স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৬ সকাল ০৮:৪৭:৪৩
নারী অ্যাথলেট পুরুষ প্রমাণিত: আজীবন নিষেধাজ্ঞা
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জান্নাত বেগম ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কবিতা রায় লিঙ্গ পরীক্ষায় ‘নারী’ প্রমাণিত হননি। তাই এই দুই অ্যাথলেটের নারী বিভাগে খেলার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন। দেশের অ্যাথলেটিক্সের নিয়ন্তা সংস্থাটি এই দুজনের জেতা পদকগুলো বাতিল করে তাদের পরে থাকা অ্যাথলেটদের দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
দেশের অ্যাথলেটিক্সের ইতিহাসে এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন। এই বিতর্কের সুত্রপাত মূলত ২০২৪ সালে। সেবার জান্নাত ও কবিতার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বৈধতা নিয়ে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনী প্রশ্ন তোলে। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে বিএমইউতে পাঁচ সদস্যের বিশেষ মেডিকেল গঠন করা হয় দুই অ্যাথলেটের পরীক্ষা করার জন্য।
ইনিংস হারের শঙ্কা এড়িয়ে বাংলাদেশকে পেছনে ফেলল অস্ট্রেলিয়া
ফেডারেশন জানিয়েছে, বিএমইউ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গত ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে একটি পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড গঠন করে অ্যাথলেটদের শারীরিক পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু করে। তা গত ১১ মে, ২০২৬ তারিখে শেষ হয় এবং মেডিকেল বোর্ড গত ১৬ মে, ২০২৬ তারিখে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন ফেডারেশনের নিকট হস্তান্তর করে।
মেডিকেল বোর্ডের চূড়ান্ত ফলাফল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী অ্যাথলেট জান্নাত বেগম (২৮ বছর) এবং কবিতা রায় (১৯ বছর)-এর হরমোন ও শারীরিক পরীক্ষায় ৪৬, একউয়াই ডিএসডি (লিঙ্কা বিকাশের তারতম্য) ধরা পড়েছে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী তাদের পুরুষ হিসেবে চিহ্নিত করে। বোর্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী উভয় অ্যাথলেটের পেনোস্ক্রোটাল হাইপোস্পেডিয়াস রয়েছে এবং উভয় গোনাড (জননগ্রন্থি) ইনগুইনাল ক্যানেলে অবস্থিত।
রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রার পরীক্ষাতেও দুজনে ‘পাস’ করতে পারেননি। জান্নাতের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ১৯ দশমিক ৬৬ (১৯.৬৬ এনএমওএল/এল), যা ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিক্সের নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমার ২ দশমিক ৫ অপেক্ষা প্রায় ৮ গুণ বেশি। আর কবিতার টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ১৬ দশমিক ৫০ (১৬.৫০ এনএমওএল/এল), যা নির্ধারিত সীমার চেয়ে সাড়ে ৬ গুণেরও বেশি।
ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিক্সের বিধিমালা অনুযায়ী ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিক্স-এর ডিএসডি বিধিমালা (সংস্করণ ৩.০, ৩১ মার্চ ২০২৩ থেকে কার্যকর) অনুযায়ী, নারী বিভাগে অংশগ্রহণের জন্য অ্যাথলেটের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা টানা ২৪ মাস ধরে ২.৫ এনএমওএল/এল-এর নিচে থাকা বাধ্যতামূলক। উভয় অ্যাথলেটই এই শর্ত পূরণেও ব্যর্থ হয়েছেন।
মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কার্যনির্বাহী কমিটির দ্বিতীয় সভায় শনিবার সর্বসম্মতিক্রমে দুটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রথমটি জান্নাত ও কবিতাকে চিকিৎসা শাস্ত্র ও বিশ্ব সংস্থার বিধি অনুযায়ী ‘পুরুষ’ বিবেচিত হওয়ায় তাদের নারী অ্যাথলেট হিসেবে প্রতিযোগিতা থেকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা।
এবং দ্বিতীয়টি এ পর্যন্ত জান্নাতের জ্যাভলিন থ্রো ও ডিসকাস থ্রো ইভেন্টে অর্জিত দুটি নতুন জাতীয় রেকর্ডসহ আটটি সোনা, একটি রুপা ও দুটি ব্রোঞ্জ এবং কবিতার ১০০ মিটার, ২০০ মিটার ও ৪×১০০ মিটার ইভেন্টে অর্জিত একটি করে সোনা ও রুপা এবং ২টি ব্রোঞ্জ পদক বাতিল করা হয়েছে। এই পদকসমূহ তালিকায় পরবর্তী স্থানে থাকা অ্যাথলেটদের মাঝে আইনানুযায়ী পুনঃবণ্টন করা হবে।