ইসলাম মানুষের সঙ্গে সুন্দর আচরণের শিক্ষা দিয়েছে। একইসঙ্গে এমন কিছু স্বভাব ও আচরণ থেকে সতর্ক করেছে, যা সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তবে কোনো একটি ঘটনার ভিত্তিতে কাউকে ভালো বা খারাপ হিসেবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া ঠিক নয়। মানুষের ধারাবাহিক আচরণ ও পরিস্থিতিও বিবেচনায় রাখা জরুরি। নিচে এমন ৭ ধরনের মানুষের পরিচয় তুলে ধরা হলো, যাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকা ইসলামের শিক্ষা।১. বিপদে পাশে থাকে নাসুখের সময়ে পাশে থাকা সহজ। বিপদে মানুষের জন্য এগিয়ে আসা কঠিন। অথচ ইসলাম বিপদগ্রস্ত মানুষের কষ্ট লাঘব করাকে বড় নেক আমল হিসেবে উল্লেখ করেছে।আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারী একে অপরের সহায়ক।’ (সুরা তাওবা: ৭১)রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের দুনিয়ার একটি কষ্ট দূর করে দেয়, আল্লাহ কেয়ামতের দিন তার একটি কষ্ট দূর করে দেবেন।’ (সহিহ মুসলিম: ২৬৯৯)তাই কেউ সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনের সময়ে বারবার মুখ ফিরিয়ে নিলে তার ওপর কতটা নির্ভর করা যায়, তা ভেবে দেখা স্বাভাবিক। তবে কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে পাশে থাকতে না পারাকে একা কারও চরিত্র বিচারের মাপকাঠি বানানো যাবে না।২. উপকার করে খোঁটা দেয়উপকার মানুষের মর্যাদা বাড়াতে পারে, আবার খোঁটা দিলে সেই উপকারই কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ইসলাম তাই দান ও উপকারের পর কাউকে অপমান বা কষ্ট দিতে নিষেধ করেছে।আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা খোঁটা ও কষ্ট দেওয়ার মাধ্যমে তোমাদের দানকে নষ্ট করো না।’ (সুরা বাকারা: ২৬৪)কেউ যদি সাহায্য করার পর বারবার তা মনে করিয়ে দেয় কিংবা সেই কারণে অন্যকে হেয় করে, তার এই স্বভাব থেকে সতর্ক হওয়া দরকার। মানুষের প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ানো যেমন মহৎ, তেমনি তার সম্মান অক্ষুণ্ন রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।৩. অন্যের সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়অন্যের ভালো থাকা দেখে নিজের মন খারাপ হওয়া আর তার নেয়ামত চলে যাক-এমনটা কামনা করা এক বিষয় নয়। দ্বিতীয়টি হিংসার অন্তর্ভুক্ত, যা ইসলাম নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করেছে।আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা কি মানুষের প্রতি ঈর্ষা করে, আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের যা দিয়েছেন তার জন্য?’ (সুরা নিসা: ৫৪)কেউ যদি অন্যের সাফল্য সহ্য করতে না পারে, তার অর্জনকে সবসময় ছোট করে দেখে কিংবা তার ভালো কিছু নষ্ট হয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।তবে সাময়িক মন খারাপ বা সুস্থ প্রতিযোগিতাকে হিংসা বলা ঠিক নয়। একজনের প্রকৃত মনোভাব বুঝতে তার ধারাবাহিক আচরণ দেখা জরুরি।৪. বন্ধুর গোপন কথা প্রকাশ করেবিশ্বাসের জায়গায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো আমানত রক্ষা করা। কারও ব্যক্তিগত কথা তার অনুমতি ছাড়া অন্যের কাছে বলে দেওয়া সেই বিশ্বাসের পরিপন্থী।হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী, মজলিসের কথাবার্তাও আমানত। (সুনানে আবু দাউদ: ৪৮৬৯)তাই কেউ গোপন কথা রাখার দায়িত্ব পাওয়ার পর তা অন্যের কাছে ছড়িয়ে দিলে তার বিশ্বস্ততা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ব্যক্তিগত বিষয় কারও সঙ্গে ভাগ করার আগে সে কতটা আমানতদার, সেটিও বিবেচনায় রাখা উচিত।৫. অকৃতজ্ঞঅন্যের উপকার স্বীকার করা সুন্দর চরিত্রের পরিচয়। এর বিপরীতে উপকার পাওয়ার পর তা অস্বীকার করা বা উপকারকারীর প্রতি অন্যায় আচরণ করা নিন্দনীয়।আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা কৃতজ্ঞ হলে আমি অবশ্যই তোমাদের আরও দেব।’ (সুরা ইবরাহিম: ৭)যে ব্যক্তি বারবার অন্যের সহযোগিতা নেয়, কিন্তু প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে সেই সহযোগিতার মূল্য অস্বীকার করে, তার এই প্রবণতা সম্পর্কের জন্য ভালো নয়। কৃতজ্ঞতা মানুষের মধ্যে ভালোবাসা বাড়ায়, আর অকৃতজ্ঞতা দূরত্ব তৈরি করে।৬. গিবত করেআপনার অনুপস্থিতিতে এমন কোনো দোষের কথা বলা, যা আপনি শুনলে অপছন্দ করবেন, সেটিই গিবত। সম্পর্ক যত ঘনিষ্ঠই হোক, গিবত ইসলামে নিষিদ্ধ।আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে? তোমরা তো তা ঘৃণা করবে।’ (সুরা হুজুরাত: ১২)যে ব্যক্তি নিয়মিত অন্যের অনুপস্থিতিতে তাদের দোষ-ত্রুটি আলোচনা করে, তার কাছে নিজের ব্যক্তিগত বিষয় বলার ক্ষেত্রেও সাবধান হওয়া ভালো। কারণ অন্যের সম্মান রক্ষা করার অভ্যাস বিশ্বস্ততারই অংশ।৭. শুধু নিজের স্বার্থ দেখেসম্পর্ক একতরফা সুবিধা নেওয়ার নাম নয়। সেখানে পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও কল্যাণকামিতা থাকা প্রয়োজন।রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ ততক্ষণ পূর্ণ মুমিন হবে না, যতক্ষণ না সে নিজের জন্য যা ভালোবাসে, তার ভাইয়ের জন্যও তা ভালোবাসে।’ (সহিহ বুখারি: ১৩)কেউ যদি সবসময় নিজের প্রয়োজন ও সুবিধাকে গুরুত্ব দেয়, অথচ অন্যের প্রয়োজনের সময় উদাসীন থাকে, তাহলে সম্পর্কটির ভারসাম্য নিয়ে ভাবা দরকার। তবে সামর্থ্য না থাকা বা কোনো বিশেষ সময়ে সহযোগিতা করতে না পারাকে স্বার্থপরতা বলা যাবে না। এখানে দেখতে হবে, নিজের স্বার্থের বাইরে অন্যের কল্যাণের প্রতিও তার স্বাভাবিক আগ্রহ আছে কি না।মানুষ চেনার ক্ষেত্রে ইসলামের শিক্ষাইসলাম মানুষের চরিত্র বিচারে তাড়াহুড়ো করতে শেখায় না। একটি আচরণ বা একটি ভুল দিয়ে কাউকে চূড়ান্তভাবে বিচার করা ঠিক নয়। বরং তার দীর্ঘদিনের আচরণ, আমানতদারি, কৃতজ্ঞতা, বিপদের সময়ের ভূমিকা এবং অন্যের প্রতি ব্যবহার মিলিয়ে দেখাই বেশি যুক্তিসংগত।অন্যকে বোঝার পাশাপাশি নিজের দিকেও তাকানো প্রয়োজন। আমরা যেমন বিশ্বস্ত ও ভালো মনের মানুষ চাই, নিজেদের মধ্যেও সেই গুণগুলো গড়ে তোলার চেষ্টা করতে হবে।তথ্যসূত্র: সুরা বাকারা: ২৬৪; সুরা নিসা: ৫৪; সুরা ইবরাহিম: ৭, সুরা হুজুরাত: ১২; সহিহ বুখারি: ১৩; সহিহ মুসলিম: ৪৫,
৫ ঘন্টা আগে
উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনায যালিমিন।অর্থ: আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই; আপনি পবিত্র ও মহান। নিশ্চয়ই আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত।যখনই কোনো মুসলিম (দোয়া ইউনুস) মাধ্যমে দোয়া করে, আল্লাহ তাআলা অবশ্যই তার দোয়া কবুল করে থাকেন।' (তিরমিজি, মিশকাত)যে কোনো বালা-মসিবত, বিপদাপদ, দুশ্চিন্তা-পেরেশানি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ইত্যাদি থেকে মুক্তির উদ্দেশ্যে দোয়া ইউনুস পাঠ করা অত্যন্ত কার্যকর আমল। বিপদ-মসিবতে দোয়া ইউনুস পড়ার উপকারিতা অনেক বেশি । বিপদে-মসিবতে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দুশ্চিন্তা-পেরেশানি থেকে মুক্তির উদ্দেশ্যে দোয়া ইউনুস পাঠ করা অনেক কার্যকর আমল। এই দোয়ার গুরুত্ব বোঝাতে আল্লাহ কোরআনে এরশাদ করেছেন—‘আর স্মরণ করুন জুন নুন (মাছ ওয়ালা ইউনুস)-এর কথা। তিনি রাগ করে চলে গিয়েছিলেন। অতঃপর মনে করেছিলেন যে, আমি তাঁকে ধরতে পারব না। অতঃপর তিনি অন্ধকারের মধ্যে (মাছের পেটে থাকা অবস্থায়) এ কথা বলে আহ্বান করলেন- ‘লা ইলাহা ইল্লা আংতা, সুবহানাকা ইন্নি কুংতু মিনাজ জ্বলিমিন।’ অতঃপর আমি তাঁর আহবানে সাড়া দিলাম এবং তাঁকে দুশ্চিন্তামুক্ত করে দিলাম। আমি এভাবে বিশ্ববাসীদেরকে মুক্তি দিয়ে থাকি।’ (সুরা আম্বিয়া: ৮৭)
১ দিন আগে
সৌদি আরবের পবিত্র মদিনার সব মসজিদে নারীদের জন্য পৃথক নামাজের স্থান চালুর অনুমোদন দিয়েছে দেশটির সরকার। এখন থেকে শহরটির মসজিদগুলোতে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের সময় নারীদের জন্য নির্ধারিত স্থান খোলা থাকবে।সৌদি আরবের ইসলামবিষয়ক মন্ত্রী শেখ ড. আবদুল লতিফ আল-শেখ সম্প্রতি এ অনুমোদন দিয়েছেন।নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঐতিহাসিক মসজিদের পাশাপাশি মদিনার বিভিন্ন এলাকার সাধারণ ও বড় মসজিদও এ ব্যবস্থার আওতায় থাকবে। ফলে শহরের বাইরে থাকা বা কর্মজীবী নারীরাও নামাজের সময় মসজিদে গিয়ে নির্ধারিত স্থানে নামাজ আদায় করতে পারবেন।এতদিন মদিনার অনেক মসজিদে নারীদের নামাজের স্থান কেবল জুমা, তারাবিহ ও ঈদের নামাজের সময় অথবা ব্যস্ত মৌসুমে খোলা রাখা হতো। বছরের অন্যান্য সময়ে এসব স্থান বন্ধ থাকত। নতুন অনুমোদনের ফলে এখন থেকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়ই নারীদের জন্য এসব স্থান খোলা রাখার ব্যবস্থা করা হবে।সৌদি কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্তের ফলে মদিনায় কেনাকাটা, চাকরি, ভ্রমণ কিংবা অন্য কোনো কাজে বাইরে থাকা নারীদের নামাজের সময় বাড়িতে ফিরে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। তারা কাছাকাছি মসজিদে নির্ধারিত স্থানে নামাজ আদায় করতে পারবেন।তবে মসজিদে নববী এ সিদ্ধান্তের আওতাভুক্ত নয়। কারণ বিশ্বের অন্যতম পবিত্র এই মসজিদে আগে থেকেই নারীদের জন্য পৃথক নামাজের স্থান নির্ধারিত রয়েছে।নারীদের জন্য নির্ধারিত নামাজের স্থানগুলোর পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় নারী মাঠকর্মীরাও দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি ঐতিহাসিক মসজিদগুলোতে নারীদের নামাজের স্থান ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার জন্য ১১৫ জন নারীকে মসজিদ পরিদর্শক ও নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সূত্র: ইসলামিক ইনফরমেশন
২ দিন আগে
সংসারে শান্তি, স্বস্তি ও কল্যাণ চান সবাই। তবে শুধু অর্থ-সম্পদ বা বাহ্যিক স্বাচ্ছন্দ্যই পারিবারিক সুখের নিশ্চয়তা দেয় না। ইসলামে বরকত বলতে বোঝায়—কোনো নিয়ামতে আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন কল্যাণ ও স্থায়িত্ব আসা, যাতে অল্পের মধ্যেও প্রশান্তি ও উপকার পাওয়া যায়। কোরআন-সুন্নাহর আলোকে কিছু আমল ও জীবনাচরণ পরিবারে বরকত ও শান্তি বয়ে আনতে পারে।১. ইমান ও তাকওয়া অবলম্বনপরিবারে বরকতের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো ইমান ও তাকওয়া। মহান আল্লাহ বলেন—وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْقُرَىٰ آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَفَتَحْنَا عَلَيْهِمْ بَرَكَاتٍ مِّنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِঅর্থ: ‘আর যদি জনপদের অধিবাসীরা ইমান আনত ও তাকওয়া অবলম্বন করত, তবে আমি তাদের জন্য আকাশ ও জমিনের বরকতসমূহ খুলে দিতাম।’—সুরা আল-আরাফ, আয়াত: ৯৬তাই পরিবারে আল্লাহভীতি, ইমানি পরিবেশ ও ইসলামী জীবনচর্চা গড়ে তোলা বরকতের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।২. নামাজ ও কোরআন তিলাওয়াতপরিবারের সদস্যদের নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ে অভ্যস্ত করা এবং ঘরে কোরআন তিলাওয়াতের পরিবেশ তৈরি করা উচিত। বিশেষ করে সুরা বাকারা তিলাওয়াতের ব্যাপারে হাদিসে বিশেষ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা তোমাদের ঘরগুলোকে কবর বানিয়ো না। যে ঘরে সুরা বাকারা পাঠ করা হয়, শয়তান সে ঘর থেকে পালিয়ে যায়।’—সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৭৮০৩. ভোরের সময় কাজে লাগানোদিনের শুরুটা ইবাদত ও ভালো কাজে কাটানো বরকতের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর উম্মতের জন্য ভোরের সময় বরকতের দোয়া করেছেন।সাখর ইবনে গামিদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—اللَّهُمَّ بَارِكْ لِأُمَّتِي فِي بُكُورِهَاঅর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমার উম্মতের ভোরবেলায় বরকত দান করুন।’—সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৬০৬; জামে তিরমিজি, হাদিস: ১২১২তাই অযথা ঘুমিয়ে সময় নষ্ট না করে ফজরের নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত ও প্রয়োজনীয় কাজ দিয়ে দিনের শুরু করা ভালো।৪. হালাল উপার্জন ও সদকাসংসারের বরকতের জন্য উপার্জনের পথ হালাল হওয়া অত্যন্ত জরুরি। হারাম উপার্জন বাহ্যিকভাবে সম্পদ বাড়ালেও তাতে প্রকৃত কল্যাণ থাকে না। অন্যদিকে হালাল উপার্জনের পাশাপাশি নিয়মিত সদকা করা এবং আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা উচিত।মহান আল্লাহ বলেন—لَئِن شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْঅর্থ: ‘তোমরা কৃতজ্ঞ হলে অবশ্যই আমি তোমাদের আরও বাড়িয়ে দেব।’—সুরা ইবরাহিম, আয়াত: ৭৫. ঘরে সালাম ও একসঙ্গে খাবারঘরে প্রবেশের সময় পরিবারের সদস্যদের সালাম দেওয়া ইসলামের সুন্দর শিক্ষা। একইভাবে খাবার শুরু করার সময় ‘বিসমিল্লাহ’ বলা এবং সম্ভব হলে পরিবারের সবাই মিলে খাবার খাওয়ার মধ্যেও বরকত রয়েছে।রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা একসঙ্গে খাবার খাও এবং আল্লাহর নাম উল্লেখ করো, তাহলে তাতে তোমাদের জন্য বরকত দেওয়া হবে।’—সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৭৬৪তাই পরিবারের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে একসঙ্গে খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে।৬. আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখাআত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাও জীবনে বরকতের কারণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—مَنْ أَحَبَّ أَنْ يُبْسَطَ لَهُ فِي رِزْقِهِ وَأَنْ يُنْسَأَ لَهُ فِي أَثَرِهِ فَلْيَصِلْ رَحِمَهُঅর্থ: ‘যে ব্যক্তি চায় তার রিজিক প্রশস্ত করা হোক এবং তার আয়ু দীর্ঘ করা হোক, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।’—সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৯৮৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৫৫৭আত্মীয়ের খোঁজ নেওয়া, বিপদে পাশে দাঁড়ানো এবং সম্পর্ক নষ্ট না করা তাই একজন মুসলমানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।তাই সংসারে বরকত পেতে শুধু বেশি অর্থের পেছনে ছুটলেই হবে না। ইমান ও তাকওয়া, নামাজ-কোরআন, হালাল উপার্জন, সদকা, পারিবারিক সৌহার্দ্য ও আত্মীয়তার সম্পর্ক—এসবের মাধ্যমে ঘরে আল্লাহর রহমত ও কল্যাণের পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব।
৬ দিন আগে