নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনা
প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০২৬ রাত ০৮:০১:৫১
পাবনায় আ.লীগ ও ছাত্রলীগের ৩৭ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা
নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের উদ্দেশ্যে গোপন বৈঠক ও নাশকতার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে পাবনায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ৩৭ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।
মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৮০ থেকে ৯০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
রবিবার (১৯ জুলাই) পাবনা সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) পারভেজ আখতার বাদি হয়ে পাবনা সদর থানায় মামলাটি (নং-৩৬) দায়ের করেন।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন, পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম (৩৮), সদ্য বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক মীর রাব্বিউল ইসলাম সীমান্ত (২৭), জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি যুবায়ের বিশ্বাস অন্তু (৩২), সাধারণ সম্পাদক তৌশিকুর রহমান ওরফে রাভা (২৮) সহ মোট ৩৭ জন।
পাবনা সদর থানা সূত্র জানায়, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড, অবৈধ সমাবেশ ও নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত ও অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৬ জুলাই রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে পাবনা পৌর এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শালগাড়িয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে এবং মালিগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী গোপন বৈঠকে মিলিত হন। সেখানে তারা দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত ১২টা ২৫ মিনিটের দিকে সদর হাসপাতাল সড়কের জাকিরের মোড় এলাকায় অভিযান চালায় পাবনা সদর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা তাদের সঙ্গে থাকা দেশীয় অস্ত্র ও ইটের টুকরা ফেলে মোটরসাইকেলযোগে এবং দৌঁড়ে পালিয়ে যান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে একটি চাইনিজ কুড়াল, তিনটি লোহার রড, তিনটি বাঁশের লাঠি ও ২০টি ইটের টুকরা জব্দ করে পুলিশ। স্থানীয় দুই সাক্ষীর উপস্থিতিতে এসব আলামত জব্দ তালিকাভুক্ত করা হয়।
মামলার বিষয়ে অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় ও তাদের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম মামলার বিষয়ট নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।