নতুন এসপি আবু আশ্রাফ
পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৬ রাত ০৮:২৩:০৯
মাত্র আড়াই মাসে বদলী পাবনার এসপি ছুফি উল্লাহ,নানা প্রশ্ন
মাত্র আড়াই মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে পাবনার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. ছুফি উল্লাহকে বদলি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি), ঢাকার বিশেষ পুলিশ সুপার হিসেবে বদলী করা হয়।
একই প্রজ্ঞাপনে এন্টি টেররিজম ইউনিট, ঢাকার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফকে পাবনার নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। তিনি বিসিএস ২৫ ব্যাচের কর্মকর্তা। তার বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জে।
চলতি বছরের ৭ মে পাবনার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন মো. ছুফি উল্লাহ। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি পাবনা মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবী এবং অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। শুরু করেন অভিযান।
গত দুই মাসে পাবনা জেলায় এক হাজারের বেশি মাদক ব্যবসায়ী ও সেবীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া পাবনার কিছু এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনকারী ও ব্যবসায়ীদের রয়েছে আধিপত্য। তাদের বিরুদ্ধেও শক্ত ও সাহসী অবস্থানে ছিলেন তিনি। ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করছিলেন।
কিন্তু ভাল কাজ চালিয়ে যাওয়ার মাঝে হঠাৎ এত কম সময়ের ব্যবধানে তার বদলীর কারণ কি তা নিয়ে চলছে জেলাবাসীর মাঝে নানা আলোচনা। কেন তাকে সরানো হলো, তিনি তো ভাল কাজ করছিলেন। সচেতন মহলের মতে, তার মতো একজন সাহসী পুলিশ সুপারকে এত কম সময়ের মধ্যে বদলী করা ঠিক হয়নি।
তবে বদলীর কারণ অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে পাবনায় রাজনীতি নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর কর্মকাণ্ড বাড়ছিল। বিভিন্ন সময়ে পাবনা শহর সহ বেশকিছু এলাকায় শেখ হাসিনার পক্ষে বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীরা। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রচার হয়। যদিও কিছুদিন ধরে পুরো জেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ এবং অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার অভিযান শুরু হয়েছে।
এছাড়া গত ১৬ জুলাই রাতে পাবনার সুজানগরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। হামলায় আহত হন ওসি মোজাফফর হোসেন ও কনস্টেবল সবুজ হোসেন। তারা প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
সেইসঙ্গে জুলাই পদযাত্রা নিয়ে পাবনায় এসে এনসিপি নেতারা অভিযোগ করেন, জুলাই আন্দোলনে পাবনায় দুই শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যাকারী আ.লীগ নেতা আবু সাইদ খান পাবনাতেই আছেন, অথচ তাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। তাকে আশ্রয় দিচ্ছে বিএনপি এমন অভিযোগ করার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এসব কিছু ঘটনায় জেলায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠে রাজনৈতিক ও প্রশাসন মহলে। যেকারণে মো. ছুফি উল্লাহকে এত দ্রুত বদলী করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে পাবনার পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বদলীর আদেশ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কেন বদলী করা হয়েছে সে বিষয়টি জানা নেই।