আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০২৬ রাত ০৮:০৮:১৫
যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম
যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে আবারও বড় ধরনের পটপরিবর্তন হয়েছে। মাত্র দুই বছর আগে লেবার পার্টিকে বড় জয় এনে দেওয়া কিয়ার স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন দলের নতুন নেতা অ্যান্ডি বার্নহাম।
সোমবার (২০ জুলাই) বাকিংহাম প্যালেসে রাজা তৃতীয় চার্লসের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে সরকার গঠন করেছেন তিনি। এর মাধ্যমে গত এক দশকের মধ্যে দেশটির সপ্তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিলেন বার্নহাম।
যুক্তরাজ্যের সংসদীয় নিয়মে ভোটাররা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন না করে দলকে ভোট দেয় বলে জাতীয় নির্বাচন ছাড়াই লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ায় এই নেতৃত্ব পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে।
দায়িত্ব নেওয়ার পর ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে দেওয়া নিজের প্রথম ভাষণে অ্যান্ডি বার্নহাম স্বীকার করেন, ঘন ঘন প্রধানমন্ত্রী বদলের ফলে বিশ্বমঞ্চে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্রিটেনের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং দেশের রাজনীতিকে পুনর্গঠন করাই এখন তার মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
‘কিং অব দ্য নর্থ’ খ্যাত গ্রেটার ম্যানচেস্টারের এই সাবেক মেয়র ও অভিজ্ঞ ক্যাবিনেট মন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরেই লন্ডনের বাইরে আঞ্চলিক ক্ষমতা ও বিনিয়োগ ছড়িয়ে দেওয়ার পক্ষে লড়াই করছেন। দায়িত্ব নিয়েই তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নাগালের মধ্যে আনা হবে।
তবে ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই বার্নহামকে বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখা তার অন্যতম বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে, কারণ ট্রাম্প ইতোমধ্যে তাকে ‘চরম উদারপন্থী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরে কট্টর ডানপন্থী দল ‘রিফর্ম ইউকে’ এবং বামপন্থী ‘গ্রিন পার্টি’র ক্রমবর্ধমান উত্থানের মুখে লেবার পার্টির জনপ্রিয়তা ধরে রাখাও তার জন্য বেশ কঠিন হবে। গত পাঁচ বছরে চারজন প্রধানমন্ত্রীর ‘নতুন শুরুর’ প্রতিশ্রুতি শুনে ক্লান্ত ব্রিটিশ ভোটারদের এখন এটাই বিশ্বাস করানো বার্নহামের প্রথম কাজ যে তিনি কেবল জনগণের জীবনযাত্রার মানই উন্নত করবেন না, বরং পূর্বসূরিদের চেয়ে বেশিদিন ডাউনিং স্ট্রিটে টিকে থাকবেন।