তদন্তের নির্দেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৬ দুপুর ০২:৩২:২৪
ডিএনসির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আলামত গোপন ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা
মাদক উদ্ধার অভিযানে আলামত গোপন, নগদ অর্থ আত্মসাৎ, সোর্সমানি পরিশোধ না করা এবং তথ্যদাতাকে নির্যাতনের অভিযোগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।
মামলায় ডিএনসির ঢাকা মেট্রো (উত্তর)-এর উপপরিচালক (ডিডি) শামিম আহমেদ, উত্তরা সার্কেলের পরিদর্শক দেওয়ান মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটির নম্বর সিআর-১০৭৯/২০২৬।
মামলার অভিযোগকারী আবুল খায়ের দাবি করেন, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় মামলা দায়েরের পর তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৬ জুলাই নারায়ণগঞ্জের সানারপাড় এলাকায় তিনটি মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযোগকারী দাবি করেন, অভিযানে উদ্ধার হওয়া ইয়াবা, হেরোইন ও নগদ অর্থের প্রকৃত পরিমাণ মামলায় উল্লেখ করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলে তাঁকে একটি কক্ষে আটকে মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালত অভিযোগটি তদন্তের দায়িত্ব ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)-কে দিয়েছেন।
এদিকে অভিযোগ ওঠার পর ডিএনসি পরিদর্শক দেওয়ান মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানকে প্রধান কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে উপপরিচালক শামিম আহমেদ এখনো তাঁর দায়িত্বে বহাল রয়েছেন।
ঘটনার তদন্তে ডিএনসি চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
অভিযোগকারী আবুল খায়েরের দাবি, তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তিনটি অভিযান পরিচালিত হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম অভিযানে ১ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা, দ্বিতীয় অভিযানে ৪০০ গ্রাম হেরোইন এবং তৃতীয় অভিযানে ২০ হাজার পিস ইয়াবা ও ২ লাখ ৯৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। তবে এসব আলামত ও অর্থের প্রকৃত পরিমাণ মামলায় উল্লেখ করা হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং পূর্বনির্ধারিত সোর্সমানিও তাঁকে দেওয়া হয়নি।
আবুল খায়েরের আরও দাবি, মামলায় নগদ অর্থ ৫০ হাজার টাকা দেখানো হলেও প্রকৃত উদ্ধার ছিল প্রায় ২ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। একইভাবে, উদ্ধার হওয়া ইয়াবা ও হেরোইনের পরিমাণও প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে কম দেখানো হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।
এ বিষয়ে তিনি প্রথমে উপপরিচালক শামিম আহমেদের কাছে এবং পরে ডিএনসির মহাপরিচালকের কাছেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান। তাঁর দাবি, অভিযোগের পর মহাপরিচালক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ভর্ৎসনা করেন, সোর্সমানি পরিশোধের নির্দেশ দেন এবং তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
তবে তদন্ত কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারী। তাঁর দাবি, কমিটির সদস্যসচিব অভিযুক্ত এক কর্মকর্তার আত্মীয় হওয়ায় তদন্ত প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে মামলায় উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।