সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়, এরপর প্রেমের সম্পর্ক। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আবাসিক হোটেলে নিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন এবং পরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগরের এক শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।গ্রেপ্তার আফতাব মজুমদার এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সংগঠক এবং বন্দর থানা যুবশক্তির আহ্বায়ক। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, গত ১৪ মে দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেনের সই করা এক সাংগঠনিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাকে এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্যও করা হয়।চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও থানায় দায়ের করা ধর্ষণ মামলার এজাহারে ভুক্তভোগী তরুণী উল্লেখ করেছেন, প্রায় তিন মাস আগে ফেসবুকে আফতাব মজুমদারের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরিচয় থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে অভিযুক্ত শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দিলে তিনি বিয়ের আগে তাতে অসম্মতি জানান।এজাহার অনুযায়ী, গত ১৪ জুলাই সকালে আফতাব মজুমদার তাকে মোবাইল ফোনে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে নগরের বন্দর এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে ডেকে নেন। সেখানে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরে বারবার বিয়ের কথা বললেও বিভিন্ন অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং একপর্যায়ে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, পরে ভুক্তভোগী জানতে পারেন আফতাব মজুমদার আগে থেকেই বিবাহিত। এরপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি চান্দগাঁও থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।চান্দগাঁও থানার ডিউটি অফিসার রফিকুল ইসলাম বুধবার (২২ জুলাই) কালবেলাকে বলেন, ‘ধর্ষণ মামলার এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরের নেতা আফতাব মজুমদারকে গতকাল গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি হাজতে আছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।’তবে গ্রেপ্তারের স্থান ও সময় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে জানি না।’প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত প্রায় ৯টার দিকে নগরের হালিশহর বিডিআর মাঠসংলগ্ন একটি দোকান থেকে আফতাব মজুমদারকে গ্রেপ্তার করা হয়।এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্যক্তি জীবনে আফতাব মজুমদারকে ঘিরে এর আগেও একাধিক বিয়ে নিয়ে নানা আলোচনা ছিল। তবে এসব তথ্যের স্বাধীন ও নথিভিত্তিক সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।এ ঘটনায় এনসিপির কেন্দ্রীয় বা চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির কোনো নেতার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
২ দিন আগে
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আলোচিত আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে তাকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। এদিন ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। প্রসিকিউশন জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকার অভিযোগে মোজাফফরের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তাকে বৃহস্পতিবার হাজির করার জন্য নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোসহ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদন করবে প্রসিকিউশন।এর আগে, ২১ জুলাই জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মোজাফফরের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট চেয়ে আবেদন করে প্রসিকিউশন। উল্লেখ্য, প্রায় ৪৫ বছর পলাতক থাকার পর গত ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।এদিকে, চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ফেনীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২১ জুলাই দিন ধার্য ছিল। ওই দিন আরও দুই মাস সময় চেয়েছে প্রসিকিউশন। কিন্তু মোজাফফরের সঙ্গে তার যোগসাজশের অভিযোগ থাকায় নতুন তারিখ দেননি আদালত। এজন্য তাকেও বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
২ দিন আগে
অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্লবী থানায় মামলা হয়েছে। এর মধ্যে এ মামলায় গ্রেপ্তার এক আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (২২ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালত তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আসামি আমিনুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। মামলার আসামিরা হলেন—গাজী নজরুল ইসলাম (৭৪), আমিনুর রহমান (৫৫), মাসুম বিল্লাহ (৪১), মোতাসসিম বিল্লাহ (২৫) ও রাকিবুল হাসান (৩০)। আসামিদের মধ্যে আমিনুর রহমান মামলার বাদী ওবায়দুর রহমানের চাচাতো ভাই।এ দিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পল্লবী জোনাল টিমের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাকিবুল হুদা আসামিকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তবে আসামি পক্ষে কোনো জামিন আবেদন ছিল না।এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, বাদী ওবায়দুর রহমান পল্লবীর কালশী এলাকার ‘রোজ গার্ডেন টাওয়ার’-এ তার বোনের বাসায় বসবাস করতেন। তিনি গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়ির চালক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। আত্মীয়তার সূত্রে নজরুল ইসলাম ওই বাসায় যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে নজরুল ইসলামের সঙ্গে ওবায়দুরের ভাগ্নির অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি টের পেয়ে ওবায়দুর তার পরিবারকে জানান এবং নজরুল ইসলামকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নজরুল ইসলাম তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।বাদীর অভিযোগ, সম্প্রতি মগবাজারের একটি চক্র নজরুল ইসলাম ও তার ভাগ্নির কিছু ‘অপ্রীতিকর ভিডিও’ সংগ্রহ করে নজরুলকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। নজরুল ইসলামের ধারণা হয়, ওবায়দুরই গোপন ভিডিও ধারণ করে সংবাদমাধ্যম ও ওই চক্রের হাতে তুলে দিয়েছেন। এ নিয়ে বিরোধের জেরে গত ১৪ জুলাই নজরুল ইসলামের নির্দেশে অন্য আসামিরা ওবায়দুরের ওপর হামলা চালায়। ওবায়দুর বলেন, ওই দিন বেলা ১১টার দিকে আসামি আমিনুর রহমান তাকে কৌশলে ড্রয়িংরুমে ডেকে নেন। সেখানে অন্য আসামিরা মিলে তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে আমিনুর তাকে ফ্লোরে ফেলে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করেন। ওবায়দুরের মা তাহমিনা ও ছোট বোন মীম এগিয়ে এসে চিৎকার শুরু করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় ওবায়দুর স্থানীয় কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, হামলার পর থেকে আসামিরা তাকে যেখানে পাবে সেখানেই হত্যা করবে বলে হুমকি দিচ্ছে। বর্তমানে তিনি নিরাপত্তার অভাবে আত্মগোপনে রয়েছেন।এদিকে মামলাটি তদন্ত করে আগামী ২৮ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
৩ দিন আগে
নাশততার মামলায় পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের দুই নেতা গোলাম হাসনায়েন রাসেল (৫২) ও বশির আহমেদ (৫২) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।সোমবার (২০ জুলাই) দিবাগত রাতে তাদের ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তারকৃত রাসেল ভাঙ্গুড়া পৌর সদরের সরদারপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও পাবনা-৩ আসনের সাবেক সাংসদ মকবুল হোসেনের পুত্র। তিনি ভাঙ্গুড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ও ভাঙ্গুড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক।আর বশির আহমেদ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক। তিনি ভাঙ্গুড়া পৌর সদরের কুমড়াডাঙ্গা এলাকার মৃত মাওলানা রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে।পাবনা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার ওসি রাশিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার সহযোগিতায় ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশ সোমবার রাতে ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে তাদের দুইজনকে গ্রেপ্তার করে। মঙ্গলবার তাদের ভাঙ্গুড়া থানার একটি নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া থানার ওসি সাকিউল আযম জানান, ২০২৫ সালে ভাঙ্গুড়া উপজেলার অষ্টমনিষা ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণের মামলায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালে ১১ মে গভীর রাতে ভাঙ্গুড়া উপজেলার অষ্টমনিষা ইউনিয়ন বিএনপি অফিসের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরদিন এ ঘটনায় বিএনপি কর্মী ময়ছের আলী বাদি হয়ে বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ১৮ নেতাকর্মীর নামসহ অজ্ঞাত ৪০/৫০ জনকে আসামি করা হয়। এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে তারা পলাতক ছিল।
৪ দিন আগে