মোঃ জাহাঙ্গীর আলম শায়েস্তানগরী,সেনবাগ প্রতিনিধি:
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৬ সকাল ১১:৩২:৩৯
সেনবাগে শীর্ষে বিজরাগ রাব্বানিয়া আলিম মাদ্রাসা
নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে প্রতিষ্ঠানভেদে ব্যাপক পার্থক্য দেখা গেছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের প্রকাশিত ফলাফল বিবরণী অনুযায়ী, দাখিল ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পাসের হারে শীর্ষ তিন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে তিনটি মাদ্রাসা।
একই সঙ্গে সর্বনিম্ন পাসের হারও পাওয়া গেছে একটি মাদ্রাসায়।
প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, পাসের হারের ভিত্তিতে সেনবাগ উপজেলায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে বিজবাগ রাব্বানিয়া আলিম মাদ্রাসা। প্রতিষ্ঠানটির মোট ৫৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭৩ দশমিক ২১ শতাংশ। তবে প্রতিষ্ঠানটি থেকে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মাইজদিপুর আশরাফুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা। প্রতিষ্ঠানটির ৪২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩০ জন পাস করেছে। পাসের হার ৭১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এখানেও জিপিএ-৫ অর্জনকারী নেই।
তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বসন্তপুর ঈদগাহ দাখিল মাদ্রাসা। প্রতিষ্ঠানটির ৪০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
এরপর রয়েছে ছাতারপাইয়া ইসলামিয়া কারামতিয়া দাখিল মাদ্রাসা, যেখানে ৬৫ জনের মধ্যে ৪৩ জন পাস করে পাসের হার ৬৬ দশমিক ১৫ শতাংশ। চিলাদি বালিকা আলিম মাদ্রাসায় ৪০ জনের মধ্যে ২৬ জন পাস করে পাসের হার ৬৫ শতাংশ এবং তাহিরপুর তামিরুল উলুম আলিম মাদ্রাসায় ৫৮ জনের মধ্যে ৩৮ জন পাস করে পাসের হার ৬৫ দশমিক ৫২ শতাংশ।
সর্বনিম্ন পাসের হার কানিকরহাট ফাজিল মাদ্রাসায়
ফলাফল বিবরণী অনুযায়ী, উপজেলার মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার কানিকরহাট ফাজিল মাদ্রাসায়। প্রতিষ্ঠানটির মোট ৬৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ১৪ দশমিক ২৯ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি।
এর পরের দিকে রয়েছে কাদরা বালিকা দাখিল মাদ্রাসা। ১৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩ জন পাস করে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ১৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ।
প্রাপ্ত সরকারি ফলাফল বিবরণী অনুযায়ী, মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান থেকে ১ জন করে শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর মধ্যে সেনবাগ ফাজিল মাদ্রাসা, ছমির মুন্সির হাট দাখিল মাদ্রাসা, কুতুবেরহাট দাখিল মাদ্রাসা, বসন্তপুর ঈদগাহ দাখিল মাদ্রাসা এবং চিলাদি বালিকা আলিম মাদ্রাসা রয়েছে।
অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে চাঁদপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও মোহাম্মদ আবদুল আলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১ জন করে জিপিএ-৫ পাওয়ার তথ্য রয়েছে।
উপজেলায় শীর্ষ তিন প্রতিষ্ঠান
১ম — বিজবাগ রাব্বানিয়া আলিম মাদ্রাসা
মোট পরীক্ষার্থী: ৫৬ জন | পাস: ৪১ জন | পাসের হার: ৭৩.২১% | জিপিএ-৫: ০
২য় — মাইজদিপুর আশরাফুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা
মোট পরীক্ষার্থী: ৪২ জন | পাস: ৩০ জন | পাসের হার: ৭১.৪৩% | জিপিএ-৫: ০
৩য় — বসন্তপুর ঈদগাহ দাখিল মাদ্রাসা
মোট পরীক্ষার্থী: ৪০ জন | পাস: ২৭ জন | পাসের হার: ৬৭.৫০% | জিপিএ-৫: ১ জন
সামগ্রিক ফলাফলে দেখা যায়, পাসের হারে শীর্ষে থাকা তিন প্রতিষ্ঠানই মাদ্রাসা। তবে জিপিএ-৫ অর্জনের দিক থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফল তুলনামূলকভাবে সীমিত। অন্যদিকে সর্বনিম্ন পাসের হার পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের ফলাফল উন্নয়নে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।