ঢাকা টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬ বিকাল ০৩:২৮:০৯
ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চাই না : প্রধানমন্ত্রী
বর্তমান সরকার ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চায় না এবং ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চায় না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এ মন্তব্য করেন তিনি। শুভেচ্ছা বিনিময়কালে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে বৌদ্ধ নেতাদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে একটি সম্মাননা ক্রেস্ট এবং পবিত্র বুদ্ধমূর্তির প্রতিবিম্ব তুলে দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চাই না, অতীতেও আমরা তা করিনি। আমাদের সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি-অবাঙালি, বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী সবাই সব ক্ষেত্রে সমানভাবে অধিকার ভোগ করবে, এটাই বর্তমান সরকারের নীতি। তিনি বলেন, আমরা জানি পৃথিবীতে অনেকগুলো ধর্ম আছে। প্রতি ধর্মেরই অসংখ্য অনুসারী রয়েছেন। প্রতিটি ধর্মই মানুষকে কল্যাণের দিকে আহ্বান করে। প্রতিটি ধর্মেরই কিছু বিধিবদ্ধ নিয়মনীতি রয়েছে। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মগুরু মহামতি গৌতম বুদ্ধ তার অনুসারীদের জন্য পঞ্চশীল নীতি দিয়েছিলেন। এই পঞ্চশীল নীতি হলো- প্রাণী হত্যা না করা, চুরি, ব্যভিচার, মিথ্যা এবং মাদক থেকে বিরত থাকা। প্রেম, অহিংস এবং সর্বজীবে দয়াও বৌদ্ধ ধর্মের শিক্ষা। নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণ ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী প্রতি মানুষের জন্যই একটি নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণের আকাঙ্ক্ষা নিয়েই মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছিলেন। মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সবাই মিলে লাখো প্রাণের বিনিময়ে এই দেশটা আমরা স্বাধীন করেছিলাম। মুক্তিযুদ্ধের সময় কে কোন ধর্মের অনুসারী, কে বিশ্বাসী কিংবা অবিশ্বাসী এটি কারো জিজ্ঞাসা ছিলো না। তাই, এই স্বাধীন বাংলাদেশ আপনার, আমার, আমাদের সবার।