সব খাবারের মতো মাছও সবার জন্য সমান উপযোগী নয়। কিছু শারীরিক অবস্থায় মাছ খাওয়া উপকারের বদলে ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই কারা মাছ খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকবেন, তা জানা জরুরি।লিভারের রোগে আক্রান্তদের জন্য সতর্কতালিভার আমাদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। লিভারের সমস্যা থাকলে দূষিত বা অপরিষ্কারভাবে সংরক্ষিত মাছ খেলে ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই এ ক্ষেত্রে নিরাপদ ও ভালোভাবে রান্না করা মাছ বেছে নেওয়া জরুরি।ইউরিক অ্যাসিড বেশি থাকলে সতর্কতাযাদের শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি, তাদের জন্য মাছ খাওয়া সীমিত রাখা উচিত। বিশেষ করে কিছু সামুদ্রিক ও তেলযুক্ত মাছ ইউরিক অ্যাসিড বাড়াতে পারে। এতে গেঁটে বাত সমস্যা বেড়ে গিয়ে জয়েন্টে ব্যথা ও ফোলাভাব দেখা দিতে পারে।গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য।সোর্ডফিশ, কিং ম্যাকেরেল বা বড়ো টুনা মাছে উচ্চমাত্রার পারদ থাকে, তাই গর্ভাবস্থায় না খাওয়াই ভালো। খেলে ভ্রূণের মস্তিষ্কের বিকাশে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এসব মাছ এড়িয়ে চলা ভালো। কম পারদযুক্ত মাছ সীমিত পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে। স্তন্যদানকারী মায়েদের ক্ষেত্রেও একই সতর্কতা রাখতে হবে।রক্ত পাতলা করার ওষুধ গ্রহণকারীদের জন্য যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খান, তাদের মাছ খাওয়ার আগে সচেতন হওয়া দরকার। মাছে থাকা ওমেগা-৩ রক্ত আরও পাতলা করতে পারে, যা অতিরিক্ত রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় সতর্কতাযাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের কাঁচা বা আধা-সিদ্ধ মাছ খাওয়া উচিত নয়। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। তাই মাছ সবসময় ভালোভাবে রান্না করে খাওয়া নিরাপদ।অ্যালার্জি থাকলে সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলুন।যাদের সামুদ্রিক খাবারে অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের জন্য মাছ খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। এতে ত্বকে ফুসকুড়ি, চুলকানি, ফোলাভাব কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই এই ক্ষেত্রে মাছ পুরোপুরি এড়িয়ে চলা উচিত।
৪ ঘন্টা আগে
সাতকরা দিয়ে মাছ, মাংসসহ নানা ধরনের ঐতিহ্যবাহী পদ তৈরি করা হয়। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো গরুর মাংস দিয়ে সাতকরা রান্না। মাংসের সঙ্গে সাতকরার টক স্বাদ মিশে এমন এক অনন্য স্বাদের সৃষ্টি করে, যা অন্য কোনো রান্নায় সহজে পাওয়া যায় না। সাতকরার সুবাস খাবারকে আরও লোভনীয় করে তোলে। একবার এই স্বাদ মুখে লাগলে তা সহজে ভোলা যায় না।আসুন জেনে নেওয়া যাক কীভাবে সাতকরা দিয়ে গরুর মাংস রান্না করবেন—উপকরণগরুর মাংস ১ কেজিসাতকরা ১টিপেঁয়াজ কুচি ১ কাপপেঁয়াজ বাটা ১ কাপ।রসুন বাটা দেড় টেবিল চামচ।আদা বাটা ১ টেবিল চামচ।মরিচের গুঁড়া ১ টেবিল চামচ।হলুদের গুঁড়া আধা টেবিল চামচ।ধনিয়া গুঁড়া ১ টেবিল চামচ।জিরার গুঁড়া আধা টেবিল চামচ।গরম মশলার গুঁড়া আধা চা চামচ।তেজপাতা, দারুচিনি ওই লবঙ্গ কয়েক টুকরো।তেল ১ কাপপানি প্রয়োজনমতোলবণ স্বাদমতোপ্রস্তুত প্রণালিপ্রথমে গরুর মাংস ভালোভাবে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। এরপর একটি সাতকরা পরিষ্কার করে ধুয়ে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে রাখুন। এবার একটি কড়াইয়ে মাংস নিয়ে তাতে একে একে পেঁয়াজ কুচি, পেঁয়াজ বাটা, রসুন-আদা বাটা, সব ধরনের গুঁড়া মশলা, তেজপাতা, দারুচিনি ও লবঙ্গ, তেল ও লবণ যোগ করুন। সব উপকরণ একসঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে মাঝারি আঁচে ধীরে ধীরে কষাতে থাকুন। এতে মাংসের সঙ্গে মশলাগুলো ভালোভাবে মিশে যাবে এবং একটি সুন্দর ঘ্রাণ বের হবে। কিছুক্ষণ কষানোর পর ঢাকনা খুলে পাঁচ-ছয় মিনিট পরপর নেড়ে দিন। এরপর কিছুক্ষণ কষাতে থাকুন। মাংস যখন আধা সেদ্ধ হয়ে আসবে, তখন কেটে রাখা সাতকরার টুকরোগুলো দিন। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী পানি দিয়ে ঢেকে দিন এবং অল্প আঁচে সেদ্ধ হতে দিন, যাতে সাতকরার টক স্বাদ মাংসের সঙ্গে ভালোভাবে মিশে যায়। মাংস নরম হয়ে এলে গরম মশলার গুঁড়া ছিটিয়ে দিন এবং আরও কয়েক মিনিট রান্না করুন। চুলা থেকে নামিয়ে ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন।
১ দিন আগে
অনেকেরই টমেটো খেলে বুক জ্বালা, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দেখা দেয়। মূলত টমেটোর কারণে অ্যাসিড রিফ্ল্যাক্সের সমস্যায় ভোগেন তারা।‘নিউট্রিয়েন্টস’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুযায়ী, টমেটো এবং টমেটো দিয়ে তৈরি খাবার খেলে ‘অ্যাসিড রিফ্লাক্স’ বা গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (GERD)-এর সমস্যা বাড়ে। টমেটো খেলে কেন অ্যাসিডিটির সমস্যা বাড়ে?টমেটোতে রয়েছে উচ্চমাত্রায় ম্যালিক অ্যাসিড এবং সাইট্রিক অ্যাসিড। এই অ্যাসিডগুলো পাকস্থলীতে গিয়ে আরও বেশি গ্যাসট্রিক অ্যাসিড নিঃসরণে উদ্বুদ্ধ করে। টমেটোতে অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি। এটি খাদ্যনালি ও পাকস্থলীর মাঝখানের কপাটিকা বা পেশি (LES)-কে শিথিল করে দেয়। এর জেরে পাকস্থলীর অ্যাসিড ওপরের দিকে উঠে আসে। তাই টমেটোর খেলেই বুক জ্বালা, গলায় অ্যাসিড উঠে আসার মতো সমস্যা দেখা দেয়। কাঁচা টমেটো তুলনায় বেশি স্বাস্থ্যকর। রান্না করা বা টমেটো, কেচাপ, পিউরি, সস ইত্যাদি বেশি শরীরের ক্ষতি করে। প্রসেসিংয়ের সময় টমেটোতে অ্যাসিডের ঘনত্ব বেড়ে যায়। আর রান্নার সময় টমেটোর সঙ্গে আরও উপাদান মিশিয়ে অ্যাসিডের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। এজন্য টমেটো সস বা টমেটো সুপ্ খেলে গ্যাস-অম্বলের সমস্যা বেশি হয়।অ্যাসিডিটির সমস্যা এড়িয়ে টমেটো খাবেন কীভাবে?টমেটোর মধ্যে আছে লাইকোপেন নামের শক্তিশালী অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে। এটি ফ্রি র্যাডিকেলের সঙ্গে লড়াই করে, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায় এবং কোষকে ক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করে। ত্বক এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নত করে টমেটো। এটি ক্যানসার, প্রদাহের মতো রোগের ঝুঁকিও কমায়। তাই টমেটো খাওয়া বাদ দেওয়া যাবে না। বদলাতে হবে খাওয়ার ধরন। রান্নায় অল্প পরিমাণ টমেটো ব্যবহার করুন। ব্যবহারের আগে টমেটোর বীজ ফেলে দিন। টমেটোর সঙ্গে শসা, শাকসবজি, আলু-গাজরের মতো সবজি খান। এগুলো অ্যাসিডের পরিমাণকে ব্যালান্স করে দেয়। রাতে বা ঘুমোতে যাওয়ার আগে টমেটো খাবেন না। এরপরও যদি এই সবজি খেলে সমস্যা হয় তাহলে তা এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।
২ দিন আগে
=সকালের নাশতায় স্বাস্থ্যকর ও দ্রুত তৈরি করা যায় এমন খাবারের চাহিদা এখন অনেক বেড়েছে। ব্যস্ত জীবনে শরীর ঠিক রাখতে পুষ্টিকর খাবার বেছে নিচ্ছেন অনেকেই। এমন সময় সামনে এসেছে সহজে তৈরি করা যায় এমন ৫টি পুষ্টিকর রেসিপি। এতে থাকা উচ্চ-প্রোটিন রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার সঙ্গে সঙ্গে শরীরকে রাখবে শক্তিশালী ও সতেজ। চলুন দেখে নেওয়া যাক ৫টি সহজ রেসিপি—১. রাস্পবেরি-কলা দই পারফেউপকরণ :১ কাপ কম চর্বিযুক্ত ঘন ছাঁকা দই।১টি ছোট কলা (কাটা)১ কাপ রাস্পবেরি২ টেবিল চামচ কুচানো ভাজা কাঠবাদাম।প্রস্তুত প্রণালি:একটি জারে প্রথমে অর্ধেক দই দিন। এরপর অর্ধেক কলা, অর্ধেক রাস্পবেরি ও ১ টেবিল চামচ বাদাম দিন। এরপর আবার একইভাবে বাকি উপকরণগুলো স্তরে স্তরে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।২. কমলা-আম দিয়ে তিসি বীজের পানীয়উপকরণ :১টি বড়ো কমলা১ কাপ হিমায়িত আমের টুকরোসোয়া ১ কাপ ঘন ছাঁকা দইআধা কাপ বরফআধা কাপ পানি৩ টেবিল চামচ গুঁড়া তিসি বীজ।সামান্য ভ্যানিলা এসেন্সপ্রস্তুত প্রণালি:সব উপকরণ ব্লেন্ডারে দিয়ে প্রায় ১ মিনিট ভালোভাবে ব্লেন্ড করুন। এরপর গ্লাসে ঢেলে পরিবেশন করুন। চাইলে কমলার টুকরো দিয়ে সাজাতে পারেন।৩. চকলেট-স্ট্রবেরি দই পানীয়উপকরণ :চার ভাগের তিন ভাগ পরিমাণ কাপ সয়া দুধ।১টি কলা (কাটা)১ কাপ স্ট্রবেরিআধা কাপ ঘন ছাঁকা দইআধা টেবিল চামচ কোকো গুঁড়া২টি বরফ কিউবপ্রস্তুত প্রণালি:সব উপকরণ একসাথে ব্লেন্ডারে দিয়ে মসৃণ করে নিন। ঠান্ডা ঠান্ডা পরিবেশন করুন।৪. ফল ও বাদামসহ ওটস পায়েসউপকরণ :আধা কাপ ওটস১ কাপ দুধএক-চতুর্থাংশ বা চার ভাগের এক ভাগ কাপ ঘন ছাঁকা দই।এক-চতুর্থাংশ বা চার ভাগের এক ভাগ কাপ কাটা আপেল।১ টেবিল চামচ আখরোটপ্রস্তুত প্রণালি:ওটস ও দুধ ফুটিয়ে নরম ও ঘন করে নিন। এরপর চুলা থেকে নামিয়ে ঢেকে ২ মিনিট রাখুন। উপরে দই, আপেল ও বাদাম দিয়ে পরিবেশন করুন।৫. কমলা-ম্যাংগো উচ্চ প্রোটিন পানীয়।উপকরণ :১ কাপ কমলার রস১ কাপ হিমায়িত আম১ কাপ সয়া দুধআধা কাপ ঘন ছাঁকা দইএক-চতুর্থাংশ বা চার ভাগের এক ভাগ কাপ প্রোটিন গুঁড়া।১ টেবিল চামচ মধু বা মেপল সিরাপপ্রস্তুত প্রণালি:সব উপকরণ ব্লেন্ডারে দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করুন। মসৃণ হলে গ্লাসে ঢেলে পরিবেশন করুন। এই রেসিপিগুলো শুধু স্বাস্থ্যকরই নয়, বরং ব্যস্ত সকালে দ্রুত তৈরি করে নেওয়ার জন্যও একেবারে উপযুক্ত।
৩ দিন আগে