নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৬ দুপুর ০১:২৪:৪৬
আবু সাঈদ হত্যা মামলা: স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার
রংপুরের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে বিচারাধীন আবু সাঈদ হত্যার ঘটনার দুটি মামলার ওপর দেওয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।ফলে ওই দুই মামলার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সিএমএম আদালতের আর কোনো বাধা থাকল না।প্রকাশিত ৮০৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ের শেষ দুই পাতায় এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
তাজহাট থানার এ দুই মামলা সম্পর্কে রায়ে বলা হয়েছে, বিচারকাজ চলাকালে সমান্তরাল কার্যক্রম এবং পরস্পরবিরোধী রায় এড়াতে ২০২৫ সালের ১৬ নভেম্বর 'আদেশ নম্বর ২৯' এর মাধ্যমে ওই মামলা দুটির ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছিল। যেহেতু ট্রাইব্যুনালে বিচার শেষ করে রায় ঘোষণা করা হয়েছে, তাই ওই স্থগিতাদেশ আর প্রয়োজনীয় নয়।
মুখ্য মহানগর হাকিম এখন আইন অনুযায়ী ওই মামলাগুলোর কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবেন।
তবে এক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালের রায়ের প্রযোজ্য ও আইনসম্মত পর্যবেক্ষণ বিবেচনায় রাখতে বলা হয়েছে।
রায়ের একটি অনুলিপি তাৎক্ষণিকভাবে রংপুরের মহানগর দায়রা জজ এবং মুখ্য মহানগর হাকিমের বরাবর পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইয়রেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। এরপর প্রথমে পুলিশ এবং সরকার পতনের পর সাঈদের পরিবার আলাদা দুটি মামলা করেছিল।
স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হওয়া এই দুটি মামলার প্রথমটি ১৬ জুলাই তাজহাট থানায় করেন তৎকালীন এসআই বিভূতি ভূষণ রায়। অজ্ঞাতনামা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের আসামি করে সেখানে দাবি করা হয়েছিল, আন্দোলনকারীদের ইটের আঘাতে ও গুলিতে সাঈদ নিহত হন।
১৯ অগাস্ট তাজহাট থানায় অপর মামলাটি করেন সাঈদের বড় ভাই রমজান আলী। ওই মামলায় তৎকালীন আইজিপি, ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য ড. হাসিবুর রশীদ, প্রক্টর শরিফুল ইসলামসহ ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০-৩৫ জনকে আসামি করা হয়।
পরে নিম্ন আদালতে পুলিশের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আসায় অন্তর্বর্তী সরকার মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেয়। ২০২৫ সালের ২৪ জুন তদন্ত সংস্থা প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর ৬ অগাস্ট অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল-২।
গত ৯ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলার রায়ে ৩০ আসামির সবাইকে দোষী সাব্যস্ত করে।
এর মধ্যে সরাসরি গুলি বর্ষণকারী দুই পুলিশ সদস্য এএসআই (সশস্ত্র) আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তারা দুজনই বর্তমানে কারাগারে আছেন।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন ও এসআই বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধবকে।