চট্টগ্রামে অভিনব কৌশলে অ্যাম্বুলেন্সের গ্যাস সিলিন্ডারের ভেতরে লুকিয়ে রাখা ইয়াবা পাচারের সময় দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৫ মে) কোতোয়ালি থানার ব্রিকফিল্ড রোডের পাথরঘাটা পুলিশ ফাঁড়ির পাশে একটি কালভার্ট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন, চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী এলাকার বাসিন্দা অ্যাম্বুলেন্স চালক শহিদুল ইসলাম খান সাগর (২৭) ও মো. আফসার (৩৩)।পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামগামী একটি অ্যাম্বুলেন্স (চট্ট মেট্রো-ছ ৭১-১২৬৫) তল্লাশি করা হয়। এ সময় গ্যাস সিলিন্ডারের ভেতরে বিশেষভাবে লুকানো বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
২ ঘন্টা আগে
নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছরের মাদ্রাসাছাত্রীর অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার ঘটনায় করা মামলার আসামি মাদ্রাসার শিক্ষককে পুলিশ এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি। অভিযান চালিয়েও তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে অজ্ঞাত স্থান থেকে ওই শিক্ষকের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মদন থানার উপপরিদর্শক আখতারুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, 'শিশুটিকে একটি ক্লিনিকে পরীক্ষা–নিরীক্ষা করার পর অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি পরিবার নিশ্চিত হয়ে মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করে। তারপর পুলিশের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে জেলা হাসপাতালেও পরীক্ষা করে অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। আসামিকে গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত আছে। মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, 'মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য গতকাল সোমবার রাত তিনটা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয় এবং তা অব্যাহত আছে। আশা করা যাচ্ছে, আসামিকে পুলিশ দ্রুত গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবে।’এদিকে মঙ্গলবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মামলার আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ৫ মিনিট ৪ সেকেন্ডের ভিডিওতে ওই শিক্ষককে বলতে শোনা যায়, অসুস্থতার জন্য তিনি কথা বলতে পারছেন না। তারপরও বিষয়টি পরিষ্কার করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন। দেশের আইন ও বিচারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আছেন জানিয়ে ওই শিক্ষক দাবি করেন, তাঁকে নিয়ে অপপ্রচার চলছে, অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। মেয়েটি একসময় তাঁর মাদ্রাসায় পড়লেও ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবে জড়িত নন। তিনিও চান, প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হোক। তিনি বলেন, ‘দেশের আইন আছে, সে আইন সঠিক, অপরাধী যে, তাকে খুঁজে বের করবে। আপনারা অপরাধী খুঁজে বের করার আগেই যদি আমাকে অপরাধী বানিয়ে ফেলেন, তাহলে তো আসল অপরাধী পার পেয়ে যাবে।স্থানীয় বাসিন্দা, এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই শিক্ষক চার বছর আগে একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। শিশুটি তার নানার বাড়িতে থেকে সেখানে লেখাপড়া করত। শিশুটির বাবা তার মাকে ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ায় জীবিকার তাগিদে মা সিলেটে একটি বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। গতকাল সোমবার শিশুটির মা মুঠোফোনে গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘আমাকে আমার স্বামী ছেড়ে চলে গেছে। ছোট তিন ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে খুব কষ্ট করি। জীবিকার তাগিদে সিলেটে মানুষের বাসায় কাম করি। মেয়েডারে আমার বাপের বাড়িতে রেখে কষ্ট করে মাদ্রাসায় লেখাপড়া করাতে দিয়েছিলাম। কিন্তু হুজুর আমার এই শিশু বাচ্চাটার সঙ্গে এমন পিশাচের মতো কাজ করতে পারল, আমি কোনো দিন স্বপ্নেও ভাবছিলাম না। এই ঘটনায় আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’চিকিৎসককে হুমকি, হয়রানিশারীরিক পরীক্ষা–নিরীক্ষার পর মেয়েটির অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা চিকিৎসক সাইমা আক্তারকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। মুঠোফোনে বিভিন্ন হুমকি পাচ্ছেন। আজ দুপুর ১২টার দিকে সায়মার মুঠোফোন কল করা হলে ধরেন তাঁর স্বামী মো. আসিফুল ইসলাম। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গত দুই দিন আগে এ বিষয়টি নিয়ে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে সাইমা বক্তব্য দেওয়ার পর থেকে তাঁকে নানাভাবে হ্যারাসমেন্ট (হয়রানি) করা হচ্ছে। সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন। জীবন দুর্বিষহ হয়ে যাচ্ছে। সায়মা এবং আমি এখন ট্রমাট্রাইজ অবস্থায় আছি। সায়মার চিকিৎসক–সংক্রান্তি বিভিন্ন সার্টিফিকেট কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে, ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, তাকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয় নিয়ে আমরা এখন আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছি।’গত বৃহস্পতিবার মামলা হলেও এখনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে না পারার বিষয়ে পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম জানান, পুলিশ বিষয়টি নিয়ে খুবই আন্তরিকভাবে কাজ করছে। এ ঘটনা জানার পর পুলিশ উদ্যোগী হয়ে মেয়েটির মাকে সিলেট থেকে আনে এবং থানায় মামলা করা হয়। কিন্তু এর আগেই অভিযুক্ত শিক্ষক পরিবার নিয়ে পালিয়ে যান। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। শিগ্গিরই গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।সূত্র : প্রথম আলো
২১ ঘন্টা আগে
রাজধানীর শাহবাগের একটি মেস থেকে কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ও চিকিৎসক ডা. আবিদ হাসান জিসানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (৪ মে) দুপুরে হাবিবুল্লাহ রোডের ওই মেস থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ও স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, জিসান কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। সদ্য এমবিবিএস সম্পন্ন করার পর তিনি রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি ধানমন্ডির একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও চিকিৎসা দিতেন। তিনি কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে হাবিবুল্লাহ রোডের ওই মেসে থাকতেন। তার রুমমেট ও সহকর্মী দীপ্ত সিংহ জানান, সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় জিসান স্বাভাবিক ছিলেন। পরে দুপুরে তার বড়ো ভাই ফোন করে জানান, জিসান ফোন ধরছেন না। এরপর বাসায় গিয়ে তাকে বিছানায় অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দীপ্ত সিংহ আরও জানান, জিসানের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা ছিল এবং তিনি নিয়মিত ওষুধ সেবন করতেন। জিসানের বড়ো ভাই জাহিদ হাসান জানান, তাদের বাড়ি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার পলাশপাড়া গ্রামে। তিনি দুই ভাইয়ের মধ্যে ছোট ছিলেন। তিনি বলেন, সকালে ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়েছিল। দুপুরে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি। পরে বন্ধুর মাধ্যমে খবর পান। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি শাহবাগ থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
১ দিন আগে
রংপুর থেকে ধান কাটতে এসে কুমিল্লার চান্দিনায় এক বৃদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (৩ মে) সকালে সোহিলপুর ইউনিয়নের অলিপুর গ্রাম থেকে সমীরণ বেগম (৭৫) নামে ওই নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চার দিন আগে রংপুর থেকে আসা কয়েকজন শ্রমিক ধান কাটার কাজে ওই বাড়িতে অবস্থান করছিল। অভিযোগ রয়েছে, সুযোগ বুঝে তারা সমীরণ বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুট করে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শ্রমিকদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয়দের ধারণা, তারা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। চান্দিনা থানার পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
৩ দিন আগে