পবিত্র হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে ফিরতে শুরু করেছেন হজযাত্রীরা। শুক্রবার (২০ জুন) পর্যন্ত ১৫৬টি ফিরতি ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন ৬১ হাজার ৬৯৭ জন হাজি।হজ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৭৮টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্স ৫৬টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ২২টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। একই সঙ্গে চলতি হজ মৌসুমে সৌদি আরবে ৫৪ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে হজ অফিস।হজ অফিস জানায়, সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৩১৯ জন এবং বেসরকারি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে ৫৭ হাজার ৩৭৮ জন হাজি দেশে ফিরেছেন।এয়ারলাইন্সভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৭৮টি ফ্লাইটে ২৭ হাজার ৩৬৩ জন, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ৫৬টি ফ্লাইটে ২১ হাজার ৬৫২ জন, ফ্লাইনাসের ২২টি ফ্লাইটে ৮ হাজার ৬৭২ জন এবং অন্যান্য এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে ৪ হাজার ১০ জন হাজি দেশে ফিরেছেন।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বাকি হাজিরা নির্ধারিত এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে দেশে ফিরবেন।এদিকে চলতি হজ মৌসুমে সৌদি আরবে ৩৬ জন পুরুষ ও ১৮ জন নারীসহ ৫৪ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে মক্কায় ৩৭ জন, মদিনায় ১৬ জন এবং জেদ্দায় একজন মৃত্যুবরণ করেন। তবে মিনা বা মুজদালিফায় কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।হজ বুলেটিন অনুযায়ী, ৪১৫ জন বাংলাদেশি হাজি সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং ১১ জন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সৌদি মেডিকেল সেন্টারগুলো ৬৬ হাজার ২৪৯ জন হাজিকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছে এবং মক্কা ও মদিনার আইটি হেল্প ডেস্ক ২৮ হাজার ১৯৮ জন হাজিকে বিভিন্ন তথ্য ও সেবা দিয়ে সহায়তা করেছে।
১৪ ঘন্টা আগে
আজ ১৯ জুন ২০২৬, শুক্রবার। হিজরি ১৪৪৮ সালের মহররম মাসের প্রথম জুমা আজ। বিশ্বের কোটি কোটি মুসল্লির দৃষ্টি আজ নিবদ্ধ থাকবে মক্কার মসজিদে হারাম ও মদিনার মসজিদে নববির জুমার জামাতে।মসজিদে হারামে আজ জুমার নামাজে ইমামতি করবেন সৌদি আরবের প্রখ্যাত আলেম শায়খ সালেহ ইবনে আব্দুল্লাহ আল হুমাইদ। ১৯৫০ সালে সৌদি আরবের বুরাইদা শহরে জন্ম নেওয়া এই খ্যাতিমান আলেম ১৯৮৩ সালে মাত্র ৩৩ বছর বয়সে মসজিদে হারামের ইমাম হিসেবে নিয়োগ পান।তিনি মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি সৌদি আরবের শুরা কাউন্সিল ও উচ্চ বিচার কমিশনের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, সিনিয়র ওলামা পরিষদের সদস্য এবং রাজকীয় দরবারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।অন্যদিকে, মসজিদে নববিতে আজ জুমার খুতবা ও নামাজ পরিচালনা করবেন শায়খ ড. খালিদ ইবনে সুলাইমান আল মুহান্না।১৯৭৬ সালে সৌদি আরবের আল আহসায় জন্মগ্রহণকারী ড. আল মুহান্না একজন হাফেজে কুরআন ও বিশিষ্ট আলেম। তিনি শৈশবেই পবিত্র কুরআন মুখস্থ করেন। পরে ইমাম মুহাম্মাদ বিন সৌদ বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত হন।ড. আল মুহান্না ২০১৫ ও ২০১৬ সালে রমজান মাসে মসজিদে নববির ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি প্রয়াত শায়খ আব্দুল্লাহ বিন বাজ ও শায়খ আব্দুল্লাহ বিন আকিলের সরাসরি ছাত্র ছিলেন।মহররম মাসের প্রথম জুমায় এই দুই প্রখ্যাত আলেমের ইমামতিতে পবিত্র দুই মসজিদে লাখো মুসল্লি জুমার নামাজ আদায় করবেন।সূত্র: ইনসাইড দ্য হারামাইন
১ দিন আগে
দেশের আকাশে ১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে। বুধবার (১৭ জুন) থেকে পবিত্র মহররম মাস গণনা করা হবে। সেই হিসাবে আগামী ২৬ জুন শুক্রবার পবিত্র আশুরা পালিত হবে।মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সভাকক্ষে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।আশুরা আরবি শব্দ। আশারা থেকে আশুরা শব্দের উৎপত্তি। এর অর্থ হচ্ছে দশ। আরবি সনের প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখকে পবিত্র আশুরা বলা হয়।আশুরা দিবসে বহু স্মরণীয় ও ঐতিহাসিক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। মহান আল্লাহ যেদিন আকাশ, বাতাস, পাহাড়-পর্বত, নদী-নালা, জান্নাত-জাহান্নাম, লাওহে মাহফুজ ও যাবতীয় সৃষ্টি-জীবের আত্মা সৃষ্টি করেছিলেন সে দিনটি ছিল ১০ মহররম তথা পবিত্র আশুরার দিন।আশুরার রোজা রাখার সঠিক নিয়ম হলো-- দুটি রোজা রাখতে হবে। মহররমের ১০ তারিখ একটি, আর এর আগে মহররমের ৯ তারিখ অথবা পরের দিন মহররমের ১১ তারিখ আরও একটি।ইমাম বুখারি (রহ.) আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরত করে মদিনায় পৌঁছে মদিনার ইহুদিদের আশুরার দিনে রোজা পালন করতে দেখেন। নবীজি তাদের জিজ্ঞেস করেন, এ দিনে কী ঘটেছে যে তোমরা এতে রোজা পালন করো? তারা বলে, এই দিনটি অনেক বড় দিন, এ দিনে মহান আল্লাহ মুসা (আ.) ও তার সঙ্গীদের ফিরাউন থেকে মুক্ত করেছিলেন এবং ফিরাউন ও তার বাহিনীকে ডুবিয়ে মেরেছিলেন। এর কৃতজ্ঞতাস্বরূপ মুসা (আ.) রোজা রাখতেন, তাই আমরাও আশুরার রোজা পালন করে থাকি। ইহুদিদের জবাব শুনে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মুসা (আ.)-এর কৃতজ্ঞতার অনুসরণে আমরা তাদের চেয়ে বেশি যত্নশীল হওয়ার অধিকারী। অতঃপর তিনি নিজেও আশুরার রোজা রাখেন এবং মুসলমানদের তা পালন করতে নির্দেশ প্রদান করেন। (বুখারি: ৩৩৯৭; মুসলিম: ১১৩৯) রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই রোজা নিজে পালন করেছেন এবং উম্মতকে রাখার প্রতি নির্দেশ করেছেন, তাই তার অনুসরণ করা আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
৩ দিন আগে
নতুন হিজরি বছর ১৪৪৮-এর সূচনায় ইসলামের পবিত্রতম স্থান কাবা শরিফে ঐতিহ্যবাহী আয়োজনে নতুন কিসওয়া (গিলাফ) পরানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১ মহররম) ভোরে মসজিদুল হারামে এই বার্ষিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। সৌদি আরবের গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববী বিষয়ক কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে কাবার পুরোনো গিলাফ সরিয়ে নতুন করে পবিত্র কাবায় নতুন গিলাফ স্থাপন করা হয়। পুরো কার্যক্রমে তদারকি করেন শাইখ ড. আবদুর রহমান বিন আবদুল আজিজ আল-সুদাইস।কাবার কিসওয়া তৈরির দায়িত্বে থাকা কিং আবদুল আজিজ কমপ্লেক্স এর দক্ষ কারিগর ও প্রযুক্তিবিদদের একটি দল ১০ ধাপের বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন কিসওয়া স্থাপন করেন। এ সময় পুরোনো কিসওয়া খুলে ফেলে কাবার চার পাশে নতুন কিসওয়া ধাপে ধাপে স্থাপন করা হয় এবং তা কাবার কোণা ও ছাদের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়।নতুন কিসওয়া স্থাপনের সময় কাবার চারটি দিকের কাপড় আলাদাভাবে ওপরে তোলা হয়। এরপর তা পুরোনো গিলাফের ওপর বিছিয়ে বেঁধে ধীরে ধীরে নিচে নামানো হয়। একই সঙ্গে নিচের অংশ থেকে পুরোনো গিলাফ সরিয়ে নতুন গিলাফ স্থাপন করা হয়। চারটি দিকেই একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়।সব অংশ স্থাপন শেষে কিসওয়ার বেল্ট বা ‘হিজাম’ সেলাইয়ের মাধ্যমে সংযুক্ত করা হয়। পরে কাবার বিভিন্ন পাশ ও কোণা ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত সেলাই করে স্থায়ীভাবে সংযুক্ত করা হয়। সর্বশেষ কাবার দরজার বিশেষ পর্দা স্থাপন করা হয়, যা অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও সময়সাপেক্ষ কাজ হিসেবে বিবেচিত।জানা গেছে, কাবার নতুন কিসওয়ায় মোট ৫৩টি স্বর্ণখচিত অলংকারযুক্ত অংশ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বেল্টের অংশ, ঝুলন্ত অলংকার, ফানুস আকৃতির নকশা, দরজার পর্দার অলংকার, ইয়েমেনি কোণের বিশেষ অংশ এবং মিজাবের অলংকার।প্রতি বছর কয়েক মাস আগে থেকেই কিসওয়া তৈরির কাজ শুরু হয়। খাঁটি প্রাকৃতিক রেশমের কাপড়ে সোনালি ও রুপালি প্রলেপযুক্ত সুতা ব্যবহার করে কোরআনের আয়াত ও নান্দনিক নকশা সূচিকর্মের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়।ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি কিসওয়া পরিবর্তনের এই আয়োজন মুসলিম বিশ্বের কাছে গভীর তাৎপর্য বহন করে। এটি পবিত্র কাবার মর্যাদা, ইসলামি ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা এবং দুই পবিত্র মসজিদের সেবায় সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের অঙ্গীকারের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।প্রতি বছরের মতো এবারও মহররম মাসের প্রথম দিনের ভোরে নতুন কিসওয়ায় সজ্জিত হয়ে নতুন হিজরি বছরকে বরণ করে নিয়েছে পবিত্র কাবা শরিফ।
৪ দিন আগে