হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের একটি নতুন পথ চালুর বিষয়ে ওমানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর কথা জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি জানিয়েছেন, এ সংক্রান্ত চুক্তি এখন ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ রয়েছে।তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, নতুন এই ব্যবস্থা হরমুজ প্রণালিতে সম্পূর্ণ নিরাপদ নৌচলাচলের নিশ্চয়তা দেবে না। তার দাবি, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধসহ বিভিন্ন কারণে ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি।ইরানের প্রস্তাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ওমান এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রেখেছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানকে কঠোর পদক্ষেপের মুখে পড়তে হবে।ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত নতুন নৌপথটি সাময়িক হতে পারে এবং দুই থেকে চার মাস পর্যন্ত চালু থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে হরমুজ সংকটের প্রভাব পড়েছে জ্বালানি দামে। বৃহস্পতিবার এশিয়ার বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দশমিক ৩ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৯ দশমিক ২৪ ডলারে নেমেছে।ইরান জানিয়েছে, তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ এই পথ ব্যবহার করতে পারবে না। দেশটি এর আগে নির্দেশ অমান্যকারী কয়েকটি জাহাজে হামলার কথাও জানিয়েছে।হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের জন্য ফি আদায়ের বিষয়টিও আলোচনার অন্যতম ইস্যু হয়ে উঠেছে। ইরান জাহাজের পণ্য মূল্যের ৫ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত ফি আদায়ের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে বলে সূত্রের বরাতে জানা গেছে। অন্যদিকে ওমান প্রায় ৩ শতাংশ ফি নিয়ে আলোচনা করছে, আর যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের ফি আরোপের বিরোধিতা করছে।এর আগে যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু এবং ৬০ দিনের মধ্যে সংঘাত বন্ধের লক্ষ্য নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে সেই উদ্যোগ ভেস্তে যায় এবং দুই পক্ষের মধ্যে আবার উত্তেজনা শুরু হয়।এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর তার উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনায় থাকা মুজতাবা খামেনিকে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।তবে পেজেশকিয়ান দাবি করেছেন, মুজতাবা খামেনির সঙ্গে তার ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে এবং তিনি দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
১৮ ঘন্টা আগে
টানা ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে শ্রীলঙ্কায় অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্যোগে দেশটির মধ্যাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতির কারণে ওই অঞ্চলের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার।সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাহাড়ি চা-বাগান অধ্যুষিত এলাকায় প্রবল বৃষ্টির পর আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। গত বছরের নভেম্বরে ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহে বিধ্বস্ত হওয়ার পরও অঞ্চলটি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারেনি।দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের মুখপাত্র প্রদীপ কোডিপ্পিলি জানান, মধ্যাঞ্চলে ভূমিধসে দুটি বাড়ি চাপা পড়ে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া বন্যার পানিতে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে।তিনি আরও জানান, বৃষ্টি ও বন্যায় ১২৯টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য প্রায় ৩ হাজার ৫০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।বন্যার পানিতে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে নৌবাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় টেলিভিশনের প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে, সেনাসদস্যরা পানিতে তলিয়ে যাওয়া সড়ক পেরিয়ে আটকে পড়া পরিবারগুলোকে উদ্ধার করছেন।নুওয়ারা এলিয়া ও বাদুল্লাসহ শ্রীলঙ্কার মধ্যাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা পাহাড়ি হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে সেখানে প্রায়ই ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হয়।আল জাজিরার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের শেষ দিকে ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহের প্রভাবে একই এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে প্রায় ৬৪০ জনের মৃত্যু হয় এবং প্রায় ৪১০ কোটি মার্কিন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। সে সময়ও দেশজুড়ে স্কুল ও সরকারি অফিস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।সেই ঘটনার মাত্র নয় মাসের মাথায় আবারও ভয়াবহ দুর্যোগে শ্রীলঙ্কার দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষমতার ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কবে খুলবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি কর্তৃপক্ষ। তাদের মতে, আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
১ দিন আগে
বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গণমাধ্যমে ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনও সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি। মঙ্গলবার দিল্লিতে নিয়মিত সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই তথ্য জানিয়ে দিয়েছেন।ব্রিফিংয়ে জোর দিয়ে রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, এটি একটি ‘বেসরকারি গণমাধ্যম সংস্থার’ আয়োজিত অনুষ্ঠান এবং সেখানে কোনো ধরনের মতামত ব্যক্ত করা হলে তার দায় ভারতের নয় কিংবা ভারত তা সমর্থন করে না।ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, নয়াদিল্লিতে দক্ষিণ এশিয়ার সাংবাদিকদের সংগঠন ফরেইন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি) অব সাউথ এশিয়ার আয়োজিত অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার ভাষণ দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশের যে উদ্বেগ রয়েছে, সেই অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনও ভূমিকা নেই।এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘‘আপনি যে মতবিনিময় সভার বিষয়টি উল্লেখ করছেন, সেটি একটি বেসরকারি গণমাধ্যম সংস্থা আয়োজন করছে। এতে সরকারের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। এমনকি এই ফোরামে যে মতামতই ব্যক্ত করা হোক না কেন, ভারত সরকার তার কোনোটিই সমর্থন করে না।’’গত বছর ঢাকা ছাড়ার পর থেকে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা সেখানে একটি ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠানে ভাষণ দেবেন; এমন খবর প্রকাশের পর ভারতের কাছে নিজেদের গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। ঢাকা বলছে, এ ধরনের আয়োজন দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সাম্প্রতিক ইতিবাচক গতিধারায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে ঢাকায় ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকে বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।অন্য এক প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেছেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারতে দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘‘পরবর্তী ব্রিকস (বিআরআইসিএস) শীর্ষ সম্মেলনের বিষয়ে বলতে গেলে, বিমসটেকের বর্তমান সভাপতি হিসেবে পৃথকভাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে যোগ দেওয়ার জন্য ভারতের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।’’সূত্র: এএনআই।
২ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে কোনও শান্তি আলোচনার পরিকল্পনা অস্বীকার করায় ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক কঠোর হুঁশিয়ারিতে তিনি বলেন, ইরান যদি কোনও চুক্তিতে সম্মত না হয় কিংবা পুরোপুরি আত্মসমর্পণ না করে, তবে দেশটির ভেতর দিয়ে কোনও কিছুই যাতায়াত করতে পারবে না।পোস্টে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন যে, ‘চুক্তি অথবা পূর্ণ আত্মসমর্পণ’ না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন সামরিক অবরোধ অব্যাহত থাকবে।সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড বলছে, স্থানীয় সময় সোমবার (৩ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এসব কথা বলেন।ইরানকে ‘দ্বিমুখী’ বলে মন্তব্য করে ট্রাম্প লেখেন, দেশটি প্রকাশ্যে এবং গর্বের সঙ্গে বলছে যে তারা কোনও আলোচনা করছে না। তিনি লেখেন, ‘ইরান স্বীকার করুক বা না-ই করুক, বাস্তবে আমরা এমন একটি সমস্যার সমাধান নিয়ে আলোচনা করছি, যা তারা কয়েক দশক ধরে তৈরি করেছে।’এর আগে গত সপ্তাহান্তে ইরানের ওপর বড় ধরনের বোমা হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করার সময় ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, আঞ্চলিক শক্তিগুলো এবং তেহরানের অনুরোধেই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেছিলেন, সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা হবে।তবে ইরান সে দাবি নাকচ করে দিয়েছে। সোমবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে তারা কেবল ওমানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ভাগাভাগির পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে। ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনও সরাসরি আলোচনা হচ্ছে না।এর জবাবে ট্রাম্প দাবি করেন, আলোচনার জন্য অনুরোধ করেছিল ইরান। কিন্তু এখন তারা হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ‘চিরাচরিত বাগাড়ম্বর’ করছে। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি এখন পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।তিনি লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে আমরা না চাইলে ইরানের দিকে কিছুই যেতে পারবে না। আর কোনও কিছুই যাবে না, যতক্ষণ না একটি চুক্তিতে সম্মত হয় অথবা ইরান পুরোপুরি আত্মসমর্পণ করে।’এর আগে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা এবং দেশটির সরকারের বিরুদ্ধে একটি গণ-অভ্যুত্থানকে সমর্থন দেয়া।তবে পাঁচ মাসেরও বেশি সময় পরও ইরান এখনও এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর সক্ষমতা ধরে রেখেছে। একই সঙ্গে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতও তাদের হাতে রয়েছে।এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের চাপ সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ইরানের হামলার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে চলমান অচলাবস্থায় শক্তিশালী কৌশলগত সুবিধা পাচ্ছে তেহরান।সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড
২ দিন আগে