নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৯ মে ২০২৬ দুপুর ০১:৫৫:২৮
'সরকার পুরোনো ব্যবস্থাই টিকিয়ে রাখতে চায়।'
সংস্কারের বদলে পুরোনো ব্যবস্থাই টিকিয়ে রাখতে চায় সরকার এমন মন্তব্য করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জনগণ কাঠামোগত পরিবর্তনের পক্ষে মত দিয়েছে। কিন্তু ক্ষমতাসীন মহল বেছে বেছে সামান্য কিছু সংশোধনের মাধ্যমে পুরোনো ক্ষমতা কাঠামো টিকিয়ে রাখতে চাইছে। শনিবার (৯ মে) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘সংস্কার, অচলাবস্থা : উত্তরণের পথ’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব কোনো সাধারণ আন্দোলন ছিল না, এটি ছিল একটি ঐতিহাসিক জাতীয় জাগরণ। ছাত্র, শ্রমিক, পেশাজীবী, বুদ্ধিজীবী ও সাধারণ মানুষ এমন একটি কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে একত্রিত হয়েছিল, যে ব্যবস্থা ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করেছিল, প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করেছিল, নির্বাচনকে প্রভাবিত করেছিল এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করেছিল। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ নামমাত্র সংস্কার নয়, বরং কাঠামোগত পরিবর্তন চেয়েছিল। তারা এমন একটি প্রজাতন্ত্র প্রত্যাশা করেছিল, যেখানে ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হবে, দায়মুক্তির পরিবর্তে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত হবে। নাহিদ ইসলাম বলেন, কর্তৃত্ববাদী সরকারের পতনের পর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। সেই সরকারের সামনে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার, দমন-পীড়নের শিকারদের বিচার নিশ্চিত করা এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথ তদারকির দায়িত্ব ছিল। তিনি আরও বলেন, এনসিপি শুরু থেকেই নতুন গণতান্ত্রিক সংবিধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। তাদের মতে, ১৯৭২ সালের সংবিধান সময়ের সঙ্গে এমন এক কাঠামোয় রূপ নিয়েছে, যা নির্বাহী ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ এবং রাষ্ট্রের ওপর একদলীয় আধিপত্যকে শক্তিশালী করেছে। নাহিদের ভাষ্য, রাজনৈতিক দলগুলোর বিরোধিতার কারণে নতুন সংবিধানের প্রস্তাব থেকে সরে আসা হয়। পরে ‘জুলাই সনদ’-এর আওতায় ন্যূনতম কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়। তিনি বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্বাহী হস্তক্ষেপ থেকে রক্ষা এবং আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বভিত্তিক উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠাসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সেই সনদে অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি এই কাঠামোর পক্ষে থাকলেও ক্ষমতায় আসার পর তারা অবস্থান পরিবর্তন করেছে। সরকার এখন সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠন করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।