এম হাফিজ:
প্রকাশ : ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ০৯:২০:১০
১৮ বছরের পথচলা চার বন্ধুর সাফল্যের গল্প
বন্ধুত্ব শুধু স্মৃতিচারণ বা আড্ডায় থাকার বিষয় নয়, সত্যিকারের বন্ধুত্ব চাইলে হয়ে উঠতে পারে একটি প্রতিষ্ঠানের ভিত্তি, একটি স্বপ্নের ঠিকানা। এমনই এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত গড়েছেন চার বন্ধু। প্রায় দুই দশকের বন্ধুত্বকে তারা রূপ দিয়েছেন একটি সফল ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে।
একই স্বপ্ন নিয়ে শুরু হয় চার বন্ধুর পথচলা, তারপর প্রস্তুতি নিতে গিয়ে একজন আরেকজনকে উৎসাহ প্রদান। অবশেষে চারনই যখন সফল হন, তখন যেন মনে হয়, তাদেরকে আর থামাবে কে? স্কুলজীবনের হাসি-কান্না, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক আয়োজন, পরীক্ষা আর অসংখ্য স্মৃতি ভাগাভাগি করতে করতেই গড়ে ওঠেছিল তাদের গভীর বন্ধন।
সময়ের সঙ্গে উচ্চশিক্ষা শেষ করে তারা ভিন্ন ভিন্ন পেশায় প্রতিষ্ঠিত হন। কেউ IT কোম্পানিতে, কেউ টেলিভিশনে, আবার কেউ যুক্ত হন অন্য পেশায়। একসময় তারা অনুভব করেন কর্মব্যস্ততার কারণে একসঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ কমে আসছে। তখনই তারা ভাবেন, এমন একটি উদ্যোগ নেওয়া যায়, যেখানে ব্যবসার পাশাপাশি বন্ধুত্বও অটুট থাকবে।
চার বন্ধুর অন্যতম একজন ইমাম হোসাইন তার ফেজবুক পেজে তুলে ধরেন তাদের সাফল্যের গল্প-(হুবহ)
-হাসির গল্প, চ্যালেঞ্জের গল্প, অনিশ্চয়তার গল্প, আবার ভীষণ উচ্ছ্বাসেরও গল্প। গল্পের শুরু ২০০৮ সালে। সবে মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে যশোরে গিয়েছি। একদম তরুণ, স্বপ্ন আর উত্তেজনায় ঠাসা একটা বয়স। সেখানেই আমরা হয়েছিলাম রুমমেট।
তখন থেকেই আমাদের মধ্যে কিছু একটা করার তাড়না ছিল। আটপৌরে জীবনের পরিচিত গণ্ডির বাইরে গিয়ে নিজেদের মতো করে কিছু করার ইচ্ছা ছিল।
জীবন অবশ্য আমাদের প্রত্যেককে আলাদা আলাদা পথে নিয়ে গেছে।
আমি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করেও দেশের সবচেয়ে বড় RMG সেক্টরে না গিয়ে এজেন্সি, টেলিভিশন আর শিক্ষা নিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করি।
২০১০ সালের দিকে আমরা প্রতি মাসে ৫০০ টাকা করে সেভ করতাম। টাকাটা খুবই সামান্য ছিল। কিন্তু উদ্দেশ্যটা বড় ছিল। একদিন আমরা কিছু একটা করব।
যশোরের জীবন শেষ করে ২০১২ সালে আমরা ঢাকায় এলাম। এরপর যে যার পড়াশোনা, ক্যারিয়ার আর স্কিল ডেভেলপমেন্ট নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। তারপর ২০১৯।
কোরিয়ায় থেকেই সোহান প্রতিষ্ঠা করল MOS Design & Manufacture শুরুটা হয়েছিল পল্টনের ছোট্ট একটা অফিস থেকে।
তখন রাসেল দেশের একটি স্বনামধন্য IT কোম্পানিতে কাজ করছে, রিফাত একটি এজেন্সিতে মার্কেট লিড করছে, আর আমি দীপ্ত টেলিভিশনের প্রোগ্রাম ডিপার্টমেন্টে।এরপর ধীরে ধীরে MOS বড় হতে শুরু করল।
পল্টনের পর দয়াগঞ্জে কার্যক্রম বাড়ল। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে তৈরি হলো ফ্যাক্টরি সেটআপ। আর সোহানের হাত ধরে আমরা তিন বন্ধুও একসময় আবার এক জায়গায় এসে দাঁড়ালাম MOS Design & Manufacture-এ।
আজ সোহান প্রতিষ্ঠানটির MD হিসেবে, রাসেল CEO হিসেবে, রিফাত COO হিসেবে এবং আমি CMO হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।
লিখে ফেলতে কয়েকটা লাইনই যথেষ্ট।
কিন্তু এই কয়েকটা লাইনের পেছনের পথটা মোটেও এত সহজ ছিল না। এখানে আছে অগণিত রাত জাগার গল্প। আছে ভুল সিদ্ধান্ত, ব্যর্থতা, আবার উঠে দাঁড়ানো। আছে দমবন্ধ করা টানটান সময়। আছে ছোট ছোট অর্জনের অসম্ভব আনন্দ। আর আছে চার বন্ধুর একে অপরের ওপর দীর্ঘদিনের বিশ্বাস।
আজ আমাদের বনানীতে Corporate Office, দয়াগঞ্জে Head Office, পল্টনে Branch Office এবং দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে Factory।
২০০৮ → ২০২৬। দেখতে দেখতে ১৮ বছর।
একসময় আমরা চার বন্ধু মাসে ৫০০ টাকা করে জমাতাম “একদিন কিছু একটা করব” এই আশায়। আজও সেই “কিছু একটা করার” তাড়নাটা শেষ হয়নি। বরং মনে হচ্ছে, এতদিন আমরা যে পথটা তৈরি করেছি সেটা ছিল আরও বড় একটা যাত্রার প্রস্তুতি।