ঢাকা রবিবার ২৬ আষাঢ় ১৪৩১ সকাল ০৪:৩৬:৫৬ (26-Jul-2026)
যে ৩ আমলে আল্লাহ হাসেন

যে ৩ আমলে আল্লাহ হাসেন


একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় কামনা থাকে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। কোরআন ও সহিহ হাদিসে এমন কিছু আমলের কথা এসেছে, যেগুলো আল্লাহর বিশেষ সন্তুষ্টির কারণ। কিছু হাদিসে আরও এসেছে, নির্দিষ্ট কিছু আমলের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহ তাঁর শান ও মর্যাদার উপযোগীভাবে হাসেন। এই হাসির প্রকৃত ধরন একমাত্র আল্লাহই জানেন। তাই এ বিষয়ে কোরআন ও সুন্নাহয় যা এসেছে, তা-ই বিশ্বাস করা মুসলমানের কর্তব্য। এর বেশি কোনো ব্যাখ্যা বা তুলনা করা ঠিক নয়।১. মেহমানকে নিজের চেয়ে অগ্রাধিকার দেওয়ামদিনার এক আনসারি সাহাবির ঘরে খাবার ছিল খুবই অল্প। এমন সময় এক ক্ষুধার্ত মেহমান এলে তিনি ও তাঁর স্ত্রী নিজেদের অংশটুকুও মেহমানের জন্য রেখে দেন। বাতি নিভিয়ে এমনভাবে বসেছিলেন, যেন মনে হয় সবাই একসঙ্গে খাচ্ছেন। অথচ তাঁরা সেদিন না খেয়েই রাত কাটান।পরদিন রাসুলুল্লাহ (স.) তাঁদের উদ্দেশে বলেন, ‘গত রাতে তোমরা মেহমানের সঙ্গে যে আচরণ করেছ, তা দেখে আল্লাহ হেসেছেন (অথবা সন্তুষ্ট হয়েছেন)।’ (সহিহ বুখারি: ৩৭৯৮)মুফাসসিরদের মতে, আনসারদের এই আত্মত্যাগের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সুরা হাশরের ৯ নম্বর আয়াত নাজিল হয়, যেখানে তাদের মহানুভবতার প্রশংসা করা হয়েছে।

১৭ ঘন্টা আগে

সর্বনিম্ন ব্যয় ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা

সর্বনিম্ন ব্যয় ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা


হজযাত্রীদের জন্য ২০২৭ সালের সরকারি ও বেসরকারি হজ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। এবার সরকারি ব্যবস্থাপনায় দুটি এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় একটি সাধারণ হজ প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে হজ ফ্লাইটের বিমান ভাড়া গত বছরের তুলনায় ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। গতকাল মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ ও গাইডলাইন ঘোষণা করেন মন্ত্রী।ধর্মমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের হজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা, নিবিড় তত্ত্বাবধান এবং সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক প্রচেষ্টায় এবার একটি সুশৃঙ্খল ও কার্যকর হজ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক ও সেবাকেন্দ্রিক করতে সৌদি সরকার ২০২৭ সালের হজে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। মক্কা ও মদিনায় আবাসন, যাতায়াত, ক্যাটারিং, তাঁবু এবং অন্যান্য সেবাকে সমন্বিত একটি সার্ভিস প্যাকেজের আওতায় আনা হয়েছে। আগের চারটি সার্ভিস প্যাকেজের পরিবর্তে এবার তিনটি সার্ভিস প্যাকেজ থাকবে এবং হাফ বোর্ড ক্যাটারিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে হজযাত্রীদের সেবার মান আরও উন্নত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।ধর্মমন্ত্রী জানান, সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী সহজ, সাশ্রয়ী, মানবিক ও প্রবাসীবান্ধব হজ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। তারই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে হজ ফ্লাইটের বিমান ভাড়া আরও কমানো সম্ভব হয়েছে।তিনি বলেন, ২০২৫ সালে বিমান ভাড়া ছিল ১ লাখ ৬৭ হাজার ৮২০ টাকা। ২০২৭ সালে তা কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি হজ প্যাকেজ-১-এর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা। এ প্যাকেজে মক্কায় হারাম শরিফ থেকে এক থেকে দেড় কিলোমিটারের মধ্যে এবং মদিনায় মারকাজি এলাকায় আবাসনের ব্যবস্থা থাকবে। মিনায় জোন-২-এ তাঁবু, সার্ভিস প্যাকেজ-৩ অনুযায়ী সেবা এবং মোয়াল্লেমের মাধ্যমে খাবার সরবরাহ করা হবে। অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে রুম আপগ্রেড ও স্বল্পমেয়াদি প্যাকেজের সুবিধাও নেওয়া যাবে।অন্যদিকে হজ প্যাকেজ-২-এর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা। এতে মক্কায় হারাম শরিফ থেকে দুই থেকে তিন কিলোমিটারের মধ্যে এবং মদিনায় মসজিদে নববি থেকে সর্বোচ্চ ৮০০ মিটারের মধ্যে আবাসনের ব্যবস্থা থাকবে। মিনায় জোন-৫-এ তাঁবু, সার্ভিস প্যাকেজ-৩ অনুযায়ী সেবা এবং মোয়াল্লেমের মাধ্যমে খাবার সরবরাহ করা হবে। হোটেল দুই কিলোমিটারের বেশি দূরে হলে সৌদি সরকারের বিধান অনুযায়ী সালাওয়াত বাসের ব্যবস্থা রাখতে হবে।ধর্মমন্ত্রী জানান, বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোর জন্য ‘সাধারণ হজ প্যাকেজ’ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ প্যাকেজের মূল্য ৫ লাখ ১৩ হাজার ৬৪৮ টাকা। এতে মক্কায় হারাম শরিফ থেকে সর্বোচ্চ তিন কিলোমিটারের মধ্যে এবং মদিনায় মসজিদে নববি থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যে আবাসনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। প্রতি কক্ষে সর্বোচ্চ ছয়জনের থাকার সুযোগ থাকবে। মিনায় জোন-৫-এ তাঁবু, সার্ভিস প্যাকেজ-৩ এবং মোয়াল্লেমের মাধ্যমে খাবারের ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।ধর্মমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার নির্ধারিত সেবার মানের নিচে কোনো বেসরকারি হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা যাবে না। সব প্যাকেজ হজ পোর্টাল ও সংশ্লিষ্ট এজেন্সির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। দমে শুকর, দমে কিরান এবং ক্যাটারিংয়ের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত না করে কোনো প্যাকেজ ঘোষণা করা যাবে না। আগামী বছর বাংলাদেশ থেকে কতজন হজ পালন করতে পারবেন সেটা হজ চুক্তির সময় নির্ধারিত হবে বলেও জানান মন্ত্রী।তিনি বলেন, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি হজযাত্রীরা এবার যে দেশে অবস্থান করছেন, সেখান থেকেই স্বাস্থ্য পরীক্ষা, টিকা গ্রহণ এবং হজ ভিসার আবেদন করতে পারবেন। এ ছাড়া তারা যেন অবস্থানরত দেশ থেকেই সরাসরি সৌদি আরবে যেতে পারেন, সে বিষয়েও সরকার কাজ করছে।কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ জানান, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৭ সালের হজ নিবন্ধন শুরু হবে। হজ পোর্টালে প্যাকেজ নির্বাচন করে আড়াই লাখ টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন করা যাবে। পরে নির্ধারিত সময়ে বাকি অর্থ পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। হজযাত্রীর পাসপোর্টের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত থাকতে হবে। সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী ৮ এপ্রিল ২০২৭ থেকে হজযাত্রা শুরু হবে এবং ১৫ মে (চাঁদ দেখা সাপেক্ষে) পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে।

৩ দিন আগে

হজের দুই প্যাকেজ ঘোষণা

হজের দুই প্যাকেজ ঘোষণা


হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নির্বাহী কমিটির অনুমোদনক্রমে ২০২৭ সালের হজের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় দুটি প্যাকেজ নির্ধারণ করেছে সরকার। এর মধ্যে ‘হজ প্যাকেজ-১’-এর খরচ ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা এবং ‘হজ প্যাকেজ-২ (সাশ্রয়ী)’-এর খরচ ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) এ দুই হজ প্যাকেজ ঘোষণা করেন। হজ প্যাকেজ-১ : এই প্যাকেজের হজযাত্রীদের মক্কায় হারাম শরীফের বহিঃচত্বর থেকে ১০০০ থেকে ১৪০০ মিটারের মধ্যে এবং মদিনায় মারকাজিয়া এলাকায় আবাসন সুবিধা দেওয়া হবে। মিনায় জোন-২ এ তাঁবুর অবস্থান হবে এবং মিনা- আরাফায় 'সার্ভিস প্যাকেজ-৩' ক্যাটাগরির সার্ভিসসহ মোয়াল্লেম কর্তৃক খাবার সরবরাহ করা হবে। সাধারণত সৌদি আরবে অবস্থানকাল হবে ৩৫-৪০ দিন। উল্লেখ্য, অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ সাপেক্ষে রুম আপগ্রেডেশন ও শর্ট প্যাকেজ সুবিধা নেয়া যাবে। এ প্যাকেজের খরচ ধরা হয়েছে ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা।হজ প্যাকেজ-২ (সাশ্রয়ী) : এটি হজ প্যাকেজ-১ এর চেয়ে কিছুটা সুলভ। এই প্যাকেজের হজযাত্রীদের মক্কায় হোটেল হারাম শরীফের বহিঃচত্বর থেকে ২-৩ কিলোমিটারের মধ্যে হবে এবং মদিনায় মারকাজিয়া এলাকার বাইরে মসজিদে নববী হতে ৮০০ মিটারের মধ্যে আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। মিনায় জোন-৫ এ তাঁবুর অবস্থান হবে এবং মিনা- আরাফায় 'সার্ভিস প্যাকেজ-৩' ক্যাটাগরির সার্ভিসসহ মোয়াল্লেমের মাধ্যমে খাবার সরবরাহ করা হবে। হোটেলের অবস্থান দুই কিলোমিটারের বেশি দূরে হলে সৌদি সরকারের বিধান অনুসারে সালাওয়াত বাসের ব্যবস্থা থাকবে। এ প্যাকেজের খরচ ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা।

৪ দিন আগে

আল্লাহর নৈকট্য লাভের ৮ উপায়

আল্লাহর নৈকট্য লাভের ৮ উপায়


আমাদের প্রতিটি কাজ আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের একেকটি মাধ্যম। কর্মের ফলাফল অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই ফলাফলের পেছনের প্রক্রিয়া ও চেষ্টা। কারণ আমরা যখন আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে ভালো কিছুর আশা করি, তখন আল্লাহ নিজেই তার উত্তম প্রতিদান দেন। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, আমাদের সর্বদা তার সন্তুষ্টির সন্ধান করতে হবে এবং সেই পথে অবিচল থাকতে হবে যা তাকে খুশি করে।এখানে আল্লাহর নৈকট্য লাভের আটটি উপায় তুলে ধরা হলো:১. জিকির বা আল্লাহকে স্মরণ করাআল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, জেনে রাখো, আল্লাহর জিকির বা স্মরণের মাধ্যমেই কেবল অন্তর প্রশান্তি লাভ করে। (সূরা আর-রাদ, আয়াত: ২৮)।জিকির হলো অন্তরে ও মুখে আল্লাহকে স্মরণ করা। যেকোনো সময় বা স্থানে মন ও মননে আল্লাহর কথা চিন্তা করাই জিকির। কেবল ভাবনাই নয়, বিভিন্ন তাসবিহ ও দোয়ার মাধ্যমে মুখে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করাও এর অন্তর্ভুক্ত। বর্তমান যুগে এই জিকিরের গুরুত্ব অপরিসীম। চারপাশের অজস্র বিভ্রান্তি ও ব্যস্ততা থেকে মনকে সরিয়ে প্রকৃত বিষয়ের ওপর মনোযোগ ধরে রাখতে জিকির দারুণ কার্যকর ভূমিকা রাখে।সালাতের পর কিংবা রান্নাবান্না ও গাছে পানি দেওয়ার মতো দৈনন্দিন কাজের সময়ও জিকির করা সম্ভব। বুদ্ধিমান ও বিবেচনাবোধ সম্পন্ন মানুষের বর্ণনা দিতে গিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, তারা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহকে স্মরণ করে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, যারা দাঁড়িয়ে, বসে এবং শুয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা করে এবং বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি এগুলো বৃথা সৃষ্টি করেননি। আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি, আমাদের দোজখের আগুন থেকে রক্ষা করুন। (সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৯১)।একবার ভাবুন, আমরা যখন ঘরে কাজ করছি, খাচ্ছি কিংবা পরিবারের সঙ্গে হাসাহাসি করছি, তখনও আমাদের অন্তর যদি আল্লাহর স্মরণে যুক্ত থাকে, তবে জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই সর্বশক্তিমানের আনুগত্যে কাটবে।যেকোনো ভালো অভ্যাসের মতো নিয়মিত জিকির করার জন্যও কিছু অনুশীলন ও শৃঙ্খলা প্রয়োজন। ছোট ছোট আমল দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। যেমন— সুবহানাল্লাহ (আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি), আলহামদুলিল্লাহ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর), লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই) এবং আল্লাহু আকবার (আল্লাহ মহান)। এই জিকিরগুলোকে চিরস্থায়ী নেক আমল হিসেবে গণ্য করা হয়, যার প্রতিদান পার্থিব সব আনন্দের চেয়েও দীর্ঘস্থায়ী।একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) জানিয়েছেন যে, এই জিকিরগুলো নিয়মিত পাঠ করা তার অত্যন্ত প্রিয় ছিল। তিনি বলেছেন, সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার বলা আমার কাছে সূর্য যা কিছুর ওপর উদিত হয় তার সবকিছুর চেয়ে বেশি প্রিয়। (সহিহ মুসলিম)। ঘরের কাজ বা অফিসের কাজের ফাঁকেও পড়ার মতো আরও অনেক জিকির রয়েছে, যা কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত আছে।২. সালাত বা নামাজ আদায় করাআমরা যে সফলতা খুঁজছি, তা প্রতিদিন পাঁচবার আমাদের আহ্বান করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন বান্দার আমলের মধ্যে সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। যদি নামাজ ঠিক থাকে, তবে সে সফল ও সার্থক হবে। আর যদি নামাজ ত্রুটিপূর্ণ হয়, তবে সে ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। (সুনান আত-তিরমিজি)।নামাজ শুধু একটি বাধ্যবাধকতাই নয়, বরং একমাত্র ইবাদত যা রাসুলুল্লাহর (সা.) ঊর্ধ্বগমন বা মেরাজের রাতে আসমানে ফরজ করা হয়েছিল, যা বান্দার সঙ্গে আল্লাহর সরাসরি সংযোগের প্রতীক।আল্লাহর আরও কাছাকাছি হতে চাইলে নফল, সালাতুল হাজত বা তাহাজ্জুদের মতো সুন্নত ও নফল নামাজগুলো আদায় করা যেতে পারে। এই নামাজগুলোর প্রতিটিরই নিজস্ব তাৎপর্য ও সওয়াব রয়েছে। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী এগুলো নিয়মিত আদায়ের অভ্যাস করা উচিত যাতে ক্লান্তি না আসে। রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও জানিয়েছেন যে, বান্দা যখন সালাতে সেজদারত থাকে, তখন সে আল্লাহর সবচেয়ে কাছাকাছি থাকে। তিনি বলেছেন, বান্দা যখন সেজদায় থাকে, তখন সে তার প্রতিপালকের সবচেয়ে নিকটবর্তী হয়, তাই তোমরা সেজদারত অবস্থায় বেশি বেশি দোয়া করো। (মুসলিম)।৩. ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনামানুষ হিসেবে আমাদের বুঝতে হবে যে আমরা কেউই নিখুঁত নই। নিজের ভুলগুলো স্বীকার করা এবং তা সংশোধনের চেষ্টা করা পরিপক্বতা ও উৎকর্ষের লক্ষণ। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আদম সন্তান মাত্রই গুনাহগার বা ভুলকারী, আর গুনাহগারদের মধ্যে তারাই সর্বোত্তম যারা প্রতিনিয়ত তওবা বা অনুশোচনা করে। (সুনান আত-তিরমিজি)।ক্ষমা প্রার্থনার আরবি শব্দ হলো ইস্তিগফার। তওবা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় একটি গুণ। অত্যন্ত সুন্দর ও বিনীতভাবে আল্লাহর দিকে ফিরে আসার প্রক্রিয়া। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন। (সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২২২)।ক্ষমা প্রার্থনার কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। সৃষ্টির সেরা জীব এবং নিষ্পাপ হওয়া সত্ত্বেও রাসুলুল্লাহ (সা.) দিনে ৭০ বারেরও বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন। ৪. দরুদ শরিফ পাঠ করারাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার ওপর দশবার রহমত নাজিল করবেন। (সহিহ মুসলিম)।প্রিয় নবীর (সা.) ওপর দরুদ পাঠ করার অসংখ্য উপকারিতা রয়েছে। দরুদ আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে এবং আল্লাহর কাছাকাছি নিয়ে যায়। নবীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের অন্যতম সেরা মাধ্যম এটি। মহান সাহাবি ও খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) একবার বলেছিলেন, নিশ্চয়ই দোয়া আসমান ও জমিনের মাঝে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে। এর কোনো কিছুই ওপরে ওঠে না, যতক্ষণ না তুমি তোমার নবীর ওপর দরুদ পাঠ করো। (সুনান আত-তিরমিজি)।৫. প্রিয়জনদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলাইসলামে বিশ্বাস বা ইমান শুধু অন্তরের অন্তস্তলে লুকিয়ে থাকা কোনো ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং সামাজিক দায়িত্বের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। তাই মুসলমানদের পার্থিব জীবন ও ধর্মীয় জীবনের মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নেওয়ার দ্বিধায় ভুগতে হয় না। ইসলাম এমন একটি জীবনব্যবস্থা যা আমাদের দুনিয়াবি কাজ এবং দ্বীনি কাজের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে শেখায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) কখনো নিজেকে সমাজ থেকে গুটিয়ে রাখেননি।একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করার এবং শিরক বর্জন করার আদেশের পরপরই আল্লাহ তায়ালা মানুষের সঙ্গে ভালো আচরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তার সাথে কাউকে শরিক করো না। এবং পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, এতিম, অভাবগ্রস্ত, নিকট প্রতিবেশী, দূর প্রতিবেশী, সঙ্গী-সাথী, মুসাফির এবং তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসীদের প্রতি সদয় হও। নিশ্চয়ই আল্লাহ অহংকারী ও দাম্ভিকদের পছন্দ করেন না। (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৩৬)।বাবা-মায়ের জন্য খাবার তৈরি করা, তাদের ক্লান্ত পা টিপে দেওয়া, সন্তানদের সঙ্গে বই পড়া বা খেলা করা, ভাইবোনের সাথে অর্থপূর্ণ কথা বলা কিংবা ধর্মীয় ক্লাসের পর বন্ধুদের সাথে চা-কফি পানের মাধ্যমে এই সম্পর্কগুলো আরও দৃঢ় করা যায়। ৬. বেশি বেশি দোয়া করাদোয়া করা আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার অত্যন্ত শক্তিশালী মাধ্যম। আমাদের প্রতিপালক নিজেই আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন তার কাছে দোয়া করতে ও চাইতে।অন্যের জন্য দোয়া করার একটি সুন্দর দিক হলো, এর মাধ্যমে আমরা নিজেরাও উপকৃত হই। আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো মুসলিম বান্দা যখন তার অপর ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দোয়া করে, তখন ফেরেশতারা বলে, তোমার জন্যও অনুরূপ হোক। (সহিহ মুসলিম)।৭. কোরআন তিলাওয়াত করাকোরআন হলো মহান আল্লাহর বাণী, যা রাসুলুল্লাহর (সা.) ওপর আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে। আল্লাহর বাণী পড়ার চেয়ে উত্তম আর কী হতে পারে তার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার? রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব থেকে একটি হরফ পাঠ করবে, সে একটি নেকি পাবে, আর প্রতিটি নেকি দশ গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হবে। আমি বলছি না যে আলিফ-লাম-মীম একটি হরফ, বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ এবং মীম একটি হরফ। (সুনান আত-তিরমিজি)।বর্তমান সময়ে কোরআনের সাথে নতুন করে যুক্ত হওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। যখন আমাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনায় আমরা পথ হারিয়ে ফেলি বা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি, তখন আমাদের এমন একটি নির্দেশনার প্রয়োজন যা আমাদের এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে শেখাবে।৮. আল্লাহ সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা রাখাসবশেষে, আমাদের সর্বদা মনে রাখতে হবে যে, যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতেও আল্লাহর প্রতি আশাবাদী থাকা এবং হুসনে জন বা ইতিবাচক ধারণা রাখা অত্যন্ত জরুরি। এটা  তখনই সম্ভব যখন আমরা আমাদের একমাত্র সৃষ্টিকর্তা, সর্বশক্তিমান ও পরম ক্ষমাশীল আল্লাহ সম্পর্কে মনে সুন্দর ধারণা পোষণ করব।হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, আমার বান্দা আমার প্রতি যেমন ধারণা করে, আমি তার সাথে তেমনই আচরণ করি। সে যখন আমাকে স্মরণ করে, আমি তার সাথে থাকি। সে যদি আমাকে মনে মনে স্মরণ করে, আমিও তাকে মনে মনে স্মরণ করি। সে যদি কোনো সমাবেশে আমাকে স্মরণ করে, আমি তার চেয়ে উত্তম সমাবেশে তাকে স্মরণ করি। সে যদি আমার দিকে এক বিঘত এগিয়ে আসে, আমি তার দিকে এক হাত এগিয়ে যাই। সে যদি আমার দিকে এক হাত এগিয়ে আসে, আমি তার দিকে চার হাত এগিয়ে যাই। সে যদি আমার দিকে হেঁটে আসে, আমি তার দিকে দৌড়ে যাই। (মুত্তাফাকুন আলাইহি)।আল্লাহর প্রতি ইতিবাচক ধারণা রাখা মনের একটি বিশেষ অবস্থা। প্রতিদিন চারপাশে ঘটে যাওয়া অন্যায় ও জুলুম আমাদের মনকে ব্যথিত করতে পারে। মন হয়তো অনেক সময় এর কারণ খুঁজতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং নিজের কমতিগুলোর জন্য জবাবদিহিতার ভয় পায়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার এক মুমূর্ষু যুবকের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কেমন বোধ করছ? যুবকটি উত্তর দিল, আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রাসুল! আমি আল্লাহর রহমতের আশা করছি, আবার নিজের পাপের ভয়ও পাচ্ছি। রাসুলুল্লাহ (সা.) তখন বললেন, এই ধরনের পরিস্থিতিতে কোনো বান্দার হৃদয়ে যখন এই দুটি অনুভূতি একসাথে জমা হয়, তখন আল্লাহ তাকে তা-ই দান করেন যা সে আশা করে এবং তাকে সেই ভয় থেকে মুক্তি দেন যা সে আশঙ্কা করে। (সুনান আত-তিরমিজি)

৫ দিন আগে

গুনাহ মাফের ১০ আমল

গুনাহ মাফের ১০ আমল

১৯ জুলাই ২০২৬ সকাল ১১:৪০:০২

বেঈমানির শাস্তি: কোরআন ও হাদিসে যা বলা হয়েছে

বেঈমানির শাস্তি: কোরআন ও হাদিসে যা বলা হয়েছে

১৬ জুলাই ২০২৬ দুপুর ০১:২৪:০২

বন্যায় ঘরবাড়ি ও সম্পদ হারালে কী প্রতিদান?

বন্যায় ঘরবাড়ি ও সম্পদ হারালে কী প্রতিদান?

১৫ জুলাই ২০২৬ দুপুর ১২:০০:৩৫

বৃষ্টির পানি নিয়ে ৬টি ভুল বিশ্বাস, ইসলাম কী বলে

বৃষ্টির পানি নিয়ে ৬টি ভুল বিশ্বাস, ইসলাম কী বলে

১৪ জুলাই ২০২৬ সকাল ১১:৫৪:২৪

বন্যায় নামাজ পড়বেন যেভাবে

বন্যায় নামাজ পড়বেন যেভাবে

১৩ জুলাই ২০২৬ দুপুর ০১:৪২:২০

বন্যা, ঝড় ও অতিবৃষ্টিতে ইসলামের নির্দেশনা

বন্যা, ঝড় ও অতিবৃষ্টিতে ইসলামের নির্দেশনা

১১ জুলাই ২০২৬ দুপুর ০১:১০:০৩

আনন্দ-উল্লাসের সময় এই ৭টি ভুল করবেন না

আনন্দ-উল্লাসের সময় এই ৭টি ভুল করবেন না

৯ জুলাই ২০২৬ দুপুর ১২:১২:২৮

দেশের মসজিদের সংখ্যা প্রকাশ, কোন বিভাগে কত

দেশের মসজিদের সংখ্যা প্রকাশ, কোন বিভাগে কত

৮ জুলাই ২০২৬ দুপুর ০১:১০:২৬

বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় সিরিয়ার ওমারি মসজিদ

বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় সিরিয়ার ওমারি মসজিদ

৭ জুলাই ২০২৬ সকাল ১১:৪৬:৪৭

যে ১০ গুনাহকে তুচ্ছ ভাবা হয়, অথচ পরিণতি ভয়াবহ

যে ১০ গুনাহকে তুচ্ছ ভাবা হয়, অথচ পরিণতি ভয়াবহ

৬ জুলাই ২০২৬ দুপুর ১২:০১:২৪

সর্বাবস্থায় আল্লাহর ওপর সন্তুষ্টি: প্রিয় বান্দাদের মহান গুণ

সর্বাবস্থায় আল্লাহর ওপর সন্তুষ্টি: প্রিয় বান্দাদের মহান গুণ

৫ জুলাই ২০২৬ দুপুর ১২:৪১:০৮

1–15 / মোট 72টি সংবাদ  |  পৃষ্ঠা 1 / 5
শিরোনাম
ভারতে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন প্রত্যাহার রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে হাফিজ উদ্দিন আহমদ, প্রজ্ঞাপন জারি বৃহত্তর ঢাকা সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি নূরুদ্দিন, সম্পাদক মোমিন হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্ক বাংলা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীর নির্দেশেই হামলা : এমপি মোমেন জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দল ছাড়ল খেলাফত মজলিস ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ রূপপুর প্রকল্পের চুক্তি ও অর্থছাড়ের প্রক্রিয়া নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে সেনবাগে জাফফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বৃক্ষ রোপন ভারতে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন প্রত্যাহার রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে হাফিজ উদ্দিন আহমদ, প্রজ্ঞাপন জারি বৃহত্তর ঢাকা সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি নূরুদ্দিন, সম্পাদক মোমিন হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্ক বাংলা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীর নির্দেশেই হামলা : এমপি মোমেন জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দল ছাড়ল খেলাফত মজলিস ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ রূপপুর প্রকল্পের চুক্তি ও অর্থছাড়ের প্রক্রিয়া নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে সেনবাগে জাফফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বৃক্ষ রোপন