গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ২৪২ জন।শনিবার (১৮ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৮ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২১ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৭৭ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ৩৫ জন, খুলনা বিভাগে ৪০ জন ও ময়মনসিংহ বিভাগে ২১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মোট ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ১০ হাজার ১২ জন। এর মধ্যে ৬১ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৯ শতাংশ নারী রয়েছেন।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছর ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৩৩ জনের। এর মধ্যেই চলতি মাসে ১৫ জন মারা গেছে। আর জানুয়ারিতে দুই, ফ্রেবুয়ারিতে দুই, মে মাসে একজন ও জুনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, জাতিকে সুশিক্ষিত করাই আমাদের দায়িত্ব। তাই যত ট্রল বা অপবাদই আসুক না কেন, আমাদের সঠিক দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত করা যাবে না।শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন ও নবাগত শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।এর আগে শহরের বরুনকান্দি এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে নামফলক উন্মোচন এবং পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাছানাত আলী স্বাগত বক্তব্য দেন।সম্প্রতি এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে নিজের বিরুদ্ধে হওয়া আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সিটি কলেজের এক শিক্ষার্থী বারবার আমার সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিল। আমি কথা বলি। সে পরীক্ষা পেছানোর অনুরোধ জানায়। কিন্তু জাতীয় পর্যায়ের পরীক্ষা ইচ্ছামতো পরিবর্তন করা যায় না। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছিলাম, ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। তাই পরীক্ষা যথাসময়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।’তিনি বলেন, ‘পরে দেখা গেল দেশের বিভিন্ন স্থানে হালকা বৃষ্টি হয়েছে। তবে কেবল কুমিল্লা মহিলা কলেজ কেন্দ্রেই জলাবদ্ধতার কারণে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউএনও ও জেলা প্রশাসক পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। বিষয়টি জানার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আমি নির্দেশ দিয়েছিলাম।’মন্ত্রী বলেন, ‘বৃষ্টি হলে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়া নতুন কোনো বিষয় নয়। এ অভিজ্ঞতা থেকে ভবিষ্যতে পরীক্ষার সময়সূচি আরও উপযোগী করার চেষ্টা করছি।’শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথোপকথনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘আমি শিক্ষার্থীদের কষ্টের বিষয়টি উপলব্ধি করেছি এবং তাদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছি। কিন্তু বিষয়টিকে ঘিরে একটি নেতিবাচক বর্ণনা তৈরি করা হয়েছে। যারা আমাকে নিয়ে ট্রল করেছে, তাদের অনেকেই পরীক্ষার্থী ছিল না। অথচ ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নামতে দেখা যায়নি। একটি মহল বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।’অবিচলভাবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন জানিয়ে এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘যত ট্রল ও অপবাদই দেওয়া হোক না কেন, আমাদের দায়িত্ব পালন থেকে কেউ বিচ্যুত করতে পারবে না।’নিজের রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ টেনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। বর্তমানে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করছি। তাই অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।’নাম উল্লেখ না করে এক শিক্ষককে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘একজন শিক্ষক আমাকে ‘‘পরীক্ষা মিলন’’ বলে সম্বোধন করেছেন। কিন্তু পরীক্ষা ছাড়া কেউ পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করতে পারেন না। পরীক্ষা ছাড়া কোনো সনদ হয় না। অনেক সময় মনে হয়, দেশে কিছু পিএইচডির মান নিয়েও প্রশ্ন তোলা প্রয়োজন।’ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘তখন মালয়েশিয়ার শিক্ষার্থীরাও সেখানে পড়তেন। তাদের জন্য আন্তর্জাতিক হল নির্মাণ করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ছাত্রদলের প্রথম কমিটিতেও আমি ছিলাম।’শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো জনশক্তি। এই সম্পদকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়াতে হবে এবং শিক্ষার মান উন্নয়ন করতে হবে।’তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসনে থেকেও বাংলাদেশের উন্নয়ন নিয়ে চিন্তা করেছেন। তার ভাবনায় শিক্ষা ছিল সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সে কারণেই শিক্ষা খাতে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকার বাজেট দেওয়া হয়েছে।’ সবাইকে দেশ গঠনে সরকারের পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি।বাংলাদেশকে শিক্ষার হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চান জানিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশকে বিশ্বের একটি শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাই, যেখানে বিদেশি শিক্ষার্থীরাও পড়তে আসবে। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা বিদেশে মেধার স্বাক্ষর রাখছে। তাহলে আমরা নিজের দেশকেও আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে পারব।’
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী ৩১ দফা ও জুলাই সনদ একসঙ্গে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে বর্তমান সরকারের পাঁচ মাস পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।সালেহ শিবলী বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলে অনেক জায়গায় অবনতি হয়েছে। সামাজিক ও মূল্যবোধের জায়গায় অনেক অবনতি হয়েছে, যা আমাদের অনেক অর্জনকে ম্লান করে দিয়েছে।তিনি বলেন, সরকার যে কাজ করছে, তা জনগণের সামনে তুলে ধরতে চাই। এ লক্ষে জেলা তথ্য কর্মকর্তাদেরও ক্ষমতায়িত করার কাজ চলছে।এ সময় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হয় বিএনপি। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার নতুন মেয়াদের কার্যক্রম শুরু করে।
ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে রোববার বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা ও স্পেন মুখোমুখি হবে। ম্যাচটি ঘিরে দর্শকদের আগ্রহের অন্ত নেই। যে কারণে টিকিটের দাম বেড়ে হয়েছে আকাশ ছোঁয়া। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক টিকিট বিক্রির প্ল্যাটফর্ম টিকপিকের তথ্য অনুযায়ী, ফাইনালের টিকিটের গড় ক্রয়মূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৩২৭ ডলার। বাংলাদেশের হিসেবে যা প্রায় ১৪ লাখ টাকা। যুক্তরাষ্ট্রের মেটলাইফ স্টেডিয়ামের দর্শকধারণ ক্ষমতা প্রায় ৮৩ হাজার। গড় টিকিটের মূল্যের সঙ্গে দর্শকের হিসাব কষলে দেখা যায় আর্জেন্টিনা ও স্পেনের ফাইনালের টিকিট থেকে আয় হবে প্রায় ১১ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকা। ফাইনালের সবচেয়ে সস্তা টিকিটের দাম ৭ হাজার ৬৭৬ ডলার বা প্রায় ৯ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। সবচেয়ে দামি টিকিটের দাম ২৮ হাজার ৪৭৯ ডলার বা প্রায় ৩৫ লাখ টাকা। টিকপিকের হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়া ইতিহাসে এবারের বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিট সবচেয়ে দামী। এর আগে ২০২৪ এর সুপার বোল এলভির ফাইনালের টিকিটের গড় মূল্য ছিল ৯ হাজার ৪১১ ডলার।এবারের বিশ্বকাপে টিকিট বিক্রি হচ্ছে রিসেল পদ্ধতিতে। অর্থাৎ টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ফিফা ম্যাচ প্রতি টিকিটির একটি প্রাথমিক মূল্য তালিকা দিয়েছিল। ম্যাচের গুরুত্ব অনুযায়ী, টিকিটির চাহিদা বাড়ার সঙ্গে ফিফাও বাড়িয়েছে টিকিটের দাম। বিশ্বকাপের ফাইনালের টিকিটের সর্বোচ্চ মূল্য যেমন ১০ হাজার ৯৯০ ডলার ছিল। যা এখন প্রায় সাড়ে ২৮ হাজার ডলার। ফিফার এভাবে টিকিটের মূল্য বাড়ানোকে অনেকে ‘ফিফার ব্লাক টিকিট’ আখ্যা দিয়েছেন।
বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে নিয়ে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন বিশ্বখ্যাত কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসির একটি ছবি শেয়ার করে তিনি বলেছেন, বয়সকে হার মানিয়ে যে ফুটবল খেলছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা, তা বর্তমান ক্রীড়াবিশ্বে এক অনন্য উদাহরণ।নিজের বার্তায় শাকিরা লিখেছেন, মেসি শুধু একজন অসাধারণ ফুটবলারই নন, তিনি কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও অদম্য মানসিক শক্তির প্রতীক। সময়ের সঙ্গে লড়াই করে এবং নানা সমালোচনাকে উপেক্ষা করে তিনি যেভাবে নিজেকে শীর্ষ পর্যায়ে ধরে রেখেছেন, তা সত্যিই বিস্ময়কর।শাকিরার ভাষায়, “মেসি প্রমাণ করেছেন একজন মানুষকে কখনোই তার বয়স কিংবা অন্যের মন্তব্য দিয়ে বিচার করা উচিত নয়। প্রতিভা, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাস থাকলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়।”তবে মেসির সাফল্যের পেছনে তার স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জোর ভূমিকাও বিশেষভাবে তুলে ধরেন শাকিরা। তিনি মনে করেন, দীর্ঘদিনের সঙ্গী আন্তোনেলার সমর্থন ও ভালোবাসাই মেসিকে প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করে যাচ্ছে।শাকিরা বলেন, “আন্তোনেলার মতো একজন মানুষ পাশে থাকার কারণেই মেসি বারবার নতুন করে নিজেকে প্রমাণ করার শক্তি পান। একজন সফল মানুষের পেছনে পরিবারের সমর্থন কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটির অন্যতম উদাহরণ তারা।”শাকিরার এই প্রশংসা আন্তোনেলারও নজর এড়ায়নি। আর্জেন্টাইন তারকার স্ত্রী পরে সেই বার্তাটি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন, যা ভক্তদের মধ্যেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।এদিকে বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী মহারণে স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে আর্জেন্টিনা। রবিবার রাত ১টায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই ফাইনাল। টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামবে মেসির দল, আর স্পেন চাইবে নিজেদের ইতিহাসে আরও একটি বিশ্বকাপ শিরোপা যোগ করতে।
আমের মৌসুমে ব্যবসায়ীদের লেনদেন নির্বিঘ্ন রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রাজশাহী অঞ্চলের চার জেলার আমের বাজারসংলগ্ন এলাকায় শনিবার (১৮ জুলাই) সীমিত পরিসরে ব্যাংকের শাখা ও উপশাখা খোলা রাখা হয়েছে। শুধু আজই নয়, আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত প্রতি শনিবার একই ব্যবস্থা চালু থাকবে।বাংলাদেশ ব্যাংক এক নির্দেশনায় জানিয়েছে, চলমান আমের মৌসুমে রাজশাহী অঞ্চলের চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট উপজেলা, নওগাঁর সাপাহার, পোরশা ও নিয়ামতপুর উপজেলা এবং রাজশাহী ও নাটোর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় গড়ে ওঠা স্থায়ী ও অস্থায়ী আমের বাজার সংলগ্ন ব্যাংকের শাখা নগদ অর্থের সরবরাহ ও জমা নিশ্চিত এবং ব্যবসায়ীদের নগদ অর্থ সংরক্ষণজনিত ঝুঁকি কমাতে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবারও খোলা থাকবে।সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবার সীমিত পরিসরে ব্যাংক খোলা রাখার এই সিদ্ধান্ত আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত বলবৎ থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তফসিলি ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সীমিত পরিসরে ব্যাংকের শাখা ও উপশাখা খোলা রাখার নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
১২ ঘন্টা আগে
পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বস্ততা হলো একটি সুস্থ সমাজ ও সম্পর্কের মেরুদণ্ড। পরিবার থেকে শুরু করে ব্যবসা, রাষ্ট্র বা ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব সবকিছুর ভিত্তিই হলো এই পারস্পরিক বিশ্বাস। আর সেই আস্থার মূলে আঘাত করা বা বেঈমানি (খিয়ানত) করা ইসলামের দৃষ্টিতে এমন এক গুরুতর গুনাহ, যার ভয়াবহ পরিণতির কথা কোরআন ও সহিহ হাদিসে বারবার সতর্ক করা হয়েছে।সাধারণত বিশ্বাসঘাতকতাকে আমরা কেবল বড় কোনো রাজনৈতিক বা রাষ্ট্রীয় প্রেক্ষাপটে চিন্তা করি। কিন্তু ইসলামে এর পরিধি অত্যন্ত বিস্তৃত। কারও আমানতের খিয়ানত করা বা তার ন্যায্য অধিকার নষ্ট করাও বেঈমানির অন্তর্ভুক্ত।১. বিশ্বাসঘাতককে পছন্দ করেন না আল্লাহপবিত্র কোরআনে বেঈমানি বা খিয়ানতকে আল্লাহর অপছন্দনীয় কাজ হিসেবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই তিনি কোনো বিশ্বাসঘাতক ও অকৃতজ্ঞকে ভালোবাসেন না।’ (সুরা হজ: ৩৮)এ ছাড়া পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ আরও নির্দেশ দিয়েছেন- ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সঙ্গে খেয়ানত করো না এবং জেনেশুনে নিজেদের আমানতেরও খেয়ানত করো না।’ (সুরা আনফাল: ২৭) প্রতিশ্রুতি রক্ষার বিষয়ে আল্লাহ বলেন- ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা চুক্তিসমূহ পূর্ণ করো।’ (সুরা মায়েদা: ১) এসব আয়াত থেকে পরিষ্কার হয় যে, বেঈমানি আল্লাহর অত্যন্ত অপছন্দনীয় কাজ এবং এটি একজন মুমিনের আদর্শ চরিত্রের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।২. মুনাফিকির আলামতবিশ্বাসঘাতকতা মানুষের চরিত্রে মুনাফিকির বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি করে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘মুনাফিকের আলামত তিনটি- সে কথা বললে মিথ্যা বলে, অঙ্গীকার করলে তা ভঙ্গ করে এবং আমানত রাখা হলে তার খিয়ানত করে।’ (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)অন্য এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘চারটি বৈশিষ্ট্য যার মধ্যে থাকবে, সে খাঁটি মুনাফিক। আর যার মধ্যে এর একটি থাকবে, তার মধ্যে মুনাফিকির একটি বৈশিষ্ট্য থাকবে- যতক্ষণ না সে তা ত্যাগ করে। যখন তার কাছে আমানত রাখা হয়, সে খেয়ানত করে; কথা বললে মিথ্যা বলে; অঙ্গীকার করলে তা ভঙ্গ করে; আর ঝগড়া করলে সীমালঙ্ঘন করে।’ (সহিহ বুখারি; সহিহ মুসলিম)
ঝুম বৃষ্টি আর এক কাপ ধোঁয়া ওঠা গরম কফি বাঙালি মধ্যবিত্তের নস্টালজিয়া আর রোমান্টিকতার এক অদ্ভুত মিশেল। জানালার গ্রিল ছুঁয়ে আসা বৃষ্টির ছাঁট, মাটির সোঁদা গন্ধ আর হাতে ধরা মগের উষ্ণতা যেন মুহূর্তেই চারপাশের ব্যস্ততাকে থমকে দেয়।বৃষ্টির দিনে কফি খাওয়ার এই অভ্যাস কেবল মন ভালো করার রসদ যোগায় না, এর পেছনে রয়েছে কিছু দারুণ মনস্তাত্ত্বিক ও শারীরিক উপকারিতাও।চলুন জেনে নেওয়া যাক বৃষ্টির দিনে কফি কেন আমাদের এত প্রিয় এবং এর ইতিবাচক দিকগুলো:মন ও মেজাজ চনমনে করতে অনন্যবৃষ্টির দিনে আকাশ মেঘলা থাকায় প্রকৃতিতে আলোর স্বল্পতা থাকে। বিজ্ঞান বলে, সূর্যালোকের অভাবে আমাদের শরীরে ‘মেলানিন’ ও ‘সেরোটোনিন’ হরমোনের ভারসাম্যে তারতম্য ঘটে, যা অনেক সময় একঘেয়েমি বা বিষণ্ণতা তৈরি করে। কফিতে থাকা ক্যাফেইন মস্তিষ্কে ডোপামিন ও নর-এপিনেফ্রিন হরমোনের নিঃসরণ বাড়ায়। ফলে ঝুম বৃষ্টির অলস দুপুরেও এক কাপ কফি নিমেষেই আপনার মেজাজ ফুরফুরে করে তুলতে পারে।বৃষ্টির অলসতা কাটিয়ে কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিবাইরে যখন একটানা বৃষ্টি চলে, তখন বিছানা ছেড়ে উঠতে কারই বা মন চায়? শরীর ও মনের এই অলসতা কাটাতে কফির জুড়ি নেই। কফির ক্যাফেইন কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে, যার ফলে শরীরের ক্লান্তি ভাব দূর হয় এবং মনোযোগের ক্ষমতা বাড়ে। বিশেষ করে যারা বৃষ্টির দিনেও ঘরে বসে অফিসের কাজ করছেন, তাদের জন্য কফি দারুণ এক ‘এনার্জি বুস্টার’।রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টবর্ষাকালে আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে সর্দি, কাশি বা ফ্লু-এর মতো ছোটখাটো রোগব্যালাই লেগেই থাকে। কফিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং পলিফেনল রয়েছে, যা শরীরের প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন কমাতে সাহায্য করে। ব্ল্যাক কফি বা সামান্য আদা-দারুচিনি মেশানো কফি এই সময়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কিছুটা হলেও চাঙ্গা রাখতে পারে।শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও আরামের অনুভূতিবৃষ্টির সময় চারপাশের তাপমাত্রা হুট করেই বেশ কিছুটা কমে যায়। ঠান্ডা এই আবহাওয়ায় গরম কফির কাপে চুমুক দিলে তা শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে। কফির উষ্ণতা রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে ভূমিকা রাখে, যা আপনাকে দেয় এক পরম আরামের অনুভূতি।একটি ছোট্ট টিপস:বৃষ্টির আমেজ উপভোগ করতে গিয়ে দিনে ৩-৪ কাপের বেশি কফি না খাওয়াই ভালো। অতিরিক্ত ক্যাফেইন আবার রাতের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। আর চিনি ও ক্রিমের পরিমাণ যত কম রাখা যায়, কফির স্বাস্থ্যগুণ তত বেশি বজায় থাকে।জানালার পাশে বসে বৃষ্টির রিনিঝিনি শব্দ শুনতে শুনতে ধোঁয়া ওঠা কফির কাপে চুমুক দেওয়া কেবল শরীরের তৃপ্তি নয়, এটি এক ধরণের মানসিক থেরাপিও বটে। তাই আগামী বৃষ্টির দিনটিতে সব ব্যস্ততা একপাশে সরিয়ে রেখে নিজের জন্য তৈরি করে নিন এক কাপ মনের মতো কফি!
২০৫০ সালের মধ্যে চরম তাপমাত্রার ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের শীর্ষ ৬টি দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।সোমবার ২৬ জানুয়ারি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাতে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার সাসটেইনেবিলিটি’-তে এই গবেষণাটি প্রকাশ হয়।ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার অব্যাহত থাকলে আগামী ২৫ বছরের মধ্যে চরম তাপপ্রবাহে আক্রান্ত বৈশ্বিক জনসংখ্যার হার প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। শিল্প-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় যদি বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়, তবে চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ বিশ্বের ৪১ শতাংশ মানুষ (প্রায় ৩৭৯ কোটি) অসহনীয় তাপমাত্রার মধ্যে বসবাস করবে। ২০১০ সালে এই পরিস্থিতির শিকার জনগোষ্ঠীর হার ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ (১৫৪ কোটি)।
মহাকাশে মিলল ‘মিষ্টি’, প্রথমবার শনাক্ত হলো শর্করা অণুমহাকাশে এবার মিলেছে ‘মিষ্টির’ সন্ধান। প্রথমবারের মতো আকাশগঙ্গা ছায়াপথে প্রকৃত অর্থে একটি শর্করা (চিনি) অণু শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা। এই আবিষ্কার শুধু মহাকাশ রসায়নের ক্ষেত্রেই নয়, বরং পৃথিবীর বাইরে প্রাণের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণায়ও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। গবেষকদের মতে, শনাক্ত হওয়া শর্করাটি ইরিথ্রুলোজ নামে পরিচিত। এটি চারটি কার্বন পরমাণু দিয়ে গঠিত একটি সুগার অণু। এতদিন মহাকাশে বিভিন্ন ধরনের জৈব অণুর সন্ধান মিললেও, এই ধরনের শর্করা অণু এবারই প্রথম শনাক্ত হলো। বিজ্ঞানীরা জানান, পৃথিবীসহ আমাদের সৌরজগৎ যে মিল্কিওয়ে (আকাশগঙ্গা) ছায়াপথে অবস্থিত, সেই ছায়াপথের একটি বিশাল আন্তঃনাক্ষত্রিক গ্যাস ও ধূলিকণার মেঘে অত্যাধুনিক দুটি শক্তিশালী রেডিও টেলিস্কোপ ব্যবহার করে এ অণুর উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।গবেষণায় আরও জানা গেছে, যে মহাজাগতিক অঞ্চলটিতে এই শর্করা অণু পাওয়া গেছে, সেখানে ইতোমধ্যেই ৩০০টিরও বেশি বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক যৌগ শনাক্ত হয়েছে। এ কারণে অঞ্চলটিকে বিজ্ঞানীরা মহাশূন্যের এক ধরনের ‘রাসায়নিক গবেষণাগার’ হিসেবে বিবেচনা করছেন।বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, মহাকাশে এ ধরনের জটিল জৈব অণুর উপস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে, প্রাণের জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক উপাদানগুলো মহাবিশ্বে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে থাকতে পারে। যদিও এটি পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্বের সরাসরি প্রমাণ নয়, তবে ভবিষ্যতে এ বিষয়ে গবেষণার নতুন পথ খুলে দিয়েছে।এই গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাটি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী নেচার অ্যাস্ট্রোনমিতে প্রকাশিত হয়েছে। বিজ্ঞানীদের আশা, ভবিষ্যতে আরও উন্নত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে মহাকাশে প্রাণের উৎস ও জৈব রসায়নের বিবর্তন সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া যাবে।