ঢাকা টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২৬ সকাল ১১:৩২:৩৬
রমজানের কাজা রোজা থাকলে কি আশুরার রোজা রাখা যাবে?
মহররম মাসের ১০ তারিখ, অর্থাৎ আশুরার দিন মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এ দিনে রোজা রাখার প্রতি বিশেষ উৎসাহ দিয়েছেন রাসুলুল্লাহ (স.)। হাদিসে এসেছে, আশুরার রোজা পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহ মাফের কারণ হয়। (সহিহ মুসলিম: ১১৬২)
তবে অনেকের মনে একটি প্রশ্ন জাগে- যাদের রমজানের ফরজ রোজা কাজা রয়েছে, তারা কি সেই কাজা আদায় না করে আশুরার নফল রোজা রাখতে পারবেন?
কাজা রোজা থাকা অবস্থায় আশুরার রোজা
জমহুর (অধিকাংশ) আলেমের মতে, রমজানের কাজা রোজা বাকি থাকলেও আশুরার রোজা রাখা বৈধ। কারণ কোরআনে কাজা রোজা আদায়ের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দিন বেঁধে দেওয়া হয়নি; বরং পরবর্তী রমজানের আগে সুবিধাজনক সময়ে তা আদায়ের সুযোগ রাখা হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ বা সফরে থাকলে সে অন্য সময় সেই সংখ্যা পূরণ করবে।’ (সুরা বাকারা: ১৮৫)
এ আয়াত থেকে বোঝা যায়, রমজানের কাজা রোজা আদায়ের সময় প্রশস্ত। তাই আশুরার মতো নির্দিষ্ট ফজিলতপূর্ণ দিনে নফল রোজা রাখা জায়েজ।
ফকিহরা উল্লেখ করেছেন, অযথা বিলম্ব না করে পরবর্তী রমজান আসার আগেই কাজা রোজা আদায় করা উচিত। ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা ও আইয়ামে তাশরিক ছাড়া বছরের যেকোনো দিন রমজানের কাজা রোজা আদায় করা যায়।
সমসাময়িক আলেম শায়খ মুহাম্মাদ সালিহ আল-মুনাজ্জিদ বলেন, ‘যে ব্যক্তি আশুরা বা আরাফার দিনে রোজা পালন করে এবং তার ওপর রমজানের কাজা রোজা বাকি থাকে, তার রোজা সহিহ হবে।’ (ইসলাম কিউএ)
তবে এ কথাও মনে রাখতে হবে যে, ফরজ ইবাদতের মর্যাদা নফল ইবাদতের চেয়ে অনেক বেশি। তাই সুযোগ থাকলে কাজা রোজা দ্রুত আদায় করে নেওয়াই উত্তম।
এক নিয়তে কাজা ও আশুরার রোজা রাখা যাবে?
অনেকেই জানতে চান, একই রোজায় রমজানের কাজা ও আশুরার ফজিলত উভয়ের নিয়ত করা যাবে কি না।
এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। একদল আলেমের মতে, কেউ যদি আশুরার দিনে কাজা রোজার নিয়ত করেন, তাহলে তার ফরজ কাজা আদায় হয়ে যাবে এবং আশুরার দিনের বিশেষ ফজিলত লাভেরও আশা করা যায়।
শায়খ সালিহ আল-মুনাজ্জিদও এ মতকে সমর্থন করেছেন। (ইসলাম কিউএ)
তবে কিছু আলেমের মতে, ফরজ ও নফল ইবাদতের নিয়ত পৃথক হওয়াই উত্তম। তাই আশুরার নির্দিষ্ট ফজিলত নিশ্চিতভাবে অর্জন করতে চাইলে আলাদা নফল নিয়তে রোজা রাখা অধিক সতর্কতার পথ।
কোনটি অগ্রাধিকার পাবে?
ফিকহবিদরা উল্লেখ করেছেন, আশুরার রোজা একটি নির্দিষ্ট সময়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ সময় চলে গেলে বছরের বাকি সময়ে তা আদায়ের সুযোগ থাকে না। অন্যদিকে রমজানের কাজা রোজা পরবর্তী রমজানের আগে যেকোনো সময় আদায় করা যায়।
এ কারণে অনেক আলেম আশুরার দিনে রোজা রাখার গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেছেন। তবে কারও যদি অনেক কাজা রোজা বাকি থাকে বা কাজা আদায়ে অবহেলার আশঙ্কা থাকে, তাহলে তার জন্য আগে কাজা রোজা পূরণ করাই অধিক উপযোগী।
আশুরার রোজা যেভাবে রাখবেন
রাসুলুল্লাহ (স.) ইহুদিদের সঙ্গে সাদৃশ্য পরিহারের জন্য আশুরার সঙ্গে আরও একদিন রোজা রাখতে উৎসাহ দিয়েছেন।
হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘তোমরা আশুরার দিন রোজা রাখো এবং ইহুদিদের বিরোধিতা করো। তোমরা এর সঙ্গে একদিন আগে বা একদিন পরে রোজা রাখো।’ (মুসনাদে আহমদ)
অন্য হাদিসে তিনি বলেন, ‘আমি যদি আগামী বছর জীবিত থাকি, তবে নবম তারিখও রোজা রাখব।’ (সহিহ মুসলিম: ১১৩৪)
তাই ৯ ও ১০ মহররম অথবা ১০ ও ১১ মহররম রোজা রাখা উত্তম।
এ ছাড়া আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘রমজানের পর সর্বোত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস মহররমের রোজা।’ (সহিহ মুসলিম: ১১৬৩)
অতএব, রমজানের কাজা রোজা বাকি থাকলেও আশুরার রোজা রাখতে শরিয়তে কোনো বাধা নেই। কেউ নফল নিয়তে আশুরার রোজা রাখতে পারেন, আবার কেউ কাজা রোজার নিয়ত করেও এ দিনের বরকত ও ফজিলত লাভের আশা করতে পারেন। তবে ফরজ দায়িত্ব হিসেবে কাজা রোজা দ্রুত আদায় করে নেওয়াই অধিক গুরুত্বপূর্ণ। আশুরার রোজা এমন একটি সুন্নত, যা গুনাহ মাফের একটি মহৎ উপলক্ষ এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের একটি মূল্যবান সুযোগ।
তথ্যসূত্র: সহিহ মুসলিম: ১১৩৪, ১১৬২, ১১৬৩; সুরা বাকারা: ১৮৫, মুসনাদে আহমদ, ইসলাম কিউএ, আল-মাজমু (ইমাম নববি), ফতোয়ায়ে শামি, ফতোয়ায়ে আলমগিরি