ঢাকা টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ : ২২ জুন ২০২৬ দুপুর ০১:১৬:৩২
অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা যেভাবে দুর্বল করে আল্লাহভীতি
মানুষের শরীরের ছোট একটি অঙ্গ জিহ্বা। কিন্তু এর প্রভাব অত্যন্ত গভীর। একটি ভালো কথা মানুষকে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাতের পথে এগিয়ে দিতে পারে, আবার একটি অসতর্ক বাক্য তাকে গুনাহ ও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে পারে। এ কারণেই ইসলাম কথাবার্তার ক্ষেত্রে সংযম ও সতর্কতার শিক্ষা দিয়েছে। বিশেষত অপ্রয়োজনীয় ও অর্থহীন কথা থেকে বিরত থাকার প্রতি জোর দেওয়া হয়েছে। কারণ অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা ধীরে ধীরে হৃদয়ের কোমলতা নষ্ট করে দেয়। আর হৃদয় কঠিন হয়ে গেলে আল্লাহভীতি, আত্মসমালোচনা ও জবাবদিহিতার অনুভূতি দুর্বল হয়ে পড়ে।
বেশি কথা হৃদয়কে কঠিন করে
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘আল্লাহর জিকির ছাড়া বেশি কথা বলো না। কারণ আল্লাহর জিকির ছাড়া বেশি কথা বলা হৃদয়কে কঠিন করে দেয়। আর আল্লাহ থেকে সবচেয়ে দূরের মানুষ হলো কঠিন হৃদয়ের মানুষ।’ (জামে তিরমিজি: ২৪১১)
এই হাদিসে অপ্রয়োজনীয় কথার অন্যতম বড় ক্ষতির কথা বলা হয়েছে। মানুষের হৃদয় যখন কঠিন হয়ে যায়, তখন কোরআনের উপদেশ, মৃত্যুর স্মরণ কিংবা মৃত্যুর পরের চিন্তা তার ওপর আগের মতো প্রভাব ফেলে না। ফলে আল্লাহর ভয়, আত্মসমালোচনা এবং আখেরাতের জবাবদিহিতার অনুভূতি ক্রমেই ম্লান হতে থাকে।
মুমিনের পরিচয় অনর্থক কথা বর্জন
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা সফল মুমিনদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, ‘নিশ্চয়ই মুমিনরা সফল হয়েছে... যারা অনর্থক কথাকর্ম থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখে।’ (সুরা মুমিনুন: ১-৩)
তাফসিরবিদদের মতে, ‘লাগও’ বা অনর্থক কথার মধ্যে এমন সব কথা অন্তর্ভুক্ত, যা দুনিয়া বা আখেরাতের কোনো উপকারে আসে না। একজন মুমিন নিজের সময় ও জিহ্বাকে এসব থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করে।