জামালপুর সদর উপজেলার রানাগাছা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানাকে পিটিয়ে মাথা ফাটালেন একই ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক সবুজ মিয়া।মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে ইউনিয়নের লোন্দহ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত সোহেল রানাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা বলেন, আমি লোন্দহ গ্রামে আমার মাছের প্রজেক্টে গেলে সবুজ মিয়া আমাকে ফেসবুক পোস্টের বিষয়ে প্রশ্ন করে। এ নিয়ে কিছু বলার আগেই হঠাৎ এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে সবুজ মিয়া। মারধরের এক পর্যায়ে লোহার পাইপ দিয়ে মাথায় আঘাত করে। আশপাশের লোকজন ও স্থানীয় বিএনপি নেতারা আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।জানতে চাইলে অভিযুক্ত ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সবুজ মিয়া বলেন, ফেসবুকে আমার নামে অপপ্রচার চালায় সোহেল। বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়েছে, আমি তাকে মারিনি।জামালপুর সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সফিউর রহমান শফি বলেন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অভিযুক্ত সবুজ মিয়ার পদ স্থগিতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।জামালপুর সদর থানার ওসি নাজমুস সাকিব বলেন, মারামারির কোনো অভিযোগ পাইনি, অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৪ ঘন্টা আগে
দেশের বিভিন্ন জেলায় ভুয়া কমিটি গঠন ও প্রচারের অভিযোগে সতর্কবার্তা দিয়েছে বিএনপির মিডিয়া সেল। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপির মিডিয়া সেলের নামে পরিচালিত বিভিন্ন ভুয়া পেজ, গ্রুপ ও কমিউনিটি সম্পর্কে নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।সোমবার বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে জানানো যাচ্ছে, সম্প্রতি কিছু জেলায় বিএনপি মিডিয়া সেলের নামে ভুয়া কমিটি ঘোষণা ও প্রচারের তথ্য আমাদের নজরে এসেছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপি মিডিয়া সেলের নামে বিভিন্ন ভুয়া পেজ, গ্রুপ, কমিউনিটি সক্রিয় রয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে পরিষ্কার করে বলা যাচ্ছে, বিএনপি মিডিয়া সেলের কেন্দ্রীয় কমিটি ছাড়া সারা দেশে জেলা বা মহানগর পর্যায়ে এ নামে কোনো কমিটি গঠন করা হয়নি। যেসব ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিজেদের মিডিয়া সেলের অনুমোদিত কমিটি দাবি করছে, তাদের সঙ্গে বিএনপি মিডিয়া সেলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।অনুরূপভাবে, অননুমোদিত ও ভুয়া কমিটি প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে দলের শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ আনা হবে বলে সতর্ক করা যাচ্ছে। সাধারণ নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের এসব বিভ্রান্তিকর তথ্য ও তালিকা থেকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
২ দিন আগে
জাতীয়তাবাদী যুবদলের ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) এই কমিটি ঘোষণা করা হয়।নতুন এই কমিটিতে শীর্ষ নেতৃত্বে এসেছেন দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও মাঠপর্যায়ের দুই নেতা। যুবদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আবদুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন।বিএনপির ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সংকটকাল থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রেখে দলীয় হাইকমান্ডের আস্থা অর্জন করেছেন এই দুই তরুণ নেতা।যুবদলের নতুন সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না এর আগে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে উঠে আসা মুন্না তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় যুবদলকে পুনর্গঠনে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় থাকার কারণে একাধিকবার কারাবরণও করতে হয়েছে তাকে।নতুন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এর আগে যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। সুবক্তা ও দক্ষ সংগঠক হিসেবে পরিচিত নয়ন কেন্দ্রের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের রাজনীতিতেও সমানভাবে সক্রিয়। বিএনপির সাম্প্রতিক আন্দোলনগুলোতে ঢাকার রাজপথে তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব নেতাকর্মীদের নজর কেড়েছে।ঘোষিত এই পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও ৩০ জন সহ-সভাপতি, ৩০ জন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ২৩ জন সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মো. কামরুজ্জামান জুয়েলসহ বিভিন্ন সম্পাদকীয় ও সদস্য পদে মোট ১৫১ জনকে স্থান দেওয়া হয়েছে।বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দলের গতিশীলতা বাড়াতে যুবদলের এই নতুন কমিটিকে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া হয়েছে এবং ত্যাগী ও রাজপথের সক্রিয় নেতাদেরই এখানে মূল্যায়ন করা হয়েছে। নতুন কমিটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে ইতিমধ্যে দল ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাতে শুরু করেছেন।
৬ দিন আগে
‘অনেক গুপ্ত চাঁদাবাজ জামায়াতে ইসলামীতে আশ্রয় নিয়েছে’ বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।রোববার (৩১ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এই অভিযোগ করেন।তিনি বলেন, ‘উনারা (জামায়াতে ইসলামী ) বড় বড় কথা বলছেন, টেলিফোনে চাঁদাবাজি হয়েছে। তো নিজেদের দিকে একবার তাকান। মিরেরসরাইয়ে ফেনী নদীর বালু তুলতে গিয়ে ধরা পড়েছিলেন জামায়াতের দুই নেতা…একজনের নাম জাহাঙ্গীর আরেকজনের নাম রবিউল।“ফেনীতে মামলার থেকে অব্যাহতি দেবে বলে এক নেতা সে আবার ‘জামায়াতের রোকন’ তাদের কাছ থেকে চাঁদা নিয়েছে সেটাও পত্রপত্রিকায় এসেছে। আমি তো একটা কি দুইটা উদাহরণ দিলাম। তাহলে তো জামায়াত প্রশ্রয় দেয়।”‘ধর্মের নামে রাজনীতি করেন সব নাকি পবিত্র মানুষ। এখানে যেমন তারা গুপ্ত রাজনীতি করেছে ছাত্রলীগের মধ্যে আওয়ামী লীগের মধ্যে ঢুকে থেকে। অনেক গুপ্ত চাঁদাবাজও জামায়াতের মধ্যে আশ্রয় নিয়ে আছে।’রিজভী বলেন, ‘আপনারা (জামায়াতে ইসলাম) একটা আরবি শব্দ ব্যবহার করেন। চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে চাঁদাবাজি না বলে আপনারা সেটাকে হাদিয়াবাজি করেন, ইয়ানতবাজি করেন …আরবি শব্দ দিয়ে ওটাকে একটা কাভার দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেটা একটা বড় ধরনের এই হাদিয়াবাজি-ইয়ানতবাজি আপনারা কম করেন না এবং বহু জায়গায় প্রমাণ আছে যে ধমক দিয়ে থ্রেড করছেন। আমি তো দুই তিনটার নাম মাত্র বললাম, অসংখ্য আছে।’‘আমার কথা হলো রাজনৈতিক দলগুলো তো থাকতে পারে, ঢুকে যেতে পারে কিন্তু সেই দল তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে কিনা? বিএনপির মধ্যে ৫ আগস্টে এই ধরনের কিছু কর্মকান্ড হয়েছে, আমাদের দলের চেয়ারম্যান এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শক্ত হাতে শত শত নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছেন, দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, শোকজ করা হয়েছে …কেউ বাদ যায়নি। শক্তিশালী নেতা থেকে শুরু করে একবারে তৃণমূল পর্যন্ত কেউ বাদ যায়নি।’তিনি বলেন, “তারপরে চাঁদাবাজির অভিযোগ আপনাদের নামে এবং আপনাদের অধিকাংশ ‘রোকন’ সদস্য … আপনাদের যে সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে নানা স্তরের লোক আছেন, তারা অভিযুক্ত হয়েছে। যখন পত্রিকায় এসেছে, তখন আপনারা বহিষ্কার করেছেন।’‘আপনারা ফেরেশতা হয়ে গেলেন কি করে? একেবারে পরিশুদ্ধ হলেন কি করে? তাহলে যেগুলো ধরা পড়েনি। তারা তো আছেই আপনার দলের মধ্যে। তাহলে বড় বড় কথা বলছেন যে। এদেশের মানুষের মানে মাইন্ডসেটটা আপনারা বুঝতে পারেননি। এদেশের মানুষ ধর্মভীরু কিন্তু জামায়াতকে পছন্দ করে না, এদেশের মানুষ ধর্মভীরু অতিরিক্ত ধর্মবিরোধী কর্মকাণ্ডও পছন্দ করে না।’জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাসের উদ্যোগে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে এই আলোচনা সভা হয়। রিজভী বলেন, ‘একদিকে যেমন ধর্ম ব্যবসা জামায়াত করেছে তাদেরও পছন্দ করে না। এদেশের মানুষ আবার একবারে ধর্মের বিরুদ্ধে বিদ্রোহকারী আওয়ামী লীগের যে সমস্ত সহযোগীরা আছে তাদের যে কর্মকাণ্ড সেটাও পছন্দ করে না। ”‘আওয়ামী লীগের এক নেতা যেমন বলেছিলেন, মনে নাই আপনাদের.. লতিফ সিদ্দিকী যে হজ্, মক্কা শরীফে এগুলো নিয়ে কি মন্তব্য করেছিলেন…. হজ আরবরা অর্থনৈতিক কারণে করেছে… মানুষ এগুলো পছন্দ করেনি। আবার ধর্মের নাম বিক্রি করে ধর্ম ব্যবসা করে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করে মানুষকে ধোঁকা দেওয়া এটাও এদেশের মানুষ কোনোদিনই এটা পছন্দ করেনি।’জাসাসের উদ্দেশে রিজভী বলেন, ‘আমি মনে করি যে, জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন তারা একটা এদেশের মৃত্তিকা থেকে উৎসারিত আমাদের যে সংস্কৃতির যে স্ফুরণ সেটার অনুশীলন এবং চর্চা করা এর সাথে সংস্কৃতি মানেই শুধু নিজস্ব সেটা না। পৃথিবীর ভালো ভালো যে সাংস্কৃতিক অর্জনগুলো সেগুলোকে গ্রহণ করতেও তো কোন অসুবিধা নেই।’‘আমরা বিশ্ব দর্শন কি পড়ি না? আমরা কি ইউরোপীয় দর্শন পড়ি না? আমরা কি ইউরোপের ভালো সংগীত বা অন্যান্য দেশের ভালো যে সংগীত সেই সংগীত কি আমরা শুনি না? নিশ্চয়ই শুনি। উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে কোন পরাশক্তি, কোন আগ্রাসী শক্তি আমাদের নিজস্ব মৃত্তিকা থেকে উৎসারিত সংস্কৃতিকে বা আমাদের যে সাংস্কৃতিক যে শক্তি সেটাকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে যে ষড়যন্ত্র করবে সেটাকে প্রতিহত করার দায়িত্ব হচ্ছে জাতীয়তাবাদী শক্তির এবং জাতীয়তাবাদী শক্তির পক্ষের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর।’জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক আনিসুল ইসলাম সানির সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায়- বিএনপির সাংস্কৃতিক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন উজ্জ্বল, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, তাঁতী দলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, জাসাসের লিয়াকত আলী লাকি, ফেরদৌস ফকির, জাবেদ আহমেদ কিসলু, খালেদুজ্জামান জুয়েল, ফরহাদ হোসেন নিয়ন, রাফিজা আলম লাকি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
১ সপ্তাহ আগে