নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দুপুর ১২:১৯:১১
বিএনপিকে নিয়ে রুমিন ফারহানার বক্তব্যে সংসদে হট্টগোল,গালাগালির অভিযোগ
বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার দেওয়া বক্তব্যে জাতীয় সংসদে ব্যাপক হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। তার বক্তব্যের প্রতিবাদে সরকারি দলের সদস্যরা হইচই-হট্টগোল শুরু করেন। হঠাৎ করেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সংসদ। এসময় রুমিন ফারহানাকে গালি দেওয়া হয়েছে অভিযোগ করে বিরোধী দলের কয়েকজন সদস্যও হইচই শুরু করে প্রতিবাদ জানান।
বুধবার ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল পাসের আলোচনায় এই ঘটনা ঘটে।
বিলের আলোচনায় রুমিন ফারহানা বলেন, ‘প্রত্যেক সরকারের একটি চরিত্র থাকে। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর গ্যাস বিদ্যুৎ সংকট হবে না, এটা হতে পারে না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আবার সারের সংকট হবে না, গরীব কৃষক সার কারখানায় গিয়ে সেটা লুট করবেন না সেটাও হতে পারে না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর দুর্নীতিতে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হবে না সেটাও হওয়া সম্ভব না’।
এসময় বিএনপির সংসদ সদস্যরা হইচই শুরু করেন। হট্টগোলের মধ্যেই রুমিন বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর বাংলাদেশ প্রথমবারের মত ঋণ খেলাপিতে সর্বোচ্চ স্থান অর্জন করবে না সেইটাও হতে পারে না।’
বিএনপির সংসদ সদস্যদের হট্টগোল নিয়ে রুমিন এসময় বলেন, ‘এত অসহিষ্ণু! মনে হয় যেন এবারে আওয়ামী লীগের আমলে ফিরে গেছি আমরা। আওয়ামী লীগকে যখন বলতাম তখন তারাও হট্টগোল করতো। এখন বিএনপি একই ধরনের আচরণ করছে। আরো খারাপ আচরণ।’
ব্যাংক রেজল্যুশন আইনে বিএনপি সরকার ১৮(ক) ধারা যোগ করেছিল। যা খেলাপি ঋণে ধ্বংসের মুখে থাকা পাঁচটি ব্যাংকে পুরনো মালিকদের ফেরার পথ তৈরি করেছিল। বিরোধী দলসহ নানা মহলের সমালোচনার পর সরকার এই ধারাটি বাদ দিতে বুধবার সংসদে বিল পাস করায়।
এ বিষয়ে রুমিন বলেন, ‘এই সংসদে বেশিরভাগ সংসদ সদস্য ঋণ খেলাপি হিসেবে পরিচিত। নির্বাচনের আগে নামটা কাটানোর জন্য হাইকোর্টে গিয়ে রিট করা, এগুলা আমাদের পুরানো সংস্কৃতি। এগুলা বহু দেখছি।’
নির্ধারিত সময় শেষ হলে মাইক বন্ধ হয়ে যায়। তবে সংসদে হট্টগোল চলতে থাকে। রুমিনও মাইক ছাড়া কথা বলতে থাকেন। এসময় সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের কেউ কেউ রুমিনের উদ্দেশ্য অশালীন শব্দ ব্যববহার করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে।
রুমিন বক্তব্য দিতে চাইলে ডেপুটি স্পিকার তাকে বসতে বলেন। এসময় রুমিন ফারহানা ও এনসিপির হান্নান মাসউদকে দাঁড়িয়ে কিছু বলতে দেখা যায়। হান্নান মাইক ছাড়াই বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্যকে এভাবে গালি দেওয়া যায় না।’ এ সময় তিনি বিরোধী দলের অন্য সদস্যদের প্রতিবাদ করতে অনুরোধ জানান।
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান নেতা বলেন, ‘আজকে উনি (রুমিন) কী বললেন আমরা তো একেবারেই বুঝতে পারলাম না। উনি কি গালি দিলেন না দোয়া দিলেন কিছুই বুঝলাম না। এখন আসলেই কি তিনি বক্তব্য রাখতে পারলেন? সংসদ সদস্য হিসেবে যে অধিকার ছিল, তা কি এস্টাবলিশ হয়েছে?’।
চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, স্বাস্থ্যকর আলোচনা হোক। তখন ডেপুটি স্পিকার বলেন, একজন সদস্য কথা বলতে পারবেন, অসংসদীয় হলে তা এক্সপাঞ্জ করা হবে। বাধাপ্রাপ্ত করা ঠিক না। চিফ হুইপের দায়িত্ব বৈঠকে শৃঙ্খলা রাখা।
বিলের আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বিষয় কী সেটাই বুঝতে পারছি না। আমি কী বললাম, আলোচনা কী হলো?’।