আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২৩ মে ২০২৬ সকাল ০৮:৫৪:১০
পদত্যাগ করছেন মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান তুলসি গ্যাবার্ড
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা প্রধান তুলসী গ্যাবার্ড পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। এর মাধ্যমে ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে স্পষ্টত মতবিরোধে থাকা এই ভিন্নমতাবলম্বী নেত্রীর মেয়াদের অবসান ঘটল।
এক্স (সাবেক টুইটার)-এ পোস্ট করা ট্রাম্পের কাছে লেখা এক চিঠিতে তুলসী গ্যাবার্ড জানান যে, তাঁর স্বামীর একটি বিরল ধরনের ক্যান্সার ধরা পড়ায় তাঁর যত্ন নেওয়ার জন্য তিনি জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন।
ট্রাম্পের কাছে বৈশ্বিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য সমন্বয় করার দায়িত্বে থাকা গ্যাবার্ড চিঠিতে লেখেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, আগামী ৩০ জুন থেকে কার্যকর হতে যাওয়া আমার পদত্যাগপত্র আমাকে জমা দিতে হচ্ছে।’ ৪৫ বছর বয়সী গ্যাবার্ড আরও যোগ করেন, ‘আমার স্বামী আব্রাহামের সম্প্রতি অত্যন্ত বিরল ধরনের একটি হাড়ের ক্যান্সার ধরা পড়েছে। আগামী সপ্তাহ এবং মাসগুলোতে তাঁকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘এই সময়ে তাঁর পাশে থাকার জন্য এবং এই লড়াইয়ে তাঁকে সম্পূর্ণ সমর্থন দিতে আমাকে জনসেবামূলক কাজ থেকে দূরে সরে যেতে হচ্ছে।’ খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
পদত্যাগের এই ঘোষণার পর তুলসী গ্যাবার্ডের প্রশংসা করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল নেটওয়ার্ক 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ বলেন, ‘তুলসী অবিশ্বাস্য রকমের চমৎকার কাজ করেছেন এবং আমরা তাঁকে মিস করব।’ তিনি আরও যোগ করেন যে, ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে স্বামীকে সাহায্য করার যে সিদ্ধান্ত তুলসী নিয়েছেন তা ‘যৌক্তিক’। প্রেসিডেন্ট জানান, তাঁর ডেপুটি অ্যারন লুকাস ভারপ্রাপ্ত জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
সাবেক ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্যাবার্ড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল গোয়েন্দা ব্যবস্থার নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য চমকপ্রদ পছন্দের ব্যক্তি ছিলেন; কারণ অতীতে গোয়েন্দা তথ্যের ওপর প্রশ্ন তোলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থানের ইতিহাস রয়েছে। একজন কংগ্রেস সদস্য হিসেবে গ্যাবার্ড বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন। ২০১৭ সালে সিরিয়ার তৎকালীন (বর্তমানে ক্ষমতাচ্যুত) নেতা বাশার আল-আসাদের সাথে তাঁর বৈঠক এবং ক্রেমলিনের প্রোপাগান্ডা—বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে মিথ্যা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়ানোর কারণে তাঁকে বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছিল।
মার্কিন সরকারের নজরদারি সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি (এনএসএ)-এর তথ্য ফাঁসকারী এডওয়ার্ড স্নোডেনের প্রতি তাঁর সমর্থনের কারণেও কেউ কেউ তাঁকে সন্দেহের চোখে দেখতেন। কংগ্রেসের উভয় পক্ষই (ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান) মনে করত যে, স্নোডেনের ওই পদক্ষেপ আমেরিকানদের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছিল।
তা সত্ত্বেও ট্রাম্প তাঁকে এই পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন; তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরান যুদ্ধের দিকে এগোনোর সাথে সাথে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া থেকে গ্যাবার্ডকে ক্রমেই দূরে সরিয়ে রাখা হচ্ছিল বলে মনে করা হতো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলা শুরু করার ঠিক আগ মুহূর্তে ট্রাম্প যখন তাঁর শীর্ষ উপদেষ্টাদের সাথে বৈঠকে বসেছিলেন, তখন গ্যাবার্ড সেই কক্ষে উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গেছে।