পাবনা প্রতিনিধি:
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬ রাত ০৭:৪২:১৯
পাবিপ্রবি প্রেসক্লাবের আয়োজনে ফল উৎসব
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাঃ শামীম বলেছেন, আম উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে সপ্তম হওয়ায় রপ্তানির উজ্জল সম্ভাবনা রয়েছে কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় অর্থনৈতিক ফল হিসেবে আম রপ্তানি করা যাচ্ছে না। ফলে এ খাতের চাষীরা তেমন লাভবান হচ্ছেন না। বৈজ্ঞানিক উপায়ে নিরাপদ আম উৎপাদন ও উন্নত বিপনন ব্যবস্থা গড়ে তুললে আম রপ্তানীর সম্ভাবনা ব্যাপক হারে বাড়বে।
তিনি বলেন, কাঁচা থেকে পাকা আম ব্যবস্থাপনায় দৃষ্টি দিতে হবে। একইসঙ্গে আমের বহুমাত্রিক ব্যবহার বাড়াতে হবে। আমের আঁটি থেকে প্রাপ্ত শাঁস দিয়ে ম্যাংগো ওয়েল, গবেষণার মাধ্যমে ভোজ্যতেল উৎপাদন করা সম্ভব।
শনিবার (১১ জুলাই) সকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মৌসুমী ফল উৎসবের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব কনভেনশন হলে এই ফল উৎসবের আয়োজন করে।
মৌসুমী ফল আম, প্রকৃতির মিষ্টি উপহার, চাঁপাইয়ের গর্ব-শীষর্ক স্লাইড উপস্থাপনার মাধ্যমে অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাঃ শামীম জানান, সরকার ২০১০ সালে আম গাছকে জাতীয় বৃক্ষ ঘোষণা করেছেন। এক সময় এক বিঘা জমিতে ৮/১০টি আম গাছ রোপণ করা হলেও, এখন তা বেড়ে ১৫০-১৮০টি গাছ লাগানো যায়। দেশে ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৯০০ মেট্টিকটন আম উৎপাদিত হয়। হেক্টর প্রতি ফলন বেড়েছে ৩ দশমিক ১৭ গুণ। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২ লাখ মেট্টিকটন উৎপাদিত হয়। দেশের ৪০ থেকে ৪৫ ভাগ সেখানে উৎপাদিত হয়। চাষীদের কথা মাথায় রেখে এই জেলায় হিমাগার, ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন করতে হবে।
উপাচার্য বলেন, বৈচিত্র্যময় রেসিপি উপযোগী করে আম সংরক্ষণ করা হচ্ছে না। ফ্রোজেন কিংবা ড্রাই আম রপ্তানির ব্যবস্থা করতে হবে। কিছু দেশ আম থেকে ম্যাংগো ওয়েল রপ্তানি করছে। একইরকম সুযোগ আমাদের সৃষ্টি করতে হবে। আমের চকলেট, লজেন্স, বেকারি পণ্য তৈরি করতে হবে। গবেষণার মাধ্যমে আম থেকে ভোজ্য তেল উৎপাদন করা সম্ভব। সেক্ষত্রে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আম উৎপাদন, বিপনন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। গুণগতমাণ ও বাজার মূল্য ঠিক রাখতে বাঁশের ঝুড়ির পরিবর্তে প্লাষ্টিক ক্যারেট বা কাপড় কিংবা কাগজের লাইনরাযুক্ত বাঁশের ঝুড়ি ব্যবহার করতে হবে। আম জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে। জি আই পদ্ধতিতে ট্যাগ লাগাতে হবে।
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সভাপতি এমরান হোসেন তানিমের সভাপতিত্বে উৎসব অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম, ছাত্র উপদেষ্টা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. রাশেদুল হক।
উপস্থিত ছিলেন, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. শামীম রেজা, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান, ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান ড. হাবিবুল্লাহ, বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান মীর হুমায়ুন কবিরসহ জ্যৈষ্ঠ শিক্ষক, কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সামাজিক- সাংস্কৃতিক সংগঠেনের নেতৃবৃন্দও সাংবাদিকরা।