লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৬ দুপুর ১২:৪৮:৩২
আম খেলে কি ওজন বাড়ে?
ওজন বেড়ে যাওয়ার ভয়ে পাকা আম খাচ্ছেন না? রসালো ও মিষ্টি এই ফলটি দেখে জিভে জল এলেও নিজেকে অনেক কষ্টে সংবরণ করছেন? আপনার জন্য রয়েছে সুখবর। আম খেলে ওজন বেড়ে যাওয়ার ধারণাটি ভুল এবং অতিরঞ্জিত। অন্য সব ফলের মতই পাকা ও রসালো আম খেতে পারবেন নিশ্চিন্তে। খেতে হবে একটু নিয়ম মেনে।
পাকা আমে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে।
দেশে এখন আমের মরসুম চলছে। পাকা আমের মো মো গন্ধে নিজেকে সামলানো দায়। চমৎকার স্বাদ, সুন্দর রঙ ও মিষ্টি সুগন্ধের জন্য পাকা আম কমবেশি সবারই পছন্দ। তবে স্থুলতার সমস্যায় যারা ভুগছেন আম খেতে তারা দশবার ভাবছেন। ‘আম খেলে ওজন বেড়ে যাবে’ - এমন একটি ধারণা সমাজে প্রচলিত।
আসল সত্য ও ক্যালরির হিসাব
তবে সত্যটি হলো, আম খেলে সরাসরি ওজন বাড়ে না। অন্য যেকোনো খাবারের মতো এটিও নির্ভর করছে সারাদিনের খাবারে আপনি মোট কত ক্যালরি গ্রহণ করছেন। পরিমিত পরিমাণে আম খেলে শরীরের ওজন না বাড়িয়ে তা বরং আপনার দৈনিক খাদ্যতালিকার একটি স্বাস্থ্যকর অংশ হতে পারে।
পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা
মাঝারি আকারের একটি আমে প্রায় ১৫০ ক্যালরি থাকে এবং এতে চর্বির পরিমাণ নেই বললেই চলে। আমে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, পটাশিয়াম এবং ফাইবার বা আঁশের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রয়েছে। আমে থাকা আঁশ হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে।
ওজন বাড়ার আসল কারণ
ওজন তখনই বাড়ে যখন আপনি চাহিদার চেয়ে বেশি ক্যালরি গ্রহণ করেন। দৈনিক খাদ্যতালিকায় ক্যালরি না কমিয়ে যদি অতিরিক্ত আম খাওয়া হয় তবে সেই বাড়তি ক্যালরির কারণে ওজন বাড়তে পারে। শুধু আম নয়, এই নিয়ম যে কোনও খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অতিরিক্ত যে কোনও খাবারই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
আম খাওয়ার সঠিক নিয়ম
তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে আম খাওয়ার পরিমাণ এবং খাওয়ার সময়ের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। সকালের বা বিকালের হালকা নাশতা হিসেবে একটি ছোট আম খেতে পারেন। ভারী খাবার খাওয়ার পরপরই কিংবা রাতে ঘুমানোর আগে আম খাওয়া এড়িয়ে চলতে হবে।
মাঝারি আকারের একটি আমে প্রায় ১৫০ ক্যালরি থাকে।
যা বর্জন করবেন
আমাদের দেশে দুধ-ভাত দিয়ে আম খাওয়া বেশ জনপ্রিয়। এ ছাড়া চিনিযুক্ত ম্যাঙ্গো শেক, আমের আইসক্রিম বানিয়েও আমরা খাই যেগুলোতে ক্যালরির পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। আম খাওয়ার এই পদ্ধতিগুলো বর্জন করতে হবে। এর পরিবর্তে টাটকা আম চিবিয়ে খেলে এর ভেতরের ফাইবারের পুরো উপকারিতা পাওয়া যায়।