আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২৩ মে ২০২৬ বিকাল ০৩:২৬:৪৮
আফগানিস্তানে বাল্যবিবাহ বৈধ করছে তালেবান
আফগানিস্তানে তালেবান সরকারের নতুন একটি আইনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই আইনের কারণে কার্যত বাল্যবিবাহকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন মানবাধিকারকর্মীরা। তাঁদের মতে, নতুন আইন নারীদের বিবাহবিচ্ছেদ বা তালাকের অধিকারও আরও সীমিত করে দিচ্ছে।
মানবাধিকার সংগঠন ও স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, আফগানিস্তানে দীর্ঘদিন ধরেই বাল্যবিবাহ ও জোরপূর্বক বিয়ের ঘটনা ঘটছে। তবে সরকারি পরিসংখ্যান না থাকলেও অধিকারকর্মীদের ধারণা, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে মেয়েদের পড়াশোনায় সীমাবদ্ধতা আরোপের পর অল্প বয়সে বিয়ের প্রবণতা আরও বেড়েছে।
একটি অনানুষ্ঠানিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার পর অনেক পরিবার মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে, এসব বিয়ের বড়ো অংশেই মেয়েদের বয়স ১৮ বছরের নিচে।
নতুন আইনে বলা হয়েছে, কোনো নারী যদি পরে জানান যে তাঁর অমতে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তবুও স্বামী রাজি না থাকলে তিনি তালাক নিতে পারবেন না। একই সঙ্গে স্বামীর অনুপস্থিতি বা ভরণপোষণে ব্যর্থতার মতো কারণেও নারী একতরফাভাবে তালাকের অধিকার পাবেন না।
এই বিধান নিয়ে কাবুলসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নারী অধিকার সংগঠনগুলো। তাদের মতে, এটি নারীর ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের অধিকারকে সীমিত করে ফেলবে।
এক নারী অধিকারকর্মী বলেন, তালেবান সরকার ধীরে ধীরে এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলছে, যেখানে নারীদের স্বাধীনতা আইনি কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাঁর মতে, এটি নারীদের ওপর কাঠামোগত বৈষম্য আরও শক্তিশালী করছে।
জাতিসংঘের আফগানিস্তান সহায়তা মিশনও (ইউএনএএমএ) এই আইন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি বলেছে, নতুন নিয়মগুলো আফগান নারীদের অধিকারকে আরও দুর্বল করবে এবং বৈষম্যকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবে।
তবে তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে এই সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এক মুখপাত্র বলেছেন, ইসলামি আইন ও সমাজব্যবস্থার ভিত্তিতে নেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে যারা আপত্তি তুলছে, তাদের বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানে বাল্যবিবাহের শিকার অনেক মেয়ে পারিবারিক সহিংসতা ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়। সাম্প্রতিক একটি ঘটনায় দেখা গেছে, ১৫ বছর বয়সি এক কিশোরী পারিবারিক নির্যাতনের পর মারা গেছে, যা দেশটিতে নারীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।