জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী ও ফ্যাসিস্ট মুক্ত দিবস উপলক্ষে এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে নোয়াখালীর সেনবাগে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।বুধবার বিকেলে সেনবাগ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সেনবাগ উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ইয়াছিন করিম এবং সঞ্চালনা করেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা নুরুল আফসার।সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নোয়াখালী জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা অধ্যক্ষ আইয়্যেদ আহম্মেদ।বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ১১ দলীয় জোটের এনসিপির নোয়াখালী জেলার সহ-যুগ্ম সম্পাদক মামুন হোসেন, সেনবাগ উপজেলা সংগঠক মোজ্জামেল হোসেন রিপাত, উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা নুরুল হুদা মিলন, সেনবাগ পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা ইয়াছিন মিয়াজী, নোয়াখালী জেলা উত্তর ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি দাউদুল ইসলাম, নোয়াখালী জেলা উত্তর ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি ফয়জুল ইসলাম, জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা কেফায়েত উল্লাহ, সেনবাগ উপজেলা ওলামা আইম্মার সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল খায়ের মাওলানা আবু শাকের এবং জুলাই শহীদ শাহাদাত হোসেন শাওনের পিতা আবু বাছের।বক্তারা বলেন, জনগণের ভোটের রায়ের প্রতি সম্মান দেখিয়ে দ্রুত ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন করতে হবে। তারা দাবি করেন, এ বিষয়ে বিলম্ব হলে জনগণ আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের দাবি আদায় করবে।সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিভিন্ন শ্লোগান দেয় এবং পরে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।
৮ ঘন্টা আগে
জুলাই গণঅভ্যুত্থ্যান দিবস অনুষ্ঠানে দাওয়াত না পেয়ে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আয়োজিত ‘আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল’ অনুষ্ঠান পণ্ড করে দিয়েছে ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষের বক্তব্য ছাড়াই দোয়ার মাধ্যমে দ্রুত প্রোগ্রাম শেষ করেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে দশটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কনভেনশন সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।জানা গেছে, পবিত্র কোরআন তেলওয়াতের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থ্যান দিবস উপলক্ষ্যে ‘আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল’ শুরু হয়। এরপর শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন ৪ আগস্ট পাবনায় যুবলীগ-আওয়ামীলীগের গুলিতে শহীদ হওয়া শহীদ মাহবুব হাসান নিলয়ের পিতা আবুল কালাম আজাদ।এরপর ৪ আগস্টে আরেক শহীদ জাহিদুল ইসলামের পিতাকে বক্তব্য রাখার জন্য মঞ্চে ডাকলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মুজাহিদ হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে বাইরে থেকে মিছিল নিয়ে কনভেনশন সেন্টারে প্রবেশ করেন।এরপর অনুষ্ঠানস্থলে দাঁড়িয়ে ‘জিয়ার সৈনিক এক হও লড়াই করো’, ‘পাবিপ্রবি ছাত্রদল জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’, ‘জুলাইয়ের দালালেরা হুশিয়ার সাবধান’, ‘দালালি আর করিস না পিঠের চামড়া থাকবেনা’, ‘আবু সাইদের দালালেরা হুশিয়ার সাবধান’, ‘দিয়েছি তো রক্ত, আরও দেব রক্ত, রক্তের বন্যায় ভেসে যাবে অন্যায়’, ‘আওয়ামী লীগের দালালেরা হুঁশিয়ার, সাবধান’ এবং ‘আহ্বায়ক ভুয়া, ভুয়া’ প্রভৃতি স্লোগান দেন।এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশিদুল হক এবং অনুষ্ঠান আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামানের ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের শান্ত করার চেষ্টা করলে তারা শিক্ষকদের সাথে বাগ্বিতণ্ডায় লিপ্ত হয়।ঘটনার এক পর্যায়ে ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইসিই) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. ইমরান হোসেন তাদেরকে থামার জন্য বললে ছাত্রদল কর্মী নিশানকে ঐ শিক্ষকের দিকে তেড়ে আসতে দেখা যায়। এরপর উপাচার্য মাইক নিয়ে ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের অনুষ্ঠানের পরে আলোচনায় বসার আহ্বান জানালে তারা উপাচার্যকে ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে চিৎকার করে ওঠেন।পরবর্তীতে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত শিক্ষার্থীদের অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেওয়া শুরু করলে ‘স্বাধীনতা হল’ মসজিদের ইমাম মুফতী শাখাওয়াত হোসেন দোয়া পরিচালনা করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি করেন। সংবাদ সংগ্রহকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন সাংবাদিকের সাথে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের দুর্ব্যবহার করতে দেখা যায়।তবে ছাত্রদলের দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এই কর্মসূচিতে জুলাইয়ের ‘স্টেক হোল্ডারদের’ দাওয়াত না দেওয়া এবং অনুষ্ঠানে বিতর্কিত ব্যক্তিদের উপস্থিতি রাখার কারণে তারা কর্মসূচির প্রতিবাদ করেছেন।বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই আন্দোলন একজন জুলাই যোদ্ধার চেতনার প্রতীক। প্রকৃত জুলাই যোদ্ধাদের বাদ দিয়ে জুলাইকে কেন্দ্র করে কোনো আয়োজন আমরা মেনে নিতে পারি না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৫ আগস্ট উপলক্ষে কর্মসূচি আয়োজন করেছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় ও পাবনার যেসব সমন্বয়ক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।’বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মুজাহিদ হোসেন বলেন, ‘জুলাই স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষার্থী আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন বা আহত হয়েছেন, তাদের কাউকেই দাওয়াত দেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় ও পাবনা জেলার সমন্বয়ক মঞ্জুরুল, সহ-সমন্বয়ক রুমেল এবং গুম হওয়া নিশান-কেউ আমন্ত্রণ পাননি। অথচ আওয়ামী লীগের দোসরদের নিয়ে অনুষ্ঠান করা হয়েছে। এ কারণেই আমরা প্রতিবাদ জানিয়েছি।’তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আলোচনা সভার আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘কমিটির পক্ষ থেকে সবাইকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে প্রতিটি বিভাগেও চিঠি পাঠানো হয়েছে। জুলাই যোদ্ধাদের আমন্ত্রণ জানানো না হলে সাকিব, মাসুম কীভাবে অনুষ্ঠানে এল? এমনকি হল ফিস্ট উপলক্ষে রাতের খাবারের জন্যও আমি ব্যক্তিগতভাবে তাদের ফোন করে দাওয়াত দিয়েছি।’
৮ ঘন্টা আগে
টানা তিন দিনের ছুটি পেয়ে শিল্প অধ্যুষিত গাজীপুর ছেড়ে উত্তরাঞ্চলে ফিরছেন লাখো কর্মজীবী মানুষ। একরকম ঈদের আনন্দ, উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে তাদের মাঝে। তবে বাড়তি ভাড়া আর পথের ভোগান্তি পিছু ছাড়ছে না কোনো ক্রমেই। বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড় ও ঢাকা- ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা, মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় ঘরমুখী যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। শিল্প পুলিশ জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষ্যে দুই দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সেই সাথে সাপ্তাহিক বন্ধের দিন শুক্রবার মিলিয়ে টানা তিনদিন ছুটি পেয়েছেন সব শিল্প কারখানার শ্রমিকরা। যার কারণে কর্মজীবী মানুষ ঘরে ফিরছে। উত্তরাঞ্চলের ২৬ জেলার প্রবেশদ্বার চন্দ্রা ত্রিমোড়ে ভোর থেকে কর্মজীবী মানুষের চাপ বাড়তে থাকে। বেলা বাড়লে সড়কে ২ কিলোমিটার অংশে যানজট সৃষ্টি হয়। এ জেলায় বসবাসরত নানা পেশার মানুষ তিন দিনের ছুটিতে পরিবার নিয়ে গ্রামে ফিরছেন।এদিকে এই সুযোগে হঠাৎ পরিবহনের ভাড়াও দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। চন্দ্রা এলাকার বেশ কিছু বাস কাউন্টারে টিকিটের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে অধিক ভাড়া আদায় করছেন কর্তৃপক্ষ। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। অপরদিকে, ঢাকা- ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে যাত্রীদের চাপ রয়েছে। কাঙ্ক্ষিত পরিবহন না পেয়ে অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। বিভিন্ন স্থানে সড়কের জটিলতা থাকায় যানজটও পোহাতে হচ্ছে।
১৪ ঘন্টা আগে
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে গোপালগঞ্জে নিরাপত্তা জোরদার করেছে প্রশাসন। জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি ৫ প্লাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহলও বাড়ানো হয়েছে।বুধবার (৫ আগস্ট) গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।তিনি বলেন, বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ জেলা হিসেবে গোপালগঞ্জে আগেভাগেই প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড়, সরকারি স্থাপনা এবং জনসমাগমস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।তিনি জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদারের পাশাপাশি সার্বক্ষণিক টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে।পুলিশ সুপার আরও বলেন, সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।এদিকে জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান জানান, জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন।তিনি বলেন, ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আগামী ১৫ আগস্ট পর্যন্ত বিজিবি তাদের দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে।
১৫ ঘন্টা আগে