নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৬ রাত ০৭:৪৪:১০
'জনকল্যাণের বাজেটকে যারা গণবিরোধী বলে, তারা জনগণের বন্ধু নয় '
জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামি নতুন অর্থবছরের বাজেটকে চানাচুরের সঙ্গে তুলনা করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, “জনগণের জন্য যেই বাজেটে সব ব্যবস্থা রেখেছি, সেই বাজেটকে যারা গণবিরোধী বলে, তারা কি কখনো জনগণের বন্ধু হতে পারে? তারা কখনো জনগণের বন্ধু হতে পারে না।”বুধবার দুপুরে শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ১৫৫টি পরিবারের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কার্যক্রম শুরু করা হয়। গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা বাজেটে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের জন্য অর্থ বরাদ্দ রাখার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অনেকে বলেছে সেই বাজেট বলে তারা মানে না। দেখেছেন না, পত্রিকায় সংবাদে?“আবার অনেকে বলেছে, এই বাজেট নাকি চানাচুরের মতন শুনেছেন এই কথা কিছু কিছু লোক বলেছে।”তারেক রহমান বলেন, “যেই বাজেট জনগণের বাজেট, যেই বাজেটের মাধ্যমে আমরা জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চাই, সেই বাজেটকে তারা চানাচুরের সাথে তুলনা করে,সেই বাজেটকে তারা বলে গণবিরোধী বাজেট!”সংসদের বাইরে ও ভেতরে ওইসব সমালোচকদের বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “এই সকল লোকেরা, এই সব দলগুলো দেশে যদি অশান্তি করার সুযোগ পায়, তাহলে আমরা ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন করতে পারব সব আজকে প্রতিবন্ধী মানুষগুলোকে যে আমরা সহযোগিতা করলাম, এই যে গরিব ছাত্র স্টুডেন্টগুলোকে যে আমরা সহযোগিতা করলাম, এই যে আমরা নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের উপর না, যে ৬০টি দ্রব্যের উপর থেকে যে আমরা ট্যাক্স তুলে নিতে পারলামথেকে, আমরা তাহলে কন্টিনিউ করতে পারব না“কাজেই যারা এসব কাজে বাধা দেবে, কী ব্যবস্থা করা উচিত তাদের — এটি সতর্ক থাকতে হবে বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে এবং জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবেতাদের।। প্রধানমন্ত্রী
‘
গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে সিলেট অঞ্চলে ভোটের প্রচারে এসে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সে কথা মনে করে বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বলেন, “আমি আমার কথা আজকে রাখতে পেরেছি।… চা-বাগানের যারা নারী শ্রমিক আছেন, তাদের কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিয়েছি আজকে।
পেরেছি,
“হ্যাঁ, আমরা হয়তো আজকে সবাইকে দিতে পারিনি, কিন্তু ইনশাআল্লাহ আগামী এক বছরের মধ্যে আমরা প্রায় সকল নারী শ্রমিকের কাছে, চা-বাগানের সকলের কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব ইনশাআল্লাহ।”
ইনশাল্লাহ
বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ পাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের এ অনুষ্ঠান। সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রথমে জাতীয় সঙ্গীত এবং পরে বিএনপির দলীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।
সংগীত
অনুষ্ঠানে ১০ জন পরিবারের প্রধান নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে কম্পিউটারের বোতাম চেপে ফ্যামিলি কার্ড তৃতীয় পর্যায় কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।
উদ্বোধন
সেই সঙ্গে চা শ্রমিক আবাসন সমস্যা সমাধানে শ্রমিকদের দুই লক্ষ টাকার করে অনুদান, চা শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য বৃত্তি প্রদান, প্রতিবন্ধীদের জন্য আর্থিক অনুদানের চেক দেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে কয়েকজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়া দেওয়া হয়। পাশাপাশি দেশের কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে বাজেট অর্থ বরাদ্দ রাখার কথা, আগামী এক বছরে দেশের ৪০ লাখ কৃষকের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ তুলে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও প্রধানমন্ত্রী বলেন।
তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশ হচ্ছে আমাদের প্রথম ঠিকানা, বাংলাদেশই হচ্ছে আমাদের শেষ ঠিকানা। আমাদের একটাই কাজ, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন।
“আসুন এদেশ আমাদেরকেই গড়তে হবে। এ দেশ আমাদের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমিকের হাতে রূপান্তরিত করতে হবে। তাহলেই আমরা এই বাংলাদেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারব।”
মানুষের,
সমাজ কল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফরজানা শারমিন, মৌলভীবাজার জেলা কমিটির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম নয়ন, মৌলভীবাজার ৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রাণালয়ের অতিরিক্তি সচিব কামাল উদ্দিন বিশ্বাস এবং ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া নারীদের মধ্যে শিউলী রানী দাস ও ওয়াজেদা বেগম অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।