নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৬ দুপুর ১২:৫১:২১
তৃষ্ণায় ছটফট করলেও ছাত্রদল নেতাকে একফোঁটাও পানি দেয়নি খুনিরা!
বগুড়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে সাবেক এক ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে সদর উপজেলার চালিতাবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আতিকুর রহমান সাগর মন্ডল (২৬) সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের পাঁচবারিয়া গ্রামের শাহাদাত মন্ডলের ছেলে ও ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ছিলেন।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের পর স্ত্রী মারজিয়া খাতুনকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি চালিতাবাড়ি এলাকায় বসবাস করতেন সাগর মণ্ডল। বুধবার রাতে পরিবারের সদস্যরা ঘরে খাবার খাচ্ছিলেন। এ সময় সাগর বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
হঠাৎ বাইরে হইচই শুনে তার স্ত্রী মারজিয়া খাতুন ঘর থেকে বের হন। তখন সাগরের চাচাতো ভাই জুলহাসসহ ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল টিনের গেট ভেঙে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে সাগরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে।
একপর্যায়ে সাগর দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে রাস্তায় পড়ে যান। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্ত্রী মারজিয়া খাতুন বলেন, স্বামীকে বাঁচাতে আমি চিৎকার শুরু করলে দুর্বৃত্তরা আমাকেও হুমকি দেয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় সাগরকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময়ও দুর্বৃত্তরা মানিকচকের শাওনের বাড়ির দিকে আমাদের পিছু নেয় এবং ভয়ভীতি দেখায়। পরে প্রতিবেশীর বাড়ির গলি থেকে সাগরকে উদ্ধার করা হলেও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের মা সাজেদা বেগম বলেন, আমার ছেলেকে খুব নির্মমভাবে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। আহত অবস্থায় আমার ছেলে পানির জন্য ছটফট করলেও খুনিরা তাকে একফোঁটা পানিও দেয়নি। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার ছেলে হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ বিষয়ে বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম গণমাধ্যমকে বলেন, রাতেই ঘটনাটি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ব শত্রুতার জেরে সাগর মন্ডলকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শাপলা নামে এক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নিহত সাগর মন্ডলের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা রয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ।