মাত্র ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের ভারী বৃষ্টি। তাতেই আবারও জলমগ্ন হয়ে পড়ল বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা। কোথাও হাঁটু, কোথাওবা কোমর সমান পানিতে তলিয়ে গেছে নগরীর প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি। ছুটির দিনেও জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া মানুষ এবং খেটে খাওয়া শ্রমজীবীদের পড়তে হয়েছে চরম ভোগান্তিতে।বছরের পর বছর কোটি কোটি টাকার প্রকল্প চললেও সামান্য বৃষ্টিতে নগরী ডুবে যাওয়ার এই স্থায়ী রূপ দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ।শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল সাড়ে আটটার দিকে চট্টগ্রামে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। প্রায় ৪০ মিনিট স্থায়ী এই বৃষ্টিতেই নগরীর চকবাজার, কাতালগঞ্জসহ আশপাশের নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়।এসব এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সকালের মাত্র আধা ঘণ্টার বৃষ্টিতেই চকবাজার ও কাতালগঞ্জ এলাকার সড়কগুলো দ্রুত পানিতে তলিয়ে যায়। কোথাও কোথাও হাঁটু সমান পানি জমে যাওয়ায় যানবাহনগুলো মাঝপথেই আটকে যাচ্ছে। ফলে জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া সাধারণ মানুষের গন্তব্যে পৌঁছাতে যেমন দীর্ঘ সময় ব্যয় হচ্ছে, তেমনি চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে রাস্তায় জমে থাকা হাঁটু সমান পানি মাড়িয়েই পথচারীদের কষ্ট করে নিজ নিজ গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।কাতালগঞ্জের বাসিন্দা হুমায়ুন কবির বলেন, 'বহু বছর ধরে আমরা একটু বৃষ্টি হলেই পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছি। একের পর এক মেগা প্রকল্প আসে, কিন্তু আমাদের কষ্টের কোনো শেষ নেই। আধা ঘণ্টার বৃষ্টিতে যদি এই অবস্থা হয়, সামনের দিনগুলোতে কী হবে?'ভোগান্তিতে পড়া রিকশাচালক মো. জলিল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বহুদিন ধরে আমরা এ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। ছুটির দিন হলেও আমাদের তো আয়ের আশায় বের হতে হবে। কিন্তু রাস্তায় পানি উঠে যাওয়ায় রিকশা চালানো যাচ্ছে না। আমাদের এই কষ্ট দেখার কেউ নেই।”বেসরকারি চাকুরিজীবী তানিয়া সুলতানা বলেন, ‘রাস্তায় এত পানি জমবে বুঝতে পারিনি। কোনো যানবাহন মিলছে না, বাধ্য হয়ে নোংরা পানি মাড়িয়েই হাঁটতে হচ্ছে। জলাবদ্ধতার অজুহাতে যানবাহনেও ভাড়া দাবি করছে দ্বিগুণ। চট্টগ্রাম কি কখনো জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে না?’তবে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার জন্য চিরচেনা এলাকা প্রবর্তক মোড়ে অবশ্য এবার কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। মেগা প্রকল্পের আওতায় সেখানকার হিজড়া খালের মুখে বাঁধ দিয়ে চলমান কাজের সুবাদে প্রবর্তক মোড়ে আগের মতো পানি জমেনি। তবে প্রবর্তক মোড় রক্ষা পেলেও এর আশপাশের নিচু এলাকা ও সংযোগ সড়কগুলো ঠিকই পানিতে ডুবে ছিল। ফলে সামগ্রিক ভোগান্তি খুব একটা কমেনি।
১ দিন আগে
চট্টগ্রামে পাঁচ বছরের শিশু আয়াতকে হত্যার পর মরদেহ ছয় টুকরো করার মামলায় আসামি আবীর আলীকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (১৭ জুন) চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস এ রায় ঘোষণা করেন।রায় ঘোষণার সময় আসামি আবীর আলী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। গত শনিবার চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাসের আদালতে এ মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয়। এ মামলায় ৩৩ জন সাক্ষ্য দেন।২০২২ সালের ১৪ নভেম্বর চট্টগ্রাম মহানগরীর ইপিজেড থানার নয়ারহাট এলাকায় ঘরের পাশে মসজিদে আরবি পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছিল আয়াত। পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে মুক্তিপণের জন্য শিশু আয়াতকে অপহরণ করেন প্রতিবেশী আবীর। কিন্তু কোথাও রাখার জায়গা না পেয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ছয় টুকরো করে সাগরে ভাসিয়ে দেন।পরে ৩০ নভেম্বর আউটার রিং রোডের আকমল আলী ঘাট সংলগ্ন স্লুইচ গেটের এক গর্ত থেকে আয়াতের দুই পা এবং পরদিন খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
৩ দিন আগে
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় মা ও মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি রিমন বড়ুয়া প্রকাশ তেজু বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।রোববার (১৪ জুন) রাতে পটিয়া থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিল্পাঞ্চল ও ডিবি) মো. রাসেল বলেন, আনোয়ারা থানার চেনামতি এলাকায় সংঘটিত মা-মেয়ে হত্যা মামলার আসামি রিমন বড়ুয়া প্রকাশ তেজু বড়ুয়াকে রোববার রাতে পটিয়া থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আজ বেলা সাড়ে ১১টার সময় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে।এর আগে, গত ১৩ জুন রাত সাড়ে ১১টার দিকে আনোয়ারা উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চেনামতি বড়ুয়া পাড়া এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন একই এলাকার সুজন বড়ুয়ার স্ত্রী এনি বড়ুয়া (৪০) এবং তাদের মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬)। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয় তাদের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে পিয়াস বড়ুয়া, সে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।নিহত এনি বড়ুয়ার স্বামী সুজন বড়ুয়া দাবি করেছিলেন, প্রতিবেশী রিমন বড়ুয়া প্রকাশ তেজু বড়ুয়ার সঙ্গে আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধ ছিল। ওই লেনদেনসংক্রান্ত কাগজপত্রের খোঁজে এসে হামলার ঘটনা ঘটানো হতে পারে বলে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। মৃত্যুর আগে তার স্ত্রীও তেজু বড়ুয়ার নাম উল্লেখ করেছিলেন।পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
৫ দিন আগে
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় পারিবারিক ও আর্থিক বিরোধের জেরে বসতঘরে ঢুকে এক গৃহবধূ ও তার স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে ছুরিকাঘাতে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় পিয়াস বড়ুয়া নামে এক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে।শনিবার (১৩ জুন) রাত ১১টার দিকে উপজেলার পারৈকোড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চেইনামতি গ্রামে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।নিহতরা হলেন, স্থানীয় সুজন বড়ুয়ার স্ত্রী এনি বড়ুয়া (৪০) ও তার মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬)। প্রিয়ন্তী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ঘাতক তেজপ্রিয় বড়ুয়া নিহত এনি বড়ুয়ার স্বামীর চাচাতো ভাই।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে সুজন বড়ুয়ার পরিবারের সঙ্গে তার চাচাতো ভাই তেজপ্রিয় বড়ুয়ার অর্থ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে পারিবারিক বিরোধ ও কোন্দল চলছিল। এর জের ধরে শনিবার রাতে সুজন বড়ুয়ার অনুপস্থিতিতে তার বসতঘরে প্রবেশ করেন তেজপ্রিয়। এরপর তিনি ধারালো ছুরি দিয়ে পরিবারের সদস্যদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালিয়ে পালিয়ে যান। ঘর থেকে আসা চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই এনি বড়ুয়া ও প্রিয়ন্তী বড়ুয়ার মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশু পিয়াস বড়ুয়াকে উদ্ধার করে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।নিহত এনি বড়ুয়ার স্বামী সুজন বড়ুয়া বলেন, ব্যবসায়িক কাজে আমি শহরে ছিলাম। রাত সাড়ে ৯টার দিকেও স্ত্রীর সঙ্গে আমার স্বাভাবিক কথা হয়েছে। রাত ১১টার দিকে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে আমি দ্রুত বাড়িতে আসি। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, আমার স্ত্রীর চিৎকার শুনে তারা এগিয়ে এলে হামলাকারী তেজপ্রিয় পালিয়ে যান। রক্তাক্ত অবস্থায় আমার স্ত্রী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার আগে জানিয়ে গেছে, তেজপ্রিয় বড়ুয়াই তাদের ওপর ধারালো ছুরি দিয়ে হামলা করেছে।আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। রোববার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ দুটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
৬ দিন আগে