নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।বুধবার (২২ জুলাই) বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।এর আগে বিষয়টি তদন্তে গঠিত কমিটির প্রতিবেদন জমা পড়ে। সেই প্রতিবেদনের আলোকে বুধবার (২২ জুলাই) দলটির নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে তাকে বহিষ্কারের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়।জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ ২২ জুলাই (বুধবার) বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর মিন্ট রোডস্থ বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি। বৈঠকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত বিষয়ে সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় তাকে গঠনতন্ত্রের ৬২ নং ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। একই সাথে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে অবহিত করার সিদ্ধান্ত হয়।
আগামী বছরের প্রথমদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে রাজধানীতে আয়োজিত বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মেম্বার অ্যাসোসিয়েশন আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন।তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ নির্বাচন। জনপ্রতিনিধিদের জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসতে হবে।’মন্ত্রী আরও বলেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ইচ্ছা করলেই বরখাস্ত করা উচিত না। ত্রাণ যেন সঠিকভাবে বণ্টন করা হয়। গরিবের হক যেন নষ্ট না হয়। চেয়ারম্যান মেম্বারদের ভাতার ব্যাপার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলে সম্মানজনক জায়গায় আনার চেষ্টা করবো।’এসময় তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার শক্তিশালী হলে রাষ্ট্র শক্তিশালী হবে।’ এ বছর ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী এই কাজে জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান। এছাড়াও সরকারি ত্রাণ সঠিকভাবে বণ্টনের পরামর্শ দেন তিনি।সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত সময় ত্রাণের বরাদ্দ হতো এপ্রিলে। এবার থেকে ত্রাণের বরাদ্দ দেওয়া হবে সেপ্টেম্বর মাসে। যাতে বাকি চার মাস বণ্টনের কাজ শেষ করা যায়।’
চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বৈঠকগুলোতে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্ক পরিচালনার মূল দিকনির্দেশক হবে বলে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন খলিলুর রহমান।বুধবার (২২ জুলাই) ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরাম (এআরএফ) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের সাইডলাইনে এসব বৈঠক করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। এসময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এসব জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তি বলা হয়েছে, এই বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও যোগাযোগসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিস্তৃত পরিসর নিয়ে আলোচনা হয়। এই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জোর দেওয়া হয় যে, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্ককে পথ দেখাবে।চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে উভয় পক্ষ অভিন্ন ভবিষ্যতের জন্য বাংলাদেশ-চীন কমিউনিটি যৌথভাবে গড়ে তুলতে ব্যাপক সহযোগিতামূলক অংশীদারত্ব এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের প্রত্যাবাসন, মাল্টি-মোডাল ট্রান্সপোর্ট করিডোর, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়ে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলোচনা করেন।বাংলাদেশ-রাশিয়া দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সময়, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানান। উভয় পক্ষই জ্বালানি ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়েছে।পরে বিকালে মার্কিন সেক্রেটারি অব স্টেট মার্কো রুবিও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিওকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
মাঠের খেলায় তারা প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ চূর্ণবিচূর্ণ করে দেন, আর মাঠের বাইরে তাদের নাচ কিংবা খুনসুটি মাতিয়ে রাখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। স্পেনের বিশ্বজয়ী দুই ফুটবল তারকা লামিন ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামস বর্তমান ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আলোচিত দুই নাম। রবিবার রাতে ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের পেছনেও বড় ভূমিকা রেখেছেন এই দুই তরুণ। তবে আজ তারা ফুটবল বিশ্বের চূড়ায় অবস্থান করলেও, এই সাফল্যের পেছনের গল্পটি রূপকথাকেও হার মানায়। এটি মূলত আফ্রিকান অভিবাসী পরিবারের সংগ্রাম, চরম ত্যাগ আর দুই তরুণের অবিশ্বাস্য কঠোর পরিশ্রমের ইতিহাস।মরুভূমি পেরিয়ে নতুন জীবনের খোঁজে উইলিয়ামস পরিবারনিকো উইলিয়ামসের আজকের এই অবস্থানের পেছনে রয়েছে তার বাবা-মায়ের রক্তভেজা এক সংগ্রামের ইতিহাস। ১৯৯৪ সালে ঘানা ছেড়ে এক কাপড়ে ইউরোপের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন তার বাবা ফেলিক্স উইলিয়ামস ও মা মারিয়া। উন্নত জীবনের আশায় সাহারা মরুভূমির তপ্ত বালু পথ পাড়ি দিয়েছিলেন তারা। ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় কাতর মারিয়াকে সেই যাত্রাপথের বেশ কিছু অংশ হাঁটতে হয়েছিল খালি পায়ে।স্পেনের মেলিয়ায় পৌঁছে রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য নিজেদের যুদ্ধবিধ্বস্ত লাইবেরিয়ার নাগরিক হিসেবে পরিচয় দেন তারা। পরবর্তীতে বিলবাওয়ে জন্ম নেন নিকোর বড় ভাই ইনিয়াকি উইলিয়ামস। এরপর পরিবারটি পাম্পলোনায় চলে গেলে ২০০২ সালে জন্ম হয় নিকোর।সংসার চালাতে নিকোর বাবা দীর্ঘ ১০ বছর লন্ডনে গিয়ে ক্লিনার ও শ্রমিকের কাজ করেন। বাবার অনুপস্থিতিতে ছোট ভাই নিকোর অভিভাবক হয়ে ওঠেন বড় ভাই ইনিয়াকি। তিনিই নিকোকে খাইয়ে দেওয়া, স্কুলে নিয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে ফুটবলের হাতেখড়ি দেন। ফুটবলার হয়ে ওঠার পর ২০২১ সালে অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের হয়ে এই দুই ভাই একসঙ্গে মাঠে নেমে ইতিহাস গড়েন। নিকো সবসময়ই বলেন, ইনিয়াকি শুধু তার ভাই নন, তার বাবার মতো।রোকাফোন্দার সেই লড়াকু ছেলে ইয়ামাললামিন ইয়ামালের গল্পটাও অন্যরকম সংগ্রামের। তার বাবা মুনির নাসরাউই এসেছিলেন মরক্কো থেকে এবং মা শেইলা এবানা ইকুয়েটোরিয়াল গিনির বাসিন্দা। ইয়ামালের দাদি প্রথমে মরক্কো থেকে স্পেনে এসে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ নেন, পরে পুরো পরিবারকে স্পেনে নিয়ে আসেন। বার্সেলোনার চরম শ্রমজীবী ও অবহেলিত এলাকা হিসেবে পরিচিত ‘রোকাফোন্দা’তেই বড় হয়েছেন ইয়ামাল।শৈশবেই ফুটবলের জাদুকরী প্রতিভা দেখে বার্সেলোনার বিখ্যাত ‘লা মাসিয়া’ একাডেমিতে জায়গা পেয়ে যান তিনি। এরপর বাকিটা ইতিহাস। একের পর এক রেকর্ড ভেঙে মাত্র ১৬-১৭ বছর বয়সেই বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকায় পরিণত হন এই উইঙ্গার। সম্প্রতি ইউনিসেফের একটি দাতব্য অনুষ্ঠানে শিশু ইয়ামালকে লিওনেল মেসির গোসল করিয়ে দেওয়ার একটি ছবি ইন্টারনেটে ঝড় তোলে। অনেকেই মজা করে একে ‘মেসির আশীর্বাদ’ বলে অভিহিত করেন।মাঠের রসায়ন ও গভীর বন্ধুত্বস্পেন জাতীয় দলে আসার পর থেকেই ইয়ামাল ও নিকোর মধ্যে গড়ে ওঠে এক অভেদ্য প্রাচীর। স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে তরুণ ইয়ামালের দেখভালের মূল দায়িত্ব দিয়েছিলেন নিকোকে। সেই থেকে মাঠ এবং মাঠের বাইরে তারা হরিহর আত্মা। গোল করার পর তাদের সিগনেচার নাচ বিশ্বজুড়ে তরুণদের মাঝে দারুণ জনপ্রিয়।বহুসংস্কৃতির আধুনিক স্পেনের নতুন প্রতীকইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মোইসেস রুইসের মতে, ইয়ামাল ও নিকো কেবল ফুটবলার নন, তারা আধুনিক ও বহুসাংস্কৃতিক স্পেনের নতুন প্রতীক।স্প্যানিশ ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, একসময় স্পেনে যারা ছিলেন ব্রাত্য, আজ তাদের হাত ধরেই বিশ্বমঞ্চে স্পেনের পতাকা সবচেয়ে উঁচুতে উড়ছে। ইয়ামাল ও নিকোর এই গল্প প্রমাণ করে—সুযোগ, ত্যাগ ও কঠোর পরিশ্রমের সমন্বয় ঘটলে ফুটবলের সবুজ গালিচায় যেকোনো প্রতিকূলতাকেই জয় করা সম্ভব।
লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশন নিয়ে বছরজুড়ে ব্যস্ত থাকেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী কেয়া পায়েল। তবে এত ব্যস্ততার মাঝেও নিজের জন্য সময় বের করতে ভুল করেন না এই অভিনেত্রী। সুযোগ পেলেই পাড়ি জমান দেশের বাইরে। সম্প্রতি ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন ভারত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপে। সেই ভ্রমণের রঙিন স্মৃতি এবার ভাগ করে নিলেন ভক্তদের সঙ্গে।সোমবার (২১ জুলাই) ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন কেয়া পায়েল। সেখানে ধরা পড়ে মালদ্বীপের নীলাভ সমুদ্র, সাদা বালুর সৈকত আর প্রকৃতির মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্যের মাঝে এক উচ্ছ্বসিত কেয়া পায়েল। কখনো খোলা আকাশের নিচে সমুদ্রের বাতাসে নিজেকে ভাসিয়ে দিচ্ছেন, কখনো বালুকাবেলায় ছুটে বেড়াচ্ছেন। আবার কখনো প্যারাসেইলিংয়ের রোমাঞ্চ কিংবা স্কুবা ডাইভিংয়ে সাগরের গভীরে হারিয়ে যাওয়ার মুহূর্তও উঠে এসেছে ভিডিওতে। ভিডিওর প্রতিটি ফ্রেমে যেন ছুটির আমেজ আর জীবনের প্রতি ভালোবাসার গল্প। প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে কাটানো সেই মুহূর্তগুলোই যেন অভিনেত্রীর মুখের হাসিতে নতুন ভাষা পেয়েছে। ভিডিওটির ক্যাপশনে কেয়া লিখেছেন, “মন যেটা চায়, সেটাই করো। জীবন তো একটাই।” তার এই বার্তা অনেক অনুসারীর হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। মন্তব্যের ঘরে কেউ তার জীবনবোধের প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ লিখেছেন—এমন স্বপ্নপূরণে আর্থিক সামর্থ্যও গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে মালদ্বীপ সফরের একাধিক ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেছেন কেয়া পায়েল। তবে সেই সফর ঘিরে আরেকটি ভিডিও বেশ আলোচনায় আসে। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, মালদ্বীপের একটি অভিজাত রেস্তোরাঁয় এক যুবকের পাশে বসে তাকে খাবার খাইয়ে দিচ্ছেন অভিনেত্রী। এরপরই সামাজিক মাধ্যমে দুজনের সম্পর্ক নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। যদিও এ বিষয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি কেয়া পায়েল। সৈকতের রোদ, নীল সমুদ্র আর রোমাঞ্চে ভরা ভ্রমণের এই ভিডিও নতুন করে ভক্তদের নজর কেড়েছে। ছবির মতো সুন্দর সেই মুহূর্তগুলোয় কেয়া পায়েল যেন আরো একবার প্রমাণ করলেন—ব্যস্ত জীবনের ফাঁকেও নিজের জন্য কিছু সময় রেখে দিতে হয়!
টানা বৃষ্টির কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার কাঁচাবাজারে সবজির দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী। সরবরাহ কমে যাওয়ায় অধিকাংশ সবজির দাম সেঞ্চুরির কোঠায়। আর কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৪০ টাকায়। সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুন, শসাসহ বিভিন্ন সবজির দাম কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।বুধবার (২২ জুলাই) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে রাজধানীর বাজারে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। করলার দাম ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পটল ৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ১০০ টাকা, ঝিঙা ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং শসা ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েক দিন আগের তুলনায় এসব সবজির দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। লাউ, যা এক সপ্তাহ আগেও ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, এখন বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়।বাজারে কাঁচা মরিচের দামও বেড়েছে। কয়েক দিন আগে এক কেজি কাঁচা মরিচ ১২০ টাকায় কেনা যেত। বর্তমানে প্রতি কেজি সাধারণ মানের কাঁচা মরিচ ২৪০ টাকায় খুচরা বিক্রি হচ্ছে। তবে পেঁপের দাম তুলনামূলক কম রয়েছে। প্রতি কেজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। আর গাজর ১৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। কাঁকরোল ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।বাজার ঘুরে আরও দেখা যায়, প্রায় সব ধরনের সবজির দামই বেড়েছে। বর্তমানে টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া, মিষ্টি কুমড়া পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা, চাল কুমড়া ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং কাঁচা কলা প্রতি হালি ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।বিক্রেতারা বলছেন, টানা বৃষ্টিতে অনেক এলাকায় খেত থেকে সবজি সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। বৃষ্টির কারণে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বাড়ছে। ব্যবসায়ীদের আশা, আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে এবং বাজারে সরবরাহ বাড়লে সবজির দাম আবারও কমতে শুরু করবে। তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক দিন বাজারে দামের চাপ আরও বাড়তে পারে।রাজধানীর এক ক্রেতা বলেন, কয়েক দিন আগেও যে সবজি ৬০ থেকে ৭০ টাকায় কিনেছি, এখন সেটি ১০০ টাকার কাছাকাছি। বিশেষ করে কাঁচা মরিচের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর টাউন হলের এক জন সবজি ব্যবসায়ী বলেন, ভারী বৃষ্টিতে অনেক এলাকায় সবজির খেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে বাজারে সরবরাহ সংকট আরও বেড়েছে।
১৩ ঘন্টা আগে
হজযাত্রীদের জন্য ২০২৭ সালের সরকারি ও বেসরকারি হজ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। এবার সরকারি ব্যবস্থাপনায় দুটি এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় একটি সাধারণ হজ প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে হজ ফ্লাইটের বিমান ভাড়া গত বছরের তুলনায় ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। গতকাল মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ ও গাইডলাইন ঘোষণা করেন মন্ত্রী।ধর্মমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের হজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা, নিবিড় তত্ত্বাবধান এবং সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক প্রচেষ্টায় এবার একটি সুশৃঙ্খল ও কার্যকর হজ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক ও সেবাকেন্দ্রিক করতে সৌদি সরকার ২০২৭ সালের হজে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। মক্কা ও মদিনায় আবাসন, যাতায়াত, ক্যাটারিং, তাঁবু এবং অন্যান্য সেবাকে সমন্বিত একটি সার্ভিস প্যাকেজের আওতায় আনা হয়েছে। আগের চারটি সার্ভিস প্যাকেজের পরিবর্তে এবার তিনটি সার্ভিস প্যাকেজ থাকবে এবং হাফ বোর্ড ক্যাটারিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে হজযাত্রীদের সেবার মান আরও উন্নত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।ধর্মমন্ত্রী জানান, সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী সহজ, সাশ্রয়ী, মানবিক ও প্রবাসীবান্ধব হজ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। তারই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে হজ ফ্লাইটের বিমান ভাড়া আরও কমানো সম্ভব হয়েছে।তিনি বলেন, ২০২৫ সালে বিমান ভাড়া ছিল ১ লাখ ৬৭ হাজার ৮২০ টাকা। ২০২৭ সালে তা কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি হজ প্যাকেজ-১-এর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা। এ প্যাকেজে মক্কায় হারাম শরিফ থেকে এক থেকে দেড় কিলোমিটারের মধ্যে এবং মদিনায় মারকাজি এলাকায় আবাসনের ব্যবস্থা থাকবে। মিনায় জোন-২-এ তাঁবু, সার্ভিস প্যাকেজ-৩ অনুযায়ী সেবা এবং মোয়াল্লেমের মাধ্যমে খাবার সরবরাহ করা হবে। অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে রুম আপগ্রেড ও স্বল্পমেয়াদি প্যাকেজের সুবিধাও নেওয়া যাবে।অন্যদিকে হজ প্যাকেজ-২-এর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা। এতে মক্কায় হারাম শরিফ থেকে দুই থেকে তিন কিলোমিটারের মধ্যে এবং মদিনায় মসজিদে নববি থেকে সর্বোচ্চ ৮০০ মিটারের মধ্যে আবাসনের ব্যবস্থা থাকবে। মিনায় জোন-৫-এ তাঁবু, সার্ভিস প্যাকেজ-৩ অনুযায়ী সেবা এবং মোয়াল্লেমের মাধ্যমে খাবার সরবরাহ করা হবে। হোটেল দুই কিলোমিটারের বেশি দূরে হলে সৌদি সরকারের বিধান অনুযায়ী সালাওয়াত বাসের ব্যবস্থা রাখতে হবে।ধর্মমন্ত্রী জানান, বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোর জন্য ‘সাধারণ হজ প্যাকেজ’ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ প্যাকেজের মূল্য ৫ লাখ ১৩ হাজার ৬৪৮ টাকা। এতে মক্কায় হারাম শরিফ থেকে সর্বোচ্চ তিন কিলোমিটারের মধ্যে এবং মদিনায় মসজিদে নববি থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যে আবাসনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। প্রতি কক্ষে সর্বোচ্চ ছয়জনের থাকার সুযোগ থাকবে। মিনায় জোন-৫-এ তাঁবু, সার্ভিস প্যাকেজ-৩ এবং মোয়াল্লেমের মাধ্যমে খাবারের ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।ধর্মমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার নির্ধারিত সেবার মানের নিচে কোনো বেসরকারি হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা যাবে না। সব প্যাকেজ হজ পোর্টাল ও সংশ্লিষ্ট এজেন্সির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। দমে শুকর, দমে কিরান এবং ক্যাটারিংয়ের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত না করে কোনো প্যাকেজ ঘোষণা করা যাবে না। আগামী বছর বাংলাদেশ থেকে কতজন হজ পালন করতে পারবেন সেটা হজ চুক্তির সময় নির্ধারিত হবে বলেও জানান মন্ত্রী।তিনি বলেন, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি হজযাত্রীরা এবার যে দেশে অবস্থান করছেন, সেখান থেকেই স্বাস্থ্য পরীক্ষা, টিকা গ্রহণ এবং হজ ভিসার আবেদন করতে পারবেন। এ ছাড়া তারা যেন অবস্থানরত দেশ থেকেই সরাসরি সৌদি আরবে যেতে পারেন, সে বিষয়েও সরকার কাজ করছে।কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ জানান, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৭ সালের হজ নিবন্ধন শুরু হবে। হজ পোর্টালে প্যাকেজ নির্বাচন করে আড়াই লাখ টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন করা যাবে। পরে নির্ধারিত সময়ে বাকি অর্থ পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। হজযাত্রীর পাসপোর্টের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত থাকতে হবে। সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী ৮ এপ্রিল ২০২৭ থেকে হজযাত্রা শুরু হবে এবং ১৫ মে (চাঁদ দেখা সাপেক্ষে) পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে।
অনেকের পছন্দের সবজি, আবার অনেকেই পটল খেতে চান না। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, পটল শুধু একটি সাধারণ সবজি নয়, এটি পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি স্বাস্থ্যকর খাবার। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় পটল রাখলে হজমশক্তি ভালো থাকা থেকে শুরু করে হৃদ্যন্ত্র, লিভার, ত্বক ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।পুষ্টিবিদদের মতে, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের পাশাপাশি নিয়মিত পটল খেলে শরীরের নানা উপকার পাওয়া যায়। তবে শুধু পটল খেলেই সুস্থ থাকা সম্ভব—এমন ধারণা ঠিক নয়। পটলে যেসব পুষ্টি রয়েছেপটল কম ক্যালরিযুক্ত হলেও এতে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস, খাদ্য আঁশ এবং নানা ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এসব উপাদান শরীরের সার্বিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করেগরমের সময় শরীরের অতিরিক্ত তাপ কমাতে পটল উপকারী। এটি শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে এবং ক্লান্তি ও পানিশূন্যতার ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখে।হজম ভালো রাখেপটলে থাকা খাদ্য আঁশ হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি গ্যাস, অম্বল, বদহজম ও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও কমাতে সহায়ক হতে পারে।ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখেকম ক্যালরি ও কম চর্বিযুক্ত হওয়ায় পটল ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে, ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতাও কমে।রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়কপটলের শর্করার মাত্রা কম হওয়ায় এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে। তাই এটি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্যও উপকারী একটি সবজি।ত্বক ও চোখের যত্ন নেয়ভিটামিন এ ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ পটল ত্বক সতেজ রাখতে এবং চোখের স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার ঝুঁকিও কমাতে পারে।রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়পটলে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। এতে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ঝুঁকিও কিছুটা কমতে পারে।লিভার ও হৃদ্যন্ত্রের জন্য উপকারীপটল লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়তা করে। পাশাপাশি এতে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং হৃদ্যন্ত্র সুস্থ রাখতে ভূমিকা রাখে। এটি খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতেও সহায়ক হতে পারে।কিডনি, চুল ও নখের যত্নে সহায়কপটল শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি ও বর্জ্য বের হতে সাহায্য করে, যা কিডনির জন্য উপকারী। এছাড়া এতে থাকা বিভিন্ন খনিজ উপাদান চুল মজবুত রাখতে এবং নখ শক্ত করতে সহায়তা করে।রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি কমাতে পারেপটলে থাকা আয়রন রক্তে হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সহায়তা করে। তাই নিয়মিত খাদ্যতালিকায় পটল থাকলে রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি কমাতে কিছুটা ভূমিকা রাখতে পারে।পুষ্টিবিদদের পরামর্শ, পটলের সর্বোচ্চ উপকার পেতে অতিরিক্ত তেল-মসলা ব্যবহার না করে হালকা রান্না বা সেদ্ধ করে খাওয়াই ভালো। এতে এর পুষ্টিগুণও অনেকটাই অক্ষুণ্ন থাকে।
২০৫০ সালের মধ্যে চরম তাপমাত্রার ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের শীর্ষ ৬টি দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।সোমবার ২৬ জানুয়ারি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাতে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার সাসটেইনেবিলিটি’-তে এই গবেষণাটি প্রকাশ হয়।ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার অব্যাহত থাকলে আগামী ২৫ বছরের মধ্যে চরম তাপপ্রবাহে আক্রান্ত বৈশ্বিক জনসংখ্যার হার প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। শিল্প-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় যদি বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়, তবে চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ বিশ্বের ৪১ শতাংশ মানুষ (প্রায় ৩৭৯ কোটি) অসহনীয় তাপমাত্রার মধ্যে বসবাস করবে। ২০১০ সালে এই পরিস্থিতির শিকার জনগোষ্ঠীর হার ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ (১৫৪ কোটি)।
শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও অনলাইন আসক্তি কমাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপ করছে। অনেক দেশ এরই মধ্যে আইন কার্যকর করেছে, আবার অনেক দেশে নতুন আইন প্রণয়নের কাজ চলছে।বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, বিশ্বের অন্তত ২০টি দেশ শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আইন করেছে, আইন প্রস্তাব করেছে বা নতুন বিধিনিষেধ আনার উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি দেশে ইতোমধ্যে এসব বিধিনিষেধ কার্যকর হয়েছে।অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, চীন, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধ কার্যকর রয়েছে। কোথাও বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, আবার কোথাও অভিভাবকের অনুমতি ও বয়স যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।তুরস্ক আইন পাস করেছে, যা চলতি বছরের শেষ দিকে কার্যকর হবে। সংযুক্ত আরব আমিরাতও ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে।এদিকে ইউরোপের অনেক দেশও একই পথে হাঁটছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নতুন নিয়ম আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। গ্রিস, অস্ট্রিয়া, স্লোভেনিয়া, জার্মানি, সুইডেন, ডেনমার্ক, নরওয়ে, যুক্তরাজ্য ও কানাডাও বয়সসীমা নির্ধারণ বা নতুন আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা করছে।ফ্রান্সে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করার একটি বিল মঙ্গলবার পার্লামেন্টে ভোটে ওঠার কথা রয়েছে। বিলটি পাস হলে সেপ্টেম্বর থেকে আইনটি কার্যকর করার আশা করছে সরকার।এ ছাড়া পর্তুগাল, স্পেন ও ইতালিতেও শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সীমিত করতে নতুন আইন নিয়ে আলোচনা চলছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের অতিরিক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার মানসিক স্বাস্থ্য, ঘুম, পড়াশোনা ও সামাজিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ অনলাইনে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বয়সভিত্তিক বিধিনিষেধ আরোপের দিকে ঝুঁকছে।