নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৬ আগস্ট ২০২৬ সকাল ১০:৫৩:২৬
আজ খুলছে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আজ (৬ আগস্ট) থেকে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে। এর আগে বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে জাদুঘরটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।জাদুঘরটিতে জুলাই আন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহ, শহীদ ও আহতদের স্মৃতি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, দলিল, ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী এবং নানা ধরনের ডিজিটাল প্রদর্শনী সংরক্ষণ করা হয়েছে। উদ্বোধনের পরদিন দর্শনার্থীদের জন্য বরাদ্দ প্রথম দিনের ৯০০টি টিকিট বুধবার বিকেল ৪টার মধ্যেই বিক্রি শেষ হয়ে যায়।জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৯০০ জন দর্শনার্থী মূল ভবনে প্রবেশের সুযোগ পাবেন। প্রতিদিন তিনটি নির্ধারিত সময়ে ৩০০ জন করে দর্শনার্থী প্রবেশ করতে পারবেন। টিকিট অনলাইনের পাশাপাশি জাদুঘরের কাউন্টার থেকেও সংগ্রহ করা যাবে।দর্শনার্থীরা সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা, দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৩টা এবং বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে জাদুঘর ঘুরে দেখতে পারবেন। তবে টিকিটে উল্লেখিত সময়ের মধ্যেই প্রবেশ করতে হবে।
জাদুঘরে প্রবেশের জন্য প্রাপ্তবয়স্কদের টিকিটের মূল্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো নির্ধারিত সময়ের সব টিকিট শেষ হয়ে গেলে পরবর্তী দিনের খালি সময় বেছে নিতে হবে। দর্শনার্থীদের চাপ সামলাতে এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে প্রাথমিকভাবে সীমিত সংখ্যক প্রবেশের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব।
এর আগে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানিয়েছিলেন, উদ্বোধনের প্রথম দিনটি শুধু জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
তবে উদ্বোধনের দিন টানা বৃষ্টির মধ্যেও বিপুলসংখ্যক মানুষ জাদুঘরের সামনে ভিড় করেন। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও ফটক না খোলায় একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জুলাইযোদ্ধা, আহত আন্দোলনকারী ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে অন্য দর্শনার্থীরাও সেখানে ঢুকে শেখ হাসিনার ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দেন।
জাদুঘরে যা যা দেখবেন
একসময় দেশের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন হিসেবে পরিচিত গণভবন এখন রূপ নিয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ১৭ একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা এই জাদুঘরে জুলাই আন্দোলন, গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের নানা স্মারক ও নিদর্শন স্থান পেয়েছে।