ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১২টি গাঁজা গাছসহ এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে নাসিরনগর উপজেলার ধরমন্ডল ইউনিয়নের ধরমন্ডল গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আয়েশা বেগম (৫০) একই এলাকার মৃত ছিদ্দিক আলীর স্ত্রী।পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নাসিরনগর থানা-পুলিশের একটি দল ধরমন্ডল গ্রামে বিশেষ অভিযান চালায়। এ সময় আয়েশা বেগমের বাড়ি থেকে ১২টি গাঁজা গাছ জব্দ করা হয় এবং তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।এ বিষয়ে নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আয়েশা বেগম জানিয়েছেন, তিনি বাড়িতেই গাঁজার গাছ লাগিয়ে সেগুলো থেকে গাঁজা সংগ্রহ করতেন। পরে ছোট ছোট পুরিয়ায় ভরে বিক্রি করতেন। তিনি নিজেও গাঁজা সেবন করতেন বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন।তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।ওসি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
১ দিন আগে
রাজধানীর সবুজবাগে পলাশ (৩৪) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যরে ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত সাড়ে ৭টার দিকে সবুজবাগের রাজারবাগ বাজার পানির পাম্প সংলগ্ন একটি মুদি দোকানের সামনে হামলার শিকার হন তিনি। রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টারে (ওসেক) মারা যান তিনি। নিহত পলাশ সে ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কর্মী ছিলেন। তিনি লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর থানার সোনাপুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। পরিবারের সঙ্গে পলাশ সবুজবাগের ৭১ নং মাদারটেক এলাকায় থাকতেন। তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা প্রতিবেশী হীরা জানান, রাত সাড়ে ৭টার দিকে রাজারবাগ বাজারের পানির পাম্পের পাশে একটি মুদি দোকানে বসেছিলেন পলাশ। এ সময় পূর্ব শত্রুতার জেরে স্থানীয় রয়েল, সবুজ, নাঈমসহ ১০-১২ জন মিলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পলাশকে কুপিয়ে আহত করে। এতে তার দুই হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে হামলাকারীরা তার বুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে দুটি আঘাত করে পালিয়ে যায়। তিনি বলেন, “আমরা খবর পেয়ে প্রথমে পলাশকে মুগদা মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে এলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পলাশকে মৃত ঘোষণা করেন।” ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মোহাম্মাদ ফারুক বলেন, মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
২ দিন আগে
প্রায় ৯ বছর আগে ঢাকার মধ্য বাড্ডা এলাকায় স্ত্রীকে জবাই করে হত্যার দায়ে স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. সাদেকীন হাবীব বাপ্পী মঙ্গলবার এ রায় দেন।আসামি মনির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. আবুল কাশেম জানান, মনির জামিনে ছিলেন। গত ১৪ জুলাই যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের দিন ধার্য করে দেয় এবং জামিন বাতিল করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।মঙ্গলবার রায় ঘোষণার আগে মনিরকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আদালতের অ্যাডিশনাল পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান আসামির সর্বোচ্চ সাজার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০০৩ সালে মনির হোসেনের সঙ্গে শাকির খাতুন সোমার বিয়ে হয়। তাদের একটি মেয়ে হয়।এক পর্যায়ে মনির ও তার পরিবারের সদস্যরা সোমাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে শুরু করে। সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সোমা তা মেনে নেন। মনির ব্যবসার কথা বলে সোমাকে টাকার জন্য চাপ দিতেন। সোমার পরিবার বিভিন্ন সময় তাকে ১১ লাখ টাকা দেয়। কিন্তু আরও টাকার জন্য স্ত্রীকে নির্যাতন করতেন মনির।২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি মারধর করে স্ত্রীকে বাসা থেকে বের করে দেন। সোমা তার মায়ের বাসা বাড্ডায় চলে যান। আর কখনো এমন করবেন না-এমন অঙ্গীকার দিয়ে সোমাকে কয়েকদিন পর নিয়ে আসেন মনির। তারপরও নির্যাতন কমেনি।৬ অক্টোবর দুপুরে টাকা-পয়সা নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া বাধে। একপর্যায়ে মনির ছুরি দিয়ে সোমাকে জবাই করেন। সোমার আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।এ ঘটনায় সোমার মা মোসা. আক্তার বানু ওইদিনই বাড্ডা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তার করা হয় মনিরকে। তিনি আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।মামলার তদন্ত শেষে একই বছরের ৭ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন বাড্ডা থানার এসআই বায়েজীদ বোস্তামী। ২০১৮ সালের ১৭ মে অভিযোগ গঠন করে মনিরের বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত।বিচার চলাকালে আদালত ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের জবানবন্দি শোনে। আসামির আত্মপক্ষ শুনানি, মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মঙ্গলবার তাকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দলেন বিচারক।
৩ দিন আগে
খুলনার বসুপাড়া বাঁশতলার নিজ বাসায় স্কুলছাত্রী আরফানা হোসেন নির্জনা হত্যার মূল অভিযুক্ত তার বাবা আলীম হোসেন আকাশকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।শনিবার (১৯ জুলাই) দুপুর ৩টার দিকে ডুমুরিয়া উপজেলা সদরের আব্দুল কুদ্দুসের চায়ের দোকান থেকে র্যাব-৬ এর স্পেশাল কোম্পানি এবং সদর থানা পুলিশের যৌথ আভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাব-৬ এর পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ৮ জুলাই রাতে নির্জনাকে (১৬) হত্যা করে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে খুলনা সদর থানাধীন প্রান্তিকা আবাসিক এলাকায় ফেলে রেখে যায়। খবর পেয়ে খুলনা সদর থানা পুলিশ মৃতদেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় খুলনা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) লাভলী আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করেন। পরবর্তীতে নিহত নির্জনার মা সীমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ করে আদালতে জবানবন্দি দেন। মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে বাবা-মা তাকে হত্যা করেন।হত্যার মূল অভিযুক্ত নিহতের বাবা আকাশ ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিলেন।
৫ দিন আগে