উপাদানে ভরপুর থাকে, যা ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এমনকি এটি হাঁপানি ও অ্যালার্জিরও অন্যতম কারণ হতে পারে।তাই বাজারে যত কম দামেই পাওয়া যাক না কেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চাষ করা তেলাপিয়া মাছ থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। মূলত শেওলা, উচ্ছিষ্ট খাবার কিংবা দূষিত বর্জ্য খেয়ে দ্রুত বেড়ে ওঠে এই মাছ।‘জার্নাল অফ ইমার্জিং টেকনোলজিস অ্যান্ড ইনোভেটিভ রিসার্চ’-এর একটি গবেষণায় ড. নীলেশ সালভে ও ড. নমিতা বাটলে জানিয়েছেন, দূষিত জলাশয়ে চাষ করা তেলাপিয়া মাছে বিপজ্জনক মাত্রায় আর্সেনিক, ক্যাডমিয়াম, ক্রোমিয়াম এবং সিসার মতো ভারী ধাতু পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কিছু ধাতুর পরিমাণ মানুষের খাওয়ার জন্য নির্ধারিত নিরাপদ সীমার চেয়েও অনেক বেশি। গবেষকরা জানিয়েছেন, দূষিত তেলাপিয়া মাছ দীর্ঘদিন ধরে খেলে শরীরে এসব ক্ষতিকর ধাতু জমা হতে থাকে, যা ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের গবেষকদের একাংশের দাবি, অস্বাস্থ্যকর খামারের তেলাপিয়া মাছ খেলে ক্যানসারের ঝুঁকি প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, এশিয়া থেকে আমদানি করা কিছু তেলাপিয়া মাছের শরীরে মারাত্মক বিষাক্ত উপাদান মিলেছে। গবেষকদের দাবি, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে মাছ চাষের সময় অনেক ক্ষেত্রে হাঁস, শুকর বা মুরগির বর্জ্য ও দেহাবশেষ খাবার হিসেবে দেওয়া হয়, যা মাছটিকে দ্রুত বড় করলেও বিষাক্ত করে তোলে। বিজ্ঞানীরা জানান, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তেলাপিয়া চাষের সময় অত্যধিক পরিমাণে অ্যান্টিবায়োটিক, কীটনাশক ও রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়।বাজারে চাহিদা বেশি থাকায় তেলাপিয়া খামারে বিপুল পরিমাণে চাষ করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে এসব খামারে মানসম্মত খাবারের পরিবর্তে হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা দেওয়া হয়। এই অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে রোগজীবাণু শরীরে বয়ে বেড়ায় তেলাপিয়া। আর সেই মাছ খেলে মানুষের হৃদরোগ, পক্ষাঘাত (প্যারালাইসিস) ও হাঁপানির সমস্যা হতে পারে, এমনকি বেড়ে যায় হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও।বিশেষজ্ঞদের মতে, খামারে উৎপাদিত তেলাপিয়া মাছে প্রাকৃতিক প্রোটিনের মাত্রা তুলনামূলক কম থাকে। উল্টো এদের শরীরে ‘ডিবুটিলিঙ্ক’ নামের এক প্রকার রাসায়নিক জমা হতে পারে, যা থেকে হাঁপানি ও অ্যালার্জি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। উল্লেখ্য, প্লাস্টিকের বিভিন্ন জিনিস তৈরির ক্ষেত্রেও এই ডিবুটিলিঙ্ক ব্যবহার করা হয়।এছাড়া এই মাছের শরীরে ‘ডাইঅক্সিন’ নামের এক ধরনের রাসায়নিক থাকে। খামারের তেলাপিয়ার শরীরে এই ডাইঅক্সিনের মাত্রা সাধারণ মাছের চেয়ে প্রায় ১১ গুণ বেশি পাওয়া গেছে। গবেষকদের দাবি, এই ডাইঅক্সিন শরীরে প্রবেশ করলে ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়ে। পাশাপাশি খামারে চাষ করা তেলাপিয়া থেকে স্ট্রেপ্টোকক্কাস ও কলমনারিসের মতো ব্যাকটিরিয়াঘটিত রোগ ছড়াতে পারে।২০০৮ সালের একটি গবেষণা পত্র অনুযায়ী, তেলাপিয়া মাছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-সিক্স ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। অতিরিক্ত ওমেগা-সিক্স শরীরে প্রবেশ করলে হাঁপানি, বাত ও প্রদাহজনিত অসুখ বাড়তে পারে। এটি রক্তচাপ বাড়িয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি করে, যার ফলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের আশঙ্কা দেখা দেয়। সূত্র : নিউজ বাংলা১৮
২০৫০ সালের মধ্যে চরম তাপমাত্রার ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের শীর্ষ ৬টি দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।সোমবার ২৬ জানুয়ারি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাতে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার সাসটেইনেবিলিটি’-তে এই গবেষণাটি প্রকাশ হয়।ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার অব্যাহত থাকলে আগামী ২৫ বছরের মধ্যে চরম তাপপ্রবাহে আক্রান্ত বৈশ্বিক জনসংখ্যার হার প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। শিল্প-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় যদি বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়, তবে চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ বিশ্বের ৪১ শতাংশ মানুষ (প্রায় ৩৭৯ কোটি) অসহনীয় তাপমাত্রার মধ্যে বসবাস করবে। ২০১০ সালে এই পরিস্থিতির শিকার জনগোষ্ঠীর হার ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ (১৫৪ কোটি)।