চুল ঝরে পড়ার সমস্যা কমবেশি অনেকেরই রয়েছে। ব্যস্ত জীবনযাপন, দূষণ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও মানসিক চাপের কারণে এ সমস্যা আরও বাড়তে পারে। চুলের যত্নে বাজারের বিভিন্ন পণ্যের পাশাপাশি ঘরোয়া উপায়েও অনেকে তেল তৈরি করে ব্যবহার করেন।নারকেল তেলের সঙ্গে জবা ফুল, জবা পাতা ও মেথি মিশিয়ে তৈরি করা যায় এমনই একটি ঘরোয়া তেল। নিয়মিত ব্যবহারে চুলের শুষ্কতা কমাতে ও চুলকে মসৃণ রাখতে এটি সহায়ক হতে পারে। তবে চুল পড়ার কারণ ভেদে এর কার্যকারিতা ভিন্ন হতে পারে।যেভাবে তৈরি করবেনউপকরণ: নারকেল তেল ১ কাপ, জবা ফুল ৭-৮টি, জবা পাতা ৮-১০টি, মেথি ২ টেবিল চামচপ্রস্তুত প্রণালি:প্রথমে জবা ফুল ও পাতা পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। এরপর কাপড়ের ওপর রেখে ভালোভাবে শুকিয়ে নিন। শুকিয়ে গেলে মেথি, জবা ফুল ও পাতাগুলো আধা-ভাঙা বা মোটা করে গুঁড়ো করে নিন।একটি ভারী তলাযুক্ত কড়াইয়ে নারকেল তেল ঢেলে কম আঁচে গরম করুন। তেল সামান্য গরম হলে তাতে গুঁড়ো করা মেথি, জবা ফুল ও পাতা দিয়ে দিন। এরপর একদম কম আঁচে ১০–১৫ মিনিট জ্বাল দিন। তেলের রং হালকা বাদামি হতে শুরু করলে চুলা বন্ধ করে দিন।তেলটি পুরোপুরি ঠান্ডা হলে সুতির কাপড় দিয়ে ছেঁকে পরিষ্কার কাঁচের বোতলে ভরে রাখুন। ব্যবহারের আগে তেলের গন্ধ বা রং বদলে গেছে কি না দেখে নিন।চুলের জন্য কতটা উপকারী?নারকেল তেল চুলের শুষ্কতা কমাতে এবং চুলের প্রোটিন ক্ষয় রোধে সহায়তা করতে পারে। মেথি ও জবা ফুল চুলের যত্নে প্রচলিত উপাদান হলেও, চুল পড়া বন্ধ করা বা নতুন চুল গজানোর বিষয়ে এ মিশ্রণের কার্যকারিতার শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত।চুল পড়া হঠাৎ বেড়ে গেলে, মাথার ত্বকে চুলকানি বা ক্ষত হলে, কিংবা দীর্ঘদিন সমস্যা চলতে থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। ঘরোয়া তেল ব্যবহার করলেও চুল পড়ার মূল কারণ শনাক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ।সূত্র: ইটিভি ভারত
১ দিন আগে
ফ্রিজে সবজি রাখার বক্সের নিচে বারবার পানি জমে যাওয়া সাধারণ ঘটনা বলে মনে হতে পারে। অনেকেই সেটি পরিষ্কার করে রেখে দেন এবং ভাবেন, হয়তো সবজি থেকেই পানি বের হয়েছে। কিন্তু যদি ট্রেতে ক্রমাগত পানি জমতে থাকে, তাহলে এটিকে শুধু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সমস্যা ভেবে উপেক্ষা করা ঠিক নয়। এর পিছনে ফ্রিজের ভিতরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা, দরজার সিল কিংবা তাপমাত্রা সংক্রান্ত সমস্যা থাকতে পারে।অনেক সময় এই সমস্যা ছোটখাটো হয় এবং বাড়িতেই কয়েকটি বিষয় পরীক্ষা করে সমাধান করা সম্ভব। কিন্তু যদি বারবার পানি ফিরে আসে, তাহলে এটি ফ্রিজের কোনও অংশে ত্রুটির ইঙ্গিতও হতে পারে। তাই প্রথমেই জানা জরুরি, পানি ঠিক কোথা থেকে জমা হচ্ছে।সবজি রাখার ট্রের নিচে পানি জমার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হতে পারে ফ্রিজের ড্রেন হোল ব্লক হয়ে যাওয়া। ফ্রিজের ভিতরে পিছনের দিকে অথবা সবজি রাখার ট্রের নিচে একটি ছোট ড্রেন হোল থাকে। ডিফ্রস্ট প্রক্রিয়ার সময় তৈরি হওয়া পানি এই পথ দিয়েই বেরিয়ে যায়। এতে খাবারের ছোট টুকরো, ময়লা অথবা বরফ জমে গেলে পানি বাইরে বেরোতে না পেরে ফ্রিজের ভিতরেই জমতে শুরু করে। ধীরে ধীরে এই পানিই সবজি রাখার ট্রের নিচে দেখা যায়।ড্রেন হোলের আশপাশে ময়লা দেখা গেলে ফ্রিজ বন্ধ করে নিরাপদভাবে সেটি পরিষ্কার করা যেতে পারে। হালকা গরম পানি দিয়ে পথটি পরিষ্কার করতে সাহায্য হতে পারে। যদি ভিতরে বরফ জমে থাকে, তাহলে জোর করে খুঁচিয়ে তোলার বদলে স্বাভাবিকভাবে গলে যেতে দেওয়াই ভালো।ফ্রিজের দরজা পুরোপুরি সিল না হলে বাইরের গরম বাতাস ক্রমাগত ভিতরে ঢুকতে থাকে। এই গরম বাতাসে থাকা আর্দ্রতা ঠান্ডা পৃষ্ঠের সংস্পর্শে এসে পানির ফোঁটায় পরিণত হতে পারে। ধীরে ধীরে এই আর্দ্রতা ফ্রিজের ভিতরে জমতে শুরু করে। দরজার চারপাশে থাকা রাবার সিলটি ভালো করে দেখুন। সেটি যদি নোংরা, ঢিলা, ছেঁড়া কিংবা কোনও জায়গা থেকে বেঁকে যায়, তাহলে ঠিকমতো সিল হবে না। হালকা সাবান ও পানি দিয়ে সেটি পরিষ্কার করে দেখুন। রাবারটি নষ্ট হয়ে গেলে সেটি বদলানোর প্রয়োজন হতে পারে।একটি সহজ পেপার টেস্টও করা যেতে পারে। দরজা ও সিলের মাঝখানে এক টুকরো কাগজ রেখে দরজা বন্ধ করুন। যদি কাগজটি খুব সহজেই বেরিয়ে আসে, তাহলে সিল দুর্বল হতে পারে।ভুল তাপমাত্রা সেটিংয়ের কারণেও ফ্রিজে অতিরিক্ত আর্দ্রতা বা বরফ জমতে পারে। সাধারণত ফ্রিজের তাপমাত্রা প্রায় চার ডিগ্রি সেলসিয়াস রাখা উপযুক্ত বলে মনে করা হয়। তাপমাত্রা খুব কম থাকলে কিছু অংশে বরফ জমতে পারে এবং পরে সেই বরফ গলে পানি জমতে পারে। অন্যদিকে, তাপমাত্রা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি হলে ফ্রিজের কুলিং ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ প্রভাবিত হতে পারে।গরম খাবার সরাসরি ফ্রিজে রাখলে তার ভিতরে অতিরিক্ত আর্দ্রতা ঢুকে যায়। গরম খাবার থেকে বেরোনো বাষ্প ঠান্ডা হয়ে পানির ফোঁটায় পরিণত হতে পারে। এমনটা প্রতিদিন হলে ফ্রিজের ভিতরে আর্দ্রতা বাড়তে থাকে এবং সবজি রাখার ট্রের আশপাশে পানি জমতে পারে। খাবার নিরাপদভাবে কিছুটা ঠান্ডা হতে দিন এবং তারপর ঢেকে ফ্রিজে রাখুন। খোলা পাত্রে খাবার রাখলেও আর্দ্রতা বাড়তে পারে, তাই খাবার ঢেকে রাখাই ভালো।সবজি ও অন্যান্য জিনিস দিয়ে ফ্রিজ একেবারে ঠাসাঠাসি করে রাখলে ঠান্ডা বাতাসের সঞ্চালন ব্যাহত হতে পারে। বাতাস ঠিকমতো চলাচল না করলে কিছু অংশে অতিরিক্ত আর্দ্রতা বা পানির ফোঁটা দেখা দিতে পারে। সবজি রাখার ট্রে ও পিছনের দেওয়ালের মধ্যে পর্যাপ্ত জায়গা রাখুন। ফ্রিজের এয়ার ভেন্টও কোনও জিনিস দিয়ে ঢেকে রাখা এড়িয়ে চলুন।আপনার ফ্রিজে যদি ওয়াটার ডিসপেনসার বা আইস মেকার থাকে, তাহলে তার আশপাশের পাইপ বা সংযোগও পরীক্ষা করুন। কোনও পাইপে লিক হলে পানি ধীরে ধীরে ভিতরে পৌঁছে নিচে জমতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে শুধু সবজি রাখার ট্রে পরিষ্কার করলেই সমস্যা দূর হবে না। পানি ঠিক কোন পথ দিয়ে আসছে, তা খুঁজে বের করা জরুরি।ড্রেন হোল পরিষ্কার করা, দরজার রাবার সিল পরীক্ষা করা এবং তাপমাত্রা ঠিক করার পরও যদি সবজি রাখার ট্রেতে ক্রমাগত পানি জমতে থাকে, তাহলে ফ্রিজের ভিতরের কোনও অংশে সমস্যা থাকতে পারে। ড্রেন সিস্টেম, ডিফ্রস্ট সিস্টেম, থার্মোস্ট্যাট অথবা পানির পাইপলাইনে সমস্যা হলে টেকনিশিয়ানের সাহায্য নেওয়াই ভালো।তাই পরের বার ফ্রিজের সবজি রাখার ট্রের নিচে পানি দেখলে শুধু সেটি মুছে রেখে দেবেন না। প্রথমে ড্রেন হোল, দরজার সিল, তাপমাত্রা, এয়ার সার্কুলেশন এবং কোনও সম্ভাব্য লিকেজ রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করুন। ছোটখাটো সমস্যা সময়মতো চিহ্নিত করা গেলে ফ্রিজের বড়সড় ক্ষতি এবং ব্যয়বহুল মেরামতের খরচ এড়াতে সাহায্য করতে পারে।
২ দিন আগে
শরীরের যত্ন না নিলে যেমন শরীর অসুস্থ হয়ে যায় ঠিক তেমনভাবেই সম্পর্কের যত্ন না নিলে সম্পর্ক সুস্থ বা পজেটিভ রাখা কঠিন। বর্তমানে একটা সম্পর্ক দীর্ঘদিন সুন্দর রাখা কঠিন হলেও অসম্ভব কিছু নয়। একটু চেষ্টা করলেই প্রেমের বা বিয়ের সম্পর্ক হতে পারে সারা জীবনের জন্য শান্তি ও আনন্দের।ব্যক্তিগত জীবনে প্রেম বা বিয়ে নিয়ে মানুষের মনে অনেক কল্পনা থাকে। রঙ্গিন স্বপ্নের দুনিয়াতে থেকেই বেশিরভাগ মানুষ তাদের সম্পর্ককে দেখে থাকেন। তবে রিলেশন নিয়ে এই ফ্যান্টাসি আর বাস্তবতার চিত্র ভিন্ন। বাস্তবে একটা সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে রাখার জন্য অনেক ত্যাগ করতে হয়। প্রতিশ্রুতি রক্ষা করাও এক্ষেত্রে সহজ হয় না। আপনি যেভাবে কল্পনা করেছেন ঠিক সেইভাবে আপনার সম্পর্কের গতি নাও চলতে পারে, এই বাস্তবতা বুঝতে পারাটা এখন খুব দরকার।কর্মব্যস্ত জীবনে অনেকেই নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয় না। আমরা ভুলে যাই কর্মজীবনে সফল হওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিজীবনেও ভালো সম্পর্ক ধরে রাখা একজন মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক যুগে সম্পর্কে সামান্য মত বিরোধ দেখা দিলেও কেউ কেউ মনে করেন বিচ্ছেদই এর একমাত্র সমাধান। তবে এটি কোনো সমাধান নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটিই সমস্যার শুরু। দীর্ঘস্থায়ী সু-সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য দুইজনকেই চেষ্টা করতে হবে সমানভাবে। কীভাবে একটা সম্পর্ক দীর্ঘদিন ভালো রাখবেন। এমনই পাঁচটি বিষয় নিয়ে আমাদের আজকের এই আয়োজন- ১. ক্ষমা করতে শিখুন মানুষ মাত্র ভুল হয়। একজন মানুষের ভুল হবে এটাই স্বাভাবিক। যদি হঠাৎ আপনার সঙ্গী আপনার ওপর রাগ ক্ষোভ বা বিরক্তি প্রকাশ করে অথবা এমন কোনো ভুল করে যা আপনার বিশ্বাসে আঘাত করতে সক্ষম তাহলেও তাকে ক্ষমা করার চেষ্টা করুন। আলোচনা করুন এবং ভুলগুলো নিয়ে সরাসরি কথা বলুন। তবে অভিযোগ করবেন না। দেখা গেছে, যেসব দম্পতি নিজেরা নিজেদের ভুল সহজেই ক্ষমা করতে পারে তাদের সম্পর্ক অন্যদের থেকে বেশি শক্তিশালী ও সুন্দর। ২. বাস্তববাদী হোনএকটা সম্পর্ক সবসময় এক রকম যাবে না এটা খুব স্বাভাবিক। হতে পারে সম্পর্কের শুরুতে আপনারা অনেক সময় একসঙ্গে কাটিয়েছেন। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন কারণে সেই সুযোগ আর পাচ্ছেন না। এতে বিরক্তিবোধ না করে বরং একজন আরেকজনকে বোঝার চেষ্টা করুন। যে সময়টাতে সম্পর্ক খারাপ যাচ্ছে এমন সময়ে নিজেদের সুন্দর স্মৃতিগুলো মনে করুন। এতে করে ধৈর্য্য শক্তি বাড়বে এবং সম্পর্কটা টিকিয়ে রাখার ইচ্ছা বজায় থাকবে।৩. উৎসব পালনে গুরুত্ব দিনবিভিন্ন ছুটির দিনগুলোতে সঙ্গীকে সময় দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। বিভিন্ন উৎসবের দিনে একসঙ্গে ঘুরতে বা খেতে যেতে পারেন। বাসায় থেকেও নিজেদের পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো যেতে পারে। ছুটির দিনে একসঙ্গে ঘরের কাজ করা বা একটু একান্তে সময় কাটানো আপনাদের সম্পর্ককে আরও বেশি ভালো করে তুলতে সক্ষম। ৪. একে অপরের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুনআপনার সঙ্গী যখন আপনাকে কিছু বলার বা বোঝানোর চেষ্টা করছে তখন তা মনোযোগ দিয়ে শোনার চেষ্টা করুন। আপনার ইচ্ছা না থাকলেও তাকে তখন কোনোভাবেই এড়িয়ে যাবেন না। হঠাৎ করে তাকে থামিয়ে দেওয়া বা কথাটিতে গুরুত্ব না দেওয়া আপনাদের ছোট ছোট সমস্যাগুলোকে মারাত্মক আকার দিতে পারে। একে অপরের কথায় গুরুত্ব দিলে সহজেই জটিলতাগুলোর সমাধান সম্ভব হয়। ৫. সৎ হোন একটি সম্পর্কে সৎ থাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সম্পর্কে মিথ্যা বা গোপনীয়তা থাকলে সেই সম্পর্ক দুর্বল হয়ে যায়। সম্পর্কে সব সময় স্বচ্ছতা রাখতে হবে। একে অপরের সমস্যাগুলো গোপন না করে বরং খোলামেলা আলোচনা করা ভালো। ছোট বড় বিভিন্ন বিষয় গোপন না করে নিজেদের অনুভূতি কাজ বা ইচ্ছাগুলো নিয়ে কথা বলা ভালো। এতে সম্পর্কে আস্থা বিশ্বাস থাকে এবং একে অপরের আরও বিশ্বস্ত হয়ে ওঠা যায়। সম্পর্ক দীর্ঘদিন ভালো রাখার জন্য এটাও একটা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশল যা আপনাকে আপনার ভালোবাসার মানুষটির সঙ্গে দীর্ঘদিন ভালো থাকতে সাহায্য করবে।
৩ দিন আগে
মানুষকে আরও সামাজিক করতে যদিও সোশাল মিডিয়ার জন্ম হয়েছিল তবে বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে মানুষে মানুষে দূরত্ব কমার বদলে যেন আরও বেড়েছে। সঙ্গীর পাশে বসেও মানুষের চোখ থাকে ফোনের স্ক্রিনে, মন থাকে আরও যোজন যোজন দূরে। প্রেমের মিষ্টি মিষ্টি আলাপ ও দুষ্টু দুষ্টু খুনসুটিগুলো যেন কোথাও হারিয়ে গেছে। যে হৃদয় প্রিয়জনের মায়াবী চোখে ডুবে যেতে ব্যাকুল ছিল তা এখন ব্যস্ত স্ক্রলিংয়ে। প্রিয়জনকে উপেক্ষা করে ফোনের স্ক্রিনে ডুবে থাকার এই প্রবণতাকে ফাবিং বলে। কীভাবে ছোট্ট এই ডিভাইসটি আমাদের সুন্দর সম্পর্কগুলোকে নিঃশব্দে ধ্বংস করে দিচ্ছে চলুন জেনে নিই-কেন এমন হয়?ফাবিং: মানুষের এই প্রবণতাকে বলা হয় ফাবিং (Phubbing) যা 'Phone' এবং 'Snubbing' শব্দ দুইটি থেকে এসেছে। ফাবিংয়ে ভোগা মানুষ মূলত প্রিয়জনদের উপেক্ষা করে ফোনে ডুবে থাকেন। এই প্রবণতার পেছনে কয়েকটি গভীর মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক কারণ রয়েছে-ডোপামিনের নেশা: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আমাদের ডোপামিন নিঃস্বরণের অন্যতম মাধ্যম হয়ে ওঠেছেছ। আগে মানুষ প্রিয়জনদের সান্নিধ্যে গেলে যে আনন্দ পেতো সেটির জায়গা দখল করে নিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নোটিফিকেশন, লাইক বা মেসেজ। এসব আমাদের মস্তিষ্কে ‘ডোপামিন’ নামক হরমোন নিঃসরণের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। এই সাময়িক আনন্দের অনুভূতি মানুষকে বারবার ফোন চেক করতে বাধ্য করে।ফোমো বা হারানোর ভয়: Fear of Missing Out (FOMO) বা হারানোর ভয় থেকেও মানুষ এমন করে থাকে। ভার্চুয়াল জগতের কোনো আপডেট থেকে পিছিয়ে পড়া বা কোনো ট্রেন্ড মিস করে ফেলার ভয় মানুষকে অনলাইনে সক্রিয় রাখতে প্ররোচনা দেয়। এটি এমন এক অভ্যাসে পরিণত হয় কখনো কখনো মানুষ কেন ফোন স্ক্রল করছেন তা নিজেই বুঝে উঠতে পারেন না।এস্কেপিজম বাস্তবতা এড়িয়ে চলা: বাস্তব দুনিয়ার জঞ্জাল থেকে বেরিয়ে নিজেকে সাময়িক আনন্দ দিতেই মানুষ মূলত সোশাল মিডিয়ায় সময় কাটান। সারাদিনের কাজের চাপের পর গভীর কোনো আলাপ বা কথোপকথন এড়িয়ে চলতেই বরং ফোনে এই ডুবে থাকা। এটিকে তারা সহজ উপায় মনে করেন।সহজে মনোযোগ হারানো: প্রযুক্তির এই যুগে মানুষের মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা অনেক কমে গেছে। ছোট-বড় প্রায় সবাই এখন মনোযোগ ধরে রাখতে পারেন না। তাই মুখোমুখি বসে দীর্ঘ সময় কথা বলাটা অনেকের কাছে একঘেয়ে লাগে।সম্পর্কে ফাবিংয়ের প্রভাবগুরুত্বহীনতা ও দূরত্ব: সঙ্গীকে উপেক্ষা করে ফোনে ডুবে থাকার ফলে সম্পর্কে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। মুখোমুখি বসে কথা বলার সময় অপরজন ফোনে ব্যস্ত থাকলে স্বাভাবিক কথোপকথন ছন্দ হারায়। এতে সঙ্গী নিজেকে অবহেলিত ভাবতে শুরু করেন। তখন জরুরি কোনো কথা বা নিছকই মন খুলে গল্প করার ইচ্ছাটা তার মরে যায়। এরকম চলতে থাকলে একটা পর্যায়ে সম্পর্কে দূরত্ব বাড়ে।আস্থার সংকট ও সন্দেহপ্রবণতা: পাশে বসে সঙ্গী যখন বারবার ফোন চেক করেন বা অনবরত মেসেজ করতে থাকেন তখন অপর সঙ্গীর মনে সন্দেহ বা আস্থার সংকট তৈরি হয়। তিনি ভাবতে থাকেন, তার চেয়ে ভার্চুয়াল জগতের মানুষ সঙ্গীর কাছে বেশি আকর্ষণীয়। এই অনুভূতি তার আত্মসম্মানে আঘাত করে এবং তিনি সন্দেহপ্রবণ হয়ে পড়েন। ফলে সম্পর্কে বড় ধরনের ঝগড়াঝাঁটি বা ভুল বোঝাবুঝি বেড়ে যায়।ঘনিষ্ঠতা কমে যাওয়া: একটি সম্পর্কে শারীরিক ও মানসিক উভয় ধরনের ঘনিষ্ঠতার প্রয়োজন আছে। আর এর জন্য প্রয়োজন হয় একে অপরের প্রতি গভীর ও পূর্ণ মনোযোগ। তবে ফোন যদি সম্পর্কের মাঝখানে দেয়াল হয়ে দাঁড়ায় তবে সম্পর্কের স্পার্ক নষ্ট হয়, পুরনো সেই রোমান্স হারিয়ে যায়।মানসিক বিষণ্ণতা ও একাকীত্ব: গবেষণায় দেখা গেছে, ফাবিংয়ের মাত্রা বেশি এমন সম্পর্কে সঙ্গীরা ভীষণ একা ও বিষণ্ণ বোধ করেন। একসঙ্গে থাকলেও নিজেদের মধ্যে একটি অদৃশ্য দূরত্ব অনুভব করেন।
৪ দিন আগে