হজ ও ওমরার প্রতিটি আমল কবুল হওয়ার প্রথম শর্ত হলো সঠিক পদ্ধতিতে পবিত্রতা অর্জন করা। কিন্তু মক্কা-মদিনার বিশাল ভিড়, ক্লান্তি বা তাড়াহুড়োর কারণে অনেক সময় হাজিরা অজুর ফরজ কাজগুলোতে অসতর্ক হয়ে পড়েন। বিশেষ করে হাত ও পা ধোয়ার সময় কিছু ছোট ভুল অজুকে অসম্পূর্ণ করে দিতে পারে, যার ফলে নামাজ শুদ্ধ না হওয়ার এবং তাওয়াফের ফজিলত থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।১. কনুই পর্যন্ত হাত ধোয়ায় অসতর্কতা।অজুর অন্যতম ফরজ হলো দুই হাত কনুইসহ ভালোভাবে ধোয়া। তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে অনেকে কনুইয়ের পেছনের অংশ শুকনো রেখে দেন। ইহরামের কাপড় বা ভারী পোশাকের কারণে হাত পুরোপুরি কনুই পর্যন্ত ধোয়া সম্ভব না হলে অজু অসম্পূর্ণ থেকে যায়। মনে রাখবেন, সামান্য কোনো অংশও শুকনো থাকলে অজু পূর্ণ হবে না।২. আঙুলের ফাঁক (খিলাল) না করা।হাত ও পা ধোয়ার সময় আঙুলের মাঝখানের অংশে পানি পৌঁছানো জরুরি। শুধু ওপর দিয়ে পানি ঢেলে দিলে আঙুলের ভাঁজে পানি নাও পৌঁছাতে পারে। বিশেষ করে যাদের আঙুলগুলো পরস্পর লেগে থাকে, তাদের অবশ্যই আঙুল ‘খিলাল’ করতে হবে।৩. পায়ের গোড়ালি শুকনো থাকা।রসুলুল্লাহ (সসব৪. আংটির নিচে পানি না পৌঁছানো।হাতে টাইট আংটি পরলে চামড়ায় পানি পৌঁছাতে বাধা হতে পারে। অজুর সময় আংটি সামান্য সরিয়ে পানি পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে, অন্যথায় অজু পূর্ণ হবে না। (ইহরাম অবস্থায় ঘড়ি পরিধান না করলেও সাধারণ সময়ে ঘড়ি থাকলে একই নিয়ম প্রযোজ্য।)৫. নখের কোণে কোনো বাঁধা থাকাহজের দীর্ঘ সফরে বিভিন্ন কারণে নখের কোণে ময়লা জমতে পারে। নখ বড়ো থাকলে এবং ময়লা কঠিন পদার্থের হলে তার নিচে পানি পৌঁছাতে সমস্যা হয়। অজুর আগেই নিশ্চিত করুন যে নখের কোণে বা নিচে পানি পৌঁছাতে কোনো বাধা নেই।
১ ঘন্টা আগে
চলতি বছর হজ মৌসুমে এখন পর্যন্ত ১১৮টি হজ ফ্লাইটে মোট ৪৬ হাজার ৫১৪ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। তাদের মধ্যে সরকারি মাধ্যমে গিয়েছেন ৪ হাজার ৭১ জন ও বেসরকারি মাধ্যমে ৪২ হাজার ৪৪৩ জন। আজ মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে হজ সম্পর্কিত সর্বশেষ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এদিকে হজে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৯ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ৭ জন মক্কায় ও ২ জন মদিনায় মারা যান। মারা যাওয়াদের মধ্যে একজন মহিলা রয়েছেন। হজ বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৫৪টি ফ্লাইটে ২১ হাজার ৯১০ জন, সৌদি এয়ারলাইনসের ৪৩টি ফ্লাইটে ১৬ হাজার ১১০ জন ও ফ্লাইনাসের ২১টি ফ্লাইটে ৮ হাজার ৪৯৪ জন যাত্রী সৌদি আরবে গেছেন। চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালনের অনুমতি পেয়েছেন। ৬৬০টি এজেন্সি এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যার মধ্যে ৩০টি প্রধান ও ৬৩০টি সমন্বয়কারী এজেন্সি রয়েছে।
১ দিন আগে
তাওয়াফ শব্দের অর্থ হলো কোনো কিছুকে কেন্দ্র করে প্রদক্ষিণ করা। ইসলামি শরিয়তে তাওয়াফ বলতে পবিত্র কাবাঘরকে নির্দিষ্ট নিয়মে সাতবার প্রদক্ষিণ করাকে বোঝানো হয়। হজ ও ওমরা উভয় ইবাদতেই তাওয়াফ একটি অপরিহার্য অনুষঙ্গ হলেও এদের প্রকারভেদ, ধর্মীয় মর্যাদা এবং পালনের পদ্ধতিতে বেশ কিছু মৌলিক ও সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে। হানাফি ফিকহের প্রামাণ্য গ্রন্থসমূহের আলোকে বিষয়টি নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।তাওয়াফের কোরআনি ভিত্তিআল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন- وَلْيَطَّوَّفُوا بِالْبَيْتِ الْعَتِيقِ ‘তারা যেন প্রাচীন ঘর (কাবা) তাওয়াফ করে।’ (সুরা, হজ : ২৯)। এই আয়াতের ভিত্তিতেই তাওয়াফে জিয়ারাহ হজের অন্যতম ফরজ রুকন হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। (বাদায়েউস সানায়ে, কিতাবুল হজ)।তাওয়াফের পর দুই রাকাত নামাজ আদায়ের বিষয়ে কোরআনে নির্দেশ এসেছে- وَاتَّخِذُوا مِن مَّقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى ‘মকামে ইবরাহিমকে নামাজের স্থান হিসেবে গ্রহণ করো।’ (সুরা বাকারা : ১২৫)।এই আয়াতের নির্দেশনা ও হাদিস এবং ফিকহি ব্যাখ্যার ভিত্তিতে হানাফি মাজহাবে তাওয়াফ-পরবর্তী দুই রাকাত নামাজ ওয়াজিব বলা হয়েছে- হজ ও ওমরা উভয় ক্ষেত্রেই।১. সংখ্যা ও প্রকারভেদে পার্থক্য।হজ ও ওমরার মধ্যে সবচেয়ে বড়ো পার্থক্য হলো তাওয়াফের সংখ্যায়।ওমরা : ওমরায় একটি তাওয়াফ রয়েছে, যাকে তাওয়াফে ওমরা বলা হয়। এটি ওমরার ফরজ রুকন। এটি ছাড়া ওমরা পূর্ণ হয় না। হজ : হানাফি মাজহাব অনুযায়ী হজে তিন ধরনের তাওয়াফ রয়েছে-তাওয়াফে কুদুম : মক্কায় পৌঁছার পর প্রাথমিক অভিবাদনমূলক তাওয়াফ (সুন্নত)।তাওয়াফে জিয়ারাহ (তাওয়াফে ইফাদা) : হজের মূল ফরজ রুকন; এটি ছাড়া হজ পূর্ণ হয় না।তাওয়াফে বিদা : মক্কা ত্যাগের আগে বিদায়ি তাওয়াফ (ওয়াজিব)।২. সময়গত পার্থক্যহজের তাওয়াফ : তাওয়াফে জিয়ারাহ জিলহজ মাসের ১০ তারিখ সুবহে সাদিক থেকে ১২ তারিখ সূর্যাস্তের মধ্যে আদায় করা ওয়াজিব। নির্ধারিত সময়ের পর আদায় করলে হানাফিমতে দন ওয়াজিব হয়। ওমরার তাওয়াফ : ওমরার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই; বছরের যে-কোনো সময় তা আদায় করা যায়। তবে হজের নির্ধারিত দিনগুলোতে (৯–১৩ জিলহজ) ওমরা করা হানাফিমতে মাকরুহে তাহরিমি।৩. রামাল ও ইজতিবার বিধান।হানাফি ফিকহের মূলনীতি হলো- যে তাওয়াফের পর সাঈ করা হয়, কেবল সেই তাওয়াফেই রামাল (প্রথম তিন চক্করে দ্রুত হাঁটা) ও ইজতিবা (ডান কাঁধ খোলা রাখা) সুন্নত।ওমরা : যেহেতু ওমরার তাওয়াফের পর সাঈ করা হয়, তাই এতে রামাল ও ইজতিবা সুন্নত।হজ : হজে অবস্থাভেদে বিধান পরিবর্তিত হয়, -কেউ যদি তাওয়াফে কুদুমের সাথে সাঈ করে ফেলেন, তবে সেখানে রামাল ও ইজতিবা করবেন।আর সাঈ পিছিয়ে দিলে তাওয়াফে জিয়ারা হতে করবেন। তাওয়াফে বিদায়ে কোনো রামাল বা ইজতিবা নেই। (রদ্দুল মুহতার : ২/৪৯৬)।৪. সাঈ ও তাওয়াফের সম্পর্কওমরায় তাওয়াফের পরপরই সাঈ করা ওয়াজিব; এটি ছাড়া ওমরা পূর্ণ হয় না। হজে তাওয়াফে জিয়ারাহ ও সাইর মাঝে সময়ের ব্যবধান থাকতে পারে। তবে তাওয়াফে বিদার পর কোনো সাঈ নেই।৫. বিদায়ি তাওয়াফের বিধানহজের ক্ষেত্রে তাওয়াফে বিদা একটি স্বতন্ত্র ওয়াজিব ইবাদত। এটি না করলে দম ওয়াজিব হয়। নবি কারিম (সে.) ইরশাদ করেন- ‘কেউ যেন বায়তুল্লাহকে শেষ সাক্ষাৎ না করে চলে না যায়।’ (সহিহ মুসলিম : ১৩২৭)।ওমরায় আলাদা কোনো বিদায়ি তাওয়াফ নেই।
২ দিন আগে
পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশে বাংলাদেশ থেকে এখন পর্যন্ত ১০৮টি হজ ফ্লাইটে মোট ৪৩ হাজার ১৯ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। রোববার (৩ মে) সকালে হজ সম্পর্কিত সবশেষ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এয়ারলাইন্স, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ হজ অফিস, ঢাকা এবং সৌদি আরব সূত্রে এ তথ্য জানিয়েছে হেলপ ডেস্ক। হজ বুলেটিন অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৭ জন হজযাত্রীর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৫ জন মক্কায় এবং ২ জন মদিনায় মারা যান। এতে আরও বলা হয়, সৌদি মেডিক্যাল টিম ৯ হাজার ১৭৫ জন হজযাত্রীকে সরাসরি চিকিৎসাসেবা দিয়েছে। এছাড়া আইটি হেল্পডেস্কের মাধ্যমে ৯ হাজার ৭৩০ জন স্বাস্থ্যসেবা পেয়েছেন। চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালনের অনুমতি পেয়েছেন। মোট ৬৬০টি এজেন্সি এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যার মধ্যে ৩০টি প্রধান এবং ৬৩০টি সমন্বয়কারী এজেন্সি রয়েছে। বিমান সংস্থাভিত্তিক তথ্যে বলা হয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৫০টি ফ্লাইটে ২০ হাজার ৪৮৩ জন, সৌদি এয়ারলাইন্সের ৩৯টি ফ্লাইটে ১৪ হাজার ৬৪৬ জন এবং ফ্লাইনাসের ১৯টি ফ্লাইটে ৭ হাজার ৮৯০ জন যাত্রী সৌদি আরবে গেছেন। গত ১৭ এপ্রিল রাত ১১টা ৫৭ মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে প্রথম হজ ফ্লাইট (বিজি৩০০১) জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ফ্লাইটটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
৩ দিন আগে