নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৬ সকাল ১০:০৫:৫৫
মাজারে হামলা: জামায়েতের ১০০-১৫০ সদস্যকে আসামি
রাজধানীর মিরপুরে শাহ আলী বোগদাদীর মাজারে ওরশ চলাকালে হামলার ঘটনায় ৯ জনের নাম দিয়ে এবং জামায়াতে ইসলামীর অজ্ঞাত ১০০-১৫০ সদস্যকে আসামি করে মামলা হয়েছে।শনিবার সন্ধ্যায় শাহআলী থানায় রেশমি বেগম নামে মাজারের এক ভক্ত এ মামলা করেছেন।এদিকে এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছেন থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম।গ্রেপ্তাররা হলেন- আরমান, রাসেল ও আজম।ওসি বলেন, “হামলায় আহত রেশমি বেগম নামে একজন একটি মামলা করেছেন। এর প্রেক্ষিতে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমাদের অভিযান চলছে।”হামলার ভিডিও ফুটেজ দেখে তিনজনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের তথ্য দিলেও তারা এজাহারভুক্ত আসামি কিনা তা নিশ্চিত করেননি তিনি। তবে যে নয়জনের নাম রয়েছে তাদের মধ্যে রাসেল ও আজম নামে দুজন রয়েছে।একই সঙ্গে তারা কোনো দলের সদস্য কিনা সেটাও বলতে পারেননি ওসি।বৃহস্পতিবার রাতে মিরপুরের শাহ আলী মাজারে হামলা হয়। ওরশ চলাকালে হঠাৎ লাঠিসোঁটা হাতে কিছু লোক এসে মারধর শুরু করে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।হামলার শিকার জিয়ারতকারী কয়েকজন বলছেন, ‘‘হামলাকারীরা ‘জামায়াত শিবিরের’ লোক। তবে জামায়াতে ইসলামী সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।’’১৭ বছর ধরে ওই মাজারে নিয়ম জিয়ারত করা রেশমি বেগম নামে ওই ভক্তের করা মামলার এজাহারে নাম থাকা আসামিরা হলেন- মো. আলী আকবর (৪৮), মো. বাপ্পা (৩৫), মো. বাবু (৪৫), মো. কাউসার (২৬), আজম (৪০), শেখ মো. রাসেল (৩৮), কাজী জহির (৫২), মো. মিজান (৩৮) এবং কাজী পনির (৫০)।এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত বৃহস্পতিবার রাতে মাজার জিয়ারত ও মানতের সময় আসামিরা দলবদ্ধ হয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে মাজারে ঢুকে জিয়ারতকারী ও মানতকারীদের ওপর অতর্কিত হামলা করে।তার অভিযোগ, ‘জিয়ারত ও মানতের কার্যক্রম’ চলাকালে অভিযুক্তরাসহ নাম না জানা ১০০-১৫০ জন জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের সদস্যরা ‘পূর্ব পরিকল্পিতভাবে’ হাতে লাঠিসোটা নিয়ে ‘আল্লাহু আকবার স্লোগান দিয়ে’ প্রধান গেট দিয়ে মাজারে প্রবেশ করে।মামলায় অভিযোগ করা হয়, এ সময় ‘জিয়ারতকারী এবং মানতকারীদের’ উপর অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে জখম করে এবং মাজারের সিন্নি গাছের গোড়ায় থাকা লাল কাপড় টানা হেচড়া করে ছিড়ে ফেলে, মোমবাতি জ্বালানোর প্লেটও ভাংচুর করে। যেটিকে ‘চরমভাবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’।বাদী রেশমী মামলায় বলেন, ‘‘ঘটনা দেখে আসামিদের বাধা দিতে গেলে তারা ‘ক্ষিপ্তহয়ে’এলোপাথারিভাবে মারপিট করে জখম করে।’এসময় তার কাপড়চোপড় ‘টানা-হেচড়া করে’ যৌন নির্যাতন করেছে বলেও অভিযোগ করেছেন।মারপিটের একপর্যায়ে নাম না জানা একজন মাজারের মানতের খিচুরি রান্না করার চুলা ও পাতিল ভাংচুর করে অনুমান ৩০ হাজার টাকা ক্ষতি করেছেন। একইসঙ্গে বাদীর কাছে থাকা নগদ ৬ হাজার টাকাসহ জিয়ারতকারীদের কাছ থেকে আনুমানিক ৯০ হাজার টাকা লুট করেছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।রেশমী বেগম অভিযোগ করেন, হামলার একপর্যায়ে মাজারের উপস্থিত জিয়ারতকারী, মানতকারী এবং ভক্তরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে আসামিরা ‘ভয়ভীতি-হুমকি প্রদর্শন করে’ চলে যায়।এদিকে শাহ আলী মাজারে হামলার ঘটনাকে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শুরু হওয়া ‘সহিংসতার ধারাবাহিকতা’ হিসেবে মূল্যায়ন করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।শনিবার এক বিবৃতিতে টিআইবি হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।