ঢাকা টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ : ১ মে ২০২৬ সকাল ১১:৩২:০৪
ইরান যুদ্ধ ‘শেষ’, জানালো ট্রাম্প প্রশাসন
ইরান যুদ্ধ এরই মধ্যে ‘শেষ হয়ে গেছে’ বলে দাবি করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। তাদের যুক্তি, গত এপ্রিলের শুরুতে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির ফলে সংঘাতের সমাপ্তি ঘটেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধের এই অভিনব ব্যাখ্যা দিয়ে আসলে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা এড়াতে চাইছে হোয়াইট হাউজ। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) মার্কিন সিনেটে শুনানির সময় একই ধরনের যুক্তি তুলে ধরেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে মূলত যুদ্ধের অবসান ঘটেছে। এই যুক্তিতে প্রশাসন দাবি করছে, ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজ্যুলেশন’ অনুযায়ী ৬০ দিনের বেশি সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য কংগ্রেসের যে আনুষ্ঠানিক অনুমতির প্রয়োজন ছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার আর দরকার নেই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘আইনের ভাষায় বলতে গেলে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যে শত্রুতা শুরু হয়েছিল তার অবসান ঘটেছে।’ তিনি জানান, ৭ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর থেকে মার্কিন বাহিনী ও ইরানের মধ্যে আর কোনো পালটাপালটি গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেনি।
আইনি মারপ্যাঁচে হোয়াইট হাউজ।
যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৩ সালের আইন অনুযায়ী, কোনো দেশে সামরিক অভিযান শুরুর ৬০ দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে অথবা লড়াই বন্ধ করতে হবে। শুক্রবার (১ মে) হচ্ছে ট্রাম্পের সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার দিন। কিন্তু তার প্রশাসন দাবি করছে, যেহেতু যুদ্ধবিরতি চলছে, তাই যুদ্ধের সেই ‘ঘড়ি’ এখন বন্ধ।
বিরোধীদের ক্ষোভ
ট্রাম্প প্রশাসনের এই ব্যাখ্যাকে ‘নজিরবিহীন’ ও ‘বেআইনি’ বলে অভিহিত করেছেন অনেক ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা। মেইন অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স বলেন, ‘কংগ্রেসের অনুমোদনের সময়সীমা কোনো পরামর্শ নয়, এটি একটি আইনি বাধ্যবাধকতা ইরানের বিরুদ্ধে যে কোনো সামরিক অভিযানের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও কৌশল থাকতে হবে।’সিনেটর টিম কেইন বলেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী যে যুক্তি দিয়েছেন, তার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। ব্রেনান সেন্টারের বিশেষজ্ঞ ক্যাথরিন ইয়ান এব্রাইটও এই যুক্তির কড়া সমালোচনা করে বলেন, ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজোল্যুশনের কোথাও এমন কথা বলা নেই যে যুদ্ধবিরতি চলাকালীন ৬০ দিনের সেই সময়সীমা স্থগিত রাখা যাবে।’
নতুন অভিযানের ছক?
এদিকে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সাবেক কর্মকর্তা রিচার্ড গোল্ডবার্গ ট্রাম্প প্রশাসনকে পরামর্শ দিয়েছেন, এই সংকট কাটাতে নতুন নামে অভিযান চালাতে। তিনি নতুন অভিযানের নাম প্রস্তাব করেছেন ‘অপারেশন এপিক প্যাসেজ’, যা হবে সরাসরি ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র দ্বিতীয় পর্ব। গোল্ডবার্গের মতে, একে একটি ‘আত্মরক্ষামূলক মিশন’ হিসেবে চালিয়ে নিলে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই হরমুজ প্রণালিতে অভিযান অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে।
সূত্র : এপি